ঢাকা-৮ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। পোস্টে তিনি হামলাকে ‘পরিকল্পিত’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানান।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পরপরই হাসনাত আবদুল্লাহ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্টটি দেন।
পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, ‘আমার ভাই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের সামনে হামলা করেছে ছাত্রদল।ঢাকা-৮ আসনের এমপি প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিগত ফ্যাসিস্ট বিরোধী সময়ের বিপ্লবী যোদ্ধা।’
তিনি আরও লেখেন, ‘পাটওয়ারীদের এত ভয় পাওয়ার কারণ কী? বিরোধী মতকে সহ্য করতে না পেরে হামলে পড়ার চর্চা এত দ্রুত শুরু করলেন আপনারা! এটা কি আপনাদের প্ল্যানের অংশ?’
ভোটারদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে পোস্টে বলা হয়, ‘ঢাকা-৮ আসনের ভোটারগণ, এবার আপনারা সিদ্ধান্ত নিবেন। ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে শত কোটি টাকা বানানো, নেতা-কর্মীদের রক্তের উপর বসে আঁতাতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা ব্যক্তিদের ভোট দিয়ে সংসদে পাঠাবেন কিনা।’
এছাড়া সহিষ্ণুতা ও ন্যায়বিচারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি লেখেন, ‘যারা একজন এমপি প্রার্থীর প্রতি সহিষ্ণু আচরণ করতে পারে না, তারা কীভাবে জনগণের হকের প্রতি ইনসাফ করবে?’
পোস্টের শেষাংশে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, ‘প্রিয় দেশবাসী, গুন্ডা-পান্ডার অভিভাবকদের হাতে, লুটেরা-মাফিয়াদের হাতে আপনাদের ভবিষ্যতকে তুলে দিয়েন না। নিজেদের অধিকার ও নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় সচেষ্ট হোন।’
এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে একটি পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করা হয়। ঘটনার সময় ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় বলে ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী রোডের মৌচাক এলাকার একটি গলিতে পথসভা চলাকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর নোংরা পানি ও ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান সরকারের প্রথম ছয় মাসে এমন একটি ঘটনাও নাই, যেখানে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর পুলিশ অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, রংপুরে যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, যৌক্তিক সময়ের মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বিএনপির দোয়া মাহফিলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেছেন, ‘সরকারের ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। এই দায়িত্ব নেওয়ার পরে একটি ঘটনাও নাই, এমন কোনো অপরাধ নাই- যেটা সংঘটিত হওয়ার পরপরই পুলিশ অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। একটি ঘটনাও নাই, এটাই বর্তমান সরকারের কৃতিত্ব।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রামিসা হত্যা থেকে শুরু করে অনেক অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে। এতো অল্প সময়ে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করা উচিত হবে না।’
তিনি বলেন, ‘রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করি না। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হবে যারা জনপ্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে। পুলিশ বাহিনীকে শৃঙ্খলিত বাহিনীতে রুপান্তর করা হবে।’
সিঙ্গাপুর থেকে ভুটান যাওয়ার পথে ঢাকায় যাত্রাবিরতি করেছেন ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক। বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিমানবন্দরে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থানকালে ভিভিআইপি লাউঞ্জে দুই নেতা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করেন।
সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানান। জবাবে ভুটানের রাজাও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে ভুটান সফরের আমন্ত্রণ জানান।
এ সময় ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান। রাষ্ট্রপতিও বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান।
আলোচনায় দুই দেশের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। রাষ্ট্রপতি বলেন, ভুটান বাংলাদেশের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে আছে। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া বিশ্বের প্রথম দেশ ছিল ভুটান।
দুই দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে ভুটানের রাজা শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাতে ভুটানের রাজা তাঁর ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ প্রকল্প সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন এবং এতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি প্রকল্পটির প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করে এর প্রশংসা করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, পারস্পরিক কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে আঞ্চলিক বিভিন্ন উদ্যোগ এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ভুটানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।
সৌজন্য সাক্ষাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে ভুটানের রাজাকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
ঢাকার সিএমএম আদালতে যৌতুক মামলায় অভিযোগ গঠনের পর আসামি ও তাঁর আইনজীবীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বাদীপক্ষের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এদিন যৌতুক নিরোধ আইনের মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। বাদী ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমান আসামি আবির ইবনে হারুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
অভিযোগ গঠনের পর আসামিকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর আইনজীবী মেহেদী হাসান আদালত থেকে বের হওয়ার সময় আগে থেকে অবস্থান নেওয়া ২০ থেকে ২৫ জন ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ। বাদীনির বাবা হুমায়ুন কবির ও মামা মো. আশরাফুল আলম খানের নেতৃত্বে এ হামলা হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী হারুন অর রশিদ দাবি করেন।
তিনি জানান, হামলাকারীরা আসামি ও তাঁর আইনজীবীকে মারধর করেন। একপর্যায়ে আইনজীবীর পোশাকও ছিঁড়ে ফেলা হয়। তাঁদের চিৎকার শুনে আশপাশের আইনজীবী ও অন্যরা এগিয়ে এলে হামলাকারীদের কয়েকজন পালিয়ে যান। কয়েকজনকে আইনজীবীরা আটক করে আইনজীবী সমিতিতে নিয়ে যান। পরে মুচলেকা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
হামলায় আহত আইনজীবী মেহেদী হাসান ও আসামি আবির ইবনে হারুনকে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী আইনজীবী মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমাকে অযথা মেরেছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, বাদীপক্ষের সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সম্পর্ক থাকায় হামলার পরও তিনি কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেননি। একই সঙ্গে আইনজীবীদের নিরাপত্তার জন্য দ্রুত আইনজীবী সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বাদিনীর কাছে এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি করেন আসামি। দাবিকৃত টাকা না দিলে তাঁকে বাসায় নেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়। এ অভিযোগে গত ৫ এপ্রিল আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেন বাদী।
এ বিষয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম খান বলেন, আইনজীবীকে মারধরের বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সমাধান হয়ে গেছে।