Connect with us

top1

গাজীপুর-৬ আসনে কে এই হাফিজুর রহমান

Published

on

গাজীপুর, অক্টোবর ২০২৫: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৬ (টঙ্গী, গাছা ও পূবাইল) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বনামধন্য একাডেমিশিয়ান ও লেখক ড. হাফিজুর রহমান। প্রবাসফেরত এই তরুণ শিক্ষাবিদের প্রার্থিতা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ড. হাফিজুর রহমান তুরস্কের তোকাত গাজি ওসমান পাশা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন এবং সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং স্কলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন এবং পরে তুরস্ক সরকারের স্কলারশিপে পিএইচডি অর্জন করেন।
ছাত্রজীবনে তিনি টঙ্গীর তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার ছাত্র সংসদের ভিপি এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর উত্তর-এর সেক্রেটারি ছিলেন। তুরস্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ ফোরাম অব তুর্কি’র সভাপতি এবং জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিভাগের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

তার রচিত বই ‘এরদোয়ান: দ্য চেঞ্জ মেকার’, ‘আমার দেখা তুরস্ক’, এবং ‘ইসলামী রাজনীতি তত্ত্বে রাষ্ট্র ধারণা’ পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। লেখক, শিক্ষক ও খতিব হিসেবে তার পরিচিতি তাকে গাজীপুরের শিক্ষিত তরুণ সমাজে জনপ্রিয় করে তুলেছে।
ড. হাফিজুর রহমান বলেন, “তুরস্কে সম্মানজনক ক্যারিয়ার ছেড়ে আমি দেশে এসেছি গাজীপুরকে গড়তে। আমীরে জামায়াতের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমি দায়িত্ববোধ থেকে দেশে ফিরে এসেছি। গাজীপুর-৬ পরিবর্তনের প্রতীক হবে ইনশাআল্লাহ।” তিনি আরও বলেন, “আমার লক্ষ্য হলো ছিনতাই, ডাকাতি, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শ্রমিকদের জন্য ফ্রি ওষুধ সেন্টার চালু করা”।
সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ


ড. হাফিজুর রহমানের প্রার্থিতা গাজীপুরের শিক্ষিত তরুণ সমাজে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রার্থিতাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই তাকে জামায়াতের ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী হিসেবে অভিহিত করছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার মতো একাডেমিক ও নৈতিক নেতৃত্ব গাজীপুর-৬ আসনে নতুন ভোটধারার সূচনা করতে পারে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, “ড. হাফিজুর রহমান একজন সৎ, মেধাবী ও নীতিনিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রতীক। তার প্রার্থিতা নতুন প্রজন্মের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে।”
গাজীপুর-৬ আসনটি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের একটি নতুন সংসদীয় আসন, যা ২০২৫ সালে নির্বাচন কমিশনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে। এটি গাজীপুর জেলার অন্তর্গত এবং জাতীয় সংসদের ১৯৮ নম্বর আসন হিসেবে চিহ্নিত।

🗺️ সীমানা ও গঠন
গাজীপুর-৬ আসনটি গঠিত হয়েছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩২ থেকে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড এবং ৪৩ থেকে ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
গাজীপুর-৬ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা হলো ৫,৪০,২৫৪ জন।
টঙ্গী পূর্ব থানা, টঙ্গী পশ্চিম থানা, গাছা থানা, পূবাইল থানা

এই আসনটি মূলত গাজীপুর-২ ও গাজীপুর-৫ আসনের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয়েছে। আগে গাছা থানা ছিল গাজীপুর-২-এ এবং পূবাইল ছিল গাজীপুর-৫-এ। নতুন সীমানা অনুযায়ী এই দুটি থানা ও টঙ্গীকে একত্র করে গাজীপুর-৬ আসন তৈরি করা হয়েছে।

🗳️ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
গাজীপুর-৬ আসনের সৃষ্টি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। যেহেতু এটি একটি নতুন আসন, তাই এখানে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালে। ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নতুন প্রার্থী বাছাইয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

বিএনপি: এই আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাসান উদ্দিন সরকারসহ একাধিক প্রবীণ ও নবীন নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।
জামায়াতে ইসলামী: এই আসনে দলটি ড. হাফিজুর রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছে, যিনি একজন প্রবাসফেরত একাডেমিশিয়ান ও লেখক হিসেবে পরিচিত।
এনসিপি ও অন্যান্য দল: নতুন আসন হওয়ায় উন্নয়ন ও জনসেবার সুযোগকে সামনে রেখে বিভিন্ন দল এই আসনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

📈 গুরুত্ব ও সম্ভাবনা
গাজীপুর-৬ আসনটি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলসমূহ নিয়ে গঠিত হওয়ায় এটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জনসংখ্যা ও ভোটার সংখ্যার দিক থেকে এই আসনটি একটি হেভিওয়েট কনস্টিটুয়েন্সি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নতুন আসন হওয়ায় এখানে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

🗳️ ড. হাফিজুর রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি (গাজীপুর-৬)
🎯 মূল স্লোগান:
“গাজীপুর-৬ পরিবর্তনই আমাদের অঙ্গীকার”
📌 প্রধান অঙ্গীকার ও লক্ষ্যসমূহ:

শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন:

আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ
মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়
গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও সহায়তা

স্বাস্থ্যসেবা:
শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকায় ফ্রি ওষুধ সেন্টার চালু
সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর সেবার মানোন্নয়ন
মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ

আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা:
ছিনতাই, মাদক ও সন্ত্রাস দমনে কঠোর ব্যবস্থা
কমিউনিটি পুলিশিং ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি

অবকাঠামো উন্নয়ন:
রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ও পানির সমস্যা সমাধান
টঙ্গী, গাছা ও পূবাইল এলাকায় আধুনিক নগরায়ণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন

শ্রমিক কল্যাণ:
গার্মেন্টস ও শিল্প শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা
ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ
শ্রমিকদের জন্য আবাসন ও চিকিৎসা সুবিধা

যুব উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান:
কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন
উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও স্টার্টআপে সহায়তা
খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে পৃষ্ঠপোষকতা

ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা:
মসজিদভিত্তিক সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম
ইমাম ও আলেমদের মর্যাদা ও প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি
ধর্মীয় সহনশীলতা ও সম্প্রীতি রক্ষা

পরিবেশ ও নগর ব্যবস্থাপনা:
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন
সবুজায়ন ও খেলার মাঠ সংরক্ষণ
পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনা

🧭 ব্যক্তিগত অঙ্গীকার:
ড. হাফিজুর রহমান বলেন, “তুরস্কে সম্মানজনক ক্যারিয়ার ছেড়ে আমি এসেছি গাজীপুরকে গড়তে। আমার একাডেমিক অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক জ্ঞান ও নৈতিক মূল্যবোধ দিয়ে আমি গাজীপুর-৬ কে একটি মডেল আসনে রূপান্তর করতে চাই।

জামাত ইসলামি বাংলাদেশ দেশের যে সমস্ত আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে তার মধ্যে সর্বশেষ ছিল এইবার নির্বাচনে নতুন ঘোষণাকৃত আসন গাজীপুর-৬ এ ডঃ হাফিজুর রহমান। ইতি মধ্যে দলটির যে সকল আসনে প্রার্থীরা বিশেষ সাড়া জাগিয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম জামাতের আমিরের ফোনে দেশে ছুটে আশা এই প্রার্থী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছে এটি ছিল জামাতের মনোনয়নের অন্যতম ট্রামকার্ড। তারা আরো ধারণা করছে নির্বাচনে আগ দেয়া আরো কিছু বিশেষ আকর্ষণ আনবে এই দলটি।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

দিল্লিজুড়ে ধরপাকড়, দীপকে, নেহা, মমতা ও কেজরিওয়ালসহ আটক বহু নেতা

Published

on

By

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে রাজনীতিক, ছাত্রনেতা, অধিকারকর্মী ও অনলাইন কনটেন্ট নির্মাতাসহ বহু মানুষকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, ছাত্রনেতা নেহা বোরা, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। সাবেক ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকেও আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি রয়েছে আন্দোলনকারীদের। তাদের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন বলছে, ভোটার তালিকা যাচাইয়ের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এ সংশোধন করা হচ্ছে।

দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের যাতায়াত ঠেকাতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। যন্তর মন্তরে যাওয়ার পথে অনেককে আটক করে বাস ও ভ্যানে করে অস্থায়ী আটককেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যারিকেড বসানো, যানবাহনে তল্লাশি এবং মেট্রো চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

তবে আটক ব্যক্তির সংখ্যা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ভিন্নতা রয়েছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস শনিবার বিকেল পর্যন্ত দিল্লিতে প্রায় দুই হাজার মানুষকে আটকের কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, আগের দিন ককরোচ জনতা পার্টির এক মুখপাত্র দাবি করেছিলেন, দেশজুড়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। 

Continue Reading

top1

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, সড়ক অবরোধ পরীক্ষার্থীদের

Published

on

By

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে স্থগিত হওয়ার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পরীক্ষার্থীরা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) পরীক্ষা শুরুর নির্ধারিত সময়ের আগে এ সিদ্ধান্ত জানানো হলে ক্ষোভে সড়কে নামেন চাকরিপ্রার্থীরা। এতে কয়েকটি এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

সকাল ১১টায় অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (১১তম গ্রেড) পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসায় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করে।

এরপর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, সাতমসজিদ রোড, বাংলা কলেজ ও খিলগাঁওসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু করেন পরীক্ষার্থীরা। তারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার ব্যাখ্যা ও দায়ীদের জবাবদিহি দাবি করেন।

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অবরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করে শেরেবাংলা নগর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. লোকমান হোসেন বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আন্দোলনকারীরা আড়ং সিগনালে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেছেন।

তিনি জানান, আসাদগেট থেকে ধানমন্ডিগামী সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ধানমন্ডি থেকে আসাদগেটমুখী সড়কে অবস্থান নিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভের সময় চাকরিপ্রার্থীদের ‘প্রশ্ন ফাঁস হলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

May be an image of one or more people, crowd and text

কেন্দ্রে পৌঁছেও পরীক্ষা দিতে পারেননি প্রার্থীরা
পরীক্ষায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় এসেছিলেন হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী। নির্ধারিত কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিতের খবর পেয়ে তারা বিপাকে পড়েন। অনেকের অভিযোগ, আগে থেকে কোনো ঘোষণা না দিয়েই পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

রাজধানীর মাদারটেকের এ আজিজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসা ঈমান জানান, তারা কেন্দ্রে প্রবেশ করে নির্ধারিত আসনে বসার পর পরিদর্শক এসে জানান, পরীক্ষা হবে না। কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করেছে।

কেন পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে না, তা জানতে চাইলে ঈমান মোল্লা বলেন, কেন্দ্র থেকে কোনো কারণ জানানো হয়নি। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে তারা শুনেছেন। তিনি ফরিদপুর থেকে পরীক্ষা দিতে ঢাকায় এসেছিলেন।

একই কেন্দ্রের আরেক পরীক্ষার্থী মো. তামিম জানান, তাদের কেন্দ্রেও একইভাবে পরীক্ষা স্থগিতের কথা জানানো হয়।

পরীক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ৩০০টি পদের কথা উল্লেখ ছিল। এসব পদের বিপরীতে সারা দেশ থেকে লক্ষাধিক প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন তারা।

জানা গেছে, রাজধানীর কয়েকটি কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র বিতরণের পর পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ দিকে মানিক মিয়া এভিনিউতে রাস্তা অবরোধকারীদের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়েছে।

দাবিগুলো হলো:

১. প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

২. দূর থেকে পরীক্ষা দিতে আসা পরীক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে

৩. আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষা নিতে হবে

দাবি বাস্তবায়নের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, আমরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা কিছু দাবি জানিয়েছে। আন্দোলনকারীদের বাইরে কেউ যেনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয় খেয়াল রাখা হচ্ছে।

Continue Reading

top1

দিল্লিতে বিক্ষোভের আগেই আটক ককরোচদের শীর্ষ নেতারা

Published

on

By

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে ধরপাকড় শুরু করেছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির পুলিশ।

ইতোমধ্যে দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, ইউটিউবার ও ইনফ্লুয়েন্সার ধ্রুব রাঠিসহ আরও কয়েক নেতাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। এ ছাড়া বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা প্রায় হাজার মানুষকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।

এক প্রতিবেদনে রয়টার্স বলছে শনিবার সকালে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়। এ ছাড়া দলের দুই সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকা এবং আইন সহায়তা বিভাগের প্রধান রত্না সিংকেও আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

অপরদিকে সিজেপির সেই কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়া ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে শনিবার ভোরে রাজধানী সংলগ্ন শহর গুরুগ্রাম থেকে আটক করেছে পুলিশ।

একইভাবে বিক্ষোভে যোগ দিতে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা প্রায় ১ হাজার জনকে আটক করার কথা জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইয়ের বরাতে জানা গেছে, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ঠেকানোর কথা বলে এই পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ।

ভারত, দিল্লি, বিক্ষোভ, ককরোচ জনতা পর্টি, সিজেপিমুম্বাই থেকে শনিবার সকালে দিল্লিতে পৌঁছান ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরই পুলিশ তাকে আটক করে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আটকের ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

আটকের আগে দীপকে জানিয়েছিলেন, কারাগারে যেতে হলেও কিংবা জাতীয় নিরাপত্তা আইনে অভিযুক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও তাদের আন্দোলন থামবে না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তা

এদিকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান জন্তর মন্তরসহ দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগে বিধিনিষেধ, একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং ট্রেন চলাচলে বিঘ্নের খবরও পাওয়া গেছে। ফলে বিক্ষোভে অংশ নিতে আসা ব্যক্তিদের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ

ককরোচ জনতা পার্টির এবারের আন্দোলনের মূল দাবি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। সংগঠনটির অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে ক্ষমতাসীন বিজেপির পক্ষে প্রভাবিত করা হচ্ছে। তবে ভারতের নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি- দুই পক্ষই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করা সংগঠনটি বেকারত্ব, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সরকারের জবাবদিহির মতো ইস্যুতে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এবার নির্বাচনি স্বচ্ছতার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে তারা।

এদিকে বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন ককরোচ জনতা পার্টি ও বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনকে ‘নৈরাজ্যবাদী’ কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছেন, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে।

বিক্ষোভের আগেই আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের আটক এবং শত শত মানুষকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার ঘটনায় দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

Continue Reading

Trending