জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জুবায়েদ হত্যার প্রতিবাদে ও খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদল।
আজ রবিবার (১৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে সংগঠনটি। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রধান ফটক সংলগ্ন মহাসড়ক অবরোধ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তারা।
বিক্ষোভ মিছিলে ‘আমার ভাই মরলো কেন, ইন্টেরিম জবাব দে’, ’শিক্ষা সন্ত্রাস, একসাথে চলে না’, ’নিরাপদ ক্যাম্পাস, ছাত্রদলের অঙ্গীকার’, ‘উই ওয়ান্ট উই ওয়ান্ট, জাস্টিস জাস্টিস’, ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, খুনিদের ফাঁসি চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা।
এসময় শাখা ছাত্রদলের সদস্য-সচিব মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, ইন্টেরিম সরকারকে বলতে চাই— জুবায়েদ হত্যার সাথে জড়িতদের অতিদ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ খুনিদেরকে এখনো ধরা হয়নি। আমরা এই সরকারকে, এ প্রশাসনকে আর বেশি সময় দিবো না, অতি দ্রুত সাজিদের খুনিদের ও জুবায়েদ হত্যার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে ফাঁসি দিতে হবে।
মহাসড়ক অবরোধ করে বক্তব্য রাখেন নেতারা
এসময় ইবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বাহক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, আমরা জুলাই পরবর্তী একটি শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ চেয়েছিলাম কিন্তু এর পরিবর্তে একের পর এক ছাত্রদল নেতাদের হত্যা করা হচ্ছে। ঢাবির ছাত্রদল নেতা সাম্যকে হত্যার পর আজ জবিতে ছাত্রদল নেতা জুবায়েদকে হত্যা করা হয়েছে।জুবায়ের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যার ব্যাপারে তিনি বলেন, সাজিদ হত্যার ৩ মাস পেরোলেও এখনও বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসন খুনিদের খুঁজে বের করতে পারেনি। সাজিদের হত্যাকারীদের গ্রেফতার না করা অবদি আমরা রাজপথ ছেড়ে যাবো না।
দেশব্যাপী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় যে পরিকল্পিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতেছে তা পতিত স্বৈরাচার সরকারের কাজ। আমাদের সকলকে সর্বদা সজাগ থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা সাজিদ হত্যার বিচার চাই। অন্যথায় আমরা শাটডাউনের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। ইবি প্রশাসন বিচার করতে না পারলে তাদেরকে ক্যাম্পাসের আম বাগানে বা মেইন গেটের বাহিরে অফিস করতে হবে। আপনারা কোন জুজুর ভয়ে খুনিদের এখনো গ্রেফতার করছেন না তা ইবির ১৮ হাজার শিক্ষার্থীরা জানতে চায়।
হলে সিট বরাদ্দের ব্যাপারে অভিযোগ করে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট ৪ বিভাগ ব্যতীত আর কোনো বিভাগের শিক্ষার্থীরা ফাইনাল ইয়ারের থাকলেও সিট পায় না। হল প্রশাসন ও প্রভোস্ট আমাদের বারবার মেধার ভিত্তিতে সিট দেয়ার আশ্বাস দিয়েও তা রাখেনি।
ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম চালু ও সকল দাবি ও খুনিদের বিচার না হলে প্রশাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হবে বলে জানান আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত তিন ছাত্রদল নেতাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৫ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
অব্যাহতি দেওয়া তিন ছাত্রদল নেতা হলেন জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক চন্দন দাস, যুগ্ম আহ্বায়ক ঝলক দাস এবং যুগ্ম আহ্বায়ক রিপন চন্দ্র সরকার।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গতকাল রোববার (২৪ মে) সন্ধ্যায় জগন্নাথ হলের রবীন্দ্র ভবনের নিচে একটি চায়ের দোকানে পা তুলে বসাকে কেন্দ্র করে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী অভয় কুমার সিংহের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। ওই শিক্ষার্থী জানায়, হাঁটুতে সমস্যা থাকায় পা তুলে বসেছিলেন। পরে তিনি রুমে ফিরলে অভিযুক্তরা তার কক্ষে গিয়ে সংঘবদ্ধভাবে মারধর করেন এবং দোকানের দিকে আর না যাওয়ার হুমকি দেন।
এ ঘটনার পর কুমার সিংহ ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে একটি স্ট্যাটাস দেন। তিনি লেখেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ কক্ষে থাকা সত্ত্বেও তাকে এভাবে মারধর করা শুধু অমানবিকই নয়, এটি জগন্নাথ হলের মানবিক পরিবেশের জন্যও অত্যন্ত লজ্জাজনক। তিনি দোষীদের বিচার দাবি করেন।
‘বাঘের গর্জন নদীর বাঁকে, ঐক্য মোদের প্রাণের ডাকে’ এই স্লোগানকে ধারণ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) অধ্যয়নরত খুলনা জেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন এর ২০২৬-২০২৭ সেশনের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নবগঠিত কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল আলমকে সভাপতি এবং ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, সহ-সভাপতি শাহরিয়ার অনিক (ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ) ও তটিনী তারান্নুম (ফিশারিজ বিভাগ)। যুগ্ম সম্পাদক পদে রয়েছেন শাহ্ নেওয়াজ শেখ (মার্কেটিং বিভাগ), নাফিজ নেওয়াজ তূর্য (হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগ) এবং কৌশিক আহমেদ অভি (মার্কেটিং বিভাগ)। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এস. কে. নাহিদ হাসান (ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ) ও জিলকর নবাব (মার্কেটিং বিভাগ)।
এছাড়া কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তানজিম আহমেদ অভি (হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগ)। প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নাফিসা মৃদুলা (ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ) ও আসাদুল্লাহ আল গালিব (ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ)। দপ্তর সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ঐশ্বর্য মণ্ডল (আইন বিভাগ)।
এক বছরের জন্য গঠিত এ কার্যনির্বাহী কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত খুলনা জেলার শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাংগঠনিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংগঠনটির সদস্যরা।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) লালন শাহ হল প্রভোস্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পাচঁদিন অতিবাহিত হলেও প্রভোস্ট নিয়োগ দেননি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে হলের কার্যক্রম ব্যাহত এবং হাউস টিউটরের স্বাক্ষর নিয়েই চলছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, চলতি মাসের গত ১৪ মে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. গাজী মো. আরিফুজ্জামান খানের মেয়াদ শেষ হয়। নতুন প্রশাসনের রদবদলে সিদ্ধান্তহীনতায় আটকে আছে ওই পদটি।
সূত্র বলছে, চলতি মাসে মেয়াদ শেষ হওয়া প্রভোস্ট জামায়াতপন্থি হওয়ায় বর্ধিত মেয়াদে পুনরায় দায়িত্ব অর্পণ এবং নতুন করে যে কাউকে প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ দিতে সিদ্ধান্তহীনতায় আটকে আছে ওই হলের প্রভোস্ট পদটি। তবে আজকালের মধ্যে বিকল্প চিন্তা করছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একজন হলের হাউস টিউটরকে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে রুটিন দায়িত্ব দিতে পারে প্রশাসন।
জানতে চাইলে সদ্য মেয়াদ শেষ হওয়া প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. গাজী মো. আরিফুজ্জামান খান বলেন, “আমার মেয়াদ শেষ ১৪ তারিখ। প্রশাসন এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। পদটি আপাতত খালি আছে। কেন দেননি জানি না। প্রশাসন যেটা ভালো মনে করে সেটা মেনে নিব।”
এবিষয়ে জানতে চাইলে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “প্রশাসন যেটা ভালো মনে করেন সেভাবে সিদ্ধান্ত নিবেন। প্রক্রিয়া চলমান, দ্রুত ব্যবস্থা করা হবে।”