Connect with us

top3

প্রবাসী প্রেমিককে ছবি পাচারের অভিযোগে ইবি শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার

Published

on

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জুলাই-৩৬ আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ছবি না জানিয়ে প্রবাসী প্রেমিকের কাছে পাঠানোর অভিযোগে তুবাউল জান্নাত ঐশী নামে এক ছাত্রীকে হল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন এবং অভিযুক্ত ছাত্রীর দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে হল প্রশাসন।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) অনুষ্ঠিত জুলাই-৩৬ হলের ৯ম জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. শামছুল হক ছিদ্দিকী।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তুবাউল জান্নাত ঐশী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী। তাঁর বাড়ি যশোর জেলায়।

ভুক্তভোগী ও রুমমেট শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলে অবস্থানরত একাধিক ছাত্রীর (১৫ থেকে ২০ জন) ব্যক্তিগত ছবি তাঁদের অজান্তে সংগ্রহ করে যুক্তরাজ্যের প্রবাসী প্রেমিক আবিদের কাছে পাঠাতেন ঐশী। সম্প্রতি প্রেমিকের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হলে ওই প্রবাসী ব্যক্তি ছবিগুলো সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছে পাঠিয়ে দেন। এতে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বিষয়টি জানাজানি হলে হলের ছাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থীর ছবি শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণাদি তাঁদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে, যা তদন্ত কমিটির কাছে হস্তান্তর করছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আরও শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে একাধিক সূত্র বলেন, ঐশী তাঁর প্রবাসী প্রেমিকের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে বিয়ে ও অন্যান্য প্রলোভনে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গেও প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকেই প্রবাসী প্রেমিক ছবিগুলো ফাঁস করে দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান এবং সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে হল প্রশাসন বহিষ্কারাদেশ জারি করে। গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

তদন্ত কমিটিতে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আরিফা আক্তারকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহা. খাইরুল ইসলাম এবং সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মুহা. কামরুজ্জামান।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আরিফা আক্তার জানান, তাঁর উপস্থিতিতেই কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং অভিযুক্তের দুটি মোবাইল ফোন তদন্ত কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

তদন্ত কমিটির আহবায়ক জুলাই-৩৬ হলের হাউজ টিউটর অধ্যাপক ড. আরিফা আক্তার বলেন, আমার উপস্থিতিতেই তদন্ত কমিটি করা হয়েছে । এবং আমার কাছে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর দুইটি মোবাইল ফোন জমা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে দ্রুতই নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিব।

এ বিষয়ে জুলাই ৩৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. শামছুল হক ছিদ্দিকী বলেন, আমি মাঝরাতে এই অভিযোগ পাই । এবং বিষয়টি উপাচার্য মহোদয় কেউ জানাই সেই সাথে আজকে আপনাদের উপস্থিতিতেই তদন্তি কমিটি গঠন করেছি এবং তাকে প্রাথমিক প্রমাণ ওদের ভিত্তিতে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে পরবর্তীতে তদন্ত কমিটির বিস্তারিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে হল প্রশাসন অভিযুক্তকে বহিষ্কার করেছে। উপাচার্য মহোদয়কে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা ও জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তুবাউল জান্নাত ঐশী বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়টি আমি মাথা পেতে নিচ্ছি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, আমাকে হল থেকে বহিষ্কার করা হলেও যেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে আমার ছাত্রত্ব ও ক্যারিয়ার ধ্বংস করা না হয়।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

শাবিপ্রবিতে নিয়মতান্ত্রিক সিট বণ্টনসহ ৫ দফা দাবি ছাত্রশিবিরের

Published

on

By

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আবাসিক হলগুলোতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সিট বণ্টন, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন আয়োজন এবং উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।

গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জুনতলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।

ছাত্রশিবিরের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, হলের ফাঁকা আসনে দলীয় সুপারিশের পরিবর্তে স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের সিট বরাদ্দ, দ্রুত শাকসু নির্বাচন আয়োজন, উন্নয়ন প্রকল্পে নির্মাণকাজের মান ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত, ক্যাম্পাস ও হলে নিরবচ্ছিন্ন ওয়াই-ফাই ও ইন্টারনেট সেবা এবং মানসম্মত খাবার, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও পরিবহন সমস্যার সমাধান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদুল ইসলাম।

হলের সিট বণ্টন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ শতাংশ আসন রাখা হতো। নতুন প্রশাসন আসার পর প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ফাইনাল পরীক্ষা চলে আসলে তারা হলে সিট পায় নি। এছাড়া ফাঁকা সিটে দলীয় রেফারেন্সে শিক্ষার্থী তোলা হচ্ছে এরকম অভিযোগ ও পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের দাবি ফাঁকা সিটগুলোতে অবিলম্বে হল প্রশাসনের মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিভাগ অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।’

শাহপরাণ হলে ছাত্রদল নেতাদের সিট বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘ছাত্রদল কর্তৃক নিয়মবহির্ভূতভাবে সিট নিয়ে নিজেদের দায় ছাত্রশিবিরের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’ ছাত্রশিবির কখনো প্রশাসনের কারও কাছে সিটের জন্য তদবির করেনি। নিউজে দেখতে পেলাম সাবেক ছাত্রকল্যাণ উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড মো এছাক মিয়া স্যার বলেছেন অন্যান্যরা সিটের জন্য তদবির করলেও ছাত্রশিবির কখনো হলের সিটের জন্য তদবির করেনি।

শাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শাকসু নির্বাচনের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরও বিএনপি ও ছাত্রদলের বাধার কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।’

জাতীয় নির্বাচনের পরও শিক্ষার্থীরা শাকসু নির্বাচনের দাবি জানিয়ে এলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উপাচার্য সাক্ষাতের সময় দিতে অপারগতা প্রকাশ করলেও ছাত্রদলকে সাক্ষাতের সময় দেওয়া এবং তাদের দলীয় কর্মসূচিতে প্রশাসনিক নিয়ম ভঙ্গ করে উপস্থিত থাকতে পারেন। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজকে ছাত্রদলের কর্মসূচি প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ করে দিচ্ছেন।

কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে শাকসুর দাবিতে আন্দোলনরত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে অনতিবিলম্বে শাকসু বাস্তবায়নের স্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলমান বিভিন্ন উন্নয়নকাজে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সব প্রকল্প যথাযথ তদারকি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে সম্পন্ন করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই এবং দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলের ইন্টারনেট সেবা নিয়ে তিনি বলেন, ‘ওয়াই-ফাই সেবার মান ও নিরবচ্ছিন্নতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হলেও সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট না থাকায় শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।’

খাবারের মান নিয়ে মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাস ও হলের খাবারে অনেক সময় পোকামাকড় ও ময়লা পাওয়া যাচ্ছে বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে দুপুরের খাবারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও নেই। মানসম্মত খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত খাবারের স্থান নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে প্রায়ই চুরি ও বিভিন্ন অপরাধের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসনের জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন। পাশাপাশি পরিবহনে শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাসুদ রানা তুহিন, অফিস সম্পাদক শাকিল মাহমুদ ও প্রচার সম্পাদক রেজা-ই-রাব্বি সাফওয়ান উপস্থিত ছিলেন।

Continue Reading

top3

ববিতে কোকো স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক, ম্যাচ বয়কট সাংবাদিকতা বিভাগের

Published

on

By

ববি প্রতিনিধি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) শুরু হয়েছে ‘মরহুম আরাফাত রহমান কোকো’ স্মৃতি ডে-নাইট শর্টপিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগের মধ্যকার খেলায় আম্পায়ারের নেয়া একটি ভুল সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একপর্যায়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করায় ম্যাচ বয়কট করে মাঠ ছাড়ে সাংবাদিকতা বিভাগের খেলোয়াড়রা। ফলে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়নি।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ববি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান। ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন মো. রনি শেখ। আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী রাফি ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী নাইম।

ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ৮ ওভারে ৬১ রানের লক্ষ্য নির্ধারণ করে। জবাবে হিসাববিজ্ঞান বিভাগ রান তাড়া করতে নামে। ম্যাচের শেষদিকে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের জয়ের জন্য শেষ বলে প্রয়োজন ছিল ৭ রান।

এ সময় সাংবাদিকতা বিভাগের করা শেষ বলটি লেগ আম্পায়ার রাফি ‘নো বল’ ঘোষণা করেন। সাংবাদিকতা বিভাগের খেলোয়াড়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে লেগ আম্পায়ারের এই সিদ্ধান্তটি একপাক্ষিক ছিল এবং এতে ম্যাচের ফলাফল সরাসরি প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। সিদ্ধান্তটি ঘিরে মাঠে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যেও হতাশা ও অসন্তোষ দেখা দেয়।

সাংবাদিকতা বিভাগের পক্ষ থেকে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানানো হলেও টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, আম্পায়ারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বল করার সময় বোলারের হাত বাঁকা হওয়ায় সেটিকে ‘নো বল’ ঘোষণা করা হয়েছে।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধিনায়ক এনায়েন হাসান বলেন, ম্যাচের একেবারে শেষ বলে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আম্পায়ারদের আরও সতর্ক ও নিরপেক্ষ থাকা প্রয়োজন ছিল। শেষ বলে ৭ রান প্রয়োজন ছিল সেখানে আউট হয়ে যায় কিন্তু আম্পায়ার পক্ষপাতমূলকভাবে নো বল দেয় যা সরাসরি অনিয়ম। আমরা অনিয়মের অভিযোগ তুলে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানালেও তা আমলে নেয়া হয়নি।

এ ঘটনায় একটি বড় টুর্নামেন্টে আম্পায়ার নির্বাচন, ম্যাচ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তিতে আয়োজক কমিটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের শেষ মুহূর্তে লেগ আম্পায়ার রাফির বিতর্কিত ‘নো বল’ সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী সময়ে বিষয়টি যথাযথভাবে সমাধান না হওয়ায় টুর্নামেন্টের ব্যবস্থাপনা নিয়েও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

Continue Reading

top3

শাবিপ্রবির ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের নতুন ডিন অধ্যাপক আব্দুল হামিদ

Published

on

By

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ডিন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হামিদ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী আগামী দুই বছরের জন্য তাঁকে এ পদে নিয়োগ দিয়েছে।

অধ্যাপক আব্দুল হামিদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং (বিপণন) বিভাগের বিবিএ প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি এমবিএ সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে এমএসসি ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৪ সালে শাবিপ্রবিতে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি এবং ২০২০ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।

এছাড়া ডেনমার্ক, স্লোভেনিয়া, স্পেন ও ক্রোয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন অধ্যাপক আব্দুল হামিদ।

গত প্রায় দুই বছর ধরে তিনি শাবিপ্রবির ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর অতিরিক্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি নিয়মিত গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকাতেও লেখালেখি করেন। এ পর্যন্ত তাঁর ১২টি বই প্রকাশিত হয়েছে।

ছাত্রজীবনেও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন অধ্যাপক আব্দুল হামিদ। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষায় বাণিজ্য বিভাগে সম্মিলিত মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। স্নাতক পর্যায়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ সেশনে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি ইরাসমাস মুন্ডাস বৃত্তি ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ফেলোশিপ লাভ করেন।

পড়াশোনার পাশাপাশি সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। রচনা লেখা ও নির্ধারিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে একাধিকবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীদের কাছ থেকে স্বর্ণপদক লাভ করেন। এছাড়া নাটোর শিক্ষা ফাউন্ডেশন স্বর্ণপদক, অগ্রণী ব্যাংক স্বর্ণপদক, সৈয়দ আমীর আলী স্বর্ণপদক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।

দায়িত্ব গ্রহণের পর অধ্যাপক আব্দুল হামিদ বলেন, “শাবিপ্রবির ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদকে বিশ্বমানে উন্নীতকরণ, শিল্পখাত ও শিক্ষাঙ্গনের সংযোগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের প্রায়োগিক দক্ষতা বাড়াতে ডিন অফিস নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।”

এ লক্ষ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সার্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

Continue Reading

Trending