ভোলায় স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩
অলটাইম ডিজিটাল রিপোর্ট
ভোলার বোরহানউদ্দিনে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে তিন কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দিবাগত রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বড় ভাই বাদী হয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। এর আগে গত ২৬ জুলাই উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের পদ্মা মনসা গ্রামের দালাল বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগী ও তার স্বজনদের অভিযোগ, স্কুলের টিফিন বিরতির সময় বাড়ি ফেরার পথে জিহাদ নামে এক কিশোর কৌশলে ওই শিক্ষার্থীকে স্থানীয় একটি কলাবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই আরও কয়েকজন অবস্থান করছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুটি চিৎকার করলে তার মুখ চেপে ধরা হয়। এরপর তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। একই সময়ে অভিযুক্তদের একজন মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার কথা কাউকে জানালে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ কারণে শিশুটি দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন রাখে। পরে অভিযুক্তরা ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ভুক্তভোগী পুরো ঘটনা জানায়।
এরপর মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগীর বড় ভাই বাদী হয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ইরফান মাহমুদ জানান, বুধবার দুপুরে ভুক্তভোগীর প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, মামলা দায়েরের পরপরই অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী তিন কিশোরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছরপূর্তিতে ইবিতে পাবনা জেলা কল্যাণ সমিতির বৃক্ষরোপণ
ইবি প্রতিনিধি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছরপূর্তি উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অধ্যয়নরত পাবনা জেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘পাবনা জেলা কল্যাণ সমিতি’র উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়কের পাশে কদবেল, আমলকি, পেয়ারা-সহ বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন সংগঠনের সদস্যরা।
কর্মসূচিতে সংগঠনটির সভাপতি শাকিল আহমেদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আল-আমিনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির উপদেষ্টা ও আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম, ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আসাদ-উদ-দৌলা, অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-হিসাব পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, সংগঠনটির সদ্য সাবেক সভাপতি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ এবং শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ। এছাড়া সংগঠনটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচির বিষয়ে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছরপূর্তিতে আমরা এমন একটি কর্মসূচি করতে চেয়েছি, যা দীর্ঘদিন মানুষের উপকারে আসবে। সেই ভাবনা থেকেই বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই গাছগুলো শুধু পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে না, বরং আগামী প্রজন্মের কাছে জুলাইয়ের আত্মত্যাগ ও ইতিহাসের কথাও মনে করিয়ে দেবে। আমরা আশা করি, আমাদের এই ছোট উদ্যোগ থেকে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হয়ে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসবেন।”
সংগঠনটির সভাপতি শাকিল আহমেদ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের স্মৃতিকে ধারণ করতেই আমাদের এই উদ্যোগ। আমরা চাই, শুধু স্মরণসভা বা আলোচনা নয়, বরং একটি সৃষ্টিশীল ও জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে জুলাইয়ের স্মৃতিকে ধরে রাখতে। একটি গাছ যেমন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ছায়া, অক্সিজেন ও পরিবেশের ভারসাম্য নিশ্চিত করে, তেমনি আজকের এই বৃক্ষগুলোও আগামী দিনে জুলাইয়ের স্মৃতির সাক্ষী হয়ে থাকবে। পাবনা জেলা কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে আমরা ভবিষ্যতেও এমন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখব।”
অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-শিক্ষক-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশে রেজিমের পরিবর্তন ও ফ্যাসিজমের উৎখাত হয়েছে। যাদের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি, তাদের স্মৃতিকে চিরস্থায়ী করে রাখতেই পাবনা জেলা কল্যাণ সমিতির এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। আমরা চাই, এই বৃক্ষগুলো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জুলাইয়ের স্মৃতির সাক্ষী হয়ে থাকুক এবং অনাগত প্রজন্মের কাছে আত্মত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরুক।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রত্যাশা করি, এই বৃক্ষরোপণ একটি সৃজনশীল ও সৃষ্টিশীল উদ্যোগ হিসেবে অন্যদের অনুপ্রাণিত করবে। নতুন প্রজন্ম আমাদের দেখে শিখবে এবং দেশকে গড়ে তোলার কাজে এগিয়ে আসবে। বাংলাদেশে যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদের সূচনা, উত্থান বা জন্ম না হয়—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। একই সঙ্গে নতুন সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলার যে প্রত্যয় রয়েছে, এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে তা আরও বেগবান হবে।”
‘জুলাই কার’, এই বিতর্ক করলে জুলাই কারও থাকবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অলটাইম ডিজিটাল রিপোর্ট
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা দলের একক অর্জন নয় উল্লেখ করে এ নিয়ে বিভাজনমূলক বিতর্ক থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘জুলাই কার’ এই প্রশ্নে বিভক্ত হলে শেষ পর্যন্ত জুলাই কারও থাকবে না; বরং গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সে রকম একটা স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পরে আমরা যদি বলি, জুলাই কার, জুলাই কার, তাহলে জুলাই আমাদের কারোরই থাকবে না। এই অবস্থা থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে।’
তিনি বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক বড় পরিবর্তন অল্প সময়ের মধ্যেই সংঘটিত হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানও তেমনই একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। তবে এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের আন্দোলন, গুম, খুন, নির্যাতন ও আত্মত্যাগের ইতিহাস। তাই শুধু জুলাইয়ের ৩৬ দিন নয়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চলমান আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতাকেও মূল্যায়ন করতে হবে।
নিজের গুম হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা গুম, হত্যা, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, মীর কাসেম আলী একসময় তাকে সতর্ক করেছিলেন যে দেশে না ফিরলে তার ছেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে। পরে তিনি নিজেও গ্রেপ্তার হন এবং তার ছেলেকেও আটক করা হয়।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথ বন্ধ থাকায় আন্দোলন রক্তাক্ত হয়ে ওঠে। বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী ও পরিবার এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইলিয়াস আলীর মতো অনেকেই গুম হয়ে আর ফিরে আসেননি। এসব আত্মত্যাগের ইতিহাস বাদ দিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা সম্ভব নয়।
জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে সংস্কার কার্যকর করতে হবে। সংসদে সংশোধনী পাসের মাধ্যমেই সংস্কারের বাস্তবায়ন সম্ভব।
গুম প্রতিরোধে পৃথক আইন প্রণয়নের উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। বলেন, গুমসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হবে। পাশাপাশি জুলাইয়ে আহতদের ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী ক, খ ও গ শ্রেণিতে সহায়তা দেওয়া এবং এখনো তালিকাভুক্ত না হওয়া ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ব্যক্তি যেমন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন, তেমনি কোনো রাজনৈতিক দলও আইনের আওতায় আসতে পারে। তবে নির্বাহী আদেশে কোনো দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নন তিনি। এ বিষয়ে আদালতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন বলে মন্তব্য করেন।
বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, বাংলাদেশে আর কোনো দিন যেন ফ্যাসিবাদের উত্থান না ঘটে, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জুলাই জাদুঘরকে তিনি ‘জীবন্ত ইতিহাস’ হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নই এখন সবার প্রধান দায়িত্ব।
জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে ইবি ছাত্রশিবিরের ‘অদম্য জুলাই’ মিছিল
ইবি প্রতিনিধি
‘জুলাইয়ের অঙ্গীকার ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণ’–স্লোগানকে সামনে রেখে জুলাই বিপ্লবের ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘অদম্য জুলাই মিছিল’ ও সমাবেশ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশিবির।
বুধবার (৫ আগষ্ট) বিকেল ৩ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে মিছিল শুরু করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকের সামনে এসে মিলিত সমাবেশে মিলিত হয়।
এ সময় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী, সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাফি সহ শাখা ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অদম্য জুলাই মিছিলে নেতাকর্মীদের “দিয়েছি তো রক্ত, আরও দিব রক্ত; রক্তের বন্যায়, ভেসে যাবে অন্যায়; কথায় কথায় বাংলা ছাড়, বাংলা কি তোর বাপ দাদার; বুকের ভেতর অনেক ঝর, বুক পেতেছি গুলি কর; আজকের এই দিনে, সাইদ তোমায় পরে মনে; আজকের এই দিনে, আনাস তোমায় পরে মনে; ওসমান হাদি মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ, লীগ ধর, জেলে ভর; জুলাইয়ের হাতিয়ার, গরজে ওঠো আরেকবার; ২৪ এর হাতিয়ার, গরজে ওঠো আরেকবার; এই দেশ আমার দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ, মুজিব বাদ মুরদাবাদ, ইনকিলাব জিন্দাবদা”–ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
সমাবেশ শেষে শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন,মানুষ পদে পদে বৈষম্যের ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। মানুষ আইনের যে অধিকার, সে অধিকার পাচ্ছে না। যারা গত বছরে বলেছিল ‘আর নয় হেলাফেলা, এবার হবে ফাইনাল খেলা’। তাদের বিচারের কতটুকু আইন-প্রশাসনের কাছে জানতে চাই। এ দেশের জনগণ জানতে চায়।
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুব আলী বলেন, আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে ২০২৪ সালের ৩৬ এ জুলাই অর্থাৎ ৫ই আগস্ট আজকের এই দিনে খুনি হাসিনা এদেশ থেকে সবকিছু গুটিয়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। খুনি হাসিনা দীর্ঘদিন যাবত এদেশের মানুষের উপর জুলুম করেছে। তিনি একটি জুলুমতন্ত্র কায়েম করেছিল। কিন্তু এদেশের জনগণ সেই জুলুমতন্ত্রকে স্থায়ী হতে দেয় নাই। তারা খুনি হাসিনাকে এদেশ থেকে চিরতরে বিতাড়িত করেছে। আমাদের জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি নতুন ইনসাফের বাংলাদেশের কিন্তু আমরা বাস্তবে এখন পর্যন্ত ইনসাফ কায়েম হতে দেখতে পারি নাই।
তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ছিল জুলাই পরবর্তী নতুন নির্বাচিত সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করবে। এই সরকার দুর্নীতিকে আরও প্রশ্রয় দিচ্ছে ও দুর্নীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে । জুলাইয়ের পরে যত দিন গেছে, ইসলামবিরোধী শক্তি, জুলাইবিরোধী শক্তি, আধিপত্যবাদী শক্তি, র-এর এজেন্টরা আমাদের জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে, জুলাইয়ের শক্তিদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার জন্য তারা বিভিন্ন কুপরিকল্পনা করে যাচ্ছে।
শাবিপ্রবিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জুলাই গণ দিবস উদযাপন, বিশেষ প্রীতিভোজের ব্যবস্থা
শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
বর্ণাঢ্য আয়োজনে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে। বুধবার ( ৫ আগস্ট) সারা দিনব্যাপী দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
সকালে সামাজিক বিজ্ঞান ভবনে স্কুলশিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এরপর গোলচত্বরের পতাকা স্ট্যান্ডে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। আলোচনা সভা পরবর্তীতে প্রথম বারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশেষ প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ খায়রুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোঃ খায়রুল ইসলাম বলেন, আমাদের শিক্ষার্থী শহীদ রুদ্র সেনসহ সকল শহীদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। বিগত ১৭ বছরের প্রতিটি যৌক্তিক আন্দোলনে আমি সশরীরে যুক্ত ছিলাম। এই সিলেট অঞ্চল নিয়েও আমি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছি।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রুদ্র সেনের স্মৃতিকে ধরে রাখতে আমরা বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। তার শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছর ১৮ জুলাই ‘শহীদ রুদ্র সেন মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ দেওয়া হবে। এর প্রাথমিক তহবিল হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় বাজেট থেকে এককালীন ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হবে। এছাড়া শহীদ রুদ্র সেনের স্মরণে একটি স্থায়ী স্মৃতিফলক নির্মাণসহ অন্যান্য উদ্যোগ বাস্তবায়নে সিভিল ও আর্কিটেকচার বিভাগের প্রধানদের সমন্বয়ে একটি ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা খুব শিগগিরই আরসিসি সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করতে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এ জন্য আমি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মহোদয়কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। একই সঙ্গে আমাদের ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ সড়ক উন্নয়নের জন্যও সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে এই প্রথম বিভাগভিত্তিক শিক্ষার্থীর জন্য প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী করতে প্রতিটি বিভাগে প্রাথমিকভাবে অন্তত ৫ জন করে শিক্ষার্থীকে টিএ-শিপ (টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ) প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন।
এছাড়া আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. সালমা আখতার, সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক মুহ. মিজানুর রহমান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহ মো. আতিকুল হক, পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ফ ম জাকারিয়া, ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. হোসেন আল মামুন, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুরাদ, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম, লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ সিদ্দিকী, প্রধান প্রকৌশলী মো. জয়নাল ইসলাম চৌধুরী, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ মাহবুব ফেরদৌসী, অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মখলিছুর রহমান, ইসলামী ছাত্রশিবির শাবিপ্রবি শাখার সভাপতি মাসুদ রানা তুহিন, শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সোহাগ মাহমুদ, জাতীয় ছাত্রশক্তি শাবিপ্রবি শাখার আহবায়ক রাশিদ আবরার, ইনকিলাব মঞ্চ শাবিপ্রবি শাখার আহবায়ক হাফিজুল ইসলাম, শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সৈয়দ ওসামা ইব্রাহিম, ইসলামী ছাত্রশিবির শাবিপ্রবি শাখার সেক্রেটারি মুজাহিদুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন শাবিপ্রবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আজাদ শিকদার, জাতীয় ছাত্রশক্তি শাবিপ্রবি শাখার সদস্যসচিব রিয়াজ হোসেন রিমন,শাখা ছাত্রদলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মারুফ বিল্লাহ, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ( পদ স্থগিত) জহিরুল ইসলাম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ফয়সাল হোসেন ও মাহবুবুল ইসলাম পবন, সহায়ক পরিবহন সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম এবং কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ আহমেদ।
লাইফ সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক মিয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ফিজিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক আহমদ কবির চৌধুরী, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদির এবং ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকার, শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মোঃ মাহির আসিফ।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মো. ফয়ছল আহমেদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. তাহমিনা ইসলাম।
সবশেষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং শহীদদের মাগফিরাত কামনায় এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা দোয়া করা হয়।
উত্তেজনা পেরিয়ে বেরোবিতে সম্প্রীতির বার্তা, একসঙ্গে উপাচার্য, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির
বেরোবি প্রতিনিধি:
টানা তিন দিনের রাজনৈতিক উত্তেজনা, দফায় দফায় সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের পর এবার ভিন্ন এক চিত্র দেখা গেল রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজিত শোভাযাত্রা, বৃক্ষরোপণ ও স্মরণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচিতে একই মঞ্চে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল থেকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে দিবসটি উপলক্ষে নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে বৃষ্টির মধ্যেই ছাতা হাতে শিক্ষার্থীরা আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবু সাঈদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে একটি ছবি প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন, যার মধ্যে কয়েকজনের আঘাত গুরুতর ছিল। সংঘর্ষের পর উভয় সংগঠন একই স্থানে পৃথক কর্মসূচির ঘোষণা দিলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং ১৪৪ ধারা জারির আবেদনও করা হয়।
তবে সেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির পর জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিতে দুই ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি অংশগ্রহণ করতে দেখা যাওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তির অনুভূতি তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, মতপার্থক্য থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ বজায় রাখতে পারস্পরিক সহনশীলতা ও সহাবস্থানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বেরোবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আব্দুর রাকিব মুরাদ বলেন, “ছাত্রদল কোনো কর্মসূচি করেছে, এমন কোনো সময় আমরা বাধা দিইনি। আগেও দিইনি, এখনও দিচ্ছি না। আমরা চাই ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকুক। একই সঙ্গে আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে লেখা ‘শিবিরমুক্ত ক্যাম্পাস’ স্লোগানটি দ্রুত মুছে ফেলা হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ইয়ামিন ইসলাম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন পথে এগিয়েছে। সেই ঐক্যের চেতনাকে ধারণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। মতবিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু তা যেন কখনো সহিংসতায় রূপ না নেয়। আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর, গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে চাই।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, “আজ আমাদের জন্য আনন্দের দিন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে যে নতুন গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তার স্মরণে আমরা এই কর্মসূচির আয়োজন করেছি। আমি আনন্দিত যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে অংশ নিয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে বলে আমরা আশা করি।”
তিনি আরও বলেন, “তারুণ্যের শক্তি ও ঐক্যই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। বিশ্ববিদ্যালয় সেই ঐক্য ও সম্প্রীতির চর্চার ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
বিদেশি অতিথিদের সামনে হেনস্তা হলাম, খুব ব্যথিত হয়েছি: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি
অলটাইম ডিজিটাল রিপোর্ট
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা ও ওয়াকআউটের ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে এবং এতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ব্যথিত হয়েছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে জুলাই শহীদ আবু সাঈদের ছবি না থাকায় উপস্থিত একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। একপর্যায়ে হট্টগোল ও ওয়াকআউটের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি শান্ত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করলেও বিক্ষোভ থামেনি। পরে কয়েকজন বিদেশি অতিথিও অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।
এ ঘটনার প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, সকালে অত্যন্ত সুন্দর একটি অনুষ্ঠান হয়েছে এবং সেখানে জাতীয় ঐক্যের চিত্র ফুটে উঠেছিল। তবে প্রামাণ্যচিত্রে কিছু ভুল ছিল। তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদের ছবিই দেখলাম না। ভুল হতেই পারে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ক্ষমাও চেয়েছেন। তারপরও যে ঘটনা ঘটল, তা অত্যন্ত অনভিপ্রেত। বিদেশিদের সামনে আমি হেনস্তা হলাম, খুব ব্যথিত হয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, বিদেশি অতিথিরা অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে যাওয়ায় দেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা যায়নি। জাতীয় ঐক্যের পরিবর্তে বিভক্তির চিত্র উঠে এসেছে। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সংসদের মতো ওয়াকআউটকে তিনি মোটেও শোভনীয় নয় বলেও মন্তব্য করেন।
বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, রাষ্ট্রপতির সামনে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এখানে এসেছি, উড়ে এসে জুড়ে বসিনি। ভুল হলে তা ধরিয়ে দেবেন, আমরা সংশোধন করব। কিন্তু বিশৃঙ্খলা করে কোনো লাভ নেই।’
সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার এবং এই সরকার আওয়ামী লীগের পথ অনুসরণ করবে না। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কোনো অনুশোচনা নেই। তারা দেশে আসার ঘোষণা দেয়; আসুক, দেখা হবে রাজপথে।’
জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার তাদের যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করবে। শহীদদের মর্যাদা রক্ষা এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
‘আবু সাঈদের ছবি ছাড়া কোনো প্রামাণ্যচিত্র পূর্ণ হতে পারে না’
অলটাইম ডিজিটাল রিপোর্ট
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত যে প্রামাণ্যচিত্রে শহীদ আবু সাঈদের ছবি নেই, সেটিকে পূর্ণাঙ্গ ডকুমেন্টারি বলা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আবু সাঈদ এই গণ-অভ্যুত্থানের প্রতীক। তাই তাকে বাদ দিয়ে নির্মিত কোনো প্রামাণ্যচিত্র গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্রে বেশ কিছু ত্রুটি রয়েছে। তার ভাষায়, প্রথমেই তিনি লক্ষ্য করেছেন সেখানে শহীদ আবু সাঈদের ছবি নেই। তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছবিও সেখানে থাকা উচিত ছিল। এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইতোমধ্যে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে সংসদের মতো ওয়াকআউট না করে শান্ত থাকার প্রয়োজন ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘এই সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার। আমাদের ভুল হলে আপনারা ধরিয়ে দেবেন, আমরা তা সংশোধন করব। আমরা আওয়ামী লীগের মতো হতে চাই না।’
এর আগে অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানবিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারা। তাদের অভিযোগ, প্রামাণ্যচিত্রে আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।
প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন শেষে মিলনায়তনের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিবাদ শুরু হয়। শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারা দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে আপত্তি জানান। একপর্যায়ে পুরো মিলনায়তনে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ইবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী উদযাপন
ইবি প্রতিনিধি
নানান আয়োজনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী পালিত হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় প্রশাসন ভবন চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং আনন্দের প্রতীক বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.কে.এম মতিনুর রহমান।
দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নেতৃত্বে প্রশাসন ভবন চত্বর থেকে একটি আনন্দ র্যালি বের হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসিসি মিলনায়তনে এসে আলোচনা সভায় সমবেত হয়। এসময় শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা, ছাত্র-শিক্ষকদের জুলাই বিপ্লবের ভূমিকা নিয়ে ডকুমেন্টারি প্রদর্শন ও শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা দোয়া করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় এবং জুলাই ৩৬ এর ২য় বর্ষ পালন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও ব্যবসা প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস শাহীদ মিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল হক। এছাড়া বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হল প্রভোস্ট, বিভাগীয় সভাপতি, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সমিতি ও সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গ্রেফতারকৃত শিক্ষার্থী, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও শিক্ষক-কর্মকর্তার সংগঠনের প্রতিনিধিসহ অন্যান্য অতিথিরা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. মতিনুর রহমান বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে যারা নতুন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে দেশের জন্য উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের প্রতি সমবেদনা; তাদের পরিবারের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। একই সাথে এই বাংলাদেশ বিনির্মাণে স্বাধীনতার দিন থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে অন্যায়ভাবে যাদেরকে গুম ও হত্যা করা হয়েছে, তারাসহ সকল শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যিনি এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় মূল ভূমিকা রেখেছেন। সেই সাথে এই বিশ্ববিদ্যালয় বিনির্মাণে যে সকল প্রাজ্ঞ ব্যক্তি চিন্তা করেছেন, দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, তাদেরও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।
তিনি আরও বলেন, বিপ্লবের সময়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়াটা মোটেই কোনো সহজ বিষয় ছিল না, অনেক কঠিন বিষয় ছিল।
আমরা ২৪ জুলাই ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিস্ট তাড়িয়েছিলাম; আজ আবার নতুন করে শপথ গ্রহণ করি। আমি মনে করি যে জুলাই একটি আবেগ ছিল, কিন্তু পুরোটাই যদি আবেগের বশবর্তী হয়, তাহলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাবে। আমরা যদি সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি, ইনশাআল্লাহ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যে লক্ষ্য—আমি আগেও বলেছি, আজও এই ৫ আগস্টের ৩৬ জুলাই উপলক্ষে বলতে চাই—সেই লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যকে ধারণ করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এদেশ আমাদের। এ দেশের মাটি ও মানুষের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমরা যে যেখানেই থাকি না কেন, এ দেশটাকে আমরা ভালোবাসি, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হই, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, সমালোচনা থাকবে এবং সেটি আমরা অব্যাহত রাখব।
এরপরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়ামে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও হলসমূহের মধ্যে প্রীতি ভলিবল প্রতিযোগিতা ও মহিলাদের মধ্যে পিলো পাসিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
কুবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন, শহীদ আব্দুল কাইয়্যুমকে মরণোত্তর সম্মাননা
সানজিদা আক্তার সাথী, কুবি প্রতিনিধি:
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় ছাত্র-জনতার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ এর ২য় বর্ষপূর্তি পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা, মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি ক্যাম্পাস গেট, গোলচত্বর ও শহীদ মিনার প্রদক্ষিণ শেষে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।
পরে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আব্দুল কাইয়্যুমকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয় এবং তাঁর মায়ের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
আলোচনা সভা শেষে বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম। এছাড়া শহীদ আব্দুল কাইয়্যুমের মা, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের কথা স্বরণ করে অশ্রুশিক্ত কণ্ঠে তাঁর মা বলেন, “আমার ছেলের কথা বলতে গেলে কখনো শেষ হবে না৷ আমি মনে করি আমার ছেলের মতো আর দ্বিতীয় কেউ হতে পারবে না। আমার ছেলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই এত বড় একটা আয়োজন করেছে এটার জন্য আমি খুশি। আপনারা জানেনই আমার অবস্থা; স্যাররা গিয়েছিলো আমার বাড়িতে, তারা দেখে আসছে৷”
কোষাধক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন বলেন, “আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে চাই এদেশ বিনির্মাণে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন এবং সর্বশেষ ২৪ এর জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত হয়েছেন তাদেরকে। জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে সামনে রেখে আমাদের দেশ, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমরা যে যেখানে আছি সে জায়গা থেকে কাজ করে যেতে চাই। আব্দুল কাইয়ূম আমার বিভাগের একজন মেধাবী ও পরিশ্রমী স্টুডেন্ট ছিলেন। আমার প্রত্যাশা থাকবে আমরা যেন শহীদ আব্দুল কাইয়ূম কে ভুলে না যাই। প্রশাসনের প্রতি আমার প্রত্যাশা আব্দুল কাইয়ূম এর পরিবারকে যেন সর্বোচ্চ সহায়তা করা হয়।”
শহীদ আব্দুল কাইয়ুম এবং তার পরিবারকে নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, “আমরা আব্দুল কাইয়ুমের পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞ তারা আমাদের ডাকে সারা দিয়েছেন, আমাদের অনুষ্ঠানে এসেছেন। আব্দুল কাইয়ুম কোন ফ্যাকাল্টিতে পড়তো, কোন বিভাগে ক্লাস করতো, পরীক্ষা দিতো এগুলো তার পরিবারকে দেখানোর জন্যই এই ফ্যাকাল্টিতে আয়োজন করেছি। শহীদ আব্দুল কাইয়ুম ৪ তারিখে যেদিন গুলিবিদ্ধ হয় সেদিন স্বৈরাচার দেশে ছিলো, আর ৬ তারিখ যেদিন মারা যায় সেদিন দেশ স্বৈরাচার মুক্ত হয়েছিলো।”
তিনি আরও বলেন, “সরকার শহীদ পরিবারদেরকে যে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দিচ্ছে। আমাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে, যেন আপনাদের পরিবারও সেই সুবিধাটুকু পায়৷ সেটা পাওয়ার জন্য আমাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটুকু করা লাগে আমরা সবটুকুই করবো। প্রয়োজনে আমরা মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে দেখা করে সেই সুবিধাটুকু নিশ্চিত করার চেষ্টা করবো। আপনারা আমাদের মাঝে এসেছেন৷ আপনাদের হারানের যে বেদনা সেটা পূরণ করার ক্ষমতা আমাদের নেই। কিন্তু আপনাদের হারানোর মাধ্যমে দেশ যে প্রাপ্তিটা পেয়েছে, আমরা যে প্রাপ্তিটা পেয়েছি তার কৃতজ্ঞতা আপনাদের পরিবারের প্রতি আমাদের সারা জীবন থাকবে।”
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের আবেগের সঙ্গে জড়িত। যারা এ আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন, তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি। সেই সময়ে শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের সাহসী অংশগ্রহণ না থাকলে আন্দোলনটি গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিত কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে ।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সাংস্কৃতিক সংগঠনকে নিয়ে আমরা একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছি। তারা একসঙ্গে বসে বছরের কোন সময়ে কোন সাংস্কৃতিক আয়োজন হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। তারা নিজস্ব কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং এ ক্ষেত্রে ছাত্র উপদেষ্টা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন। আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে আয়োজন সফল করার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’