Connect with us

top1

রাষ্ট্রপতি জিয়াকে হত্যার পর জেনারেল মঞ্জুর প্রাণ বাঁচাতে যা করেছিলেন

Published

on

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন একদল সেনাসদস্যের হাতে।

ঘটনার আগের দিন তিনি চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বিরোধ মেটাতে।

চট্টগ্রামে বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ২৯ মে রাতে স্থানীয় সার্কিট হাউসে ঘুমিয়ে ছিলেন জিয়াউর রহমান।

ঘটনার পর ৩০ মে সকালে সার্কিট হাউসে গিয়েছিলেন সেনাবাহিনীর তৎকালীন মেজর রেজাউল করিম রেজা।

মেজর রেজা বলছিলেন, তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে সার্কিট হাউসে পাঠানো হয়েছিল, সেখানে আগে থেকে অবস্থান নিয়ে থাকা সৈন্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেবার জন্য।

‘কর্নেল মতিউর রহমান আমাকে ডাকেন। ডেকে বলেন যে জিয়াউর রহমানের ডেডবডিটা কিছু ট্রুপস সঙ্গে নিয়ে সার্কিট হাউস থেকে পাহাড়ের ভেতরে কোথাও কবর দেবার জন্য। আমি তখন তাকে বললাম যে আমাকে অন্য কাজ দেন। তারপর উনি মেজর শওকত আলীকে ডেকে ওই দায়িত্ব দিলেন।’

‘তখন আমাকে ডেকে বললেন যে তুমি এদের সাথে থাকো এবং সাথে যাও। গিয়ে সার্কিট হাউসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের সৈন্যদের নিয়ে আসবে। সার্কিট হাউসে যাওয়ার পর আমি সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠি। উঠে দেখি সিঁড়ি বারান্দায় একটা ডেডবডি কম্বল দিয়ে ঢাকা আছে। পাশে একজন পুলিশ দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এটা কার ডেডবডি? সে বলল, এটা রাষ্ট্রপতির। আমি বললাম, কম্বলটা খোলো। সেটা খোলার পর দেখলাম তার মাথাটা।’

কাছাকাছি দূরত্বেই পড়ে ছিল কর্নেল এহসান ও ক্যাপ্টেন হাফিজের মৃতদেহ।

ঘটনাস্থল থেকে মেজর রেজাউল করিম রেজা চট্টগ্রাম সেনানিবাসে চলে যান । অন্যদিকে মেজর শওকত আলী তার দল নিয়ে জিয়াউর রহমানের মৃতদেহ কবর দিতে নিয়ে যাযন।

মেজর রেজাউল করিম রেজা সার্কিট হাউস থেকে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট ফিরে এসে দেখেছিলেন যুদ্ধের পরিবেশ।

মেজর রেজার মতো যেসব সেনা কর্মকর্তা হয়তো ছুটিতে ছিলেন নতুবা অন্য কোনো কাজে ছিলেন, তাদের ডেকে এনে বিভিন্ন দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মেজর রেজার কাঁধে নতুন চাপে মেজর জেনারেল এ মঞ্জুরের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার দায়িত্ব।

চট্টগ্রাম সেনানিবাসের তখনকার জিওসি মেজর জেনারেল এ মঞ্জুর ৩০ মে সারা দিন কর্মকর্তা ও সৈন্যদের বিভিন্ন ব্যারাকে ঘুরে-ঘুরে বক্তব্য দিয়েছেন।

প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার দায়িত্ব থাকায় সারা দিন জেনারেল মঞ্জুরের সঙ্গে থাকতে হয়েছে মেজর রেজাউল করিম রেজাকে।

জেনারেল মঞ্জুর যখন সেনানিবাসের ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন একপর্যায়ে তার কাছে ঢাকা সেনানিবাস থেকে একটি টেলিফোন আসে।

টেলিফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হলো যে জেনারেল এরশাদ মেজর জেনারেল মঞ্জুরের সঙ্গে কথা বলতে চান।

কিন্তু জেনারেল এরশাদের সঙ্গে কথা বলার বিষয়ে মোটেই আগ্রহী ছিলেন না জেনারেল মঞ্জুর।

জেনারেল এরশাদ ফোন করার পর দুবার সেই টেলিফোন রিসিভ করেননি জেনারেল মঞ্জুর।

এ সময় জেনারেল মঞ্জুরের সঙ্গে থাকা তার প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা মেজর রেজাউল করিম রেজা পুরো ঘটনা কাছ থেকে দেখেছেন।

রেজা বলছিলেন, ‘আর্মি হেডকোয়ার্টার থেকে একটা ফোন এলো। জেনারেল মঞ্জুর ফোন রিসিভ করলেন। অপর প্রান্ত থেকে বলছে, জেনারেল এরশাদের সঙ্গে কথা বলেন। তখন জেনারেল মঞ্জুর বলেন, আই ক্যান নট টক টু এরশাদ। এ কথা বলে তিনি টেলিফোনটা রেখে দিলেন। আবার টেলিফোন এলো। আবার টেলিফোনে বলা হলো, ফর গড সেক স্যার, ফর গড সেক—ইউ টক টু জেনারেল এরশাদ। জেনারেল মঞ্জুর এমনভাবে ধরেছিলেন টেলিফোনটা, আমি ক্লিয়ার শুনতে পাচ্ছিলাম। জেনারেল মঞ্জুর আবার বললেন, আই ক্যান নট টক টু হিম। এ কথা বলে টেলিফোনটা রেখে দিলেন।’

রেজার কাছে মনে হয়েছিল মেজর জেনারেল মঞ্জুরের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে জেনারেল এরশাদ হয়তো ক্ষমতায় যেতে চেইছেন।

কিন্তু জেনারেল মঞ্জুর হয়তো জেনারেল এরশাদকে মেনে নিতে চাননি।

জিয়া হত্যার পটভূমি

জিয়াউর রহমানকে হত্যার পটভূমি তৈরি করা হয়েছিল অনেক আগে থেকেই।

এ কথা মনে করেন বিএনপির প্রয়াত সিনিয়র নেতা ও ব্রিগেডিয়ার (অব.) হান্নান শাহ। মৃত্যুর বেশ কয়েক বছর আগে বিবিসি বাংলার সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে তিনি এ কথা বলেছিলেন।

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের সময় হান্নান শাহ ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদায় চট্টগ্রাম মিলিটারি একাডেমিতে কর্মরত ছিলেন।

হান্নান শাহ বিবিসিকে বলেছিলেন, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের বছর দুয়েক আগে থেকেই সেনাবাহিনীর কতিপয় সিনিয়র অফিসারের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। জিয়াউর রহমান এ দ্বন্দ্ব সম্পর্কে জানতেন। সে জন্য দ্বন্দ্বে লিপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের তিনি পরস্পরের কাছ থেকে বেশ দূরের জায়গাগুলোতে পোস্টিং দিয়ে রেখেছিলেন।

হান্নান শাহ বলেন, ‘সেনাবাহিনীর একদল অফিসার রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট ছিলেন না। তারা মনে করছিলেন, যেসব অফিসার ও সৈনিক মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানে আটকা ছিলেন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন, জিয়াউর রহমান তাদের প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল এবং তাদের বেশি সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছেন।’

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ থেকেই একদল সৈনিক ও কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছিল বলে হান্নান শাহের ধারণা।

মেজর রেজাউল করিম রেজাও বলছিলেন, চট্টগ্রাম সেনানিবাসে ডেকে নেওয়ার পর কর্নেল মতিউরের কথায় তার সেটি মনে হয়েছে।

কর্নেল মতিউর তখন মেজর রেজাকে বলেন, ‘রেজা, তুমি কোথায় ছিলে? তোমাকে তো সময়মতো পাওয়া যায় না। আমি বললাম, কী হয়েছে? তখন তিনি বললেন, তুমি জানো না? প্রেসিডেন্ট ইজ কিল্ড! এখন আমাদের সব ফ্রিডম ফাইটারদের ইউনাইটেড থাকতে হবে।’

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের সময় সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। বিষয়টি নিয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি। সে সময় দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।

তখন সাত্তার দায়িত্ব নিয়ে ৩০ মে দুপুরের দিকে রেডিও-টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন।

বিচারপতি সাত্তার সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। যিনি পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছিলেন।

২০০৬ সালে কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বিএনপি ছেড়ে এলডিপি গঠন করেন।

৩০ মে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বঙ্গভবন থেকে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব অলি আহমেদকে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জানিয়েছেন।

তখন অলি আহমেদ দ্রুত বঙ্গভবনে যান। সে সময় সেনাপ্রধান জেনারেল এরশাদ, বিমান ও নৌবাহিনীর প্রধানসহ আরো কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা বঙ্গভবনে গিয়েছিলেন।

তারা সবাই বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন।

জিয়াউর রহমানকে হত্যার দিন অর্থাৎ, ৩০ মে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ছিল, সেটি তার পরদিন দ্রুত পাল্টাতে থাকে।

৩০ মে অনেক সেনা কর্মকর্তার মতো হান্নান শাহকেও মিলিটারি একাডেমি থেকে ডেকে নিয়ে বিদ্রোহের পক্ষে সমর্থন চাওয়া হয়েছিল।

কিন্তু হান্নান শাহ তাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। কিন্তু ৩১ মে ঢাকার সঙ্গে সমঝোতার জন্য মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে অনুরোধ করা হয় হান্নান শাহকে।

৩১ মে সারা দিন হান্নান শাহ ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন।

সেদিন রাতে তিনি যখন চট্টগ্রাম সেনানিবাসে বৈঠক করছিলেন, তখন সে বৈঠক থেকে বেরিয়ে জেনারেল মঞ্জুরসহ কয়েকজন পালিয়েছিলেন।

হান্নান শাহ বলছিলেন, ৩১ মে বিদ্রোহের সঙ্গে জড়িত সৈনিক ও অফিসারদের মধ্যে বিভক্তি দেখা গেল।

বিদ্রোহীদের পক্ষ ত্যাগ করে অনেকেই বিচারপতি সাত্তার সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। এসব খবর পেয়ে জেনারেল মঞ্জুর বিচলিত হয়ে পড়েন।

পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে চট্টগ্রাম ক্যান্টনম্যান্ট ছেড়ে পালিয়ে যান জেনারেল মঞ্জুর ও আরো কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা।

সে রাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে হান্নান শাহ বলেন, ‘৩১ মে রাত ১১টার দিকে জেনারেল মঞ্জুরের বাসা থেকে হঠাৎ একটি ফোন এলো। তিনি আমাকে এবং আরো কয়েকজন কর্মকর্তাকে বসিয়ে রেখে ওনার অফিস থেকে বাসায় গেলেন। কিন্তু ঘণ্টাখানেক পরেও তিনি ফিরে এলেন না। এমন অবস্থায় অন্য অফিসারদের তাদের কর্মস্থলে পাঠিয়ে দিয়ে আমি আমার কর্মস্থল মিলিটারি একাডেমিতে ফিরে এলাম। ইতোমধ্যে আমি জানতে পারলাম, জেনারেল মঞ্জুর তার পরিবার নিয়ে এবং অন্য বিদ্রোহী অফিসাররা পার্বত্য চট্টগ্রামের দিকে পালিয়ে গেছেন।’

মেজর জেনারেল মঞ্জুর ও কর্নেল মতিউর রহমান যে গাড়িবহরে পালিয়েছিলেন, সেখানে ছিলেন মেজর রেজাউল করিম রেজা।

কিছুদূর অগ্রসর হয়ে একটি পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছানোর পর সামনে গোলাগুলির শব্দ শুনতে পান তারা। তখন তারা লক্ষ করেন সামনে কিছু সৈন্য পাহাড়ের দিকে ছুটোছুটি করছেন। সে সময় জেনারেল মঞ্জুর গাড়ি ঘুরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। কিন্তু তাদের বহনকারী গাড়িটি হঠাৎ বিকল হয়ে পড়ে।

তখন তারা অন্য আরেকটি গাড়িতে করে পেছনের দিকে চলে আসেন। সেখানে একটি গ্রামে তারা গাড়ি থেকে নেমে হাঁটা শুরু করেন। এলাকাটিতে চা-বাগান ছিল। জেনারেল মঞ্জুর তখন চা-বাগানের এক কুলির বাড়িতে যান। কারণ তার সন্তানেরা ছিল ক্ষুধার্ত। সেখানে জেনারেল মঞ্জুরের সন্তানদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। সঙ্গে ছিলেন জেনারেল মঞ্জুরের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা মেজর রেজাউল করিম রেজা।

রেজা বলছিলেন, ‘ওনারা যখন খেতে বসেছিলেন, তখন হঠাৎ কুকুরের ঘেউ-ঘেউ শব্দ শুনতে পাই। তখন আমরা লক্ষ করলাম বেশ কিছুটা দূরে পাহাড়ি এলাকায় খাকি পোশাকের পুলিশ দেখা যাচ্ছে। তখন জেনারেল মঞ্জুর বললেন যে আমি পুলিশের কাছে সারেন্ডার করব।’

পুলিশ সদস্যরা যখন সামনের দিকে এগিয়ে আসছিলেন, তখন জেনারেল মঞ্জুর জঙ্গলের ভেতরে দাঁড়িয়ে যান।

মেজর রেজার বর্ণনা অনুযায়ী জেনারেল মঞ্জুর তখন পুলিশের উদ্দেশে বলেন, ‘এই যে বাবারা, তোমরা ওইখানে থাকো। সামনে আসিবে না। সামনে আসিলে তোমাদের অসুবিধা হইবে। আমি আসিতেছি। এ কথা বলে হনহন করে হেঁটে গিয়ে সারেন্ডার করলেন। তারপর আমিও গিয়ে সারেন্ডার করলাম।’

আত্মসমর্পণের পর তাদের হাটহাজারী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জেনারেল মঞ্জুর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তারা বললেন যে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা যাবে না।

তখন তাদের পুলিশের একটি ট্রাকে ওঠানো হলো। সে সময় একদল সেনাসদস্য এলো সেখানে।

একজন সেনাসদস্য জেনারেল মঞ্জুরের স্ত্রীকে বলল, ভাবি, আমরা আপনাদের নিতে এসেছি। জেনারেল মঞ্জুরের স্ত্রী বললেন, তারা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন এবং চট্টগ্রাম জেলে যাবেন। তিনি সৈন্যদের সঙ্গে সেনানিবাসে যেতে অস্বীকৃতি জানান।

মেজর রেজার বর্ণনা অনুযায়ী তখন জেনারেল মঞ্জুর সেনাসদস্যদের বলেন , ‘তোমাদের লজ্জা করে না? তোমরা সব ঘটনা ঘটাইলা, তোমরা আবার সারেন্ডার করলা। তোমরা আইছ আমাকে ধইরা নিতে। যাও, আমি তোমাদের সাথে যাব না।’

সে সময় একজন নায়েব সুবেদার এসে জেনারেল মঞ্জুরের হাত ধরে টেনে গাড়ি থেকে নামিয়ে আনেন এবং তার হাত ও চোখ বেঁধে ফেলেন।

জেনারেল মঞ্জুরকে ধরে নেওয়ার পর হত্যা কারার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে একটি হত্যা মামলা বিচারাধীন আছে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সে মামলার অন্যতম আসামি।

অন্যদিকে পালানোর সময় গুলিতে নিহত হয়েছিলেন কর্নেল মতিউর রহমান।

অবশেষে কবরের সন্ধান

নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে ১ জুন জিয়াউর রহমানের মৃতদেহ খুঁজতে বের হয়েছিলেন ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ। তার সঙ্গে ছিলেন কয়েকজন সিপাহি, একটি ওয়্যারলেস সেট এবং একটি স্ট্রেচার।

তারা কাপ্তাই রাস্তার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। তারা একটি অনুমানের ওপর ভিত্তি করে নতুন কবরের সন্ধান করছিলেন। তখন একজন গ্রামবাসী এসে তাদের জিজ্ঞেস করেন যে তারা কী খোঁজ করছেন।

ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ এক গ্রামবাসীকে জিজ্ঞেস করেন, সেনাবাহিনীর সৈন্যরা সেখানে কোনো ব্যক্তিকে সম্প্রতি দাফন করেছে কি না।

তখন সেই গ্রামবাসী একটি ছোট পাহাড় দেখিয়ে জানালেন, কয়েক দিন আগে সৈন্যরা সেখানে একজনকে কবর দিয়েছে।

তবে সেই গ্রামবাসী জানতেন না যে কাকে সেখানে কবর দেওয়া হয়েছে।

গ্রামবাসীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হান্নান শাহ সৈন্যদের নিয়ে সেখানে গিয়ে দেখেন নতুন মাটিতে চাপা দেওয়া একটি কবর।

সেখানে মাটি খুঁড়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং আরো দুই সেনা কর্মকর্তার মৃতদেহ দেখতে পান তারা।

তখন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃতদেহ তুলে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে আনা হয়। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে জিয়াউর রহমানের মৃতদেহ ঢাকায় পাঠানো হয়।

বিএনপি নেতা হান্নান শাহ মনে করেন, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার না হওয়ায় ঘটনা নিয়ে রহস্য রয়ে গেছে।

সে সময় বিদ্রোহের অভিযোগে ১৮ জন সামরিক কর্মকর্তার বিচার করা হয়েছিল। এদের মধ্য ১৩ জন সেনা কর্মকর্তার ফাঁসি এবং বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

মে মাসে ভারত সীমান্তে ৬ বাংলাদেশি নিহত, আটক ১৪

Published

on

By

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে গত মে মাসে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর (বিএসএফ) হামলায় ৬ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২০ জন। এছাড়া ১৪ বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিএসএফ।

শুক্রবার (৫ জুন) মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদনে এ চিত্র দেখা গেছে।

সীমান্তে হতাহত ও আটকের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ছয়টি হামলার ঘটনায় ছয়জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন, এদের মধ্যে ৩ জন গুলিবিদ্ধ। তাছাড়া বিএসএফ কর্তৃক ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। অপরদিকে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণের ৩ জন নিহত ও ১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ৪টি ঘটনায় ১৮ জনকে আটক করেছেন আরাকান আর্মি।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে দেশে মোট ৬৪টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যাতে ৫ জন নিহত এবং ২৮৯ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিএনপির একজন, জামায়াতের একজন, পার্বত্য চট্টগ্রামের দল ইউপিডিএফের দুজন এবং একজন সাধারণ নারী রয়েছেন। আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ ও চাঁদাবাজি কেন্দ্রিক এসব সহিংসতার ঘটনায় ১৩৪টি বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

আশঙ্কাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে মব ও গণপিটুনির ঘটনায়। মে মাসে ৬৬টি গণপিটুনির ঘটনায় অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ৬৮ জন আহত হয়েছেন। চুরি, ডাকাতি ও ধর্মীয় অবমাননাসহ বিভিন্ন অভিযোগে এই গণপিটুনির ঘটনাগুলো ঘটেছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও প্রতিবেদনে বেশ নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। এতে দেখা যায়, মে মাসে ৩৯টি ঘটনায় ৭৮ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ৪২ জন সরাসরি আহত হয়েছেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ফলে ১১টি ঘটনায় ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সমালোচনা করায় এই আইনি পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে।

এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম মানবাধিকার রক্ষায় সরকারকে আরও জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মতামতের জন্য গ্রেপ্তারের ঘটনাগুলো সমাধান না হলে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।

Continue Reading

top1

পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবির পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়ালো গ্রামবাসী

Published

on

By

কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ওই এলাকার বাসিন্দারাও পুশইন ঠেকাতে তৎপর।

সীমান্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সীমান্ত পরিস্থিতিতে কিছুটা উত্তেজনা ও শঙ্কা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে কয়েকদিন ধরে ভারতে অবস্থানরত কিছু মানুষকে বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে বিএসএফ।

জানা গেছে, সীমান্তে বিভিন্ন এলাকায় হোল্ডিং সেন্টারে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ থেকে ১৫ জনকে জড়ো করে ছোট যানবাহনে করে সীমান্তের কাছাকাছি এনে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। তবে কুষ্টিয়ার ৪৭ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের কোনো চেষ্টা সফল হয়নি।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ৪৭ বিজিবির আওতাধীন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের প্রায় ৪৬ কিলোমিটার এবং মেহেরপুরের গাংনী সীমান্তের ৩৬ কিলোমিটার এলাকায় বিজিবি সদস্যরা দিনরাত দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন বিওপিতে অতিরিক্ত জনবলও মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে নজরদারি ও টহল কার্যক্রমে নানাভাবে সহযোগিতা করছেন।

বিজিবি সূত্র জানায়, স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর হয়েছে।

দৌলতপুর সীমান্তে চিলমারী ইউনিয়নের চল্লিশপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহিরুল ইসলাম জানায়, ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের যে চেষ্টা চলছে, তা আমরা কখনও হতে দেব না। বিজিবি যেভাবে দিন-রাত টহল পরিচালনা করছে, তাতে অবৈধ অনুপ্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত মাইকিং ও বাঁশি বাজিয়ে সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আমরাও সীমান্তবাসী হিসেবে বিজিবির সঙ্গে থেকে সীমান্ত সুরক্ষায় সহযোগিতা করে যাচ্ছি।

৪৭ বিজিবি কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, আমার দায়িত্বপূর্ণ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও মেহেরপুরের গাংনী সীমান্ত এলাকা দিয়ে একাধিকবার পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়েছে। আমরা কোনোভাবেই তা সমর্থন করিনি। সীমান্তে ২৪ ঘণ্টা টহল, মাইকিং ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সম্ভাব্য পুশইন পয়েন্টগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও জনবল বাড়ানো হবে। সীমান্ত রক্ষার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

কর্নেল রাশেদ কামাল রনি আরও জানান, এই অস্থিরতার মধ্যে সীমান্তে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকেরা আমাদের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তারা পালাক্রমে বিজিবির সঙ্গে টহল কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন। এ জন্য সীমান্ত এলাকার মানুষের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন

Continue Reading

top1

কার অনুমতিতে জাবের হাদি হত্যা মামলার বাদী?: ওসমান হাদির বোন

Published

on

By

শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নোংরামি’ ও ‘মিথ্যাচার’ চলছে।

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ১১টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি ঘটনার সময়কার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

মাসুমা হাদি বলেন, শুরু থেকেই তিনি পারিবারিক কারণে অনেক গুরুতর বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেননি। তবে ভাইয়ের মামলার বাদী নির্বাচন ঘিরে দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ধরনের আলোচনা চলছে, তাতে বাধ্য হয়ে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করতে চান।

তিনি দাবি করেন, তার ভাই গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়ার পর তিনি দ্রুত ঢাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে যান এবং পুরো সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তার ভাষায়, হাসপাতালে অবস্থানকালে তিনি এক মুহূর্তের জন্যও স্থান ত্যাগ করেননি।

মাসুমা হাদি প্রশ্ন তোলেন, হাসপাতালে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কেন প্রশাসনের লোকজন আব্দুল্লাহ আল জাবেরের কাছ থেকে মামলার স্বাক্ষর নেয়া হলো। বিষয়টি নিয়ে তিনি একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছেন বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, তাকে জানানো হয়েছিল—একজন স্বজন ওমর ফারুক তখন চিকিৎসা পরিস্থিতির কারণে পরবর্তী সময়ে বিষয়টি দেখবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। ওই মুহূর্তে চিকিৎসাই অগ্রাধিকার ছিল বলেও ব্যাখ্যা দেন তিনি।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ফৌজদারি মামলায় বাদীর স্বাক্ষর আগে বা পরে হওয়ার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা নেই এবং পুলিশ চাইলে ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বতঃপ্রণোদিতভাবেও আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে।

ওমর ফারুকের ভূমিকা নিয়েও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন মাসুমা হাদি। তিনি দাবি করেন, আহত অবস্থায় হাসপাতালে থাকা ও পরিস্থিতির চাপের মধ্যেও চিকিৎসা ও বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগে ভূমিকা রাখেন ওমর ফারুক। পরে সরকারের উদ্যোগে চিকিৎসা প্রক্রিয়া এগিয়ে যায় বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, ভাইয়ের চিকিৎসা ও সংকটময় সময় নিয়ে পরিবার শুরুতে অনেক কিছু প্রকাশ্যে আনেনি, তবে সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা ও সমালোচনার কারণে তারা বাধ্য হয়ে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।

মাসুমা হাদি আরও অভিযোগ করেন, একটি ‘বিপ্লবী’ ব্যক্তিত্বের পরিবারকে ঘিরে অনলাইনে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অসম্মান ছড়ানো হচ্ছে। তিনি এসব অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান জানান এবং বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক না করার অনুরোধ করেন।

Continue Reading

Trending