Connect with us

সারাদেশ

দিনাজপুরের আসনগুলোতে কোন্দলে বিএনপি, জয়ের সুযোগ দেখছে জামায়াত

Published

on

প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন করছেন বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের অনুসারীরা

বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে দিনাজপুরের রাজনীতির মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে। দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর থেকেই জেলার ৬টি আসনের মধ্যে ৪টিতে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে সমাবেশ, মহাসড়ক অবরোধ, মশালমিছিল, কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ ও গলায় প্রতীকী ফাঁসির দড়ি লাগিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন দলটির মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের অনুসারীরা। তাদের এই কোন্দলে আসনগুলোতে জয়ের সুযোগ দেখছে জামায়াত।

দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে ১১ ডিসেম্বর পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়। টার্মিনালের গোল চত্বরে টায়ারে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ করেন মনোনয়নবঞ্চিত নেতার অনুসারীরা। এর আগেও ফুলবাড়ী ও পার্বতীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এজেডএম রেজওয়ানুল হকের সমর্থকরা। যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। ৪ ডিসেম্বর আসনটিতে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হয় একেএম কামরুজ্জামানের। এরপর থেকেই এসব কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

পার্বতীপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আকরাম হোসেন বলেন, ‘দাবি আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। কারণ এই আসনে যোগ্য প্রার্থী এজেডএম রেজওয়ানুল হক। তিনি দীর্ঘ ৩০-৩২ বছর ধরে বিএনপিকে আগলে রেখেছেন। এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছেন।’

দিনাজপুর-৫ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া একেএম কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমাকে মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকেই একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করছে। কিন্তু তাদের দলের নেতাকর্মীর সংখ্যা অনেক কম। দলের বেশিরভাগ নেতাকর্মীই আমার সঙ্গে আছেন। তাদের এমন কর্মসূচির ফলে আমার নির্বাচনে কোনও প্রভাব পড়বে না।’

একই অবস্থা দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) আসনেও। প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর থেকেই কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ, গলায় প্রতীকী ফাঁসির দড়ি লাগিয়ে মানববন্ধন ও মশালমিছিল করা হয়। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাকের নাম ঘোষণা হয়। তিনি যোগ্য প্রার্থী নন দাবি এই আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা বিএনপির সহসভাপতি মোজাহারুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ.ন.ম বজলুর রশিদ কালু ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক মঞ্জুরুল ইসলাম সমর্থিত নেতাকর্মীদের। আবার সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাকের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন তারা। যদিও বিষয়টি শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন বিএনপির প্রার্থী সাদিক রিয়াজ চৌধুরী।

দিনাজপুর-২ আসনের অন্তর্ভুক্ত বিরল উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি হামিদুর রহমান বলেন, ‘আমরা এই আসনে এমন একজনকে চাই যিনি বিজয়ী হতে পারবেন। যাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তিনি উপযুক্ত নন। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগের অভিযোগ আছে। এজন্য প্রার্থী পরিবর্তনের কথা বলছি আমরা।’

প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে প্রতীকী ফাঁসির দড়ি গলায় ঝুলিয়েছেন বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত নেতার অনুসারীরা

একই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এলাকার বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন করছেন। আমাদের নেতাকর্মীদের যে দাবি তা কেন্দ্র বিবেচনা করবে বলে আমরা আশা করছি।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির প্রার্থী সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক বলেন, ‘আমাকে কেন্দ্র যোগ্য মনে করেছে এবং এই এলাকায় সংসদ সদস্য হিসেবে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। আমি দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এলাকায় কাজ করছি। যারা আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করছেন তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ নেই।’

দলীয় কোন্দল আছে দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) ও দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনেও। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দিনাজপুর-১ আসনে মনজুরুল ইসলাম ও দিনাজপুর-৪ আসনে আখতারুজ্জামান মিয়ার নাম ঘোষণা করা হয়।

যাদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে তারা যোগ্য নয় আখ্যা দিয়ে দিনাজপুর-১ আসনে মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন। প্রায় একই দাবিতে দিনাজপুর-৪ আসনে বিক্ষোভ ও সমাবেশ এবং সংবাদ সম্মেলন করেছেন এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আব্দুল হালিম ও মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। তাদের দাবি, এসব আসনে প্রার্থী পরিবর্তন খুবই জরুরি। নয়তো বিএনপি এসব আসন হারাবে।

মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘এই এলাকার বিএনপির নেতাকর্মীরা চান একজন যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দিক দল। নয়তো এই আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়ে যাবে। তাই একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিকে বিএনপির মনোনয়ন দিয়ে আসনটি ঘরে তোলা উচিত।’

আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী আব্দুল হালিম বলেন, ‘আমি দলীয় কোন্দল, চাঁদাবাজি, দখলদারি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই। আমার কোনও লোকজনও জড়িত নয়। দলীয়ভাবে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। যেহেতু প্রার্থী পরিবর্তন করার দলীয় সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেহেতু আমি দিনাজপুর-৪ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলীয় হাইকমান্ডের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।’

দিনাজপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব হচ্ছে তা অন্য দলকে সাহায্য করার একটি এজেন্ডা। দল যাচাই-বাছাই করে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আমাকে মনোনয়ন দেওয়া ভুল হলে দলকে জানাতে হবে। কিন্তু রাস্তায় নেমে আন্দোলন নয়। আমি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে আহ্বান করছি, যারা এসব করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার। নিশ্চয়ই হাইকমান্ড এটি দেখবেন এবং পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।’

বিরল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘কথা ছিল দলের যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে, তার পক্ষেই সবাই কাজ করবেন। এখন দেখছি উল্টো চিত্র। আমি চাই দলের মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবেন।’

এ ব্যাপারে দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলাল বলেন, ‘দ্বন্দ্ব সংগঠনকে বিকশিত করে। বড় দলে প্রতিযোগিতা থাকবে। যারা প্রতিযোগী ছিলেন তারা চেষ্টা করছেন মনোনয়ন পাওয়ার। এটা দোষের নয়, বরং দলের কাঠামোগত দিক থেকে, দল অনেক গ্রহণযোগ্য এগুলো তারই প্রমাণ। কিছু কিছু আসনে প্রার্থী শতভাগ ভালো হয়নি। সেক্ষেত্রে কেন্দ্র, তারেক রহমান চাইলে পরিবর্তন হতে পারে, নাও হতে পারে। তবে দলের নেতাদের এসব কোন্দলে অন্য দলের প্রার্থীদের সুযোগ নেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই।’

এদিকে, এবার দিনাজপুর-৩ আসনে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।দিনাজপুর সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত দিনাজপুর-১ আসনে খালেদা জিয়া আগে কখনও প্রার্থী হননি। ১৯৯৬ সালের দুটি নির্বাচনে আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন তার বোন খুরশীদ জাহান হক (বর্তমানে প্রয়াত)। সদরে মনোনয়ন নিয়ে নেতাদের মধ্যে বিভেদ থাকলেও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্রার্থী ঘোষণা করায় তারা এককাট্টা হয়েছেন। 

অন্যদিকে অনেক আগে থেকেই সবগুলো আসনে মাঠে রয়েছে জামায়াত। ছয়টি আসনে প্রচার-প্রচারণা করছে দলটি। ভোটারদের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন দলের প্রার্থীরা। 

বিএনপির এমন কোন্দলে জেলার সবগুলো আসনে জয়ের আশা করছে জামায়াত, এমনটি জানিয়েছেন দিনাজপুর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, ‘দিনাজপুর-১ আসনে আমাদের এমপি ছিলেন, মেয়র ছিলেন। সেদিক দিয়ে এটি আমাদের আসন। আর বিএনপির সেখানে কোন্দল আছে। আমরাই জিতবো। দিনাজপুর-২ আসনে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভক্ত। বিরলের জনগণ আমাদেরও ভোট দেবেন। সেখানেও আমরা জিতবো। আর দিনাজপুর-৩ আসনে বিএনপির চারটি গ্রুপ। সেখানে তাদের দলীয় প্রধান প্রার্থী হলেও আমাদের প্রার্থীর জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। দিনাজপুর-৪ আসনটি ও দিনাজপুর-৫ আসনটিতেই জামায়াতের প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন। সেখানে আমাদের বিপুল ভোটার। দিনাজপুর-৬ আসনেও আমাদের প্রার্থী বিজয়ী হবেন। সবগুলো আসনে বিএনপির সঙ্গে আমাদের প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এবং আমাদের প্রার্থীরাই জিতবে।’

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

১০ বছর পর তনু হত্যা মামলায় প্রথম গ্রেপ্তার

Published

on

By

দীর্ঘ ১০ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় প্রথম কোনো অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্তের এক পর্যায়ে পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম অভিযান চালিয়ে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে তার বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করেন।

বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে তাকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হকের আদালতে হাজির করা হলে আদালত শুনানি শেষে তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই মামলায় এ পর্যন্ত ৪টি সংস্থার ৭ জন তদন্ত কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ১০ বছরে মামলার শুনানির জন্য অন্তত ৮০টি ধার্য তারিখ অতিবাহিত হলেও প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তে দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তা ছিল। সম্প্রতি মামলার তদন্তে নতুন গতি আসে। গত ৬ এপ্রিল মামলার সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার জন্য আদালতের কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন। আদালতের সেই নির্দেশনার পরই তদন্তকারী সংস্থা এই গ্রেপ্তারের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

এদিকে গ্রেপ্তারের দিন বিকেল ৫টার দিকে মামলার বাদী ও তনুর পরিবারের সদস্যরা কুমিল্লা আদালতে উপস্থিত হন। দীর্ঘ এই সময়ে বারবার ন্যায়বিচারের আশা নিয়ে আদালতে আসা তনুর বাবা-মা ও ছোট ভাই রুবেল হোসেনকে আজ বেশ আবেগপ্রবণ দেখা গেছে। বর্তমানে আদালতে তাদের জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

দীর্ঘ ১০ বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে মামলার প্রথম অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে তনু হত্যাকাণ্ডের জট খুলবে বলে এখন নতুন করে আশা করছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন মহল। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রিমান্ডে প্রাপ্ত তথ্য এবং ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করলে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।

Continue Reading

top1

মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

Published

on

By

কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা আমির হামজার বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্য করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বেলা ১১টায় সিরাজগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ পরোয়ানা জারি করেন। এর আগে গত ১৯ এপ্রিল আমির হামজাকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়েছিল। তবে তিনি নির্ধারিত তারিখে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন বিচারক।

মামলার বিষয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর আইনজীবী ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেল জানান, ধর্মীয় একটি স্থানে বক্তব্য দেয়ার সময় মন্ত্রী টুকুকে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যা মানহানিকর বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ২৯৬, ৫০০ ও ৫০৪ ধারায় মামলা করা হয়। তার দাবি, সমন জারির পরও আসামি আদালতে হাজির না হওয়ায় আদালত আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

তিনি আরও বলেন, আদালত সংসদ চলাকালীন একজন সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে স্পিকারের অনুমতির বিষয়টি উল্লেখ করেন। তবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা নেই বলে আদালতকে অবহিত করা হলে বিচারক পরোয়ানা জারির সিদ্ধান্ত নেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৬ মার্চে। সেদিন মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে দেয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার হাটশ হরিপুর বড় জামে মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে আলোচনায় মন্ত্রী টুকুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন আমির হামজা। ওই মন্তব্যে তাকে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ বলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর বিষয়টি নিয়ে একাধিক মানহানির মামলা দায়ের করা হয়।

একই ঘটনায় সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম বাদী হয়ে আরও একটি মামলা করেন, যেখানে ১০০ কোটি টাকার মানহানির ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়। আদালত সেই মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে ১৩ এপ্রিল কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসককে (ডিসি) নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগেও আমির হামজার বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। অভিযোগে বলা হয়, তিনি এক বক্তব্যে দাবি করেন, বর্তমান ডিসি বদলি হয়ে আসার জন্য ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন।

আইনি নোটিশে তাকে সাত দিনের মধ্যে অভিযোগের পক্ষে থাকা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

Continue Reading

top1

নতুন উপজেলা পাচ্ছে বগুড়া

Published

on

By

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বগুড়া জেলায় যুক্ত হচ্ছে নতুন উপজেলা। শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নকে নতুন উপজেলা হিসেবে গঠন করা হবে। এটির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে জেলায় উপজেলার সংখ্যা দাঁড়াবে ১৩টি। ইতোমধ্যে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (প্রাক-নিকার) সভায় এ প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোকামতলাকে উপজেলা হিসেবে কার্যকর করতে কিছু বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর মধ্যে আছে গেজেট প্রকাশ, প্রশাসনিক কাঠামোর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন উপজেলা হিসেবে কার্যক্রম শুরু হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, মোকামতলা ইউনিয়নকে নতুন উপজেলা হিসেবে গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব ইমতিয়াজ মোরশেদ স্বাক্ষরিত এক নোটিশে জানা গেছে, গত ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রাক-নিকার সচিব কমিটির সভায় বগুড়া সিটি করপোরেশন ও মোকামতলাকে উপজেলা ঘোষণাসহ আটটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। সেখানে মোকামতলা উপজেলা বাস্তবায়নের বিষয়টি অনুমোদন পায়।

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান জানান, শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন মোকামতলা, দেউলী, সৈয়দপুর, ময়দানহাট্টা এবং শিবগঞ্জ সদর নিয়ে মোকামতলা উপজেলা গঠন করার প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। এর আয়তন হবে ১২৮ দশমিক ৭৪ বর্গ কিলোমিটার। জনসংখ্যা হতে পারে দেড় লাখের মতো।

এর আগে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মোকামতলা ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা আতিকুর রহমান পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগে আবেদন করেন। নতুন উপজেলা গঠিত হলে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলা নিয়ে গঠিত হবে বগুড়া-২ আসন।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম বলেন, প্রাক-নিকার সভায় বগুড়া সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি মোকামতলা উপজেলা গঠনের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। উপজেলা কমপ্লেক্স ভবনের স্থান এখনও নির্ধারণ হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Continue Reading

Trending