Connect with us

top1

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বিজেপির ‘হিন্দুত্ববাদের’ থাবায় যেভাবে বিপন্ন ক্রিকেট

Published

on

১৯৯৩ সালের কথা। ‘ডর’ ও ‘বাজিগর’–এর মতো পরপর দুটি মেগাহিট সিনেমা দিয়ে বলিউডে এক কিংবদন্তি ক্যারিয়ারের সূচনা করেছিলেন এক উদীয়মান তারকা। তিনিই প্রথম দর্শকদের কাছে ‘অ্যান্টি-হিরো’ বা খলনায়ক চরিত্রের নতুন এক ধারণা নিয়ে আসেন। এর ঠিক ৩৩ বছর পর, সেই ঘটনার জেরেই বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কৃত হতে হলো বাংলাদেশকে!

কথাগুলো পড়ে যদি আপনার কাছে অর্থহীন মনে হয়, তবে এই দুই ঘটনার পেছনের যোগসূত্র মেলাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। তবে এই গল্পের মূলে যে নতুন উদ্বেগজনক বাস্তবতা, তা হলো—বর্তমান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কীভাবে ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী সরকারের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

গত ২ জানুয়ারি ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা সংগীত সোম দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় মুসলিম ব্যক্তিত্ব শাহরুখ খানকে ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দিয়ে আক্রমণ করে বসেন। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) মালিক শাহরুখ। তার দলই মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে ভিড়িয়েছিল। 

মোস্তাফিজকে ‘ভয়াবহ পরিণতির’ হুমকি দিয়ে সংগীত সোম দাবি করেন, ভারতে শাহরুখের ‘বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই’। 

এর কয়েক দিনের মধ্যেই ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই) কেকেআরকে মোস্তাফিজকে ছেড়ে দেওয়ার ‘অনুরোধ’ করে। কারণ হিসেবে ‘চারপাশে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাবলির’ মতো একটি অস্পষ্ট অজুহাত দাঁড় করায় তারা।

এমন ঘটনার পর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিক্রিয়া জানান বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় নিতে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসিকে জানাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) নির্দেশ দেন তিনি।

আসিফ নজরুল উল্লেখ করেন, ‘যদি একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার ভারতে খেলতে না পারেন… তাহলে পুরো বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপের জন্য ভারতে ভ্রমণ করাটা নিরাপদ বোধ করতে পারে না।’

বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে কয়েক দফা আলোচনার পর আইসিসি কড়া ভাষায় বাংলাদেশের এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। সংস্থাটি জানায়, এমন কিছু করা হলে তা ‘এমন এক নজির স্থাপন করবে, যা আইসিসির ভবিষ্যৎ ইভেন্টগুলোর স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ন করবে এবং বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে এর নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।’ 

শুধু তাই নয়, বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকেই সরিয়ে দিয়ে আইসিসি বাংলাদেশের বদলি হিসেবে স্কটল্যান্ডকে স্থলাভিষিক্ত করে।

এরপর, আইসিসির এমন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। তিনি আইসিসির এই পদক্ষেপকে ‘দ্বৈত নীতি’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র বিরোধিতা করেন। এর কয়েক দিন পরই পাকিস্তান সরকার তাদের ক্রিকেট দলকে বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষের ম্যাচটি বয়কট করার নির্দেশ দেয়।

এখন প্রশ্ন হলো, এই পুরো ঘটনার সঙ্গে ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী আদর্শের সম্পর্ক কোথায়?

শুরুতেই বলা যায়, শাহরুখ খান ও মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে সংগীত সোমের দেওয়া হুমকি মূলত বিজেপির সেই পুরনো মুসলিমবিদ্বেষী কৌশলেরই অংশ। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে এই ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। 

সেখানকার স্থানীয় মুসলমানদের ‘বাংলাদেশি শরণার্থী’ দাবি করে বহিষ্কারের ডাক দিচ্ছে বিজেপি, কট্টর সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অংশ হিসেবেই এসব বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালাচ্ছে তারা।

যদিও হিন্দুত্ববাদী বিজেপির লক্ষ্যবস্তুতে শাহরুখ খান এবারই প্রথম নন। কয়েক দশকের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার কারণে ভারতীয় সমাজে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ‘আইকন’ হিসেবে তাকে বারবার নিশানা করা হয়েছে।

তবে এবারে খোদ বিসিসিআই সরাসরি হস্তক্ষেপ করে মোস্তাফিজকে সরিয়ে নিতে কেকেআরকে ‘অনুরোধ’ জানায়। এই সিদ্ধান্তের আগে বিসিসিআইয়ের অভ্যন্তরে কোনো ধরনের আলোচনা বা বিতর্ক হয়নি। 

‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোর্ডের একেবারে উচ্চপর্যায় থেকে এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি বোর্ডের সাধারণ সদস্য বা আইপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের সঙ্গেও কোনো পরামর্শ করা হয়নি। বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা নিজেরাও সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। কোনো আলোচনা হয়নি, আমাদের কোনো পরামর্শও নেওয়া হয়নি।’

কেকেআরের কাছে বিসিসিআইয়ের সেই অনুরোধটিও ছিল ইচ্ছাকৃতভাবে অস্পষ্ট। কেন বা কী কারণে এমন দাবি তোলা হয়েছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা সেখানে ছিল না। আর এই অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়েই আইসিসি পরবর্তীতে বিসিবির নিরাপত্তা উদ্বেগের দাবিটি নাকচ করে দেওয়ার সুযোগ পায়।

ভারতীয় ক্রীড়া সাংবাদিক শারদা উগ্রার মতে, এই ‘অস্পষ্টতা’ মূলত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সাম্প্রতিক কর্মপদ্ধতির একটি কৌশলগত বৈশিষ্ট্য। ২০২৫ সালের এশিয়া কাপে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে ভারতীয় দলকে কেন হাত মেলাতে নিষেধ করা হয়েছিল, তার কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব তিনি অনেক চেষ্টা করেও পাননি।

একইভাবে গত বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির জন্য ভারত কেন পাকিস্তান সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানাল, তারও কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত নির্দেশনা নেই। শারদা বলেন, ‘বিদেশ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র দপ্তর কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়—কোথাও কোনো স্পষ্ট বিবৃতি বা নির্দেশনা নেই। কোনো সুনির্দিষ্ট আদেশ ছাড়াই সবকিছু ঘটছে।’

মোস্তাফিজের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। শারদা বলেন, ‘কোনো দাপ্তরিক নথিপত্র বা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার কোনো প্রমাণ নেই। এমন কোনো কাগজ নেই যেখানে লেখা আছে যে এই ক্রিকেটারের সঙ্গে চুক্তি করা যাবে না কিংবা তিনি বিপদে আছেন। সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক সতর্কতাও নেই। পুরোটাই ঘটেছে শুধুমাত্র ফিসফাস আর গুঞ্জনের ওপর ভিত্তি করে।’

বিসিসিআই যদি ভারতের ক্ষমতাসীন দলের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে আইসিসিও তার থেকে আলাদা কিছু নয়। আইসিসির বর্তমান প্রধান জয় শাহ স্বয়ং ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ছেলে—যিনি নরেন্দ্র মোদির পর ভারতের বর্তমান শাসনব্যবস্থার দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি। 

বিশেষ করে, পাকিস্তানের মাটিতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ম্যাচগুলো ভারতের আপত্তির মুখে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত যারা হাসিমুখে মেনে নিয়েছিল, তাদের মুখে নিরপেক্ষতার বুলি এখন উপহাসের মতোই শোনায়।

গার্ডিয়ান-এর সাংবাদিক তাহা হাশিম লিখেছেন, ‘ভবিষ্যৎ ইভেন্টগুলোর পবিত্রতা রক্ষার দাবিটি আইসিসির জন্য একটি ‘কমেডি’। কারণ, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি নিয়ে তাদের হাইব্রিড মডেলের সিদ্ধান্তই একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করেছে, যা আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোকে হাসির খোরাক বানিয়ে দিয়েছে।’

ক্রিকেট বোর্ডগুলোর মধ্যে একমাত্র পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভিই এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রতি আইসিসির এই আচরণকে ‘দ্বৈত নীতি’ ও ‘অবিচার’ হিসেবে অভিহিত করে পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এই সংকটে পাকিস্তানের মতো মিত্র পেলেও বাংলাদেশের বাস্তবতাকে একটু ভিন্নভাবে দেখছেন জ্যেষ্ঠ ক্রীড়া সাংবাদিক মোহাম্মদ ইসাম।

ইসামের মতে, তিন দিকে ভারতবেষ্টিত একটি দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ওপারের বাংলা ভাষাভাষীদের সঙ্গে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক অনেক বেশি গভীর। ফলে বাংলাদেশের সামনে বিকল্প পথগুলো সীমিত। তিনি মনে করেন, বর্তমান সংকটটি সরাসরি সরকারের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও আসন্ন নির্বাচনমুখী রাজনীতির ফল।

পর্যবেক্ষকদের ধারণা ছিল, মোস্তাফিজের ঘটনার পর বিসিবি হয়তো একটি কূটনৈতিক অবস্থান নেবে। ইসাম বলেন, ‘বিসিবি একটি মধ্যমপন্থি বিবৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল। কারণ, বর্তমান সরকারের জন্য ভারতের বিরোধিতা করা রাজনৈতিক বিষয় হতে পারে, কিন্তু ক্রিকেট বোর্ডের কাছে ভারতীয় ক্রিকেটই সব। 

বিসিবি আসলে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা রাখে না। কারণ, ভারতের একটি মাত্র সফর দিয়ে বিসিবির কয়েক বছরের খরচ চলে যায়।’ 

আর্থিক লোকসানের এই ভয়টাই হলো ভারতের সেই ‘লাঠি’, যা দিয়ে তারা বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের একচ্ছত্র দাপট বজায় রাখে। পাকিস্তান ক্রিকেট প্রায় দুই দশক ধরে ভারতীয় অর্থ ও সম্পর্কের বাইরে থেকে টিকে থাকার অভ্যাস করে নিলেও, অন্য ছোট বোর্ডগুলোর সেই সক্ষমতা বা সাহস নেই। এমনকি ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রভাবশালী বোর্ডগুলোও এই বিষয়ে আশ্চর্যরকম উদাসীন।

ইয়েল ইউনিভার্সিটির লেকচারার সুশান্ত সিং এক ব্লগ পোস্টে লিখেছেন, ‘সংখ্যাগুরুবাদী রাজনীতির বেদীতে বিসর্জন দেওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে মোস্তাফিজই শেষ ব্যক্তি নন… এই তলোয়ার এখন প্রস্তুত এবং এর কার্যকারিতাও প্রমাণিত। আইসিসি, অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ড কিংবা বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যম—কারোরই এই ধারা থামানোর সদিচ্ছা নেই।’

এই স্রোত প্রতিরোধের উপায় কী? সুশান্ত সিং মনে করেন, ‘ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো যখন এমন পরিস্থিতির শিকার হবে, তখনই হয়তো কোনো পালটা প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। কিন্তু তার আগ পর্যন্ত আয়ের অংকের কথা চিন্তা করে এই অপমান মুখ বুজে সয়ে যাওয়াই হয়তো বোর্ডগুলোর নীতি হয়ে থাকবে।’

আইসিসি কিংবা ভারত বাদে অন্য দুই শক্তিশালী বোর্ড (ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া) থেকে কোনো প্রতিবাদের আশা দেখছেন না শারদা উগ্রাও। তিনি গত ৩০ বছর ধরে ক্রিকেট কাভার করছেন। তার মতে, ‘আইসিসিকে এর আগে কখনো এতটা অসহায় ও ছন্নছাড়া মনে হয়নি। এটি এখন একটি নীতিহীন সংস্থায় পরিণত হয়েছে। 

আর অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ডগুলো বর্তমান ক্রিকেটের ‘বিগ ডন’ বিসিসিআইয়ের আজ্ঞাবহ সহযোগী ছাড়া আর কিছুই নয়। আইসিসিতে এখন কোনো যোগ্য বা পরিপক্ক নেতৃত্ব নেই।’

আইসিসির এই কথিত নেতৃত্বের দুর্বলতা ফুটে উঠেছে পাকিস্তানের ভারত-ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তের পর। প্রতিটি টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি আয় আসে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ থেকে। পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর আগেই আইসিসি তড়িঘড়ি করে এক বিবৃতিতে জানায়, তারা আশা করে পিসিবি আলোচনার মাধ্যমে একটি ‘পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান’ খুঁজে নেবে। 

বাংলাদেশের অনুরোধের ক্ষেত্রে আইসিসি যেমন কঠোর ছিল, পাকিস্তানের ক্ষেত্রে তাদের সুর ঠিক ততটাই নরম ও নমনীয়। স্পষ্টতই, বিপুল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় আইসিসি তাদের নীতি বিসর্জন দিতে প্রস্তুত।

শারদা উগ্রা বলেন, ‘হিন্দুত্ববাদী আন্দোলন ও বিসিসিআইয়ের ওপর বিজেপির নিয়ন্ত্রণ ক্রিকেটের বারোটা বাজাচ্ছে। বিসিসিআই এখন ক্রিকেট ভক্তদের চেয়ে ভারতের ‘ভোটের রাজনীতির’ মাঠকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।’ 

ভারতের কোনো একটি রাজ্যের স্থানীয় নির্বাচনের প্রচারণার আঁচ গিয়ে পড়ছে ভিনদেশের খেলোয়াড় বা ক্রিকেট বোর্ডের ওপর, যা এই খেলার ভবিষ্যৎকেই পঙ্গু করে দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একজন ভারতীয় বিশ্লেষক যেমনটি লিখেছেন, ‘কয়েকজন মানুষের খুশির জন্য আপনি যদি আপনার সবচেয়ে বড় ‘সফট পাওয়ার’ (ক্রিকেট) পুড়িয়ে ফেলেন, তবে এমনই হবে। মোস্তাফিজকে নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের জেরেই পাকিস্তানের এই বয়কটের সিদ্ধান্ত।’

দুর্ভাগ্যবশত, এই সংকটের কোনো সহজ সমাধান নেই। সুশান্ত সিং মনে করেন, এই খেলার ‘শেষ উইকেটটি’ কোনো প্রতিপক্ষ বোলারের ডেলিভারিতে পড়বে না; বরং এটি পড়বে ব্রডকাস্টারদের মামলা কিংবা বাণিজ্যিক চুক্তির পতনের মাধ্যমে। এর ফলে ক্রিকেট নৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং আর্থিক—সব দিক থেকেই দেউলিয়া হয়ে যাবে। এই পথ থেকে ফেরার একমাত্র উপায় হলো ‘জবাবদিহি’।

ততদিন পর্যন্ত ক্রিকেটের মাঠের নিষ্ঠুর বাস্তবতা এটাই যে, ভারতের স্থানীয় রাজনীতিতে একটি প্রজাপতির ডানা ঝাপটানো অন্য দেশের ক্রিকেটের ভাগ্যে ঝড় ডেকে আনতে পারে।

সুত্র: টিবিএস

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

সেপ্টেম্বরে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে আসছে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

Published

on

By

সব ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে চলছে শেষ মুহূর্তের কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা। পরীক্ষামূলক সরবরাহ সফল হলে পরবর্তী কয়েক মাসের মধ্যে ইউনিটটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে সংকট ও লোডশেডিংয়ের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের অন্যতম বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। কবে নাগাদ কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে, সে অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানি প্রবেশ করানো হয়েছে। দুই ধাপে শতাধিক পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি পরীক্ষাগুলোও পর্যায়ক্রমে শেষ করা হচ্ছে। প্রতিটি ধাপ যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন দিচ্ছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।

একবার চালু হলে কেন্দ্রটি ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। একবার জ্বালানি লোড করার পর প্রায় ১৮ মাস বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এরপর নতুন জ্বালানি দিতে একটি ইউনিট সর্বোচ্চ প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ অন্য বিদ্যুতের তুলনায় বেশি নির্ভুল ও স্থিতিশীল গ্রিডের মাধ্যমে সরবরাহ করতে হয়। তাই রূপপুরের সঙ্গে যুক্ত জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।

রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সঞ্চালনে বাঘাবাড়ী ২৩০ কেভি, বগুড়া ৪০০ কেভি ও গোপালগঞ্জের আরেকটি ৪০০ কেভি অবকাঠামো ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে বেশিরভাগ অবকাঠামোর কমিশনিং শেষ হয়েছে। তবে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য আরও প্রস্তুতি প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্রুতগতির বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের সিস্টেম এখনও পুরোপুরি সমন্বয় করার মতো সক্ষম নয়। এ সমন্বয় ঠিকভাবে না হলে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে।

এ জন্য পিডিবির পাশাপাশি নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ দেশগুলোর বিশেষজ্ঞ ও বিদেশি পরামর্শকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় আপগ্রেডেশন ও প্রস্তুতির কাজ চলছে।

তবে রূপপুরের বিদ্যুতের চূড়ান্ত মূল্য এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরুর পর পিডিবির সঙ্গে আলাদা ক্রয়চুক্তি হবে। প্রকল্পের শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৩ থেকে ৪ টাকা ধরা হলেও প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এখন সেই হিসাব পরিবর্তিত হয়েছে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, রূপপুর প্রকল্পের বেশ কিছু পেমেন্ট আটকে আছে। রাশিয়ার সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাজনিত সীমাবদ্ধতার কারণে এসব অর্থ পরিশোধে সমস্যা হচ্ছে। ফলে প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ স্বাভাবিক গতিতে এগোচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

Continue Reading

top1

বরিশাল/ দিনে ৬২ লাখ টাকার বিদ্যুৎ টেনে নিচ্ছে ব্যাটারি রিকশা

Published

on

By

সরকারি হিসাবের বাইরে বরিশাল নগরে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের সংখ্যা। এসব যান চার্জ দিতে প্রতিদিন অন্তত ৬২ লাখ টাকার বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। ফলে তীব্র বিদ্যুৎ ঘাটতির মুখে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে, যা জনজীবনে ফেলছে নেতিবাচক প্রভাব।

বরিশাল নগরে সিটি করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী, ইজিবাইকের সংখ্যা ৭ হাজার ৬০০ হলেও মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, এই সংখ্যা ৩০ হাজারের কম নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও অন্তত ৪০ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা। অর্থাৎ সরকারি অনুমোদনের বাইরে কয়েক গুণ বেশি যান চলায় এর কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব বা নিয়ন্ত্রণ নেই।

পাটের বাজারে বড় ধাক্কা, ১৫ দিনেই মণপ্রতি কমল হাজার টাকা

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩০ হাজার ইজিবাইক ও ৪০ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ করতে প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সর্বনিম্ন দাম ১০ টাকা ধরে এর আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৬২ লাখ টাকা।

এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের কতটা বাণিজ্যিক মিটারের মাধ্যমে হচ্ছে আর কতটা অবৈধ বা আবাসিক সংযোগে—তারও কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। ওজোপাডিকোর দুই অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলীরা ১২৭টি গ্যারেজে বাণিজ্যিক মিটার থাকার কথা বললেও কর্মচারীদের দাবি, প্রায় ২০০ গ্যারেজে মিটার ছাড়াই বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। গভীর রাতে মূল লাইনে হুক লাগিয়ে বা আবাসিক মিটারে অবৈধভাবে চার্জ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

নগরের কাউনিয়া, নবগ্রাম রোড, ভাটিখানা, বটতলা, কেডিসি কলোনি, স্টেডিয়াম কলোনি, জিয়া সড়ক, নতুন বাজার, রূপাতলী, ধান গবেষণা রোড, চাঁদমারী, পলাশপুর ও আমানতগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যারেজ গড়ে উঠেছে। দিনের বেলায় এসব গ্যারেজে রিকশা ও ইজিবাইক রাখা হয়। রাত গভীর হলে শুরু হয় ব্যাটারি চার্জ।

কয়েকটি গ্যারেজে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবাসিক মিটারে বিদ্যুৎ নিয়ে ব্যাটারি চার্জ করা হচ্ছে। কোথাও আবার বিদ্যুতের মূল লাইন থেকে সরাসরি সংযোগ নেওয়ার কথাও গ্যারেজ মালিকেরা স্বীকার করেছেন।

স্টেডিয়াম কলোনির এক গ্যারেজ মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাসে ১০ হাজার টাকা দিতে হয় বিদ্যুতের লোকজনকে, যাতে লাইন কেটে না দেয়। সামান্য এই ঘুষের মাধ্যমে আমরা আবাসিক মিটার ব্যবহার করি। কম খরচে বেশি যানবাহন চার্জ দিতে পারি।

বিসিক এলাকার নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক গ্যারেজ মালিক বলেন, বেশি ব্যবসার জন্য রাত ১টার পর মেইন লাইনের সঙ্গে হুক দিয়ে দিই। এতে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়। মিটার রিডারকে মাঝে মাঝে কিছু টাকা দিই। গ্যারেজে ১৮ থেকে ২০টি ব্যাটারিচালিত যান আছে। অনেক খরচ বেঁচে যায়।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) দাবি, বরিশাল বিভাগে বিদ্যুৎ ব্যবহারে অনিয়ম ও অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে গত ছয় মাসে ৬৮১টি মামলা করেছেন তারা। এসব মামলায় প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

ওজোপাডিকোর তথ্য অনুযায়ী, আবাসিক মিটার ব্যবহার করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা, অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার ও বিদ্যুৎ চুরিসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে এসব মামলা করা হয়। এছাড়া অবৈধভাবে বিদ্যুৎ চুরির ঘটনায় তিনজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের ঘটনায় আদায় করা হয়েছে ২৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা।

ওজোপাডিকো-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, আমার আওতাধীন এলাকায় প্রায় ৮০টি গ্যারেজ কাম চার্জিং স্টেশনে বাণিজ্যিক মিটার রয়েছে। আবাসিক মিটার ব্যবহার করে কেউ ব্যাটারি চার্জ করছে—এমন তথ্য পেলে অভিযান চালানো হয়।

ওজোপাডিকো-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার জানান, আমার আওতাধীন এলাকায় ৪৭টি গ্যারেজে বাণিজ্যিক মিটার রয়েছে। অনিয়ম হলে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়।

বরিশাল নগরের বিদ্যুৎ চাহিদা প্রতিদিন ৭০ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর বিপরীতে সরবরাহ রয়েছে মাত্র ৫৪ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। এই ঘাটতির মধ্যে রাতভর হাজার হাজার ব্যাটারি চার্জ হচ্ছে। নগরবাসী বলছেন, এর প্রভাব পড়ছে তাদের দৈনন্দিন জীবনে।

ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ, বরিশালের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. গোলাম সালেহ আহমেদ ছালেমের মতে, ৭০ হাজার ব্যাটারিচালিত যান চার্জ করতে প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ লাখ টাকার বিদ্যুৎ ব্যবহার হতে পারে। এত বিপুল বিদ্যুৎ ব্যবহার নগরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এমন অবস্থায় গ্রাহকরা সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ পেতে চাইলে ব্যাটারিচালিত যানবাহনগুলোতে চার্জ করতে সোলার সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে। আসলেই এর কোনো বিকল্প নেই। সংশ্লিষ্টদের কঠোর নজরদারির মাধ্যমে যদি ব্যাটারিচালিত যানবাহনগুলোর সোলার সিস্টেম ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, তাহলে বিদ্যুৎ নিয়ে সকল সমস্যার ৯০ ভাগ সমাধান হয়ে যাবে।

সু শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল নগর কমিটির সম্পাদক মো. রফিকুল আলম বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক নগরের মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তাই এগুলো একদিনে বন্ধ করার বাস্তবতা নেই। কিন্তু যানগুলোর সংখ্যা, নিবন্ধন, রুট, চার্জিং স্টেশন এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এর চাপ শেষ পর্যন্ত পড়ছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপরই। ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের সংখ্যা একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আনা জরুরি। সিটি করপোরেশন এ যানগুলোর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে বিদ্যুৎ সংকটের ওপর চাপ কিছুটা হলেও কমবে।

ওজোপাডিকো (পরিচালন ও সংরক্ষণ) বরিশাল সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পরিতোষ চন্দ্র সরকার বলেন, বরিশাল নগরের আয়তনের তুলনায় যে পরিমাণ অটোরিকশা রয়েছে, তা দেশের অন্য কোনো শহরে নেই। আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। যদি কোথাও ব্যাটারিচালিত যানবাহন চার্জ করতে কেউ অবৈধ পথ বেছে নেয়, তাহলে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত যানবাহন বিদ্যুৎ সংকটে বাড়তি চাপ তৈরি করছে। নগরীতে প্রথমে ৫ হাজার ও পরে আরও ২ হাজার ৬০০টি ব্যাটারিচালিত যান চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে এসব যান পুনঃনিবন্ধনের আওতায় রয়েছে। অনুমোদনের বাইরে থাকা যানবাহনের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অটোরিকশা ও ইজিবাইক সীমিত পর্যায়ে আনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Continue Reading

top1

ধানমন্ডিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আটক দুই তরুণী ৬ মাস আগের মামলায় গ্রেপ্তার

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে আটক দুই তরুণীকে ছয় মাস আগে করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। রোববার (১৬ আগস্ট) তাদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।

পরে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গ্রেপ্তার দেখানো দুই তরুণী হলেন—জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে জান্নাত (২১) এবং সুমা বড়াল ওরফে ডলি (২৯)। শুনানিতে জান্নাতের পক্ষে আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম এবং সুমা বড়ালের পক্ষে আইনজীবী লিটন মিয়া জামিন আবেদন করেন।

পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আবুল বাশার আবদুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক আবু সোলায়মান সুমন আদালতে জানান, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ভোরে ধানমন্ডির ৩ নম্বর সড়কে নিষিদ্ধ ঘোষিত মহিলা আওয়ামী লীগের ২০-২৫ জন নেতা-কর্মী সরকারবিরোধী মিছিলের উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছিলেন বলে পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পায়। পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে কয়েকজনকে আটক করে এবং অন্যরা পালিয়ে যায়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আটক ব্যক্তিরা সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে সেখানে সমবেত হয়ে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়।

ওই মামলায় রোববার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে আটক হওয়া জান্নাতুল ফেরদৌস ও সুমা বড়ালকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী লিটন মিয়া বলেন, ছয় মাস আগের ওই মামলায় শনিবার আটক দুই তরুণীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অথচ মামলার এজাহারে তাদের নাম ছিল না।

Continue Reading

Trending