ইবি প্রতিনিধি
বাংলাদেশের সংবিধানে বর্ণিত— ধর্ম, বর্ণ, বয়স, পেশা ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সকলের জন্য সমান সুযোগ এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকরণ সহ ব্যক্তিগত সুরক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে ‘যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধ নীতিমালা-২০২৬’ প্রণয়ন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান এই নীতিমালার পুস্তিকার মোড়ক উন্মোচন করেন। এটি হাইকোর্টের নীতিমালার আলোকে গত ৩০ জানুয়ারি (২০২৬) অনুষ্ঠিত ২৭২তম সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদন পেয়েছে।
নীতিমালার লক্ষ উদ্দেশ্য:
আক্রান্ত, ক্ষতিগ্রস্ত ও ভুক্তভোগীদের প্রতিকারের ব্যবস্থা সহ অভিযোগ প্রদানের নিরাপদ ও সহজিকরণ, অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা, বিচারপ্রার্থী বা তার পরিবারের সদস্যদের হয়রানি বা নিগৃহীত করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে সুনির্দিষ্ট করা এবং গোপনীয়তা বজায় রেখে ব্যক্তি সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
যা যা যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন:
শ্রেণি কক্ষের ভিতরে বাহিরে অবাঞ্ছিত মন্তব্য বা অঙ্গভঙ্গি দ্বারা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি, কটূক্তি, টিটকারি, চলাফেরার সময় পিছু নেওয়ার মাধ্যমে উত্যক্ত করা, চিঠিপত্র বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে হেয় করা বা উত্যক্ত করার চেষ্টা, যৌন উস্কানিমূলক, বিদ্বেষমূলক কুৎসা রটানো, শ্রেণি কক্ষে অপ্রাসঙ্গিক যৌন বিষয় উত্থাপন করে হয়রানিমূলক আচরণ, যৌন হয়রানির উদ্দেশ্যে চরিত্র হননের চেষ্টা, বলপূর্বক প্রেমের সম্মতির জন্য উত্যক্ত করা এবং প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কারণে চাপ সৃষ্টি ও হুমকি প্রদান, যৌন কামনা চরিতার্থে কারো শরীরে স্পর্শ করা, ভয় বা প্রলোভন দেখিয়ে বা ক্ষমতাকে অপব্যবহার করে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা ও ধর্ষণের চেষ্টা বা ধর্ষণ করা ইত্যাদি যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন বুঝাবে।
শাস্তি নির্ধারণ:
যৌন হয়রানি প্রতিরোধকল্পে গঠিত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ ৬০ (ষাট) কার্যদিবসের মধ্যে সকল পর্যায় শেষ করবে এবং অপরাধীর শাস্তি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রদান করবে। উক্ত কমিটি কর্তৃক কোন অভিযোগের তদন্ত চলাকালে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে সাময়িকভাবে সকল দায়িত্ব থেকে এবং শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে শিক্ষাকার্যক্রম থেকে বিরত রাখবে।
এছাড়া অপরাধী শিক্ষার্থী হলে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী লিখিত সতর্কীকরণ, সেমিস্টার বা ইয়ার বা চিরতরে বহিষ্কার সহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করবে। অপরাধী যদি শিক্ষক হয় তাহলে ইনক্রিমেন্ট বন্ধ এবং অভিযোগকারীকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান, অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী বাধ্যতামূলক অবসর বা চাকুরিচ্যুত সহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর।
যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রোকসানা বেগম মিলি বলেন, নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এই পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া, যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবনে বিল বোর্ড আকারে স্থাপনের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন হল ও বিভাগে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
পুস্তিকার মোড়ক উন্মোচনের সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, “হাইকোর্ট প্রদত্ত নীতিমালার আলোকে আমাদের এখানে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধকল্পে গঠিত কমিটি আছে এবং সেই কমিটি এই পুস্তিকাটি প্রকাশ করেছেন। আগামী ১ আগস্ট ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের অরিয়েন্টেশন; আমরা তাদের দিয়েই এই পুস্তিকা প্রচারের যাত্রাটা শুরু করব ইনশাআল্লাহ।
এছাড়াও তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে সতর্ক করার জন্য বিলবোর্ড স্থাপন করা হচ্ছে। যিনি কমিটির আহ্বায়ক তাকে ইতোমধ্যেই আমি অনুরোধ করেছি যে, বিভিন্ন বিভাগে একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাতে এটি প্রচার করা হয়। প্রথম পর্যায়ে এতে কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি রয়েছে তবে এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি এবং আগামীতে আমরা এই ভুল ত্রুটিগুলোকে ওভারকাম করে শিক্ষার্থীদের মাঝে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করবো। আমি সংশ্লিষ্টদেরকে বলেছি শিক্ষার্থীরা যাতে সহজে রিচ করতে পারে ইমেইল অথবা নাম্বার দেওয়া হবে যাতে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ জমা দিতে পারে।”