Connect with us

top1

তারেক রহমানের সফরে চাঙ্গা তৃণমূল, ভুলছে বিভেদ

Published

on

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলের বিজয় ত্বরান্বিত করতে তৃণমূলে প্রচারে নেমেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলের সদ্যপ্রয়াত চেয়ারপারসন মা খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত শোককে শক্তিতে পরিণত করে সরাসরি নেমে পড়েছেন ভোটের মাঠে। সিলেটে জনসভার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরুর পর এখন পর্যন্ত ঢাকাসহ ১২টি জেলায় নির্বাচনী সমাবেশ করেছেন তিনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোট সামনে রেখে তারেক রহমানের এই নির্বাচনী সফরে একদিকে সংগঠনের তৃণমূল যেমন আরও চাঙ্গা হচ্ছে, তেমনি দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীদের ‘ম্রিয়মাণ’ করে ধানের শীষের পক্ষে জোয়ার সৃষ্টি হচ্ছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট হবে। তপশিল অনুযায়ী, গত বুধবার প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী প্রচারে নেমে পড়েছে নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো। ওইদিন রাতে সিলেটে দুই সুফি সাধক হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের পরদিন সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওইদিন সিলেটের পর আরও ছয় জেলা মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে সমাবেশ করে ঢাকায় ফেরেন তিনি।

এরপর গত শুক্রবার রাতে নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭ আসনের আওতাধীন রাজধানীর ভাসানটেকের বিআরবি ময়দানে আয়োজিত জনসভায়ও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনের পাশাপাশি বগুড়া-৬ (সদর) আসনেও ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন তারেক রহমান।

শুক্রবার ঢাকায় নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেওয়ার পর শনিবার রাতে চট্টগ্রামে যান বিএনপি চেয়ারম্যান। গতকাল রোববার চট্টগ্রামসহ চার জেলায় ছয়টি নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন তিনি। এই সফরে তারেক রহমানের প্রথম নির্বাচনী সমাবেশ হয় চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ডে। এরপর বিএনপি চেয়ারম্যান ফেনী পাইলট স্কুল মাঠ, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হাই স্কুল মাঠ, সুয়াগাজীর ডিগবাজি খেলার মাঠ, দাউদকান্দি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ এবং নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর বালুর মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন। দিনের কর্মসূচি শেষ করে গভীর রাতে গুলশানের বাসায় ফেরেন তিনি।

তারেক রহমানের প্রতিটি জনসভায় সংশ্লিষ্ট জেলার সব সংসদীয় আসনের ধানের শীষ ও বিএনপি জোটের সব প্রার্থীকে তার সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত থাকতে দেখা যাচ্ছে, যাদের তিনি উপস্থিত জনতার সামনে একে একে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। একই সঙ্গে জনগণের কল্যাণে বিএনপির পরিকল্পনা তথা রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান এবং মসজিদ-মাদ্রাসাভিত্তিক ধর্মীয় নেতাদের জনকল্যাণমুখী কর্মকাণ্ড কীভাবে এগিয়ে নেবেন, তা তুলে ধরছেন। আগামী নির্বাচনকে ‘দেশ গড়ার নির্বাচন’ হিসেবে অভিহিত করে প্রতিটি জনসভায় ধানের শীষ এবং জোট প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারম্যান এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের বাকি বিভাগীয় শহরসহ সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোয় জনসভা করবেন। একদম সাদামাটা ভঙ্গিমায় প্রয়াত বাবা-মায়ের মতোই তিনি ছুটে যাচ্ছেন তৃণমূলে। বিএনপি নেতারা বলছেন, তারেক রহমানের এই নির্বাচনী মুভমেন্টের মধ্য দিয়ে সারা দেশে ধানের শীষ ও জোট প্রার্থীদের পক্ষে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, যা নির্বাচনে বিএনপির বিজয় নিশ্চিতে সহায়ক হবে। এ ছাড়া এর মধ্য দিয়ে দলের বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দমে গিয়ে ‘ম্রিয়মাণ’ হয়ে পড়ছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া এসব নেতাকে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে দেখছে বিএনপি। নির্বাচনে থাকা দলের এমন অন্তত ৭১ নেতাকে এরই মধ্যে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

নির্বাচন সামনে রেখে তারেক রহমানের তৃণমূলে এই সফরগুলো যে কোনো সময়ের বিবেচনায় অন্য যে কোনো সফরের চেয়ে ‘অত্যন্ত সফল কর্মসূচি’ বলে মনে করেন বিএনপি ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি কালবেলাকে বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন। স্বাভাবিক কারণেই তার ব্যাপারে, বিশেষ করে তাকে দেখার জন্য দেশের মানুষ খুবই আগ্রহী। তার প্রতি মানুষের যে আগ্রহ এবং বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের যে মমত্ববোধ, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা—সব মিলিয়ে তারেক রহমানের এই সফরগুলোর প্রতিটিতেই মানুষের সমাগম, আগ্রহ, সমর্থন সব দিক থেকেই উল্লেখযোগ্য, যা ভোটের আগে একটি ইতিবাচক রাজনীতিরই লক্ষণ।

তিনি দাবি করেন, বিএনপি চেয়ারম্যানের এই সফরগুলোর মধ্য দিয়ে মোটাদাগে তিনটি কাজ হচ্ছে। এক. কোনো বিভেদ-দ্বন্দ্ব থাকলে তা কেটে গিয়ে বিএনপির তৃণমূল আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হচ্ছে। দুই. দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিএনপির যেসব নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে রয়ে গেছেন, তারা ‘ম্রিয়মাণ’ হয়ে পড়ছেন। তিন. সারা দেশে ধানের শীষের পক্ষে জোয়ার সৃষ্টি হচ্ছে।

নির্বাচন সামনে রেখে তারেক রহমানের সফর তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপিকে আরও চাঙ্গা করার পাশাপাশি দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ‘আড়ালে ঠেলে দিচ্ছে’ বলে অভিমত রাজনীতি বিশ্লেষকদেরও।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান কালবেলাকে বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘদিন পর লন্ডন থেকে দেশে এসেছেন। স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূলে তার এই সফর দরকার ছিল। বিএনপি চেয়ারম্যানের এই সফর তৃণমূলে সংগঠনকে আরও চাঙ্গা করছে।

তিনি বলেন, এখন নির্বাচন না হলেও নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য, তাদের উদ্দীপ্ত করার জন্য তারেক রহমানকে তৃণমূলে যেতে হতো। জনগণকে সরাসরি আকর্ষণ-আকৃষ্ট করতে তাদের সামনে হাজির হতে হয়, এ ক্ষেত্রে জনসভার বিকল্প নেই। নির্বাচন সামনে রেখে সভা-সমাবেশের মাধ্যমে তিনি তার সম্মোহনী শক্তির বহিঃপ্রকাশের পাশাপাশি নিজেদের এজেন্ডা, আদর্শ মানুষের কাছে তুলে ধরছেন। ফলে এই সফরের ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে দলের রাজনীতিতেও, যা বিএনপির জন্য নির্বাচনী বৈতরণি পার হতে সহায়ক হবে।

তারেক রহমান এসব সফরের মধ্য দিয়ে প্রতীকের পাশাপাশি দলীয় এবং জোটের প্রার্থীকে পরিচিত করাচ্ছেন উল্লেখ করে মাহবুবুর রহমান বলেন, এর মধ্য দিয়ে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থীকে এক ধরনের ‘প্রান্তিক’ করছেন। কারণ, বিএনপির সর্বোচ্চ নেতা যখন দলীয় প্ল্যাটফর্মে-ফোরামে হাজার হাজার মানুষের সামনে দলের এবং জোটের প্রার্থীকে নিজে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন, তখন দল এবং স্থানীয় নেতাকর্মী ও মানুষের কাছে বিদ্রোহী প্রার্থীদের আর তেমন কোনো অবস্থান থাকছে না। এর মধ্য দিয়ে জনগণের কাছে এই বার্তা যাচ্ছে যে, বিএনপি চেয়ারম্যান তাকে ‘ওন’ করছেন না। এভাবে ওই লোকটা ‘নিঃসঙ্গ’ হয়ে যাচ্ছেন, প্রান্তিক হয়ে পড়ছেন। দল থেকে বহিষ্কার করার চেয়েও এটা আরও বড় ফল বয়ে আনছে।

এই রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, তারেক রহমানের অনুপস্থিতিজনিত কারণে বিএনপি যে অবস্থায় ছিল, তিনি দেশে আসার কারণে সেই বিএনপির মধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে ঐক্য বাড়ছে, নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ-উদ্দীপনা-উৎসাহ তৈরি হচ্ছে, বিভেদ ভুলে তারা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। তাই বলতে হবে, তারেক রহমান দেশে না থাকলে নির্বাচনে যে ফল হতো, এখন তার সরাসরি নেতৃত্বের সম্মোহনী শক্তির ফলে চাঙ্গা তৃণমূলের কারণে দল আরও ভালো ফলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

রুমিন ফারহানার এনসিপিতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন, কী বলছেন নেতাকর্মীরা

Published

on

By

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগদানের গুঞ্জনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে রুমিন ফারহানার দল পরিবর্তনের আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে তার অনুসারী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে।

রুমিন ফারহানার পক্ষে নির্বাচনি কার্যক্রমে যুক্ত সরাইল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রাসেল বলেন, ‘এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের তথ্য আমাদের কাছে নেই। কিছু আলোচনা শোনা যাচ্ছে, তবে বিষয়টি গুজব বলেই মনে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের আলোচিত ব্যক্তিকে নিয়ে গুজব ছড়ানো রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না। এনসিপিতে যোগদানের মিথ্যা গুজবে আপনারা কান দেবেন না।’

তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একাধিক নেতাকর্মীও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তারা জানান, রুমিন ফারহানা দল পরিবর্তনের বিষয়ে এখনও কোনো ইঙ্গিত দেননি। এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিলে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হতো বলেও তারা মনে করেন।

স্থানীয় ভোটারদের মধ্যেও এ নিয়ে বিস্ময় দেখা গেছে। তাদের ভাষ্য, গুঞ্জনটি সঠিক নয় বলেই ধারণা করছেন তারা। তবে যদি তা সত্যি হয়, তাহলে সেটি তার অনুসারীদের জন্য বড় ধাক্কা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা জানান, রাজনীতিতে অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়। ইতিহাসে নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক দল-বদলের অনেক উদাহরণ রয়েছে। তবে রুমিন ফারহানা যেহেতু বিএনপির বহিষ্কৃত নেত্রী, আমরা চাই যে অবস্থানে থাকুন না কেন, তিনি যেন মানুষের জন্য কাজ করে যান।

অন্যদিকে সরাইল উপজেলা এনসিপির একাধিক নেতা জানান, আমাদের দলে নতুন কেউ যোগ দিলে অবশ্যই স্বাগত জানাব। তবে রুমিন ফারহানার বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্তের খবর আমাদের কাছে আসেনি। বিষয়টি গুজব বলেই মনে হচ্ছে।

এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মোহাম্মদ আতাউল্লাহ বলেন, এ ধরনের গুঞ্জন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন নয়। রুমিন ফারহানা স্পষ্টভাষী মানুষ। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী ও জনগণের জন্য কাজ করতে চান। আমাদের এনসিপির মূলনীতিও জনগণের অধিকার জনগণকে ফিরিয়ে দেওয়ার। আমরা তার সঙ্গে মিলেই কাজ করব।

তিনি বলেন, তিনি আমাদের সঙ্গে কাজ করতে চাইলে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্বাগতম জানাব। আমাদের দলে যোগ দিতে চাইলে দলের নীতিনির্ধারকরা নীতিমালার ভিত্তিতে বিষয়টি বিবেচনা করে দেখবেন; কীভাবে সম্মানের সঙ্গে রুমিন ফারহানাকে দলে যোগদান করানো যায়।

এ বিষয়ে জানতে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

তবে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি একটি ইংরেজি উদ্ধৃতি শেয়ার করেন, যার মর্মার্থ— গুজব রটায় নিন্দুকরা, ছড়ায় বোকারা, আর বিশ্বাস করে গাধারা।

যদিও তিনি সরাসরি কোনো দলের নাম উল্লেখ করেননি, তবে এটি চলমান গুঞ্জনের প্রতিক্রিয়াই হতে পারে।

বিভিন্ন সূত্রে খবর ছড়িয়েছে, জুলাই আন্দোলনের পক্ষের শক্তিগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার চেষ্টা করছে এনসিপি। ফলে রুমিন ফারহানাসহ কয়েকজন পরিচিত মুখ এনসিপিতে যোগ দিতে পারেন। দলটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগের খবরও গণমাধ্যমে উঠে আসে।

Continue Reading

top1

পিলখানা হত্যাকাণ্ড চালিয়ে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী

Published

on

By

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড চালিয়ে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিলো। পরের শাসনামলে নানা কর্মকাণ্ড করে সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টাও করা হয়েছিল।

রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর দরবারে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই সেনাবাহিনীর একমাত্র পবিত্র দায়িত্ব।

এসময় তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী এবং অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো আমলে সেনাবাহিনীর ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সেনাবাহিনী স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে।

তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তবে বাংলাদেশকে কখনও কেউ পরাজিত করতে পারবে না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশপ্রেমের যে অগ্নিশিখা সেনাবাহিনীর মধ্যে জ্বালিয়েছিলেন, তা যেন নিভে না যায়।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে অংশগ্রহণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে বিএনপি সরকারই অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু সেনাবাহিনী নয়, দেশের প্রতিটি সেক্টর সংস্কার ও প্রতিটি মানুষের উন্নয়নের ইশতেহার আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই।

রাষ্ট্র মেরমতের লক্ষ্যে বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিল উল্লেখ করে তারে জুলাই সনদের প্রতিটি দফা ঠিক যেভাবে ছিল, সেভাবেই বাস্তবায়নে এই সরকার বদ্ধপরিকর।

দরবারে তিন বাহিনীর প্রধান, তিন বাহিনীর শীর্ষ জেনারেল, সেনা-নৌ-বিমান বাহিনীর সেনানিবাস, ঘাঁটি ও ইউনিটের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও সারাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন।

Continue Reading

top1

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোসলে আর নেই

Published

on

By

ভারতের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোসলে আর নেই। রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি।

তার ছেলে আনন্দ ভোসলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। আগামীকাল বিকেল ৪টায় মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

এর আগে বুকে ব্যথা নিয়ে শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন আশা। ছিলেন চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফিরে আসা হলো না তার। কিংবদন্তি গায়িকার প্রয়াণে সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ভারতীয় সংগীতের অন্যতম আইকনিক ও বহুমুখী প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে সুপরিচিত আশা ভোসলে। আট দশকের বেশি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি একাধিক ভারতীয় ভাষার পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি ভাষাতেও হাজার হাজার গান রেকর্ড করেছেন।

শাস্ত্রীয়, লোকসংগীত, পপ থেকে গজল- বিভিন্ন ধারার সংগীতে তার অসাধারণ মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা তাকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

দীর্ঘ কর্মজীবনে ভারতীয় সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আশা ভোসলে অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন। তিনি ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান ‘দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার’-এ ভূষিত হয়েছেন এবং ‘পদ্মবিভূষণ’ও অর্জন করেছেন।

এছাড়া তিনি একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছেন, যা তাকে ভারতীয় প্লেব্যাক সংগীতের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ও সর্বাধিক সম্মানিত কণ্ঠশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

টানা সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় সংগীতে রাজত্ব করেছেন আশা ভোসলে। হাজার হাজার গান আর অসংখ্য কালজয়ী সুরের মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছিলেন কয়েক প্রজন্মের অনুপ্রেরণা। তার প্রয়াণে একটি সোনালি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।

Continue Reading

Trending