Connect with us

ক্যাম্পাস

ফেসবুকে মানহানিকর কন্টেন্ট প্রচারের প্রতিকারের দাবিতে ইবি শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

Published

on

ইবি প্রতিনিধি 

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মানহানিকর কনটেন্ট প্রচারের প্রতিকারেে আবেদন করেছে শিক্ষার্থীরা। স্ট্যান্ড এগেইনস্ট সাইবার বুলিং (SAC) প্রজেক্টের প্যাডে এ আবেদন দেয়া হয়। 

রবিবার (১৬ নভেম্বর) বেলা ১২ টা নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম ও রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল হককে এ আবেদন পত্র দেন শিক্ষার্থীরা। 

আবেদনে বলা হয়, বিগত এক বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুকে) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে মনগড়া, মানহানিকর ও সংবেদনশীল তথ্য-যেমন ছবি, লেখনী ও ভিডিও-ছড়ানো হচ্ছে। এসব ছবি বা ভিডিও অনেক সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে তৈরি, আবার অনেক ক্ষেত্রে সম্পাদিত (edited) বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মানহানিকর লেখনীর মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এইসব কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছেন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হচ্ছে। ইতিমধ্যে আমরা ব্যাপারটির বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করেছি এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দাখিল করেছি। কিন্তু এরপরও এ ধরনের মানহানিকর কার্যক্রম তথা সাইবার বুলিং-এর পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উল্লেখ্য: বিভিন্ন ফেসবুক পেজসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীও এসব কাজে সংশ্লিষ্ট রয়েছে-এর প্রমাণাদি সংযুক্তি-০৩-এ প্রদান করা হলো।

এসময় তারা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি এন্টি-সাইবার বুলিং কমিটি গঠন করে সচেতনতা সৃষ্টি, পোস্টারিং, কর্মশালা এবং আইনবিষয়ক প্রচারণার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়-সম্প্রদায়কে অবহিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করার দাবি জানান।

প্রসঙ্গত, এ বিষয়ে গত ৯ নভেম্বর ইবির ইংরেজি বিভাগের ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষেে শিক্ষার্থী রিদয় আহম্মেদ ইবি থানায় একটি সাধারাণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, গত ৩ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পেইজ যাহার নাম IU Crush and Confession, যাহার লিংক https://www.facebook.com/profile.php?id=100064972232652 থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গ আমাকে সামাজিক ভাবে হেয়পতিপন্ন করার উদ্দেশ্য বিভ্রান্ত মূলক ছবি প্রকাশ করে। যাহা আমার অনুমতি ব্যতিরেখেয় আমাদের ছবি প্রকাশ করেছে। উক্ত পোষ্টের লিংক https://www.facebook.com/share/p/1AZGLDZ2sZ/  উল্লেখ্য, পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ করা সম্ভব হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক মামলা দায়ের করা হবে। সুতরাং, ঘটনার প্রকৃত তদন্ত ও ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করা একান্ত প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, উপরোক্ত বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য সাধারন ডাইরীভূক্ত করিয়া রাখা একান্ত প্রয়োজন।

SAC এর আবেদনপত্রের সাথে তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবরও একই বিষয়ে দুটি পৃথক অভিযোগত্র জমা দেন। সেখানে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অসমিকা ইসলাম ও ইংরেজি বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. হৃদয় আহমেদ উক্ত ঘটনায় তাদের মর্যাদা ও ব্যক্তিগত সম্মানহানির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধিমালা, তথ্য-প্রযুক্তি আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের অভিযোগ করেন। এতে তারা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানান। তাই তারা  বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করার অনুরোধ করেন।

এবিষয়ে SAC- AStandsgainst Cyberbulling এর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি ইশতিয়াক ফেরদৌস ইমন বলেন, আমরা মূলত সাইবার হারমোনি নিয়ে কাজ করছি। সাইবার বুলিঙের কারণে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থী মানসিক বিপর্যস্ত। এই সাইবার বুলিং দিন দিন বেড়েউ যাচ্ছে। এই সাইবার বুলিঙ যারা করছে তারা মূলত না বুঝেই এসব করছে, আমরা চাই কর্মশালা, এবং সচেতনা বৃদ্ধির মাধ্যমে যাতে এই সাইবার বুলিঙ কমানো যায়। পাশাপাশি এন্টি সাইবার বুলিঙ কমিটি গঠন এখন সময়ে দাবি আমাদের। আমরা প্রশাসনের কাছে প্রতি মাসে আমরা অভিযোগ চালাবো। আমরা প্রায় ১০ টি পেইজের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি এবং অসংখ্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে সম্মিলিত অভিযোভ প্রমাণসহ করেছি। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ছাত্রদের এ দাবির সাথে আমিও নিঃসন্দেহে একমত। মত প্রকাশের স্বাধীনতার অবশ্যই দরকার আছে। কিন্তু তা করতে গিয়ে যেন অন্য কারোর স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে না হয় সে বিষয়েও নিশ্চিত হওয়া দরকার। আমরা এর জন্য যা যা দরকার তা করবো।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

ইবির নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা ড. মো. মামুন আল রশীদ

Published

on

By

ইবি সংবাদদাতা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ। উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান আগামী এক বছরের জন্য তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশ সূত্রে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামের মেয়াদ ২৭ সেপ্টেম্বর (২০২৬) শেষ হওয়ায় তাঁর স্থলে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এক বছরের জন্য ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান। অফিস আদেশ অনুযায়ী, নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

এদিকে, দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

নবনিযুক্ত ছাত্র উপদেষ্টা বলেন, আমি চিঠি পেয়েছি। কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞ। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা এবং বেশকিছু পরিকল্পনা নিয়ে সামনে আগাবো ইনশাআল্লাহ।
ইবি সংবাদদাতা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ। উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান আগামী এক বছরের জন্য তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশ সূত্রে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামের মেয়াদ ২৭ সেপ্টেম্বর (২০২৬) শেষ হওয়ায় তাঁর স্থলে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এক বছরের জন্য ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান। অফিস আদেশ অনুযায়ী, নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

এদিকে, দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

নবনিযুক্ত ছাত্র উপদেষ্টা বলেন, আমি চিঠি পেয়েছি। কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞ। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা এবং বেশকিছু পরিকল্পনা নিয়ে সামনে আগাবো ইনশাআল্লাহ।

Continue Reading

top3

ববিতে পটুয়াখালী জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার কর্মশালা অনুষ্ঠিত

Published

on

By

ববি প্রতিনিধি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে পটুয়াখালী জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার কর্মশালা ২০২৫-২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার ( ২৭ শে সেপ্টেম্বর) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনানন্দ দাস হলে আজমাইন সাকিব এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন ছুটি মন্ডল ও তুষার শিবলী।

অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল ও ক্রেষ্ট দিয়ে বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি একটি ফলপ্রসূ ক্যারিয়ার কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনের শুরু থেকেই লক্ষ্য নির্ধারণ ও ভবিষ্যতের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার নানা দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রধান অতিথি ববি উপাচার্য ড. মামুন অর রশীদ বলেন, ” আমাদের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ মধ্যে ৩৩ তম বিশ্ববিদ্যালয়। অন্য ২৫ টি বাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক কিছু আছে। তাই আমি সকল ছাত্র ছাত্রীদের আমি অনুরোধ করবো আমরা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নেগেটিভ দিকগুলো দেখবো না পজেটিভ দিক গুলো সামনে তুলে আনবো যা বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে আরো অনেক কিছু পাবো। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ভবন ৩ অর্থ মন্ত্রণালয়ের থেকে অনুমোদন দিলে আমার কাজ শুরু করতে পারবো । আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় পর্যায় প্রোজেক্টটি আলরেডি স্টাট করেছি। আগামী সপ্তাহ আমাদের ১৫ তম ব্যাচের সেন্টাল অরিয়েন্টশন হবে। সবাই অভিনন্দন জানাচ্ছি। পটুয়াখালী থেকে অগত মেহমানদের অভিনন্দন ও জ্ঞাতিগপন করছি। পটুয়াখালী ছাত্র কল্যাণ পরিষদ কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এতো সুন্দর একটা অনুষ্ঠানে আয়োজন করার জন্য। সবশেষ একটা কথা বলবো গুনগান বা ক্ষতি হোক আমি তোমাদের লোক।”

প্রধান আলোচক বাউফল পৌর বিএনপি সভাপতি মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, “অক্সিজেন ছাড়া যেমন বাতাসের মূল্য নেই তেমন সততা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ারও মূল্য নেই। তোমরা যারা নবীন শিক্ষার্থী আছো তারা আগামী দিনের সম্পদ। মাদক বা সকল প্রকার অনৈতিক কাজ থেকে তোমরা তোমাদের বিরত রাখবা। তোমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।”

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আজমাইন সাকিব বলেন, “পটুয়াখালী জেলা থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের যেকোনো সমস্যায় পাশে থাকাই আমাদের মূল লক্ষ্য। নবীনদের অ্যাকাডেমিক ও ক্যারিয়ার বিষয়ক দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্যই এই আয়োজন।”

অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন বর্ষের জ্যেষ্ঠ ও নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা ও ক্যারিয়ার কর্মশালা শেষে এক আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

Continue Reading

top3

পবিপ্রবি ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের গবেষণাগার উদ্বোধন

Published

on

By

পবিপ্রবি প্রতিনিধি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) -এর ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষা, গবেষণা ও ব্যবহারিক কার্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে একটি বিদ্যমান গবেষণাগারের সংস্কার ও আধুনিকায়ন (refurbished) এবং একটি নতুন আধুনিক গবেষণাগার উদ্বোধন করা হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অভ্যন্তরে অবস্থিত পূর্বের ‘Seafood Processing, Quality and Safety Laboratory’-এর সংস্কার ও আধুনিকায়নকৃত অংশ এবং খামার ভবনে নবনির্মিত ‘Advanced Analytical Laboratory’ প্রধান অতিথি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার (SPM), HEAT-ATF Sub-project (PIN-13571) এবং , ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান Seafood Processing, Quality and Safety Laboratory-এর উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে তিনি খামার ভবনে অবস্থিত Advanced Analytical Laboratory-এ যান। সেখানে তিনি ল্যাবটির নামফলক উন্মোচন ও ফিতা কাটার মাধ্যমে ল্যাবটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং সংশ্লিষ্ট ল্যাব/প্রকল্পের ওয়েবসাইটও উদ্বোধন করেন |

উদ্বোধনের পর প্রধান অতিথি ও অতিথিবৃন্দ ল্যাবের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান ল্যাবে স্থাপিত ও ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতির কার্যক্রম, ব্যবহারিক গুরুত্ব এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার সম্ভাবনা সম্পর্কে অতিথিদের অবহিত করেন। ল্যাবের প্রতিটি যন্ত্রের মাধ্যমে কি ধরনের নমুনা প্রস্তুত, বিশ্লেষণ ও গবেষণা করা যাবে—সে বিষয়েও তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন | পরে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কল্যাণ ও সফলতা কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

Advanced Analytical Laboratory-তে গবেষণা ও নমুনা বিশ্লেষণের জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও সহায়ক সরঞ্জাম রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ; Fluorescence fingerprinting instruments and Fourier Transform Infrared (FTIR) Spectroscopy. এছাড়াও আরো ১৫ টির মতো ইন্সট্রুমেন্ট ল্যাবরেটরীতে রয়েছে।

গবেষণার মূল লক্ষ্য ফ্লুরোসেন্স ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি
এই ল্যাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা লক্ষ্য হলো Fluorescence Fingerprint coupled with Chemometrics প্রযুক্তির মাধ্যমে সামুদ্রিক খাদ্য ও মৎস্যজাত পণ্যের গুণমান ও নিরাপত্তা বিশ্লেষণের জন্য দ্রুত, আধুনিক ও non-invasive পদ্ধতি উন্নয়ন করা।

উল্লেখ্য, এই গবেষণা কার্যক্রমের মাধ্যমে মাছ ও অন্যান্য seafood-এর freshness, quality, chemical changes, authenticity এবং বিভিন্ন quality/safety indicator দ্রুত মূল্যায়নের জন্য fluorescence signal ও chemometric modelling ব্যবহৃত হয় অর্থাৎ প্রচলিত পদ্ধতিতে সামুদ্রিক খাদ্য ও অন্যান্য জলজ খাদ্যপণ্যের গুণগত মান নির্ণয় এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সময়সাপেক্ষ, শ্রমনির্ভর এবং জটিল। বিশেষ করে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে নমুনা প্রস্তুতকরণসহ বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে অনেক সময় এক থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। এর বিপরীতে, ফিঙ্গারপ্রিন্টিংভিত্তিক আধুনিক বিশ্লেষণাত্মক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অল্প সময়ের মধ্যে নমুনার রাসায়নিক ও ভৌত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা সম্ভব। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে মাত্র কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণ করা যেতে পারে, যা প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় দ্রুত ও কার্যকর বিশ্লেষণের সুযোগ সৃষ্টি করে।

এছাড়াও, বিভিন্ন ধরনের অ্যাডাল্টার বা ভেজাল শনাক্তকরণের ক্ষেত্রেও ফিঙ্গারপ্রিন্টিং একটি কার্যকর ও সহজতর পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। তুলনামূলকভাবে সরল নমুনা প্রস্তুতির মাধ্যমে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে উপস্থিত অনাকাঙ্ক্ষিত উপাদান বা ভেজাল শনাক্ত করার সুযোগ থাকায় খাদ্যের গুণগত মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এ প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সামগ্রিকভাবে, দ্রুততা, কম শ্রমের প্রয়োজনীয়তা এবং সহজ বিশ্লেষণ পদ্ধতির কারণে ফিঙ্গারপ্রিন্টিং প্রযুক্তি সামুদ্রিক খাদ্য ও জলজ সম্পদভিত্তিক পণ্যের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে একটি সম্ভাবনাময় আধুনিক প্রযুক্তি।

Continue Reading

Trending