Connect with us

top1

দল শুদ্ধিকরণে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিন, অন্যথায় দেশবাসী হতাশ হবে : প্রধানমন্ত্রীকে টিআইবি

Published

on

সড়কে চাঁদাবাজিকে সমঝোতার ভিত্তিতে লেনদেন হিসেবে উল্লেখ করে পরিবহনমন্ত্রী ‘একটি ঘোরতর অপরাধকে বৈধতা দেওয়ার যে অজুহাত’ খুঁজেছেন, তাতে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একইসঙ্গে এ জাতীয় দুর্নীতিসহায়ক অপচেষ্টাকে অঙ্কুরে বিনষ্ট করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি নিজ দলের শুদ্ধিকরণে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবি নিন্দা জানিয়ে এই আহ্বান জানায়।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘পরিবহনমন্ত্রী চাঁদাবাজির যে সংজ্ঞা দাঁড় করিয়েছেন, তা তিনিসহ মন্ত্রিপরিষদের প্রায় প্রতিটি সদস্য দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতিবিরোধী যে দৃঢ় অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন, তার সম্পূর্ণ বিপরীত। ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী ইশতেহার ও সরকার প্রধানের জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণ, যেখানে কার্যকরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের অঙ্গীকার করা হয়েছে, তার মাত্র ৪৮ ঘণ্টাও অতিবাহিত না হতেই মন্ত্রীর পরিবহন খাতের ক্যানসার চাঁদাবাজির সুরক্ষা-প্রয়াসী এ মন্তব্য খুবই হতাশাজনক। এর মাধ্যমে পরিবহনমন্ত্রী তার নিজ দলের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার ও সরকার প্রধানের দুর্নীতিবিরোধী দৃঢ় অবস্থানকে বিব্রতকরভাবে অবমূল্যায়ন করেছেন।’

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘তিনি যেভাবে সড়ক ও পরিবহন খাতের বিদ্যমান চাঁদা সংস্কৃতিকে ইতিবাচকভাবে ব্যাখ্যাসহ পক্ষাবলম্বন ও সমর্থন করেছেন, তাতে স্পষ্টতই তিনি চাঁদাবাজির মতো একটি অনৈতিক ও যোগসাজশের দুর্নীতিকে বৈধতা প্রদানের চেষ্টা করছেন। যার সরাসরি ভুক্তভোগী এদেশের পরিবহন খাত-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষ, যাদের এ অবৈধতার বোঝা প্রত‍্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বইতে হয়। শুধু তাই নয়, মালিক ও শ্রমিক কল্যাণকে যেভাবে এখানে বৈধতার অজুহাত বা ঢাল হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন, তা শুধু বিভ্রান্তিকরই নয়, বরং এ খাতে বিরাজমান দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খল ও নৈরাজ্যপূর্ণ ব্যবস্থাকে সুরক্ষাসহ চলমান রাখার অপতৎপরতার শামিল।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘সড়কে চাঁদাবাজিকে সমঝোতার নামে গ্রহণযোগ্যতা দেওয়া হলে বিআরটিএ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা, বিচার, পাসপোর্ট, ভূমি, প্রশাসন ইত্যাদি সেবার পাশাপাশি সরকারি ক্রয়, উন্নয়ন প্রকল্প, ব্যাংক, বিদ্যুৎসহ অন্য সব খাতেও একই তত্ত্বের ধারাবাহিক প্রয়োগ ও প্রসার কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে—সেই প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসবে। নবগঠিত সরকার দুর্নীতি প্রতিরোধ ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারসহ বিভিন্ন বক্তৃতা বিবৃতিতে বারবার যে ঘোষণা দিয়েছে, তা যদি ফাঁকা বুলি কিংবা শুধু জনতুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে না হয়ে থাকে, তাহলে অনতিবিলম্বে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে পরিবহনমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করা এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় মন্ত্রীর দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, কর্তৃত্ববাদ পতনের পর দেশব্যাপী যেভাবে বহুমাত্রিক চাঁদাবাজি, দলবাজি, দখলবাজির হাতবদলের মহোৎসব হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মন্ত্রীর এ অবস্থান কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। একইসঙ্গে বর্তমান সরকারের ভুলে যাওয়ার কথা নয় যে, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে একই তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে পতিত কর্তৃত্বপরায়ণ সরকারের সড়কমন্ত্রীও সড়কে চাঁদাবাজিকে বৈধতা দিতে উদ্যোগ নিয়েছিল। আত্মঘাতী বিবেচনায় টিআইবি যার জোরালো প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছিল। নবগঠিত সরকারও একইপথে হাঁটছে শঙ্কায় টিআইবি হতাশ।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আপনার প্রতি ইতোমধ্যে দেশবাসীর যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার ওপর পরিপূর্ণ আস্থা নিশ্চিত করার জন্য, আপনার পরিকল্পনায় নিজ দলের নেতাকর্মীদের একাংশের আত্মঘাতী পথ রোধকল্পে দলীয় শুদ্ধিকরণ ও সংস্কারকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিন। অন‍্যথায় দেশবাসী হতাশ হবে। এর ফলে বিকল্পের খোলসে এমন শক্তি লাভবান হবে যাদের ভাবাদর্শ, দীক্ষা ও অভীষ্ট বায়ান্ন থেকে একাত্তর হয়ে চব্বিশ পর্যন্ত রক্তের বিনিময়ে লালিত বাংলাদেশের মৌলিক চেতনা ও আত্মপরিচয়ের সঙ্গে ভয়াবহ মাত্রায় সাংঘর্ষিক। প্রধানমন্ত্রী, সঠিক প্রাধান্য নির্ধারণের এখনই সময়।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুতে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Published

on

By

ছয় নবজাতকের মৃত্যুতে রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে আদ-দ্বীন হাসপাতালের দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেছে। পরবর্তী প্রক্রিয়া হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

বিস্তারিত আসছে…

Continue Reading

top1

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ৭ জুন

Published

on

By

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়েছে। মামলার রায় আগামী রোববার (৭ জুন)।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আদালতে আসামি সোহেলের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় কী জবানবন্দি দিয়েছেন, তা পড়ে শোনান।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে এই প্রথম গোপনীয় এই আসামির জবানবন্দি প্রকাশ্যে পড়ে শোনানো হয়।

গ্রেপ্তারের পর আসামি সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে বলেন, ‘আমার নাম সোহেল রানা। ওই বাসার তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকি। এ বাসার তিন তলায় তিনটি ফ্ল্যাটে তিনজন থাকে। সকালে তারা কাজে বাসা থেকে বের হয়। আমি নিয়মিত নেশা করি।’

সোহেল আরও বলেন, ‘পাশের বাসার ৮ বছরের শিশু রামিসা তাদের বাসার বাইরে এলে তাকে ডাক দিই। সে এলে তাকে বাথরুমে জোরপূর্বক নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করি। এরপর সে চিৎকার করলে মুখ চেপে ধরি। মুখে ওড়না বেঁধে আমি তাকে ধর্ষণ করি। এরপর সে অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে মৃত ভেবে রুম থেকে ছুরি আনি। লাশ গুম করতে চাই। এরপর তার মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করি। পরে হাত কেটে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করি। এ সময় শিশুটির মা খোঁজাখুঁজি করে দরজার বাইরে জুতা দেখে ডাকাডাকি করে। আমি ভয় পাই। পরে সেলাইরেঞ্জ দিয়ে গ্রিল কেটে বাইরে পালিয়ে যাই।’

যুক্তিতর্কে এখন আসামিপক্ষের শুনানি চলছে। যুক্তিতর্ক শুনানিতে তোলার আগে অসুস্থতা অনুভব করেন সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার রামিসার বাবা, মা, বোন, স্বজন, প্রতিবেশী প্রত্যক্ষদর্শী ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৬ জন সাক্ষ্য দেন। গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছরের শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ফ্ল্যাটটিতে বসবাসকারী সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আদালতের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেছিল সোহেল।

Continue Reading

top1

ইরানের জনগণকে বিভক্তের ষড়যন্ত্র করছে শত্রুরা: খামেনি

Published

on

By

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যুদ্ধে ব্যর্থ হয়ে এখন অভ্যন্তরীণ বিভাজনের বীজ বপনের লক্ষ্যে ষড়যন্ত্র করছে। শত্রুদের চক্রান্ত বিফল করতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম খোমেনির ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বার্তায় আয়াতুল্লাহ খামেনি এসব কথা বলেন। দক্ষিণ তেহরানে ইমাম খোমেনির সমাধিসৌধে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লাখ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

লিখিত বার্তায় খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘দমনমূলক ব্যবস্থা’ শক্তিশালী ও স্বাধীন ইরানকে মেনে নিতে পারছে না। ইসরাইলকে সেই ব্যবস্থার একটি ‘মনগড়া ঘাঁটি’ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।

খামেনি বলেন, ‘শত্রু—সামরিকভাবে ব্যর্থ ও গভীর অপমানিত হয়ে এখন হাইব্রিড যুদ্ধ চালিয়ে ক্ষতিপূরণ করতে চাইছে। তাদের প্রধান হাতিয়ার হলো সন্দেহ, হতাশা, ভয় এবং বিভাজনের বীজ বপন করা।’

তিনি আরো বলেন, যেকোনো বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড যা জনগণের মধ্যে হতাশা, অসন্তোষ বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, তা পরোক্ষভাবে শত্রুদের উদ্দেশ্যকেই সাহায্য করে।

সূত্র: আলজাজিরা

Continue Reading

Trending