Connect with us

Betwinner: নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য সম্পূর্ণ গাইড

অনলাইন স্পোর্টস বেটিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার শুরু করার আগে পরিষ্কার ধারণা থাকা দরকার। এই গাইডে Betwinner সম্পর্কে নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হলো। আপনি চাইলে Betwinner ওয়েবসাইট থেকে প্ল্যাটফর্মটি সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে জানতে পারেন। এরপর বোনাস, অ্যাকাউন্ট সেটআপ, ডিপোজিট, বেট করা এবং নিরাপত্তা—এই ধাপগুলো কীভাবে কাজ করে তা ধাপে ধাপে দেখা হবে। এখানে দেওয়া তথ্যগুলো শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে, যাতে আপনি নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। প্রথমে আপনার লক্ষ্য স্থির করুন, যেমন লাইভ বেটিং করবেন নাকি প্রি-ম্যাচ বেটিং।

Betwinner কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে

Betwinner মূলত একটি অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্ম, যেখানে বিভিন্ন ধরনের স্পোর্টস ইভেন্টে বাজি ধরা যায়। সাধারণত ব্যবহারকারীকে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয় এবং তারপর অর্থ যোগ করে বেট করতে হয়। প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের আগে এবং ম্যাচ চলাকালীন আলাদা ধরনের বাজার দেখা যায়। প্রি-ম্যাচে সাধারণত অডস স্থির থাকে, তবে সময়ের সাথে পরিবর্তনও হতে পারে। লাইভ বেটিংয়ে ইভেন্ট চলার সাথে সাথে অডস আপডেট হয়। আপনার পছন্দের খেলাধুলা ও বাজার বেছে নিয়ে আপনি বাজি দিতে পারেন।

উপলব্ধ বাজার ও ইভেন্টের ধারণা

বাজার বলতে নির্দিষ্ট ধরনের ফলাফল বা ঘটনার ভিত্তিতে বেট করার অপশনকে বোঝায়। উদাহরণ হিসেবে ম্যাচের ফলাফল, গোল সংখ্যা, নির্দিষ্ট দল বা খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স—এসব বিভিন্ন বাজারে দেখা যায়। কিছু বাজারে একাধিক শর্ত যুক্ত থাকতে পারে, যেখানে একাধিক ফল একসাথে পূরণ হলে পেআউট হয়। ইভেন্ট তালিকায় সময়, লিগ, এবং প্রতিযোগিতা অনুযায়ী সাজানো অপশন থাকে। আপনি যে বাজারে বেট করবেন, সেটির নিয়ম আগে দেখে নেওয়া জরুরি। এতে করে ভুল বোঝাবুঝি কমে এবং সিদ্ধান্ত আরও নির্ভুল হয়।

নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি ও সেটআপ ধাপ

নতুন ব্যবহারকারীর প্রথম কাজ হলো একটি বৈধ অ্যাকাউন্ট তৈরি করা। সাধারণত নাম, জন্মতারিখ, দেশ এবং যোগাযোগের তথ্য দিতে হয়। এরপর আপনাকে শর্তাবলীতে সম্মতি দিতে হয় এবং একটি সুরক্ষিত পাসওয়ার্ড সেট করতে হয়। রেজিস্ট্রেশনের পর ইমেইল বা ফোন নম্বর যাচাই লাগতে পারে। যাচাই সম্পন্ন হলে আপনি ডিপোজিট এবং বেট করার জন্য প্রস্তুত হন। সেটআপের সময় আপনার তথ্য সঠিকভাবে দিন, কারণ পরে তা পরিবর্তন করা কঠিন হতে পারে।

যাচাই ও নিরাপত্তা সেটিংস

অ্যাকাউন্ট নিরাপত্তার জন্য সাধারণত অতিরিক্ত যাচাই প্রক্রিয়া থাকে। এতে ইমেইল ভেরিফিকেশন বা পরিচয় যাচাইয়ের ধাপ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে অর্থ উত্তোলনের আগে পরিচয় নিশ্চিত করা লাগে। তাই শুরু থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা ভালো। পাসওয়ার্ড শক্তিশালী রাখলে অননুমোদিত প্রবেশের ঝুঁকি কমে। আপনি যদি ডিভাইস শেয়ার করেন, তাহলে লগআউট নিশ্চিত করুন।

ডিপোজিট, বোনাস এবং অর্থ ব্যবস্থাপনা

অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে গেলে পরের ধাপ হলো ডিপোজিট করা। প্ল্যাটফর্মে সাধারণত বিভিন্ন পেমেন্ট পদ্ধতি থাকে, যেমন ব্যাংক কার্ড বা অন্যান্য অনলাইন পেমেন্ট। আপনার জন্য কোন পদ্ধতি উপলব্ধ আছে তা ওয়েবসাইটে চেক করা দরকার। ডিপোজিট করার আগে ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ সীমা দেখা গুরুত্বপূর্ণ। বোনাস ব্যবহার করলে শর্তগুলোও পড়া উচিত, কারণ বোনাসের কিছু নির্দিষ্ট ব্যবহার শর্ত থাকতে পারে। আপনি বোনাস সম্পর্কিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।

বোনাস কীভাবে কাজ করে

বোনাস সাধারণত নির্দিষ্ট ইভেন্ট বা ডিপোজিটের সাথে যুক্ত থাকে। অনেক সময় বোনাসের জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে নির্দিষ্ট পরিমাণ ডিপোজিট প্রয়োজন হয়। এছাড়া বোনাস কবে ব্যবহার করতে পারবেন এবং সর্বোচ্চ কতটা বেট করা যাবে, সেটি উল্লেখ থাকে। কিছু বোনাসে ওয়েজারিং শর্ত থাকতে পারে, যেখানে নির্দিষ্ট অংকের বেট করার পরেই লাভ তোলার সুযোগ তৈরি হয়। আপনি যদি বোনাস নেন, তাহলে সব শর্ত একবারে বুঝে নিন। এতে করে ভবিষ্যতে সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিভ্রান্তি কমে।

বেট করা: প্রি-ম্যাচ এবং লাইভ ধাপ

Betwinner এ বেট করতে হলে প্রথমে একটি ইভেন্ট নির্বাচন করতে হয়। ইভেন্টে প্রবেশ করলে আপনি উপলব্ধ বাজার ও সংশ্লিষ্ট অডস দেখতে পাবেন। এরপর আপনি পছন্দের ফলাফল বেছে নিয়ে স্টেক নির্ধারণ করবেন। প্রি-ম্যাচে সাধারণত ম্যাচ শুরুর আগে অডস দেখা যায় এবং বেট নিশ্চিত করার পর তা কার্যকর হয়। লাইভ বেটিংয়ে ইভেন্ট চলাকালীন অডস পরিবর্তন হতে পারে, তাই আপডেট লক্ষ্য রাখা দরকার। শেষ ধাপে আপনি রিভিউ করে বেট কনফার্ম করলে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

স্টেক নির্বাচন ও অডস যাচাই

স্টেক হলো আপনি যে পরিমাণ অর্থ বাজি ধরবেন। নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য কম স্টেক দিয়ে শুরু করা সাধারণত ভালো অভ্যাস। অডস দেখে নেওয়া জরুরি, কারণ একই ধরনের ফলাফলেও অডস ভিন্ন হতে পারে। বেট দেওয়ার আগে বাজারের নিয়ম ও শর্ত যাচাই করুন। আপনি যদি সিস্টেম বা ফর্মুলা ব্যবহার করতে চান, তাহলে সেটি নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী করুন। অডস পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকলে কনফার্ম করার আগে একবার দেখে নেওয়া সুবিধাজনক।

বেট ইতিহাস ও স্ট্যাটাস ট্র্যাকিং

বেট নিশ্চিত হলে সাধারণত বেট হিস্ট্রি অংশে তা দেখা যায়। সেখানে স্ট্যাটাস হিসেবে ম্যাচ শুরু হয়নি, চলছে, অথবা নিষ্পত্তি হয়েছে—এমন তথ্য থাকতে পারে। নিষ্পত্তির পর ফল অনুযায়ী পেআউট বা ক্ষতি নির্ধারিত হয়। আপনি যদি একাধিক বেট দেন, তাহলে মোট ফলাফল বুঝতে আলাদা করে হিসাব দেখা লাগতে পারে। স্ট্যাটাস নিয়মিত দেখা আপনার সিদ্ধান্ত উন্নত করতে সাহায্য করে। এছাড়া কোনো বেটের ফল বুঝতে অসুবিধা হলে বাজারের বিবরণ আবার যাচাই করুন।

উত্তোলন, লেনদেন এবং অ্যাকাউন্ট রক্ষণাবেক্ষণ

বেট শেষ হলে আপনার ব্যালেন্সে পরিবর্তন আসে এবং সেটি উত্তোলনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে। উত্তোলন প্রক্রিয়ায় সাধারণত একটি উইথড্রয়াল ফর্ম পূরণ করতে হয়। আপনাকে পেমেন্ট পদ্ধতি নির্বাচন করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে উত্তোলনের আগে পরিচয় যাচাই সম্পন্ন করতে বলা হতে পারে। প্রসেসিং সময় ব্যাংক বা পেমেন্ট সিস্টেমের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। তাই প্রথম উত্তোলনের আগে আনুমানিক সময় এবং ন্যূনতম উত্তোলন সীমা দেখে নেওয়া ভালো।

লেনদেনের রেকর্ড রাখা

ডিপোজিট এবং উত্তোলনের তারিখ, পরিমাণ, এবং পদ্ধতি নোট করে রাখা সহায়ক। অনলাইনে কোনো সমস্যা হলে এই তথ্য দ্রুত সমাধানে কাজে লাগে। প্ল্যাটফর্মে লেনদেন হিস্ট্রি দেখা যায়, যা ব্যবহারকারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি একাধিক বোনাস বা ক্যাম্পেইন ব্যবহার করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট রেফারেন্সও মনে রাখুন। নিয়মিত চেক করলে কোনো অনিয়ম দ্রুত ধরা পড়ে। তথ্য সংরক্ষণ করলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হয়।

গ্রাহক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় যোগাযোগ

সমস্যা হলে সাধারণত গ্রাহক সহায়তার মাধ্যমে সহায়তা পাওয়া যায়। প্রশ্ন থাকলে আপনার অ্যাকাউন্ট তথ্য এবং লেনদেনের বিবরণ প্রস্তুত রাখুন। এতে সাপোর্ট টিম দ্রুত যাচাই করতে পারে। আপনি যদি ভুল ডিপোজিট বা ভুল বেট সংক্রান্ত বিষয় দেখেন, তাহলে দ্রুত রিপোর্ট করা ভালো। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়ম ও প্রক্রিয়া সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই বর্তমান নীতিমালা দেখা প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে সাহায্য চাওয়ার আগে নিজের পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে লিখুন। এতে সমাধান দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

নিরাপত্তা, দায়িত্বশীল বেটিং এবং সাধারণ সতর্কতা

নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য প্রধান বিষয়। শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা এড়িয়ে চলুন। আপনার অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকাতে লগইন তথ্য শেয়ার করবেন না। দায়িত্বশীল বেটিংয়ের জন্য বাজেট নির্ধারণ করা দরকার। আপনি যে পরিমাণ হারাতে প্রস্তুত, তার বেশি স্টেক নেবেন না। এছাড়া অল্প সময়ে বেশি বেট দেওয়ার প্রবণতা এড়িয়ে চলুন। কোনো পর্যায়ে আপনি নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন মনে হলে বিরতি নিন এবং প্রয়োজন হলে সহায়তা নিন।

দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য চেকলিস্ট

বেট দেওয়ার আগে কিছু বিষয় যাচাই করলে ভুল সিদ্ধান্ত কমে। নিচের তালিকাটি নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য একটি সহজ চেকলিস্ট হিসেবে কাজ করতে পারে। এটি প্রতিটি বেটের আগে দ্রুত দেখে নেওয়া যায়। স্টেক নির্ধারণ, অডস যাচাই, এবং বাজারের শর্ত বুঝে নেওয়া—সবই এতে অন্তর্ভুক্ত। আপনি চাইলে নিজের জন্য আলাদা একটি নোট তৈরি করতে পারেন। ধারাবাহিকভাবে এসব অভ্যাস মানলে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সহজ হয়।

  • নিজের বাজেট ঠিক করুন এবং সেই সীমার মধ্যে স্টেক রাখুন।
  • বাজারের নিয়ম ও সম্ভাব্য ফলাফল আগে বুঝে নিন।
  • অডস পরিবর্তন হচ্ছে কি না—বিশেষ করে লাইভ বেটিংয়ে—খেয়াল করুন।
  • বোনাস নিলে শর্ত, ওয়েজারিং, ও সময়সীমা যাচাই করুন।
  • বেট ইতিহাস নিয়মিত দেখে নিজের ফলাফল ট্র্যাক করুন।

ঝুঁকি কমাতে প্রযুক্তিগত সতর্কতা

অনেক সময় ব্যবহারকারীরা নিরাপত্তাজনিত ভুলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হন। পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করলে সতর্ক থাকুন এবং সম্ভব হলে ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করুন। ব্রাউজার বা অ্যাপ আপডেট রাখা নিরাপত্তা বাড়ায়। লগইন করার পর অটো-ফিল তথ্য অন্যের সাথে শেয়ার হতে পারে, তাই পাবলিক ডিভাইসে সাবধান থাকুন। কোনো অস্বাভাবিক অ্যাক্টিভিটি দেখলে দ্রুত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন এবং সহায়তায় যোগাযোগ করুন। পাশাপাশি আপনার ডিভাইসে ম্যালওয়্যার আছে কি না তা যাচাই করা উপকারী। এসব অভ্যাস অ্যাকাউন্ট সুরক্ষা জোরদার করে।

শাবিতে শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় ছাত্রদলের দুই নেতা ৪ সেমিস্টার বহিস্কার

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের খাবারের মান নিয়ে কথা বলায় এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদলের দুই নেতাকে ( সদ্য বহিষ্কৃত) ৪ সেমিস্টার বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একইসঙ্গে বহিষ্কৃত এ দুই ছাত্রনেতা আগামী দুই বছর ক্যাম্পাসে অবস্থান ও প্রবেশ করতে পারবেনা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী হলেন- পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছাত্রদলের যোগাযোগ সম্পাদক হাসিবুর রহমান ও পরিসংখ্যার বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সহ দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টায় রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত অফিস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় আজ জরুরী সিন্ডিকেট সভায় অভিযুক্ত ছাত্রদলের দুই নেতাকে ৪ সেমিস্টার বহিষ্কার ও আগামী দুই বছরের জন্য ক্যাম্পাস অবস্থান ও প্রবেশ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” “একইসঙ্গে তাদের আবাসিক হলের সিট বাতিল করা হয়েছে।

এ ছাড়া এক সিন্ডিকেট সদস্য জানান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তার চিকিৎসার সমস্ত ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করবে বলে সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Click to comment

শিক্ষার্থী আন্দোলনে বাড়ছে চাপ, মোদি সরকারের জন্য সতর্কবার্তা দেখছেন বিশ্লেষকেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন শিক্ষা খাতের গণ্ডি ছাড়িয়ে বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি ও সরকারের জবাবদিহিতার প্রশ্নে বিস্তৃত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নামে পরিচিত এই নাগরিক উদ্যোগের আন্দোলন ক্রমেই রাজনৈতিক গুরুত্ব পাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রকাশিত বিবিসি বাংলার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আন্দোলনটি শুধু শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং দেশের তরুণদের বিস্তৃত অসন্তোষের প্রতিফলন হয়ে উঠেছে।

সোমবার দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় বিক্ষোভ ঘিরে দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো শিক্ষার্থী ও তরুণ সেখানে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে কয়েকটি মেট্রো স্টেশন ও সড়ক বন্ধ রাখা হলেও আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন পথ ব্যবহার করে যন্তর মন্তরের দিকে এগিয়ে যান। পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করলেও তাদের পুরোপুরি ছত্রভঙ্গ করা সম্ভব হয়নি।

প্রায় এক মাস ধরে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে সিজেপি। নামের সঙ্গে ‘পার্টি’ থাকলেও এটি কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়; বরং একটি নাগরিক উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, এতদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠনটির জনপ্রিয়তা নিয়ে আলোচনা হলেও সাম্প্রতিক বিক্ষোভে তাদের বাস্তব জনসমর্থনের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশী তরুণদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

স্বাধীন সাংবাদিক স্মিতা শর্মার ভাষ্য, আন্দোলনের মাধ্যমে তরুণরা সরকারকে জানিয়ে দিয়েছেন যে শিক্ষা সংকটের পাশাপাশি বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের উদ্বেগকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

সোমবার সংসদ ভবন অভিমুখে মিছিলের ডাক দেয় সিজেপি। আন্দোলনের শুরুতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সরকার আলোচনার জন্য তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা জানান, আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরাই। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে এবং তারা লিখিত স্মারকলিপিও জমা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আন্দোলন প্রত্যাহার করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

তবে এখন পর্যন্ত আন্দোলনের মূল দাবিগুলো মেনে নেওয়ার কোনো ঘোষণা দেয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। সিজেপিও জানিয়েছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদবের মতে, এটি কেবল শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত স্বার্থের আন্দোলন নয়; বরং নতুন প্রজন্মের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার দাবির বহিঃপ্রকাশ।

স্মিতা শর্মা বলেন, ইন্টারনেট ও যোগাযোগে সীমাবদ্ধতা, মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও বিপুলসংখ্যক তরুণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই আন্দোলনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকার যদি এই আন্দোলনের বার্তাকে গুরুত্ব না দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে জনঅসন্তোষ আরও তীব্র হতে পারে। প্রবীণ সাংবাদিক হেমন্ত আত্রিরও একই মত। তার ভাষ্য, এই আন্দোলন আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে যে গণতন্ত্রে জনগণের প্রত্যাশাকে দীর্ঘদিন উপেক্ষা করা যায় না এবং শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি এখন তরুণদের প্রধান উদ্বেগের বিষয়।

বিবিসি বাংলার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সিজেপির আন্দোলন তাৎক্ষণিকভাবে সরকারের নীতিতে পরিবর্তন আনতে না পারলেও ভারতের তরুণ সমাজের অসন্তোষকে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। সে কারণে অনেক বিশ্লেষকই এটিকে মোদি সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন।

Click to comment

ইবিস্থ চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির নেতৃত্বে মারিয়া-শুভ

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে আগত শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি’র নতুন সভাপতি হিসেবে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মারিয়া পারভীন মিম ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মার্কেটিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. শুভ মিয়া নির্বাচিত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) উপদেষ্টা মন্ডলীদের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আগামী সাত (৭) কর্মদিবসের মধ্যে তাঁদের পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছে।

নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মো. শুভ মিয়া বলেন, আমরা চুয়াডাঙ্গা জেলার সকল ছাত্র ছাত্রীর শিক্ষা, দক্ষতা, যোগাযোগ ও নেতৃত্ব বিকাশে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সর্বদা থাকবো।

নবনির্বাচিত সভাপতি মারিয়া পারভীন মিম বলেন, এই দায়িত্ব আমর জন্য যেমন সম্মানের তেমনি চুয়াডাঙ্গা জেলার সকল ছাত্র ছাত্রীর উন্নয়নের একটি বড় অঙ্গীকার। শিক্ষার্থীদের আস্থা ও বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষায় সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করার সর্বাত্বক চেষ্টা করবো।

Click to comment

সরকারের ঋণ বেড়েছে ২৩ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা

বাজেট ঘাটতি মেটাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ সংগ্রহের চিত্রে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। এ সময়ে সরকার প্রায় পুরোপুরি ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে ৮৪ শতাংশের বেশি ঋণ নিয়েছে। বিপরীতে জাতীয় সঞ্চয়পত্রসহ ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে ঋণ সংগ্রহ কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রধান উৎস হিসেবে ব্যাংক খাতের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বিভাগের প্রকাশিত ‘মাসিক প্রতিবেদন অন গভর্নমেন্ট ডোমেস্টিক বোরোয়িং-এপ্রিল ২০২৬’ অনুযায়ী, গত অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে সরকারের মোট নিট অভ্যন্তরীণ ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা, যা পুরো অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যের ৮৪ দশমিক ৩ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে সরকারের নিট অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ছিল ৮১ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সরকারের এ ঋণ বেড়েছে প্রায় ২৩ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছরের বাজেটে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে এবং ২১ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। তবে প্রথম ১০ মাসেই ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে। অন্যদিকে ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে সংগ্রহ লক্ষ্যের অনেক নিচে রয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে জুলাই-এপ্রিল সময়ে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ৪ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা নিট ঋণ নিয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৫০ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ বেড়েছে প্রায় ৫৪ হাজার কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, সরকারি ট্রেজারি বিল ও ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংক ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে সরকারের নিট ঋণ হয়েছে মাত্র ৭৬৮ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ উৎস থেকে সরকারের নিট ঋণ ছিল ৩১ হাজার ৫৫ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে এ খাত থেকে ঋণ সংগ্রহ প্রায় পুরোপুরি কমে গেছে।

প্রতিবেদন বলছে, জাতীয় সঞ্চয়পত্রে সরকারের নিট ঋণ ঋণাত্মক হওয়াই এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ। জুলাই-এপ্রিল সময়ে জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৭৫ হাজার ৮২০ কোটি টাকা। একই সময়ে মেয়াদপূর্তিসহ বিভিন্ন কারণে পরিশোধ করতে হয়েছে ৭৬ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। ফলে সরকারকে নিট ৪২৯ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে নিট পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা।

শুধু এপ্রিল মাসের হিসাবেও একই প্রবণতা দেখা যায়। ওই মাসে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ২৫ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা ঋণ নিলেও পরিশোধ করেছে ৩০ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা। ফলে মাস শেষে ব্যাংক খাতে সরকারের নিট পরিশোধ দাঁড়ায় ৪ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা। একই সময়ে ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে সরকার ১ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা নিট ঋণ সংগ্রহ করেছে।

প্রতিবেদনে শরিয়াহভিত্তিক সরকারি অর্থায়নের দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ইসলামী ব্যাংকগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট ইসলামিক ইনভেস্টমেন্ট বন্ড (বিজিআইআইবি)-এর নিট স্থিতি জুলাই-এপ্রিল সময়ে ৬ হাজার ৬১১ কোটি টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট ইনভেস্টমেন্ট সুকুক (বিজিআইএস)-এর স্থিতি এপ্রিল শেষে বেড়ে ৩৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে সরকারি সিকিউরিটিজ—বিশেষ করে ট্রেজারি বিল ও ট্রেজারি বন্ড-ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ বাড়ায় ব্যাংক ঋণের ওপর সরকারের নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে জাতীয় সঞ্চয়পত্রসহ ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ কমে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ ঋণের কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

এ বিষয়ে চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো ও অর্থনীতিবিদ এম হেলাল আহমেদ কালবেলাকে বলেন, বর্তমানে সরকারের নিট অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ভবিষ্যতে এ ঋণ আরও বাড়ার পাশাপাশি সুদ পরিশোধের চাপও বৃদ্ধি পাবে, যা বাজেটের একটি বড় অংশ গ্রাস করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, সংকট মোকাবিলায় সরকারের ঋণগ্রহণ অনেকাংশেই স্বাভাবিক এবং অনেক ক্ষেত্রে অনিবার্য। তবে এ ঋণ যেন দীর্ঘমেয়াদে দেশকে ঋণের ফাঁদে না ফেলে, সেটিই হওয়া উচিত। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানি সংকট এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কারণে সরকারকে বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে। কিন্তু এ পরিস্থিতি থেকে টেকসইভাবে উত্তরণের জন্য দেশের নিজস্ব সম্পদ আহরণের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এজন্য রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে কঠোর ব্যয়-সাশ্রয়ী নীতি অনুসরণ করতে হবে। স্বল্পমেয়াদে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে ঋণনির্ভরতা হ্রাস এবং কর-জিডিপি অনুপাত বাড়িয়ে রাজস্ব আহরণ জোরদার করা প্রয়োজন।

Click to comment

সুষ্টু বিচার নিয়ে শঙ্কা, তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলনে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
হলের খাবারের মান নিয়ে মন্তব্য করার জেরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় জড়িত ছাত্রদলের (সদ্য বহিষ্কৃত) দুই নেতার শাস্তির দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সমাবেশে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। এসময় তার হুঁসিয়ারি করে বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে বাধ্য হবো।      

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর সোয়া ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে একাডেমিক ভবন ‘ডি’ এক্সটেনশন প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবন-১-এর সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

এ সময় শিক্ষার্থীদের “খাইরুলের ওপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই”, “সাস্টিয়ান সাস্টিয়ান, এক হও এক হও”, “অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন”, “জাস্টিস, জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস”, “জাস্টিস ফর খাইরুল”, “লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে”, এবং “সন্ত্রাসীর দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে” ইত্যাদি নানান স্লোগান দিতে শোনা যায়।   

সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন। শিক্ষার্থীরা প্রক্টরকে বলেন, গতকাল রাত থেকেই অভিযুক্ত তারেক রহমানের বিভাগের পক্ষ থেকে হামলার ঘটনাকে স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে বিভিন্ন বিবৃতি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া তারেক রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহানুভূতি অর্জনের উদ্দেশ্যে ক্ষমা চেয়ে পোস্ট করছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ড যেন তদন্ত কমিটিকে কোনোভাবেই প্রভাবিত না করে। তারা হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও ভুক্তভোগীর ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।                

তখন প্রক্টর শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘‘তদন্ত কমিটি কাজ করছে। আজকে প্রতিবেদন জমা দিবেন। আগামীকাল সিন্ডিকেট ডেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কারো কোন কার্যক্রমে তদন্ত প্রতিবেদন প্রভাবিত হবে না।’’
তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলামকে একাধিকবার কল দিলেও সাড়া মিলনি।

Click to comment

২০৩০ সালের মধ্যে সড়কে মৃত্যু অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের

২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সোমবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নবিষয়ক জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে মন্ত্রী এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী বলেন, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মদশকের (২০২১-৩০) বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে আইনি, নীতিগত ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। 

তিনি জানান, সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, দুর্ঘটনার পর দ্রুত জরুরি সেবা নিশ্চিতকরণ এবং বিশেষ করে পথচারীদের নিরাপত্তা জোরদারে মহাসড়কে লক্ষ্যভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ এবং আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চার আলোকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন চূড়ান্ত করে তা অনুমোদন ও প্রণয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবন্ধ।

সড়ক নিরাপত্তাকে জাতীয় রাজনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর অংশীদারত্ব এবং সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা অপরিহার্য। তিনি সকল সড়ক ব্যবহারকারীর জন্য নিরাপদ, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নবিষয়ক জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন- সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ শব্বির হাসান খান।

মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠেয় ‘সড়ক নিরাপত্তায় বহুখাতভিত্তিক সমন্বয় জোরদার: সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা সফলভাবে কমিয়ে আনা দেশগুলোর সর্বোত্তম চর্চা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়’ শীর্ষক সাইড ইভেন্টে মন্ত্রী যৌথ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

সূত্র: বাসস

Click to comment

হজযাত্রীদের জন্য বিমান ভাড়া নিয়ে সুখবর

আগামী ২০২৭ সালের পবিত্র হজযাত্রীদের জন্য সুখবর দিয়েছে সরকার। ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের হজযাত্রীদের জন্য বিমান ভাড়া গত বছরের তুলনায় ৩৭ হাজার টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

জামায়াতকে টেক্কা দিয়ে ‘প্রকৃত বিরোধী দল’ হওয়ার চেষ্টায় কয়েকটি দল

ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকার ২০২৭ সালের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজের মূল্য ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা এবং দ্বিতীয় প্যাকেজের মূল্য ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি প্যাকেজ ৫ লাখ ১৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

Click to comment

ভাটারায় গ্যাস লিকেজে আগুন, দগ্ধ একই পরিবারের তিন সদস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ভাটারা নতুন বাজার এলাকায় গ্যাসের লিকেজ থেকে সৃষ্ট আগুনে একই পরিবারের তিন সদস্য দগ্ধ হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তিনজনেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে নতুন বাজার ১০০ ফুট সড়কের একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলার একটি বাসায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন—শাহীন (২৪), তার স্ত্রী ফাহিমা আক্তার (২১) এবং শাহীনের ভাগনি হাফসা আক্তার (৮)।

প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, বাসাটিতে তিতাসের গ্যাস সংযোগ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, রাতে গ্যাসের লিকেজের কারণে কক্ষের ভেতরে গ্যাস জমে যায়। পরে ভোরে রান্নার সময় বা অন্য কোনো আগুনের উৎস থেকে সৃষ্ট স্ফুলিঙ্গে গ্যাসে আগুন ধরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, শাহীনের শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ, ফাহিমা আক্তারের ৪৫ শতাংশ এবং হাফসা আক্তারের ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। বর্তমানে তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তিনজনেরই অবস্থা সংকটাপন্ন।

Click to comment

টানা দশম রাতেও ইরানে মার্কিন হামলা, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি তেহরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

টানা দশম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত এলাকায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালির আশপাশের সিরিক, বন্দর আব্বাস, বন্দর লেঙ্গেহ, কেশম দ্বীপ, চাবাহার, কোনারাক ও শিরাজে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান। হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে হামলা এবং ইয়েমেনের হুথিদের নতুন অবরোধ ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সময় ইরানের সিরিক, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ ও ইসফাহান এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে। এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা আরও দুর্বল করতে ইরানের সামরিক অবকাঠামোর বিরুদ্ধে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে মোতায়েন থাকা যুক্তরাষ্ট্রের হিমার্স (HIMARS) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা লক্ষ্য করে তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তেহরানের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এ হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানের বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও তা ঠিক কোথায় ঘটেছে, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, সমুদ্রের দিক থেকেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, ক্যাম্প আরিফজানে যুক্তরাষ্ট্রের হিমার্স ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা লক্ষ্য করে ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাহরাইনে একটি রাডার ও যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করার দাবিও করেছে বাহিনীটি।

এর মধ্যেই সোমবার (২০ জুলাই) হরমুজ প্রণালিতে গ্রিসের মালিকানাধীন দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে। একই দিনে ওমানের বন্দরনগরী লিমাহ উপকূলের কাছেও আরেকটি ট্যাংকারে হামলার তথ্য দিয়েছে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা যুক্তরাজ্য মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)।

আইআরজিসি শিপিং কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছে, মার্কিন অভিযান অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা হবে এবং এ পথ দিয়ে তেল, গ্যাস কিংবা রাসায়নিক সার রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হবে না।

এদিকে হামলা শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সেনাদের মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্র ২০ গুণ বেশি শক্তি নিয়ে হামলা চালাবে। তিনি আরও বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও বর্তমানে নিরাপত্তা ও সামরিক অভিযানই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চলতে থাকলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

হোয়াইট হাউস আল-জাজিরাকে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন কোনো নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও চলছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নতুন অবরোধ ঘোষণা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং দীর্ঘদিন তুলনামূলক শান্ত থাকা ইয়েমেন সংঘাত আবারও তীব্র আকার ধারণের পাশাপাশি লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

Click to comment

রাবি শিক্ষার্থীদের রেল অবরোধ, রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ

রাবি প্রতিনিধি

রসিদ ছাড়াই যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের প্রতিবাদ করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক (টিটি) মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন রেললাইন অবরোধ করলে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা সংলগ্ন রেললাইনে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এর ফলে রাজশাহী থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী ফোরকান উদ্দীন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

ফোরকানের অভিযোগ, ঢাকা থেকে রাজশাহী ফেরার পথে কয়েকজন টিটি যাত্রীদের কাছ থেকে রসিদ ছাড়াই টাকা আদায় করছিলেন। তিনি এর প্রতিবাদ করলে ৬ থেকে ৭ জন টিটি তাকে দুই বগির মাঝখানে নিয়ে ঘাড় ও পিঠে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত চশমা ভেঙে যায়।

তিনি বলেন, “রেলের টাকা রাষ্ট্রের সম্পদ। টিকিট ইস্যু না করে টাকা নেওয়া অনিয়ম। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি এর প্রতিবাদ করেছিলাম। কিন্তু এর জেরে আমাকে মারধরের শিকার হতে হয়েছে।”

ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলো হলো—অভিযুক্ত টিটিকে সশরীরে উপস্থিত করা, ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং সব দূরপাল্লার ট্রেনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলাম বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় এক শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়েছে। রেলে অনিয়ম ও প্রতিবাদকারীদের হেনস্তা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে অবরোধস্থলে উপস্থিত হন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। এছাড়া রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ফেসবুক পোস্টে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ট্রেনের টিকিট পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদে রেললাইন অবরোধ করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।

Click to comment