Connect with us

top1

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বিজেপির ‘হিন্দুত্ববাদের’ থাবায় যেভাবে বিপন্ন ক্রিকেট

Published

on

১৯৯৩ সালের কথা। ‘ডর’ ও ‘বাজিগর’–এর মতো পরপর দুটি মেগাহিট সিনেমা দিয়ে বলিউডে এক কিংবদন্তি ক্যারিয়ারের সূচনা করেছিলেন এক উদীয়মান তারকা। তিনিই প্রথম দর্শকদের কাছে ‘অ্যান্টি-হিরো’ বা খলনায়ক চরিত্রের নতুন এক ধারণা নিয়ে আসেন। এর ঠিক ৩৩ বছর পর, সেই ঘটনার জেরেই বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কৃত হতে হলো বাংলাদেশকে!

কথাগুলো পড়ে যদি আপনার কাছে অর্থহীন মনে হয়, তবে এই দুই ঘটনার পেছনের যোগসূত্র মেলাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। তবে এই গল্পের মূলে যে নতুন উদ্বেগজনক বাস্তবতা, তা হলো—বর্তমান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কীভাবে ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী সরকারের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

গত ২ জানুয়ারি ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা সংগীত সোম দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় মুসলিম ব্যক্তিত্ব শাহরুখ খানকে ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দিয়ে আক্রমণ করে বসেন। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) মালিক শাহরুখ। তার দলই মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে ভিড়িয়েছিল। 

মোস্তাফিজকে ‘ভয়াবহ পরিণতির’ হুমকি দিয়ে সংগীত সোম দাবি করেন, ভারতে শাহরুখের ‘বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই’। 

এর কয়েক দিনের মধ্যেই ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই) কেকেআরকে মোস্তাফিজকে ছেড়ে দেওয়ার ‘অনুরোধ’ করে। কারণ হিসেবে ‘চারপাশে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাবলির’ মতো একটি অস্পষ্ট অজুহাত দাঁড় করায় তারা।

এমন ঘটনার পর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিক্রিয়া জানান বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় নিতে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসিকে জানাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) নির্দেশ দেন তিনি।

আসিফ নজরুল উল্লেখ করেন, ‘যদি একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার ভারতে খেলতে না পারেন… তাহলে পুরো বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপের জন্য ভারতে ভ্রমণ করাটা নিরাপদ বোধ করতে পারে না।’

বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে কয়েক দফা আলোচনার পর আইসিসি কড়া ভাষায় বাংলাদেশের এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। সংস্থাটি জানায়, এমন কিছু করা হলে তা ‘এমন এক নজির স্থাপন করবে, যা আইসিসির ভবিষ্যৎ ইভেন্টগুলোর স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ন করবে এবং বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে এর নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।’ 

শুধু তাই নয়, বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকেই সরিয়ে দিয়ে আইসিসি বাংলাদেশের বদলি হিসেবে স্কটল্যান্ডকে স্থলাভিষিক্ত করে।

এরপর, আইসিসির এমন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। তিনি আইসিসির এই পদক্ষেপকে ‘দ্বৈত নীতি’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র বিরোধিতা করেন। এর কয়েক দিন পরই পাকিস্তান সরকার তাদের ক্রিকেট দলকে বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষের ম্যাচটি বয়কট করার নির্দেশ দেয়।

এখন প্রশ্ন হলো, এই পুরো ঘটনার সঙ্গে ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী আদর্শের সম্পর্ক কোথায়?

শুরুতেই বলা যায়, শাহরুখ খান ও মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে সংগীত সোমের দেওয়া হুমকি মূলত বিজেপির সেই পুরনো মুসলিমবিদ্বেষী কৌশলেরই অংশ। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে এই ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। 

সেখানকার স্থানীয় মুসলমানদের ‘বাংলাদেশি শরণার্থী’ দাবি করে বহিষ্কারের ডাক দিচ্ছে বিজেপি, কট্টর সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অংশ হিসেবেই এসব বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালাচ্ছে তারা।

যদিও হিন্দুত্ববাদী বিজেপির লক্ষ্যবস্তুতে শাহরুখ খান এবারই প্রথম নন। কয়েক দশকের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার কারণে ভারতীয় সমাজে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ‘আইকন’ হিসেবে তাকে বারবার নিশানা করা হয়েছে।

তবে এবারে খোদ বিসিসিআই সরাসরি হস্তক্ষেপ করে মোস্তাফিজকে সরিয়ে নিতে কেকেআরকে ‘অনুরোধ’ জানায়। এই সিদ্ধান্তের আগে বিসিসিআইয়ের অভ্যন্তরে কোনো ধরনের আলোচনা বা বিতর্ক হয়নি। 

‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোর্ডের একেবারে উচ্চপর্যায় থেকে এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি বোর্ডের সাধারণ সদস্য বা আইপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের সঙ্গেও কোনো পরামর্শ করা হয়নি। বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা নিজেরাও সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। কোনো আলোচনা হয়নি, আমাদের কোনো পরামর্শও নেওয়া হয়নি।’

কেকেআরের কাছে বিসিসিআইয়ের সেই অনুরোধটিও ছিল ইচ্ছাকৃতভাবে অস্পষ্ট। কেন বা কী কারণে এমন দাবি তোলা হয়েছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা সেখানে ছিল না। আর এই অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়েই আইসিসি পরবর্তীতে বিসিবির নিরাপত্তা উদ্বেগের দাবিটি নাকচ করে দেওয়ার সুযোগ পায়।

ভারতীয় ক্রীড়া সাংবাদিক শারদা উগ্রার মতে, এই ‘অস্পষ্টতা’ মূলত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সাম্প্রতিক কর্মপদ্ধতির একটি কৌশলগত বৈশিষ্ট্য। ২০২৫ সালের এশিয়া কাপে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে ভারতীয় দলকে কেন হাত মেলাতে নিষেধ করা হয়েছিল, তার কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব তিনি অনেক চেষ্টা করেও পাননি।

একইভাবে গত বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির জন্য ভারত কেন পাকিস্তান সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানাল, তারও কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত নির্দেশনা নেই। শারদা বলেন, ‘বিদেশ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র দপ্তর কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়—কোথাও কোনো স্পষ্ট বিবৃতি বা নির্দেশনা নেই। কোনো সুনির্দিষ্ট আদেশ ছাড়াই সবকিছু ঘটছে।’

মোস্তাফিজের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। শারদা বলেন, ‘কোনো দাপ্তরিক নথিপত্র বা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার কোনো প্রমাণ নেই। এমন কোনো কাগজ নেই যেখানে লেখা আছে যে এই ক্রিকেটারের সঙ্গে চুক্তি করা যাবে না কিংবা তিনি বিপদে আছেন। সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক সতর্কতাও নেই। পুরোটাই ঘটেছে শুধুমাত্র ফিসফাস আর গুঞ্জনের ওপর ভিত্তি করে।’

বিসিসিআই যদি ভারতের ক্ষমতাসীন দলের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে আইসিসিও তার থেকে আলাদা কিছু নয়। আইসিসির বর্তমান প্রধান জয় শাহ স্বয়ং ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ছেলে—যিনি নরেন্দ্র মোদির পর ভারতের বর্তমান শাসনব্যবস্থার দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি। 

বিশেষ করে, পাকিস্তানের মাটিতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ম্যাচগুলো ভারতের আপত্তির মুখে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত যারা হাসিমুখে মেনে নিয়েছিল, তাদের মুখে নিরপেক্ষতার বুলি এখন উপহাসের মতোই শোনায়।

গার্ডিয়ান-এর সাংবাদিক তাহা হাশিম লিখেছেন, ‘ভবিষ্যৎ ইভেন্টগুলোর পবিত্রতা রক্ষার দাবিটি আইসিসির জন্য একটি ‘কমেডি’। কারণ, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি নিয়ে তাদের হাইব্রিড মডেলের সিদ্ধান্তই একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করেছে, যা আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোকে হাসির খোরাক বানিয়ে দিয়েছে।’

ক্রিকেট বোর্ডগুলোর মধ্যে একমাত্র পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভিই এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রতি আইসিসির এই আচরণকে ‘দ্বৈত নীতি’ ও ‘অবিচার’ হিসেবে অভিহিত করে পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এই সংকটে পাকিস্তানের মতো মিত্র পেলেও বাংলাদেশের বাস্তবতাকে একটু ভিন্নভাবে দেখছেন জ্যেষ্ঠ ক্রীড়া সাংবাদিক মোহাম্মদ ইসাম।

ইসামের মতে, তিন দিকে ভারতবেষ্টিত একটি দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ওপারের বাংলা ভাষাভাষীদের সঙ্গে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক অনেক বেশি গভীর। ফলে বাংলাদেশের সামনে বিকল্প পথগুলো সীমিত। তিনি মনে করেন, বর্তমান সংকটটি সরাসরি সরকারের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও আসন্ন নির্বাচনমুখী রাজনীতির ফল।

পর্যবেক্ষকদের ধারণা ছিল, মোস্তাফিজের ঘটনার পর বিসিবি হয়তো একটি কূটনৈতিক অবস্থান নেবে। ইসাম বলেন, ‘বিসিবি একটি মধ্যমপন্থি বিবৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল। কারণ, বর্তমান সরকারের জন্য ভারতের বিরোধিতা করা রাজনৈতিক বিষয় হতে পারে, কিন্তু ক্রিকেট বোর্ডের কাছে ভারতীয় ক্রিকেটই সব। 

বিসিবি আসলে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা রাখে না। কারণ, ভারতের একটি মাত্র সফর দিয়ে বিসিবির কয়েক বছরের খরচ চলে যায়।’ 

আর্থিক লোকসানের এই ভয়টাই হলো ভারতের সেই ‘লাঠি’, যা দিয়ে তারা বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের একচ্ছত্র দাপট বজায় রাখে। পাকিস্তান ক্রিকেট প্রায় দুই দশক ধরে ভারতীয় অর্থ ও সম্পর্কের বাইরে থেকে টিকে থাকার অভ্যাস করে নিলেও, অন্য ছোট বোর্ডগুলোর সেই সক্ষমতা বা সাহস নেই। এমনকি ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রভাবশালী বোর্ডগুলোও এই বিষয়ে আশ্চর্যরকম উদাসীন।

ইয়েল ইউনিভার্সিটির লেকচারার সুশান্ত সিং এক ব্লগ পোস্টে লিখেছেন, ‘সংখ্যাগুরুবাদী রাজনীতির বেদীতে বিসর্জন দেওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে মোস্তাফিজই শেষ ব্যক্তি নন… এই তলোয়ার এখন প্রস্তুত এবং এর কার্যকারিতাও প্রমাণিত। আইসিসি, অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ড কিংবা বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যম—কারোরই এই ধারা থামানোর সদিচ্ছা নেই।’

এই স্রোত প্রতিরোধের উপায় কী? সুশান্ত সিং মনে করেন, ‘ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো যখন এমন পরিস্থিতির শিকার হবে, তখনই হয়তো কোনো পালটা প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। কিন্তু তার আগ পর্যন্ত আয়ের অংকের কথা চিন্তা করে এই অপমান মুখ বুজে সয়ে যাওয়াই হয়তো বোর্ডগুলোর নীতি হয়ে থাকবে।’

আইসিসি কিংবা ভারত বাদে অন্য দুই শক্তিশালী বোর্ড (ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া) থেকে কোনো প্রতিবাদের আশা দেখছেন না শারদা উগ্রাও। তিনি গত ৩০ বছর ধরে ক্রিকেট কাভার করছেন। তার মতে, ‘আইসিসিকে এর আগে কখনো এতটা অসহায় ও ছন্নছাড়া মনে হয়নি। এটি এখন একটি নীতিহীন সংস্থায় পরিণত হয়েছে। 

আর অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ডগুলো বর্তমান ক্রিকেটের ‘বিগ ডন’ বিসিসিআইয়ের আজ্ঞাবহ সহযোগী ছাড়া আর কিছুই নয়। আইসিসিতে এখন কোনো যোগ্য বা পরিপক্ক নেতৃত্ব নেই।’

আইসিসির এই কথিত নেতৃত্বের দুর্বলতা ফুটে উঠেছে পাকিস্তানের ভারত-ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তের পর। প্রতিটি টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি আয় আসে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ থেকে। পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর আগেই আইসিসি তড়িঘড়ি করে এক বিবৃতিতে জানায়, তারা আশা করে পিসিবি আলোচনার মাধ্যমে একটি ‘পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান’ খুঁজে নেবে। 

বাংলাদেশের অনুরোধের ক্ষেত্রে আইসিসি যেমন কঠোর ছিল, পাকিস্তানের ক্ষেত্রে তাদের সুর ঠিক ততটাই নরম ও নমনীয়। স্পষ্টতই, বিপুল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় আইসিসি তাদের নীতি বিসর্জন দিতে প্রস্তুত।

শারদা উগ্রা বলেন, ‘হিন্দুত্ববাদী আন্দোলন ও বিসিসিআইয়ের ওপর বিজেপির নিয়ন্ত্রণ ক্রিকেটের বারোটা বাজাচ্ছে। বিসিসিআই এখন ক্রিকেট ভক্তদের চেয়ে ভারতের ‘ভোটের রাজনীতির’ মাঠকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।’ 

ভারতের কোনো একটি রাজ্যের স্থানীয় নির্বাচনের প্রচারণার আঁচ গিয়ে পড়ছে ভিনদেশের খেলোয়াড় বা ক্রিকেট বোর্ডের ওপর, যা এই খেলার ভবিষ্যৎকেই পঙ্গু করে দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একজন ভারতীয় বিশ্লেষক যেমনটি লিখেছেন, ‘কয়েকজন মানুষের খুশির জন্য আপনি যদি আপনার সবচেয়ে বড় ‘সফট পাওয়ার’ (ক্রিকেট) পুড়িয়ে ফেলেন, তবে এমনই হবে। মোস্তাফিজকে নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের জেরেই পাকিস্তানের এই বয়কটের সিদ্ধান্ত।’

দুর্ভাগ্যবশত, এই সংকটের কোনো সহজ সমাধান নেই। সুশান্ত সিং মনে করেন, এই খেলার ‘শেষ উইকেটটি’ কোনো প্রতিপক্ষ বোলারের ডেলিভারিতে পড়বে না; বরং এটি পড়বে ব্রডকাস্টারদের মামলা কিংবা বাণিজ্যিক চুক্তির পতনের মাধ্যমে। এর ফলে ক্রিকেট নৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং আর্থিক—সব দিক থেকেই দেউলিয়া হয়ে যাবে। এই পথ থেকে ফেরার একমাত্র উপায় হলো ‘জবাবদিহি’।

ততদিন পর্যন্ত ক্রিকেটের মাঠের নিষ্ঠুর বাস্তবতা এটাই যে, ভারতের স্থানীয় রাজনীতিতে একটি প্রজাপতির ডানা ঝাপটানো অন্য দেশের ক্রিকেটের ভাগ্যে ঝড় ডেকে আনতে পারে।

সুত্র: টিবিএস

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

ইরানের সঙ্গে ‘১০ দফা’ চুক্তির খবরকে ভুয়া বলে উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প

Published

on

By

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কথিত ‘১০ দফা’ চুক্তির খসড়ার খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও সিএনএনের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাস্তব কোনো আলোচনার প্রতিফলন ঘটেনি। বরং কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও সেনা ইরানের আশপাশেই থাকবে, যতক্ষণ না একটি বাস্তব চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হয়। চুক্তি মানা না হলে অভূতপূর্ব মাত্রার সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা।

এর আগে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে।

এদিকে বিভিন্ন প্রতিবেদনে যে ‘১০ দফা’ প্রস্তাবের কথা বলা হচ্ছে, তাতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি চালু রাখার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে এসবের কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা এখনো পাওয়া যায়নি।

সূত্র : শাফাক নিউজ

Continue Reading

top1

এক দিন আগেই ভাইয়ের বাসায় এসেছিলেন শিরীন শারমিন

Published

on

By

গ্রেপ্তারের এক দিন আগে সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে চাচাতো ভাইয়ের বাসায় স্বামীসহ উঠেছিলেন জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। বাসাটি তার চাচাতো ভাই আরিফ মাসুদ চৌধুরীর। ৮/এ নম্বর সড়কের সাততলা অ্যাপার্টমেন্টের চারতলার এ/৩ ফ্ল্যাটে আগে থেকেই সাবেক স্পিকারের পরিবারের অন্য কয়েকজন সদস্য থাকতেন। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে ওই বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সাবেক স্পিকার লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান। তবে তিনি যে ধানমন্ডির ওই বাসাটিতেই অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়ে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়। বাড়িটির অন্যান্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দা, নিরাপত্তারক্ষী, তত্ত্বাবধায়কসহ কর্মচারীদের কেউই বিষয়টি জানতেন না। অন্য বাসিন্দারা সংবাদমাধ্যমে খবর দেখে বিষয়টি জানতে পেরে অবাক হয়েছেন বলে তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

গ্রেপ্তারের এক দিন আগে শিরীন শারমিন ওই ফ্ল্যাটে আসার বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন তার চাচাতো ভাই আরিফ মাসুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আগের দিন তিনি স্বামীসহ আমাদের বাসায় এসেছিলেন। এসে খুব প্রাণবন্ত ছিলেন। আমাদের রান্নাবান্না করতে বলেছিলেন। তার চাওয়া অনুযায়ী রান্নাবান্নাও হয়েছিল।’ এক প্রশ্নের জবাবে মাসুদ চৌধুরী বলেন, ‘এর আগে নানা জায়গায় ছিলেন বলে শুনেছি। তবে কোথায় ছিলেন তা আমরা জানি না।’

এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগ ও ডিবি পুলিশের একাধিক সূত্র কালবেলার কাছে দাবি করেছে, নির্বাচনের পরপরই সাবেক স্পিকার ওই ভবনে ওঠেন। তাকে তার এক চাচাতো ভাইয়ের বাসায়, চারতলায় আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্বাচনের আগে তিনি কোথায় ছিলেন, তা আমরা নিশ্চিত নই।

গতকাল দুপুর ১২টায় ধানমন্ডির ৮/এ সড়কে লেকের পাড়ে রবীন্দ্র সরোবরঘেঁষা সেই বাসায় গিয়ে দেখা যায়, একাধিক নিরাপত্তারক্ষী মূল ফটকে দায়িত্ব পালন করছেন। সাততলা বাড়ির একেবারে নিচতলায় থমথমে পরিবেশ। দায়িত্বরত নিরাপত্তা রক্ষীদের কাছে শিরীন শারমিন চৌধুরীর গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে রিয়াজুল নামে একজন বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে কিছু জানি না। গত রাতে যারা এখানে ডিউটি করেছেন, তারা বলতে পারবেন। আমরা তো সকালের শিফটে ডিউটি শুরু করেছি, তাই কিছু বলতে পারব না।’

বাড়িটির তত্ত্বাবধায়ক জাকির হোসেন কালবেলাকে বলেন, ‘উনি (শিরীন শারমিন) এ বাসার চারতলার একটি ফ্ল্যাটে ছিলেন এবং সেখান থেকেই পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়। যদিও তাকে গ্রেপ্তারের আগে আমরা জানতাম না, উনি এই বাসায় থাকতেন। কখনো এখানে তাকে দেখিনি।’ কয়েক মাস ধরে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা এসে শিরীন শারমিনের অবস্থানের তথ্য চেয়ে খোঁজখবর নিচ্ছিলেন বলেও জানান জাকির হোসেন।

ওই বাড়ি এবং আশপাশের বাড়ির একাধিক বাসিন্দা ও নিরাপত্তাকর্মী কালবেলাকে বলেন, সাবেক স্পিকারকে যে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ওই বাড়ির একটি ফ্ল্যাটেই বসবাস করেন পুলিশ সদর দপ্তরের একজন ডিআইজি। শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান পর এ নিয়ে তারাও অবাক হন। তারা বলছেন, ডিআইজির ওপরতলাতেই আত্মগোপনে ছিলেন সাবেক স্পিকার।

প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে গ্রেপ্তার অভিযানের বর্ণনা: গতকাল ভোররাত আনুমানিক ৩টার পরে একটি টয়োটা ব্র্যান্ডের সাদা নোয়া কার ও একটি মাইক্রোবাস গিয়ে থামে ওই বাসাটির কাছাকাছি জায়গায়। প্রায় আধাঘণ্টা পরে সেই নোয়া গাড়িতে করে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়। পুরো ঘটনাটি কিছুটা দূর থেকে দেখছিলেন পাশের বাসার তত্ত্বাবধায়ক মো. ইউনুস। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘রাতে যখন বৃষ্টি থেমে গেল, তার পরপরই আমাদের বাসা পার হয়ে একটু সামনে এসে দাঁড়ায় নোয়া গাড়ি। গাড়িটি যখন আসে, তখন তো বুঝতে পারিনি। আমি মূলত বুটের শব্দ শুনে বাইরে তাকাই। দেখি যে, ওই গাড়ি থেকে খুবই দ্রুততার সঙ্গে মহিলা পুলিশ নামছে। নেমেই সবাই দৌড়ে ওই বাসার গেটের সামনে চলে গেছে। পরের গাড়িতেও ছিল আরও কয়েকজন পুরুষ ও নারী পুলিশ। সব মিলিয়ে ১৫-২০ জন নারী পুলিশ ছিল। সবাই পুলিশের পোশাক পরা ছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘কেউ ওই বাসার ভেতরে ঢুকেছে, আবার কেউ কেউ বাইরে গেটের সামনেসহ বাড়ির চারপাশ ঘিরে রেখেছিল। আধাঘণ্টা বা পঁয়তাল্লিশ মিনিট পরে দুই গাড়িতে করেই আবার পুলিশ চলে যায়। তবে কাকে ধরে নিয়ে গেছে শুরুতে তা বুঝতে পারিনি।’

Continue Reading

top1

যুদ্ধবিরতিতে জিতেছে ইরান, বড় সাফল্য বলছে যুক্তরাষ্ট্র

Published

on

By

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতিকে ঘিরে উভয় পক্ষই নিজেদের বিজয়ী হিসেবে তুলে ধরছে। হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক সাফল্যই শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করেছে।

ইরান বলছে, যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত লক্ষ্যগুলোকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠা করতেই তারা এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।

বুধবার (০৮ এপ্রিল) আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধবিরতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় বিজয় বলে দাবি করেছে হোয়াইট হাউস।

একই সঙ্গে তারা উল্লেখ করেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর উদ্যোগেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, শুরু থেকেই ট্রাম্প ধারণা করেছিলেন যুদ্ধটি চার থেকে ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হবে। তিনি আরও বলেন, ৩৮ দিনের মধ্যেই ওয়াশিংটনের প্রধান সামরিক লক্ষ্যগুলো অর্জন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে তা অতিক্রমও করেছে।

ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেন, আমাদের সামরিক বাহিনীর সাফল্য সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করেছে, যার ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার দল আলোচনায় বসতে পেরেছেন। সেই আলোচনাই এখন কূটনৈতিক সমাধান ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য একটি সুযোগ তৈরি করেছে।

লেভিটের দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতেও সক্ষম হয়েছেন।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, তারা দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে কারণ তাদের ভাষায়, ‘যুদ্ধের প্রায় সব লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে।’ তারা ইসলামাবাদে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্য রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে আরও সুসংহত করা যায়।

Continue Reading

Trending