Connect with us

top3

গ্রাহকের স্বার্থ বিকিয়ে অপচয়ের ভবন বানাচ্ছে সিটি ব্যাংক

Published

on

বাজারমূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ বেশি দামে জমি কিনে সিটি ব্যাংকের সুউচ্চ ভবন বানানোর সিদ্ধান্তে বিপুল অপচয় ও দুর্নীতির গুঞ্জন উঠেছে। বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে দ্বিগুণ বেশি দামে জমি কেনার কারণে ব্যাংকটির পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারী ও আমানতকারীদের স্বার্থ বিবেচনা করা হয়নি; বরং গ্রাহকের আমানত থেকে খরচ করার কারণে আমানতের ঝুঁকি বাড়বে। ব্যাংকের পরিচালন ব্যয় বাড়বে। এতে ব্যাংকের মুনাফার অংশ কমে যাবে।

পুঁজিবাজারে ব্যাংকটির ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা কাঙ্ক্ষিত লভ্যাংশ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন। শুধু তা-ই নয়, অপচয়ের কারণে ব্যাংকটির মুনাফা কমে গিয়ে খরচ বেশি হওয়ার কারণে সরকারকে দেওয়া করের অংশও কমে যাবে। ফলে সরকার কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে। এমনই হটকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে এগোচ্ছে ব্যাংকটির কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, সিটি ব্যাংক রাজধানীর গুলশানে ৪০ কাঠা জমির ওপর ২৮ তলা নিজস্ব ভবন তৈরি করার জন্য এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়েছে। ভবন বানাতে গুলশান অ্যাভিনিউয়ে আগের ২০ কাঠার জমির সঙ্গে পার্শ্ববর্তী আরো ২০ কাঠা জমিও কেনা হচ্ছে। নতুন জমি কেনাসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য ব্যয় মিলিয়ে খরচ হবে ৩৪৫ কোটি টাকা। কিন্তু গুঞ্জন উঠেছে, বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে কেনা হচ্ছে এ জমি।

নতুন করে যে ২০ কাঠা জমি কিনতে যাচ্ছে ব্যাংকটি, তাতে কাঠাপ্রতি খরচ হচ্ছে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ কোটি টাকা, যা অনেকটাই অপ্রত্যাশিত। স্থানীয়রা জানায়, এখানে যে জমির কথা বলা হয়েছে, তার দাম এত হওয়ার কথা নয়। জমি ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের ধারণা এই উচ্চমূল্যে জমি কেনাবেচা হলে পার্শ্ববর্তী জমি ও ভবন মালিকদের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু এত দাম দিয়ে সিটি ব্যাংক কেন জমি কিনছে তা নিয়ে এরই মধ্যে সমালোচনা ও বির্তক শুরু হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গুলশান এভিনিউতে প্রতি কাঠা কমার্শিয়াল জমি এখন কম বেশি আট কোটি টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে।

কিন্তু সিটি ব্যাংক সেখানে জমি কিনছে প্রতি কাঠা ১৭ কোটি ২৫ লাখ টাকায়।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, ‘যদি বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দরে জমি কেনা হয় তাহলে সেখানে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার চেষ্ট হয়েছে কি না সেটা দেখার অবকাশ থাকে। বিক্রেতা সেই টাকা পেয়েছি কি? সেই জমির দাম প্রকৃতপক্ষে কত হওয়া উচিত এবং কোনো দুর্নীতি হয়েছে কি না এসব বিষয়ে তদন্তের অবকাশ থাকে। ’

এদিকে আগের ২০ কাঠা ও নতুন কেনা ২০ কাঠা মিলিয়ে মোট ৪০ কাঠা জমির ওপর নিজস্ব ২৮তলা ভবন নির্মাণে খরচ ধরা হয়েছে ৮৫৫ কোটি টাকা। তাতে জমি কেনা ও ভবন নির্মাণে আপাতত খরচ ধরা হয়েছে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা। এরই মধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রয়োজনীয় অনুমোদনও পেয়েছে ব্যাংকটি।

সর্বশেষ গত বুধবার সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় ব্যাংকের নিজস্ব ভবন নির্মাণ ও এ জন্য নতুন করে আরো ২০ কাঠা জমি কেনার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

১৯৮৩ সালে দেশের তৎকালীন ১২ জন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী মিলে ব্যাংকটি গড়ে তোলেন। ১৯৮৬ সালে ব্যাংকটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠার পর প্রথম নিজস্ব ভবনে প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করে ২০০৯ সালে। গুলশান-২-সংলগ্ন গুলশান এভিনিউয়ে ২০ কাঠার জমির ওপর আটতলা ভবনে ছিল প্রধান কার্যালয়। কিন্তু সেখানে সব জনবলের জায়গা না হওয়ায় পুরনো ভবনটি ভেঙে ২৮তলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সিটি ব্যাংক শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কম্পানি। সেই হিসাবে বিপুল অর্থ ব্যয়ে জমি কেনা ও ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্তের বিষয়টি মূল্য সংবেদনশীল। এ তথ্যটির কারণে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ও পুঁজিবাজারে শেয়ারের দামে প্রভাব পড়তে পারে। যদিও ব্যাংকটি এ তথ্যটি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে এ অপচয়ের কারণে ব্যাংকের মুনাফার অংশ কমে গেলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি না।

সূত্র জানায়, গত ৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক সিটি ব্যাংককে ভবন নির্মাণ ও জমি কেনার প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পাওয়ার পর গত বুধবার ব্যাংকটির পর্ষদ সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।

ব্যাংকসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজউক থেকে ২৮তলা সুউচ্চ ভবন নির্মাণের অনুমোদনও এর মধ্যে হয়ে গেছে। এই ২৮তলা ভবনের মধ্যে পাঁচতলা বরাদ্দ থাকবে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য। বাকি ২৩ তলাজুড়ে থাকবে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম। সেভাবেই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন জমির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ভবনের উচ্চতা ও পরিসর বৃদ্ধির আরো সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পৃথিবীজুড়ে ব্যাংকের ভবন ও কার্যালয় খুবই নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন হয়ে থাকে। আমরাও দেশের ব্যাংক খাতে সে রকম একটি উদাহরণ তৈরি করতে চাই। এ জন্য আমাদের পরিকল্পনা ও উদ্যোগে সম্মতি দেওয়ার জন্য ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি কৃতজ্ঞ। খুব দ্রুততম সময়ে আমরা আমাদের নিজস্ব ভবন তৈরি ও সেখানে কার্যক্রম শুরুর চেষ্টা করব। ’

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

অপ্রতিম হত্যার বিচার ত্বরান্বিত করার দাবিতে কুবিতে মানববন্ধন

Published

on

By

‎
‎কুবি প্রতিনিধি:
‎
‎কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের নৃশংস হত্যার প্রতিবাদ ও বিচার ত্বরান্বিত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলা বিভাগ।

‎মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১১ টায় বাংলা ভাষা-সাহিত্য পরিষদের সহ-সভাপতি সাইফুল মালেক আকাশের সঞ্চালনায়
বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন এবং সিন্ডিকেট সদস্য বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান মিলকী, বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. গোলাম মাওলাসহ বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা। ‎এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘বিচারের নামে প্রহসন, মানি না মানবো না’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই, অপ্রতীম হত্যার বিচার চাই’, ‘জানোয়ারের ক্ষমা নাই, অপ্রতিম হত্যার বিচার চাই’, ‘অপ্রতিমের রক্ত, বৃথা যেতে দেবো না’, ‘খুনির কোনো ছাড় নাই, ফাঁসি ছাড়া নিস্তার নাই’, ‘দাবি মোদের একটাই, অপ্রতিম হত্যার বিচার চাই’, ‘ন্যায়ের জন্য লড়াই হবে, হত্যাকারীর ফাঁসি হবে’ এসব স্লোগান দেন।

মানববন্ধনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, অভিযুক্তদের প্রকৃত বয়স নির্ধারণ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানান। বিচার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তারা।

মানববন্ধনে বাংলা বিভাগের ১৮তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মোসাব আহমেদ সোহাগ বলেন, “আজ থেকে প্রায় এক মাস আগে অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়, তারপরও বিচারের দাবিতে আমাদের এখানে মানবন্ধন করাটা আসলে লজ্জাজনক। এক মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার বিভাগের দ্বিচারিতা করছে। তারা আমাদের সামনে কিছুই প্রকাশ করতে চাচ্ছে না। তাদেরকে কিশোর বলে প্রমাণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা চাই বায়োলজিক্যাল টেস্টের মাধ্যমে প্রকৃত বয়স নির্ধারণ করে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনা হোক।”

১৬তম আবর্তনের আরেক শিক্ষার্থী শানীন অশ্রু বলেন, “অভিযুক্তরা ১৮ বছরের নিচে হলেও প্রচলিত আইন পরিবর্তন করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই, এই হত্যাকাণ্ডের কোনো অপরাধী যেনো আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে না যায়। এরা যদি শাস্তির সম্মুখীন না হয় তাহলে পরবর্তীতে আরো বড় ধরনের অপরাধ করবে। কারণ তারা বিশ্বাস করে ফেলবে দেশের বিদ্যমান আইন তাদেরকে কিছুই করতে পারবে না। এই বিশ্বাস থেকেই তারা পরবর্তীতে দেশে জঙ্গিবাদ, অপহরণ, হত্যা সহ দেশে বিভিন্ন অরাজকতার সৃষ্টি করবে।”

মানববন্ধনে কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন এবং সিন্ডিকেট সদস্য বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান মিলকী বলেন, “যেখানে আমরা আজকে মানববন্ধন করছি, সেখানে অপ্রতিমের বাবাকে কোর্টে ঘুরতে হচ্ছে। যতদিন এই বিচার নিষ্পত্তি না হবে; যতদিন আমরা অপ্রতিম হত্যার বিচার না পাব, ততদিন আমরা রাস্তায় দাঁড়াবো। রাষ্ট্রের কর্ণধার যারা আছেন, তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখবো। অপ্রতিম হত্যার ব্যাপারে কোনো প্রহসনমূলক বিচার আমরা মানবো না। অপ্রতিমের হত্যাকারীদের সংশোধনাগারে পাঠিয়ে এই বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা মানবো না।”

তিনি আরো বলেন, “আমরা বাংলা বিভাগ পরিবার প্রথম থেকে সোচ্চার আছি। যতদিন পর্যন্ত অপ্রতিম হত্যার বিচার না হবে, যতদিন পর্যন্ত খুনিদের ফাঁসি না হবে, ততদিন আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে যাব।”

বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. গোলাম মাওলা বলেন, “বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। আমাদের সন্তানেরা মারা যাচ্ছে কিন্তু আমরা এর যথার্থ বিচার পাচ্ছি না। আমরা যদি একটা সুষ্ঠু সমাজ নির্মাণ করতে চাই, তাহলে আমাদেরকে বিচার প্রক্রিয়া সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। আইনশৃঙ্খলার এমন অবনতি আমরা চাই না। আমরা প্রশাসনের কাছে জননিরাপত্তা এবং অপ্রতিম হত্যার দ্রুত বিচারের দাবি জানাচ্ছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিচারব্যবস্থার সাথে যারা সংশ্লিষ্ট; তারা যেন অপরাধীদের আইনের কোনো ফাঁক-ফোকর বা বয়সের অজুহাতে বিচার থেকে রেহাই না দেয় সেই দাবি জানাচ্ছি।”

‎

Continue Reading

top3

ববিতে “বিইউ আইএসএসএফ”- এর গ্র্যান্ড ওপেনিং ও সাইবার টক অনুষ্ঠিত

Published

on

By

মাফিদুল হাসান, ববি

ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ও সাইবার সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) বরিশাল ইউনিভার্সিটি ইন্টেলিজেন্স সিস্টেমস সোসাইটি এন্ড সিকিউরিটি ফোরাম ( বিইউ আইএসএসএফ) কতৃক গ্র্যান্ড ওপেনিং ও সাইবার টক অনুষ্ঠিত হয়।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনানন্দ দাশ কনফারেন্স হলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এই সেমিনারে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে বেসিক সাইবার সিকিউরিটি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ক্রিটিক্যাল থিংকিং এবং এভরিডে আইটি বিষয়ের ওপর আয়োজিত “The Everyday Tech & Logic Quiz” নামক অফলাইন কুইজ প্রতিযোগিতা।

এই সংগঠনের মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যপ্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার এবং ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরতে এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড.মোঃ মামুন অর রশিদ। এসময় তিনি বলেন, “ব‍্যাক্তির চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বড়,আর বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে দেশ বড়। ব‍্যাক্তি স্বার্থের জন্য অন্যের ক্ষতি করা যাবেনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে না বুঝে এমন কোনো তথ্য শেয়ার করা যাবে না যাতে করে অন্যের ক্ষতি সাধন হয় এবং সমাজ তথা রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। আমাদেরকে সচেতন থাকতে হবে।কেননা এই দেশ আমাদের,দেশকে ভালোবাসতে হবে এবং দেশের উন্নয়নে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল, সহযোগী অধ্যাপক ড. মঞ্জুর আহমদসহ আয়োজক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞানচর্চাকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।

Continue Reading

top3

ডিজিটাল রূপান্তরের পথে বেরোবির লাইব্রেরি:নতুন বই, বিশ্বমানের ই-জার্নালের সাথে চালু হচ্ছে অটোমেশন

Published

on

By

আনাস মাহমুদ; বেরোবি প্রতিনিধি:

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) সেন্ট্রাল লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও প্রযুক্তিবান্ধব করে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে লাইব্রেরিতে অটোমেশন, ই-রিসোর্স বৃদ্ধি, নতুন বই সংযোজন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রয়েছে।

ডিজিটাল ও ই-রিসোর্স সংযোজন:

শিক্ষার্থীদের উচ্চতর গবেষণা ও পড়াশোনার সুযোগ সহজ করতে আন্তর্জাতিক মানের ই-বুকস ও ই-জার্নালের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে দুটি প্রকাশনার (JSTOR এবং Emerald) ই-জার্নাল ক্রয় করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইপি (IP) অ্যাড্রেস ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই ডাউনলোড ও পড়তে পারছেন।এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) (HEAT) প্রকল্পের আওতায় ৭টি প্রকাশনার প্রায় ৩০,৭০০ শিরোনামের ১১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার ই-বুকস ও ই-জার্নাল ক্রয়ের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি লাইব্রেরিতে অটোমেশনের প্রাথমিক ধাপের কাজও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

নতুন বই সংযোজন:

শিক্ষার্থীদের পাঠ্যচাহিদা পূরণে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৩৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকার নতুন বই ক্রয় করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যে রিডিং রুমে পাঠের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালে প্রায় ২৫ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকার নতুন বই ক্রয়ের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। খুব শীঘ্রই এসব বই লাইব্রেরি সংগ্রহে যুক্ত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নিরাপত্তা:

শিক্ষার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্যে পড়ালেখার পরিবেশ নিশ্চিত করতে লাইব্রেরি ভবনের পশ্চিমাংশে আউটডোর রিডিং জোনে উভয়মুখী বসার বেঞ্চ ও টেবিল স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে উত্তর ও দক্ষিণ অংশেও একই ধরনের বসার ব্যবস্থা করার কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া আউটডোর রিডিং জোনের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে দুটি আধুনিক ওয়াশরুম নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও (স্টাফদের) যাতায়াতের কথা মাথায় রেখে ভবনের বাইরে গাড়ি রাখার জন্য একটি গ্যারেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ইনডোর ও আউটডোর উভয় জোনের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে নতুন সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর ভাবনা:

লাইব্রেরির এই আধুনিকায়ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসিফ বলেন, লাইব্রেরিতে JSTOR এবং Emerald-এর মতো আন্তর্জাতিক মানের ই-জার্নাল যুক্ত হওয়া আমাদের জন্য দারুণ একটি সুযোগ। আগে গবেষণার কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক ভালো আর্টিকেল বা বই আমরা পেতাম না। এখন ক্যাম্পাসের আইপি ব্যবহার করে খুব সহজেই এগুলো ডাউনলোড করে পড়তে পারছি। এছাড়া আউটডোর রিডিং জোনে বসার সুন্দর ব্যবস্থা ও নতুন ওয়াশরুমের সুবিধা দীর্ঘ সময় লাইব্রেরিতে পড়ার ক্ষেত্রে বেশ স্বস্তি দেবে।

একই বিষয়ে নাম প্রকায় না করার শর্তে একজন শিক্ষক বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ভিত্তি হলো তার শিক্ষা ও গবেষণা। সেন্ট্রাল লাইব্রেরিকে এভাবে প্রযুক্তিবান্ধব ও আধুনিক করার উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। বিপুল পরিমাণ ই-বুক ও ই-জার্নাল সংযোজন শিক্ষার্থীদের উচ্চতর গবেষণার মানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। একই সাথে নতুন বইয়ের সংযোজন এবং লাইব্রেরির অটোমেশন প্রক্রিয়া শিক্ষক ও গবেষকদের সময় ও শ্রম দুটোই বাঁচাবে।

অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম:

আর্কাইভস সেকশনকে সমৃদ্ধ করতে ২০১১ সাল থেকে অদ্যাবধি বাছাইকৃত ৬টি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পত্রিকা টেন্ডারের মাধ্যমে বাঁধাইকরণের কাজ চলছে। পাশাপাশি লাইব্রেরি ভবনের ৩য় তলার আংশিক সম্প্রসারণের কাজও খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুরু হতে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, এসব উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার সিংহভাগই ইতিমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ লাভ করেছে, যা বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।

Continue Reading

Trending