ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের আগমন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যালেন্ডার মোড়ক উন্মোচন, জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তি, আহত শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা, স্মার্ট আইডি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম, শহীদের কবর জিয়ারত সহ বিভিন্ন ইস্যুতে পার করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
পাঠকদের সুবিধার্থে আজকে (২ জুলাই) দিনব্যাপ ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া ঘটনাপ্রবাহ নিচে ধারাবাহিক দেয়া হলো।
মহাপরিচালকের আগমন:
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালককে ফুল দিয়ে বরণ
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ও আইন বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আব্দুস ছালাম খানের আগমনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান-২০২৫ আয়োজন করা হয়েছে। এসময় ইবিতে দেশের প্রথম ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্নার’ হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন তিনি।
এসময় শাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি শাখা ছাত্রদল শিবির ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।এসময় সংবর্ধিত অতিথি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আবদুস ছালাম বলেন, ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভার্নিং বডির সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত মোতাবেক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি।ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে দেশের প্রথম ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্নার’ হবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইসলামকে সমুন্নত রাখতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা চাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। যেহেতু এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ইসলাম নিয়ে কাজ কারার মতো অনেক ক্ষেত্র রয়েছেন। মানব উন্নয়নে কিছু ভালো দক্ষ শিক্ষার্থী আমরা গড়ে তুলতে চাই।’
শহীদ সাব্বিরের কবর জিয়ারত:
শহীদ সাব্বিরের কবর জিয়ারত ইবি শাখা সমন্বয়কদের
জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলেন সাব্বির হোসেন। ১৮ জুলাই ঢাকার উত্তরায় আজমপুরে আন্দোলনরত অবস্থায় পুলিশের গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন তিনি। তার বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার চড়িয়ারবিল এলাকায়। তার পিতার নাম আমোদ আলী, মা রাশিদা খাতুন।সকাল সাড়ে ৯টায় কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা জুলাই আন্দোলনে শহীদ সাব্বির হোসেনের কবর জিয়ারত করেন। এসময় তারা শহীদের মায়ের সাথে সাক্ষাৎ করেন ও পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। শহীদের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবির সমন্বয়ক এস এম সুইট, সহ-সমন্বয়ক ইয়াশিরুল কবির সৌরভ, তানভির মাহমুদ মন্ডল ও গোলাম রাব্বানীসহ অন্য নেতাকর্মীরা।
ক্যালেন্ডার মোড়ক উন্মোচন:
উন্মোচন করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন
২০২৫-২০২৬ খ্রিস্টাব্দের একাডেমিক ক্যালেন্ডারের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ তাঁর কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মোড়ক উন্মোচন করেন।
অভিযুক্ত সেই শিক্ষকের শাস্তির দাবি:
ভুক্তভোগীদের স্মারকলিপি প্রদান
যৌন হয়রানিসহ নানা অভিযোগ উঠা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আজিজুল ইসলামের শাস্তি নিশ্চিত করতে স্মারকলিপি দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।বিভাগে অভিযোগের পর এবার উপাচার্য বরাবর প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরিত অভিযোগ প্রদান করে তারা। উপাচার্যের কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি জমা দেন এবং অনতিবিলম্বে তাকে যথাযথ শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান। এর আগে গত (২২ জুন) বিভাগের প্রায় ২৪ জন শিক্ষার্থী ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলে অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই শিক্ষককে বিভাগের সব কার্যক্রম থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. একে এম নাজমুল হুদা।
জুলাই বিপ্লবে আহতদের বিশেষ অনুদান:
উপাচার্যের নিজস্ব ফান্ড থেকে জুলাই বিপ্লবে আহত মোট ১১ জন শিক্ষার্থীদের মাঝে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে।বিকাল ৪ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ে আহতর বিচারের বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ৫ হাজার ও ৬ হাজার করে মোট অর্ধ লক্ষ টাকা দেয়া হয়।এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, জুলাই বিপ্লবে যারা আহত হয়েছে সকলের প্রতি আমার বিনম্র শ্রদ্ধা এবং যারা শহীদ হয়েছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়’সহ সারাদেশে যারা জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণ করেছেন তাদের এই আত্মাত্যাগ প্রতি শ্রদ্ধা রাখতে বিন্দুমাত্র পিছ পা হবো না, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমি এই গ্যারেন্টি দিচ্ছি। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা যে অনুদান দিয়েছি তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য এবং যারা জুলাই বিপ্লবের অংশগ্রহণ করেছে আগামী দিনের তাদের জন্যও সুবিধার জন্য খেয়াল রাখবো এবং তারা সবসময় আমাদের বিবেচনায় থাকবে। জুলাই আগস্ট যেনো আমাদের আদর্শ হয়। পরিবর্তিত বাংলাদেশে জুলাই আগস্টের ত্যাগ ও আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করি।
স্মার্ট আইডি কার্ড বিতরণ:
রেডিও ফ্রিকোয়েন্সী আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) প্রযুক্তি যুক্ত স্মার্ট আইডি কার্ড উদ্বোধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের তৃতীয় তলায় আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ৫০ জন শিক্ষার্থীদের এই স্মার্ট আইডি কার্ড প্রদান করা হয়। তবে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অবশিষ্ট শিক্ষার্থীদের হাতে স্মার্ট কার্ড তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি:
শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে শপথ নিচ্ছেন
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখার উদ্যোগে জুলাই বিপ্লবে শহীদদের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দোয়া মাহফিল ও মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।বিকাল ৫ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচি শুরু করেন তারা। মাসব্যাপী ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে প্রায় দুই হাজার গাছ রোপণ করবেন বলে জানা যায়।
২৪-এর জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান এবং বীর শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের পুণ্যভূমি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) রাজনীতি ও প্রশাসনে এক নতুন ও রহস্যময় মোড় নিয়েছে। পতিত স্বৈরাচারের দোসর এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে প্রকাশ্য ও গোপনে বিরোধিতা করা চরম আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা শুধু যে আত্মগোপনে আছেন তা নয়; বরং তাদের একটি বড় অংশ খোলস পাল্টে বর্তমান প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নিয়ে ক্যাম্পাসে পুনর্বাসিত হচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।কেউ রয়েছেন দায়িত্বে ত কেউবা খোলসে আড়ালে রয়েছেন।
ক্যাম্পাস ও শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভ, জাতীয় গণমাধ্যম এবং নির্ভরযোগ্য গোপন তথ্যানুযায়ী বেরোবির বিতর্কিত ও তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বর্তমান অবস্থানের সর্বশেষ চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো।
শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভ ও রক্তক্ষয়ী জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বেরোবির চরম আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সংগঠন ‘নীল দল’-এর দুই বারের সাবেক সভাপতি ড. নিতাই কুমার ঘোষকে কলা অনুষদের ডিন হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বর্তমান প্রশাসন । এছাড়াও ঐ সময়ের পরিবহন পরিচালক এখন হল প্রভোস্টও রয়েছে।
২৪ এর চরম উত্তালের সময় প্রশাসনের সাথে সরাসরি যুক্ত থেকে শিক্ষার্থীদের বিরোধিতা করেছেন ঐ সময়ের পুরো প্রক্টরিয়াল বডি।যার মধ্যে শুধু দায়িত্ব পালনের ব্যর্থতা হিসেবে প্রক্টর শরিফুল ইসলাম কে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি কারাগারে রয়েছেন। বাকি সহকারী প্রক্টরগন ৫ আগষ্টের পর পরেই আবার প্রশাসনের বিভিন্ন দায়িত্ব পেয়েছেন। এর মধ্যে জুলাই আন্দোলনের সময় তৎকালীন প্রশাসনের সহযোগী হিসেবে কাজ করা তৎকালীন সহকারী প্রক্টর মো. ইসমাইল হোসেন (সহযোগী অধ্যাপক, গণিত বিভাগ) পটপরিবর্তনের পরও সম্পূর্ণ নিরাপদ ও বহাল তবিয়তে রয়েছেন । পেয়েছেন শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালকের দায়িত্ব ও।শোনা যায় বর্তমান উপাচার্যের (ভিসি) সরাসরি সাবেক ছাত্র হওয়ার সুবাদে এই সুবিধা পেয়েছেন বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।
এছাড়া জুলাই বিপ্লবের সময় ছাত্রদের চরম বিপদে পাশে না দাঁড়িয়ে স্বৈরাচারের পক্ষে দালালি করা তৎকালীন ছাত্র উপদেষ্টা, নীল দলের সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ারুল আজিম ৫ আগস্টের পর পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেও বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ ‘ধরাছোঁয়ার বাইরে’ চলে গেছেন।
এরই মধ্যে একাধিক গোপন সূত্রে জানা গেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে টেলিগ্রাম সিক্রেট গ্রুপের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর গোপন লিয়াজোঁ রক্ষাকারী বেরোবির ৭ জন শিক্ষকের তালিকায় তৎকালীন বহিরাঙ্গন পরিচালক ঐ সময়ের শিক্ষামন্ত্রী নওফেলের ঘনিষ্ঠ সাব্বীর আহমেদ চৌধুরীর নাম রয়েছে। যিনি জুলাই বিপ্লবের পর শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ে নিজেকে বাঁচাতে এক অভিনব কৌশল নিয়ে তড়িঘড়ি করে ক্যাম্পাস থেকে গা-ঢাকা দেন। এমফিল করার অজুহাতে ঢাকায় অবস্থান করেন ১ বছর।এর পর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলে শাখা ছাত্রদল দৌড়ানি দেয় বলেও শোনা গেছে।
হাসিনাকে ফেরানোর ওই গোপন তৎপরতার তালিকায় থাকায় শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় নাম আসায় চরম আওয়ামীপন্থী শিক্ষক আসাদ মন্ডল ও ড. মশিউর রহমান রহমানকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তারা দুজনেই পলাতক রয়েছেন।এছাড়াও ঐ সময়ের বিভিন্ন দায়িত্ব প্রাপ্ত নীল ও হলুদ দলের বিভিন্ন শিক্ষকগন এখনো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন বলেন, আমরা এই বিষয়ে অবগত আছি।আমরা এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলেছি ফ্যাসিস্ট শিক্ষামন্ত্রী এর শিক্ষক সে ইতোমধ্যে প্রসাশনের কাছে গেছিলো আমরা তখন প্রতিবাদ করেছি। আমরা ছাত্রদল সবসময় ফ্যাসিস্ট এর দোসর যারা বিশ্ববিদ্যালয় সঠিক ভাবে পরিচালনা করতে দিচ্ছে না তাদের কে শাস্তি এর আওতায় আনার জন্য প্রশাসনকে বলেছি । আমরা দেখবো প্রসাশন কতটুকু ব্যাবস্থা নেয় প্রসাশন ব্যাবস্থা না নিলে আমরা তিব্র আন্দোলন গড়ে তুলবো। পাশাপাশি যারা সার্টিফিকেট জালিয়াতি করে চাকড়ি পেয়েছে তাদেকেও শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং চাকরিচ্যুত করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের নেতা শিবলী সাদিক বলেন,জুলাই বিপ্লবের আজ দীর্ঘ দুই বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক বিষয় হলো, শহিদ আবু সাইদের ক্যাম্পাস বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে এখনো ফ্যাসিস্টের দোসর শিক্ষকরা খোলস পাল্টে নানাভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আবু সাইদ বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করার জন্য জীবন দিলেও তার বিশ্ববিদ্যালয় এখনো ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়নি এটি সত্যিই অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এরই মধ্যে আমরা বিশ্বস্ত গণমাধ্যমের সূত্রে জানতে পেরেছি, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতজন শিক্ষক স্বৈরাচার হাসিনাকে পুনর্বাসনের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নামমাত্র তদন্ত কমিটি গঠন করলেও এখন পর্যন্ত এর কোনো দৃশ্যমান ফলাফল পাওয়া যায়নি।
আরো বলেন,এমতাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি—দ্রুত ফ্যাসিস্টের দোসর শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে তারা যদি কোনো প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালন করে থাকেন, সেসব পদ থেকেও তাদের অব্যাহতি দিয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড.ফেরদৌস রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়েয় প্রশাসনে ৫৫ টা পদ আছে । আমাদের তো ৫৫ জন শিক্ষক দরকার এখন কাওকে না কাওকে তো দায়িত্ব দিতে হবে। অনেকেই জাতীয়তাবাদী ফোরামের শর্ত পূরণ করেছেন এটা তাদের গনতান্ত্রিক অধিকার সারাজীবন যে কেও আওয়ামীলীগ এর রাজনীতি করবে এমন তো নয়। অনেক বড় বড় নেতারা তাদের রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করে এখন বিএনপি করেন। আমাদের সবাইকে নিয়েই চলতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় তো বন্ধ রাখা যাবে না ।
সারাদেশে নিষিদ্ধ সংগঠন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদল।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুর দেড়টায় বিক্ষোভ মিছিলটি ধর্মতত্ত্ব অনুষদ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনের ভবনের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
মিছিলে উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ, সদস্য সচিব রাফিজ আহমেদসহ ছাত্রদলের অন্যান্য নেতাকর্মীবৃন্দ।
এসময় তাদের ‘লীগ পাব যেখানে, ধোলায় হবে সেখানে’, ‘বাংলাদেশের প্রাণ, তারেক রহমান’, ‘ভারত যদি বন্ধু হও, শেখ হাসিনারে ফেরত দাও’, ‘ছাত্রলীগের আস্তানা, ভেঙে দাও গুরিয়ে দাও’, ‘ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘ফাঁসি, ফাঁসি, ফাঁসি চাই, খুনি হাসিনার ফাঁসি চাই’সহ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষক ও কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন অন্যায় অত্যাচার করেছেন তাদেরকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং চাকরিচ্যুত করতে হবে। সবার উদ্দেশ্যে বলতে চাই ফ্যাসিস্টের ঠিকানা বাংলাদেশের মাটিতে ও এই ক্যাম্পাসে হবে না, হবে না, হবে না।”
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্টের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃত্তি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০৫ নম্বর কক্ষে মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্টের বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ক্যাম্পাস ইউনিটের প্রতিনিধি মিশুক শাহরিয়ারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসবে ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের ক্যাম্পাস গার্ডিয়ান ও ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার অধীকারী। এছাড়া মোরাল প্যারেন্টিং পরিবারের ৬০ জন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
বৃত্তি অনুষ্ঠানে ‘নৈতিক সমাজ নিয়ে তরুণদের ভাবনা’ শীর্ষক উপস্থিত বক্তব্য প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। যেখানে মোরাল প্যারেন্টিং পরিবারের ৪০ জন মোরাল চাইল্ড অংশগ্রহণ করেন।
এসময় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী অন্তরা খাতুন বলেন, “সমাজ পরিবর্তন বড় কিছু দিয়ে নয়, একজন মানুষকে ভালোবাসা ও তার পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে শুরু হয়। আমার স্বপ্নের নৈতিক সমাজে মানুষ অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে, বিপদে পাশে দাঁড়াবে এবং অর্থনৈতিক অবস্থার ভিত্তিতে কাউকে বিচার করবে না। বিবেক ও নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকেই সবাই ভালো কাজ করবে।”
মোরাল প্যারেন্টিং পরিবারের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি মিশুক শাহরিয়ার বলেন, “মোরাল প্যারেন্টিং পরিবার একটি নৈতিক সমাজ গঠনের স্বপ্নে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের সংগঠন শুধু শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করে না, পাশাপাশি তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে ভাষা শিক্ষা, কম্পিউটার শিক্ষাসহ বিভিন্ন আত্মউন্নয়নমূলক কোর্স পরিচালনা করে। এছাড়া সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণে ‘স্বাবলম্বী প্রজেক্ট’-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এককালীন আর্থিক সহায়তা দিয়ে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। মোরাল প্যারেন্টিং পরিবারের হয়ে কাজ করতে পেরে ভালো লাগে।”
অনুষ্ঠানে ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক প্রদীপ কুমার অধিকারী বলেন, “একজন মানুষকে সাহায্য করলে হয়তো একটি জীবন বদলায়, কিন্তু একজন মানুষকে নৈতিক ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে বদলে যেতে পারে একটি সমাজ। মোরাল প্যারেন্টিং পরিবার একটি নৈতিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। নৈতিকতা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের বিষয় নয়, মানুষ হিসেবে আমাদের সবাইকে নৈতিক হতে হবে।”
প্রসঙ্গত, মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্ট একটি স্বেচ্ছাসেবী ও অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন। নৈতিক সমাজ গঠনের লক্ষ্য নিয়ে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের প্রতি দুই মাস অন্তর বৃত্তি প্রদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আত্মউন্নয়ন ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মোরাল প্যারেন্টিং পরিবারের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চারজন শিক্ষককে ক্যাম্পাস গার্ডিয়ান এবং একজন শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাস প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাস গার্ডিয়ান হিসেবে আছেন ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার অধিকারী, ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. ধনঞ্জয় কুমার, হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জাফর আলী এবং ফোকলোর অ্যান্ড সোস্যাল স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক মো. ফয়সাল হোসেন। শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মিশুক শাহরিয়ার।