পোস্টার-শোডাউন এড়িয়ে অভিনব কৌশলে প্রচারণায় নেমেছেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। মানুষের আস্থা ও ব্যক্তিগত যোগাযোগকে ভিত্তি করে তিনি চালু করেছেন ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’ নামে একটি ক্যাম্পেইন উদ্যোগ।
পোস্টে তাসনিম জারা লিখেছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যখন মাত্র দেড় দিনে প্রায় ৫০০০ ভোটারের স্বাক্ষর প্রয়োজন ছিল, তখন অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসে বলতেন, ‘মা, আমি এসেছি কারণ আমার ছেলে ফোন করে বলেছে আপনাকে সাহায্য করতে।’ কিংবা, ‘আমার মেয়ে থাকে আমেরিকায়, সে আমাকে ফোন করে বলেছে, বাবা, তাসনিম জারাকে সিগনেচারটা দিয়ে এসো। ও না হলে দাঁড়াতেই পারবে না।’ তখনই বুঝতে পারি, মানুষ আসলে রাজনীতির সঙ্গে এখন কতটা সম্পৃক্ত। বুঝতে পারি, আমাদের শক্তি হলো মানুষের আস্থা। ভাড়া করা মানুষ নিয়ে মিছিল বা কান ঝালাপালা করে দেওয়া মাইকিং নয়।
তিনি লিখেছেন, নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার আগেই দেখলাম শহরজুড়ে পোস্টারের উৎসব। নির্বাচন কমিশন আগেই ঘোষণা করেছিল যে, এ বছরের নির্বাচনে পোস্টার লাগানো নিষেধ। কিন্তু প্রায় সব প্রার্থী সেই নিয়মের তোয়াক্কা না করে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে শহরটাকে পোস্টার দিয়ে মুড়িয়ে ফেললেন। আমি রাজনীতির বাইরের মানুষ ছিলাম। সাধারণ নাগরিক হিসেবে এই ‘পোস্টারের জঞ্জাল’ এবং ‘উচ্চশব্দের মাইকিং’ আমাকে সবসময় কষ্ট দিত। তাই আমি আমার টিমকে বলি যে, আমি পোস্টার টাঙ্গাব না, উচ্চ শব্দে মাইকিংও করব না। কিন্তু তখন আমার শুভাকাঙ্ক্ষীরা চিন্তিত হয়ে পড়লেন। তারা বললেন, ‘পোস্টার না থাকলে মানুষ জানবে কীভাবে আপনি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন? প্রচার মানেই তো চোখের সামনে থাকা।’
তিনি আরও লিখেছেন, তাদের কথা ভুল ছিল না। যখন এলাকায় যেতাম, অনেকেই ভালোবেসে অনুযোগ করতেন, ‘আপনার তো কোনো পোস্টার দেখি না, আপনি কি আদৌ নির্বাচন করছেন? আপনার প্রচার আরও বাড়াতে হবে।’
ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী লিখেছেন, আমরা ভাবতে থাকি, এসব দাপট দেখানো কাজ না করেও নির্বাচনের মাঠে কীভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যায়? একদম মূলে (Basic-এ) গিয়ে আমরা চিন্তা করলাম, মানুষ আসলে ভোট দেয় কেন? রাস্তায় বড় মিছিল দেখলে বা কানের কাছে মাইক বাজলেই কি আপনি কাউকে ভোট দেবেন? সম্ভবত না। বরং এতে বিরক্তি বাড়ে। মানুষ ভোট দেয় ‘বিশ্বাস’ থেকে। আর এই বিশ্বাসটা তৈরি হয় যখন আপনার পরিচিত কেউ (আপনার বন্ধু, আত্মীয় বা সহকর্মী) আপনাকে ফোন করে বলে, ‘দোস্ত, আমি উনার ইশতেহার পড়েছি, মানুষটা সৎ। চলো এবার উনাকে একটা সুযোগ দেই।’ এ ধরনের আন্তরিক কথোপকথন, হাজারটা পোস্টারের চেয়েও শক্তিশালী। আমাদের অনেক সমর্থক আছেন যারা হয়তো মিছিলে গিয়ে স্লোগান দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, কিন্তু মনেপ্রাণে চান রাজনীতিতে একটা পরিবর্তন আসুক। তাদের জন্যই আমরা একটা পন্থা বের করার চিন্তা করি। সেখান থেকেই আসে আমাদের ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’ এর আইডিয়াটা।
জারা লিখেছেন, আমরা বিশ্বাস করি, এই নির্বাচনে যদি আমরা দেখিয়ে দিতে পারি যে কান ঝালাপালা করা মাইকিং না করে, পোস্টার দিয়ে শহরটা জঞ্জাল না করে এবং কোটি টাকা খরচ করে শোডাউন না দিয়েও (কারণ প্রায় সব শোডাউনেই অল্প কিছু কর্মী ও বাকিরা ভাড়া করা মানুষ থাকে) একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী জিততে পারেন, তাহলে ভবিষ্যতে এমন অনেকেই রাজনীতিতে আসবেন যাদের টাকা বা পেশিশক্তি নেই; কিন্তু দেশ পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ও যোগ্যতা আছে। আর তখন রাজনৈতিক দলগুলো তাদের পুরোনো চর্চা বাদ দিতে বাধ্য হবে।
তিনি লিখেছেন, পোর্টালের আলোচনায় ফিরে আসি। আমাদের লক্ষ্য ছিল জিনিসটা যতখানি সম্ভব সহজ করা। তাই আমরা এখানে মাত্র দুইটা ধাপ রেখেছি। প্রথম ধাপে পোর্টালে যাওয়া লাগবে না। আপনি শুধু আপনার পরিচিত কাউকে কল দিয়ে বলবেন আপনি কেন এই নির্বাচনে আমাদের সাপোর্ট করছেন এবং তাদের সাপোর্ট চাইবেন। তারা সাপোর্ট দিতে চাইলে পোর্টালে এসে জানাবেন কতজনের সাপোর্ট সংগ্রহ করতে পেরেছেন। পরে এখান থেকেই তাদের কাছে ‘ভোটার স্লিপ’ বা আমাদের ইশতেহার পাঠিয়ে দিতে পারবেন।
তিনি আরও লিখেছেন, যদি আপনিও আমাদের মতো মনে করেন যে, এ মডেলটি নতুন রাজনীতির যে স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম তা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে, তাহলে আমাদের একজন ‘ক্যাম্পেইনার’ হিসেবে যুক্ত হোন। খুঁজে দেখুন ঢাকা-৯ এলাকায় আপনার পরিচিত কেউ আছেন কি না, বা এমন কেউ আছেন কি না যিনি ঢাকা-৯ এলাকার মানুষকে চেনেন। তাদের আমাদের কথা বলুন।
তাসনিম জারা লিখেছেন, আমাদের কাছে আপনার সাপোর্ট শুধু একটা ভোট না, এটা রাজনীতির যে নতুন ধারা আমরা তৈরি করতে চাই, সেই মডেল কাজ করবে কি না, সেটা প্রমাণেরও উপায়। এটা কাজ করলে দেশ পরিবর্তনের একটা শক্তিশালী ‘টুলকিট’ আমরা পেয়ে যাব। সময় খুব অল্প, আপনার সাহায্য প্রয়োজন
কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে ঋণখেলাপির দায়ে মনোনয়ন বাতিল হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
এতে বলা হয়, দলীয় নীতি, আদর্শ এবং সংগঠন পরিপন্থী বক্তব্য ও কার্যকলাপের জন্য বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এর আগে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর একটি বিতর্কিত বক্তব্য ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়ে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা গুনাইঘর (উত্তর) ইউনিয়নের বাকসার গ্রামে একটি নির্বাচনি উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এবং ভোটাররা অন্য কোথাও ভোট দিলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হবে।
তবে, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর দাবি, ভিডিওটি কেটে বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্য সব উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি এবং তাদের স্ত্রী-স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ বিবরণী প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ এবং তাদের স্ত্রী-স্বামীর ৩০ জুন ২০২৪ ও ৩০ জুন ২০২৫ তারিখের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করা হলো।
সম্পদবিবরণী দেখতে ক্লিক করুন।
এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব গ্রহণের দুই সপ্তাহের মাথায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার সরকারের সব উপদেষ্টার সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করা হবে।
তিনি বলেছিলেন, ‘বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেছে। আমাদের সব উপদেষ্টা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করবেন। পর্যায়ক্রমে এটি সব সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক করা হবে।’
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আসিফ নজরুল অভিযোগ করে বলেছেন, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতারা অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যদের হত্যার নির্দেশ দিচ্ছেন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ঢাকায় সফররত কমনওয়েলথ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ অভিযোগ করেন। বৈঠকটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
আসিফ নজরুল বলেন, নির্বাচনকে আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক করার বিষয়ে প্রতিনিধি দল প্রশ্ন তুললে তিনি জানান, জোর করে কাউকে নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগের কারও মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণের মানসিকতা দেখা যায়নি। বরং তারা বিদেশে বসে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের এবং অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীলদের হত্যার নির্দেশ দিচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডে জড়িত আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের বিচার চলছে এবং দলটির শীর্ষ নেত্রীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হয়েছে। তবে ওই সময়ের ঘটনায় আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকে অনুশোচনামূলক বা নিন্দাসূচক বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি।
নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, দেশে নারী ভোটারদের ভয় পাওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও তা নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণে প্রভাব ফেলবে না। বরং এবারের নির্বাচনে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ আগের চেয়ে বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, অতীতের শাসনামলে হিজাব ও বোরকা পরা নারীদের একটি বড় অংশ নানা ধরনের হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার হয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই নারীদের বড় অংশ আগ্রহের সঙ্গে ভোট দিতে আসবেন বলে তিনি মনে করেন।
সবশেষে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসর ও জনজীবনে নারীদের আরো বেশি অংশগ্রহণ প্রয়োজন, এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।