Connect with us

আইন-শৃঙ্খলা

কারাগারে সাধারণ বন্দিদের সঙ্গে বিশেষ খাবার খেলেন সাবেক আইজিপি মেয়র এমপিরা

Published

on

ঈদ উপলক্ষে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের নতুন পোশাক ও বিশেষ খাবার দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে বন্দিদের জন্য আলাদা আলাদা ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া ডে-কেয়ার সেন্টারে থাকা শিশুদের মধ্যে বিশেষ খাবারের পাশাপাশি নতুন জামা, চকলেট, কেক, চিপস বিতরণ করে কারা কর্তৃপক্ষ।

এই কারাগারে বন্দিদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম মো. শহীদুল হক, নারায়নগঞ্জের সাবেক মেয়র ডা. আইভি রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মমতাজ বেগম, সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল হক বাবুর মতো বিশেষ ব্যক্তিরা। তারা সাধারণ বন্দিদের সঙ্গে কারাগারের দেওয়া খাবার খান।

কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এই কারাগারে ২ হাজার ৬০০ বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪২৬ জন ফাঁসির এবং ৪০৮ জন যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়া আসামি রয়েছেন। ঈদের আগের দিন অসহায় বন্দিদের মধ্যে ৪০টি লুঙ্গী-গামছা, ৫০টি পাঞ্জাবি ও ৫০টি গেঞ্জি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কারাগারে ঈদের নামাজের জন্য ১৭টি জামাতের আয়োজন করা হয়।

বন্দিদের খাবারের তালিকায় সকালে ছিল পায়েস ও মুড়ি; দুপুরে মাংস, পোলাও, সালাদ ও কোমল পানীয়, পান-সুপারি, মিস্টি এবং রাতে সাদা ভাত, রুই মাছ ও আলুর দম দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বন্দিদের অংশগ্রহণে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ কারাগারে উল্লেখযোগ্য বন্দিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, নড়াইলের সাবেক এমপি কবিরুল হক মুক্তি, সাবেক আইজিপি মো. শহিদুল হক, সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল হক বাবু, শাকিল আহমেদ।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১ এর সিনিয়র সুপার নজরুল ইসলাম জানান, তার কারাগারে ১ হাজার ২০৪ জন বন্দি রয়েছেন। এরমধ্যে শতাধিক ফাঁসি, অর্ধশতাধিক যাবজ্জীবনের আসামি রয়েছেন। এ কারাগারে বন্দিদের জন্য ঈদের তিনটি জামাতের আয়োজন করা হয়। খাবারের তালিকায় সকালে ছিল পায়েস ও মুড়ি; দুপুরে মাংস, পোলাও, সালাদ, পান সুপারি, মিস্টি ও কোমল পানীয়। আর রাতে সাদা ভাত, আলুর দম ও রুই মাছ। এ ছাড়া ঈদের আগে অস্বচ্ছল বন্দিদের মধ্যে ৬০টি লুঙ্গি ও ২৫টি পাঞ্জাবি বিতরণ করা হয়।

কাশিমপুর কারাগার পার্ট-২ এর সুপার মো. আল মামুন জানান, তার কারাগারে ৩ হাজার ৮০০ বেশি বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে শতাধিক ফাঁসি ও শতাধিক যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়া আসামি রয়েছেন। কারাগারে ঈদের সাতটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ ছাড়া সকালে বন্দিদের খাবারের তালিকায় ছিল পায়েস ও মুড়ি; দুপুরে মাংস, পোলাও, পান-সুপারি, সালাদ, মিস্টি ও কোমল পানীয় এবং রাতে সাদা ভাত, আলুর দম ও রুই মাছ। এ ছাড়া কারাগারের অসহায় ২০০ বন্দিকে শার্ট, ২০০ বন্দিকে পাঞ্জাবি ও ১০০ বন্দিকে লুঙ্গি দেওয়া হয়েছে। এ কারাগারে উল্লেখযোগ্য বন্দিদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, ছাগলকাণ্ডে জড়িত মো. মতিউর রহমান।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের জেলার শিরিন আক্তার জানান, এখানে ৬৪৪ বন্দি রয়েছেন। কারাগারে ডে-কেয়ার সেন্টারে বন্দিরে সঙ্গে ৩৩ জন শিশু রয়েছে। ফাঁসির আসামি রয়েছেন ৩৬ জন ও যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়া ৬৬ জন আসামি রয়েছেন।

এ কারাগারে উল্লেখযোগ্য বন্দিদের মধ্যে নারায়নগঞ্জের সাবেক মেয়র ডা. আইভি রহমান, সাবেক এমপি মমতাজ বেগম ও সাবিনা আক্তার তুহিন রয়েছেন। সকল নারী বন্দিদের লিপস্টিক, নেইল পলিশ, টিপ ও মেহেদী দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অসহায় ২১ বন্দিকে থ্রি-পিস ও শাড়ি দেওয়া হয়েছে।

শিশুদের কেক, মিষ্টি, চিপস, চকলেট ও বিশেষ খাবারের পাশাপাশি নতুন জামা দেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলার শিরিন আক্তার। তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে এ কারাগারে খাবারের তালিকায় সকালে ছিল পায়েস ও মুড়ি; দুপুরে মাংস, পোলাও, কোমল পানীয়, পান-সুপারি, সালাদ ও মিষ্টি এবং রাতে সাদা ভাত, আলুর দম ও রুইমাছ দেওয়া হয়েছে। বন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে আসা স্বজনদের রজনীগন্ধা স্টিক, জুস, চকলেট দেওয়া হয়েছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

রামিসার ডিএনএ রিপোর্ট তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেছে সিআইডি

Published

on

By

রাজধানীকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

শনিবার (২৩ মে) বিকেলে প্রতিবেদনটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মামলার চার্জশিট প্রস্তুতের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে রোববার (২৪ মে) আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া সম্ভব হতে পারে।

Continue Reading

আইন-শৃঙ্খলা

রামিসা হত্যা মামলার বিচার শুরু ঈদের পর: আইনমন্ত্রী

Published

on

By

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া গেলে ঈদের আগেই চার্জশিট দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

শনিবার (২৩ মে) রাজধানীতে লিগ্যাল এইড-সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে তিনি এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে আলোচনায় উঠে আসে রামিসা হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ বিষয়টি।

আইনমন্ত্রী বলেন, ডিএনএ রিপোর্ট ছাড়া চার্জশিট দিলে ভবিষ্যতে বিচার প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। রিপোর্ট পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত চার্জশিট দেবে, এবং সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের আগেই তা দাখিল করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, মামলার বিচার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং ঈদের ছুটির পরপরই আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হবে।

উচ্চ আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ার পর হাইকোর্টে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হলে পেপার বুক প্রস্তুতে অনেক সময় লাগে, যার ফলে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি বিলম্বিত হয়। এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর করার বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে শিশু রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং বাথরুম থেকে তার খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

এ ঘটনায় প্রথমে প্রধান আসামির স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়, পরে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে সে হত্যার ঘটনায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছে বলে জানা গেছে।

Continue Reading

top1

বিস্ফোরক আইনের মামলায় দেড় মাসের সন্তানসহ কারাগারে যুব মহিলা লীগ নেত্রী

Published

on

By


রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তার দেড় মাস বয়সী শিশুসন্তান থাকা সত্ত্বেও মানবিক দিক বিবেচনা করে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। দুপুর ২টার দিকে শিল্পী বেগমকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক শেখ নজরুল ইসলাম আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয় আসামি মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণাদি পাওয়া গেছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তেজগাঁও থানার রেলওয়ে কলোনি স্টেশন রোডের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।আসামি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে তদন্তে জানা যাচ্ছে। মামলাটির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলহাজতে আটক রাখা বিশেষ প্রয়োজন।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জামিন চেয়ে আবেদন করেন। তিনি আদালতকে জানান, আসামির ১ মাস ১৬ দিনের একটি সন্তান রয়েছে এবং সম্প্রতি তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। মানবিক বিবেচনায় যেকোনো শর্তে জামিন প্রার্থনা করেন তিনি। তবে শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালতের আদেশ ঘোষণার পর বিকেল ৩টা ১২ মিনিটে তাকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় বারান্দায় কান্নায় ভেঙে পড়েন শিল্পী বেগম। এ সময় তার কোলে দেড় মাস বয়সী শিশুসন্তানকে তুলে দেওয়া হয়। আদালতের বারান্দার বেঞ্চে বসেই তিনি সন্তানকে দুধ খাওয়ান। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই শিশুসন্তানসহ তাকে কারাগারে যেতে হচ্ছে। পরে শিশুকে কোলে নিয়েই তাকে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. তাহমিদ মুবিন রাতুলকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করা হয়।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে চানখাঁরপুল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন শিক্ষার্থী তাহমিদ মুবিন। চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নেয়ার পর সেখানেও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের আক্রমণের শিকার হন তিনি।মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় আসামি শিল্পীর নির্দেশে ১২০-১৩০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র, পিস্তল ও বোমা নিয়ে ভুক্তভোগীর বাসায় হামলা চালায়।

হামলায় পাঁচ লাখ টাকার আসবাব ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ভাঙচুর করা হয় এবং তিন লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়। ভুক্তভোগীর বাসার সামনে রাস্তার ওপর বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এছাড়া হত্যার উদ্দেশ্যে ছাত্রের পিতা মো. সোহেল রানাকে এলোপাথাড়ি মারধর করা হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়

Continue Reading

Trending