Connect with us

top1

মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবার ও যুদ্ধাহতদের ভাতা বাড়ালো সরকার

Published

on

ডিজিটাল ডেস্ক

বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার এবং যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতা ও বিভিন্ন আর্থিক অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে সরকার। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জারি করা নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বর্ধিত এ সুবিধা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেট অধিশাখা থেকে সম্প্রতি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ভাতা ও অনুদান বৃদ্ধির বিষয়টি জানানো হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার এবং যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতার পাশাপাশি উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, মহান বিজয় দিবসের বিশেষ অনুদান এবং বাংলা নববর্ষ ভাতার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের ভাষ্য, মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা, তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা এখন থেকে মাসিক ৩০ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা পাবেন। এছাড়া তাদের জন্য ১০ হাজার টাকা উৎসব ভাতা, ৫ হাজার টাকা মহান বিজয় দিবস ভাতা এবং ২ হাজার টাকা বাংলা নববর্ষ ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। তাদের জন্যও ১০ হাজার টাকা উৎসব ভাতা, ৫ হাজার টাকা বিজয় দিবস ভাতা এবং ২ হাজার টাকা বাংলা নববর্ষ ভাতা দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতা ২৩ হাজার টাকা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ২ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা, ৫ হাজার টাকা খাদ্য ভাতা, ২৩ হাজার টাকা উৎসব ভাতা এবং ২ হাজার টাকা বাংলা নববর্ষ ভাতা প্রদান করা হবে।

যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অক্ষমতার মাত্রা অনুযায়ী চারটি শ্রেণিতে নতুন ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। ‘ক’ শ্রেণির (৯৬-১০০ শতাংশ অক্ষম) মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ৩০ হাজার টাকা, ‘খ’ শ্রেণির (৬১-৯৫ শতাংশ) ২৮ হাজার টাকা, ‘গ’ শ্রেণির (২০-৬০ শতাংশ) ২৩ হাজার টাকা এবং ‘ঘ’ শ্রেণির (১-১৯ শতাংশ) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ২০ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা পাবেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মু. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সর্বশেষ ভাতা বৃদ্ধি সেই উদ্যোগেরই অংশ, যা তাদের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

হঠাৎ স্পেন সীমান্তে অবিভাসীদের এত ভিড় কেন

Published

on

By

মরক্কো থেকে উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের ছিটমহল সেউতায় প্রবেশের চেষ্টাকালে অন্তত ৫৭ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। চলতি সপ্তাহে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সমুদ্র ও স্থলপথে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা চালান। তবে স্পেন সরকারের দাবি, শুক্রবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যার মধ্যে বেশির ভাগ মানুষই মরক্কোয় ফিরে গেছেন।

এ অনুপ্রবেশ সামলাতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জরুরি ভিত্তিতে সেউতা সফর করেন। এই সংকটের জেরে ইতালি স্পেন থেকে যাওয়া যাত্রীদের ওপর সাময়িক সীমান্ত কড়াকড়ি আরোপ করেছে। অন্যদিকে ফ্রান্স স্পেন সীমান্তে অতিরিক্ত নজরদারি জোরদার করেছে।

সেউতা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার সীমান্তরক্ষীদের নিরাপত্তা বলয় ছিন্ন করে দলে দলে মানুষ সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করে। এ সময় সমুদ্রে ডুবে অনেকের মৃত্যু হয়।

স্পেনে সীপান্ত নিরাপত্তা জোরদার

সম্প্রতি স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে জানায়, সমুদ্রপথে আসা অনিয়মিত অভিবাসীদের সরাসরি মরক্কোতে ফেরত পাঠানো যাবে না। তবে এই রায়ের পরও বেআইনিভাবে প্রবেশকারীদের দ্রুততম সময়ে ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে স্পেন প্রশাসন।

কী ঘটেছে এবং কোথায়

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মরক্কো ও স্পেনের ক্ষুদ্র ভূখণ্ড সেউতার সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ে। চরম বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে আনুমানিক ৫০ হাজার মানুষ স্পেনীয় অংশে ঢুকে পড়েন। এতে বেশ কয়েকজন মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

এই অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা ছিল সেউতার মূল জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের থেকেও বেশি। ফলে পুরো ছিটমহলে এক ভয়াবহ মানবিক সংকট দেখা দেয়।

শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষকে মরক্কোর দিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। প্রতি মুহূর্তে আরও শত শত মানুষকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

উত্তর আফ্রিকার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত সেউতা এবং তার থেকে ২৫০ মাইল পূর্বে অবস্থিত মেলিলা অঞ্চল। এই দুটি স্থানই আফ্রিকা মহাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একমাত্র স্থলসীমান্ত।

১৫৮০ সাল থেকে সেউতা স্পেনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখানে খ্রিস্টান ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর সহাবস্থান দেখা যায়। তবে মরক্কো কখনোই সেউতা ও মেলিলাকে স্পেনের ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। তারা এগুলোকে নিজেদের ‘দখলকৃত ভূখণ্ড’ হিসেবে গণ্য করে।

অভিবাসনের কেন্দ্রবিন্দু কেন সেউতা

উন্নত জীবনযাত্রা ও নিজ দেশের সহিংসতা থেকে বাঁচতে ইউরোপে প্রবেশের জন্য স্পেন অন্যতম প্রধান রুট। আফ্রিকা থেকে ইউরোপে পৌঁছাতে অভিবাসীরা সেউতা ও মেলিলাকে বেছে নেয়। তাই এই দুটি অঞ্চলকে শক্ত নিরাপত্তাবেষ্টনী দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।

সেউতা বা মেলিলায় পৌঁছানো অনেক অভিবাসীকে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ফেরত পাঠায়। বাকিদের আশ্রয়কেন্দ্রে রেখে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন প্রক্রিয়া চালানো হয়।

সেউতায় পৌঁছাতে অভিবাসীরা সাধারণত মরক্কোর ফনিদেক শহর থেকে প্রায় ৩ মাইল পথ সাঁতরে পাড়ি দেয়। আবার অনেকে কাছের শহর বেলিউনেচ থেকেও প্রবেশের চেষ্টা চালায়।

এর আগে ২০২২ সালে উপ-সাহারা অঞ্চল থেকে আসা প্রায় ২ হাজার মানুষ মেলিলায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। তখন ২৩ জন নিহত হয়েছিলেন। এছাড়া ২০১৪ সালে সেউতা উপকূলে প্রাণ হারান অন্তত ১৪ জন।

তবে ক্যানারি ও ব্যালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জ হয়ে স্পেনে প্রবেশকারীদের তুলনায় সেউতা ও মেলিলা সীমান্ত দিয়ে আগতদের সংখ্যা সাধারণত কম থাকে।

গত কয়েক দশকে স্পেনে বহিরাগত জনসংখ্যার হার অনেক বেড়েছে। দেশটির ৫ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ১ কোটি মানুষই বিদেশি বংশোদ্ভূত। এদের বড় একটি অংশ কলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলা ও মরক্কো থেকে এসে স্পেনের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন।

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে হাজার হাজার মানুষ প্রতি বছর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে আশ্রয় খুঁজছেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মতে, ২০১৪ সাল থেকে ভূমধ্যসাগরে ৩৫ হাজার ১৫৩ জন অভিবাসী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। কেবল ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসেই এই সংখ্যা ১ হাজার ৪৯৩ জন।

এত মানুষ সীমান্ত পার হতে সক্ষম হলো যেভাবে

হঠাৎ এত মানুষ কীভাবে একসঙ্গে প্রবেশ করলো, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। মরক্কো কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তারা কতটা কঠোর ছিল, তাও জানা যায়নি।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার নেপথ্যে আঞ্চলিক রাজনীতি জড়িত থাকতে পারে। মরক্কো ও আলজেরিয়ার দ্বন্দ্ব এবং সম্প্রতি স্পেনীয় প্রধানমন্ত্রীর আলজিয়ার্স সফরের প্রধান কারণ হতে পারে।

এর আগে ২০২১ সালের মে মাসেও সেউতায় একইভাবে বড় ধরণের অনুপ্রবেশ ঘটেছিল। তখন পোলিসারিও ফ্রন্টের প্রধানকে কোভিডের চিকিৎসার জন্য স্থান দিয়েছিল স্পেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মরক্কো সীমান্ত শিথিল করে দেয়।

মরক্কো ও পোলিসারিও ফ্রন্ট উভয়ই বিতর্কিত পশ্চিম সাহারাকে নিজেদের এলাকা বলে দাবি করে। এটি ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত স্পেনের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

২০২২ সালে মাদ্রিদ মরক্কোর নীতিকে সমর্থন দিলে সেই সংকটের নিরসন ঘটে। তবে স্পেনের এই পদক্ষেপে মরক্কোর প্রতিদ্বন্দ্বী আলজেরিয়া ক্ষুব্ধ হয়।

এরই মধ্যে গত ২০ জুলাই স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজ আলজিয়ার্স সফরের যান। চার বছর পর এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের শীতল সম্পর্ক উষ্ণ হতে শুরু করে। এটি মরক্কো ভালোভাবে নেয়নি।

শুক্রবার সেউতায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী সানচেজ মানব পাচারকারীদের দায়ী করেন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে পাচারকারীরা এই সংকট তৈরি করেছে বলে তিনি জানান। সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের সরাসরি ফেরত পাঠানো যাবে না। পাচারকারীরা এটিকে স্পেনে থাকার সুযোগ হিসেবে অপপ্রচার করেছে।

ইতালীয় গবেষণা সংস্থা আইএসপিআই-এর বিশেষজ্ঞ মাত্তেও ভিল্লা বলেন, ২০২১ সালের ঘটনারই এক বড় সংস্করণ দেখলাম আমরা। যেখানে মাসে কয়েকশো লোক আসে, সেখানে রাতারাতি ৫০ হাজার লোক চলে আসা স্বাভাবিক নয়। সানচেজের আলজেরিয়া সফর মরক্কো পছন্দ করেনি।

ভিল্লা মনে করেন, কৌশলগত ক্ষমতা দেখাতে মরক্কো হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবেই সীমান্ত শিথিল রেখেছিল।

সরকার ও কর্তৃপক্ষ কীভাবে প্রতিক্রিয়া

সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সেনা ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে স্পেন। প্রধানমন্ত্রী সানচেজ এটিকে ‘স্পেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এই ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে স্পেন সরকার। ইউরোপীয় রাজনীতিকদের মধ্যেও এ নিয়ে তীব্র মতভেদ দেখা দিয়েছে। ডানপন্থী নেতারা স্পেনের সাম্প্রতিক অভিবাসন নীতিকে দায়ী করছেন।

ইতালির সরকার স্পেনকে শেঙ্গেন এলাকা থেকে সাময়িক বহিষ্কারের দাবি তুলেছে। অন্যদিকে পরিস্থিতি সামলাতে ফ্রান্সও স্পেনের সঙ্গে তাদের সীমান্ত পাহারা জোরদার করেছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, সিএনএন

Continue Reading

top1

১ আগস্ট থেকে গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক, না থাকলে মিলবে না নিবন্ধন-ফিটনেস

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

আগামী ১ আগস্ট থেকে দেশের সব গণপরিবহনে জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) ডিভাইস স্থাপন ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। নতুন নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ প্রদান কিংবা নবায়নের ক্ষেত্রে জিপিএস সংযুক্ত না থাকলে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ২৮ জুলাই প্রকাশিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনার কথা জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিরাপদ, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ গত ১১ জুন এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে আগামী ১ আগস্ট থেকে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন নিবন্ধন বা ফিটনেস সনদ পেতে হলে যানবাহনে নির্ধারিত মানের জিপিএস ডিভাইস সংযুক্ত থাকতে হবে। পাশাপাশি ডিভাইসটি সচল রয়েছে—এমন প্রমাণও বিআরটিএকে দেখাতে হবে। এজন্য জিপিএস সংযুক্তির প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ডিভাইসটির কার্যকারিতা প্রদর্শন করতে হবে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, জিপিএস ডিভাইসের কারিগরি মান ও স্পেসিফিকেশন সংস্থাটির ওয়েবসাইট এবং স্থানীয় কার্যালয় থেকে জানা যাবে। নির্ধারিত মান অনুযায়ী ডিভাইস স্থাপনের পরই নিবন্ধন ও ফিটনেস-সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ২৫ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৫৫ অনুযায়ী জিপিএস সংযুক্তি নিশ্চিত হওয়ার পরই গণপরিবহনের নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ দেওয়া বা নবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে বিআরটিএ।

সরকারের মতে, জিপিএস বাধ্যতামূলক করার ফলে গণপরিবহনের অবস্থান, গতি ও নির্ধারিত রুট প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বাসের রেষারেষি, অনিয়ন্ত্রিত লেন পরিবর্তন এবং যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামার মতো অনিয়ম কমানো সহজ হবে।

তবে পরিবহন মালিকদের একটি অংশ মনে করছেন, প্রথম দিন থেকেই দেশের সব গণপরিবহনে শতভাগ জিপিএস ব্যবস্থা কার্যকর করা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছুটা চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

অন্যদিকে, পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিপিএস সংযোজন একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও কেবল প্রযুক্তি ব্যবহারে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না। এর পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণ, দক্ষ চালক নিশ্চিত করা, কার্যকর তদারকি, জবাবদিহি এবং আইন প্রয়োগে কঠোরতা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

Continue Reading

top1

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত

Published

on

By

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের (ফেরত পাঠানোর) অনুরোধটি ভারতের প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় পেশ করা একটি সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

ভারতীয় কংগ্রেসের সংসদ সদস্য শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশের ওপর সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এই তথ্যটি প্রকাশ পায়। 

‘ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক’ শীর্ষক কমিটির নবম প্রতিবেদনে উল্লেখিত পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশগুলোর ওপর সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্বলিত এই প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভারতের সংসদে পেশ করা হয়।

শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ সম্পন্ন করে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ ঘোষণার পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো এই প্রত্যর্পণ আবেদনটি নোট করার কথা জানিয়েছে কমিটি। একই সঙ্গে বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার অগ্রগতি সম্পর্কে সংসদকে অবহিত রাখার জন্য কেন্দ্রের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে তারা।

সংসদীয় কমিটি উল্লেখ করেছে যে, দিল্লিতে শেখ হাসিনার অবস্থানের বিষয়টি ভারতীয় ‘সভ্যতার চেতনা ও অস্তিত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি বা চরম কষ্টে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয় দেয়ার মানবিক ঐতিহ্য’ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ভারতীর ভূখণ্ড থেকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য শেখ হাসিনাকে কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বা সুযোগ দেওয়া হয়নি।

কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ভারতের ভূখণ্ডকে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে না দেওয়ার নীতিতে নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেছে দেশটি। কমিটি সুপারিশ করেছে যে, এই ধরনের সংবেদনশীল পরিস্থিতিগুলো আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সংগতি রেখে যথাযথভাবে সামলানোর সময় সরকার যেন তার এই ‘নীতিভিত্তিক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি’ বজায় রাখে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

Continue Reading

Trending