Connect with us

top1

হরমুজ প্রণালিতে ‘পুলিশ’ হতে চাইলে ডুববে হবে, হুঁশিয়ারি ইরানের

Published

on

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে যদি যুক্তরাষ্ট্র ‘পুলিশের’ ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করে, তবে সেখানে মার্কিন জাহাজগুলো ডুবিয়ে দেওয়া হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মোহসিন রেজাই।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌ-অবরোধের প্রেক্ষিতে তিনি এই মন্তব্য করেন। মোহসিন রেজাই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, অবরোধ কার্যকর করতে নজরদারি চালানো মার্কিন জাহাজগুলো ইরানের প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই সমুদ্রের তলদেশে চলে যেতে পারে। (১৬ এপ্রিল) এএফপির এক প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহসিন রেজাই সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে পুলিশ হতে চান। এটি কি আপনাদের কাজ? এটি কি যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর কাজ?’

রেজাইয়ের এই আক্রমণাত্মক বক্তব্য মূলত হরমুজ প্রণালি ও ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান নৌ-অবরোধের পাল্টা জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ফেব্রুয়ারি মাসে হামলার পরপরই ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকটের সৃষ্টি করেছে।

মোহসিন রেজাই ইরানের সামরিক অঙ্গনের একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) সাবেক কমান্ডার-ইন-চিফ। তিনি ১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় আইআরজিসির নেতৃত্ব দিয়েছেন।

গত মাসে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে, তিনি অবসর ভেঙে ফিরে এসেছেন এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর মতো একজন অভিজ্ঞ সামরিক কর্মকর্তার কাছ থেকে এই ধরনের সরাসরি হুমকি ওই অঞ্চলে যুদ্ধের উত্তেজনাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ও ইরানি নৌবাহিনীর মধ্যে এক স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে যে তারা আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে নৌ-অবরোধ বজায় রাখছে, অন্যদিকে ইরান একে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর চরম আঘাত হিসেবে দেখছে।

মোহসিন রেজাইয়ের এই হুঁশিয়ারি কেবল কথার লড়াই নয়, বরং তেহরান যেকোনো সময় সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে এমন ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এক ভয়াবহ বার্তার মতো কাজ করছে।

সূত্র: এএফপি

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

তুরস্কে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

Published

on

By

তুরস্কে আনতালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের সাইডলাইনে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।

শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) আনতালিয়ায় কূটনীতিকদের বৈশ্বিক সম্মেলনের ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি সরকার গঠনের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ড. খলিলুর রহমানের এটি প্রথম বৈঠক।

বৈঠক প্রসঙ্গে স্যোশাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে ইসহাক দার উল্লেখ করেন, সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে আমি আনন্দিত।

আমরা পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছি এবং আলোচনা সহজতর করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ভূমিকাসহ আঞ্চলিক উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় করেছি।

তিনি আরও বলেন, আমি আমাদের অব্যাহত ইতিবাচক এবং দূরদর্শী সম্পর্কের অপেক্ষায় রয়েছি।

এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধের উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান সরকারের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তুরস্কে শুক্রবার শুরু হওয়া আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে ড. খলিলুর রহমান বলেন, আমি পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারকে গভীরভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই, অত্যন্ত অশান্ত একটি অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য অসাধারণ ও ঐতিহাসিক প্রচেষ্টার জন্য।

ফোরামে ইসহাক দার ও খলিলুর রহমান এবং আফগানিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী নূরউদ্দিন আজিজি দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক একটি প্যানেলের অংশ ছিলেন, যেখানে তারা দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সংহতির চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন।

খলিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা সুড়ঙ্গের শেষে আলো দেখতে পাচ্ছি। সর্বশেষ হরমুজের মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার ইরানের সিদ্ধান্ত সবার জন্য সুখবর।

চলমান প্রচেষ্টার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব থেকে নিজেকে একা কোনও দেশ রক্ষা করতে সক্ষম হবে না।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই প্রচেষ্টার প্রশংসা করে তিনি বলেন, আমাদের একসঙ্গে নিজেদের নিরোধক করতে হবে।

ইরান যুদ্ধের পর থেকে বিশ্বে অর্থনৈতিক চাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। এর প্রভাব হবে মারাত্মক। এটি ইতোমধ্যে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। আমাদের জ্বালানি ভর্তুকি দেওয়ার ক্ষমতা এবং উন্নয়ন বাজেট থেকে কেড়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের দেশের ধাক্কা শোষণ করার ক্ষমতা নেই; যার অর্থ আমাদের প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সম্মেলনে অংশ নিতে তিন দিনের সফরে তুরস্কে গেছেন ড. খলিলুর রহমান। সম্মেলনে শেষে রোববার (১৯ এপ্রিল) তিনি বেলজিয়ামের ব্রাসেলস যাবেন। এরপর তার ইথিওপিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা আছে। তার সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

Continue Reading

top1

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পাঠানো হলো বিশ্বের বৃহত্তম রণতরি ‘জেরাল্ড ফোর্ড’

Published

on

By

বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড আবারও মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করেছে। দুইজন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।

সংবেদনশীল অভিযান নিয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, রণতরীটি ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস মাহান এবং ইউএসএস উইনস্টন চার্চিলের সঙ্গে সুয়েজ খাল অতিক্রম করে বর্তমানে লোহিত সাগর অঞ্চলে অবস্থান করছে।

এর আগে রণতরীটি পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন ছিল। তবে এর একটি লন্ড্রি কক্ষে আগুন লাগার পর মেরামতের জন্য সাময়িকভাবে বন্দরে ফিরে যেতে হয়।

এই রণতরীর আগমনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌ উপস্থিতি আরও জোরদার হলো। বর্তমানে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ইতোমধ্যেই আরব সাগর অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে।

একই সঙ্গে আরেকটি বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ বুশ এই অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলের কাছে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।

কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, জেরাল্ড ফোর্ড সম্প্রতি ভিয়েতনাম যুদ্ধ-এর পর দীর্ঘতম সময় ধরে মোতায়েন থাকা বিমানবাহী রণতরীর রেকর্ড গড়েছে।

এর আগে ২০২৬ সালের ২৮ মার্চ রণতরীটি ক্রোয়েশিয়ার স্প্লিট বন্দরে নোঙর করেছিল।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

Continue Reading

top1

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও দক্ষিণ লেবাননে বিস্ফোরণ, ঘরবাড়ি ধ্বংসের অভিযোগ

Published

on

By

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, সীমান্তবর্তী যেসব শহর এখনো ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখানে তারা ঘরবাড়ি ধ্বংস করছে। সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় বিভিন্ন স্থাপনা উড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যেই বলেছেন, তারা লেবাননের শহরগুলো ধ্বংস করতে দিতে চান, যাতে বাসিন্দারা আর সেখানে ফিরে যেতে না পারেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সূত্র: আল–জাজিরা

Continue Reading

Trending