Connect with us

রাজনীতি

গ্রুপিং কোন্দলে ‘লেজেগোবরে’ বিএনপি, একক প্রার্থী নিয়ে মাঠে জামায়াত

Published

on

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৬টি আসনে। রাস্তাঘাট, চায়ের দোকান-সব জায়গায় নির্বাচনের আলোচনা। ইতোমধ্যে এসব আসনে জামায়াতে ইসলামীসহ বেশ কয়েকটি ইসলামি দল তাদের একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। প্রার্থীরা গণসংযোগও শুরু করেছেন। যাচ্ছেন সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে। তবে দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বিএনপির অবস্থা ‘লেজেগোবরে’। দলটি এখনো কোনো আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি। এ কারণে ভোটারদের মধ্যে একই প্রশ্ন-কারা হচ্ছেন এসব আসনে বিএনপির প্রার্থী।

জেলার ৬টি আসনের প্রতিটিতে ৭ থেকে ৮ জন বিএনপি নেতা দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। প্রায় সবাই কর্মিসভা, আলোচনা সভাসহ সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। এতে এলাকায় এক ধরনের নির্বাচনি আমেজ বিরাজ করছে। তবে মনোনয়ন চূড়ান্ত না হওয়ায় মনোনয়নপ্রত্যাশী ও তাদের সমর্থকরা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন। এদিকে জেলার প্রতিটি উপজেলায় বিএনপি গ্রুপিং আর কোন্দলে জর্জরিত। দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর এ অবস্থার অবসান হওয়া দরকার বলে মনে করছেন মাঠপর্যায়ের কর্মী-সমর্থকরা। তা না হলে নির্বাচনে কঠিন বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর):

বিএনপি থেকে দলের মনোনয়ন পেতে মাঠে কাজ করছেন জেলা কমিটির সহসভাপতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান মামুন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ হান্নান, জেলা বিএনপির সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কেএম বশির উদ্দিন তুহিন, জেলা বিএনপির পরিবেশবিষয়ক সহসম্পাদক ড. শামসুল হক কিবরিয়া, নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আযম চৌধুরী ও প্রিন্সিপাল এমএ মোনায়েম। এ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে মাঠে রয়েছেন শাহানুল করমি গরীবুল্লাহ।জামায়াতে ইসলামীর জেলা জামায়াতের মজলিশে শূরা সদস্য ও নাসিরনগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক (অব.) একেএম আমিনুল ইসলামকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। খেলাফত মজলিস থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা সাইফুল্লাহ বিন আনসারী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ):

এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে গণসংযোগ করছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব এসএন তরুণ দে, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি শেখ মোহাম্মদ শামীম, সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান লস্কর তপু, জেলা বিএনপির সদস্য আহসান উদ্দিন খান শিপন, আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু আসিফ আহমেদ, আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সিরাজ ও ডাক্তার নাজমুল হুদা বিপ্লব। এ আসনে জামায়াতে ইসলামী থেকে প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মোবারক হোসাইন। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মনোনয়ন চাইবেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদী, ইসলামী আন্দোলন থেকে প্রার্থী হয়েছেন নেছার আহমেদ নাছেরী এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা মাইনুল ইসলাম।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (জেলা সদর-বিজয়নগর):

এ আসনে মনোনয়ন পেতে মাঠে আছেন বিএনপির অর্থনৈতিকবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। ২০১১ সালের উপনির্বাচনে এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন নিয়ে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। এছাড়া বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তৌফিকুল ইসলাম মিথিল।

এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল জোনায়েদ হাসান, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মনোনয়ন চাইবেন যুগ্ম সংগঠক মো. আতাউল্লাহ, ইসলামী আন্দোলন থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা গাজী নিয়াজুল করিম এবং খেলাফত মজলিস থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা মুহসিনুল হাসান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া):

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব মুশফিকুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কাজী নজরুল ইসলাম হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা খন্দকার, জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহাম্মেদ ভূঁইয়া, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা নাছির উদ্দীন হাজারী, সাবেক আখাউড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুসলেম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নসরুল্লাহ খান জুনায়েদ। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার। ইসলামী আন্দোলন থেকে প্রার্থী হয়েছেন মুফতি জসিম উদ্দিন এবং খেলাফত মজলিস থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা জয়নাল আবেদীন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর):

এ আসনে দল থেকে মনোনয়ন চাচ্ছেন জেলা বিএনপির অর্থনীতিবিষয়ক সম্পাদক কাজী নাজমুল হোসেন তাপস, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সায়েদুল হক সাঈদ, কেন্দ্রীয় কৃষক দল নেতা তকদীর হোসেন মো. জসিম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন ভূঁইয়া শিশির, জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান, কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক কেএম মামুন অর রশিদ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি রাজীব আহসান চৌধুরী পাপ্পু ও উচ্চ আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল বাকি। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী আব্দুল বাতেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হয়েছেন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান এবং খেলাফত মজলিস থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা আবদুল কাইয়ূম ফারুকী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর):

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে তোড়জোড় চালাচ্ছেন সাবেক সংসদ-সদস্য এমএ খালেক, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক সিকদার ও বাঞ্ছারামপুর বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান পলাশ।

এছাড়া জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন সহকারী অধ্যাপক দেওয়ান মো. নকিবুল হুদা, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকি এবং খেলাফত মজলিস থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা আবদুল মজিদ। তবে জোটগত কারণে এ আসনটি গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকিকে ছেড়ে দিতে পারে বিএনপি।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

রাজনীতি

প্রস্তাবিত বাজেট দেশকে ঋণের দাসত্বে বাঁধার পাঁয়তারা : মামুনুল হক

Published

on

By

২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট দেশকে ঋণের দাসত্বে বাঁধার পাঁয়তারা বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ মেগা-বাজেট হতে পারে, কিন্তু এটি মূলত দেশকে অর্থনৈতিকভাবে পরনির্ভরশীল করার এক বিশাল উচ্চাভিলাষী মহাপ্রকল্প। এই বাজেট কোনোভাবেই জাতির বাস্তব চাহিদার প্রতিফলন নয়, বরং এটি জনআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি এবং দেশকে ঋণের দাসত্বে বাঁধার পাঁয়তারা।’

শুক্রবার (১২ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি।

মামুনুল হক বলেন, ‘৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার গালভরা এই বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার যে বিশাল ঘাটতি ধরা হয়েছে, তা পূরণের জন্য সরকার এখন বৈদেশিক দাসত্ব এবং অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর দেদারসে হাত বাড়াবে। ব্যাংক থেকে এই বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণের অর্থ হলো, বেসরকারি খাতের গলা টিপে ধরা, দেশীয় বিনিয়োগকে পুরোপুরি স্থবির করে দেওয়া এবং জনগণের আমানতকে ঝুঁকিতে ফেলা। বিগত সময়ের ভুলনীতি এবং ঋণের ফাঁদে জর্জরিত অর্থনীতিকে সচল রাখার নামে সরকার দেশকে এক দীর্ঘমেয়াদী দাসত্বের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যার চড়া মূল্য দিতে হবে এদেশের খেটে খাওয়া আমজনতাকে।

তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ আজ লাগামহীন দ্রব্যমূল্য, ব্যাপক বেকারত্ব, ভয়াবহ বিনিয়োগ সংকট এবং শিল্প ও কৃষিখাতের চরম স্থবিরতায় দিশেহারা। সরকার যখন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার রূপকথা শোনায়, তখন বাজার বাস্তবতায় তা জনগণের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটার মতো শোনায়। বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে ব্যর্থ সরকার রাজস্ব আদায়ের নামে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার যে দানবীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তা আদায়ের চাবুক চালানো হবে মূলত মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও সীমিত আয়ের জনগণের পিঠে। নতুন কর আরোপ এবং পরোক্ষ করের বোঝা চাপিয়ে ধনীদের আরও ধনী এবং দরিদ্রদের আরও নিঃস্ব করার এক পুঁজিপতিবান্ধব দলিল পেশ করা হয়েছে।’

বাজেটের সুনির্দিষ্ট বরাদ্দের বৈষম্য তুলে ধরে আমিরে মজলিস বলেন, ‘জনগণের করের টাকায় কোন মন্ত্রণালয়ে কত বরাদ্দ দেওয়া হলো, তার খতিয়ান দেখলেই স্পষ্ট হয় যে, এই সরকার গণমানুষের প্রকৃত সংকট মোচনে কতটা উদাসীন ও লোকদেখানো নীতিতে বিশ্বাসী। কৃষি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ২৭,৮৮১ কোটি টাকা। দেশের সিংহভাগ মানুষ যেখানে কৃষির ওপর নির্ভরশীল, সেখানে এই যৎসামান্য বরাদ্দ দিয়ে উৎপাদন খরচ সামাল দেওয়া কৃষকদের সাথে এক ধরণের তামাশা। অন্যদিকে, জননিরাপত্তা ও জনকল্যাণের নামে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ৩১,০৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা কৃষি খাতের চেয়েও বেশি! এটা কি কৃষিকে বাঁচানোর বাজেট নাকি আমলাতান্ত্রিক শাসনযন্ত্রকে চাঙ্গা রাখার বাজেট?

বাজেটে দ্বীনি ও কর্মমুখী শিক্ষাকে অবহেলা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একইভাবে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ বিভাজন করলেই সরকারের আসল চেহারা বেরিয়ে আসে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে ৫৭,৩০২ কোটি টাকা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৪৬,৭৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগকে দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৮,৪৫৭ কোটি টাকা। দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর দ্বীনি ও কর্মমুখী শিক্ষার এই খাতকে এভাবে চরম অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, যেখানে মহামারী ও জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় দেশের স্বাস্থ্যখাত ভঙ্গুর, সেখানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ৪৯,৩৮৭ কোটি টাকা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে মাত্র ১৩,৪৬৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই নামমাত্র বরাদ্দ দিয়ে জনগণের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার সুদূরপরাহত।’

মাওলানা মামুনুল হক গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই বাজেট কতটা গণবিচ্ছিন্ন, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঐতিহাসিক আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারসহ বিভিন্ন জাতীয় আন্দোলনে নিহত বহু শহীদের আত্মত্যাগকে এই বাজেটে চরমভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দীর্ঘদিন ধরে শাপলা শহীদ পরিবারসহ সকল শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন, আর্থিক সহায়তা ও চিকিৎসার জন্য বিশেষ রাষ্ট্রীয় তহবিল গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু ফ্যাসিবাদের ভূত এখনো বাজেট প্রণেতাদের ঘাড় থেকে নামেনি, যার কারণে এই মহান শহীদদের দাবি আবারও উপেক্ষিত হয়েছে।

বিবৃতির শেষাংশে তিনি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই বাজেট চূড়ান্ত অনুমোদনের পূর্বে অবিলম্বে কৃষি, শিক্ষা (বিশেষ করে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা), স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাস্তবসম্মতভাবে বৃদ্ধি করতে হবে, অর্থপাচারকারী, ব্যাংকডাকাত ও ঋণখেলাপিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে, বাজার সিন্ডিকেটের হোতাদের কারাগারে পাঠাতে হবে এবং শাপলা চত্বরের শহীদ পরিবারসহ সকল শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনে পৃথক বিশেষ বরাদ্দ সংযোজন করতে হবে। অন্যথায়, এই তথাকথিত মেগা-বাজেট জনআকাঙ্ক্ষার মরণফাঁদ হিসেবেই ইতিহাসে কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে।

Continue Reading

top1

ঋণনির্ভর ও লুটপাটের বাজেট: জামায়াত

Published

on

By

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে ‘ঋণনির্ভর, বাস্তবায়ন অযোগ্য ও লুটপাটের বাজেট’ আখ্যা দিয়েছে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী।

দলটির দাবি, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জনকল্যাণমূলক, কর্মসংস্থানমুখী ও বাস্তবায়নযোগ্য বাজেটের পরিবর্তে সরকার এমন একটি বাজেট দিয়েছে, যা ঋণনির্ভর, বাস্তবতা-বিবর্জিত এবং শেষ পর্যন্ত দুর্নীতি ও লুটপাটকে উৎসাহিত করবে।

শুক্রবার (১২ জুন) নতুন অর্থবছরের বাজেট বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে বাজেট প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে এসব কথা বলেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটটি ব্যাংক ও বৈদেশিক বিরাট ঋণের ওপর নির্ভরশীল। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটের আর্থিক সংস্থান করতে গিয়ে ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকার যে রাজস্ব আয়ের কথা বলা হয়েছে, সেই রাজস্ব কীভাবে আদায় করা হবে তা স্পষ্ট করা হয়নি। বাজেটের ঘাটতি ২ লাখ ৩৬ হাজার ২৫০ কোটি টাকা কোথা থেকে পূরণ করা হবে- সেটি স্পষ্ট নয়। যেসব উৎস দেখানো হচ্ছে সেখানে যে কর কাঠামো, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রয়োজন, সেগুলোর উল্লেখ নেই।

তিনি আরও বলেন, এবারের বড় ঘাটতি বাজেটের যে ব্যয় সংকুলান, তা ব্যাংক লোন থেকে করা হবে। তাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যাবে। ব্যাংক থেকে সরকার ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ করতে পারবে না, স্বাভাবিকভাবে বেসরকারি খাতে প্রভাব পড়বে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এর সঙ্গে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা যুক্ত হওয়ায় বাজেট বাস্তবায়ন ও রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

সরকারের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাকে ‘অবাস্তব’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইএমএফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৫ শতাংশের নিচে রেখেছে। সেখানে সরকার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একইভাবে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এটি একটি ফাঁপানো ও উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য। ভেতরে এর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

পরওয়ার বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নের প্রতিফলন এ বাজেটে নেই। বাংলাদেশকে একটি স্বনির্ভর ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার কোনো রূপরেখাও এই বাজেটে পরিলক্ষিত হয়নি।

তিনি বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার বাড়িয়ে ৩ লাখ কোটি টাকা করা হয়েছে। কিন্তু পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করে এডিপির আকার বৃদ্ধি করলে দুর্নীতি ও অপচয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান সরকারের গৃহীত এসব অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত আমাদের পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের নীতির কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। এ ছাড়াও উচ্চাভিলাষী এই বাজেটের অর্থায়ন করতে গিয়ে সরকারকে অতিমাত্রায় ঋণনির্ভর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়েছে। দেশীয় উৎস, বিশেষ করে ব্যাংকিং খাত থেকে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়বে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

সাবেক এ সংসদ সদস্য বলেন, ন্যূনতম ব্যক্তিগত করের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। মূল্যস্ফীতির কারণে যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে, সেখানে অতিরিক্ত করের বোঝা জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে।

এই বাজেটকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এই বাজেট প্রণয়নে কোনো ধরনের হঠকারিতা জনগণ মেনে নেবে না। তাই অতিসত্বর অবাস্তবায়নযোগ্য, উচ্চাভিলাষী ও লুটপাটের সহায়ক এই বাজেট সংশোধন করে বিনিয়োগবান্ধব ও জনকল্যাণমূলক বাজেট প্রণয়নের জন্য আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।

জামায়াত প্রস্তাবিত ছায়া বাজেটের সঙ্গে তুলনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, তাদের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ছিল ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা, যা সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটের তুলনায় কম ঘাটতি ও কম ঋণনির্ভর।

তিনি বলেন, আমাদের ছায়া বাজেট জনকল্যাণমুখী ও সংস্কারভিত্তিক। সরকারের বাজেটের তুলনায় এটি বেশি বাস্তবসম্মত এবং দেশের অর্থনীতির জন্য কম ঝুঁকিপূর্ণ।

সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে বাজেটে আনা হয়েছে: অর্থমন্ত্রী

তিনি আরও বলেন, বাজেট ঘাটতির ক্ষেত্রে সরকারের প্রস্তাবিত ঘাটতি ২ লাখ ৩৬ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ জামায়াতের বাজেটে ঘাটতি অনেক কম, যা জিডিপির প্রায় ২.৪৩ শতাংশ; সেখানে সরকারের ঘাটতি ৩.৫ শতাংশ। সরকারি বাজেট ও জামায়াতে ইসলামীর ছায়া বাজেটের মধ্যে পার্থক্য শুধু সংখ্যাগত নয়; অর্থনৈতিক দর্শন, নীতিগত অবস্থান এবং বাস্তবায়ন কৌশলেও মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত আমির অর্থবছর পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমানে জুলাই-জুন অর্থবছরের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর ক্যালেন্ডার বছরভিত্তিক অর্থবছর চালু।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আমরা আশা করি, সরকার গঠনমূলক প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নিয়ে বাজেট সংশোধন করবে এবং বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে যে নৈরাজ্য ও অনিয়মের লক্ষণ ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে, তা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম ও ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মু. আতাউর রহমান সরকার ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আব্দুস সাত্তার সুমন।

Continue Reading

top3

আগামী অর্থবছরে বিভিন্ন দেশে ১৪ লাখ কর্মী পাঠাতে চায় সরকার: নুর

Published

on

By

আগামী অর্থবছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আনুমানিক ১৪ লাখ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
সোমবার (৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় এই তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাকের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিগত ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৫ জন বাংলাদেশি কর্মী বৈদেশিক কর্মসংস্থান লাভ করেছেন।

তিনি আরো বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষ ও পেশাদার কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সরকারের পক্ষ থেকে নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

নুরুল হক নুর জানান, যেসব দেশে বর্তমানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধ বা সীমিত রয়েছে, সেসব দেশের শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত ও সম্প্রসারণের জন্য মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনের সঙ্গে সরকারের কূটনৈতিক আলোচনা ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলমান রয়েছে

Continue Reading

Trending