Connect with us

top1

মাল্টিমোডাল প্ল্যানে বদলে যাবে ঢাকার গণপরিবহনের চিত্র

Published

on

রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান বা বহুমাধ্যমভিত্তিক পরিবহন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। সংস্থাটির লক্ষ্য—সড়ক, মেট্রোরেল, রেল, মনোরেল ও নৌপথকে একটি সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় এনে রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের যাতায়াতকে আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করা। এর মাধ্যমে যানজট নিরসন, যাত্রাসময় কমানো এবং গণপরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা প্রসঙ্গে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান (সচিব) কালবেলাকে বলেন, ‘একজন যাত্রী টাঙ্গাইল থেকে বাসে এসে গাবতলীতে নামলেন। সেখান থেকে মেট্রোরেলে উঠে সহজেই কমলাপুর পৌঁছে গেলেন। একই যাত্রায় চাইলে মেট্রোরেলের সংযোগ ব্যবহার করে বিমানবন্দর কিংবা নৌপথেও যুক্ত হয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারলেন। এমন একটি সমন্বিত যাতায়াত ব্যবস্থাই বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার।’

তিনি বলেন, ২০১৩ সালের জাতীয় সমন্বিত বহুমাধ্যমভিত্তিক পরিবহন নীতিমালা এবং ২০১৫ সালের সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (আরএসটিপি) বাস, মেট্রোরেল, রেল, নৌপথ ও বিমান পরিবহনকে একই নেটওয়ার্কে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সেই পরিকল্পনায় রাজধানী ও আশপাশে ২১টি মাল্টিমোডাল ও ইন্টারচেঞ্জ স্টেশন গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছিল।

এক দশক পর সেই পরিকল্পনা আরও বিস্তৃত হয়েছে দাবি করে ডিটিসিএর পরিচালক বলেন, বর্তমানে নগর রেল পরিবহন কৌশলগত পরিকল্পনা (ইউআরএসটিপি) ২০২৬-২০৪৫-এ আটটি মেট্রোরেল (এমআরটি) লাইন, দুটি বিআরটি করিডোর, তিনটি রিং রোড, আটটি রেডিয়াল সড়ক, ছয়টি এক্সপ্রেসওয়ে এবং ২১টি ট্রান্সপোর্টেশন হাব নিয়ে সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে কমলাপুর, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (এয়ারপোর্ট/কুড়িল) এবং গাবতলীকে প্রধান মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

এ-সংক্রান্ত নথিপত্র, চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার পরিকল্পনা পর্যালোচনায় দেখা যায়, রাজধানীতে মেট্রোরেলের দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। মেট্রোরেল লাইন-৬ চালু হয়েছে, মেট্রোরেল লাইন-১ নির্মাণাধীন এবং মেট্রোরেল লাইন-৫-এর কাজ এগোচ্ছে। পাশাপাশি কমলাপুর, বিমানবন্দর ও গাবতলীকে কেন্দ্র করে মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাবের পরিকল্পনাও দৃশ্যমানভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে এসব প্রকল্পের মধ্যে যাত্রীকেন্দ্রিক সমন্বয় এখনো পুরোপুরি বাস্তব রূপ পায়নি।

হালনাগাদ ইউআরএসটিপি অনুযায়ী, ঢাকায় দৈনিক যাতায়াতে গণপরিবহনের অংশ ২০১৪ সালের ২২ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ২০২৩ সালে মাত্র ৮ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। আর ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও থ্রি-হুইলারের ব্যবহার বেড়েছে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা কেবল নতুন অবকাঠামো নির্মাণের ওপর নির্ভর করে না। এর জন্য প্রয়োজন নিরাপদ ইন্টারচেঞ্জ, পথচারীবান্ধব সংযোগ, একীভূত টিকিটিং, পার্ক-অ্যান্ড-রাইড, ফিডার বাস, বাস রুট রেশনালাইজেশন এবং বিভিন্ন সংস্থার কার্যকর সমন্বয়।

ডিটিসিএ বলছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী কমলাপুরকে জাতীয় রেলওয়ে ও মেট্রোরেলের প্রধান আন্তঃসংযোগ কেন্দ্র (হাব) হিসেবে গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন পরিবহন সংস্থার অবকাঠামো ও সেবার মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে যাত্রীদের এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে সহজে স্থানান্তরের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেইসঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ে, মেট্রো রেললাইন-১, মেট্রোরেল লাইন-৪, মেট্রোরেল লাইন-৬ এবং ভবিষ্যতের অন্যান্য রেলভিত্তিক সংযোগের সমন্বয় করা হবে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক উন্নয়ন, অফিস, হোটেল ও আধুনিক নগর সুবিধাসহ একটি পূর্ণাঙ্গ ট্রানজিট ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট (টিওডি) গড়ে তোলার পরিকল্পনাও করেছে সরকার। তবে প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এখনো শুরু হয়নি।

ডিটিসিএ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকাকে বিমানবন্দরভিত্তিক মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছে। এখানে মেট্রোরেল লাইন-১, মেট্রোরেল লাইন-৬, বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি), বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অন্যান্য গণপরিবহনের সংযোগের সুযোগ রাখা হয়েছে, যাতে বিমানযাত্রী ও নগর যাত্রীরা একই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারেন। অন্যদিকে, গাবতলীকে পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান পরিবহন প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে এখানে মেট্রোরেল লাইন-২ (পরিকল্পিত), মেট্রোরেল লাইন-৫ (উত্তর), মেট্রোরেল লাইন-৫ (দক্ষিণ) এবং আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের মধ্যে সমন্বিত সংযোগ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে নির্মাণাধীন মেট্রোরেল লাইন-১-এর আওতায় বিমানবন্দর থেকে কুড়িল, নতুন বাজার, বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ হয়ে কমলাপুর পর্যন্ত প্রায় ১৯ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণ হচ্ছে। একই লাইনের পূর্বাংশ কুড়িল থেকে ৩০০ ফিট সড়ক হয়ে কাঞ্চন পর্যন্ত প্রায় ১১ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার উড়াল পথে যাবে।

একই পরিকল্পনায় প্রায় ৭৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাঁচটি সম্ভাব্য মনোরেল করিডোরের প্রস্তাব রয়েছে, যার প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে। ডিমান্ড অ্যানালাইসিসের ভিত্তিতে ৩২টি প্রধান বাস রুট ও ২৫টি ফিডার রুটের একটি যৌক্তিক নেটওয়ার্ক প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ক্লিন এয়ার প্রকল্পের আওতায় রাজধানীতে ৪০০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, এই মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত রয়েছে ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটি (ডিটিসিএ), ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল), বাংলাদেশ রেলওয়ে, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষ, বিআরটিএ, রাজউক, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো। ফলে এটি কোনো একক সংস্থার প্রকল্প নয়; বরং বহু প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ।

আইন অনুযায়ী ডিটিসিএর দায়িত্ব পুরো পরিবহন ব্যবস্থার সমন্বয় নিশ্চিত করা। অথচ মেট্রোরেল লাইন (এমআরটি) বাস্তবায়ন করছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল), কমলাপুর নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ রেলওয়েও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষ, ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনায় রয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং বাস ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। ফলে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। এ সমন্বয় আরও শক্তিশালী করতে মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট অথরিটি আইন, ২০২৬ প্রণয়নের উদ্যোগের কথা জানিয়েছে পরিবহন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

ঢাকার সার্বিক পরিবহন পরিকল্পনার বর্তমান অবস্থা নিয়ে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান কালবেলাকে বলেন, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাকে এমনভাবে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে, যাতে বিভিন্ন পরিবহন মাধ্যমের মধ্যে সমন্বিত সংযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। সেইসঙ্গে যানজট নিরসনসহ সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে একটি স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের গণপরিবহনে ভ্রমণের ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়।

তিনি বলেন, সরকারপ্রধানের সরাসরি হস্তক্ষেপে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নও ধাপে ধাপে এগিয়ে চলছে। এ ছাড়া বর্তমান পরিবহন ব্যবস্থার প্রতিটি উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে।

তবে মেট্রোরেল নির্মাণই সমন্বিত গণপরিবহনের শেষ কথা নয়। বাস রুট রেশনালাইজেশন, ফিডার বাস, নিরাপদ পথচারী অবকাঠামো, সমন্বিত টিকিটিং, পার্ক-অ্যান্ড-রাইড এবং কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা কার্যকর না হলে মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাবের পূর্ণ সুফল মিলবে না বলে মনে করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. এম শামসুল হক।

তিনি কালবেলাকে বলেন, এক দশক আগে যে সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, তার কিছু অংশ এখন দৃশ্যমান। কিন্তু সেই স্বপ্নের পূর্ণ বাস্তবায়ন এখনো বাকি। আগামী দিনের সাফল্য নির্ভর করবে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি বাস, মেট্রোরেল, রেল, নৌ ও বিমান পরিবহনকে একটি কার্যকর, যাত্রীবান্ধব ও সমন্বিত মাল্টিমোডাল নেটওয়ার্কে রূপ দিতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ কতটা সফল হয়, তার ওপর। গত ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত ডিটিসিএর বৈঠকও সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পরিবর্তনে সংবিধানে ফিরছে গণভোটের বিধান

Published

on

By

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে পুনর্বহালের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে হলেও জনগণের অনুমোদন নেওয়ার বিধান ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের যে বিধান ছিল, তা পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাতিল করা হয়েছিল। আদালতের রায়ে ওই বাতিলের সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক ঘোষিত হওয়ায় সংশোধিত সংবিধানে গণভোটের বিধান পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের প্রতিনিধি ও ‘জুলাই যোদ্ধা’দের সঙ্গে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যে সংশোধনীটা আমরা সামনে গ্রহণ করব—সে জায়গায় এমন কিছু আর্টিকেলের পরিবর্তন, সংশোধন সংযোজন আসবে; যেগুলো পরিবর্তনে সংশোধনের পূর্ববর্তী রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে গণভোটের ব্যবস্থা করতে হবে। সেটা হচ্ছে সাংবিধানিক গণভোট। আগে যে গণভোট হয়েছে সেটা আইনি গণভোট। এই সাংবিধানিক গণভোটটা আমাদের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।’

মন্ত্রী বলেন, ‘যে সংশোধনটা আমরা সামনে আনব—সেখানে প্রস্তাবনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসহ মৌলিক বিষয়গুলোতে পরিবর্তন আসবে। আর্টিকেল ৪৮ ও ৫৬-এ আসবে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে আমরা কেন ধারণ করব, সেই বিষয়গুলো আসবে।’

তিনি বলেন, ‘আর্টিকেল ১৪২-এ যেখানে গণভোট ছিল না, শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকার সেটা উড়িয়ে দিয়েছিল। সেখানে আবার সেটা আমাদের ধারণ করতে হবে।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে ভবিষ্যতে যাতে সহজে কেউ তা পরিবর্তন করতে না পারে, সে বিষয়েও সাংবিধানিক সুরক্ষা রাখার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনরায় আমরা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করলে সেটা যাতে ভবিষ্যতে কেউ সহজে পরিবর্তন করতে না পারে, সেজন্য আমরা ওইটা পরিবর্তন করলেও ভবিষ্যতে জনগণের কাছে যাতে যেতে হয়, সেটায় গণভোটের বিধান রাখতে হবে। সেজন্য এই পরিবর্তনগুলো এবং এই সাংবিধানিক সংশোধনীগুলো আমরা সংবিধানে নিয়ে আসলে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুসারে আমাদের গণভোট দিতে হবে।’

সংবিধানে বর্তমানে গণভোটের বিধান নেই—এমন বক্তব্যের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি দুই-এক জায়গায় শুনছি, কেউ কেউ বলছেন—সংবিধানে তো গণভোট নাই। আমরা কেন গণভোটের কথা বলছি? সংবিধান সংশোধনের পরে। তারা সঠিক কথা বলছেন না।’

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘পঞ্চদশ সংশোধনের মাধ্যমে আর্টিকেল ১৪২ থেকে যে গণভোটের বিধানটা তুলে দেওয়া হয়েছিল, সেটার বৈধতা ছিল না। এবং সেটাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে ইতোমধ্যে হাইকোর্ট থেকে রায় দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আগে যা ছিল, তাই সঠিক।’

এ প্রসঙ্গে ‘ডকট্রিন অব ইক্লিপস’-এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেকে বলছেন, সেটা তো অটোমেটিক বহাল হয় না। এখানে আমার বক্তব্য হচ্ছে, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় একটা ডকট্রিন আছে। এটা হচ্ছে ডকট্রিন অব ইক্লিপস।’

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা যারা আইনে প্রফেসরি করেন, আইনের ছাত্র তারা জানেন। চন্দ্রগ্রহণ যখন হয়, গ্রহণটা সরে গেলে চাঁদটা আবার আলো দেখা যায়। এটাকে বলা হয় ডকট্রিন অব ইক্লিপস। ওই সংবিধানের যে বিধানটা পরিবর্তন করে গণভোট বাতিল করে দিয়েছিল, সেটাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। সুতরাং আগেরটা বহাল হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে একটা আইনের জটিল প্রশ্ন আছে। সেটা যতদিন পার্লামেন্টে আবার সংবিধানে ধারণ না করবে, ততদিন পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিস্থাপিত হয়েছে বলা যাবে না। তবে বিচার বিভাগ তাদের যে রায় দিয়েছে, সেই রায় অনুসারে সংবিধানে আমরা এই সংশোধনীতে সেটা ধারণ করব।’

গণভোটের বিধান সংবিধানে পুনরায় যুক্ত করার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সুতরাং ইট ইজ দেয়ার। এটা অসাংবিধানিক যদি কেউ বলে, যদি বলে—এখন তো সংবিধানে গণভোটের বিধান নাই, গণভোটের বিধান বহাল হয়েছে—আমরা এটা যখন সংবিধানে নিয়ে আসব, তখন সেটা আমাদের মানতে হবে। সেই হিসাবে সাংবিধানিক ভোটটা।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাছাড়া প্রস্তাবনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসহ অন্যান্য মৌলিক বিষয়গুলো যেগুলোতে পরিবর্তন হলে সাংবিধানিক গণভোট দেওয়ার কথা, সেই ১৪২ অনুসারে সেটা তো আছেই এবং আমরা যুক্ত করব। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা যে আমরা সংবিধানে আনছি, সেটা যাতে ভবিষ্যতে পরিবর্তন যদি কেউ করতে চায়, তখনও যাতে গণভোটের বিধান বহাল থাকে, জনগণের কাছে যেতে হয়—এইভাবে আমরা একটা সমৃদ্ধ সাংবিধানিক সংশোধনী আনব।’

উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান প্রথম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আনা পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এ বিধান সংবিধান থেকে বাদ দেওয়া হয়। একই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাও সংবিধান থেকে বাতিল করা হয়েছিল।

২০২৬ সালের ৯ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পঞ্চদশ সংশোধনীর মূল অংশগুলো অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রাখেন। ফলে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান বাতিলের বিষয়টি নতুন করে সাংবিধানিক আলোচনায় আসে।

আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর আইন মন্ত্রণালয় সংবিধানের সংশোধিত রূপ বা একটি টেক্সট প্রকাশ করবে বলে জানা গেছে। সেখানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাদ পড়া ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত বিধানগুলো পুনঃস্থাপনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

Continue Reading

top1

সাংবাদিকদের ওপর হামলায় বহিষ্কার, এরপর ছাত্রদল নেতার পোস্ট: ‘রাবি ছাত্রদল হিজরা ইউনিটে পরিণত হলো’

Published

on

By

রাবি প্রতিবেদক:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বহিষ্কৃত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি এম আহসান হাবীব কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। বহিষ্কারের বিজ্ঞপ্তি শেয়ার করে আহসান হাবীব লেখেন, ‘বহিষ্কারের হ্যাট্রিক ট্রফি দিলেন? শিবিরের ক্যান্টনমেন্টে আজ থেকে রাবি ছাত্রদল হিজরা ইউনিটে পরিণত হলো।’

সোমবার রাতে আহসান হাবীবসহ রাবি শাখা ছাত্রদলের তিন নেতাকে বহিষ্কার এবং আরও ছয় নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পর তিনি ওই পোস্ট দেন।

পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘গুপ্তদের মিডিয়া ট্রায়ালের চাপ সামলাতে না পারলে ছাত্রদল বিলুপ্ত করে দেন। সুশীল রাজনীতি দিয়ে কোনোদিন রাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রদলকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন না। আরো ১০-১ জনের বহিষ্কারের প্রেস রিলিজ রেডি করে রাখেন।’

পোস্টের শেষদিকে আহসান হাবীব লেখেন, ‘রাবি ছাত্রদল এখন ল্যাংটা হবে। লজ্জায় মুখ দেখাতে পারবে না কেউ?’

এর আগে রোববার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন সাংবাদিক হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানানো হয়। ঘটনার পর ছাত্রদলও দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

সোমবার রাত ৯টার দিকে ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে আহসান হাবীব, রাবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিব হাসান ও ছাত্রনেতা বিশাল চক্রবর্তীকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে তাঁদের সাংগঠনিক পদ ও ছাত্রদলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
একই ঘটনায় রাবি শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, বুলবুল রহমান, শরিফুল ইসলাম ও ফারুক হোসেন, সহদপ্তর সম্পাদক শাহারিয়ার আলম এবং ছাত্রনেতা সাজুকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে তাদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

Continue Reading

top1

রাবির সাংবাদিকদের ওপর হামলা, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি শাবি প্রেসক্লাবের

Published

on

By

শাবি প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব (শাবি প্রেসক্লাব)। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে প্রচলিত আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) শাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি নোমান ফয়সল ও সাধারণ সম্পাদক নুর আলম এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার (৪ অক্টোবর) রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ছাত্রদল নেতা এম আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে জড়ো হন। এ সময় কয়েকজনের হাতে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ ও ব্যাটসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়।

অস্ত্রধারীদের ভিডিও ধারণ করতে এগিয়ে গেলে দৈনিক সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজুকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এ সময় আজকের পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধির মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবানকেও মারধর করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বিবৃতিতে জানানো হয়।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবর পেয়ে অন্য সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলে গেলে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলামও হামলার শিকার হন। এতে জাহিদুল ইসলামের মাথা ফেটে যায়। এ সময় সাংবাদিকদের ‘পুঁতে ফেলার’ হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করা হয়।

ঘটনায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়। আহত সাংবাদিকেরা হলেন দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান এবং আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম।

শাবি প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ। একটি গণতান্ত্রিক দেশে এবং স্বনামধন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল শাহবাগ থানার ভেতরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির অন্তত ১০ সদস্য ছাত্রদলের হামলার শিকার হন। ওই ঘটনার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো বিচার হয়নি। ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের ধারাবাহিক হামলা উদ্বেগজনক। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিত না হলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি উৎসাহিত হতে পারে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্বশীলতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করছে। এ ধরনের ঘটনায় কাউকে প্রশ্রয় না দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

বিবৃতিতে রাবির সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আহত সাংবাদিকদের সুচিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

Continue Reading

Trending