Connect with us

রাজনীতি

৩৪৮ আসন দাবি শরিকদের, বিপাকে জামায়েত

Published

on

৮ দলের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হতে পারে দু-একদিনের মধ্যে। তবে শরিকদের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কটি আসনে ছাড় দেবে তা এখনো নিশ্চিত করে কেউ না বললেও ২২০ আসনের দাবিকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না দলটি। ৮ দলের সঙ্গে আসন সমঝোতায় আরও ২-৩টি দলের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারাও বেশকিছু আসন দাবি করছে। এসব মিলিয়ে ৩৪৮ আসন দাবি করছে জামায়াতের শরিকরা। জামায়াতের দায়িত্বশীল একটি সূত্র যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জামায়াতের নেতৃত্বাধীন সমমনা ৮টি ইসলামি দলের মধ্যে আসন সমঝোতা এখনো সম্পন্ন হয়নি। দলগুলোর নেতারা বলছেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির শাহাদতের কারণে অনেক কিছুই রুটিনমাফিক করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের লন্ডন সফর এবং লিয়াজোঁ কমিটির অন্যতম শীর্ষ নেতা ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের ওমরাহ পালন করতে যাওয়ায় আসন সমঝোতার বিষয়ে বৈঠকগুলো সময়মতো করা সম্ভব হয়নি। অন্যথায় গত সপ্তাহেই বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যেত বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক নেতা জানিয়েছেন।

প্রায় এক বছর আগে ৩০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে ভোটের মাঠে কাজ শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামী। পরে ৫ দফার আন্দোলন কেন্দ্র করে সমমনা আরও সাতটি ইসলামি দল জামায়াতের সঙ্গে এক ছাতার এক মঞ্চে আসে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলো একক প্রার্থী দিতে একমতও হয়। তবে আসন সমঝোতার বিষয়ে দলগুলো মাঠ জরিপের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে চায়। এজন্যই কোন আসনে কার কী জনপ্রিয়তা তার একটি মূল্যায়ন রিপোর্ট তৈরি করতে প্রত্যেক দলকেই বলা হয়। ইতোমধ্যে মাঠ জরিপের রিপোর্টও জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

মাঠ জরিপের ভিত্তিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১২০টি আসন দাবি করে। অন্য ৬ শরিক দল খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি-বিডিপি মিলে দাবি করে আরও ১০০টি আসন। সব মিলিয়ে জামায়াতের শরিক ৭ দল ২২০ আসন দাবি করে। তবে এ বিষয়ে জামায়াত কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এইচএম হামিদুর রহমান আযাদ যুগান্তরকে বলেন, আমাদের আসন সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনের উদ্যোগের সঙ্গে একমত হয়ে আরও ২-৩টি সমমনা ইসলামি দল আমাদের সঙ্গে আসতে চাচ্ছে। তাদেরও বেশকিছু আসনের দাবি আছে। তিনি বলেন, আগের ৭ দল আর নতুন তিন দল মিলিয়ে তাদের যে আসনের ডিমান্ড তার সংখ্যা সর্বসাকুল্যে ৩৪৮টি। অথচ পার্লামেন্টে মোট আসন সংখ্যাই ৩০০। আবার আমাদেরও তো প্রার্থী আছে। সব মিলিয়ে শরিকরা যত আসন দাবি করেছেন তা তাদের মতো করে চাওয়ার জন্য চেয়েছেন। আসন সমঝোতার বিষয়ে আমাদের নিজেদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত আছে। আমরা সবাই উদার মন নিয়ে কাজ করছি। আশা করি দু-একদিনের মধ্যেই আমরা সমঝোতায় পৌঁছতে সক্ষম হবো।

দলের অপর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব যোবায়ের জানান, কে কত আসন চেয়েছে সেটা বড় কথা নয়। আমরা ৮ দলকে বিজয়ী করতে চাই। এজন্য যাকে যেখানে দিলে পাশ করার সম্ভাবনা তাকে সেখানে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে আমরা নীতিগতভাবে একমত।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ওসমান হাদির মৃত্যুসহ কয়েকটি কারণে আমাদের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হয়নি। এজন্য আসন সমঝোতা দেরি হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, দু-একদিনের মধ্যে বিষয়টি চূড়ান্ত করতে পারব। তবে আসন সংখ্যার বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি এই নেতা। তিনি বলেন, আমরা ৮ দল একত্র হয়ে কাজ করছি। যাকে যেখানে দিলে ভালো করবে তাকে সেখানে দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে আমরা নীতিগতভাবে একমত।

তবে নির্ভরযোগ্য অপর একটি সূত্র বলছে, শরিকদের ২২০ আসনের দাবিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না জামায়াত। আবার নতুন শরিকদের ব্যাপারটাও একই। তবে সবাইকে একসঙ্গে রাখতে জামায়াত সর্বোচ্চ ছাড় দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছে। যদিও সেই সর্বোচ্চ ছাড় কতটি আসন তা এখনো স্পষ্ট নয়। দলটির নেতাদের মতে, শুধু চাওয়ার জন্য বা চাওয়া-পাওয়া নিয়ে রাজনীতি হয় না। একত্রে থাকতে হলে উদার মন থাকতে হবে। জামায়াতের এক নেতা বলেন, সংখ্যার ভিত্তিতে সমঝোতার পরিবর্তে সমঝোতা হতে হবে সম্ভাবনার ভিত্তিতে। সেক্ষেত্রে ৮ দলের শীর্ষ নেতাদের পাশ করিয়ে আনার বিষয়টি বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিতে হবে। জামায়াত এ বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিতে চায়।

 

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

ছাত্রদল নেতাসহ ১১৫ জন‌কে আসামি ক‌রে এন‌সি‌পির মামলা

Published

on

By

ঝিনাইদহে এন‌সি‌পি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় অব‌শে‌ষে মামলা নি‌য়ে‌ছে পু‌লিশ। ঘটনার পর ৭ঘণ্টা মামলা ন‌থিভূক্ত করার দা‌বি‌তে ঝিনাইদহ সদর থানায় নেতাকর্মী‌দের নি‌য়ে অবস্থান নেন এন‌সি‌পির কেন্দ্রীয় মূখ্য সংগঠক না‌সীরুদ্দীন পা‌টওয়ারী।

শুক্রবার রাত সা‌ড়ে নয়টার দি‌কে ‌ঝিনাইদ‌হের স্থানীয় এনসিপি নেতা তারেক রেজা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ইসলামী বিশ্ব‌বিদ্যালয় ছাত্রদলের আহবায়ক শাহেদ আহম্মেদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন, সাবেক সভাপতি এসএম সোমেনুজ্জামান সোমেন, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেলসহ ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১১৫ জনের নামে মামলা‌ করা হয়।

এদিকে মামলা রেকর্ডের পর ঝিনাইদহ থানা ঘেরাও করে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। এসময় থানার প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়ায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন তারা। এক পর্যা‌য়ে বিক্ষুব্ধ জেলা ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদলসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে থানার সাম‌নে জড়ো হয়ে নাসীরুউদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলার চেষ্টা করেন।

এসময় দলীয় নেতাকর্মীসহ নাসীরুউদ্দীন পাটওয়ারী থানার ভিতরে অবস্থান করাছিলেন। পুলিশ থানার প্রধান ফটকে গাড়ি দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সরে গেলে পুলিশ পাহারায় তিনি ঝিনাইদহ ত্যাগ করেন। রাত সা‌ড়ে ১০টার দি‌কে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মী শহরের পায়রা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

ছাত্রদল ও যুবদ‌লের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করবেন। এ‌সময় নেতাকর্মী‌দের উ‌দ্দে‌শ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, জেলা যুবদলের সাধারণ আশরাফুল ইসলাম পিন্টুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

অপর‌দি‌কে মামলার ঘটনায় জেলা পুলিশের কর্মকর্তা‌দের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলে তারা এই ব্যাপা‌রে কোন মন্তব্য কর‌তে রা‌জি হন‌নি।

Continue Reading

রাজনীতি

নেতৃত্ব নিয়ে আশাবাদী, দুর্দিনের সহযোদ্ধাদের মূল্যায়ন চাই: ইবি ছাত্রদল নেতা

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

জুলাই বিপ্লবের পর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠিত হলেও দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর ধরে আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই চলছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। মনের আক্ষেপ থেকে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ বলেছেন, “যেহেতু আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে (২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর পরবর্তী সময়, জুলাই-আগষ্ট গণঅভ্যুত্থান) ভূমিকা, ডেডিকেশন, শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, ক্লিন ইমেজ, কর্মীবান্ধব ও ছাত্রত্ব—এগুলো মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হবে তাই নেতৃত্ব নিয়ে আমি আশাবাদী। দুর্দিনের সহযোদ্ধাদের মূল্যায়ন চাই।”

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম— নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে একথা লিখেন তিনি। নিচে তার স্ট্যাটাসটি হুবুহু তুলে ধরা হলো—

আগেই বলে রাখি গুপ্ত মানে সংখ্যা হ্রাস বৃদ্ধি না। রাজনীতি করা দোষের কিছু না কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বেশ ধরা মানে রাজনীতিকে কলঙ্কিত করা। রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করা কোন কৌশল না বরং কাপুরুষতা। যায় হোক মূল লেখনীতে আসি— যে সংগঠনকে ভালোবেসে, ধারণ করে জীবনের মহামূল্যবান সময় দিয়েছি তার নাম ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল,ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা’। হয়তো হতে পারতাম বাবা-মায়ের সেরা সন্তান, বোনের সেরা ভাই, ভাইয়ের কাছে সেরা ভাই। প্রতিবেশী, আত্মীয়, সমাজের কাছে সফল কেউ। শুভাকাঙ্ক্ষী, প্রিয়দের কাছে আরও প্রিয়। তবুও কোন আপসোস নেই। অনেক গর্বের সাথে পরিচয় দিতে পারি আমি “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল”—এর একজন নগন্য কর্মী। ২০২১ সালের ১৬ জুন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদিত হয়। দুর্দিনে কমিটিভুক্ত ৬-৭ জন সহ মোট ১৪-১৫ জন সহযোদ্ধারা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি; কমিটিভুক্ত ২৪-২৫ জন নিস্ক্রিয় থেকে যায়। ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে কমিটিভুক্ত সহযোদ্ধাদের সংখ্যা বেড়ে ৯-১০ জন হয়েছে।

তিনি আরও লিখেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের কমিটি নতুন করে অনুমোদিত হয়েছে; এমনকি আমাদের বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সমসাময়িক সকল কমিটিই পূর্ণাঙ্গ হয়েছে। অনেক জায়গায় আবারও কমিটি অনুমোদনের গুঞ্জন আছে। দুঃখের বিষয় আমাদের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয় নাই। যদি ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়েও পূর্ণাঙ্গ হতো তাহলে হয়তো নেতা ও কর্মীর মধ্যে প্রতিযোগিতা হতো না [দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়ায় যে কর্মী যে নেতার হাত ধরে রাজনীতিতে এসেছে সেই নেতা ও কর্মীর মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা] কর্মীরা পরিচয় পেতো, সংগঠনের প্রতি দায়বদ্ধতা বাড়তো, সংগঠন অনেকটা প্রাণ ফিরে পেতো।বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনের সময় বঞ্চিত হয়েছি তবে সংগঠন ছেড়ে কখনও নিস্ক্রিয় হয় নাই। একক প্রস্তাবিত সদস্য সচিব প্রার্থী থেকেও কাঙ্ক্ষিত পদবী না পেয়েও নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে সংগঠনের কাজ করে আসছি।আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক জনাব Tarique Rahman ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ সবার সব বিষয়ে অবগত আছেন। যেহেতু আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে (২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর পরবর্তী সময়, জুলাই – আগষ্ট গণঅভ্যুত্থান) ভূমিকা, ডেডিকেশন, শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, ক্লিন ইমেজ, কর্মীবান্ধব ও ছাত্রত্ব এগুলো মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হবে তাই নেতৃত্ব নিয়ে আমি আশাবাদী। দুর্দিনের সহযোদ্ধাদের মূল্যায়ন চাই।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৬ জুন তিন মাসের জন্য ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয় ইবি ছাত্রদলের। তবে চার বছর পার করলেও নতুন কমিটি গঠিত হয়নি, যা সংগঠনের কার্যক্রমে স্থবিরতা ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। সাহেদ আহম্মেদ (আহ্বায়ক) ও মাসুদ রুমী মিথুন (সদস্য সচিব) নেতৃত্বাধীন এ কমিটি ৩ মাস মেয়াদী হলেও বিবাহিত, অছাত্র ও নিষ্ক্রিয় সদস্য এবং নতুন নেতৃত্ব না আসায় বর্তমানে পুনর্গঠনের দাবি উঠেছে।

Continue Reading

রাজনীতি

বর্তমান সরকারের আমলে ৪৬৪ হত্যা ও ৬৬৬ ধর্ষণ মামলা হয়েছে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Published

on

By

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর (১৭ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশে ৪৬৪টি হত্যা মামলা এবং ৬৬৬টি ধর্ষণের মামলা করা হয়েছে। হত্যা মামলায় ৬০৪ জন ও ধর্ষণ মামলায় ৫৩০ জন আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরমধ্যে হত্যা মামলায় ১১ জন এবং ধর্ষণ মামলায় ৭১ আসামি জামিনে মুক্তি পেয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে এনসিপির সংসদ সদস্য (কুমিল্লা-৪) আবুল হাসনাতের (হাসনাত আব্দুল্লাহ) প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, হত্যা ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে দায়ী সকল আসামির কঠোর সাজা নিশ্চিত করার জন্য মামলাগুলো অত্যন্ত নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। যথাযথ সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে মামলাসমূহে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

জামায়াতের এমপি মো. মুজিবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, জমি দখল, চাঁদাবাজি ও অবৈধ কর্মকাণ্ড ঘৃণ্য অপরাধ, যা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দেশের উন্নয়নে সুষ্ঠু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অপরাধমুক্ত সমাজ ব্যবস্থার বিকল্প নেই। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার একটানা ১৫ বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকাকালে তাদের অনুগত সন্ত্রাসী বাহিনী ভূমি দখল, জল, বালু মহাল দখল, বিভিন্ন সেক্টরে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠে। বর্তমান সরকার এ সকল অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করায় অল্প সময়ের মধ্যে ভূমি দখল, চাঁদাবাজি এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার ফলে এ সকল অপরাধ অনেকাংশ হ্রাস পেয়েছে।

মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়ার প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশে ২ লাখ ১৮ হাজার ৫৫৪টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ পদ ২ লাখ ৭ হাজার ৭৪৫, নন-পুলিশ পদ ৮ হাজার ৪৭টি এবং নন-পুলিশ আউটসোর্সিং পদ ২ হাজার ৭৬২টি। এ ছাড়া নতুন করে সাড়ে ১৪৫০০ পদ সৃষ্টি হচ্ছে। এর মধ্যে এএসপি পদ ৫০০, এসআই (নিরস্ত্র) ৪ হাজার এবং ১০ হাজার কনস্টেবল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে ২৭০৩টি কনস্টেবলের শূন্যপদের বিপরীতে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া সরাসরি ২ হাজার এএসআই নিয়োগ করা হবে বলেও তিনি জানান।

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সারের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা বিধানে বদ্ধপরিকর। বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ পুলিশ বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং নানাবিধ পদক্ষেপের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করছে। এর ফলে জনগণের নিরাপত্তা বিধানসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর এমপি (চট্টগ্রাম-১৫) শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গুম কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে সংরক্ষিত আছে। নিখোঁজ বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বা ভুক্তভোগী পরিবারগুলিকে আইনি সহায়তাসহ সকল ধরনের সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।

Continue Reading

Trending