Connect with us

top1

এনসিপি নেতাকে গুলির বিষয়ে যা জানা যাচ্ছে, তরুণীকে খুঁজছে পুলিশ

Published

on

খুলনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক এবং খুলনা বিভাগীয় আহ্বায়ক মো. মোতালেব শিকদারকে (৪২) সোনাডাঙ্গার একটি ভাড়া বাসার ভেতরে গুলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ‘অভ্যন্তরীণ বিরোধে’ সোমবার বেলা ১১টার দিকে ‘মুক্তা হাউজ’ নামের একটি বাসার নিচতলায় ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক কোনও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। গুলিবিদ্ধ মোতালেব এখন শঙ্কামুক্ত। তবে যে বাসায় ঘটনাটি ঘটেছে, সেটির ভাড়াটিয়া এক এনজিওকর্মী তরুণী। তাকে খুঁজছে পুলিশ। তাকে আটকের পর বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কী ঘটেছিল

ঘটনাস্থলের পাশের একটি ফার্মেসি থেকে পাওয়া ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওই বাসার মালিক ও আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানায়, মোতালেব শিকদারের মাথায় গুলি করা হয় মুক্তা হাউজের নিচতলায়। ওই বাসার ফ্ল্যাটটি গত ১ নভেম্বর ভাড়া নেন এক এনজিওকর্মী তরুণী। তিনি এক তরুণকে স্বামী পরিচয়ে ভাড়া নিয়েছিলেন। তবে সেখানে নানা পুরুষের যাতায়াত ছিল। গতকাল রাতভর বাসায় মদপানসহ আড্ডা চলেছে। সোমবার সকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে মোতালেব হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ওই বাসায় যায় পুলিশ। তখন বাসায় মাদক ও নারীর ব্যবহৃত জিনিসপত্র পাওয়া যায়। গত দেড় মাসে মাঝেমধ্যে সেখানে যাতায়াত করতেন মোতালেব। ঘটনার পরপরই ওই ভাড়াটিয়া তরুণী আত্মগোপন করেন।

যে কক্ষে গুলির ঘটনা ঘটেছে সেখানে তল্লাশি করে পাওয়া যায় মদের ছয়টি খালি বোতল, বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবনের সামগ্রী, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম এবং অনৈতিক কার্যক্রমের আলামত। এ ছাড়া উদ্ধার হয়েছে একটি গুলির খোসা। পুলিশের ধারণা, ওই বাসায় মাদক সেবন কিংবা অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে গুলির ঘটনাটি ঘটেছে।

পরে আহত অবস্থায় মোতালেবকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে তার মাথায় গুলি ঢোকেনি। তিনি এখন আশঙ্কামুক্ত। বর্তমানে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন। তার সিটি স্ক্যান রিপোর্ট স্বাভাবিক এসেছে।

‘অভ্যন্তরীণ বিরোধ’ বলছে পুলিশ 

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘দুপুরে পুলিশের কাছে খবর আসে এনসিপির একজন গুলিবিদ্ধ হন। তিনি খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আছেন। গাজী মেডিক্যাল কলেজের পাশের রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে আমাদের জানানো হয়। ভুক্তভোগীর কাছে পুলিশের দল পাঠানো হয়। গাজী মেডিক্যাল কলেজের পাশের একটি ফার্মেসি থেকে ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যায়। ওই ভিডিও ফুটেছে দেখা যায়, রবিবার রাতে ভুক্তভোগী এবং তার সঙ্গে আরও দুজন পুরুষ একটি গাড়িতে করে আসেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে নেমে গাজী মেডিক্যালের পেছন দিকের আল আকসা মসজিদের দিকে আসেন। ওই সূত্র ধরেই ঘটনাস্থল শনাক্ত করা হয়।’

বাসায় মিললো মাদক ও গুলির খোসা

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মুক্তা হাউজ নামের বাড়িতে এসে দেখতে পাই, ঘটনাস্থল এখানেই। এখানে বিভিন্ন স্থানে আমরা রক্তের দাগ পেয়েছি। ঘরটিতে ঢোকার পর আমরা দেখতে পাই, সেখানে মাদকের ছড়াছড়ি। বিদেশি মদের বোতল, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম এবং সেখানে আমরা একটি গুলির খোসাও পেয়েছি। এসব আলামত দেখে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে এখানে যারা ছিলেন, তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধে গুলির ঘটনাটি ঘটেছে।’

একই কথা বলেছেন সোনাডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অনিমেষ মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘প্রথমে ভুক্তভোগী আমাদের জানিয়েছিলেন, রাস্তায় মোটরসাইকেলে এসে তাকে গুলি করে চলে যায়। পরে দেখলাম যে ঘটনা ঘরের ভেতরের। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, একজন–দুজন তাকে ধরে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। তাকে কারা হাসপাতালে নিয়ে যায়, সেটাও আমরা খুঁজে দেখছি।’

যা বলছেন মুক্তা হাউজের মালিক

এ বিষয়ে মুক্তা হাউজের মালিক আশরাফুন নাহার বলেন, ‘যে ফ্ল্যাটে গুলির ঘটনা ঘটেছে, সেটি নভেম্বর মাসে একজন তরুণী ভাড়া নেন। স্বামীসহ থাকবেন বলেছিলেন। কিন্তু বাসাটিতে নিয়মিত অন্যদের যাতায়াত ছিল। রাত-বিরাতে ওই নারী অন্য পুরুষদের নিয়ে আসায় নানা ধরনের অভিযোগ পাচ্ছিলাম। এ কারণে তাকে বাসা ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়। এই মাস শেষে চলে যাওয়ার কথা ছিল। তার মধ্যে ঘটলো এমন ঘটনা। তবে গতকাল রাতে কারা বাসায় এসেছিল, তা আমার জানা নেই।’  

যা বলছেন এনসিপির নেতারা

এনসিপির খুলনা মহানগরের সংগঠক সাইফ নেওয়াজ বলেন, ‘মোতালেব শিকদার এনসিপির শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক এবং খুলনা বিভাগীয় আহ্বায়ক। সামনে দলের একটি বিভাগীয় শ্রমিক সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল, সেটির প্রস্তুতিতে তিনি যুক্ত ছিলেন। এজন্য খুলনায় এসেছিলেন। কারা তাকে গুলি করেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে জানানো হোক।’

এনসিপির খুলনার সংগঠক হামীম আহম্মেদ রাহাত জানান, তারা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন যে ব্যক্তিগত কাজে বের হওয়ার সময় তার ওপর হামলা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করে বের করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এনসিপি নেতার গাড়ি উদ্ধার

তিনি বলেন, ‘খুলনা সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। বিগত দিনে খুলনায় অহরহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এসব সন্ত্রাসী গ্রুপ আওয়ামী নেতাদের সহযোগী। আওয়ামী লীগের নেতাদের মদতে সন্ত্রাসীরা খুলনাকে অশান্ত করার মিশনে নেমেছে। অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।’

রবিবার সন্ধ্যায় স্ত্রীর সঙ্গে সবশেষ কথা হয় মোতালেবের 

ছেলেকে গুলি করার ঘটনা জানতে পেরে হাসপাতালে ছুটে আসেন মোতালেবের মা রাবেয়া বেগম, স্ত্রী ফাহিমা আক্তার ও তিন বছরের কন্যাসন্তান। তারা জানিয়েছেন, রবিবার সন্ধ্যায় তার সঙ্গে সর্বশেষ মোবাইলে কথা হয় স্ত্রীর। মোতালেব তাকে জানান খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাদের একজন কর্মী আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। তার সার্বিক খোঁজখবর নেওয়ার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আছেন। এই কথা বলে মোতালেব ফোন রেখে দেন। রাতে আর কোনও কথা হয়নি। সোমবার বেলা ১১টার দিকে একজন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে ফোন করে জানান গুলি করা হয়েছে। পরে হাসপাতালে দেখতে আসেন তারা।

মোতালেবের মা বলেন, ‘আমার ছেলে আগে কোনও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল না। এনসিপি দিয়ে তার রাজনীতি শুরু। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়েছে।’

তরুণীকে খুঁজছে পুলিশ

র‌্যাব, পুলিশ ও সিআইডি সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাতভর ওই ফ্ল্যাটে মোতালেব শিকদারের সহযোগীরা ইয়াবা সেবন, মদপান করাসহ আড্ডা দিয়েছেন। নিজেদের মধ্যে কোনও বিরোধ নিয়ে মোতালেবকে গুলি করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সকাল ১০টা ৫৯ মিনিটে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কান চেপে ধরে মোতালেব ওই বাসা থেকে বের হয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। এ সময় এক সহযোগী তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছিলেন। গলির মাথায় মজিদ সরণিতে এসে তারা রিকশাযোগে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান। এ ঘটনার পরপরই ওই ফ্ল্যাটে তালা দিয়ে বেরিয়ে যান ভাড়াটিয়া ওই নারী। এরপর থেকে তাকে খুঁজছে পুলিশ।

র‌্যাব, পুলিশের একটি সূত্র জানায়, এনসিপি নেতা মোতালেব খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর অনুসারী সৌরভ এবং তার সহযোগীদের সঙ্গে চাঁদাবাজিতে জড়িত ছিলেন অভিযোগ আছে। এ নিয়ে আগে থেকেই তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। চাঁদার অর্থের ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে অন্তর্কোন্দলের সূত্রপাত থেকে তাকে গুলি করা হয়েছে বলে ধারণা তাদের।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘মোতালেব শুরুতেই ভুল তথ্য দিয়েছেন আমাদের। পরে ঘটনাস্থল খুঁজে বের করি আমরা। কিন্তু আশপাশে কোনও সাক্ষী খুঁজে পাচ্ছিলাম না। ওই বাসার নিচে এনসিপির দলীয় স্টিকার সংবলিত প্রাইভেটকার দেখে সন্দেহ হলে ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মোতালেবসহ আরও দুজন এখানে আসেন এবং রাতে ওই ফ্ল্যাটেই ছিলেন। সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে ঘটনাটি ঘটে বলে জানতে পেরেছি আমরা। সহযোগীদের সঙ্গে কোনও কোন্দলের কারণে গুলির ঘটনাটি ঘটে। এর সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত আছে। মোতালেবকে জিজ্ঞাসা করলে আমরা বাকিদের নাম-পরিচয় জানতে পারবো। ওই তরুণী ঘটনার পর থেকে পলাতক। তাকে খুঁজছি আমরা। ঘটনায় জড়িত সবাইকে শিগগিরই আইনের আওতায় আনতে পারবো। তখন এর আসল রহস্য জানা যাবে।’

শঙ্কামুক্ত মোতালেব

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘গুলিটি মোতালেব শিকদারের কানের নিচ দিয়ে চামড়া স্পর্শ করে বেরিয়ে যায়। এতে রক্তক্ষরণ হলেও প্রাণে বেঁচে যান। বর্তমানে খুলনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এবং শঙ্কামুক্ত। খুলনা সিটি ইমেজিং সেন্টারে তার মাথার স্ক্যান করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদনে মাথায় গুলির কোনও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।’

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

১৯ দিনে ৬৪ জনসভা: তারেক রহমানের ‘ফ্যামিলি ম্যান’ ও ইন্টারঅ্যাক্টিভ প্রচারকৌশল

Published

on

By

চিরাচরিত রাজনৈতিক জনসভার চিত্রটা আমরা জানি—নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে তর্জনী উঁচিয়ে ভাষণ দেবেন, আর নিচে সমর্থকেরা হাততালি দেবেন। তবে ২০২৬-এর নির্বাচনী প্রচারণায় এই প্রথা ভেঙে নতুনত্বের ছোঁয়া এনেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১৯ দিনে দেশজুড়ে ৬৪টি জনসভা করে তিনি কেবল ভাষণই দেননি, বরং মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনে লিপ্ত হয়েছেন।

. ‘একতরফা বক্তৃতা’ নয়, এবার ‘সরাসরি সংলাপ’

তারেক রহমানের এবারের প্রচারণার সবচেয়ে বড় চমক ছিল ইন্টারঅ্যাক্টিভ ক্যাম্পেইন। তিনি মঞ্চ থেকে দর্শকসারির সাধারণ মানুষকে ডেকে এনে তাদের অভাব-অভিযোগ ও মতামতের কথা শুনেছেন।

সিলেটের সেই চমক: ২২ জানুয়ারি সিলেটে প্রচারণার শুরুতে তিনি এক হজ পালনকারী ব্যক্তিকে মঞ্চে ডেকে ধর্ম নিয়ে একটি প্রশ্ন করেন। এটি মূলত ভোটের রাজনীতিতে ধর্মের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে এক কৌশলগত জবাব ছিল বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।

টাউন হল স্টাইল: যুক্তরাষ্ট্রের বারাক ওবামা বা ফ্রান্সের এমানুয়েল মাখোঁর মতো ‘টাউন হল মিটিং’ ঘরানায় তিনি শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও তরুণদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন।

 রাজনীতির নতুন সমীকরণ: ‘ফ্যামিলি ম্যান’ ইমেজ

তারেক রহমান নিজেকে কেবল একজন কঠোর রাজনৈতিক নেতা হিসেবেই নয়, বরং একজন দায়িত্বশীল পারিবারিক মানুষ বা ‘ফ্যামিলি ম্যান’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

স্ত্রী ও কন্যার অংশগ্রহণ: তাঁর প্রচারসঙ্গী হিসেবে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। মেয়ে জাইমা রহমানকেও দেখা গেছে তরুণদের সঙ্গে ‘রিল-মেকিং’ প্রতিযোগিতার আড্ডায় কিংবা বস্তি পরিদর্শন ও রিকশা ভ্রমণে।

উদ্দেশ্য: বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও নারীদের কাছে একটি ইতিবাচক ও আধুনিক পারিবারিক মূল্যবোধের বার্তা পৌঁছে দেওয়া।

কৌশলগত দিক: এক নজরে প্রচারণা

প্রচারণার অনুষঙ্গ

বিস্তারিত তথ্য

মোট জনসভা

১৯ দিনে ৬৪টি (বাস ও হেলিকপ্টার যোগে)

মূল বার্তা

শান্তি, সহনশীলতা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা

ডিজিটাল ফোকাস

তরুণ ভোটারদের টানতে সোশ্যাল মিডিয়া ও রিল-মেকিং এনগেজমেন্ট

আবেগীয় দিক

অতীতের ভুলত্রুটির জন্য জাতির কাছে মার্জনা প্রার্থনা

 ভুল থেকে শিক্ষা ও আগামীর প্রতিশ্রুতি

প্রচারণার শেষ দিকে বিটিভিতে দেওয়া ভাষণে তারেক রহমান অতীতের অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটির জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। এটি রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি বিরল ও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে প্রচারণার পথে কিছু ছোটখাটো বিচ্যুতিও ছিল। যেমন—কুমিল্লায় ইতিমধ্যে ইপিজেড থাকা সত্ত্বেও সেখানে নতুন করে ইপিজেড করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া। একে অনেকে ‘তথ্যগত ভুল’ হিসেবে সমালোচনা করেছেন।

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এস এম শামীম রেজার মতে, তারেক রহমান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ—এই দুইয়ের মধ্যে চমৎকার সমন্বয় করার চেষ্টা করেছেন।

১২ ফেব্রুয়ারির গণরায় বলে দেবে, এই নতুন ধাঁচের ‘অডিয়েন্স এনগেজমেন্ট’ ও ‘ফ্যামিলি ম্যান’ কৌশল ভোটারদের মনে ঠিক কতটা জায়গা করে নিতে পেরেছে।

Continue Reading

top1

ভোট বেশি পড়লে বিএনপি, কম পড়লে জামায়াত সুফল পাবে : বিআইডিডিভোটের হারই নির্ধারণ করবে ফল,ভোট বেশি পড়লে বিএনপি, কম পড়লে জামায়াত সুফল পাবে : বিআইডিডি

Published

on

By

ভোটের হারই নির্ধারণ করবে ফল, বেশি পড়লে বিএনপি কম পড়লে জামায়াত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার ৬৫ থেকে ৬৮ শতাংশ হলে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে। আর ভোট পড়ার হার ৫৩ থেকে ৫৮ শতাংশে নেমে এলে এবং সংগঠিত ও আদর্শ ভোটারদের প্রভাব বেশি থাকলে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইডিডি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সোমবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে চতুর্থ দফা বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়।

এর আগে, তিনটি পূর্বাভাস প্রকাশ করেছিল বিআইডিডি। সর্বশেষ প্রতিবেদনে সম্ভাব্য ভোটের হার, দলভিত্তিক আসন বণ্টন, ভোটের হারের তারতম্যে ফলাফলের পরিবর্তন এবং ভোটকেন্দ্রভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে গড় ভোট পড়তে পারে ৫৮ থেকে ৬৭ শতাংশ। সম্ভাব্য ফলাফলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ১৪৭ থেকে ১৮৮টি আসন পেতে পারে।

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোট পেতে পারে ৭৩ থেকে ১১০টি আসন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১ থেকে ৩টি, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২১ থেকে ২৮টি এবং অন্যান্য দল ৪ থেকে ৬টি আসন পেতে পারে।
বিআইডিডি জানিয়েছে, পূর্বাভাস তৈরিতে প্রচলিত জনমত জরিপের পাশাপাশি একটি আধুনিক গবেষণাপদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের তথ্য বিশ্লেষণ করে ভোটার উপস্থিতি ও দলভিত্তিক ভোটের ধারা নিরূপণ করা হয়।

পাশাপাশি ২০২৪ সালের আগস্টের পর বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জরিপের তথ্য যুক্ত করে মেশিন লার্নিং মডেলের মাধ্যমে সম্ভাব্য ফলাফল বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষণে ভোটদানের সময়কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হওয়ায় ভোট দিতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে। ভোট কাস্টিংয়ে সময় বাড়লে ভোটার উপস্থিতি কমতে পারে, যা ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, মোট ভোটারের প্রায় এক–তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ ৩৩ থেকে ৪২ শতাংশ, সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে ভোট দিতে না পারার ঝুঁকিতে থাকতে পারেন।

তবে নতুন শিক্ষিত যুব ভোটাররা যদি গড়ে ৭৬ সেকেন্ডের মধ্যে ভোট দিতে পারেন, তাহলে সামগ্রিক ভোটের হার ২ দশমিক ৩ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রায় ৬০টি দলের মধ্যে ৭ থেকে ১০টি দল আসন পেতে পারে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বিজয়ী হতে পারেন। নির্বাচনে ২ থেকে ৩ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে, তবে তাঁদের জয়ের সম্ভাবনাকে মাঝামাঝি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে সংসদীয় ভোট ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটার, পোলিং এজেন্ট ও পোলিং কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তেজনার আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে। গণভোটে বেশি সংখ্যক ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করতে গিয়ে সংসদীয় নির্বাচনে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

এ ছাড়া কোনো কোনো দল পরিকল্পিতভাবে নিজস্ব ভোটারদের ধীরে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে সময় নষ্ট হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ভোটাররা ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। জোটগুলো নিজেদের কোর আসন নিশ্চিত করতে গিয়ে সংঘাতে জড়াতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার ঝুঁকিও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

Continue Reading

top1

রাত পোহালেই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন, প্রস্তুত দেশ

Published

on

By

রাত শেষ হলেই শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের জন্য সারাদেশে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।

বুধবারের মধ্যেই ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনি সরঞ্জাম ভোটকেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সময় শেষে কেন্দ্রের ভেতরে থাকা ভোটারদেরও ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে।

ইসি জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে প্রায় ৮ লাখ নির্বাচনি কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাঠে থাকবে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নজরদারির পাশাপাশি ড্রোন, সিসিটিভি ও বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শেষ হলেও অনলাইনে প্রচারণা চালানো যাবে, এতে আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে না। তবে ভোটকেন্দ্রে ভোটার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ছাড়া কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না।
ভোটের মাঠে কালো টাকা ছড়ানো ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ইসি। টাকা বিতরণে জড়িতদের সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অনিয়মে তিন শতাধিক মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।

এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি ২৭৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটির বেশি। ইসি আশা করছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং বেশির ভাগ ফলাফল ভোটের রাতেই পাওয়া যাবে।

Continue Reading

Trending