Connect with us

ক্যাম্পাস

‘জুলাই ভয়াল স্মৃতি ও আগস্টের বিজয়’

Published

on

ইবি প্রতিনিধি

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের পরে দেশের প্রথম প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ জুলাই চব্বিশের আন্দোলনে সরব ও সতর্ক ছিলেন। ছাত্র জনতার নেতৃত্বে আন্দোলনে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। সেই সময় শিক্ষার্থীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মহাসড়কে সক্রিয় অবস্থান নেন।

জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই অবিনাশী চেতনা স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় “জুলাই স্মৃতিকথা” নামে একটি স্মারক প্রকাশিত হয়। যার— সম্পাদনায় ছিলেন, অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান, অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান, জুলাই যোদ্ধা এস এম সুইট, সাদিক আহমদ, ইমতিয়াজ আহমেদ ইমন ও চয়ন হোসেন।

‘জুলাই স্মৃতিকথা’ স্মারকে ৫৩টি শিক্ষক-শিক্ষার্থীর লেখা স্থান পেয়েছে। তন্মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদের লেখা ‘জুলাইয়ের ভয়াল স্মৃতি ও আগস্টের বিজয়’ পাঠকদের সুবিধার্থে ইবি প্রতিনিধি হুবহু তুলে ধরেছেন।

বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস জুলাই গণ-অভ্যুত্থান। যে ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী আমার মতো লাখো জনতা। শাসক যখন রক্তের নেশায় মেতে ওঠে, তার করুণ পরিণতি আমরা বইয়ের পাতায় পড়েছি কিন্তু আজ আমরাই এক নতুন ইতিহাসের জনক। নতুন ইতিহাস রচনার লক্ষ্যে সেই ভয়াল সফরের দিনগুলো আজও নাড়া দেয়। কত অনিশ্চয়তা, কত নির্ঘুম নির্বাসিত রাত, সহস্র ঘণ্টার মানসিক চাপ আমরা পার করে এসেছি। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতন আন্দোলনের আগে গত ১৬ বছরে যে জুলুম নির্যাতন হয়েছে তা আজও আমাকে তাড়িত করে। দেশের এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে মাঝে মাঝে অবিশ্বাস্য মনে হয়। একটা কালো শক্তির হাতে বাংলাদেশ বন্দী হয়ে গিয়েছিল। কণ্ঠস্বর থেমে গিয়েছিল মুক্তিকামী মানুষের। ঘরে ঘরে চাপা আর্তনাদ।

ইলিয়াস আলী সহ নাম না জানা হাজারো মানুষ হাসিনার ফ্যাসিবাদের ছোবলে হারিয়ে গেছে। আজ সেই সব হারিয়ে যাওয়া বিপ্লবীদের কথা মনে পড়ছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে সহস্র মানুষ জীবন দিয়েছেন। আজ তারা আমাদের স্মৃতিপটে বেঁচে আছেন নিরবে।

২৪-এর জুলাই বিপ্লবের শুরুটা যেদিন হলো, আমরা ধারণা করিনি যে, এই আন্দোলন হাসিনার পতনের দিকে নিয়ে যাবে। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের মানুষ গণ্য করেননি। নির্বিচারে গুলি চালিয়ে সে গণহত্যা চালিয়েছে।

১৬ জুলাই, ২৪ এ আবু সাইদ, ওয়াসিম সহ ৫ জন শহিদ হলেন। তাদের উন্মুক্ত বুকে পুলিশ কাপুরুষের মতো গুলি চালালো। পরদিন মাগুরা, ঢাকা, কুষ্টিয়া, ফেনী, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে প্রায় ৫০ এর অধিক ছাত্র জনতা শহিদ হলেন। ওই সময় ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতাম। আমরা সরাসরি তাদের ব্যানারে দাঁড়াতাম না। এটা আমাদের কৌশল ছিল। আমাদের ছাত্রদলের সাধারণ কর্মীদের হাসিনার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা জাগরণে পাঠাতে লাগলাম। কঠিন সেই দিনগুলোতে ছিল গ্রেফতার আতঙ্ক।

পদে পদে ছাত্রলীগ, যুবলীগ সন্ত্রাসীদের হামলা, পুলিশ ও গোয়েন্দাদের অভিযানে আমরা তখন তটস্থ। বাড়ি থাকা যায় না। পরিচিত আত্মীয় স্বজনরা তাদের বাড়িতে আশ্রয় দিতেও সংকোচ করতেন। আমার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বেঞ্চে কয়েক ঘন্টা ঘুমাতাম। তারপরও নানা কৌশলে রাজপথে সক্রিয় থেকেছি। শিক্ষার্থীদের ব্যানারে কর্মসূচি শুরু হলে মাস্ক পরে তাতে অংশ নিতাম। অনেকেই চিনে ফেলতো। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাহস দিতাম। ক্যাম্পাসে সরাসরি যাওয়ার অবস্থা ছিল না। এজন্য বিভিন্ন পথ ঘুরে ক্যাম্পাসে আন্দোলনে অংশগ্রহন করতাম প্রিয় সহযোদ্ধাদের নিয়ে। পাশাপাশি ঝিনাইদহ শহরের আন্দোলন বেগবান করার কাজে মনোযোগ দিলাম। সারারাত জনমত তৈরির কাজ করতাম। সকাল হলেই রাজপথে।

ভয় ছিল। ছিল আতঙ্ক। আমরা জানতাম, এবার হেরে গেলে হাসিনা কাউকে বাঁচিয়ে রাখবে না। এই চিন্তা কেবল আমার একার ছিল না, এটাই সব আন্দোলনকারীদের মনোভাব ছিল। যে কারণে শত নির্যাতন সহ্য করেও আন্দোলনে হাল ছাড়েনি কেউ। পুলিশের গ্রেফতার আতঙ্ক মাথায় নিয়ে প্রতিটি মুহূর্ত কেটেছে।

সারাদেশে যখন ইন্টারনেট ব্যবহার বন্ধ করে দেয় ফ্যাসিস্ট সরকার, তখন আমরা একটা অন্ধকারে ডুবে যায়। সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে নির্বিচারে গণহত্যা চালায় হাসিনা। কোলের শিশু, গর্ভবতী নারী শ্রমজীবী মানুষ, কেউ হাসিনার পুলিশের হাত থেকে রেহাই পায়নি। হেলিকপ্টারে করে গুলি চালিয়েছে হাসিনার খুনি বাহিনী।

যেদিন ইন্টারনেট ফের সচল হয়, সেদিন থেকেই সারাদেশে আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। আমাকে গ্রেফতার করতে গ্রামের বাড়িতে বারবার পুলিশ অভিযান চালায়। দুর্বিষহ সেসব স্মৃতি আজও মনে হলে আঁতকে উঠি। তবে আমরা বারবার ভাবছিলাম, ছাত্ররা যেন আন্দোলন থামিয়ে না দেয়। আমরা সেই লক্ষ্যে যোগাযোগও রেখে যাচ্ছিলাম।

সর্বোপরি, ১ আগস্ট থেকে হাসিনা পতনের ১ দফার আন্দোলন শুরু হলে আমরা সর্বশক্তি দিয়ে রাজপথে নেমে পড়ি। বিশেষ করে, সকালের দিকে ক্যাম্পাসে এবং বিকালে ঝিনাইদহের রাজপথে আমি ও আমার স্থানীয় সহকর্মীদের নিয়ে প্রতিদিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখি। ৩ জুলাই থেকে সারাদেশে হাসিনার খুনি বাহিনী বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে। আগুন দেয় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হয় অসংখ্য রাজনৈতিক কার্যালয় ও বিএনপি নেতাদের বাড়ি।

আর এই ঘৃণ্য অপকর্মের মধ্য দিয়ে হাসিনা তার পতনের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয়। ৫ আগস্ট সর্বসাধারণের গণ বিস্ফোরণে হাসিনা তার মনিব রাষ্ট্র ভারতে পালিয়ে যায়। রচিত হয় নতুন বাংলাদেশের মাথা উচু করে ঘুরে দাঁড়ানোর এক নতুন ইতিহাস।

লেখক: সাহেদ আহম্মেদ, ইবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ক্যাম্পাস

বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্কলারশিপ খুঁজতে শাবিপ্রবি ছাত্রদল নেতার এআই প্ল্যাটফর্ম

Published

on

By

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ খোঁজা, আবেদনের যোগ্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় নথি তৈরির প্রক্রিয়া সহজ করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) ওয়েব প্ল্যাটফর্ম ‘স্কলারভাই ডটকম’ তৈরি করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামান। প্ল্যাটফর্মটিতে শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে বিভিন্ন সেবা নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

রাহাত জামান বিশ্ববিদ্যালয়ের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। প্ল্যাটফর্মটি তৈরিতে তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী তানভীর রহমান ও সংগঠনটির কর্মী ফরিদুল রেজা সাগর।

উদ্যোক্তারা জানান, প্রচলিত স্কলারশিপের তথ্যভান্ডারের বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্য ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) আপলোড করলে এআই প্রযুক্তি প্রয়োজনীয় তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি প্রোফাইল তৈরি করবে। পরে ওই প্রোফাইলের সঙ্গে বিভিন্ন স্কলারশিপের শর্ত মিলিয়ে শিক্ষার্থীর উপযোগিতা যাচাই করা যাবে।

প্ল্যাটফর্মটিতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা বিবেচনায় জিপিএ, সিজিপিএ, আইইএলটিএস স্কোর, পড়াশোনায় বিরতি এবং ব্যাংক ব্যালেন্সের মতো বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। কোনো স্কলারশিপের জন্য শিক্ষার্থীর প্রোফাইলে ঘাটতি থাকলে তা পূরণে প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেবে এআই ব্যবস্থা।

একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী নথি প্রস্তুতের সুবিধাও রাখা হয়েছে প্ল্যাটফর্মটিতে। এর ‘ডকুমেন্ট ওয়ার্কস্পেস’ সুবিধায় প্রতিটি আবেদনের জন্য আলাদা নথি ব্যবস্থাপনা করা যাবে। এ ছাড়া এআইয়ের সাহায্যে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রাম অনুযায়ী সিভি পরিমার্জনের সুযোগ রয়েছে। স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি) ও কাভার লেটারের খসড়া পর্যালোচনা করে সেগুলোর মানোন্নয়নে পরামর্শ দেবে ‘ডকুমেন্ট রেডিনেস স্কোর’ সুবিধা।

উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, প্ল্যাটফর্মটির ‘এআই প্রফেসর আউটরিচ’ সুবিধার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অধ্যাপকের নাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য দিলে তাঁর সাম্প্রতিক গবেষণার বিষয় খুঁজে বের করে তথ্যসূত্রসহ পেশাদার ই-মেইলের খসড়া তৈরি করা যাবে। পাশাপাশি স্কলারশিপভিত্তিক আবেদন নির্দেশিকা ও কমিউনিটি ফোরামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিশেষজ্ঞ ও সাবেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দিকনির্দেশনা নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

উদ্যোগের বিষয়ে রাহাত জামান বলেন, “শিক্ষার্থীদের অধিকার আর ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই আমাদের রাজনীতি। চীন সফর শেষে দেশে ফিরেই বিদেশে পড়তে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম করার ইচ্ছা ছিল। গত তিন মাস ধরে ওয়েবসাইটটি তৈরির কাজ করেছি।”

তিনি বলেন, শাবিপ্রবি ক্যাম্পাস থেকে এমন একটি বৈশ্বিক শিক্ষাবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

রাহাত জামান আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে সেবাগুলো নিতে পারবেন। তবে একটি জিমেইল আইডি দিয়ে একবারই লগইন করা যাবে। এ ছাড়া বিদেশে উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত শাবিপ্রবিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সপ্তাহে একটি বিনামূল্যের সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা ও স্কলারশিপ নিয়ে তাঁদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর পাবেন।

প্ল্যাটফর্মটির কারিগরি দিক তুলে ধরে উদ্যোক্তা দলের সদস্য ফরিদুল রেজা সাগর বলেন, একজন শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁরা বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্কলারশিপ খোঁজা, আবেদনের সঠিক নির্দেশনা পাওয়া এবং প্রয়োজনীয় নথি ব্যবস্থাপনার জটিলতা উপলব্ধি করেছেন। বিশেষ করে একাধিক স্কলারশিপে আবেদনের সময়সীমা মনে রাখা এবং এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে বারবার ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার বিষয়টি সময়সাপেক্ষ।

তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই দ্রুত সম্প্রসারণযোগ্য ও সহজে ব্যবহারযোগ্য ব্যবস্থাটি তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনা পেয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনপ্রক্রিয়া আরও সহজে সম্পন্ন করতে পারবেন বলে তাঁরা আশা করছেন।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

ইবিস্থ জয়পুরহাট জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির নেতৃত্বে ফরহাদ-আরাফাত

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জয়পুরহাট জেলা থেকে আগত শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘জয়পুরহাট জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি’র ২০২৬-২৭ কার্যবর্ষের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরাফাত সাঈদ মনোনীত হয়েছেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর ) সংগঠনটির উপদেষ্টা আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান ও কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের সভাপতি ড. তন্ময় সাহা জয় স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

নবগঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, সহ-সভাপতি জেরিন চৌধুরী, ফিরোজ হোসেন, মিনহাজুল আবেদিন রবি, নাহিদ ইসলাম ও তামিম ইসলাম, সহকারী সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম ও শাহাজান আহাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম, সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক কবির, শুয়াইব ও মেহেদী, অর্থ সম্পাদক আশিকুর রহমান, সহকারী অর্থ সম্পাদক নিশাদ, দপ্তর সম্পাদক সুমন, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মাইশা, প্রচার সম্পাদক আল-মামুন, ক্রিয়া সম্পাদক নোমান, নারী বিষয়ক সম্পাদক সানজিদা, সহকারী নারী বিষয়ক সম্পাদক আয়েশা, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হযরত আলী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তানভীর, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক রাবেয়া, আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান।

নব-মনোনীত সভাপতি ফরহাদ ইসলাম অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “এই দায়িত্বকে শুধু একটি পদ বা সম্মান হিসেবে নয়, বরং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করা, অসহায় ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং জয়পুরহাটের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখি।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের মূলমন্ত্র ঐক্য, শৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্ব। এই আদর্শকে ধারণ করে সংগঠনের প্রতিটি সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুশৃঙ্খল, মানবিক ও কার্যকর সংগঠন গড়ে তুলতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, নেতৃত্বের প্রকৃত সার্থকতা ব্যক্তিগত অর্জনে নয়, বরং সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও মানুষের কল্যাণে অবদানের মধ্যে নিহিত।”

Continue Reading

ক্যাম্পাস

চরামদ্দী ফ্রিজ কাপের ফাইনালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল ফুটবল টিম

Published

on

By

ববি প্রতিনিধি

চরামদ্দী ফ্রিজ কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে চরামদ্দী পিটিএফসিকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল ফুটবল টিম।

ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই গোল করে এগিয়ে যায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় দল। দলের হয়ে প্রথম গোলটি করেন কাজী সালমান। তার গোলে অ্যাসিস্ট করেন রুবেল হোসেন। পরে আবু হুরায়রা দ্বিতীয় গোলটি করেন, যেখানে অ্যাসিস্ট করেন আশিক খান। প্রথমার্ধে দুই গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে চরামদ্দী পিটিএফসি। এ সময় রাজু হোসেন একটি গোল করে ব্যবধান কমান। তবে বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল ফুটবল টিম।

ম্যাচ শেষে বিজয়ী দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান বলেন, “আমাদের দল অনেক ভালো খেলছে। তবে ম্যাচে রেফারির বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের আপত্তি ছিল। আমরা ফাইনালে আরও ভালো খেলা উপহার দিতে চাই।”

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় দলের ডিফেন্ডার শিপন সরকার বলেন, “বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল ফুটবল টিম আরও সুযোগ-সুবিধা পেলে ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে। দলের খেলোয়াড়দের সামর্থ্য রয়েছে। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে দল আরও এগিয়ে যাবে।”

বিপক্ষ দলের হয়ে গোল করা স্ট্রাইকার রাজু হোসেন বলেন, “আমরা ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। দ্বিতীয়ার্ধে গোল করে ব্যবধান কমালেও শেষ পর্যন্ত সমতা ফেরাতে পারিনি। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় দলকে অভিনন্দন জানাই। ভবিষ্যতে আমরা আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামব।”

এই জয়ের মধ্য দিয়ে চরামদ্দী ফ্রিজ কাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল ফুটবল টিম। এখন শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে ফাইনালের প্রস্তুতি নেবে দলটি।

Continue Reading

Trending