Connect with us

ক্যাম্পাস

জুলাই বিপ্লব বিরোধী শিক্ষকদের পদোন্নতি, ক্ষুদ্ধ গোবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

Published

on

গোবিপ্রবি প্রতিনিধি

জুলাই গণহত্যায় সরাসরি সমর্থন ও আন্দোলনকারীদের রাজাকার বলে দেশ ছাড়ার হুমকি প্রদানকারী শিক্ষকদের জুলাই মাসে পদোন্নতি দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) এর শিক্ষার্থীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুলাই অফিস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সিলেকশন বোর্ডের সুপারিশে রিজেন্টবোর্ডের ৪০ তম সভায় শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া হয়। যার মধ্যে দুইজন বিতর্কিত শিক্ষক বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাকিয়া সুলতানা মুক্তাকে সহযোগী অধ্যাপক ও বিজিই বিভাগের প্রভাষক ইমদাদুল হক সোহাগকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলন চলাকালে সরাসরি বিরোধিতার অভিযোগ রয়েছে। জুলাই মাসে তাদের পদোন্নতি দেওয়ায় জুলাই শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানি হিসেবে দেখছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ কোটা বিরোধী আন্দোলনে সারাদেশের শিক্ষার্থীরা যখন একীভূত তখন স্বৈরাচার শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে কঠোর দমন পীড়ন শুরু করে। সেখানে বৈষম্যহীন দেশ গড়ার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে থাকার কথা থাকলেও কিছু শিক্ষক স্বৈরাচারের দালালিতে ব্যস্ত ছিল। তাদের মধ্যে অন্যতম ভূমিকা পালন করে বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাকিয়া সুলতানা মুক্তা, যিনি শিক্ষার্থীদের রাজাকার বলে দেশ ছাড়ার হুমকিসহ বিভিন্ন ধরনের কটুক্তি করেন। পদোন্নতি পাওয়া অপরজন হলেন বিজিই বিভাগের প্রভাষক ইমদাদুল হক সোহাগ, যার বিরুদ্ধে শেখ রাসেল হলের প্রভোস্ট থাকা অবস্থায় দাড়ি রাখলে হল থেকে বের করে দেওয়া ও সাতক্ষীরা জামাতের এলাকা বলে শিক্ষার্থীকে মার্ক শূন্য দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয় ধর্ম ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারবে কিন্তু সংস্কৃতি ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারবে না সহ বিভিন্ন উক্তির মাধ্যমে ধর্ম অবমাননারও অভিযোগ তুলেছে শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠন) সহ-সভাপতি থাকা অবস্থায় বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ছাত্রীদের ধর্ষনের হুমকি দেওয়ায় সংবাদের শিরোনামও হতে হয়। এমনকি জুলাই গণহত্যা চলার সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নাম, পরিচয়, ঠিকানা দিয়ে সহায়তার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী ওবাইদুল ইসলাম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরাসরি বিরোধিতা করার পরেও দুইজন শিক্ষক কীভাবে পদোন্নতি পেতে পারে! এটা আমাদের সাথে তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়। স্বৈরাচারমুক্ত এই ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও আমরা তাদের ন্যূনতম অনুশোচনার লেশমাত্র দেখতে পাইনি। আর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির দুইটি গ্রুপ ছিল। এই দুই গ্রুপই ‘চেতনার বীজ’ বপন করে, ফ্যাসিবাদের বৈধতা দিয়ে চলেছে দীর্ঘদিন ধরে। এখনও সেই ধারাবাহিকতা চলমান। যে শিক্ষক সরাসরি ছাত্রদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে, ‘চেতনার ব্যবসা’ করতে পারে, তার পদোন্নতি এই পবিত্র জুলাই আন্দোলনকে অপমান করেছে। ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি থেকে আজ সে সহযোগী অধ্যাপক! বাহ! নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে যার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারিসহ একাধিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, সে কখনোই শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করার ন্যূনতম যোগ্যতাও রাখে না।”

তিনি আরও বলেন,”৫৬ হাজার বর্গমাইলজুড়ে যখন কোটা আন্দোলনে একের পর এক লাশ পড়ছিল, তখন এই শিক্ষকরাই ছাত্রদের কটাক্ষ করে পোস্ট করেছে, হুমকি দিয়েছে। আমরা জুলাই আন্দোলনে যারা সরাসরি বিরোধিতা করেছে, তাদের তালিকা কয়েক মাস আগেই জমা দিয়েছি। তারপরও কীভাবে তারা পদোন্নতি পায়? আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই অবিলম্বে এই পদোন্নতি বাতিল করে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে, এই ক্যাম্পাসে আবারো ‘জুলাই’ নেমে আসবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সভাপতি বলেন,”২৪ পরবর্তী সময়ে এমনটা দুঃখজনক। এটা ২৪ এর শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানী ছাড়া আর কিছুই নয়। উনারও হয়তো ভুলে গেছেন, উনারা ২৪ এর রক্তের উপর দাঁড়িয়ে দায়িত্বে এসেছেন।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান বলেন, “আমার অজান্তেই এটা হয়েছে কারণ হায়ার বোর্ডে আমাকে রাখা হয়নি যার ফলে ভাইভার সময় আমি ছিলাম না। আর দুই একজন চালাকি করে তাদের নাম ঢুকিয়ে দিয়েছে। এ বিষয়ে উপাচার্যের সাথে কথা হয়েছে আমরা ব্যবস্থা নিব, তবে সোমবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।”

তবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন,” বাংলা বিভাগের একজন শিক্ষিকাকে নিয়ে অভিযোগ হচ্ছে, তাকে প্রমোশন দেওয়া হয়েছে আরো একবছর আগে, যেহেতু গত একবছর রিজেন্টবোর্ড হয়নি তাই বর্তমানের রিজেন্টবোর্ডে আগের রিকমেন্ডেশন কার্যকর করা হয়েছে। আর তার বিরুদ্ধে কোনো বডির মাধ্যমে আমরা

লিখিত পাইনি যে তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিও মূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হোক। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। আর তারা এখানে প্রতিদিন আসে, ক্লাস নেয়, ক্যাম্পাসে ঘোরাফেরা করতেছে সেক্ষেত্রে তারাতো কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে না। এক্ষেত্রে আমরাতো বাধা দিতে পারিনা, তাহলে আমাদের নামে কেস হয়ে যাবে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা ঢালাও যে লিখিত অভিযোগ দিছে তাতেতো আর প্রমাণ হয় না সে অপরাধী। প্রমানিত যখন হবে তখন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ক্যাম্পাস

‘জুলাই ভয়াল স্মৃতি ও আগস্টের বিজয়’

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের পরে দেশের প্রথম প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ জুলাই চব্বিশের আন্দোলনে সরব ও সতর্ক ছিলেন। ছাত্র জনতার নেতৃত্বে আন্দোলনে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। সেই সময় শিক্ষার্থীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মহাসড়কে সক্রিয় অবস্থান নেন।

জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই অবিনাশী চেতনা স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় “জুলাই স্মৃতিকথা” নামে একটি স্মারক প্রকাশিত হয়। যার— সম্পাদনায় ছিলেন, অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান, অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান, জুলাই যোদ্ধা এস এম সুইট, সাদিক আহমদ, ইমতিয়াজ আহমেদ ইমন ও চয়ন হোসেন।

‘জুলাই স্মৃতিকথা’ স্মারকে ৫৩টি শিক্ষক-শিক্ষার্থীর লেখা স্থান পেয়েছে। তন্মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদের লেখা ‘জুলাইয়ের ভয়াল স্মৃতি ও আগস্টের বিজয়’ পাঠকদের সুবিধার্থে ইবি প্রতিনিধি হুবহু তুলে ধরেছেন।

বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস জুলাই গণ-অভ্যুত্থান। যে ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী আমার মতো লাখো জনতা। শাসক যখন রক্তের নেশায় মেতে ওঠে, তার করুণ পরিণতি আমরা বইয়ের পাতায় পড়েছি কিন্তু আজ আমরাই এক নতুন ইতিহাসের জনক। নতুন ইতিহাস রচনার লক্ষ্যে সেই ভয়াল সফরের দিনগুলো আজও নাড়া দেয়। কত অনিশ্চয়তা, কত নির্ঘুম নির্বাসিত রাত, সহস্র ঘণ্টার মানসিক চাপ আমরা পার করে এসেছি। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতন আন্দোলনের আগে গত ১৬ বছরে যে জুলুম নির্যাতন হয়েছে তা আজও আমাকে তাড়িত করে। দেশের এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে মাঝে মাঝে অবিশ্বাস্য মনে হয়। একটা কালো শক্তির হাতে বাংলাদেশ বন্দী হয়ে গিয়েছিল। কণ্ঠস্বর থেমে গিয়েছিল মুক্তিকামী মানুষের। ঘরে ঘরে চাপা আর্তনাদ।

ইলিয়াস আলী সহ নাম না জানা হাজারো মানুষ হাসিনার ফ্যাসিবাদের ছোবলে হারিয়ে গেছে। আজ সেই সব হারিয়ে যাওয়া বিপ্লবীদের কথা মনে পড়ছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে সহস্র মানুষ জীবন দিয়েছেন। আজ তারা আমাদের স্মৃতিপটে বেঁচে আছেন নিরবে।

২৪-এর জুলাই বিপ্লবের শুরুটা যেদিন হলো, আমরা ধারণা করিনি যে, এই আন্দোলন হাসিনার পতনের দিকে নিয়ে যাবে। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের মানুষ গণ্য করেননি। নির্বিচারে গুলি চালিয়ে সে গণহত্যা চালিয়েছে।

১৬ জুলাই, ২৪ এ আবু সাইদ, ওয়াসিম সহ ৫ জন শহিদ হলেন। তাদের উন্মুক্ত বুকে পুলিশ কাপুরুষের মতো গুলি চালালো। পরদিন মাগুরা, ঢাকা, কুষ্টিয়া, ফেনী, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে প্রায় ৫০ এর অধিক ছাত্র জনতা শহিদ হলেন। ওই সময় ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতাম। আমরা সরাসরি তাদের ব্যানারে দাঁড়াতাম না। এটা আমাদের কৌশল ছিল। আমাদের ছাত্রদলের সাধারণ কর্মীদের হাসিনার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা জাগরণে পাঠাতে লাগলাম। কঠিন সেই দিনগুলোতে ছিল গ্রেফতার আতঙ্ক।

পদে পদে ছাত্রলীগ, যুবলীগ সন্ত্রাসীদের হামলা, পুলিশ ও গোয়েন্দাদের অভিযানে আমরা তখন তটস্থ। বাড়ি থাকা যায় না। পরিচিত আত্মীয় স্বজনরা তাদের বাড়িতে আশ্রয় দিতেও সংকোচ করতেন। আমার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বেঞ্চে কয়েক ঘন্টা ঘুমাতাম। তারপরও নানা কৌশলে রাজপথে সক্রিয় থেকেছি। শিক্ষার্থীদের ব্যানারে কর্মসূচি শুরু হলে মাস্ক পরে তাতে অংশ নিতাম। অনেকেই চিনে ফেলতো। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাহস দিতাম। ক্যাম্পাসে সরাসরি যাওয়ার অবস্থা ছিল না। এজন্য বিভিন্ন পথ ঘুরে ক্যাম্পাসে আন্দোলনে অংশগ্রহন করতাম প্রিয় সহযোদ্ধাদের নিয়ে। পাশাপাশি ঝিনাইদহ শহরের আন্দোলন বেগবান করার কাজে মনোযোগ দিলাম। সারারাত জনমত তৈরির কাজ করতাম। সকাল হলেই রাজপথে।

ভয় ছিল। ছিল আতঙ্ক। আমরা জানতাম, এবার হেরে গেলে হাসিনা কাউকে বাঁচিয়ে রাখবে না। এই চিন্তা কেবল আমার একার ছিল না, এটাই সব আন্দোলনকারীদের মনোভাব ছিল। যে কারণে শত নির্যাতন সহ্য করেও আন্দোলনে হাল ছাড়েনি কেউ। পুলিশের গ্রেফতার আতঙ্ক মাথায় নিয়ে প্রতিটি মুহূর্ত কেটেছে।

সারাদেশে যখন ইন্টারনেট ব্যবহার বন্ধ করে দেয় ফ্যাসিস্ট সরকার, তখন আমরা একটা অন্ধকারে ডুবে যায়। সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে নির্বিচারে গণহত্যা চালায় হাসিনা। কোলের শিশু, গর্ভবতী নারী শ্রমজীবী মানুষ, কেউ হাসিনার পুলিশের হাত থেকে রেহাই পায়নি। হেলিকপ্টারে করে গুলি চালিয়েছে হাসিনার খুনি বাহিনী।

যেদিন ইন্টারনেট ফের সচল হয়, সেদিন থেকেই সারাদেশে আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। আমাকে গ্রেফতার করতে গ্রামের বাড়িতে বারবার পুলিশ অভিযান চালায়। দুর্বিষহ সেসব স্মৃতি আজও মনে হলে আঁতকে উঠি। তবে আমরা বারবার ভাবছিলাম, ছাত্ররা যেন আন্দোলন থামিয়ে না দেয়। আমরা সেই লক্ষ্যে যোগাযোগও রেখে যাচ্ছিলাম।

সর্বোপরি, ১ আগস্ট থেকে হাসিনা পতনের ১ দফার আন্দোলন শুরু হলে আমরা সর্বশক্তি দিয়ে রাজপথে নেমে পড়ি। বিশেষ করে, সকালের দিকে ক্যাম্পাসে এবং বিকালে ঝিনাইদহের রাজপথে আমি ও আমার স্থানীয় সহকর্মীদের নিয়ে প্রতিদিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখি। ৩ জুলাই থেকে সারাদেশে হাসিনার খুনি বাহিনী বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে। আগুন দেয় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হয় অসংখ্য রাজনৈতিক কার্যালয় ও বিএনপি নেতাদের বাড়ি।

আর এই ঘৃণ্য অপকর্মের মধ্য দিয়ে হাসিনা তার পতনের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয়। ৫ আগস্ট সর্বসাধারণের গণ বিস্ফোরণে হাসিনা তার মনিব রাষ্ট্র ভারতে পালিয়ে যায়। রচিত হয় নতুন বাংলাদেশের মাথা উচু করে ঘুরে দাঁড়ানোর এক নতুন ইতিহাস।

লেখক: সাহেদ আহম্মেদ, ইবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক

Continue Reading

ক্যাম্পাস

ছাত্রদল কর্মী পরিচয়ে হলের সিটের প্রলোভন দেখালেন রাবির সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী

Published

on

By

রাবি প্রতিনিধি
নিজ জেলার নবীন শিক্ষার্থীদের ছাত্রদল কর্মী পরিচয়ে হলের সিট সুবিধার প্রলোভন দেখানোর অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। গত ৯ জুন তিনি ‘আরইউ-৭৩ (ঝিনাইদহ)’ নামের একটি গ্রুপে এই প্রলোভন দেখিয়েছেন।

অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থীর নাম মাহির শাহরিয়ার তানিম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৫-২৬ বর্ষের নবীন শিক্ষার্থী।

তবে শাখা ছাত্রদল বলছে, তানিমকে তারা চিনেন না বা তাকে কখনো দেখেছেন কিনা সেটিও নিশ্চিত না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ক্যাম্পাসে আসার পর থেকেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় এবং শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুলের অনুসারী। গত ৯ জুন ‘ঝিনাইদহ রাবি-৭৩’ নামে একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে তানিম রহমান ফেসবুক আইডি থেকে একটি বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে লেখা ছিল, “যদি কেউ ছাত্রদলের রাজনীতিতে আগ্রহী থাকো বা জাতীয়তাবাদী পরিবারের হও, কিছুদিনের মধ্যে ফর্ম ছাড়বে, পূরণ করতে পারো। হল সুবিধাসহ বিভিন্ন সুবিধা পেতে পারো।” তার এই বার্তার বিরুদ্ধে সাথে সাথে প্রতিবাদ করেন গ্রুপে থাকা শিক্ষার্থীদের। যার প্রমাণও মেলে ওই স্ক্রিনশটে।

এ বিষয়ে ওই গ্রুপে থাকা দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, হ্যাঁ, মেসেজটি সে-ই (ছাত্রদল কর্মী তানিম) দিয়েছিল। মেসেজটি দেওয়ার সাথে সাথে এক শিক্ষার্থী প্রতিবাদও করেছিল। গ্রুপে রাজনৈতিক কোনো নোটিশ দিতে মানা করলে তানিম (অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী) দুঃখপ্রকাশও করে।

ওই গ্রুপে থাকা আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমি নিজেও মেসেজটি দেখেছি। সেখানে ছাত্রদল করলে হল সুবিধাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে বলে উল্লেখ ছিল। তবে কয়েকদিন পর তানিম মেসেজটি ডিলিট করে দেয় এবং পরে গ্রুপ থেকেও বের হয়ে যায়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে তানিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কোনো কিছু জানার থাকলে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে আছি। সরাসরি এসে আমার সাথে কথা বলেন। তবে প্রতিবেদক পরিবহন মার্কেটে এসে অভিযুক্তকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেয়নি।

তানিমের বিষয়ে জানতে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুলকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, আমি তানিমকে চিনিনা, তাকে কখনো দেখেছি কিনা সেটিও মনে পড়ছেনা। সংগঠন থেকে এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। আর আমাদের ছাত্রদলের ফর্ম ছাড়ার কোনো তথ্য বা নির্দেশনা নেই আপাতত, ফর্ম পূরণ করবে কীভাবে।

তানিমের অভিযোগের বিষয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন বকুল বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমি এ বিষয়টি দেখেছি। সে এ বিষয়টা অস্বীকার করেছে। তার আইডি হ্যাক হয়েছে বলে জেনেছি। আমি তার সাথে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলব।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

সত্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গোবিপ্রবি শিক্ষকের চাকরি বাতিল

Published

on

By

গোবিপ্রবি প্রতিনিধি :

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ইইই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা খাতুনকে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগে স্থায়ীভাবে চাকুরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

গত ২৩ জুন অনুষ্ঠিত ৪৩তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় তাঁর বিরুদ্ধে গঠিত সত্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন ও শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। রিজেন্ট বোর্ডের সর্বসম্মত মতামত অনুযায়ী, সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন ও নৈতিক স্খলনসংক্রান্ত অভিযোগে তিনি অভিযুক্ত হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার  মো: এনামুজ্জামান  স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে জানানো হয়, অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের গত ২৩/০৬/২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ৪৩তম রিজেন্ট বোর্ড সভার ৪৩/৬ নং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব ফাতেমা খাতুন এর বিরুদ্ধে গঠিত সত্যানুসন্ধান কমিটির রিপোর্ট এবং শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশ বিষয়ে রিজেন্ট বোর্ডে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় এবং রিজেন্ট বোর্ডের সকল সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে এই ঐকমত্যে পৌঁছান যে, তিনি সরকারি চাকুরিবিধি লঙ্ঘনসহ নৈতিক স্খলনজনিত (Moral Turpitude) অভিযোগে সন্দেহাতীতভাবে অভিযুক্ত।

এমতাবস্থায় উক্ত সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ২৩/০৬/২০২৬ তারিখ (৪৩তম রিজেন্ট বোর্ড অনুষ্ঠানের তারিখ) থেকে জনার ফাতেমা খাতুন (সহকারী অধ্যাপক, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, গোবিপ্রবি) কে বিশ্ববিদ্যাদয়ের শিক্ষক পদ হতে স্থায়ীভাবে চাকুরিচ্যুত করা হলো। অধিকন্তু বিশ্ববিদ্যালয় হতে তাঁর দ্বারা গৃহিত অর্থ বিধি মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয়কে ফেরাত দেওয়ার সিদ্ধান্তও গৃহিত হয়।

Continue Reading

Trending