ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হলে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বাইরে ‘অবৈধভাবে সিট দখল’ ও অনিয়ম করে ভিন্ন হল থেকে এসে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। এসবের প্রতিকার চেয়ে হল প্রভোস্ট বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। এতে হলের প্রচলিত নিয়ম উপেক্ষা করে কিছু শিক্ষার্থীর অবৈধ অবস্থান ও সিট বরাদ্দের স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুল গফুর গাজী বরাবর একটি লিখিত স্মারকলিপি জমা দেন।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, হলের নিয়ম অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন ও সিট বরাদ্দ পাওয়ার পরেই শিক্ষার্থীরা রুমে ওঠার কথা। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী অফিসের অনুমতি ছাড়াই অগ্রিম টাকা দেওয়ার অজুহাতে রুমে অবস্থান নিয়েছে। এর ফলে যারা দীর্ঘ সময় ধরে বৈধভাবে সিটের অপেক্ষায় আছে, তারা তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং হলের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে।
এসময় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে অবৈধভাবে দখলকৃত সিটগুলো উদ্ধার করে প্রকৃত মেধাবী ও নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মাঝে বণ্টন করা, অনুমতি ব্যতীত টাকা জমা দেওয়া শিক্ষার্থীদের টাকা ফ্রিজ করা এবং সিট বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ‘আগে অফিস, পরে রুম’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা সহ ৪ দফা দাবি পেশ করেন।
হল সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন সময় রুমে রুমে গিয়ে জরিপ করে দেখতে পায়— ১০১ টি আসন অলিখিতভাবে দখল করে আছেন। অনেকে নিয়মমাফিক সিট বরাদ্দ না পেলেও টাকা জমা দিয়ে অবস্থান করছেন এবং কেউ কেউ অন্য হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হয়েও সেখানে অবস্থান করছেন। আজকে (৩১ জানুয়ারি) দিনভর ভাইভার মাধ্যমে নতুন সিট বরাদ্দ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ভাইভায় অংশ গ্রহণ করেন।
অভিযোগ রয়েছে— ভাইভার আগে কিছু শিক্ষার্থী সিট বরাদ্দের টাকা জমা দিয়েছেন। পূর্ব থেকেই অধিকাংশ সিট পূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে নতুন শিক্ষার্থীদের সিট নিশ্চিত করতে জটিল সমীকরণ তৈরি হবে।
জানতে চাইলে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুল গফুর গাজী বলেন, আমরা সিট বরাদ্দের প্রক্রিয়া মাত্র শুরু করছি। প্রাথমিক জরিপে যাদের সিট অবৈধ বা অন্য হল থেকে আগত শিক্ষার্থী রয়েছে, তাদের বিষয়ে আরও ক্রসচেকিং করে দেখব। ইতোমধ্যে কয়েক দফায় নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তারপরও যদি আত্মসম্মান বোধে না লাগে, তাহলে কঠোর পদ্ধতি অবলম্বন করতে বাধ্য হবো।
স্মারকলিপির বিষয়ে তিনি বলেন, আজকে কিছু শিক্ষার্থীরা এসে স্মারকলিপি দিয়েছে, সবকিছু বিবেচনা নিয়েই পর্যালোচনা করে বরাদ্দ দিব। আমি শেষ বারের তো অনুরোধ করছি— যারা অবৈধ এবং অন্য হল থেকে আগত হয়ে অবস্থান নিচ্ছে তারা যেন দ্রুত অফিসে যোগাযোগ করে সুরাহা করে নেয়। অন্যথায় একশনে যেতে বাধ্য হবো।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) শিক্ষকদের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলাম ও প্রক্টর ড. জসিম উদ্দিনসহ উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। উপস্থিত শিক্ষকেরা এ কথা জানিয়েছেন। উভয় পক্ষই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী সাদা দলের শিক্ষক।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হচ্ছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে কয়েকজন শিক্ষক রোববার দুপুরে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করতে যান। সে সময় উপাচার্য আলিমুল ইসলামের সঙ্গে শিক্ষকদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে ভিসিসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক আহত হন। তবে তাঁদের কারোরই অবস্থা গুরুতর নয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডক্টর মো. এমদাদুল হক বলেন, ‘নির্বাচন চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের অ্যাডহক নিয়োগ দেওয়া হয়। সেখানে কিছু ত্রুটি আছে। আমরা তাকে উপাচার্যকে এই নিয়োগ দিতে না করি। তবুও তিনি নিয়োগ দেন। মানুষ নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত আর তিনি ১০ ফেব্রুয়ারি এই নিয়োগ দেন। আমরা এটার বিষয়ে উনার সঙ্গে গতকাল বসতে চাচ্ছিলাম। তিনি গতকাল সময় দেননি। আজ গেলে আমাদের সঙ্গে কথা বলেন। তখন সেখানে উপস্থিত প্রক্টর প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন আমাদের একজন শিক্ষকের ওপর চড়াও হন। তিনি মোজাম্মেল স্যারকে লাথি মেরে সরিয়ে দেন আর তখন মাহবুব স্যার ঝামেলা মেটাতে এলে তাকেও ঘুষি মারা হয়। তখন এই মারামারির ঘটনা ঘটে। তার কাছে কোনো কিছু নিয়ে গেলেই তিনি বলতেন আমি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভিসি, আমি কোনো কাজ করতে পারব না। এখন শেষ সময়ে তিনি এই নিয়োগ কীভাবে দেন। এই নিয়োগের মাধ্যমে ইউজিসি আমাদের বাজেট বন্ধ করিয়ে দেবে। তখন আমরা কীভাবে বাঁচব। আমরা সাবধান করতে গিয়েছিলাম। আর আমাদের ওপর হামলা করা হয়।’
ঘুষি ও লাথির বিষয়ে জানতে প্রক্টর প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিনকে মোবাইল ফোনে চারবার কল দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সিকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর আলিমুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়েন করার পরে একটি ব্যানার ছেঁড়া নিয়ে গন্ডগোল হয়। তখন ছাত্রদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার নিয়োগ দিই। টিচাররাই তাদের নির্ধারণ করে দেন। এখন সহযোগিতা করছে না। নয়া সরকার আসছে, এখন তারা আসছে এই সরকারের লোক বলে। ওরা যে সরকারের লোক, আমিও তো সেই সরকারের লোক। এনএসআই, ডিজিএফআই সব সরকারের কাছেই আমার ইনফরমেশন আছে। কিছু শিক্ষক ও কর্মচারী মিলে অযথা মব সৃষ্টি করছে। এটা সর্বকালের শ্রেষ্ঠ নিয়োগ। কোনো টাকা, কোনো সুপারিশ কাজ করেনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য। লিখিত, ভাইভাসহ যোগ্য লোকদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যেখানের ম্যাক্সিমাম সিলেটেরই।’
উপাচার্য তাঁর কক্ষে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ছয়জন আহতের কথা স্বীকার করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডক্টর মো. এমদাদুল হক বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ দিইনি।’
সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। থানায় কেউ কোনো অভিযোগ নিয়েও আসেনি
প্রথমবারের মতো আইন ও বিচারব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে তরুণদের যুক্তিবাদী বিতর্কচর্চা জোরদার করতে “হক ল একাডেমি” কর্তৃক আয়োজিত ‘ইন্টার ইউনিভার্সিটি ডিবেট অন লিগ্যাল ইস্যুজ’ -এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) আইন বিভাগের প্রতিনিধিত্বকারী দল “Law Verse”। উক্ত টিমের বিতার্কিকগণ হলেন মো. ইমন হোসেন, খন্দকার রামিম হাসান পায়েল, ফাঈদ হোসেন।
শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় রাজধানীর ফার্মগেটের আর. এইচ. হোম সেন্টারে এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নুরুল হকের সভাপতিত্বে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ।
জানা যায়, দেশের ২৪ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সমসাময়িক আইন ও বিচারসংক্রান্ত ইস্যুতে তাদের যুক্তি, বিশ্লেষণ ও বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এতে ১ম রাউন্ডে দুইটি স্লটে বিতর্ক করে ১২টি দল ২য় রাউন্ডে উত্তীর্ণ হয়। পরে ২য় রাউন্ডে কোয়ার্টার ৮টি দল ও সেমিফাইনালে ৪টি দল বিতর্ক করে।
ফাইনালে সরকারি দলে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) এবং বিরোধী দলে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) বিতার্কিকরা অংশগ্রহণ করেন। এতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাফরিন সুলতানা, মন্ত্রী হিসেবে মাহির লাবিব ও সাংসদ হিসেবে তামিম মাহমুদ এবং বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে ইমন হোসেন, উপনেতা হিসেবে ফাইদ হোসেন ও সাংসদ হিসেবে খন্দকার রামীম হাসান অংশগ্রহণ করেন।
প্রতিযোগিতা শেষে চ্যাম্পিয়ন দলকে ট্রফিসহ ১২ হাজার টাকা ও রানার্স আপ দলকে ট্রফিসহ ১০ হাজার টাকা পুরস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়া অংশগ্রহণকারী সকলকে সনদ প্রদান করা হয়।
হাইকোর্ট বিভাগের মাননীয় বিচারপতি মোহাম্মদ মাহবুব উল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যৎ আইনজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকদের চিন্তাশক্তি ও গণতান্ত্রিক বিতর্ক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে”।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব তারিকুল আলম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল আহাদ, মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোতাসিম বিল্লাহ, বরিশাল অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মিল্টন হোসেন এবং বিচারক হিসেবে রাকিব আহমেদ, ফায়জুল ইসলাম, রায়হান হোসেন ও মাশরাফী ইসলাম দায়িত্ব পালন করেন।