Connect with us

top1

মোজতবা খামেনি জীবিত এবং আরও বেশি সক্রিয়: মার্কো রুবিও

Published

on

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার পর থেকে জনসমক্ষে না আসা ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্পূর্ণ জীবিত এবং তিনি দেশটির রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে দিন দিন আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠছেন বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

মঙ্গলবার (২ জুন) মার্কিন সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির সামনে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যপ্রদানকালে তিনি এই তথ্য জানান। রুবিও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন প্রশাসন নিশ্চিত হয়েছে যে ইরানের নতুন এই সর্বোচ্চ নেতা বর্তমানে বেশ কিছু স্তরে রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে জোরালোভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

৫৬ বছর বয়সি মোজতবা খামেনি তার পিতা ও ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর আকস্মিক বিমান হামলার প্রথম তরঙ্গে আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সূত্রপাত ঘটেছিল এবং মোজতবা খামেনি নতুন নেতা নির্বাচিত হন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন এক সময়ে সিনেট প্যানেলের সামনে এই সাক্ষ্য দিলেন, যখন মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চলমান তিন মাসব্যাপী যুদ্ধ এবং এর ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট নিরসনে চলমান শান্তি আলোচনাগুলো সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে।

উদ্ভূত এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের সাথে একটি টেকসই এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে তিনি মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে একটি অনমনীয় শর্তারোপ করে জোর দিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটনের আরোপিত সমস্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার দেখতে চাইলে তেহরানকে অবশ্যই তাদের বর্তমান পারমাণবিক কর্মসূচিকে কঠোরভাবে সীমিত করতে হবে।

রুবিও মার্কিন সিনেট কমিটিকে জানান, দুই দেশের মধ্যে একটি বড় চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা আমাদের সামনে রয়েছে, যা আজ, আগামীকাল কিংবা আগামী সপ্তাহের মধ্যেই যেকোনো সময় সফলভাবে সম্পন্ন হতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের চূড়ান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে তেহরানকে অবশ্যই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দিতে রাজি হতে হবে।

উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস পরিবহনের অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক শিপিং চ্যানেল বা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পথ হিসেবে এই হরমুজ প্রণালিকে বিবেচনা করা হয়, যা বর্তমানে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে এবং এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে গভীর সামরিক দরকষাকষি চলছে।

সূত্র: দ্য স্ট্রেইটস টাইমস

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

বেনাপোলে ১৫ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা, চার দিন পর ফিরিয়ে নিল বিএসএফ

Published

on

By

যশোরের বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুর শূন্যরেখা এলাকায় পুশ ইনের উদ্দেশ্যে জড়ো করা কথিত বাংলাদেশি নাগরিকদের চার দিন পর সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বুধবার ভোররাতে ভারতীয় ভূখণ্ডের শূন্যরেখা এলাকা থেকে প্রায় ১৫ জনের একটি দলকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে সীমান্তে বিরাজমান উত্তেজনা কিছুটা কমেছে। তবে তাদের অন্য কোনো সীমান্ত পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হয়েছে নাকি ভারতের অভ্যন্তরে অন্যত্র নেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিজিবির দাবি, বেনাপোল সীমান্তে তাদের কঠোর অবস্থান ও প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।

শূন্যরেখা থেকে ওই ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার পর সীমান্তে মোতায়েন করা অতিরিক্ত বিজিবি সদস্যদেরও প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় বিজিবির নিয়মিত টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার গভীর রাতে বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের হরিদাসপুর এলাকায় তিনটি ট্রাকে করে দেড় শতাধিক মানুষকে জড়ো করা হয়। পরে সীমান্তের আলো নিভিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ প্রায় ১৫ জনকে শূন্যরেখার দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের টহলরত সদস্যরা তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে বাধা দেন।

ঘটনার পর কয়েক দিন ধরে শূন্যরেখা এলাকায় অবস্থান করতে দেখা যায় ওই ব্যক্তিদের। স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে সীমান্তের ভারতীয় অংশে আরও শতাধিক মানুষকে অবস্থান করিয়ে রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী শনাক্তকরণ ও উচ্ছেদ কার্যক্রম জোরদার হওয়ার পর থেকে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তেও। বিশেষ করে ভারতে জন্মগ্রহণকারী ও দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত অনেক মানুষের নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খান বলেন, ‘সীমান্তে বিজিবি সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। রোববার রাত থেকে টহল জোরদার করা হয়েছিল এবং পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। বর্তমানে সদস্যরা নিয়মিত টহল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।’

এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ও স্থানীয় বাস্তবতা পর্যবেক্ষণে বুধবার বেনাপোল সফরে আসছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। দুপুর ১২টার দিকে তিনি সাদিপুর সীমান্ত পরিদর্শন করবেন এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

Continue Reading

top1

জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ: বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

Published

on

By

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ—এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে (Forced Labor) তৈরি পণ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে, যা মার্কিন বাণিজ্য ও শ্রমিকদের জন্য অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (USTR) সেকশন ৩০১ তদন্তের বরাত দিয়ে এই নতুন শুল্ক ব্যবস্থার প্রস্তাবনা প্রকাশ করে। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কোন দেশের ওপর কত শুল্ক?

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের প্রস্তাব অনুযায়ী, ৬০টি দেশকে দুটি ভাগে ভাগ করে এই শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করা হয়েছে:

১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক: বাংলাদেশ, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাজ্য, মেক্সিকো, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, কম্বোডিয়া, গুয়াতেমালা, এল সালভাদর, আর্জেন্টিনা ও ইন্দোনেশিয়াসহ ১৫টি দেশের পণ্যের ওপর এই হার প্রযোজ্য হবে।

১২.৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক: তালিকায় থাকা বাকি ৪৫টি দেশের পণ্যের ওপর এই উচ্চ হারে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

আইনি জটিলতা ও মার্কিন অবস্থান

সম্প্রতি গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি ক্ষমতা আইনের আওতায় আরোপিত শুল্ক বাতিল করে দেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাইডেন প্রশাসন এখন সম্পূর্ণ নতুন একটি আইনি কাঠামোর অধীনে এই শুল্ক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।

এক বিবৃতিতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন,

“আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি বন্ধে ব্যর্থতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে মার্কিন শ্রমিকদের বৈশ্বিক বাজারে এক অসম ও ক্ষতিকর প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে।”

যেসব পণ্য শুল্কমুক্ত থাকবে

নতুন এই প্রস্তাবনায় মার্কিন অর্থনীতির জন্য জরুরি বেশ কিছু খাত ও পণ্যকে অতিরিক্ত শুল্কের আওতা থেকে অব্যাহতি (Exemption) দেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে:

জ্বালানি ও বিরল খনিজ (Rare earth minerals)

নির্দিষ্ট কিছু ধাতু

গরুর মাংস, কফি এবং সুনির্দিষ্ট কিছু ফল ও সবজি

ওষুধ ও জৈব রাসায়নিক (Biochemicals)

বিমান তৈরির যন্ত্রাংশ (Aerospace parts)

পোশাক খাতের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক ও বস্ত্রের (RMG & Textile) জন্য এই প্রস্তাবনায় একটি বিশেষ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর আওতায় একটি নির্দিষ্ট কোটা বা পরিমাণ পর্যন্ত তৈরি পোশাক কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। তবে এই বিশেষ ব্যবস্থার বিস্তারিত শর্তাবলি এখনো প্রকাশ করেনি মার্কিন প্রশাসন।

পরবর্তী পদক্ষেপ ও শুনানি

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর জানিয়েছে, এই প্রস্তাবিত শুল্ক তালিকার বিষয়ে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও জনসাধারণের মতামত গ্রহণ করা হবে। এরপর ৭ জুলাই একটি প্রকাশ্য শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শুনানির পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের তারিখ ঘোষণা করা হতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের ভাবনা: যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক পদক্ষেপ বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে পোশাক খাতের জন্য প্রস্তাবিত ‘বিশেষ ব্যবস্থা’ এবং চূড়ান্ত শুনানিতে বাংলাদেশ কোনো ছাড় পাবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

Continue Reading

top1

খেলাপি ঋণ আরও বেড়েছে, ঝুঁকি বাড়ছে ব্যাংক খাতে

Published

on

By

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বেড়েছে। মোট ঋণের ৩২ শতাংশের বেশি ঋণখেলাপি হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ খেলাপি ঋণের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত তিন মাসের ব্যবধানে দেশের ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৩১ হাজার কোটি টাকার বেশি। দেশের ব্যাংকগুলোয় এখন মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক গত মার্চ পর্যন্ত হিসাব শেষ করে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

জানা যায়, ঋণখেলাপি হলে ব্যাংক খাতে তীব্র তারল্য সংকট (লিকুইডিটি) দেখা দেয়, যার ফলে ব্যাংকগুলো গ্রাহকের আমানতের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয় এবং নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা হারায়; খেলাপি ঋণের বিপরীতে বাধ্যতামূলক প্রভিশন বা সঞ্চিতি রাখতে গিয়ে ব্যাংকের মুনাফা ও মূলধন কমে যায়, যা বড় ধরনের অর্থনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এর আগে ঋণ আদায় ও পুনঃতপশিল সুবিধায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ নবায়ন হওয়ায় দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ হঠাৎ বড় লাফ দিয়েছিল। গত ডিসেম্বর মাস শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। মার্চ শেষে তিন মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। গত অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ কমলেও পরের প্রান্তিকে তা বেড়ে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, মার্চ মাস শেষে দেশের ৬১টি তপশিলি ব্যাংকে মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে ঋণ বিতরণ বেড়েছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। আর এখন মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ খেলাপি হয়ে পড়েছে।

রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বেশি। এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৪৬ শতাংশ। তবে এসব ব্যাংকে আগের প্রান্তিকের চেয়ে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ কমেছে। সব মিলিয়ে ওই সব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে খেলাপি ঋণ বেড়েছিল। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। দেশের ইতিহাসে ২০১৯ সালের মার্চে প্রথমবারের মতো খেলাপি ঋণ লাখের ঘর পেরিয়ে ১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা হয়। এর পর থেকে ধীরে ধীরে স্তূপাকারে জমা হতে থাকে খেলাপি ঋণ। ওই সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে ২০২৪ সালের জুনে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা।

গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সরকারের মেয়াদে ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে শুরু হয়। ওই সময় আবার আওয়ামী লীগ-সমর্থক অনেক গ্রাহক আত্মগোপনে চলে যায়। ফলে খেলাপি ঋণ হুহু করে বেড়ে যায়। এমন অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকার বিশেষ ছাড়ে ঋণ পুনঃতপশিলের সুযোগ দেয়। তাতে খেলাপি ঋণ কমে আসে।

ব্যাংকারদের মতে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে ব্যাংক খাতে অনিয়ম, জালিয়াতি, প্রতারণা ও সীমাহীন দুর্নীতির প্রভাবেই খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পায়। এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, হল-মার্ক গ্রুপসহ কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠী এবং ন্যাশনাল, ইসলামী ও বেসিক ব্যাংকে সংঘটিত কেলেঙ্কারির ঘটনায় খেলাপি ঋণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হতাশাজনক। সেজন্য আগের খেলাপি সুদ যোগ হয়ে মোট খেলাপির পরিমাণ ও হার দুটোই বেড়েছে। ঋণ চাহিদা বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বন্ধ কারখানা চালু ও অর্থনীতি সক্রিয় করতে।

Continue Reading

Trending