Connect with us

আন্তর্জাতিক

আমিরাত কেন ওপেক ছাড়ল

Published

on

দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ

তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর শক্তিশালী জোট ওপেক এবং ওপেক প্লাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর মাধ্যমে ৫৯ বছরের সম্পর্কের ইতি টানছে উপসাগরীয় দেশটি। ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এবং জেদ্দায় উপসাগরীয় দেশগুলোর জোট জিসিসির জরুরি বৈঠকের মধ্যেই আমিরাতের এ আকস্মিক সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং বিশ্ব তেলের বাজারে নতুন ধাক্কা হয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল একটি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এর গভীরে রয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও কৌশলগত দ্বন্দ্ব।

১৯৬৭ সালে ওপেকের সদস্য হওয়া আমিরাত কেন এখন বেরিয়ে গেল, তার পেছনে কয়েকটি মূল কারণ উঠে এসেছে—

সৌদির সঙ্গে বিরোধ: তেলের উৎপাদন সীমা বা কোটা নির্ধারণ নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাতের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। ওপেক ত্যাগের ফলে আমিরাত এখন স্বাধীনভাবে তাদের উৎপাদন বাড়াতে পারবে। রাষ্ট্রীয় সংস্থা অ্যাডনক জানিয়েছে, তারা ২০২৭ সালের মধ্যে দৈনিক উৎপাদন ৫০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করতে চায়। ইরান যুদ্ধের আগে এর হার ছিল দৈনিক ৩৪ লাখ ব্যারেল।

ইরান ইস্যুতে ক্ষোভ: ইরান যুদ্ধের শুরু থেকে আমিরাত অন্তত ২ হাজার ২০০ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। আমিরাতের দাবি ছিল—সৌদি আরব ও কাতার মিলে ইরানের ওপর পাল্টা সামরিক হামলা চালাক। কিন্তু রিয়াদ বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কায় সেই পথে না হাঁটায় ক্ষুব্ধ হয় আমিরাত।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে সখ্য: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ওপেকের কড়া সমালোচক। জোট ত্যাগের মাধ্যমে আমিরাত নিজেকে ট্রাম্প প্রশাসনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে, যা তাদের বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

তেলের বাজারে প্রভাব: ইরান যুদ্ধের কারণে গত মার্চে ওপেকের উৎপাদন দৈনিক ৭৮ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল কমে গেছে, যা জোটের মোট উৎপাদনের প্রায় ২৭ শতাংশ। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় আমিরাতের নিজস্ব উৎপাদনও ৪৪ শতাংশ কমে ১ দশমিক ৯ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমেছিল। এখন জোটের বাইরে গিয়ে আমিরাত এককভাবে বাজার স্থিতিশীল রাখতে বা মুনাফা অর্জনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবে। দুবাই ভিত্তিক এমিরেটস পলিসি সেন্টারের সভাপতি ড. ইবতেসাম আল-কেতবি বলেন, আমিরাত এখন জোটের ভেতর থেকে নয়, বরং একক পক্ষ হিসেবে বিশ্ব বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করবে। এটি ওপেককে দুর্বল করলেও আমিরাতের প্রভাব বাড়িয়ে দেবে।

আঞ্চলিক অস্থিরতার নতুন সংকেত: আমিরাতের এ সিদ্ধান্তে সৌদি আরবের প্রভাব বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। আমিরাতের ওপেক ত্যাগের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠল যে, মধ্যপ্রাচ্যে এখন আর ‘যৌথ সংহতি’ কার্যকর নেই। ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ এবং ইরানের কট্টর বিরোধী হিসেবে আমিরাত এখন এককভাবে তাদের প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ গড়ার পথে হাঁটছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

ইরানে আবারও হামলা শুরু যুক্তরাষ্ট্রের

Published

on

By

চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দক্ষিণ ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং পারস্য উপসাগরে মাইন স্থাপনের চেষ্টায় নিয়োজিত স্পিডবোটগুলোকে লক্ষ্য করে এই আত্মরক্ষামূলক হামলা চালানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক হামলা এমন এক সময়ে এল যখন দুই দেশের মধ্যে সংঘাত অবসানে কাতারের দোহায় কূটনৈতিক আলোচনা চলছিল। মঙ্গলবারের (২৬ মে) বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, দক্ষিণ ইরানের কৌশলগত বন্দর নগরী এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি বন্দর আব্বাসের নিকটবর্তী এলাকায় এই সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়েছে। বন্দর আব্বাস শহরটি হরমুজ প্রণালীর প্রবেশদ্বারে অবস্থিত হওয়ায় এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চল।

এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল যে বন্দর আব্বাসে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং স্থানীয় কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্ত করছেন। মার্কিন মুখপাত্র বলেন, চলমান যুদ্ধবিরতির সময়ে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর পাশাপাশি মার্কিন বাহিনী তাদের সৈন্যদের নিরাপত্তা রক্ষায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

এই হামলার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি, তবে এটি চলমান শান্তি আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। সপ্তাহান্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই পক্ষ চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছে বলে আভাস দিলেও, পরবর্তীতে তিনি তার আলোচকদের তাড়া না করার নির্দেশ দেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবারের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ব্যক্ত করেছিলেন। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি এই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন, অনেক বিষয়ে অগ্রগতি হলেও চুক্তি স্বাক্ষর এখনই আসন্ন—এমন দাবি কেউ করতে পারে না।

বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে মূলত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী আলোচনার একটি খসড়া সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় আহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই বর্তমানে একটি অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করায় তার প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে, যা আলোচনার গতিকে মন্থর করছে।

এছাড়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের অবরুদ্ধ তহবিল অবমুক্ত করা এবং পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণের মতো জটিল বিষয়গুলো চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পথে বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরুতে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল, যা দিয়ে সহজেই পারমাণবিক বোমা তৈরি সম্ভব। সোমবার রাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হয় অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, অথবা ইরানের মাটিতেই তা সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়। পরবর্তীতে গত ৮ এপ্রিল থেকে উভয় পক্ষ একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি পালন করে আসছিল, যা এই নতুন হামলার মাধ্যমে বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়ল।

Continue Reading

আন্তর্জাতিক

ইন্ডিয়া জোটে ‘রিসেট বাটন’ চাপলেন মমতা, কার্যকর হবে কতটা?

Published

on

By

এনডিটিভি

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় পরাজয়ের পর আবারও ইন্ডিয়া জোটের ঐক্য ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলগুলোর বৈঠক ডাকায় বিজেপিবিরোধী জোটটির ভেতরের টানাপড়েন, অনিশ্চয়তা ও পরিবর্তিত সমীকরণ সামনে এসেছে নতুন করে।

পশ্চিমবঙ্গে বড় পরাজয়ের পর নতুন সমীকরণের চেষ্টা

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক আহ্বান করেছেন। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে গঠিত বিজেপিবিরোধী এই জোট রাজনৈতিক সমন্বয় ও কার্যকারিতা নিয়ে সংকটে রয়েছে শুরু থেকেই।

এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়ে। দলটি মাত্র ৮০টি আসন জিততে সক্ষম হয়, যেখানে আগের নির্বাচনে তারা ২১৫টি আসন পেয়েছিল। একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও ভবানীপুর আসনে তার সাবেক সহযোগী থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে যান।

এই ফলাফল ছিল বড় রাজনৈতিক ধাক্কা। প্রায় ১৫ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান প্রতিহত করে আসছিলেন এবং বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে বারবার পরাজিত করেছিলেন গেরুয়া শিবিরকে।

পরাজয়ের পর এখন তিনি বিরোধী শক্তিকে পুনর্গঠনের জন্য কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোটের অন্যান্য শরিকদের সমর্থন চাইছেন বলে মনে করা হচ্ছে। কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত বৈঠক সম্পর্কে তাদের কাছে সীমিত তথ্য রয়েছে, তবে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে জুনে।

কংগ্রেস-তৃণমূল সম্পর্ক এখনো অস্বস্তিকর

কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে নতুন করে সহযোগিতা শুরু হলেও তা হবে জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে। পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনী প্রচারে প্রকাশ্যে তৃণমূলের সমালোচনা করেছিলেন রাহুল গান্ধী।

তবে নির্বাচনে পরাজয়ের পর তিনি প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ান এবং অভিযোগ করেন, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের ‘ভোট চুরির’ কারণে প্রায় ১০০টি আসন হারিয়েছে তৃণমূল।

কংগ্রেসসহ কয়েকটি বিরোধী দল দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করছে এবং লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে বিরোধীদের ভোটভিত্তিকে।

রাহুল গান্ধীর সমর্থনের বার্তা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হলেও এখনো সহযোগিতা ও দ্বন্দ্বের মাঝামাঝি অবস্থায় রয়েছে কংগ্রেস ও তৃণমূলের সম্পর্ক। ইন্ডিয়া জোটের সামগ্রিক অস্থিরতাকেই তুলে ধরে এটি।

ডিএমকের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছে নতুন জটিলতা

টানাপড়েনের মধ্যেও নারীদের সংরক্ষণ বিল নিয়ে ইন্ডিয়া জোটের সর্বশেষ বৈঠকে অংশ নিয়েছিল তৃণমূল। কংগ্রেস বরাবরই বলেছে, জাতীয় পর্যায়ের বিরোধী ঐক্যকে রাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থেকে রাখতে হবে আলাদা।

তবে তামিলনাড়ু থেকে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। রাজনৈতিক মতবিরোধের জেরে ডিএমকে সংসদে কংগ্রেস থেকে আলাদা বসার ব্যবস্থা চেয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এতে দুই মিত্র দলের মধ্যে দূরত্ব বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে এবং ইন্ডিয়া জোটে ডিএমকের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে জল্পনা।

ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

অভ্যন্তরীণ বিভাজন থাকা সত্ত্বেও বেশিরভাগ আঞ্চলিক দল এখনো বিজেপির বিরুদ্ধে জাতীয় পর্যায়ে চ্যালেঞ্জ গড়তে কংগ্রেসকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। সংসদে বিরোধী ঐক্য ধরে রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক আহ্বানও।

তবে জোটটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই গেছে। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি ও ডিএমকে শেষ পর্যন্ত মমতার উদ্যোগকে পুরোপুরি সমর্থন করবে কি না, কিংবা জুনে আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক আদৌ হবে কি না— তা এখনো স্পষ্ট নয়।

Continue Reading

top3

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তির আশায় কমলো তেলের দাম

Published

on

By

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির দিকে এগোচ্ছে, এমন আশাবাদের জেরে সোমবার (২৫ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। যদিও হরমুজ প্রণালিতে অবরোধসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এখনো দুই পক্ষের মতবিরোধ রয়ে গেছে, যা মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে প্রভাব ফেলছে।

সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৭১ ডলার বা ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ কমে ৯৮ দশমিক ৮৩ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৫৭ ডলার বা ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৩ ডলারে দাঁড়ায়।

শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি শান্তি চুক্তি নিয়ে সমঝোতা স্মারকের বেশিরভাগ আলোচনা সম্পন্ন করেছে। সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করতো।

তবে এখনো বেশ কয়েকটি জটিল বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। রোববার ট্রাম্প জানান, তিনি তার প্রতিনিধিদের ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে তাড়াহুড়ো না করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান এমএসটি মার্কির সল কেভোনিক বলেন, শান্তি চুক্তি ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এখনো নানা শর্ত ও ঝুঁকি রয়েছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় এখন সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে কিছুটা আলো দেখা যাচ্ছে, যা স্বল্পমেয়াদে তেলের বাজারে স্বস্তি আনতে পারে।

তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে এবং যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলো মেরামত করতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

সূত্র : রয়টার্স

Continue Reading

Trending