Connect with us

মতামত

ইবিতে ইসলামিক স্টাডিজ সংযুক্তি: ‘সাম্প্রদায়িক’ বনাম ‘সময়োপযোগী’

Published

on

তানভীর মাহমুদ মণ্ডল

সম্প্রতি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ইসলামিক স্টাডিজ ও বাংলাদেশ স্টাডিজ দুইটি কোর্সকে ক্রেডিট কোর্স হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এ সিদ্ধান্তকে কেউ কেউ ‘সাম্প্রদায়িক’ আখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো— বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, মূল দর্শন এবং একাডেমিক উদ্দেশ্য বিবেচনায় এটি একটি সময়োপযোগী, যৌক্তিক এবং প্রতিষ্ঠানের স্বকীয়তা পুনরুদ্ধারের পদক্ষেপ।

নানা সংগ্রামের পর ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল— আধুনিক জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও ইসলামী সভ্যতার জ্ঞানসমৃদ্ধ গ্র্যাজুয়েট তৈরি করা। অর্থাৎ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কেবল আরেকটি সাধারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নয়; এটি এমন একটি বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান—যার নাম, কাঠামো ও উদ্দেশ্যের মধ্যেই একটি আদর্শিক ভিত্তি নিহিত আছে। এই বাস্তবতায় ইসলামিক স্টাডিজ কোর্স চালু বা বাধ্যতামূলক করা কোনো সাম্প্রদায়িক সিদ্ধান্ত নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একাডেমিক ব্যবস্থা।

বিশ্বের বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে institutional identity অনুযায়ী foundational course বাধ্যতামূলক থাকেন। যেমন: কোনো প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে Ethics in Engineering, কোনো কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে Agricultural Studies, আবার ধর্মীয় ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে Religious or Moral Studies বাধ্যতামূলক থাকেন। এতে বৈষম্য নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের চরিত্র বজায় থাকে।

অন্যদিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে ইসলামিক স্টাডিজ কোর্সের উদ্দেশ্য ধর্মীয় আনুগত্য আরোপ করা নয়; বরং শিক্ষার্থীদের ইসলামী ইতিহাস, সংস্কৃতি, নৈতিকতা ও সভ্যতা সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান দেওয়া। একজন শিক্ষার্থী মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান যে ধর্মেরই হোক না কেন, এই কোর্স তাকে ইসলামী সভ্যতার মৌলিক ধারণা, নৈতিক শিক্ষা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানাবে। এটি ধর্মান্তর বা বিশ্বাসের বিষয় নয়; এটি জ্ঞানার্জনের বিষয়। একইভাবে বাংলাদেশ স্টাডিজ কোর্স বাধ্যতামূলক করা আরও বেশি যৌক্তিক। কারণ বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রচিন্তা সম্পর্কে ধারণা ছাড়া একজন শিক্ষার্থীর পূর্ণাঙ্গ নাগরিক বিকাশ সম্ভব নয়। উচ্চশিক্ষা শুধু পেশাগত দক্ষতা অর্জনের জায়গা নয়; বরং দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরির ক্ষেত্রও। সে বিবেচনায় বাংলাদেশ স্টাডিজ কোর্স একটি জাতীয় প্রয়োজন।

কেউ কেউ বলছেন, ‘সকল ধর্মের শিক্ষার্থীদের ইসলামিক স্টাডিজ পড়া বাধ্যতামূলক করা সাম্প্রদায়িক আচরণ।’ এই বক্তব্য মূলত ‘পড়ানো’ ও ‘বিশ্বাস চাপিয়ে দেওয়া’ এই দুই বিষয়কে গুলিয়ে ফেলার ফল। বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন পড়ানো মানে সবাইকে দার্শনিক বানানো নয়; রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়ানো মানে সবাইকে রাজনীতিবিদ বানানো নয়। একইভাবে ইসলামিক স্টাডিজ পড়ানো মানে কাউকে ধর্মীয় বিশ্বাসে বাধ্য করা নয়। এটি জ্ঞানের অংশ, পরিচয়ের অংশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আদর্শিক ভিত্তির অংশ। বরং বলা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার মূল দর্শন থেকে বিচ্যুতি ঘটেছিল। আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামী জ্ঞানচর্চার যে সমন্বয় হওয়ার কথা ছিল, তা পর্যাপ্তভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের সঙ্গে তার একাডেমিক কাঠামোর একটি অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছিল। ইসলামিক স্টাডিজ-কে ক্রেডিট কোর্স করা সেই অসামঞ্জস্য দূর করার একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ।

এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ— একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করা বৈষম্য নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কাঠামো ও বাধ্যতামূলক কোর্স রয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েরও নিজস্ব আদর্শিক ভিত্তি থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে সেখানে ভর্তি হওয়া মানে সেই প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কাঠামো ও মূল্যবোধ মেনে নেওয়া। এটিকে সাম্প্রদায়িক বলা হলে প্রতিষ্ঠানের স্বাতন্ত্র্যকেই অস্বীকার করা হয়।সবচেয়ে বড় কথা, ইসলামিক স্টাডিজ ও বাংলাদেশ স্টাডিজ কোর্স চালুর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নৈতিকতা, ইতিহাস, মূল্যবোধ ও রাষ্ট্রচেতনার ভিত্তি পাবে, যা একজন দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক গঠনে সহায়ক। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই দুই কোর্স সেই ভারসাম্য তৈরি করতে পারে।

অতএব, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজ ও বাংলাদেশ স্টাডিজ-কে ক্রেডিট কোর্স করা কোনো সাম্প্রদায়িক পদক্ষেপ নয়; বরং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যুক্তিসঙ্গত এবং সময়োপযোগী একাডেমিক সংস্কার। যারা এটিকে সাম্প্রদায়িক বলছেন, তারা মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, আদর্শিক ভিত্তি এবং একাডেমিক বাস্তবতাকে অস্বীকার করছেন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় যদি সত্যিই তার প্রতিষ্ঠার দর্শন ‘আধুনিক শিক্ষা ও ইসলামী মূল্যবোধের সমন্বয়’ বাস্তবায়ন করতে চায়, তবে এই সিদ্ধান্ত সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি ইতিবাচক ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

মো. তানভীর মাহমুদ মন্ডল

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ

সাবেক সহ-সমন্বয়ক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইবি শাখা

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

দ্য হিন্দুর এক্সপ্লেইনার/২০১৩ সালের চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে কি ফেরত পাঠাবে ভারত

Published

on

By

কল্লোল ভট্টাচার্য

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের আগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকা বলছে, তারেক রহমানের সফরের জন্য নয়াদিল্লিকে একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরি করতে হবে। আর এই পরিবেশ তৈরির প্রধান শর্ত হলো শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। তখন থেকেই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। গত ৫ আগস্ট (২০২৬) দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেন শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি দাবি করেন, ‘বাংলাদেশে আবার ভয় ফিরে এসেছে।’

তার এই বক্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় শেখ হাসিনাকে ‘দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় শিশুসহ নিরীহ মানুষ হত্যার জন্য সরাসরি তাকে দায়ী করেছে ঢাকা।

ওসমান হাদির খুনিদের ফেরত চায় বাংলাদেশ

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম গত রোববার আরেকটি দাবি সামনে এনেছেন। তিনি ওসমান হাদির সন্দেহভাজন খুনিদের ফেরত দেওয়ার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানান।

ওসমান হাদি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। পরে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তখন বাংলাদেশে বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলার সংকট তৈরি হয়েছিল।

চীন কেন ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মানবে না

অভিযুক্ত খুনিরা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে বলে ঢাকা দাবি করছে। বর্তমানে দেশের রাজপথে প্রভাবশালী ইসলামপন্থিরা এই মামলার ওপর কড়া নজর রাখছেন। সংসদে ৬৭টি আসন থাকা দল জামায়াতে ইসলামীও হাদির বিচারের দাবিতে সোচ্চার। ফলে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণে এই মামলাটি বর্তমান বিএনপি সরকারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ ও আইনি জটিলতা

দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, ভারত যে কোনো অপরাধীকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে পারে। দুই দেশের পারস্পরিক এই চুক্তিতে এমন বিধানই রয়েছে। তবে চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে রাজনৈতিক অপরাধীদের হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।

‘পলিটিক্যাল অফেন্স এক্সেপশন’ বা রাজনৈতিক অপরাধের ব্যতিক্রম নামের এই ধারা অনুযায়ী, অপরাধটি রাজনৈতিক চরিত্রের হলে প্রত্যর্পণের অনুরোধ নাকচ করতে পারে যে কোনো পক্ষ।

অবশ্য খুন, অপহরণ ও নরহত্যার মতো গুরুতর অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে না। তবে মূল সমস্যা হলো, চুক্তিতে ‘রাজনৈতিক অপরাধ’-এর কোনো স্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া নেই। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত যে কোনো অপরাধকে নিজেদের মতো করে ‘রাজনৈতিক’ হিসেবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ পেতে পারে।

বিশেষ করে ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই অনেক মামলা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক আদালতও (আইসিজে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়া এবং ২০২৫ সালের নভেম্বরের রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আইসিজে ট্রাইব্যুনালের সদস্যদের সততা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে।

আইসিটির রায় ও দিল্লির অবস্থান

২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শেখ হাসিনাকে পুলিশি দমন-পীড়নের জন্য দায়ী করে। পরে একটি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে।

আমি স্বাধীনতা উপভোগ করছি, তারা আফগানিস্তানে ‘বন্দি’

২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময় দমন-পীড়নে নিহতের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ হাজার ৪০০।

রায়ের পর শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে কূটনৈতিক চিঠি পাঠায় বাংলাদেশ। তবে নয়াদিল্লি এ নিয়ে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেবল জানিয়েছে, তারা রায়টি পর্যবেক্ষণ করছে। ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে ভারত বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণ কামনা করে।

তারা সেখানে শান্তি, গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা দেখতে চায়। এই লক্ষ্য অর্জনে তারা সবসময় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করবে। অন্যদিকে জাতিসংঘ নীতিগতভাবে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করলেও বাংলাদেশে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে।

৮ নম্বর অনুচ্ছেদের বাধা

প্রত্যর্পণ চুক্তির ৮ নম্বর অনুচ্ছেদটি ভারতের জন্য আরেকটি আইনি পথ খুলে দিয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী, কোনো অভিযোগ যদি ‘সৎ উদ্দেশ্যে’ বা ‘ন্যায়বিচারের স্বার্থে’ করা না হয়, তবে প্রত্যর্পণের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা যাবে। শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যেই আইসিটির রায়কে ‘পূর্বনির্ধারিত’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে ট্রাইব্যুনালের সদস্যদের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর প্রতি সহানুভূতিশীল থাকার অভিযোগ তোলেন।

স্পেন কি কোনো ‘শাস্তি’ পাচ্ছে?

তৎকালীন সরকার জামায়াতের পক্ষে বহু মামলা লড়া ব্যারিস্টার তাজুল ইসলামকে ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। শেখ হাসিনা নিজেও এক বিবৃতিতে এই রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার দাবি করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হলে ১৯৭৩ সালের ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধন প্রয়োজন।

বাস্তবতা ও সম্পর্কের উষ্ণতা

দুই দেশের সীমান্তে অপরাধীদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে ২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারি ঢাকা ও দিল্লি এই প্রত্যর্পণ চুক্তি সই করে। একই বছরের ২৩ অক্টোবর থেকে এটি কার্যকর হয়। ইতোপূর্বে এই চুক্তির আওতায় ২০২২ সালে ১১টি হত্যা মামলার আসামি নূর নবী ম্যাকসনের মতো বেশ কয়েকজন অপরাধীকে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। পলাতক আসামিদের হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এই চুক্তিটিই দুই দেশের একমাত্র কার্যকর আইনি মাধ্যম।

তাত্ত্বিকভাবে প্রত্যর্পণ সম্ভব হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর মামলার ক্ষেত্রে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কই প্রধান ভূমিকা রাখে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আভাস দিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে হঠাৎ ফেরত পাঠালে বাংলাদেশে বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। তা ছাড়া যখন দুই দেশের সম্পর্ক সর্বোচ্চ চূড়ায় ছিল, তখন এই চুক্তি সই হয়েছিল। বর্তমানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াটি দিল্লির জন্য বেশ জটিল।

Continue Reading

মতামত

কেন খাবেন না কোমল পানীয়?

Published

on

By

লাইফস্টাইল ডেস্ক

কোমল পানীয় যে বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়-তা উপেক্ষা করার উপায় নেই। ২০২১ সালে কোমল পানীয়ের বিশ্বব্যাপী বাজারমূল্য ৪১৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ছিল বলে ধারণা করা হয়েছিল। যদিও নিয়মিত কোমল পানীয় পানের নেতিবাচক পরিণতি ব্যাপকভাবে স্বীকৃত তবুও সব বয়সের মানুষকেই এসব পানীয় অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করতে দেখা যায়। 

কোমল পানীয় মূলত পানির ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি পানীয়। এর সঙ্গে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস মিশ্রিত হলে কার্বনেটেড হয়ে যায়। অগণিত কোমল পানীয়ের বিভিন্ন স্বাদের পেছনে এমন কিছু উপাদান আছে যা শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। 

কোমল পানীয়ের ভেতরের লোভনীয় বুদবুদ, অথবা পান করার সময় মুখে সুড়সুড়ির অনুভূতি, কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের ফলে হয়।

এই যৌগটি পাকস্থলীকে অনেকের ধারণার চেয়েও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। 

কোমল পানীয় পান করার পর এবং এটি অন্ত্রে পৌঁছানোর পর, শরীর পনীয়টিকে ‘উষ্ণ’ করে যার ফলে কার্বন ডাই অক্সাইড পেটে গ্যাস হিসাবে প্রসারিত হয়। কার্বনেশন এবং গ্যাস জমা হওয়ার কারণে এর ফলে তীব্র পেট ব্যথা হতে পারে।

এছাড়া পেট ফাঁপা, অস্বস্তি, পেট ভরা অনুভূতি এবং পেটের পেশীতে খিঁচুনি সৃষ্টি করতে পারে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে, এটি ঢেকুর তোলার অনুভূতি সৃষ্টি করে। 

এছাড়া সোডা পান করার পর অতিরিক্ত ঢেকুর তোলার ফলে খাদ্যনালীতে অ্যাসিড বেরিয়ে যেতে পারে, বিশেষ করে খাবারের সময় বা ঠিক পরে সোডা পান করলে।

আবার কেউ যদি ডায়েট কোমল পানীয়কে স্বাস্থ্যকর বিকল্প মনে করেন তাহলে তাও সঠিক নয়।  বেশিরভাগ অন্ত্রের সমস্যা  ডায়েট সোডায় পাওয়া কৃত্রিম মিষ্টির জন্য হয়।  এই মিষ্টিগুলো অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়া (মাইক্রোবায়োম) উৎপাদন এবং নিয়ন্ত্রণকে ব্যাহত করে।

কোমল পানীয় পেটের উপর ‘অ্যাসিড লোড’ হিসেবে কাজ করতে পারে।  এটি পাকস্থলীর অ্যাসিডিটির মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে, পাকস্থলীর আস্তরণের ক্ষতি করে এবং প্রায়শই অম্বল এবং অ্যাসিড রিফ্লাক্স (প্রচলিতভাবে ধোয়া ঢেকুর) করে। 

তথ্যসূত্র: সামাটিভি

Continue Reading

মতামত

কুরবানির তাৎপর্য

Published

on

By

মাওলানা আশরাফ উদ্দিন খান

ইসলামে ইবাদতের ধারণা খুব স্পষ্ট ও বিস্তৃত। এখানে ইবাদত বলতে কোন সীমাবদ্ধ ধর্মীয় ধারণা বুঝানো হয় না। সাধারণ ধারণায় ইবাদত হতে পারে ব্যক্তিগত কোন ধর্মীয় কাজ-কর্ম, কিন্তু ইসলামে ইবাদতের ধারণা, অভ্যাস ও প্রভাব ব্যক্তির পরিধি অতিক্রম করে সমাজ ও জাতির সভ্যতা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। কুরবানির শুরু একজন ব্যক্তির ইসতিসলাম বা আত্মসমার্পণ দিয়ে, আর পরবর্তীতে সেটা ধীরে ধীরে ব্যক্তি-পরিবারকে অতিক্রম করে সমাজ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়ে সমাজের মধ্য থেকে বৈষম্য দূর করার কৌশল প্রদান করে থাকে। কাজেই এটার শুরু ব্যক্তিগত ইবাদত হলেও এটা শেষ হয় সামাজিক সুফল অর্জনের মধ্য দিয়ে। কুরবানির মধ্যে এমন কিছু ভিত্তি বিদ্যমান রয়েছে যা একটি সভ্যতার সৃষ্টির জন্য অতি প্রয়োজনীয় ভিত্তি।

কুরবানির মধ্যে বিদ্যমান ভিত্তিসমূহ কি কি?

কুরবানির ভিত্তি ও স্তম্ভ কুরবানির আমলের মধ্যে চারটি ভিত্তি ও স্তম্ভ বিদ্যমান যেগুলো হচ্ছে-

1. তাকওয়া

2. ত্যাগ

3. বণ্টন

4. ঐক্য

—তাকওয়া হচ্ছে আল্লাহর ভয়। কুরআনের পরিভাষায় মানুষকে সভ্য মানুষে পরিণত করে এই তাকওয়া। কুরআন বলে ‘তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত সেই যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়ার অধিকারী’। এই তাকওয়া বা আল্লাহর ভয়ের মাধ্যমে মানুষের ভিতরে দায়িত্ব বোধ ও জবাবদিহিতা তৈরি হয়। ফলে মানুষ দুর্নীতি মুক্ত হয়ে জীবনযাপন করতে শিখে। এভাবে সমাজের মধ্যে আল্লাহভীরু ও দুর্নীতিমুক্ত মানুষের সৃষ্টি হতে থাকে। এক এক করে কিছু আল্লাহভীরু মানুষের সমষ্টিতে একটি আল্লাহভীরু সমাজের বিকাশ করে।

কুরবানির দ্বিতীয় ভিত্তি ছিল ত্যাগ। মদিনাতে মুহাজির ও আনসার সাহাবিদের মাধ্যমে মুসলিম সভ্যতার যে গোড়াপত্তন হয়েছিল সেই সভ্যতার একটি উল্লেখযোগ্য ভিত্তি ও গুণ ছিল এই ত্যাগ। কুরআন বলছেঃ وَٱلَّذِينَ تَبَوَّءُو ٱلدَّارَ وَٱلۡإِيمَٰنَ مِن قَبۡلِهِمۡ يُحِبُّونَ مَنۡ هَاجَرَ إِلَيۡهِمۡ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمۡ حَاجَةٗ مِّمَّآ أُوتُواْ وَيُؤۡثِرُونَ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمۡ وَلَوۡ كَانَ بِهِمۡ خَصَاصَةٞۚ وَمَن يُوقَ شُحَّ نَفۡسِهِۦ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ ٩‘… এবং তারা তাদেরকে (অন্যদেরকে) নিজেদের উপর অগ্রাধিকার দেয় যদিও তাতে তাদের ভীষণ প্রয়োজন থাকে’। (সুরা হাশরঃ ০৯) ত্যাগ এমন একটি গুণ যা মানুষকে মহামানব এবং সভ্যতাকে মানবিক সভ্যতায় পরিণত করে। ত্যাগের বিপরীত ধারণা হচ্ছে দখলদারিত্বের মানসিকতা। যেই মানসিকতা থেকে মানুষের মুক্ত থাকা চেতনা ছাড়া সম্ভব নয়। কুরআনের দুটি আয়াতের দুটি অংশ উল্লেখ করা যাকঃ وَأُحۡضِرَتِ ٱلۡأَنفُسُ ٱلشُّحَّۚ وَإِن تُحۡسِنُواْ وَتَتَّقُواْ فَإِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِمَا تَعۡمَلُونَ خَبِيرٗا١٢٨‘… মানুষকে কার্পণ্যের উপর সৃষ্টি করা হয়েছে, যদি সৎকর্মশীল হও এবং মুত্তাকী হও তবে তোমরা যা করো নিশ্চয় আল্লাহ তার খবর রাখেন’। (সুরা নিসাঃ ১২৮) وَمَن يُوقَ شُحَّ نَفۡسِهِۦ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ‘… যাদেরকে অন্তরের কার্পণ্য থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে তারাই সফলকাম’। (সুরা হাশরঃ ০৯) কুরবানির ইবাদত মানুষকে আধুনিক ভোগবাদের ধারণাকে বাদ দিয়ে মানুষের কল্যাণের জন্য সবকিছু উৎসর্গ করার শিক্ষা দান করে। কুরবানি মানুষকে শেখায় ‘আমি কম নিতে ও অপরকে বেশি দিতে অভ্যস্ত হব’। কুরবানির গোশত বণ্টনের মাধ্যমে নিজের সম্পদকে অন্যের সামনে পেশ করার সবক ও শিক্ষা রয়েছে। এই শিক্ষাকে ব্যাপকতার রুপ দান করতে পারলে সেটা সভ্যতার উপাদানে রুপান্তরিত হবে। এটাকে কুরবানির গোশত থেকে মসজিদে নামাজের জায়গা দখল করা, বাসের সিট দখল, পাবলিক লাইব্রেরীর চেয়ার দখল করা, নিজের গাড়ি দিয়ে কারো স্থান দখল করা থেকে আরো দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

আর চতুর্থ ভিত্তি ছিল ঐক্য। অর্থাৎ সমগ্র মুসলিম উম্মাহ একদিন, এক আমল ও এক অনুভুতির মাধ্যমে সারা দুনিয়ার সমস্ত মুসলমান নিজেদের মধ্যে ঐক্যের অনুভতি অর্জন করতে সক্ষম হয়। আজক যেহেতু কুরবানি তাঁর যথাযত অর্থ ও মর্ম হারিয়ে নিছক একটি আচার ও অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, তাই প্রতিবছর কুরবানি আদায় করার পরেও কুরবানির এই ভিত্তিগুলো আমাদের সমাজে কার্যকর হচ্ছে না। ফলে ইবাদত বা আমল আছে ঠিক কিন্তু তাঁর যথাযথ ফল আমরা অর্জন করতে পারছি না। আমরা আকৃতি গ্রহণ করেছি কিন্তু চেতনা হারিয়ে ফেলেছি, সুন্নত পালন করছি ঠিক কিন্তু সেই প্রেরণা আমাদের মাঝে ধরে রাখতে পারিনি। যে জাতি বা উম্মাহ কুরবানির মর্ম বুঝতে পারে, সেই উম্মাহ ইতিহাস রচনা করতে পারে। আর যে উম্মাহ কুরবানি ভুলে যায় সে তাঁর ইতিহাসকে হারিয়ে ফেলে। আজকে আমাদের কুরবানির মধ্যে হযরত ইবরাহীম আঃ এর আমলের বাহ্যিক রূপ আছে কোন সন্দেহ নেই, কিন্তু যেই ঈমান আর চেতনাকে সাথে নিয়ে তিনি কুরবানি করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন সেই ঈমান আর চেতনা থেকে আমাদের অবস্থান কত দূরে। কুরবানির চেতনা যদি আমরা আসলেই ধারণ করতে পারি, তাহলে সেই ধারণাকে আমরা অতি সহজে মুসলিম উম্মাহর সভ্যতার পুনঃনির্মাণে ব্যবহার করার সাহস ও সুযোগ পাবো ইনশা আল্লাহ। আর যদি আমরা প্রতি বছরে অভ্যাস অনুযায়ী কুরবানি করতে থাকি, এর চেতনা ধারণা করা ব্যতীত তাহলে সেটা হবে কুরবানির নিছক সাদৃশ্য গ্রহণ করা। ফলে কুরবানির সুদুর প্রসারি ফল আমরা অর্জন করতে পারব না। যেটা আমাদের প্রতিদিনের আমল প্রমাণ করে দিচ্ছে। আমাদের কুরবানির ভিত্তি হোক তাকওয়া, ত্যাগ, বণ্টন ও ঐক্যের সুতায় গাঁথা একটি সমন্বিত আমল, যা আমাদেরকে সুন্নতে ইবরাহীমের নিকটবর্তী করবে ইনশা আল্লাহ। আল্লাহ উত্তম তাওফিকদাতা।

লেখক: মাওলানা আশরাফ উদ্দিন খান (খতিব, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ)

Continue Reading

Trending