রাজশাহীতে বাংলাদেশ ইকোনোমিক্স অলিম্পিয়াড-২০২৬ আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়েছিল। উক্ত অনুষ্ঠানে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ১ হাজার ৩ শ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। এর আগে তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে তিনশো জন শিক্ষার্থী অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করে।
আয়োজনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব, উপ-উপাচার্যদ্বয় অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান ও অধ্যাপক মাঈন উদ্দিন এবং অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এ.এন.কে. নোমান। অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিরেক্টর মো. বায়েজিদ সরকার, পূবালী ব্যাংকের এমডি এবং সিইও মোহাম্মাদ আলী এবং সিটি ব্যাংকের এ´টার্নাল অ্যাফেয়ার্স ব্রান্ড এন্ড মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার রেজা ফয়জুল করিমপ্রমুখ।
অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, আমাদের জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ইকোনোমিকস অতপ্রোতভাবে জড়িত। লেনদেনের ক্ষেত্রে আমাদেও দেশে এখনো ক্যাশে ট্রান্সিকশন হয়, কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো সব ক্যাশলেস কার্যক্রম চালায়। আসন্ন দিনগুলোতে অর্থনীতি মেশিন লার্নিং নির্ভর হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। অর্থ্যাৎ অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রন করবে প্রযুক্তি। ফলে সামনের দিনগুলো অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং এবং ইস্টারেস্টিং হবে। এই জায়গায় বাংলাদেশ ইকোনমিক অলিম্পিয়াডের মতো প্ল্যাটফর্ম ভালো অবদান রাখবে বলে মনে করি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিরেক্টর মো. বায়েজিদ সরকার বলেন, বাংলাদশের অর্থনীতির ভাষা হচ্ছে এদেশের মাটি ও মানুষ। কিন্তু আমাদের দেশে অর্থনীতি বিষয়কে খুব জটিল করে পড়ানো হয়। আসলে অর্থনীতির ডেফিনেশান এতটা কঠিন না। কারণ এই বিষয়টা অনেকটা অনুধাবনের। এই জায়গায় বাংলাদেশ ইকোনমিক অলিম্পিয়াড দেশের অর্থনীতিকে বুঝার ক্ষেত্র তৈরি করেছে। আমরা নিজেকে চিনবো, আমার দেশকে এবং দেশের মাটিকে চিনবো, তাহলে আমাদের অর্থনীতি হবে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে সেরা অর্থনীতি।
বাংলাদেশ ইকোনোমিক অলিম্পিয়াডের অ্যাম্বাসেডর মানসুরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ইকোনোমিক অলিম্পিয়াড-২০২৬ সারা বাংলাদেশে প্রায় ২ কোটি শিক্ষর্থী ও অবিভাবকের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি। এর মধ্যে ৫০ হাজার শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেছে, এর মধ্যে আবার রাজশাহী বিভাগের ৭ হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্যে থেকে ৩০০ শিক্ষার্থী আজকে সকালে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেছে। আমি মনে করি আজকের এই পরীক্ষার্থীর সবাই একেকজন অর্থনীতিবিদ। প্রতি বছরই আমরা সারা দেশের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই আয়োজন করার চেষ্টা করি। গত বছর করেছিলাম দুইটা বিভাগে এবার চারটি বিভাগে করা হবে। আমরা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে অনেক উচু জায়গায় নিয়ে যাব এই প্রত্যয় নিয়ে আমাদের কার্যক্রম চলমান থাকবে ইনশাল্লাহ।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাঈন উদ্দিন, অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এ.এন.কে. নোমান, পূবালী ব্যাংকের এমডি এবং সিইও মোহাম্মাদ আলী ও সিটি ব্যাংকের এ´টার্নাল অ্যাফেয়ার্স ব্রান্ড এন্ড মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার রেজা ফয়জুল করিম।
অনুষ্ঠানের শেষে অলিম্পিয়াড বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট এবং তিন পর্বের চ্যাম্পিয়নদের ১০ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। আজকের প্রতিযোগীতা জুনিয়র, ইন্টারমিডিয়েট এবং অনার্স তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। এর আগে আমন্ত্রিত অতিথিগণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে নেওয়া কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেন এবং দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বাসেডরদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। এবারের আয়োজনের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন সাকিব আল হাসান। তিনি ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশ এর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাংগঠনিক জেলা) প্রধান হিসেবে রয়েছেন।
কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা নিহত হয়েছেন। শিক্ষিকাকে হত্যার পর অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমান আত্মহত্যা চেষ্টা করেছেন।
বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে অবস্থিত সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।
পরে খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়কে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গোবিপ্রবি প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (IQAC)-এর নতুন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. বশির উদ্দীন।
মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের IQAC এর পরিচালক হিসেবে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. বশির উদ্দীন-কে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত পরিচালক, IQAC হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হলো। তিনি আসন্ন রমজানের ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবস থেকে এ দায়িত্ব পালন শুরু করবেন।
অফিস আদেশে আরও বলা হয়, দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তিনি বিধি মোতাবেক প্রাপ্য ভাতাদি প্রাপ্য হবেন।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, মূল্যায়ন প্রক্রিয়া তদারকি এবং একাডেমিক উন্নয়ন কার্যক্রমে আইকিউএসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) হল গুলোতে ইফতার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হল কর্তৃপক্ষ। এ সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছেন শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি।
সোমবার (২ মার্চ) হল প্রভোস্ট কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী রবিবার (৮ মার্চ) হলে অবস্থানরত আবাসিক শিক্ষার্থীদের মাঝে ইফতার করানোর নোটিশ ইস্যু করার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদ জানান তিনি।
বিজ্ঞপ্তি সূত্রে, প্রভোস্ট কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী ৮ মার্চ (১৮ রমজান) হলসমূহের আবাসিক ছাত্রদের এ ইফতার দেওয়া হবে। ইফতার সংগ্রহের জন্য অফিস চালাকালীন সময়ে হল অফিস হতে আগামী ৩-৪ মার্চের মধ্যে হল আইডি কার্ড দেখিয়ে টোকেন সংগ্রহ করতে বলা হয়। উল্লেখিত সময়ের পর আর কোন টোকেন দেয়া হবে না।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিষয়ে ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি উল্লেখ করেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রশাসন কর্তৃক শিক্ষার্থীদের জন্য ইফতারের আয়োজন নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় ও মানবিক উদ্যোগ। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই। তবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, এই আয়োজনটি শুধুমাত্র আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। বিষয়টি অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যমূলক বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। কারণ, তারাও হলের বিভিন্ন ফি পরিশোধ করেন এবং রমজান মাসে পড়াশোনার স্বার্থেই ক্যাম্পাসে অবস্থান করে থাকেন। তাই তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল।
তিনি আরও লিখেন, আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি আন্তরিকভাবে পর্যালোচনা করে অতি দ্রুত সকল শিক্ষার্থীর জন্য ইফতারের ব্যবস্থা গ্রহণে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।
প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনাবাসিক শিক্ষার্থীরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।এ বিষয়ে প্রভোস্ট কাউন্সিল সভাপতি ও খালেদা জিয়া হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জালাল উদ্দিন জানান, এই আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের না বরং হল কেন্দ্রিক। তাই হলের প্রভোস্টদের নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের বিষয় তখনই আসে যখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা করবেন।