Connect with us

অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য

দাম কমছে ক্রিম, লিপস্টিক, লোশন, ফেসওয়াশসহ ৭ প্রসাধনীর

Published

on

অন্তর্বর্তী সরকার গত বছর প্রসাধনী পণ্যে শুল্ক-করের চাপ বাড়িয়েছিল। এবার সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে বিএনপি সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে লিপস্টিক, ত্বকের ক্রিম, ময়েশ্চার লোশন, ফেসওয়াশসহ সাত শ্রেণির পণ্যে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রস্তাবিত বাজেটে শুল্কহার অপরিবর্তিত রেখে শুধু ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য কমানোর মাধ্যমে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এতে আমদানিকারকদের খরচ কমবে।

বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় স্কিন কেয়ার ও বিউটি প্রোডাক্টস উৎপাদনকারীদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশে কাঁচামাল আমদানির ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর ফলে লিপস্টিক, লোশন ও ক্রিমসহ বিভিন্ন প্রসাধনী পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে খরচ কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে এই সুবিধা শেষ পর্যন্ত বাজারে পৌঁছালে ভোক্তারাও কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন। তবে এর বিপরীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আয়ও কমতে পারে।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে গত বুধবার পর্যন্ত এই সাত শ্রেণির পণ্য আমদানিতে শুল্কায়ন মূল্য ছিল ৪০৫ কোটি টাকা। তার বিপরীতে সরকারের মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৬৪২ কোটি টাকা।

কোথায় কত কমছে

লিপস্টিকের ক্ষেত্রে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য প্রতি কেজি ৪০ ডলার থেকে কমিয়ে ৩০ ডলার করা হয়েছে। এতে কেজিপ্রতি প্রায় দুই হাজার টাকা শুল্ক-কর কমতে পারে। নতুন বাজেটে শুল্কায়ন মূল্য কমানোয় এ পণ্য আমদানিতে সরকারের রাজস্ব আয় প্রায় এক কোটি টাকা কমতে পারে।

ত্বকের ক্রিমের ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য ২০ ডলার থেকে কমিয়ে ১৪ ডলার করা হয়েছে। এতে কেজিপ্রতি প্রায় ১ হাজার ২২৬ টাকা শুল্ক-কর কমতে পারে। সম্ভাব্য রাজস্ব আয় কমতে পারে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা।

রেল ও মেট্রোরেলে প্রবীণরা পাচ্ছেন যে সুবিধা

ময়েশ্চার লোশন ও চার ধরনের ফেসওয়াশের ক্ষেত্রে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য ১০ ডলার থেকে কমিয়ে ৭ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে কেজিপ্রতি প্রায় ৬১৩ টাকা শুল্ক-কর কমতে পারে। আর তাতে এসব পণ্য আমদানি খাতে রাজস্ব আয় কমতে পারে প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

তবে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য কমানো হলেও সব চালান ওই মূল্যে শুল্কায়ন হবে না। পণ্যের মান, ব্র্যান্ড ও ঘোষিত মূল্যের ভিত্তিতে এর চেয়ে বেশি মূল্যে শুল্কায়ন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সম্ভাব্য রাজস্ব ঘাটতিও কমে আসবে।

যে সুবিধা পাবেন ভোক্তা

আমদানি পর্যায়ে শুল্ক-কর প্রথমে পরিশোধ করেন আমদানিকারকরা। পরে সেই ব্যয় যুক্ত হয় খুচরা বিক্রয়মূল্যে। ফলে আমদানিতে খরচ কমলে বাজারেও দাম কমার সুযোগ তৈরি হয়। তবে বাস্তবে ভোক্তারা কতটা সুবিধা পাবেন, তা নির্ভর করবে আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারা কতটা মূল্য সমন্বয় করেন, তার ওপর।

সৌন্দর্যচর্চার সব ধরনের পণ্যে ছাড় দেয়নি সরকার। লিপস্টিক, ফেসওয়াশ, ত্বকের ক্রিম ও ময়েশ্চার লোশনে শুল্কায়ন মূল্য কমানো হলেও ভ্রু সাজানোর পণ্য এবং হাত-পায়ের সৌন্দর্যচর্চায় ব্যবহৃত কয়েকটি পণ্যে আগের হারই বহাল রাখা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের এসব পণ্যে বাড়ানো ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য অপরিবর্তিত রেখেছে বর্তমান সরকার। ফলে এ খাতের আমদানিকারকরা নতুন কোনো সুবিধা পাবেন না। তবে লিপ লাইনার, লিপ গ্লস ও লিপ জেল জাতীয় পণ্যে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য কেজিপ্রতি ২০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩০ ডলার করা হয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে।

সাধারণত বাজেটে শুল্ক-করসংক্রান্ত প্রস্তাব তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়। সে হিসাবে নতুন ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য বাজেট ঘোষণার দিন থেকেই কার্যকর হতে যাচ্ছে।

সম্পাদক: পলাশ মাহমুদফোন: +৮৮০১৩১২৫৫৯৯৬৬ই-মেইল: info@asia-post.com

ঠিকানা: লেভেল ১০, বেঙ্গল সেন্টার, ২৮ তোপখানা রোড, শাহবাগ, ঢাকা- ১০০০।

অন্তর্বর্তী সরকার গত বছর প্রসাধনী পণ্যে শুল্ক-করের চাপ বাড়িয়েছিল। এবার সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে বিএনপি সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে লিপস্টিক, ত্বকের ক্রিম, ময়েশ্চার লোশন, ফেসওয়াশসহ সাত শ্রেণির পণ্যে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রস্তাবিত বাজেটে শুল্কহার অপরিবর্তিত রেখে শুধু ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য কমানোর মাধ্যমে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এতে আমদানিকারকদের খরচ কমবে।

বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় স্কিন কেয়ার ও বিউটি প্রোডাক্টস উৎপাদনকারীদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশে কাঁচামাল আমদানির ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর ফলে লিপস্টিক, লোশন ও ক্রিমসহ বিভিন্ন প্রসাধনী পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে খরচ কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে এই সুবিধা শেষ পর্যন্ত বাজারে পৌঁছালে ভোক্তারাও কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন। তবে এর বিপরীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আয়ও কমতে পারে।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে গত বুধবার পর্যন্ত এই সাত শ্রেণির পণ্য আমদানিতে শুল্কায়ন মূল্য ছিল ৪০৫ কোটি টাকা। তার বিপরীতে সরকারের মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৬৪২ কোটি টাকা।

কোথায় কত কমছে

লিপস্টিকের ক্ষেত্রে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য প্রতি কেজি ৪০ ডলার থেকে কমিয়ে ৩০ ডলার করা হয়েছে। এতে কেজিপ্রতি প্রায় দুই হাজার টাকা শুল্ক-কর কমতে পারে। নতুন বাজেটে শুল্কায়ন মূল্য কমানোয় এ পণ্য আমদানিতে সরকারের রাজস্ব আয় প্রায় এক কোটি টাকা কমতে পারে।

ত্বকের ক্রিমের ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য ২০ ডলার থেকে কমিয়ে ১৪ ডলার করা হয়েছে। এতে কেজিপ্রতি প্রায় ১ হাজার ২২৬ টাকা শুল্ক-কর কমতে পারে। সম্ভাব্য রাজস্ব আয় কমতে পারে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা।

রেল ও মেট্রোরেলে প্রবীণরা পাচ্ছেন যে সুবিধা

ময়েশ্চার লোশন ও চার ধরনের ফেসওয়াশের ক্ষেত্রে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য ১০ ডলার থেকে কমিয়ে ৭ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে কেজিপ্রতি প্রায় ৬১৩ টাকা শুল্ক-কর কমতে পারে। আর তাতে এসব পণ্য আমদানি খাতে রাজস্ব আয় কমতে পারে প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

তবে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য কমানো হলেও সব চালান ওই মূল্যে শুল্কায়ন হবে না। পণ্যের মান, ব্র্যান্ড ও ঘোষিত মূল্যের ভিত্তিতে এর চেয়ে বেশি মূল্যে শুল্কায়ন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সম্ভাব্য রাজস্ব ঘাটতিও কমে আসবে।

যে সুবিধা পাবেন ভোক্তা

আমদানি পর্যায়ে শুল্ক-কর প্রথমে পরিশোধ করেন আমদানিকারকরা। পরে সেই ব্যয় যুক্ত হয় খুচরা বিক্রয়মূল্যে। ফলে আমদানিতে খরচ কমলে বাজারেও দাম কমার সুযোগ তৈরি হয়। তবে বাস্তবে ভোক্তারা কতটা সুবিধা পাবেন, তা নির্ভর করবে আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারা কতটা মূল্য সমন্বয় করেন, তার ওপর।

সৌন্দর্যচর্চার সব ধরনের পণ্যে ছাড় দেয়নি সরকার। লিপস্টিক, ফেসওয়াশ, ত্বকের ক্রিম ও ময়েশ্চার লোশনে শুল্কায়ন মূল্য কমানো হলেও ভ্রু সাজানোর পণ্য এবং হাত-পায়ের সৌন্দর্যচর্চায় ব্যবহৃত কয়েকটি পণ্যে আগের হারই বহাল রাখা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের এসব পণ্যে বাড়ানো ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য অপরিবর্তিত রেখেছে বর্তমান সরকার। ফলে এ খাতের আমদানিকারকরা নতুন কোনো সুবিধা পাবেন না। তবে লিপ লাইনার, লিপ গ্লস ও লিপ জেল জাতীয় পণ্যে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য কেজিপ্রতি ২০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩০ ডলার করা হয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে।

সাধারণত বাজেটে শুল্ক-করসংক্রান্ত প্রস্তাব তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়। সে হিসাবে নতুন ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য বাজেট ঘোষণার দিন থেকেই কার্যকর হতে যাচ্ছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব: সিপিডি

Published

on

By

‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। ছবি: আমার দেশ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য প্রায় অসম্ভব বলে জানিয়েছে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

শুক্রবার রাজধানীর লেকশোর হোটেলে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অ্যাধাপক মোস্তাফিজুর রহমান ও জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহকারী তামিম আহমেদসহ প্রতিষ্ঠানটির আরো কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, প্রস্তাবিত এই বাজেট সরকারের প্রথম বাজেট। এই বাজেটটি এমন সময়ে দেওয়া হয়েছে যখন অর্থনীতি বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে এবং গত প্রায় চার বছর থেকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজমান। তার পাশাপাশি দেখছি আমাদের প্রবৃদ্ধি দুর্বল হয়ে পড়েছে, দুর্বল ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান হচ্ছে না, রাজস্ব আহরণে ঘাটতি রয়েছে এবং ব্যাংকিং খাত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মোটামুটি অবস্থায় রয়েছে, প্রেসারে ছিল কিন্তু মোটামুটি ভালো হয়েছে, তবে তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এখন একটা ক্রিটিক্যাল সময় আমাদের জ্বালানি সংকট। এই প্রেক্ষিতে বাজেটকে মানবিক, গণতান্ত্রিক মানবিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ বাজেট বলা হয়েছে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক আরো বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের অন্তর্নিহিত দর্শন হলো মানব উন্নয়ন, বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা। ভৌত অবকাঠামোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জনকল্যাণমূলক খাতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সিপিডির মতে, বাজেটের এই দৃষ্টিভঙ্গি অনেকাংশে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ, নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ এবং সামাজিক খাতের উন্নয়নের বিষয়গুলোতে মিল রয়েছে। বাজেটের সাফল্য আকারের ওপর নয়, বরং বাস্তবায়নের মানের ওপর নির্ভর করবে। কারণ অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবায়ন দুর্বল হলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায় না।

সিপিডি বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বলছে, বাজেটের লক্ষ্য অর্জনে শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। এমন প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, যেগুলো দক্ষতার সঙ্গে বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারবে এবং জনগণের কাছে দৃশ্যমান ফলাফল পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই বাজেট নতুন সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও বটে। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা প্রদর্শনের এটিই সরকারের প্রথম বড় সুযোগ। বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার যদি কাঠামোগত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দিতে পারে, তাহলে তা দেশের অর্থনীতিকে আরো টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এর আগে গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেলে জাতীয় সংসদে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর বিপরীতে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যার ফলে সামগ্রিক বাজেটে নিট ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা (যার মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা) এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

Continue Reading

top1

খেলাপি ঋণ আরও বেড়েছে, ঝুঁকি বাড়ছে ব্যাংক খাতে

Published

on

By

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বেড়েছে। মোট ঋণের ৩২ শতাংশের বেশি ঋণখেলাপি হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ খেলাপি ঋণের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত তিন মাসের ব্যবধানে দেশের ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৩১ হাজার কোটি টাকার বেশি। দেশের ব্যাংকগুলোয় এখন মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক গত মার্চ পর্যন্ত হিসাব শেষ করে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

জানা যায়, ঋণখেলাপি হলে ব্যাংক খাতে তীব্র তারল্য সংকট (লিকুইডিটি) দেখা দেয়, যার ফলে ব্যাংকগুলো গ্রাহকের আমানতের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয় এবং নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা হারায়; খেলাপি ঋণের বিপরীতে বাধ্যতামূলক প্রভিশন বা সঞ্চিতি রাখতে গিয়ে ব্যাংকের মুনাফা ও মূলধন কমে যায়, যা বড় ধরনের অর্থনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এর আগে ঋণ আদায় ও পুনঃতপশিল সুবিধায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ নবায়ন হওয়ায় দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ হঠাৎ বড় লাফ দিয়েছিল। গত ডিসেম্বর মাস শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। মার্চ শেষে তিন মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। গত অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ কমলেও পরের প্রান্তিকে তা বেড়ে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, মার্চ মাস শেষে দেশের ৬১টি তপশিলি ব্যাংকে মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে ঋণ বিতরণ বেড়েছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। আর এখন মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ খেলাপি হয়ে পড়েছে।

রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বেশি। এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৪৬ শতাংশ। তবে এসব ব্যাংকে আগের প্রান্তিকের চেয়ে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ কমেছে। সব মিলিয়ে ওই সব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে খেলাপি ঋণ বেড়েছিল। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। দেশের ইতিহাসে ২০১৯ সালের মার্চে প্রথমবারের মতো খেলাপি ঋণ লাখের ঘর পেরিয়ে ১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা হয়। এর পর থেকে ধীরে ধীরে স্তূপাকারে জমা হতে থাকে খেলাপি ঋণ। ওই সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে ২০২৪ সালের জুনে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা।

গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সরকারের মেয়াদে ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে শুরু হয়। ওই সময় আবার আওয়ামী লীগ-সমর্থক অনেক গ্রাহক আত্মগোপনে চলে যায়। ফলে খেলাপি ঋণ হুহু করে বেড়ে যায়। এমন অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকার বিশেষ ছাড়ে ঋণ পুনঃতপশিলের সুযোগ দেয়। তাতে খেলাপি ঋণ কমে আসে।

ব্যাংকারদের মতে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে ব্যাংক খাতে অনিয়ম, জালিয়াতি, প্রতারণা ও সীমাহীন দুর্নীতির প্রভাবেই খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পায়। এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, হল-মার্ক গ্রুপসহ কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠী এবং ন্যাশনাল, ইসলামী ও বেসিক ব্যাংকে সংঘটিত কেলেঙ্কারির ঘটনায় খেলাপি ঋণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হতাশাজনক। সেজন্য আগের খেলাপি সুদ যোগ হয়ে মোট খেলাপির পরিমাণ ও হার দুটোই বেড়েছে। ঋণ চাহিদা বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বন্ধ কারখানা চালু ও অর্থনীতি সক্রিয় করতে।

Continue Reading

অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য চুক্তির খবরেই তেলের দামে বড় পতন

Published

on

By

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে আশাবাদের আবহ তৈরি হয়েছে। এরই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। সামান্য কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম।

যদিও এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি, তবুও যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল হওয়ার সম্ভাবনা বাজারে স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শুক্রবার (২৯ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের জুলাই ডেলিভারির দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৫ সেন্ট বা ০.৩৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯৩ দশমিক ৩৬ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৬৩ সেন্ট বা ০.৭১ শতাংশ কমে ৮৮ দশমিক ২৭ ডলারে নেমেছে।

অন্য দিকে বেশি লেনদেন হওয়া আগস্টের ব্রেন্ট ফিউচারস ৪৬ সেন্ট বা ০.৫০ শতাংশ কমে ৯২ দশমিক ২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত এক সপ্তাহে তেলের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা গেছে। এই সময়ে ব্রেন্টের দাম ৮ শতাংশের বেশি কমেছে। গত সপ্তাহে যেখানে দাম ১০৯ দশমিক ৪৭ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল, সেখানে তা নেমে আসে ৮৭ দশমিক ১১ ডলারে।

মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর গুঞ্জনের কারণে বাজারে এমন ওঠানামা হচ্ছে। বিশ্বে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে বৃহস্পতিবার একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে এখনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ চুক্তির অনুমোদন দেননি। এছাড়া ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও জানিয়েছে, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনো কিছু জটিলতা রয়েছে। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম মজুত ও সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দুই দেশ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

Continue Reading

Trending