Connect with us

আন্তর্জাতিক

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী ভারত: প্রণয় ভার্মা

Published

on

পারস্পরিক শ্রদ্ধা, স্বার্থ ও দুই দেশের জনগণের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে চায় ভারত। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে এ কথা জানান ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।

তিনি বলেন, ভারত সবসময়ই দূরদর্শী ও জনকেন্দ্রিক সহযোগিতা জোরদারের পক্ষে। জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও বিনিময় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী দৃষ্টিভঙ্গিতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রণয় ভার্মা আরও বলেন, পারস্পরিক সুবিধা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে ভারত বাংলাদেশে সঙ্গে কাজ করতে চায়। ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং বহুমাত্রিক দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে ভারত আগ্রহী। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ হিসেবে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি ভারত পুনর্ব্যক্ত করেছে। নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতেও ভারত আগ্রহী বলে জানান তিনি।

ভিসা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না করলেও দ্রুত সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ বাড়াতে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করার বিষয়ে ভারত ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে বলে জানান তিনি।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ঘোষণার পর বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তির ভবিষ্যৎ কী?

Published

on

By

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধে হঠাৎই বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বহুল আলোচিত ‘ইউনিভার্সাল বেসলাইন ট্যারিফ’ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের পরিপন্থি এবং আইনিভাবে অবৈধ বলে ঘোষণা করেছেন প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।

এই রায় কেবল আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং এর ওপর নির্ভর করছে বিশ্ব অর্থনীতির উত্থান-পতন। অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের জন্যও বড় মাথা ব্যাথার কারণ ট্রাম্পের এই শুল্কনীতি।

শুল্ক নিয়ে চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতায় ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে- এমন প্রশ্ন যেমন রয়েছে, তেমনি বাংলাদেশের সঙ্গে হওয়া চুক্তির কী হবে, শুল্ক বাতিল হলেও অন্য শর্তগুলো বহাল থাকবে কি না- এমন নানা প্রশ্ন সামনে আসছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে ক্ষমতায় বসার পর থেকেই মার্কিন পাল্টা শুল্ক নিয়ে টালমাটাল গোটা বিশ্ব। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের কয়েক হাজার কোটি টাকার ভাগ্যের চাবিকাঠিও এখানে।

নানা আলোচনা আর দরকষাকষির পর কদিন আগেই শুল্ক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ। অবশ্য এ নিয়ে দেশের অর্থনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ীসহ খাত সংশ্লিষ্টদের নানা সমালোচনা রয়েছে।

যদিও চুক্তি স্বাক্ষর ঘিরে বছরজুড়ে যে অস্থিরতা চলছিল, সেটি দূর করে সম্প্রতি নতুন কৌশল নিয়ে চিন্তাচাভাবনা শুরু করেছিলেন ব্যবসায়ীরা।

কিন্তু মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের মাধ্যমে আবারও এক নতুন মোড় নিয়েছে পুরো বিষয়টি।

বাংলাদেশ কি এই রায়ে লাভবান হবে, নাকি ট্রাম্পের ‘প্ল্যান বি’ আমাদের আরও বড় সংকটে ফেলবে–– এমন প্রশ্ন নতুন করে সামনে আনছেন অনেকে।

আদালতের রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্য আইনে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তাতে, বাংলাদেশের ১৯ শতাংশ শুল্ক কমে ১০ শতাংশ হচ্ছে।

এটাকে আপাতদৃষ্টিতে ভালো মনে হলেও, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের। তারা বলছেন, দেশটির যে আইনে ট্রাম্প নতুন শুল্কের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেখানে আপাতত শুল্ক কমার বিষয়টি ছাড়া বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে তেমন স্বস্তির বার্তা নেই।

অবশ্য দেশের শিল্প কারখানাগুলোর কাজের পরিবেশ, পরিবেশগত কমপ্লাসেন্স ঠিক রাখাসহ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি যদি ভালো থাকে তাহলে প্রেক্ষাপট ভিন্ন হতে পারে।

কারণ দেশটির ‘ট্রেড অ্যাক্ট ১৯৭৪’-এর ধারা ১২২ ব্যবহার করে ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের যে নতুন সিদ্ধান্ত ট্রাম্প নিয়েছেন সেটি একটি দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ যাচাই করে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

আদালতের রায়ে সব ওলটপালট

২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান। ২০২৫ সালের শুরুতেই তিনি ঘোষণা করেন, পৃথিবীর যেকোনো দেশ থেকে আমেরিকায় পণ্য ঢুকলে তার ওপর ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক দিতে হবে।

বাংলাদেশের জন্য এটি ছিল বিনামেঘে বজ্রপাত। ভিয়েতনাম বা ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের শ্রমমূল্য কম হলেও মার্কিন শুল্কের কারণে বাংলাদেশি পোশাকের দাম আমেরিকায় আকাশচুম্বী হয়ে যায়।

ফলে ওয়ালমার্ট, গ্যাপ বা এইচঅ্যান্ডএম-এর মতো বড় বড় ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার হুমকি দেয়।

২০২৫ সালের দোসরা এপ্রিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উপর বিভিন্ন হারে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র, যেটা বিশ্ব অর্থনীতিতে একধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিলো। বাংলাদেশ পড়ে ৩৫ শতাংশ শুল্কের আওতায়।

শেষ পর্যন্ত দরকষাকষি শেষে উভয় পক্ষ ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ নামে এই বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, যার ফলে বাংলাদেশের উপর মার্কিন পাল্টা শুল্ক দাঁড়ায় ১৯ শতাংশ।

যার বিনিময়ে বাংলাদেশকে আমেরিকা থেকে বিপুল পরিমাণ তুলা, সয়াবিন এবং অন্তত চারটি বোয়িং বিমান কিনতে সম্মত হয়। তখন এই চুক্তিকে বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদরা ‘অসম’ এবং ‘জবরদস্তিমূলক’ বলে সমালোচনা করেছিলেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট শুল্ক নিয়ে সম্প্রতি যে রায় দিয়েছে সেখানে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট বা আইইইপিএ ব্যবহার করে শুল্ক বসিয়েছিলেন, সেটি জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে হলেও আসলে ছিল অর্থনৈতিক জবরদস্তি।

এই রায়ের ফলে এতদিন ধরে বাংলদেশ, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্প প্রশাসন যে পাল্টা শুল্ক আরোপের চুক্তি করছিল সেটি আর কার্যকর থাকছে না।

তবে পিছু হটেননি ট্রাম্প। আদালতের রায়ের কয়েক ঘণ্টার মাথায় তিনিও অন্য একটি আইনে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করেছেন।

হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, যুক্তরাজ্য, ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন-সহ আমেরিকার সাথে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন দেশগুলোকে এখন থেকে তাদের পূর্বে আলোচনা করা শুল্ক হারের পরিবর্তে ‘ধারা ১২২’ এর অধীনে বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ শুল্কের সম্মুখীন হতে হবে।

ওই কর্মকর্তা বলছেন, শুল্কের বিষয়টি পরিবর্তন হলেও বাণিজ্য চুক্তি বাতিল হচ্ছে না। তাই চুক্তির অধীনে যেসব বিষয়ে সম্মতি বা যেসব শর্ত রয়েছে সেগুলো মেনে চলবে বলেই আশা করে ট্রাম্প প্রশাসন।

ট্রাম্প প্রশাসন যে পথে

বিশ্ব বাণিজ্যে অন্য দেশের ওপর শুল্ক আরোপের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নয়, বরং কংগ্রেসের হাতেই সর্বোচ্চ ক্ষমতা।

ট্রাম্প যে আইনের উপর ভিত্তিতে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, সেটি মূলত ১৯৭৭ সালের জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনে, যেখানে ট্রাম্পকে এত ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।

শুল্ক ইস্যুতে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর, এই রায় কার্যকরে প্রক্রিয়া নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। এছাড়া যেসব বড় কোম্পানি ইতোমধ্যে বাড়তি হারে শুল্ক পরিশোধ করেছে তাদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে কিনা এমন নানা জটিলতাও রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের এমন রায় নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রায় প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পর হোয়াইট হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমি আদালতের কিছু সদস্যকে নিয়ে লজ্জিত। আমাদের দেশের স্বার্থে সঠিক কাজটি করার সাহস দেখাতে না পারায় আমি তাদের নিয়ে পুরোপুরি লজ্জিত”।

নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের যে সিদ্ধান্ত ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী এই পথে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের হাতে রয়েছে।

‘ট্রেড অ্যাক্ট ১৯৭৪’-এর ধারা ১২২ ব্যবহার করে নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প। নিয়ম অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে মার্কিন কর্তৃপক্ষ যাচাই করবে যে সংশ্লিষ্ট দেশ আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আনফেয়ার ট্রেড প্র্যাকটিস করছে কি না।

এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশটির শ্রমবাজার, শ্রমিকের কর্ম-পরিবেশ, বেতন, পরিবেশ দূষণ, নারীদের কর্ম পরিবেশ এসব বিষয়ে অনিয়ম হচ্ছে কি না সেগুলো তদন্ত করবে মার্কিন প্রশাসন।

এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে মার্কিন আইন অনুযায়ী। যদি কোনো অনিয়ম পাওয়া যায় তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশটিকে ঘাটতি থাকা বিষয়গুলো ঠিক করতে আরও ১৫০ দিনের সময় দেওয়া হবে। তবে এই সময় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র।

এক্ষেত্রে বাড়তি শুল্ক আরোপ বা বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা না রাখার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে কংগ্রেসের স্মরণাপন্ন হতে হবে।

আর যদি কোনো অনিয়ম না পাওয়া যায় তাহলে শুল্ক শূন্যের কোটায় নামিয়ে ফিরতে হবে নিয়মিত বাণিজ্য প্রক্রিয়া বা চুক্তিতে।

কী করবে বাংলাদেশ?

বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র। যদিও দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের বড় বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। দুই দেশের ৮০০ কোটি ডলারের বাণিজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি বেশি, আমদানি কম।

পাল্টা শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে বাণিজ্য ঘাটতির এই বিষয়টিকে বড় করে সামনে এনেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে বাংলাদেশও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমান, কৃষিপণ্যসহ নানা পণ্য আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

অবশ্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ের আগ মুহূর্তে যে চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হয়েছে সেটি নিয়ে খুশি হতে পারেননি বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ কিংবা ব্যবসায়ীদের কেউই।

তাদের মতে, ওই চুক্তিতে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের চেয়ে আমেরিকা বেশি লাভবান হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ কী করতে পারবে, কী পারবে না এই বিষয়গুলোই চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি যে চুক্তি হয়েছে সেটি অসম। আমাদের প্রাপ্তির চেয়ে ক্ষয় বেশি, কঠিন কঠিন শর্ত ওখানে আছে”।

তিনি বলছেন, “ট্রাম্পের ট্যারিফ শুরু থেকেই আনপ্রেডিক্টাবল, কখন কী হয় বলা যাচ্ছে না। এখন যে ১০ শতাংশ দিয়েছে সেটা আবার কয়দিন থাকে সেটাও তো অনিশ্চিত”।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর পরিস্থিতি বদলেছে বলেই মত অর্থনীতিবিদদের। যদিও এ নিয়ে আলোচনার সময় এখনো আসেনি বলেই মনে করেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন।

তিনি বলছেন, এই মুহূর্তে পুরনো চুক্তি নিয়ে আলোচনার চেষ্টা না করে বাংলাদেশের উচিত চুপ থেকে সময় নেওয়া।

“যে সমস্ত শর্তে আমরা চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছি সেগুলো নিয়ে এখন আলোচনা করতে গেলে ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য কমানোর মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নিতে পারে” বলে মনে করেন তিনি।

ড. জাহিদ হোসেন বলছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিমকোর্টের রায় আমাদের জন্য এটা সুখবর। তবে আলোচনার জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে, একইসাথে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে”।

“ট্রাম্প এখন যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন এটি ১৫০ দিন পর্যন্ত বহাল থাকবে। এর মধ্যে মার্কিন প্রশাসন তাদের মতো করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ তদন্ত করবে। তাই বাংলাদেশের উচিত হবে যেসব বিষয়ে ঘাটতি রয়েছে সেগুলো ঠিক করা বা যথাযথ উত্তর নিয়ে প্রস্তুত থাকা,” বলেন ড. জাহিদ হোসেন।

অবশ্য ১৫০ দিনের এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এতগুলো দেশের তদন্ত শেষ করে ব্যবস্থা নেবে, এটি সম্ভব নয় বলেও মনে করেন মি. হোসেন।

“এতগুলো দেশে এই কম সময়ে যেসব বিষয় তদন্ত করতে হবে সেটি মার্কিন প্রশাসনের জন্যও সম্ভব না। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য তো চীন এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীরা,” বলেন তিনি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Continue Reading

top2

পরিবেশ ও জলবায়ু সংকটে গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে বিশ্ব : এরদোয়ান

Published

on

By

পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট নিয়ে পুরো বিশ্ব গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ইস্তাম্বুলে ‘জেমরে ফাউন্ডেশন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এরদোয়ান বলেন, শিল্পকারখানার বর্জ্য, স্প্রে ও ধোঁয়া, তেল ও ওষুধের বর্জ্য, প্লাস্টিক পণ্য, নতুন সার, আবর্জনা ও বিভিন্ন রাসায়নিক বর্জ্য দ্রুত পরিবেশ দূষিত করছে। এর ফলে বায়ু, পানি ও মাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, অসচেতনভাবে ফেলে দেওয়া একটি প্লাস্টিকের বোতল প্রায় চার শতাব্দী পর্যন্ত পরিবেশ দূষণ করতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও অস্বাভাবিক আবহাওয়ার মতো দুর্যোগ বাড়ছে, যা মানবসহ সব জীবের জন্য হুমকি তৈরি করছে।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, এখন আর জলবায়ু ও পরিবেশ সংকটকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। পরিবেশ রক্ষায় আরও জোরালো উদ্যোগ নিতে হবে এবং বিশেষ করে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে হবে।

তিনি জানান, তরুণদের স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ হিসেবে ‘জেমরে ফাউন্ডেশন’ গঠন করা হয়েছে, যা পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ বাড়াতে কাজ করবে।

Continue Reading

আন্তর্জাতিক

দাড়ি কাটা নিয়ে চাপে আফগান নাপিতরা

Published

on

By

আফগানিস্তানের নাপিতদের বিরুদ্ধে আইন না মানার অভিযোগ এনেছে দেশটির তালেবান শাসকগোষ্ঠী। আফগানদের দাড়ি ‘বেশি ছোট করে’ ছাঁটার অভিযোগে শাস্তি পাচ্ছেন তারা। 

গত মাসে তালেবানদের নীতিনৈতিকতা বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, এখন থেকে হাতের মুঠোর চেয়ে লম্বা দাড়ি রাখা ‘বাধ্যতামূলক’। আগের নির্দেশনার তুলনায় এবারের নির্দেশনায় ‘দ্বিগুণ’ বড় দাড়ি রাখার বিধান চালু হয়েছে বলে এএফপির প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে। ওই দপ্তরের মন্ত্রী খালিদ হানাফি বলেন, ‘সবার বেশভূষা যাতে শরিয়াহ আইন (ইসলামিক আইন) অনুযায়ী হয়, সেটা নিশ্চিতের দায়িত্ব সরকারের।’

তিনি জানান, এই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সর্বক্ষেত্রে ইসলামিক ব্যবস্থা প্রচলন করতে বাধ্য। 

ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা শহরগুলোতে টহল দিয়ে এ বিষয়টি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এ বিষয়ে কয়েকজন আফগান নাপিত এএফপির সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে নিরাপত্তার কারণে তারা নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। 

নাপিত ও কাস্টমার উভয়ই বিপাকে 

দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গজনি এলাকার ৩০ বছর বয়সী এক নাপিত বলেন, তাকে তিন রাত আটকে রাখা হয়েছিল। নাপিত দাবি করেন, তার সেলুনের কর্মী এক কাস্টমারের চুল ‘পাশ্চাত্যের স্টাইলে’ কেটেছিলÑ এমন তথ্য জানতে পেরে কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন।

তিনি বলেন, ‘আমাকে শুরুতে একটি ঠান্ডা হলঘরে আটকে রাখে। মুক্তির দাবি জানানোর পর তারা আমাকে একটি ঠান্ডা শিপিং কন্টেইনারে স্থানান্তর করে।’ পরবর্তীতে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই তিনি মুক্তি পান। এখনও তিনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে টহলকর্মীদের আগাতে দেখলে তিনি লুকিয়ে থাকেন বলে জানান। 

ওই নাপিত বলেন, ‘ব্যাপারটা হলো, কেউ তাদের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে না বা তাদের সঙ্গে তর্ক করতে পারে না। সবাই তাদের ভয় পায়।’ 

তিনি জানান, কোনো কোনো ক্ষেত্রে নাপিত ও কাস্টমারÑ উভয়কেই আটক করা হয়েছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কাস্টমারকে ছেড়ে দিলেও নাপিতকে আটক রাখা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।  

জাতিসংঘের প্রতিবেদন মতে, মন্ত্রণালয়ের আইন ভঙ্গের অভিযোগে গত বছর কুনার প্রদেশে তিন নাপিতকে তিন থেকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

Continue Reading

Trending