বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারপার্সন, আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল হক যৌথ বিবৃতিতে এ শোক জ্ঞাপন জানান।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকবার্তায় মরহুমার রূহের মাগফিরাত কামনা করে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়ে তাঁরা বলেন, মহান আল্লাহ তাআলা বেগম জিয়াকে তাঁর অশেষ রহমাতে ঢেকে দিন, সকল নেক আমল কবুল করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের অনন্ত শান্তির আশ্রয় দান করুন। আল্লাহ তাঁকে তাঁর প্রিয় বান্দাদের কাতারে স্থান দিন এবং চিরস্থায়ী মর্যাদা দান করুন।
তাঁরা বলেন, আজ আমরা হারালাম স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ঐক্যের প্রতীক, গণতন্ত্র রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে আপসহীন, দৃঢ়চেতা ও দেশের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ নেত্রীকে। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের এক বিশাল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। বারবার কারাবরণ আর নানা প্রতিকূলতার মাঝেও এই মহিয়সী নারী যেভাবে নিজের আদর্শে অবিচল ছিলেন, তা এক বিরল দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশের ইতিহাসে এবং দেশপ্রেমিক প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন।
প্রসঙ্গত, বেগম খালেদা জিয়া আজ ভোর ৬ টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ এবং ব্যবসায় প্রশাসন ইন্সটিটিউট (আইবিএ) নিয়ে গঠিত ‘বি‘ ইউনিটের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আজ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ ক্যাম্পাস ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রামসহ ৫ বিভাগীয় শহরে একযোগে এ ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এক শিফটে। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলবে এই এক ঘণ্টার এমসিকিউ ভিত্তিক পরীক্ষা। এই ইউনিটে বরাদ্দকৃত আসন ৫৮৪ টি। এর বিপরীতে আবেদন করেছেন ৩০ হাজার ৮৮৬ জন। সেই হিসাবে আসনপ্রতি লড়াই করবেন ৫৩ জন ভর্তিচ্ছু।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ৯টা থেকেই ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা নির্ধারিত কেন্দ্রের সামনে আসতে শুরু করেন। পরে সকাল সোয়া ১০টায় কেন্দ্রের গেট খুলে দেওয়া হয়। কেন্দ্রে প্রবেশের সময় পরীক্ষার্থীদের মুঠোফোন, ক্যালকুলেটরসহ মেমোরিযুক্ত অন্য কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে নিয়ে যেতে দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনগুলোয় এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
‘বি’ ইউনিটের অধীনে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ও ব্যবসায় প্রশাসন ইন্সটিটিউট আছে। এর মধ্যে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে ৫৪০ টি আসন ও ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটে ৪৪ টি আসন আছে।
দ্বীতিয়বারের মতো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র ব্যাতীত পাচটি বিভাগীয় শহরে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়,চট্টগ্রাম বিভাগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়,খুলনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়,বরিশালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়,রংপুর অঞ্চলে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সহ দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে।
‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করবেন উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব।
এর আগে, গত ১৬ জানুয়ারি সি ইউনিট ও ১৭ জানুয়ারি এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। আজ এ ইউনিটের ফলাফল প্রকাশ করার সম্ভবনা আছে।
রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে হাতাহাতির সূত্রপাত হয়। পরে এঘটনা শহীদ মামুন ছাত্রাবাসে ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের সময় ছাত্রাবাসের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। এতে হলের দরজা, জানালার কাচ ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সংঘর্ষের এক পর্যায়ে ছাত্রদলের একটি পক্ষ কড়াইল বস্তি থেকে বহিরাগত লোকজন এনে হলের ভেতরে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর কলেজ ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ ঘটনায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ মোল্লা, শিহাব উদ্দিন সিয়াম ও জিহাদ হাওলাদারের সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম নাহিদ ও জলিল আদিককে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কলেজ প্রশাসন তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
শহীদ মামুন হলের তত্ত্বাবধায়ক ফারুকুল ইসলাম বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত এই সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বনানী থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের মানসিক চিকিৎসার দাবিতে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও উপাচার্যকে স্মারকলিপি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে প্যারিস রোডে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন শেষে ছাত্রদল নেতারা উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীবের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি জমা দেন।
কর্মসূচি চলাকালে ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা ‘আম্মারের ঠিকানা, পাবনা পাবনা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই পরিস্থিতিতে মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল ইসলাম। এতে বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী, সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ এবং রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন।
মানববন্ধনে শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘তারুণ্যের উন্মাদনার নামে একজন পাগল বিশ্ববিদ্যালয়ে যা-তা করে বেড়াচ্ছে। প্রশাসন যদি দ্রুত এই ‘পাগলা কুত্তার’ মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা না করতে পারে, তবে সিটি কর্পোরেশনের সাহায্য নিক যারা ভারসাম্যহীনদের ভ্যাকসিন প্রদান করে।’
ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে বলেন, ‘অনতিবিলম্বে এই মানসিক ভারসাম্যহীন পাগলের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় আমরা ধরে নেব, প্রশাসনের নির্দেশেই বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।’
উপাচার্যের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে ছাত্রদল উল্লেখ করে, রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার মেধাবী শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও আচরণগত জটিলতায় ভুগছেন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। যথাযথ চিকিৎসার অভাবে তার আচরণে অসংগতি প্রকাশ পাচ্ছে বলে স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়।
কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে রাবি শাখা জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন বলেন, ‘ব্যানার ছিঁড়ে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে দমন করা যাবে না। তার এই ন্যাক্কারজনক কাজের তীব্র নিন্দা ও কঠিন শাস্তি দাবি করছি।’
জানা গেছে, গতকাল রবিবার দুপুরে বিএনপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে টাঙানো একটি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। এর আগে তিনি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ব্যানারটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। ওই ব্যানারটি টাঙিয়েছিলেন রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন।