ডিজিটাল ডেস্ক
মরক্কো থেকে উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী প্রবেশ করেছেন। এ সময় সমুদ্র ও সীমান্ত পেরিয়ে শহরটিতে ঢোকার চেষ্টাকালে অন্তত ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
সেউতার আঞ্চলিক সরকারের প্রধান হুয়ান জেসুস ভিভাস বলেন, সাম্প্রতিক কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ সেউতায় প্রবেশ করেছেন। এই সংখ্যা শহরটির মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি। একই সময়ে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ৩৪ জনের প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে।
এর আগে সেউতায় কতজন অভিবাসী প্রবেশ করেছেন, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ভিভাসের বক্তব্যের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো সম্ভাব্য মোট সংখ্যার একটি সরকারি হিসাব সামনে এলো।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, মরক্কোর উপকূল থেকে অনেক অভিবাসী ভাসমান ইনফ্ল্যাটেবল ডিভাইস ব্যবহার করে সাঁতরে সেউতায় প্রবেশ করছেন। কয়েকজনকে ‘স্পেন দীর্ঘজীবী হোক’ স্লোগান দিতেও দেখা যায়।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রকাশিত ফুটেজে আরও দেখা যায়, বড় বড় অভিবাসী দল ব্রেকওয়াটার অতিক্রম করে সেউতার সড়কে উঠে আসছে। অন্যদিকে স্পেনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইএফই জানিয়েছে, অনেকেই স্থলসীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া টপকেও শহরটিতে প্রবেশ করেছেন।
উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতা ও মেলিলা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আফ্রিকার একমাত্র স্থলসীমান্ত। উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপে প্রবেশ করতে চাওয়া অভিবাসীদের জন্য এই দুটি শহর দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত।
চলতি মাসের শুরুতে স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন, সেউতা বা মেলিলায় পৌঁছানোর চেষ্টাকালে সমুদ্রে আটক হওয়া অভিবাসীদের মরক্কোতে ফেরত পাঠানো যাবে না। আদালতের ওই রায়ের পর অভিবাসীদের প্রবেশের গতি কিছুটা কমলেও সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে ‘হঠাৎ বিস্ফোরণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন স্পেনের নিরাপত্তা বাহিনী গার্ডিয়া সিভিল-এর এক মুখপাত্র।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা মরক্কো সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সুযোগ নিয়ে মানবপাচারকারী চক্রগুলো অনিয়মিত অভিবাসনকে উৎসাহিত করছে বলেও অভিযোগ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
এদিকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কার শুক্রবার সেউতা সফরের কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান