Connect with us

top2

বন্ধুর ডাকে শপিং মলে গিয়ে গ্রেপ্তার হন বেনজীর, আদালতে শুনানি কাল

Published

on

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে তার বন্ধু ও ব্যবসায়িক সহযোগী চট্টগ্রাম এলাকার এক সংসদ সদস্য মোবাইলে ফোনে ডেকে নিয়ে শপিং মলে দেখা করার কথা বলে দুবাই পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। পরে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

আজ সোমবার (১৫ জুন)সহ গত কয়েক দিন দুবাইয়ে সরকারি ছুটি থাকায় আগামীকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুবাইয়ের একটি আদালতে বেনজীর আহমদের জামিন আবেদন নিয়ে শুনানি হতে পারে। এ জন্য তার পক্ষে দুবাইয়ের একজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

বেনজীর আহমদের স্ত্রীর বরাত দিয়ে তার একসময়ের স্টাফ অফিসার বলেন, বেনজীর আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে দুবাইয়ে বসবাস করছেন। প্রতিদিনের মতো গত ১২ জুন দুবাইয়ের বাসায় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। এ সময় তার বন্ধু চট্টগ্রামের এক সংসদ সদস্য মোবাইল ফোনে কল করে বাসার পাশের একটি শপিং মলে দেখা করার কথা বলেন। তিনি বন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে শপিং মলে গেলে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া দুবাই পুলিশের সদস্যরা তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ওই সংসদ সদস্যের লোকজন উপস্থিত ছিল বলে আমরা জানতে পারি।

তিনি আরও বলেন, দুবাই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমরা জানতে পারি, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। বাংলাদেশ পুলিশ কর্তৃক জারি করা ইন্টারপোলে জমা দেওয়া রেড নোটিশটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ওই সংসদ সদস্য দুবাই পুলিশের কাছে দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করান।

আটকের সঙ্গে সঙ্গে এ খবর পৌঁছে যায় দিল্লি ও কলকাতায় অবস্থানরত পলাতক একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা এবং আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের কাছে। পরে তার পরিবার ও দুবাইয়ে অবস্থানরত নিজেদের লোকজনের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করেন। ঘটনাটি দুবাইয়ের সংশ্লিষ্ট থানায় আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়।

বেনজীর আহমদের ঘনিষ্ঠ আরেকজন জানান, আটক হওয়ার পর পুলিশ প্রথমে দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদ কী করছেন, কত দিন ধরে অবস্থান করছেন, ভিসার বৈধতা এবং তার দৈনন্দিন কার্যক্রম পর্যালোচনা করে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ রয়েছে, তাও যাচাই করা হয়। এতে তারা নেতিবাচক কোনো তথ্য পায়নি। তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ও তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ থাকার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকায় অবস্থিত ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) এবং বাংলাদেশ পুলিশকে অবহিত করে দুবাই পুলিশ।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ঢাকায় চলমান একটি মামলার এক আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে আমরা দুবাইয়ে তার পক্ষে একজন আইনজীবী নিয়োগ দিই। ওই আইনজীবীর পরামর্শে এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে চলমান সব মামলার নথিপত্র ঢাকা থেকে দুবাইয়ে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারের দিন ১২ জুন শুক্রবার দুবাইয়ের আদালত খোলা থাকলেও তা সীমিত পরিসরে পরিচালিত হয়। এ ছাড়া শনি ও রোববার দেশটিতে সাপ্তাহিক ছুটি ছিল। আজ সোমবার (১৫ জুন) ইসলামিক নববর্ষ (হিজরি ১৪৪৮) উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার সরকারি ছুটি পালন করে। অর্থাৎ টানা তিন দিন সরকারি ছুটি শেষে মঙ্গলবার (১৬ জুন) থেকে আদালতের কার্যক্রম শুরু হবে।

তাই ওই দিনই দুবাইয়ের আদালতে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে হাজির করা হতে পারে। যদি দুবাই পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর জন্য বা অন্য কোনো আইনি প্রক্রিয়ার আবেদন করে, তাহলে তার আইনজীবী ওই আদালতে জামিন চাইবেন। আর যদি আদালতে তাকে হাজির করা না হয়, তাহলে আইনজীবী স্বতপ্রণোদিত হয়ে প্রসিকিউশন দপ্তরে বেনজীর আহমেদের পক্ষে আবেদন করবেন। এ লক্ষ্যে শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।

বেনজীর আহমদকে ডেকে নিয়ে গ্রেপ্তার করানোর বিষয়ে জানতে ওই সংসদ সদস্যের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তাকে সোমবার বিকেল ৫টার পর থেকে একাধিকবার কল করা হয়, কিন্তু তিনি রিসিভ করেননি। পরে এই বিষয়ে প্রশ্ন রেখে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হয়। বার্তাটি তিনি দেখলেও কোনো উত্তর দেননি। কয়েক ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে আবার কল দিলে এবার তিনি কল রিসিভ করেন। কিন্তু তার নাম ও সংসদীয় আসন ধরে বেনজীরকে গ্রেপ্তার করানোর বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে লাইন কেটে দেন।

এদিকে দুবাই থেকে শিগগিরই বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত আনার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করেন পুলিশের সাবেক এক অতিরিক্ত আইজিপি। তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পুলিশ ইন্টারপোলে যে আবেদন করেছে, তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য নয়। তা ছাড়া তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে জমা দেওয়া রেড নোটিশটি ব্যক্তিগত উদ্যোগ দুবাই পুলিশকে দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করানোটা দুবাই আদালত সহজভাবে দেখবেন না বলে আমি মনে করি।

তিনি আরও বলেন, বেনজীর আহমদকে গ্রেপ্তার করানোর পেছনে ব্যবসায়িক ও আর্থিক বিরোধ রয়েছে বলে শুনেছি। পরে দুবাই পুলিশ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরকে অবগত করে। এখন যদি বাংলাদেশ সরকার তাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ফেরত চায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার প্রেক্ষাপটও দুবাইয়ের প্রসিকিউশন দপ্তর বিবেচনায় নেবে। তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি অর্জনের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। কিন্তু মানি লন্ডারিংয়ের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুবাইয়ের প্রসিকিউশন দপ্তরে উপস্থাপন করতে না পারে, তাহলে অভিযোগ অনেকাংশে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, বর্তমান ধর্মমন্ত্রী ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার অভিযুক্ত আসামি ছিলেন। তাকে আওয়ামী লীগ সরকার অনেক চেষ্টা করেও দুবাই সরকারের মাধ্যমে দেশে ফেরত আনতে পারেনি। কারণ তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে সরকারের করা মামলার আসামি ছিলেন।

তিনি আরও উদাহরণ দিয়ে বলেন, এর আগে দুবাই পুলিশ আরাভ খানকে আটক করেছিল। যিনি পুলিশের একজন পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) হত্যা মামলার আসামি এবং তাকেও ইন্টারপোলে জমা দেওয়া রেড অ্যালার্টের প্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বাংলাদেশের আদালতে আরাভ খান দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। কিন্তু তিনি ভারতের পাসপোর্টধারী হওয়ায় তাকে এখনো বাংলাদেশে ফেরত আনা সম্ভব হয়নি। বেনজীর আহমেদও বাংলাদেশ থেকে দুবাই যাওয়ার সময় তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করেন। বর্তমানে তিনি তুরস্কের পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশে চলাচল করছেন। আবার কেউ বলছে তার কাছে কোনো পাসপোর্টই নেই। ফলে পরিচয়-সংকটে তাকে বাংলাদেশে আনার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

পুলিশের সাবেক এই কর্মকর্তা আরও বলেন, কোনো ব্যক্তিকে এক দেশ থেকে অন্য দেশে প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দুই দেশের আইন, পারস্পরিক চুক্তি এবং আদালতের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে মঙ্গলবার আদালতে শুনানি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার মতো কোনো সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বেনজীর আহমেদ দুবাই পুলিশের হাতে আটক হন এবং তার বিরুদ্ধে যেহেতু ইন্টারপোলে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তাই বাংলাদেশের পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু এখানে প্রশ্ন থেকে যায়, ইন্টারপোলের নিয়মিত পদ্ধতিতে গ্রেপ্তার হয়েছে নাকি গ্রেপ্তারে অন্য কোনো ইস্যু আছে কি না এবং এক মাসের মধ্যে যথাযথভাবে কাগজপত্র জমা দেওয়া যাবে বলে একাধিক প্রশ্ন রাখেন তিনি।

বেনজীর আহমেদকে ফেরত আনার বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি মিডিয়া) এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে। এখন পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

বাংলাদেশ ডিবেটার্স সোসাইটি আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে “বিডিএস ইনভাইটেশনালস ২০২৬”

Published

on

By

আনাস মাহমুদ

বাংলাদেশ ডিবেটার্স সোসাইটি (বিডিএস) কর্তৃক আগামী ২৩-২৪ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো “আন্ত স্কুল-কলেজ” পর্যায়ে আয়োজিত হতে যাচ্ছে “বিডিএস ইনভাইটেশনাল ২০২৬” ডিবেট টুর্নামেন্ট। এশিয়ান পার্লামেন্টরি ঘরনার এই টুর্নামেন্টিতে ২২ টি দলের হয়ে সারা বাংলাদেশের পরিচিত এবং আলোচিত মোট ৬৬ জন বিতার্কিক নিজেদের যুক্তির তীক্ষ্ণতার লড়াইয়ে নামবেন।

এই টুর্নামেন্টে সকল বিতার্কিকদের তিনটি আলাদা Pool-এ বিভক্ত করে প্রত্যেক Pool থেকে একজন বিতার্কিককে নিয়ে দলসমূহ গঠন করা হয়েছে। Pool-A তে আমন্ত্রন জানানো হয়েছে দেশের সুপরিচিত ২২ জন বিতার্কিককে যারা ইতিমধ্যে দক্ষতা এবং বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে নিজেদের অর্জনকে সমাদৃত করেছেন। Pool-B এবং Pool-C তে যোগ্যতা, ব্যক্তিগত অর্জন, এবং আবেদনের ভিত্তিতে ২২ জন করে বিতার্কিককে জায়গা দেয়া হয়েছে। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী Pool-A এর বিতার্কিকবৃন্দ অকশনের মাধ্যমে Pool-B এবং Pool-C থেকে একজন করে বিতার্কিককে নিজের দলে যুক্ত করতে পারবেন। অর্থাৎ এই টুর্নামেন্টের ২২ টি দলই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার শক্তিমত্তা নিয়ে বিতর্কে নামছেন।

এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে বিতর্ক অঙ্গনে বেশ আলোড়ন তৈরী হয়েছে। “আন্ত-স্কুল-কলেজ” এবং “আন্ত বিশ্ববিদ্যালয়” বিতর্ক পদ্ধতির বাইরে গিয়ে স্কুল-কলেজ পর্যায়ে “আমন্ত্রনমূলক” বা “ইনভাইটেশনাল” পদ্ধতিতে বিতর্ক টুর্নামেন্ট আয়োজন এর পূর্বে দেখা যায়নি। এমন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহন করতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বিতার্কিকরা।

বিডিএস এর চেয়ারম্যান জনাব জামান আপেল জানান, “এই টুর্নামেন্টটি বিতর্ক অঙ্গনে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। প্রথমবারের মতো স্কুল-কলেজ পর্যায়ে ইনভাইটেশনাল টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে আমাদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। এর মাধ্যমে জুনিয়র বিতার্কিকরা নিজেদের আরো শানিত করতে পারবে এবং বৃহৎ স্কেলে নিজেদের প্রমান করার সুযোগ তৈরী হবে। আমরা বিশ্বাস করি, আজকের একজন যুক্তিবাদী বিতার্কিকই আগামী দিনের সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”

বিডিএস এর ডেপুটি চেয়ারম্যান সৌমিত্র রক্ষিত বলেন, “যুক্তির আলোয় অন্ধকার ভেদ করার নামই বিতর্ক। বিডিএস নিজেদের প্রথম বছরেই একটি ব্যতিক্রমী টুর্নামেন্ট নিয়ে হাজির হয়েছে, এবং এই ধারা চলমান থাকবে। আমরা চাই, প্রতিটি বিতার্কিক যুক্তির শক্তিতে নিজেকে প্রকাশ করুক, ভিন্নমতকে গ্রহণ করতে শিখুক এবং সমাজকে দেখুক আরও গভীর ও প্রশ্নমুখী দৃষ্টিতে। এই টুর্নামেন্ট থেকে জন্ম নিক অসংখ্য চিন্তার স্ফুলিঙ্গ, তৈরি হোক আগামী দিনের যুক্তিবাদী নেতৃত্ব।”

উল্লেখ্য যে, এই টুর্নামেন্টে ৪০ জন বিচারক নিজেদের দক্ষ বিচারকার্য পরিচালনার অভিজ্ঞতা দ্বারা টুর্নামেন্টকে পথ দেখাবেন এবং সকল সমস্যা ত্বরিত সমাধানের জন্য অরগানাইজিং টিম পাশে থাকবে। টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হবে অনলাইনে।

Continue Reading

top2

সৌদি আরবকে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

সৌদি আরবের কাছে প্রায় ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদনের জন্য মার্কিন কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। তবে চুক্তিটি কার্যকর করতে কংগ্রেসের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য, প্রস্তাবিত এই বিক্রি উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ নন-ন্যাটো মিত্রের নিরাপত্তা জোরদার করবে। এর মাধ্যমে অঞ্চলটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সহায়তা করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্যও এগিয়ে যাবে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।

এফ-৩৫-এর মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সৌদি আরবকে দেওয়া হলেও এতে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্য নষ্ট হবে না বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

এদিকে এই চুক্তির খবর এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা মারিব শহরের আকাশে সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে। হুথিদের দাবি, স্থানীয়ভাবে তৈরি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বিমানটি ভূপাতিত করা হয়। এ ঘটনার ভিডিও প্রকাশের কথাও জানিয়েছে তারা। বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, ইরান-সমর্থিত হুথি, সৌদি আরব এবং সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের মধ্যকার সংঘাতে তারা সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না।

তবে প্রস্তাবিত এফ-৩৫ চুক্তি নিয়ে কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতা উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রযুক্তি ও সক্ষমতা-সংক্রান্ত তথ্য চীনের কাছে চলে যেতে পারে। ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রাজা কৃষ্ণমূর্তি বলেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রযুক্তি চুরির বিষয়ে সতর্ক করে আসছে, তাই এমন পরিস্থিতিতে চুক্তিটি নিয়ে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, সৌদি আরব গত মাসে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে ‘মক্কা চুক্তি’ নামে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। এর মাধ্যমে ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে ইসরায়েলই একমাত্র দেশ, যারা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে। সৌদি আরবকে এই যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়েও ইসরায়েল উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। এর আগে রাশিয়ার কাছ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেনার পর ২০১৯ সালে তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

সূত্র: আল জাজিরা

Continue Reading

top2

রংপুর অভিমুখে লংমার্চে পাঁচ জেলায় পথসভা করবে ১১ দলীয় ঐক্য

Published

on

By

সাত দফা দাবিতে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে লংমার্চ করবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে শুরু হয়ে কর্মসূচিটি রংপুর জিলা স্কুলে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হবে। পথে পাঁচটি জেলায় পথসভা করবে জোটটি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি প্রস্তুতি সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।

তিনি জানান, ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে লংমার্চ শুরু হবে। সেখানে সকাল ৮টা পর্যন্ত উদ্বোধনী সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর গাজীপুরের ভোগরাপাড়া, টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ, সিরাজগঞ্জ চৌরাস্তা, বগুড়ার চারমাথা ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা হবে। পরে রংপুর জিলা স্কুলে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিরোধী দলের ছয় দফা দাবি এখন সাত দফায় পরিণত হয়েছে। নতুন করে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি এতে যুক্ত হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, সংসদে ১১ দলীয় ঐক্য জনস্বার্থ ও জনগণের অধিকার নিয়ে কথা বলছে। আইনশৃঙ্খলা, জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিষয়েও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ভূমিকা রাখছেন।

জ্বালানি সংকট নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াতের এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, তেল-গ্যাস সংকট সমাধানে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল এবং বিরোধী দল থেকে ১০টি প্রস্তাব দেওয়া হলেও সেগুলো সরকার আমলে নেয়নি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গ্যাস সংকটে কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং বস্ত্রশিল্পের অর্ডার পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সার সংকটের কারণে ভবিষ্যতে খাদ্যসংকটের আশঙ্কাও রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বিরোধী দল সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও ভূমিকা রাখছে।

অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক ঐকমত্যের প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে। তবে বিরোধী দলের প্রস্তাবগুলো সরকার যথাযথভাবে বিবেচনা করছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Continue Reading

Trending