Connect with us

আইন-শৃঙ্খলা

সকালে রিমান্ডের পর বিকেলে জামিন মঞ্জুর, সন্ধ্যায় মুক্তি সুরভীর

Published

on

কারামুক্ত হয়েছেন আলোচিত ‘জুলাইযোদ্ধা’ তাহরিমা জান্নাত সুরভী। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে তিনি গাজীপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। এর আগে, চাঁদাবাজির একটি মামলায় ‘জুলাইযোদ্ধা’ তাহরিমা জান্নাত সুরভীর দুই দিনের রিমান্ড আদেশ দেয়ার পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে জামিন দেয়া হয়। 

অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ-১–এর বিচারক অমিত কুমার দে চার সপ্তাহের জন্য জামিন মঞ্জুর করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, সুরভীর আইনজীবী ও গাজীপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান কামাল। তিনি জানান, দুপুরে আদালতের দেয়া দুই দিনের রিমান্ড আবেদনের বিরুদ্ধে আমরা দায়রা জজ আদালতে রিভিশন দায়ের করি। পরে আদালতের বিচারক শুনানি শেষে বয়স ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দুইদিনের রিমান্ড আদেশ বাতিল করেন এবং আমার জিম্মায় আসামির চার সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছেন।

তারও আগে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালিয়াকৈর থানার এসআই ওমর ফারুক পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে। গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক সৈয়দ ফজলুল মাহাদী শুনানি শেষে আসামের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।

একটি চাঁদাবাজির মামলায় সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে গাজীপুরের সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক শুনানি শেষে এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

এদিকে, সুরভীকে অপ্রাপ্তবয়স্ক দাবি করে এই রিমান্ড ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেছেন জুলাইযোদ্ধারা।

এর আহে গত ২৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে যৌথবাহিনীর অভিযানে সুরভীকে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। টঙ্গী এলাকার সেলিম মিয়ার মেয়ে সুরভী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ও ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত। গ্রেপ্তারের সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। তাকে ঘুম থেকে তুলে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে কয়েকজন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর ঘুমন্ত অবস্থা থেকে পুলিশ সুরভীকে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানায়, সাংবাদিক নাইমুর রহমান দুর্জয়ের করা একটি চাঁদাবাজি মামলায় তিনি পরোয়ানাভুক্ত আসামি।

পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, সুরভীর বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে নাঈমুর রহমান দুর্জয় নামে এক সাংবাদিক কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর ২৪ ডিসেম্বর রাত সাড়ে বারোটার দিকে গাজীপুর মহানগরী টঙ্গী নিজ বাসা থেকে সুরভিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারপর থেকে সুরভী গাজীপুর জেলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। 

বাদী নাঈমুর রহমান দুর্জয় ঢাকার বাসাবো শাহীবাগ এলাকার সাজ্জাদ হোসেনের ছেলে। তিনি কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা। তিনি এজাহারে নিজেকে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাংবাদিক হিসাবে পরিচয় দিয়েছেন। 

অপরদিকে, গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মামলার বাদীর একাধিক অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে শোনা যায়, বাদী গ্রেপ্তার জুলাই যোদ্ধা সুরভীকে অনৈতিক কাজের প্রস্তাব দিয়েছেন। সেই অডিও শেয়ার করে অনেক জুলাইযোদ্ধা দাবি করেছেন, সুরভী সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে।

সোমবার সুরভীকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হলে সকাল থেকেই জুলাই যোদ্ধারা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে সমবেত হন। তারা সুরভীর নিঃশর্ত মুক্তি ও রিমান্ড বাতিলের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, একটি মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় পরিকল্পিতভাবে নির্দোষ তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে ফাঁসানো হয়েছে। গভীর রাতে বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বয়সের বিষয়টি গোপন করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। একই কায়দায় আজ তাকে হয়রানীমূলকভাবে পুলিশ দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করায়। 

পুলিশ গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ হাজির করে সুরভীর ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

গাজীপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন অ্যাডভোকেট কামাল বলেন, আমরা আদালতের আদেশটি রিভিউ চাইবো এবং চেষ্টা করব আজকে রিমান্ড বাতিল করে আগামীকাল যাবেন শুনানি করার জন্য। তিনি বলেন সুরভীর বয়স ১৭ বছরের একটু বেশি কিন্তু ১৮ বছর হয়নি। তাই এ বিষয়গুলি আদালতের সামনে তুলে ধরা হবে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালিয়াকৈর থানার এসআই ওমর ফারুক বলেন, ‘আসামিকে গ্রেপ্তারের পর ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলাম, আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বয়স সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হবে।’ গ্রেপ্তারের ১১ দিন পরও আসামির প্রকৃত বয়স যাচাই না করার বিষয়ে তিনি কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন জানান, এজাহারে বয়স ২১ বছর উল্লেখ থাকায় তারা আলাদা করে খোঁজ নেননি। তবে এখন বিতর্ক ওঠায় আসামির পরিবারের কাছে জন্মনিবন্ধন চাওয়া হয়েছে এবং তা অনলাইনে যাচাই করা হবে।

গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির একজন আইনজীবী জানান, ‘পুলিশ প্রতিবেদনে বয়স যা উল্লেখ করে, আদালত সাধারণত তার ভিত্তিতেই আদেশ দেন। বয়স কম হওয়ার বিষয়টি সম্ভবত আদালতের নজরে আনা হয়নি। এখন উচ্চ আদালতে রিভিউ আবেদন করলে রিমান্ড বাতিল ও জামিন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।’

এ বিষয়ে গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘মামলাটি আমি দায়িত্ব নেয়ার আগের। বিষয়টি আমি জেনেছি। কোনও ধরনের অবিচার যেন না হয়, আমি ব্যক্তিগতভাবে সেটি দেখব। আশা করছি একটি ন্যায় সংগত সমাধান হবে।’

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ

Published

on

By

পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে দুবাই পুলিশ। দুদকের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা।

দুদকের মামলায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করে সরকার। দুবাইয়ের একটি সূত্র জানায়, গত ১২ জুন দুবাইতে এলে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আজ রোববার সকালে বিশ্বস্ত সূত্রে সাবেক আইজিপি বেনজীর দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি জানতে পারে সমকাল। এই খবর জানার পর পুলিশ সদর দপ্তরের দুইজন অতিরিক্ত আইজিপি, একজন ডিআইজি ও একজন এআইজির কাছে ফোন করে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করা হয়। তারা প্রত্যেকে বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার কথা নিশ্চিত করেন। তবে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে এবং নাম প্রকাশে রাজি হননি কেউ। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, গত ১২ জুন দুবাই ইন্টারপোল থেকে বাংলাদেশ পুলিশের কাছে একটা চিঠি এসেছে। ওই চিঠিতে বেনজীর আহমেদ দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার কথা জানানো হয়।

অন্য এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, দুদকের মামলায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে।

Continue Reading

আইন-শৃঙ্খলা

রায় হলেও কার্যকর হয়নি কোনো নারীর ফাঁসি

Published

on

By

ফাঁসির রায় হয়েছে, বছরের পর বছর কেটেছে কারাগারের কনডেম সেলে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেশে ফাঁসির মঞ্চে উঠতে হয়নি কোনো নারী আসামিকে।

স্বাধীনতার পর থেকে শতাধিক নারীর মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। তবে দেশে এখন পর্যন্ত কোনো নারীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ার নজির নেই।

ফাঁসি থেকে বাঁচতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারীদের করতে হয়নি রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনও। কিংবা কেউ আবেদন করেছেন, এমন দৃষ্টান্তও নেই।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারী আসামির আবেদন সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে গেলেই দণ্ড কমে হয়ে যায় যাবজ্জীবন। তখন জীবন কাটে ফাঁসির আসামিদের জন্য নির্মিত কনডেম সেলে।

কেন কার্যকর হয় না নারীদের মৃত্যুদণ্ড? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে উঠে এসেছে আইনি প্রক্রিয়া, বিচারিক ধীরগতি ও বিশেষ মানবিক বিবেচনার নানা তথ্য।

জানা যায়, দেশের একমাত্র নারী কারাগার গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারেও কোনো ফাঁসির মঞ্চ নেই। ২০০৭ সালে কারাগারটি চালু হলেও সেখানে ফাঁসির মঞ্চ নির্মাণ করা হয়নি। কারণ, বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো নারী আসামির ফাঁসি কার্যকরের নজির নেই।

কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশের কারাগারে বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী আসামি আছেন ৯৪ জন। এর মধ্যে কাশিমপুর কারাগারেই ৫৪ জন। তবে তাদের কারও ফাঁসির রায় কার্যকরের পথে রয়েছে আইনি জটিলতা।

কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক মো. জান্নাত-উল ফরহাদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নিম্ন আদালতের রায়ের পর আপিলের সুযোগ থাকে আসামির। উচ্চ আদালতে অনেক সময় শাস্তি কমে যায় বা আসামি পেয়ে যান খালাসও। তাই হাইকোর্টের অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ছাড়া কার্যকর হয় না ফাঁসি। নারী আসামিদের ক্ষেত্রে অধিকাংশ আপিলেই যাবজ্জীবনে রূপান্তরিত হয় ফাঁসির দণ্ড। মামলা থেকে খালাসও পেয়েছেন অনেকে।

কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার তানিয়া ফারজানা বলেছেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী কয়েদিদের জন্য আলাদা ভবন থাকলেও রাখা হয়নি ফাঁসির মঞ্চ। কারণ দেশে নারীর ফাঁসির কোনো নজির নেই। যেখানে কোনো নারীর ফাঁসিই হয়নি, সেখানে মঞ্চ তৈরি করবে কেন?—তিনি প্রশ্ন তোলেন।

সিলেট ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, নারী কয়েদিদের জন্যও নেই আলাদা কনডেম সেল। পুরুষ আসামিদের জন্য থাকলেও তা তৈরি করা হয়নি নারীদের জন্য। কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যায় না গর্ভবতী নারীর। এ ছাড়া বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণেও স্থগিত করা হয় ফাঁসি।

কারা সূত্র জানায়, বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী বন্দিদের মধ্যে রয়েছেন বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার আসামি আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি, ফেনীর নুসরাত হত্যা মামলার আসামি কামরুন্নাহার মণি ও উম্মে সুলতানা পপি, ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী হত্যা মামলার দুই আসামি রীতা আক্তার ও রুমা ওরফে রেশমা এবং মা-বাবা হত্যা মামলায় দণ্ডিত ঐশী রহমানসহ আরও অনেকে। তাদের বেশিরভাগের মামলাই বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ ধারায় শিথিলতা রয়েছে নারী আসামিদের জামিনে। এ ছাড়া উচ্চ আদালতে নারীদের মামলার নিষ্পত্তি হতে বছর পেরিয়ে যায়। মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংস্থার চাপও আরও তীব্র হয় নারীদের ক্ষেত্রে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আরিফ জামিলের মতে, নারীদের ফাঁসি কার্যকরে আইনগত কোনো বাধা নেই। তবে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, আপিলে সাজা হ্রাস, সামাজিক বাস্তবতা এবং বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর পর্যন্ত বিষয়টি পৌঁছায় না।

এদিকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নারীর ফাঁসি কার্যকরের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দেশের আলোচিত আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ২০২৪ বছরের আগস্টে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘বাংলাদেশর ইতিহাসে ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে একজন মাত্র নারীর। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য আমি আবেদন করেছি কারা মহা অধিদফতরের কাছে।’ এ সময় সেই তথ্য এখনও পাননি বলেও জানান তিনি।

কনডেম সেল কী

কনডেম সেল হলো কারাগারের সেই বিশেষ কক্ষ বা আবাসন, যেখানে শুধু মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের রাখা হয়। বাংলাদেশে কনডেম সেল বলতে সবসময় আলাদা কোনো নির্দিষ্ট কক্ষ বোঝায় না। কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, যেসব বন্দির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে এবং যাদের মামলা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন বা রায় কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছে, তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ বন্দিদের থেকে আলাদা করে রাখা হয়। এই পৃথক আবাসনই হচ্ছে কনডেম সেল।

প্রতিবেশী ভারতে নারীর ফাঁসি!

ভারতে স্বাধীনতার পর থেকে কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার নিশ্চিত নজির নেই। তবে দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির ফাঁসি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।

পরিবারের সাত সদস্যকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা শবনমকে মৃত্যুদণ্ড দেন দেশটির আদালত। ২০০৮ সালে প্রেমিকের সঙ্গে মিলে বাবা-মা, দুই ভাই, ভাবি এবং মাত্র নয় মাস বয়সী এক শিশুসহ পরিবারের সাত সদস্যকে হত্যা করেন তিনি। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৫ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। রাষ্ট্রপতির কাছেও ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন খারিজ হয়।

শবনমের ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি হিসেবে উত্তর প্রদেশের মথুরা কারাগারে বিশেষ ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল। তবে বিভিন্ন আইনি জটিলতা ও বিচারিক প্রক্রিয়ার কারণে আজও তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি।

ফলে স্বাধীনতার পর ভারতেও এখন পর্যন্ত কোনো নারীর ফাঁসি কার্যকরের নজির প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তবে শবনমের মামলাটি দেশটিতে নারী মৃত্যুদণ্ড নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

ইরানে নারী মৃত্যুদণ্ডের চিত্র

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা আব্দর রহমান বোরোমান্ড সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক রয়া বোরোমান্ড সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক রয়া বোরোমান্ড জানিয়েছেন, ইরানের আইন অনুযায়ী খুনের অপরাধে কারাদণ্ডের পরিবর্তে সাধারণত দুটি পথ খোলা থাকে। ভুক্তভোগীর পরিবার ক্ষমা করে দিতে পারে অথবা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

রয়া বোরোমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত অন্তত ২৩৩ জন নারীর মৃত্যুদণ্ডের তথ্য নথিভুক্ত করেছে তাদের সংস্থা। এর মধ্যে ১০৬ জনকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে এবং ৯৬ জনকে মাদকসংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া অল্পসংখ্যক নারীকে বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্কসংক্রান্ত অভিযোগেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

সুত্র: আগামীর সময়

Continue Reading

top1

প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২

Published

on

By

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের লাল টেলিফোন সংযোগের তার চুরির ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট দুজনকে আটক ও তাদের কাছ থেকে চোরাই তামার তার উদ্ধার করেছে।

বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) বিকেলে সিটিটিসির সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। গ্রেপ্তাররা হলেন রঞ্জন চন্দ্র (২৫) ও রেজাকুল ইসলাম (৩২)।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে রঞ্জন চন্দ্র স্বীকার করেন, গত ২২ মে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবন থেকে তিনি তার চুরি করেন।

পরে ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনে একটি ভাঙারি দোকানে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে মোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তামার তার বিক্রি করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একুশে হলের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে রেজাকুলের তথ্যে চকবাজার থানার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের হোসেনী দালান রোডে একটি ভাঙারির গুদাম থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোন সংযোগের চুরি হওয়া তামার তার উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা আজ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। এই রহস্য উদঘাটন করেছি। সংশ্লিষ্ট রঞ্জন চন্দ্রকে গ্রেপ্তার করেছি। এছাড়া ৮ কেজি তার উদ্ধার করা হয়েছে একটি ভাঙারির দোকান থেকে, যেখানে তার বিক্রি করেছিল রঞ্জন। এছাড়া ভাঙারির দোকান মালিককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত ১ জুন সচিবালয়ের দায়িত্বরত কর্মীরা অফিসে এসে দেখতে পান গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন লাইনগুলো বিকল হয়ে পড়ে আছে। সচিবালয়ের পুরাতন ২ নম্বর ভবন থেকে নতুন ১ নম্বর ভবন পর্যন্ত বিস্তৃত টেলিযোগাযোগের অত্যন্ত মূল্যবান কপার ক্যাবলগুলো ভবনের ছাদ ও সংযোগ লাইনের বিভিন্ন স্থান থেকে বিচ্ছিন্ন।

কোথাও কোথাও তার কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে। কিছু কিছু জায়গায় তার ছিল না। এতে শুধু সাধারণ টেলিফোনই নয়; বরং অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে পরিচিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের রেড টেলিফোনসহ গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংযোগগুলো পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।

Continue Reading

Trending