Connect with us

top1

রাষ্ট্রপতি জিয়াকে হত্যার পর জেনারেল মঞ্জুর প্রাণ বাঁচাতে যা করেছিলেন

Published

on

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন একদল সেনাসদস্যের হাতে।

ঘটনার আগের দিন তিনি চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বিরোধ মেটাতে।

চট্টগ্রামে বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ২৯ মে রাতে স্থানীয় সার্কিট হাউসে ঘুমিয়ে ছিলেন জিয়াউর রহমান।

ঘটনার পর ৩০ মে সকালে সার্কিট হাউসে গিয়েছিলেন সেনাবাহিনীর তৎকালীন মেজর রেজাউল করিম রেজা।

মেজর রেজা বলছিলেন, তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে সার্কিট হাউসে পাঠানো হয়েছিল, সেখানে আগে থেকে অবস্থান নিয়ে থাকা সৈন্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেবার জন্য।

‘কর্নেল মতিউর রহমান আমাকে ডাকেন। ডেকে বলেন যে জিয়াউর রহমানের ডেডবডিটা কিছু ট্রুপস সঙ্গে নিয়ে সার্কিট হাউস থেকে পাহাড়ের ভেতরে কোথাও কবর দেবার জন্য। আমি তখন তাকে বললাম যে আমাকে অন্য কাজ দেন। তারপর উনি মেজর শওকত আলীকে ডেকে ওই দায়িত্ব দিলেন।’

‘তখন আমাকে ডেকে বললেন যে তুমি এদের সাথে থাকো এবং সাথে যাও। গিয়ে সার্কিট হাউসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের সৈন্যদের নিয়ে আসবে। সার্কিট হাউসে যাওয়ার পর আমি সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠি। উঠে দেখি সিঁড়ি বারান্দায় একটা ডেডবডি কম্বল দিয়ে ঢাকা আছে। পাশে একজন পুলিশ দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এটা কার ডেডবডি? সে বলল, এটা রাষ্ট্রপতির। আমি বললাম, কম্বলটা খোলো। সেটা খোলার পর দেখলাম তার মাথাটা।’

কাছাকাছি দূরত্বেই পড়ে ছিল কর্নেল এহসান ও ক্যাপ্টেন হাফিজের মৃতদেহ।

ঘটনাস্থল থেকে মেজর রেজাউল করিম রেজা চট্টগ্রাম সেনানিবাসে চলে যান । অন্যদিকে মেজর শওকত আলী তার দল নিয়ে জিয়াউর রহমানের মৃতদেহ কবর দিতে নিয়ে যাযন।

মেজর রেজাউল করিম রেজা সার্কিট হাউস থেকে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট ফিরে এসে দেখেছিলেন যুদ্ধের পরিবেশ।

মেজর রেজার মতো যেসব সেনা কর্মকর্তা হয়তো ছুটিতে ছিলেন নতুবা অন্য কোনো কাজে ছিলেন, তাদের ডেকে এনে বিভিন্ন দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মেজর রেজার কাঁধে নতুন চাপে মেজর জেনারেল এ মঞ্জুরের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার দায়িত্ব।

চট্টগ্রাম সেনানিবাসের তখনকার জিওসি মেজর জেনারেল এ মঞ্জুর ৩০ মে সারা দিন কর্মকর্তা ও সৈন্যদের বিভিন্ন ব্যারাকে ঘুরে-ঘুরে বক্তব্য দিয়েছেন।

প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার দায়িত্ব থাকায় সারা দিন জেনারেল মঞ্জুরের সঙ্গে থাকতে হয়েছে মেজর রেজাউল করিম রেজাকে।

জেনারেল মঞ্জুর যখন সেনানিবাসের ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন একপর্যায়ে তার কাছে ঢাকা সেনানিবাস থেকে একটি টেলিফোন আসে।

টেলিফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হলো যে জেনারেল এরশাদ মেজর জেনারেল মঞ্জুরের সঙ্গে কথা বলতে চান।

কিন্তু জেনারেল এরশাদের সঙ্গে কথা বলার বিষয়ে মোটেই আগ্রহী ছিলেন না জেনারেল মঞ্জুর।

জেনারেল এরশাদ ফোন করার পর দুবার সেই টেলিফোন রিসিভ করেননি জেনারেল মঞ্জুর।

এ সময় জেনারেল মঞ্জুরের সঙ্গে থাকা তার প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা মেজর রেজাউল করিম রেজা পুরো ঘটনা কাছ থেকে দেখেছেন।

রেজা বলছিলেন, ‘আর্মি হেডকোয়ার্টার থেকে একটা ফোন এলো। জেনারেল মঞ্জুর ফোন রিসিভ করলেন। অপর প্রান্ত থেকে বলছে, জেনারেল এরশাদের সঙ্গে কথা বলেন। তখন জেনারেল মঞ্জুর বলেন, আই ক্যান নট টক টু এরশাদ। এ কথা বলে তিনি টেলিফোনটা রেখে দিলেন। আবার টেলিফোন এলো। আবার টেলিফোনে বলা হলো, ফর গড সেক স্যার, ফর গড সেক—ইউ টক টু জেনারেল এরশাদ। জেনারেল মঞ্জুর এমনভাবে ধরেছিলেন টেলিফোনটা, আমি ক্লিয়ার শুনতে পাচ্ছিলাম। জেনারেল মঞ্জুর আবার বললেন, আই ক্যান নট টক টু হিম। এ কথা বলে টেলিফোনটা রেখে দিলেন।’

রেজার কাছে মনে হয়েছিল মেজর জেনারেল মঞ্জুরের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে জেনারেল এরশাদ হয়তো ক্ষমতায় যেতে চেইছেন।

কিন্তু জেনারেল মঞ্জুর হয়তো জেনারেল এরশাদকে মেনে নিতে চাননি।

জিয়া হত্যার পটভূমি

জিয়াউর রহমানকে হত্যার পটভূমি তৈরি করা হয়েছিল অনেক আগে থেকেই।

এ কথা মনে করেন বিএনপির প্রয়াত সিনিয়র নেতা ও ব্রিগেডিয়ার (অব.) হান্নান শাহ। মৃত্যুর বেশ কয়েক বছর আগে বিবিসি বাংলার সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে তিনি এ কথা বলেছিলেন।

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের সময় হান্নান শাহ ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদায় চট্টগ্রাম মিলিটারি একাডেমিতে কর্মরত ছিলেন।

হান্নান শাহ বিবিসিকে বলেছিলেন, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের বছর দুয়েক আগে থেকেই সেনাবাহিনীর কতিপয় সিনিয়র অফিসারের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। জিয়াউর রহমান এ দ্বন্দ্ব সম্পর্কে জানতেন। সে জন্য দ্বন্দ্বে লিপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের তিনি পরস্পরের কাছ থেকে বেশ দূরের জায়গাগুলোতে পোস্টিং দিয়ে রেখেছিলেন।

হান্নান শাহ বলেন, ‘সেনাবাহিনীর একদল অফিসার রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট ছিলেন না। তারা মনে করছিলেন, যেসব অফিসার ও সৈনিক মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানে আটকা ছিলেন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন, জিয়াউর রহমান তাদের প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল এবং তাদের বেশি সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছেন।’

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ থেকেই একদল সৈনিক ও কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছিল বলে হান্নান শাহের ধারণা।

মেজর রেজাউল করিম রেজাও বলছিলেন, চট্টগ্রাম সেনানিবাসে ডেকে নেওয়ার পর কর্নেল মতিউরের কথায় তার সেটি মনে হয়েছে।

কর্নেল মতিউর তখন মেজর রেজাকে বলেন, ‘রেজা, তুমি কোথায় ছিলে? তোমাকে তো সময়মতো পাওয়া যায় না। আমি বললাম, কী হয়েছে? তখন তিনি বললেন, তুমি জানো না? প্রেসিডেন্ট ইজ কিল্ড! এখন আমাদের সব ফ্রিডম ফাইটারদের ইউনাইটেড থাকতে হবে।’

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের সময় সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। বিষয়টি নিয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি। সে সময় দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।

তখন সাত্তার দায়িত্ব নিয়ে ৩০ মে দুপুরের দিকে রেডিও-টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন।

বিচারপতি সাত্তার সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। যিনি পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছিলেন।

২০০৬ সালে কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বিএনপি ছেড়ে এলডিপি গঠন করেন।

৩০ মে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বঙ্গভবন থেকে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব অলি আহমেদকে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জানিয়েছেন।

তখন অলি আহমেদ দ্রুত বঙ্গভবনে যান। সে সময় সেনাপ্রধান জেনারেল এরশাদ, বিমান ও নৌবাহিনীর প্রধানসহ আরো কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা বঙ্গভবনে গিয়েছিলেন।

তারা সবাই বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন।

জিয়াউর রহমানকে হত্যার দিন অর্থাৎ, ৩০ মে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ছিল, সেটি তার পরদিন দ্রুত পাল্টাতে থাকে।

৩০ মে অনেক সেনা কর্মকর্তার মতো হান্নান শাহকেও মিলিটারি একাডেমি থেকে ডেকে নিয়ে বিদ্রোহের পক্ষে সমর্থন চাওয়া হয়েছিল।

কিন্তু হান্নান শাহ তাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। কিন্তু ৩১ মে ঢাকার সঙ্গে সমঝোতার জন্য মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে অনুরোধ করা হয় হান্নান শাহকে।

৩১ মে সারা দিন হান্নান শাহ ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন।

সেদিন রাতে তিনি যখন চট্টগ্রাম সেনানিবাসে বৈঠক করছিলেন, তখন সে বৈঠক থেকে বেরিয়ে জেনারেল মঞ্জুরসহ কয়েকজন পালিয়েছিলেন।

হান্নান শাহ বলছিলেন, ৩১ মে বিদ্রোহের সঙ্গে জড়িত সৈনিক ও অফিসারদের মধ্যে বিভক্তি দেখা গেল।

বিদ্রোহীদের পক্ষ ত্যাগ করে অনেকেই বিচারপতি সাত্তার সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। এসব খবর পেয়ে জেনারেল মঞ্জুর বিচলিত হয়ে পড়েন।

পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে চট্টগ্রাম ক্যান্টনম্যান্ট ছেড়ে পালিয়ে যান জেনারেল মঞ্জুর ও আরো কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা।

সে রাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে হান্নান শাহ বলেন, ‘৩১ মে রাত ১১টার দিকে জেনারেল মঞ্জুরের বাসা থেকে হঠাৎ একটি ফোন এলো। তিনি আমাকে এবং আরো কয়েকজন কর্মকর্তাকে বসিয়ে রেখে ওনার অফিস থেকে বাসায় গেলেন। কিন্তু ঘণ্টাখানেক পরেও তিনি ফিরে এলেন না। এমন অবস্থায় অন্য অফিসারদের তাদের কর্মস্থলে পাঠিয়ে দিয়ে আমি আমার কর্মস্থল মিলিটারি একাডেমিতে ফিরে এলাম। ইতোমধ্যে আমি জানতে পারলাম, জেনারেল মঞ্জুর তার পরিবার নিয়ে এবং অন্য বিদ্রোহী অফিসাররা পার্বত্য চট্টগ্রামের দিকে পালিয়ে গেছেন।’

মেজর জেনারেল মঞ্জুর ও কর্নেল মতিউর রহমান যে গাড়িবহরে পালিয়েছিলেন, সেখানে ছিলেন মেজর রেজাউল করিম রেজা।

কিছুদূর অগ্রসর হয়ে একটি পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছানোর পর সামনে গোলাগুলির শব্দ শুনতে পান তারা। তখন তারা লক্ষ করেন সামনে কিছু সৈন্য পাহাড়ের দিকে ছুটোছুটি করছেন। সে সময় জেনারেল মঞ্জুর গাড়ি ঘুরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। কিন্তু তাদের বহনকারী গাড়িটি হঠাৎ বিকল হয়ে পড়ে।

তখন তারা অন্য আরেকটি গাড়িতে করে পেছনের দিকে চলে আসেন। সেখানে একটি গ্রামে তারা গাড়ি থেকে নেমে হাঁটা শুরু করেন। এলাকাটিতে চা-বাগান ছিল। জেনারেল মঞ্জুর তখন চা-বাগানের এক কুলির বাড়িতে যান। কারণ তার সন্তানেরা ছিল ক্ষুধার্ত। সেখানে জেনারেল মঞ্জুরের সন্তানদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। সঙ্গে ছিলেন জেনারেল মঞ্জুরের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা মেজর রেজাউল করিম রেজা।

রেজা বলছিলেন, ‘ওনারা যখন খেতে বসেছিলেন, তখন হঠাৎ কুকুরের ঘেউ-ঘেউ শব্দ শুনতে পাই। তখন আমরা লক্ষ করলাম বেশ কিছুটা দূরে পাহাড়ি এলাকায় খাকি পোশাকের পুলিশ দেখা যাচ্ছে। তখন জেনারেল মঞ্জুর বললেন যে আমি পুলিশের কাছে সারেন্ডার করব।’

পুলিশ সদস্যরা যখন সামনের দিকে এগিয়ে আসছিলেন, তখন জেনারেল মঞ্জুর জঙ্গলের ভেতরে দাঁড়িয়ে যান।

মেজর রেজার বর্ণনা অনুযায়ী জেনারেল মঞ্জুর তখন পুলিশের উদ্দেশে বলেন, ‘এই যে বাবারা, তোমরা ওইখানে থাকো। সামনে আসিবে না। সামনে আসিলে তোমাদের অসুবিধা হইবে। আমি আসিতেছি। এ কথা বলে হনহন করে হেঁটে গিয়ে সারেন্ডার করলেন। তারপর আমিও গিয়ে সারেন্ডার করলাম।’

আত্মসমর্পণের পর তাদের হাটহাজারী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জেনারেল মঞ্জুর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তারা বললেন যে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা যাবে না।

তখন তাদের পুলিশের একটি ট্রাকে ওঠানো হলো। সে সময় একদল সেনাসদস্য এলো সেখানে।

একজন সেনাসদস্য জেনারেল মঞ্জুরের স্ত্রীকে বলল, ভাবি, আমরা আপনাদের নিতে এসেছি। জেনারেল মঞ্জুরের স্ত্রী বললেন, তারা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন এবং চট্টগ্রাম জেলে যাবেন। তিনি সৈন্যদের সঙ্গে সেনানিবাসে যেতে অস্বীকৃতি জানান।

মেজর রেজার বর্ণনা অনুযায়ী তখন জেনারেল মঞ্জুর সেনাসদস্যদের বলেন , ‘তোমাদের লজ্জা করে না? তোমরা সব ঘটনা ঘটাইলা, তোমরা আবার সারেন্ডার করলা। তোমরা আইছ আমাকে ধইরা নিতে। যাও, আমি তোমাদের সাথে যাব না।’

সে সময় একজন নায়েব সুবেদার এসে জেনারেল মঞ্জুরের হাত ধরে টেনে গাড়ি থেকে নামিয়ে আনেন এবং তার হাত ও চোখ বেঁধে ফেলেন।

জেনারেল মঞ্জুরকে ধরে নেওয়ার পর হত্যা কারার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে একটি হত্যা মামলা বিচারাধীন আছে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সে মামলার অন্যতম আসামি।

অন্যদিকে পালানোর সময় গুলিতে নিহত হয়েছিলেন কর্নেল মতিউর রহমান।

অবশেষে কবরের সন্ধান

নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে ১ জুন জিয়াউর রহমানের মৃতদেহ খুঁজতে বের হয়েছিলেন ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ। তার সঙ্গে ছিলেন কয়েকজন সিপাহি, একটি ওয়্যারলেস সেট এবং একটি স্ট্রেচার।

তারা কাপ্তাই রাস্তার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। তারা একটি অনুমানের ওপর ভিত্তি করে নতুন কবরের সন্ধান করছিলেন। তখন একজন গ্রামবাসী এসে তাদের জিজ্ঞেস করেন যে তারা কী খোঁজ করছেন।

ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ এক গ্রামবাসীকে জিজ্ঞেস করেন, সেনাবাহিনীর সৈন্যরা সেখানে কোনো ব্যক্তিকে সম্প্রতি দাফন করেছে কি না।

তখন সেই গ্রামবাসী একটি ছোট পাহাড় দেখিয়ে জানালেন, কয়েক দিন আগে সৈন্যরা সেখানে একজনকে কবর দিয়েছে।

তবে সেই গ্রামবাসী জানতেন না যে কাকে সেখানে কবর দেওয়া হয়েছে।

গ্রামবাসীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হান্নান শাহ সৈন্যদের নিয়ে সেখানে গিয়ে দেখেন নতুন মাটিতে চাপা দেওয়া একটি কবর।

সেখানে মাটি খুঁড়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং আরো দুই সেনা কর্মকর্তার মৃতদেহ দেখতে পান তারা।

তখন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃতদেহ তুলে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে আনা হয়। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে জিয়াউর রহমানের মৃতদেহ ঢাকায় পাঠানো হয়।

বিএনপি নেতা হান্নান শাহ মনে করেন, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার না হওয়ায় ঘটনা নিয়ে রহস্য রয়ে গেছে।

সে সময় বিদ্রোহের অভিযোগে ১৮ জন সামরিক কর্মকর্তার বিচার করা হয়েছিল। এদের মধ্য ১৩ জন সেনা কর্মকর্তার ফাঁসি এবং বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

‘ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়’: এমপি নজরুলের স্ত্রীর চিরকুট

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া একাধিক হাতে লেখা চিঠি ও নোটে সম্পর্কের টানাপোড়েন, বিশ্বাসভঙ্গ, ক্ষোভ এবং আত্মমর্যাদার বিষয় উঠে এসেছে। এসব লেখায় নিজেকে ‘দাবার ঘুঁটি’ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার আক্ষেপের পাশাপাশি সম্পর্কের পরিণতি নিয়েও সতর্কবার্তা রয়েছে।

জাতীয় সংসদের অফিশিয়াল প্যাডে কালো কালিতে লেখা একটি নোটে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ তুলে বলা হয়েছে, লেখক একসময় বিশ্বাস নিয়ে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। পরে বুঝতে পারেন, যাকে বিশ্বাস করেছিলেন তিনিই ছিলেন ‘বিপক্ষ দলের সেনাপতি’।

আরেকটি সাদা পাতায় সম্পর্কের অধিকার ও অপূর্ণতা নিয়ে লেখা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, অন্য কারও স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর চেয়ে তাকে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের। একই লেখায় বলা হয়েছে, ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়—এটি হয় সম্পূর্ণ, নয়তো অপূর্ণ।

অন্য একটি নোটে ‘বন্ধুত্ব’ ও ‘গেমস’-এর প্রসঙ্গ তুলে নিজের অবস্থানকে দাবার ঘুঁটির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। লেখায় আস্থার সুযোগ নিয়ে প্রতারণার অভিযোগও করা হয়।

সংসদের প্যাডে লেখা আরেকটি অংশে ক্ষোভের পাশাপাশি সতর্কবার্তা রয়েছে। সেখানে বিশ্বাসের কারণে প্রতারিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে ভবিষ্যৎ পরিণতি সম্পর্কে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। লাল কালিতে লেখা আরেকটি সংক্ষিপ্ত নোটে নিজের আত্মমর্যাদার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া নথিগুলোর মধ্যে ‘১২-০৭-২০২৬’ তারিখ লেখা একটি আলাদা পাতাও রয়েছে। সেখানে ঘুমানোর আগে পাঠের জন্য কয়েকটি ধর্মীয় আমল ও দোয়ার তালিকা রয়েছে। এতে কালেমা, বিভিন্ন দোয়া, আয়াতুল কুরসি এবং নির্দিষ্ট সংখ্যায় দরুদ শরিফ ও ইস্তিগফারের উল্লেখ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া এসব নথির হাতের লেখা ও বিষয়বস্তু গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Continue Reading

top1

৮ দিন পর উৎপাদনে ফিরল রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট

Published

on

By

বাগেরহাট প্রতিনিধি

যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের পর আট দিন বন্ধ থাকার পর বাগেরহাটের রামপাল মৈত্রী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটে আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। ৬২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিটটি রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উৎপাদনে যায়। চালুর প্রথম দিনে ইউনিটটি থেকে ৩৬৮ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফপিসিএল) প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত ১৩ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। বয়লার অতিরিক্ত গরম হওয়া ও কারিগরি জটিলতার পর মেরামতের জন্য ভারত থেকে দুজন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আনা হয়। তাঁদের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় মেরামত শেষে রোববার ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয়েছে।

আনোয়ারুল আজিম বলেন, বর্তমানে কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটেই বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছে। দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়িয়ে জাতীয় গ্রিডে আরও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রটিতে পর্যাপ্ত কয়লাও মজুদ রয়েছে।

রামপাল মৈত্রী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। তবে স্বাভাবিকভাবে দুটি ইউনিট একসঙ্গে চললে সাধারণত ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়।

কর্তৃপক্ষ জানায়, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মাঝেমধ্যে কেন্দ্রটির কোনো একটি ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ হতে পারে। এ ধরনের ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১০ সালে। ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও ভারতের এনটিপিসির মধ্যে চুক্তি সই হয়। পরে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড গঠন করা হয়।

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার রাজনগর ও গৌরম্ভা ইউনিয়নের সাপমারী-কৈগর্দ্দাশকাঠি মৌজায় প্রায় ১ হাজার ৩৪ একর জমিতে কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর উৎপাদনে যায়। দ্বিতীয় ইউনিট পরীক্ষামূলক উৎপাদনে যায় ২০২৩ সালের ২৪ অক্টোবর এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে ২০২৪ সালের ১২ মার্চ।

দ্বিতীয় ইউনিটটি গত ১৩ সেপ্টেম্বর বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কেন্দ্রটির সামগ্রিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে যায়। এর আগে কেন্দ্রটি জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল।

Continue Reading

top1

ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, হাসপাতালে ১৫৯৩

Published

on

By

ডেঙ্গুতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৫৯৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১৮৪ এবং আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১ হাজার ৯৭২ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের রবিবারে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

এতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে দুইজন চট্টগ্রাম, দুইজন খুলনা, একজন ঢাকা এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে বরিশাল বিভাগে।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে- ৬৮৭ জন।

এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৩২ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৭১ জন এবং দুই সিটি করপোরেশনের বাইরের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে ৩৮৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ২৯২ জন, বরিশাল বিভাগে ১৫৪, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬৭, রাজশাহী বিভাগে ১৩৭, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮২, রংপুর বিভাগে ৬৫ এবং সিলেট বিভাগে ৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৫৮৭ জন ডেঙ্গু রোগী। চলতি বছরে এ পর্যন্ত চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৬১০ জন।

Continue Reading

Trending