ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের আগমন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যালেন্ডার মোড়ক উন্মোচন, জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তি, আহত শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা, স্মার্ট আইডি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম, শহীদের কবর জিয়ারত সহ বিভিন্ন ইস্যুতে পার করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
পাঠকদের সুবিধার্থে আজকে (২ জুলাই) দিনব্যাপ ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া ঘটনাপ্রবাহ নিচে ধারাবাহিক দেয়া হলো।
মহাপরিচালকের আগমন:
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালককে ফুল দিয়ে বরণ
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ও আইন বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আব্দুস ছালাম খানের আগমনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান-২০২৫ আয়োজন করা হয়েছে। এসময় ইবিতে দেশের প্রথম ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্নার’ হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন তিনি।
এসময় শাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি শাখা ছাত্রদল শিবির ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।এসময় সংবর্ধিত অতিথি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আবদুস ছালাম বলেন, ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভার্নিং বডির সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত মোতাবেক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি।ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে দেশের প্রথম ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্নার’ হবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইসলামকে সমুন্নত রাখতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা চাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। যেহেতু এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ইসলাম নিয়ে কাজ কারার মতো অনেক ক্ষেত্র রয়েছেন। মানব উন্নয়নে কিছু ভালো দক্ষ শিক্ষার্থী আমরা গড়ে তুলতে চাই।’
শহীদ সাব্বিরের কবর জিয়ারত:
শহীদ সাব্বিরের কবর জিয়ারত ইবি শাখা সমন্বয়কদের
জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলেন সাব্বির হোসেন। ১৮ জুলাই ঢাকার উত্তরায় আজমপুরে আন্দোলনরত অবস্থায় পুলিশের গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন তিনি। তার বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার চড়িয়ারবিল এলাকায়। তার পিতার নাম আমোদ আলী, মা রাশিদা খাতুন।সকাল সাড়ে ৯টায় কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা জুলাই আন্দোলনে শহীদ সাব্বির হোসেনের কবর জিয়ারত করেন। এসময় তারা শহীদের মায়ের সাথে সাক্ষাৎ করেন ও পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। শহীদের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবির সমন্বয়ক এস এম সুইট, সহ-সমন্বয়ক ইয়াশিরুল কবির সৌরভ, তানভির মাহমুদ মন্ডল ও গোলাম রাব্বানীসহ অন্য নেতাকর্মীরা।
ক্যালেন্ডার মোড়ক উন্মোচন:
উন্মোচন করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন
২০২৫-২০২৬ খ্রিস্টাব্দের একাডেমিক ক্যালেন্ডারের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ তাঁর কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মোড়ক উন্মোচন করেন।
অভিযুক্ত সেই শিক্ষকের শাস্তির দাবি:
ভুক্তভোগীদের স্মারকলিপি প্রদান
যৌন হয়রানিসহ নানা অভিযোগ উঠা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আজিজুল ইসলামের শাস্তি নিশ্চিত করতে স্মারকলিপি দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।বিভাগে অভিযোগের পর এবার উপাচার্য বরাবর প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরিত অভিযোগ প্রদান করে তারা। উপাচার্যের কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি জমা দেন এবং অনতিবিলম্বে তাকে যথাযথ শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান। এর আগে গত (২২ জুন) বিভাগের প্রায় ২৪ জন শিক্ষার্থী ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলে অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই শিক্ষককে বিভাগের সব কার্যক্রম থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. একে এম নাজমুল হুদা।
জুলাই বিপ্লবে আহতদের বিশেষ অনুদান:
উপাচার্যের নিজস্ব ফান্ড থেকে জুলাই বিপ্লবে আহত মোট ১১ জন শিক্ষার্থীদের মাঝে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে।বিকাল ৪ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ে আহতর বিচারের বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ৫ হাজার ও ৬ হাজার করে মোট অর্ধ লক্ষ টাকা দেয়া হয়।এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, জুলাই বিপ্লবে যারা আহত হয়েছে সকলের প্রতি আমার বিনম্র শ্রদ্ধা এবং যারা শহীদ হয়েছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়’সহ সারাদেশে যারা জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণ করেছেন তাদের এই আত্মাত্যাগ প্রতি শ্রদ্ধা রাখতে বিন্দুমাত্র পিছ পা হবো না, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমি এই গ্যারেন্টি দিচ্ছি। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা যে অনুদান দিয়েছি তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য এবং যারা জুলাই বিপ্লবের অংশগ্রহণ করেছে আগামী দিনের তাদের জন্যও সুবিধার জন্য খেয়াল রাখবো এবং তারা সবসময় আমাদের বিবেচনায় থাকবে। জুলাই আগস্ট যেনো আমাদের আদর্শ হয়। পরিবর্তিত বাংলাদেশে জুলাই আগস্টের ত্যাগ ও আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করি।
স্মার্ট আইডি কার্ড বিতরণ:
রেডিও ফ্রিকোয়েন্সী আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) প্রযুক্তি যুক্ত স্মার্ট আইডি কার্ড উদ্বোধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের তৃতীয় তলায় আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ৫০ জন শিক্ষার্থীদের এই স্মার্ট আইডি কার্ড প্রদান করা হয়। তবে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অবশিষ্ট শিক্ষার্থীদের হাতে স্মার্ট কার্ড তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি:
শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে শপথ নিচ্ছেন
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখার উদ্যোগে জুলাই বিপ্লবে শহীদদের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দোয়া মাহফিল ও মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।বিকাল ৫ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচি শুরু করেন তারা। মাসব্যাপী ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে প্রায় দুই হাজার গাছ রোপণ করবেন বলে জানা যায়।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ। উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান আগামী এক বছরের জন্য তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশ সূত্রে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামের মেয়াদ ২৭ সেপ্টেম্বর (২০২৬) শেষ হওয়ায় তাঁর স্থলে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এক বছরের জন্য ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান। অফিস আদেশ অনুযায়ী, নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
এদিকে, দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
নবনিযুক্ত ছাত্র উপদেষ্টা বলেন, আমি চিঠি পেয়েছি। কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞ। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা এবং বেশকিছু পরিকল্পনা নিয়ে সামনে আগাবো ইনশাআল্লাহ। ইবি সংবাদদাতা
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ। উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান আগামী এক বছরের জন্য তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশ সূত্রে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামের মেয়াদ ২৭ সেপ্টেম্বর (২০২৬) শেষ হওয়ায় তাঁর স্থলে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এক বছরের জন্য ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান। অফিস আদেশ অনুযায়ী, নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
এদিকে, দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
নবনিযুক্ত ছাত্র উপদেষ্টা বলেন, আমি চিঠি পেয়েছি। কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞ। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা এবং বেশকিছু পরিকল্পনা নিয়ে সামনে আগাবো ইনশাআল্লাহ।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে পটুয়াখালী জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার কর্মশালা ২০২৫-২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার ( ২৭ শে সেপ্টেম্বর) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনানন্দ দাস হলে আজমাইন সাকিব এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন ছুটি মন্ডল ও তুষার শিবলী।
অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল ও ক্রেষ্ট দিয়ে বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি একটি ফলপ্রসূ ক্যারিয়ার কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনের শুরু থেকেই লক্ষ্য নির্ধারণ ও ভবিষ্যতের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার নানা দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রধান অতিথি ববি উপাচার্য ড. মামুন অর রশীদ বলেন, ” আমাদের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ মধ্যে ৩৩ তম বিশ্ববিদ্যালয়। অন্য ২৫ টি বাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক কিছু আছে। তাই আমি সকল ছাত্র ছাত্রীদের আমি অনুরোধ করবো আমরা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নেগেটিভ দিকগুলো দেখবো না পজেটিভ দিক গুলো সামনে তুলে আনবো যা বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে আরো অনেক কিছু পাবো। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ভবন ৩ অর্থ মন্ত্রণালয়ের থেকে অনুমোদন দিলে আমার কাজ শুরু করতে পারবো । আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় পর্যায় প্রোজেক্টটি আলরেডি স্টাট করেছি। আগামী সপ্তাহ আমাদের ১৫ তম ব্যাচের সেন্টাল অরিয়েন্টশন হবে। সবাই অভিনন্দন জানাচ্ছি। পটুয়াখালী থেকে অগত মেহমানদের অভিনন্দন ও জ্ঞাতিগপন করছি। পটুয়াখালী ছাত্র কল্যাণ পরিষদ কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এতো সুন্দর একটা অনুষ্ঠানে আয়োজন করার জন্য। সবশেষ একটা কথা বলবো গুনগান বা ক্ষতি হোক আমি তোমাদের লোক।”
প্রধান আলোচক বাউফল পৌর বিএনপি সভাপতি মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, “অক্সিজেন ছাড়া যেমন বাতাসের মূল্য নেই তেমন সততা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ারও মূল্য নেই। তোমরা যারা নবীন শিক্ষার্থী আছো তারা আগামী দিনের সম্পদ। মাদক বা সকল প্রকার অনৈতিক কাজ থেকে তোমরা তোমাদের বিরত রাখবা। তোমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।”
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আজমাইন সাকিব বলেন, “পটুয়াখালী জেলা থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের যেকোনো সমস্যায় পাশে থাকাই আমাদের মূল লক্ষ্য। নবীনদের অ্যাকাডেমিক ও ক্যারিয়ার বিষয়ক দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্যই এই আয়োজন।”
অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন বর্ষের জ্যেষ্ঠ ও নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা ও ক্যারিয়ার কর্মশালা শেষে এক আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) -এর ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষা, গবেষণা ও ব্যবহারিক কার্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে একটি বিদ্যমান গবেষণাগারের সংস্কার ও আধুনিকায়ন (refurbished) এবং একটি নতুন আধুনিক গবেষণাগার উদ্বোধন করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অভ্যন্তরে অবস্থিত পূর্বের ‘Seafood Processing, Quality and Safety Laboratory’-এর সংস্কার ও আধুনিকায়নকৃত অংশ এবং খামার ভবনে নবনির্মিত ‘Advanced Analytical Laboratory’ প্রধান অতিথি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার (SPM), HEAT-ATF Sub-project (PIN-13571) এবং , ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান Seafood Processing, Quality and Safety Laboratory-এর উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে তিনি খামার ভবনে অবস্থিত Advanced Analytical Laboratory-এ যান। সেখানে তিনি ল্যাবটির নামফলক উন্মোচন ও ফিতা কাটার মাধ্যমে ল্যাবটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং সংশ্লিষ্ট ল্যাব/প্রকল্পের ওয়েবসাইটও উদ্বোধন করেন |
উদ্বোধনের পর প্রধান অতিথি ও অতিথিবৃন্দ ল্যাবের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান ল্যাবে স্থাপিত ও ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতির কার্যক্রম, ব্যবহারিক গুরুত্ব এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার সম্ভাবনা সম্পর্কে অতিথিদের অবহিত করেন। ল্যাবের প্রতিটি যন্ত্রের মাধ্যমে কি ধরনের নমুনা প্রস্তুত, বিশ্লেষণ ও গবেষণা করা যাবে—সে বিষয়েও তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন | পরে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কল্যাণ ও সফলতা কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
Advanced Analytical Laboratory-তে গবেষণা ও নমুনা বিশ্লেষণের জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও সহায়ক সরঞ্জাম রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ; Fluorescence fingerprinting instruments and Fourier Transform Infrared (FTIR) Spectroscopy. এছাড়াও আরো ১৫ টির মতো ইন্সট্রুমেন্ট ল্যাবরেটরীতে রয়েছে।
গবেষণার মূল লক্ষ্য ফ্লুরোসেন্স ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি এই ল্যাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা লক্ষ্য হলো Fluorescence Fingerprint coupled with Chemometrics প্রযুক্তির মাধ্যমে সামুদ্রিক খাদ্য ও মৎস্যজাত পণ্যের গুণমান ও নিরাপত্তা বিশ্লেষণের জন্য দ্রুত, আধুনিক ও non-invasive পদ্ধতি উন্নয়ন করা।
উল্লেখ্য, এই গবেষণা কার্যক্রমের মাধ্যমে মাছ ও অন্যান্য seafood-এর freshness, quality, chemical changes, authenticity এবং বিভিন্ন quality/safety indicator দ্রুত মূল্যায়নের জন্য fluorescence signal ও chemometric modelling ব্যবহৃত হয় অর্থাৎ প্রচলিত পদ্ধতিতে সামুদ্রিক খাদ্য ও অন্যান্য জলজ খাদ্যপণ্যের গুণগত মান নির্ণয় এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সময়সাপেক্ষ, শ্রমনির্ভর এবং জটিল। বিশেষ করে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে নমুনা প্রস্তুতকরণসহ বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে অনেক সময় এক থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। এর বিপরীতে, ফিঙ্গারপ্রিন্টিংভিত্তিক আধুনিক বিশ্লেষণাত্মক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অল্প সময়ের মধ্যে নমুনার রাসায়নিক ও ভৌত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা সম্ভব। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে মাত্র কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণ করা যেতে পারে, যা প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় দ্রুত ও কার্যকর বিশ্লেষণের সুযোগ সৃষ্টি করে।
এছাড়াও, বিভিন্ন ধরনের অ্যাডাল্টার বা ভেজাল শনাক্তকরণের ক্ষেত্রেও ফিঙ্গারপ্রিন্টিং একটি কার্যকর ও সহজতর পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। তুলনামূলকভাবে সরল নমুনা প্রস্তুতির মাধ্যমে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে উপস্থিত অনাকাঙ্ক্ষিত উপাদান বা ভেজাল শনাক্ত করার সুযোগ থাকায় খাদ্যের গুণগত মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এ প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সামগ্রিকভাবে, দ্রুততা, কম শ্রমের প্রয়োজনীয়তা এবং সহজ বিশ্লেষণ পদ্ধতির কারণে ফিঙ্গারপ্রিন্টিং প্রযুক্তি সামুদ্রিক খাদ্য ও জলজ সম্পদভিত্তিক পণ্যের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে একটি সম্ভাবনাময় আধুনিক প্রযুক্তি।