Connect with us

রাজনীতি

গ্রুপিং কোন্দলে ‘লেজেগোবরে’ বিএনপি, একক প্রার্থী নিয়ে মাঠে জামায়াত

Published

on

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৬টি আসনে। রাস্তাঘাট, চায়ের দোকান-সব জায়গায় নির্বাচনের আলোচনা। ইতোমধ্যে এসব আসনে জামায়াতে ইসলামীসহ বেশ কয়েকটি ইসলামি দল তাদের একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। প্রার্থীরা গণসংযোগও শুরু করেছেন। যাচ্ছেন সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে। তবে দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বিএনপির অবস্থা ‘লেজেগোবরে’। দলটি এখনো কোনো আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি। এ কারণে ভোটারদের মধ্যে একই প্রশ্ন-কারা হচ্ছেন এসব আসনে বিএনপির প্রার্থী।

জেলার ৬টি আসনের প্রতিটিতে ৭ থেকে ৮ জন বিএনপি নেতা দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। প্রায় সবাই কর্মিসভা, আলোচনা সভাসহ সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। এতে এলাকায় এক ধরনের নির্বাচনি আমেজ বিরাজ করছে। তবে মনোনয়ন চূড়ান্ত না হওয়ায় মনোনয়নপ্রত্যাশী ও তাদের সমর্থকরা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন। এদিকে জেলার প্রতিটি উপজেলায় বিএনপি গ্রুপিং আর কোন্দলে জর্জরিত। দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর এ অবস্থার অবসান হওয়া দরকার বলে মনে করছেন মাঠপর্যায়ের কর্মী-সমর্থকরা। তা না হলে নির্বাচনে কঠিন বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর):

বিএনপি থেকে দলের মনোনয়ন পেতে মাঠে কাজ করছেন জেলা কমিটির সহসভাপতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান মামুন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ হান্নান, জেলা বিএনপির সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কেএম বশির উদ্দিন তুহিন, জেলা বিএনপির পরিবেশবিষয়ক সহসম্পাদক ড. শামসুল হক কিবরিয়া, নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আযম চৌধুরী ও প্রিন্সিপাল এমএ মোনায়েম। এ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে মাঠে রয়েছেন শাহানুল করমি গরীবুল্লাহ।জামায়াতে ইসলামীর জেলা জামায়াতের মজলিশে শূরা সদস্য ও নাসিরনগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক (অব.) একেএম আমিনুল ইসলামকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। খেলাফত মজলিস থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা সাইফুল্লাহ বিন আনসারী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ):

এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে গণসংযোগ করছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব এসএন তরুণ দে, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি শেখ মোহাম্মদ শামীম, সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান লস্কর তপু, জেলা বিএনপির সদস্য আহসান উদ্দিন খান শিপন, আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু আসিফ আহমেদ, আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সিরাজ ও ডাক্তার নাজমুল হুদা বিপ্লব। এ আসনে জামায়াতে ইসলামী থেকে প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মোবারক হোসাইন। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মনোনয়ন চাইবেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদী, ইসলামী আন্দোলন থেকে প্রার্থী হয়েছেন নেছার আহমেদ নাছেরী এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা মাইনুল ইসলাম।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (জেলা সদর-বিজয়নগর):

এ আসনে মনোনয়ন পেতে মাঠে আছেন বিএনপির অর্থনৈতিকবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। ২০১১ সালের উপনির্বাচনে এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন নিয়ে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। এছাড়া বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তৌফিকুল ইসলাম মিথিল।

এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল জোনায়েদ হাসান, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মনোনয়ন চাইবেন যুগ্ম সংগঠক মো. আতাউল্লাহ, ইসলামী আন্দোলন থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা গাজী নিয়াজুল করিম এবং খেলাফত মজলিস থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা মুহসিনুল হাসান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া):

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব মুশফিকুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কাজী নজরুল ইসলাম হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা খন্দকার, জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহাম্মেদ ভূঁইয়া, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা নাছির উদ্দীন হাজারী, সাবেক আখাউড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুসলেম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নসরুল্লাহ খান জুনায়েদ। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার। ইসলামী আন্দোলন থেকে প্রার্থী হয়েছেন মুফতি জসিম উদ্দিন এবং খেলাফত মজলিস থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা জয়নাল আবেদীন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর):

এ আসনে দল থেকে মনোনয়ন চাচ্ছেন জেলা বিএনপির অর্থনীতিবিষয়ক সম্পাদক কাজী নাজমুল হোসেন তাপস, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সায়েদুল হক সাঈদ, কেন্দ্রীয় কৃষক দল নেতা তকদীর হোসেন মো. জসিম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন ভূঁইয়া শিশির, জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান, কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক কেএম মামুন অর রশিদ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি রাজীব আহসান চৌধুরী পাপ্পু ও উচ্চ আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল বাকি। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী আব্দুল বাতেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হয়েছেন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান এবং খেলাফত মজলিস থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা আবদুল কাইয়ূম ফারুকী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর):

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে তোড়জোড় চালাচ্ছেন সাবেক সংসদ-সদস্য এমএ খালেক, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক সিকদার ও বাঞ্ছারামপুর বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান পলাশ।

এছাড়া জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন সহকারী অধ্যাপক দেওয়ান মো. নকিবুল হুদা, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকি এবং খেলাফত মজলিস থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা আবদুল মজিদ। তবে জোটগত কারণে এ আসনটি গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকিকে ছেড়ে দিতে পারে বিএনপি।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

ইসলামী ব্যাংকে সরকারের ‘অযাচিত হস্তক্ষেপের’ প্রতিবাদ জানাল জামায়াত

Published

on

By

দেশের বৃহত্তম ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ওপর সরকারের ‘অযাচিত হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ তুলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকারের ধারাবাহিক হঠকারী সিদ্ধান্ত দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও আর্থিক খাতকে ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে।

সোমবার (২৫ মে) দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, গতকাল রোববার (২৪ মে) ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে এবং জনগণের আস্থায় ফাটল ধরানোর উদ্দেশ্যে চেয়ারম্যানকেও পদচ্যুত করা হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকের কোটি কোটি গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ইসলামী ব্যাংকে যাকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তিনি ‘পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের চিহ্নিত দোসর’। তার ভাষায়, ‘তার মতো একজন ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া খাল কেটে কুমির আনারই শামিল।’

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতের ‘আড়াই লাখ কোটি টাকা লুটপাটকারীদের’ বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাদের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রেখে লুণ্ঠনের পথ প্রশস্ত করতেই ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পরে পদচ্যুত বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সাবেক ডেপুটি গভর্নরকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তার অপসারণ দাবি করেন তিনি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘অযোগ্য ও দলদাস গভর্নরকে’ অপসারণ, লুণ্ঠিত অর্থ ফেরত আনা এবং যোগ্য, সৎ ও ইসলামী ব্যাংকিংয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করতে হবে। অন্যথায় উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় সরকারকেই বহন করতে হবে বলেও সতর্ক করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।

Continue Reading

top1

ছাত্রদল নেতাসহ ১১৫ জন‌কে আসামি ক‌রে এন‌সি‌পির মামলা

Published

on

By

ঝিনাইদহে এন‌সি‌পি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় অব‌শে‌ষে মামলা নি‌য়ে‌ছে পু‌লিশ। ঘটনার পর ৭ঘণ্টা মামলা ন‌থিভূক্ত করার দা‌বি‌তে ঝিনাইদহ সদর থানায় নেতাকর্মী‌দের নি‌য়ে অবস্থান নেন এন‌সি‌পির কেন্দ্রীয় মূখ্য সংগঠক না‌সীরুদ্দীন পা‌টওয়ারী।

শুক্রবার রাত সা‌ড়ে নয়টার দি‌কে ‌ঝিনাইদ‌হের স্থানীয় এনসিপি নেতা তারেক রেজা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ইসলামী বিশ্ব‌বিদ্যালয় ছাত্রদলের আহবায়ক শাহেদ আহম্মেদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন, সাবেক সভাপতি এসএম সোমেনুজ্জামান সোমেন, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেলসহ ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১১৫ জনের নামে মামলা‌ করা হয়।

এদিকে মামলা রেকর্ডের পর ঝিনাইদহ থানা ঘেরাও করে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। এসময় থানার প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়ায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন তারা। এক পর্যা‌য়ে বিক্ষুব্ধ জেলা ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদলসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে থানার সাম‌নে জড়ো হয়ে নাসীরুউদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলার চেষ্টা করেন।

এসময় দলীয় নেতাকর্মীসহ নাসীরুউদ্দীন পাটওয়ারী থানার ভিতরে অবস্থান করাছিলেন। পুলিশ থানার প্রধান ফটকে গাড়ি দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সরে গেলে পুলিশ পাহারায় তিনি ঝিনাইদহ ত্যাগ করেন। রাত সা‌ড়ে ১০টার দি‌কে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মী শহরের পায়রা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

ছাত্রদল ও যুবদ‌লের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করবেন। এ‌সময় নেতাকর্মী‌দের উ‌দ্দে‌শ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, জেলা যুবদলের সাধারণ আশরাফুল ইসলাম পিন্টুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

অপর‌দি‌কে মামলার ঘটনায় জেলা পুলিশের কর্মকর্তা‌দের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলে তারা এই ব্যাপা‌রে কোন মন্তব্য কর‌তে রা‌জি হন‌নি।

Continue Reading

রাজনীতি

নেতৃত্ব নিয়ে আশাবাদী, দুর্দিনের সহযোদ্ধাদের মূল্যায়ন চাই: ইবি ছাত্রদল নেতা

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

জুলাই বিপ্লবের পর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠিত হলেও দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর ধরে আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই চলছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। মনের আক্ষেপ থেকে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ বলেছেন, “যেহেতু আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে (২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর পরবর্তী সময়, জুলাই-আগষ্ট গণঅভ্যুত্থান) ভূমিকা, ডেডিকেশন, শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, ক্লিন ইমেজ, কর্মীবান্ধব ও ছাত্রত্ব—এগুলো মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হবে তাই নেতৃত্ব নিয়ে আমি আশাবাদী। দুর্দিনের সহযোদ্ধাদের মূল্যায়ন চাই।”

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম— নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে একথা লিখেন তিনি। নিচে তার স্ট্যাটাসটি হুবুহু তুলে ধরা হলো—

আগেই বলে রাখি গুপ্ত মানে সংখ্যা হ্রাস বৃদ্ধি না। রাজনীতি করা দোষের কিছু না কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বেশ ধরা মানে রাজনীতিকে কলঙ্কিত করা। রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করা কোন কৌশল না বরং কাপুরুষতা। যায় হোক মূল লেখনীতে আসি— যে সংগঠনকে ভালোবেসে, ধারণ করে জীবনের মহামূল্যবান সময় দিয়েছি তার নাম ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল,ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা’। হয়তো হতে পারতাম বাবা-মায়ের সেরা সন্তান, বোনের সেরা ভাই, ভাইয়ের কাছে সেরা ভাই। প্রতিবেশী, আত্মীয়, সমাজের কাছে সফল কেউ। শুভাকাঙ্ক্ষী, প্রিয়দের কাছে আরও প্রিয়। তবুও কোন আপসোস নেই। অনেক গর্বের সাথে পরিচয় দিতে পারি আমি “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল”—এর একজন নগন্য কর্মী। ২০২১ সালের ১৬ জুন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদিত হয়। দুর্দিনে কমিটিভুক্ত ৬-৭ জন সহ মোট ১৪-১৫ জন সহযোদ্ধারা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি; কমিটিভুক্ত ২৪-২৫ জন নিস্ক্রিয় থেকে যায়। ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে কমিটিভুক্ত সহযোদ্ধাদের সংখ্যা বেড়ে ৯-১০ জন হয়েছে।

তিনি আরও লিখেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের কমিটি নতুন করে অনুমোদিত হয়েছে; এমনকি আমাদের বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সমসাময়িক সকল কমিটিই পূর্ণাঙ্গ হয়েছে। অনেক জায়গায় আবারও কমিটি অনুমোদনের গুঞ্জন আছে। দুঃখের বিষয় আমাদের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয় নাই। যদি ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়েও পূর্ণাঙ্গ হতো তাহলে হয়তো নেতা ও কর্মীর মধ্যে প্রতিযোগিতা হতো না [দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়ায় যে কর্মী যে নেতার হাত ধরে রাজনীতিতে এসেছে সেই নেতা ও কর্মীর মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা] কর্মীরা পরিচয় পেতো, সংগঠনের প্রতি দায়বদ্ধতা বাড়তো, সংগঠন অনেকটা প্রাণ ফিরে পেতো।বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনের সময় বঞ্চিত হয়েছি তবে সংগঠন ছেড়ে কখনও নিস্ক্রিয় হয় নাই। একক প্রস্তাবিত সদস্য সচিব প্রার্থী থেকেও কাঙ্ক্ষিত পদবী না পেয়েও নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে সংগঠনের কাজ করে আসছি।আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক জনাব Tarique Rahman ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ সবার সব বিষয়ে অবগত আছেন। যেহেতু আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে (২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর পরবর্তী সময়, জুলাই – আগষ্ট গণঅভ্যুত্থান) ভূমিকা, ডেডিকেশন, শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, ক্লিন ইমেজ, কর্মীবান্ধব ও ছাত্রত্ব এগুলো মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হবে তাই নেতৃত্ব নিয়ে আমি আশাবাদী। দুর্দিনের সহযোদ্ধাদের মূল্যায়ন চাই।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৬ জুন তিন মাসের জন্য ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয় ইবি ছাত্রদলের। তবে চার বছর পার করলেও নতুন কমিটি গঠিত হয়নি, যা সংগঠনের কার্যক্রমে স্থবিরতা ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। সাহেদ আহম্মেদ (আহ্বায়ক) ও মাসুদ রুমী মিথুন (সদস্য সচিব) নেতৃত্বাধীন এ কমিটি ৩ মাস মেয়াদী হলেও বিবাহিত, অছাত্র ও নিষ্ক্রিয় সদস্য এবং নতুন নেতৃত্ব না আসায় বর্তমানে পুনর্গঠনের দাবি উঠেছে।

Continue Reading

Trending