Connect with us

top1

বিএনপির জনপ্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে জামায়াতের ‘ডোর টু ডোর’ কৌশল

Published

on

আওয়ামী লীগ পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক সময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার সম্পর্ক ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এক নতুন এবং জটিল দিকে মোড় নিয়েছে। দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের দুঃসহ জেল-জুলুম, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক অবদমনের পর দল দুটি এখন নির্বাচনী ময়দানে একে অপরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দৃশ্যমান জনসমর্থন এবং বিশাল জনসভার জনস্রোতে বিএনপি অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও, জামায়াতে ইসলামী অত্যন্ত সুক্ষ্ম ও সুসংগঠিত কৌশলে তৃণমূলের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে। একদিকে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির পুনরুত্থান এবং অন্যদিকে জামায়াতের ‘নিভৃত বিপ্লব’—এই দুই মেরুর লড়াই এখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মূল আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জনপ্রিয়তার পাল্লা বিএনপির দিকে ভারী হলেও জামায়াতের সুদূরপ্রসারী কৌশল নির্বাচনের ফলাফলকে যেকোনো দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী দুই দলই নজিরবিহীন রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দেড় দশকে দল দুটির সাংগঠনিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার সব ধরনের চেষ্টা করা হয়েছিল। বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ১৭ বছর নির্বাসিত থাকতে হয়েছে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জরাজীর্ণ জেল সেলে ও পরবর্তীতে গৃহবন্দি অবস্থায় রাখা হয়েছিল।

এমনকি উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং স্বামীর বাড়ি থেকে এক কাপড়ে বের করে দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো জনমনে গভীর সহানুভূতি তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি দেওয়ার বিষয়টি দলটিকে নেতৃত্বশূন্য করার একটি বড় প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হয়। এক সময় এই দুই দল জোটবদ্ধ হয়ে সরকার গঠন করলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর বন্ধুত্বের পুরোনো সমীকরণ পুরোপুরি পাল্টে গেছে। বিশেষ করে গত ২৬ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে ফেরার পর থেকে জামায়াত মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপিকে ‘চাঁদাবাজ ও বিশৃঙ্খল’ দল হিসেবে প্রমাণ করতে, যাতে তারা নিজেদের একটি সুশৃঙ্খল বিকল্প হিসেবে ভোটারদের সামনে উপস্থাপন করতে পারে।

গত ২২ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে নির্বাচনী প্রচারণায় যে জোয়ার দেখা যাচ্ছে, তার মূলে রয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি দেশের প্রতিটি জেলায় বিরামহীনভাবে জনসভা করছেন, যেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দলটির বিশাল ভোটব্যাংকের প্রমাণ দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের সরাসরি অংশগ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা শোনার ভঙ্গি তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তার বক্তব্যগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে, যা তরুণ ভোটারদের মধ্যে একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ এবং শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

তবে বড় জনসভা মানেই জয়—এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে বলে তারা সতর্ক করেছেন। কারণ বিশাল জনসভার জনসমর্থনকে ভোটের বাক্সে রূপান্তরিত করার জন্য যে সাংগঠনিক নিপুণতা প্রয়োজন, সেখানে জামায়াত অনেক ক্ষেত্রে বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

বিএনপি যখন বিশাল জনসভায় ব্যস্ত, জামায়াতে ইসলামী তখন বেছে নিয়েছে ‘ডোর-টু-ডোর’ বা ঘরে ঘরে যাওয়ার কৌশল। দলটির নারী কর্মীরা এখন প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় গিয়ে নারীদের সাথে ধর্মীয় আলোচনা বা ‘তালিম’ এর মাধ্যমে ভোট প্রার্থনা করছেন। তারা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন—তারা নিজেরা দুর্নীতি করবেন না এবং রাষ্ট্রকে আল্লাহর পথে পরিচালিত করবেন। তবে তাদের এই প্রচারণার ধরন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, জামায়াত কর্মীরা বস্তিবাসী ও স্বল্প শিক্ষিত মানুষের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে, যা ভোটারদের প্রভাবিত করার একটি অনৈতিক চেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিএনপি ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশনে এই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, জামায়াতের এই নিভৃত প্রচারণা এবং ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের কৌশল নির্বাচনের দিন বিএনপিকে বড় ধরনের বিপাকে ফেলতে পারে।

ঢাকার আসনগুলোতে জামায়াতের তৎপরতা এখন ঘরে ঘরে। বিশেষ করে বস্তি এলাকাগুলোতে তারা ধর্ম এবং অর্থের প্রলোভন দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির নেতারা। এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বাংলানিউজকে বলেন, “আমারা শুনেছি বিভিন্ন বস্তিতে, স্বল্প শিক্ষিত ও স্বল্প আয়ের মানুষদের কাছে থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং বিকাশ নম্বর চাওয়া হচ্ছে যা নির্বাচনী আচরণ পরিপন্থি। অসৎ উদ্দেশ্যে একটি দল এই কাজগুলো করছেন এই নিম্ন আয়ের ভোটারদের প্রলুব্ধ করতে। নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেও কোনো কার্যকর সমাধান মেলেনি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং দায়িত্বরত অন্যদের কয়েক দফা জানিয়েছি একটি দল অনৈতিকভাবে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করছে। তারা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখনো দৃশ্যত কিছুই হয়নি। বিএনপি একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায়, কিন্তু এভাবে যদি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়, তবে তা দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে না।”

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশনের নিষ্ক্রিয়তা বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে, যা নির্বাচনের পরিবেশকে ঘোলাটে করতে পারে।

সরেজমিনে ফরিদপুরের আসনগুলোতে দেখা যায়, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে এক অদ্ভুত লড়াই চলছে। ফরিদপুর-১ আসনে জামায়াতের মো. ইলিয়াস মোল্লা প্রচারণায় এগিয়ে থাকলেও স্থানীয়রা বলছেন তাদের ভোটগুলো ‘গুপ্ত’। অন্যদিকে ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপির শামা ওবায়েদ তার বিদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে নির্বাচনে নামায় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। তবে ফরিদপুর-৩ ও ফরিদপুর-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা অত্যন্ত সুকৌশলে এগিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে ফরিদপুর-৪ আসনে জামায়াতের মো. সরোয়ার হোসাইনকে অন্যান্য ছোট দলগুলো সমর্থন দেওয়ায় তিনি একটি বড় ভোটব্যাংক পেতে যাচ্ছেন।

স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, ফরিদপুরে জামায়াতের নারী কর্মীরা যেভাবে প্রতিটি ঘরে পৌঁছে গেছেন, বিএনপি সেখানে কেবল উঠান বৈঠকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এই অঞ্চলে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা এবার ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকার সম্ভাবনা থাকায়, সেই ফাঁকা মাঠ দখল করতে জামায়াত অনেক বেশি তৎপর।

খুলনা বিভাগে জামায়াতে ইসলামী অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা। খুলনা-১ আসনে যেখানে হিন্দু ভোটারদের প্রাধান্য বেশি, সেখানে জামায়াত কৃষ্ণ নন্দীর মতো একজন সনাতন ধর্মালম্বীকে প্রার্থী করে এক বড় ধরনের কৌশল অবলম্বন করেছে। অন্যদিকে খুলনা-৬ আসনটি জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি হলেও এবার বিএনপি সেখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিয়েছে। খুলনা-৫ আসনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ারের অবস্থান বেশ মজবুত বলে স্থানীয়রা জানাচ্ছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খুলনার আসনগুলোতে আওয়ামী লীগের সমর্থক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট যেদিকে যাবে, সেদিকেই পাল্লা ভারী হবে। তবে সাধারণ ভোটাররা এখন পর্যন্ত মুখ খুলছেন না। বিএনপি ও জামায়াত দুই দলের জন্যই তা উদ্বেগের কারণ। এছাড়া সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটেও জামায়াতের প্রচার-প্রচারণা বিএনপির তুলনায় অনেক বেশি সুসংগঠিত বলে জানা গেছে।

যশোরের আসনগুলোতে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র ফুটে উঠছে। যশোর-৩ আসনে বিএনপির অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ইমেজের কারণে এগিয়ে থাকলেও জামায়াতের আব্দুল কাদের তাকে কড়া চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন। যশোর-৪ ও ৫ আসনে বিএনপি অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত, যার সুযোগ নিতে মরিয়া জামায়াত।

কুষ্টিয়ার আসনগুলোতেও একই চিত্র; সেখানে ভোটাররা বলছেন তারা ‘মার্কা দেখে নয়, প্রার্থী দেখে’ ভোট দেবেন। চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরেও বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এসব অঞ্চলে জামায়াতের প্রচারণা অনেক বেশি সুসংগঠিত এবং লক্ষ্যভিত্তিক, যা বিএনপির বিশাল জনসমর্থনের বিপরীতে এক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বরিশাল বিভাগের আসনগুলোতে এবার এক নতুন ধরনের মেরুকরণ দেখা যাচ্ছে। বরিশাল-৩ আসনে বিএনপির ধানের শীষের বিপরীতে এ বি পার্টির ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ জামায়াতের সমর্থন নিয়ে এক শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছেন। নদীভাঙন রোধ ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কারণে তিনি তরুণ ভোটারদের মন জয় করেছেন। অন্যদিকে বরিশাল-৫ আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের সাথে ইসলামী আন্দোলনের মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করীমের তুমুল লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বরিশালে জামায়াত অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি প্রার্থী না দিয়ে জোটের প্রার্থীদের সমর্থন দিয়ে বিএনপিকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালের এই নতুন সমীকরণ বিএনপির জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে যেখানে ইসলামী আন্দোলনের ভোটব্যাংক একটি বড় ফ্যাক্টর।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের আসনগুলোতে বিএনপি ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী হলেও জামায়াত সেখানে তাদের প্রভাব বজায় রাখতে মরিয়া। কক্সবাজার-২ ও ৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা অত্যন্ত সক্রিয় এবং তারা সাংগঠনিক ভোটব্যাংকের ওপর ভর করে জয়ের স্বপ্ন দেখছেন। সিলেটে বিএনপির প্রার্থীরা চারটিতে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও সিলেট-৫ ও ৬ আসনে জামায়াতের সক্রিয়তা বিএনপিকে নতুন করে ভাবাচ্ছে। সিলেটে জামায়াতের নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন, যা বিএনপির প্রথাগত প্রচারণাকে টেক্কা দিচ্ছে। তবে সিলেটের প্রবাসীরা বিএনপির পক্ষে থাকায় দলটি এখনো আশা ছাড়েনি।

বিশ্লেষকদের মতে, সিলেটের এই অঞ্চলে ধর্মীয় আবেগ একটি বড় ভূমিকা পালন করবে, যা জামায়াতের জন্য সুবিধার কারণ হতে পারে।

জাতীয় পার্টির ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত রংপুরে এবার বিএনপি ও জামায়াত দুই দলই ভাগ বসাচ্ছে। তবে জামায়াত আমিরের কিছু সাম্প্রতিক মন্তব্য (নারী এবং কেরু অ্যান্ড কোং) সেখানে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে, যা বিএনপির জন্য ইতিবাচক হতে পারে। ময়মনসিংহে জামায়াতের প্রচারণা অত্যন্ত সুসংগঠিত; সেখানে তারা দলীয়ভাবেই লিফলেট ও ব্যানার বিতরণের কাজ পরিচালনা করছে, প্রার্থীকে এসব বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে হচ্ছে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ময়মনসিংহে আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ বিএনপির ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে জামায়াতের দিকে ঝুঁকতে পারে, যা নির্বাচনের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে বিএনপির মামলা এবং জামাতের কারণে তাদের জামিন পাওয়ায় এই মেরুকরণ আরও তীব্র হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের মাঠে বিএনপি জনপ্রিয়তায় এগিয়ে থাকলেও দলটির সামনে অন্তত কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সামলানো যা অনেক আসনে ভোট ভাগাভাগির কারণ হতে পারে। দ্বিতীয়ত, গত ১৮ মাসে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজি ও দখলের অভিযোগ জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তৃতীয়ত, তরুণ ভোটারদের মন জয় করার ক্ষেত্রে প্রচারণায় ঘাটতি। চতুর্থত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতের পরিকল্পিত প্রচারণার সাথে পাল্লা দিতে না পারা। এছাড়া জামায়াতের নারী কর্মীদের ‘তালিম’ কৌশলের বিপরীতে বিএনপির প্রচারণার ধীরগতি, নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং ভারতের সাথে সম্পর্কের প্রশ্নে বিএনপির অস্পষ্ট অবস্থানও অন্যতম চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে না পারলে কেবল জনসমর্থন দিয়ে বৈতরণী পার হওয়া কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল আলম চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, “বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় আমরা জনপ্রিয়তা বনাম সংগঠনের এক ক্লাসিক দ্বন্দ্ব দেখছি। বিএনপি এখনো জনসমর্থনের দিক থেকে এগিয়ে আছে—বিশাল জনসভা, পয়েন্ট টু পয়েন্ট বক্তব্য এবং দীর্ঘ দমন-পীড়নের স্মৃতি দলটির পক্ষে কাজ করছে। তবে জামায়াতে ইসলামীর ‘ডোর টু ডোর’ কৌশল নীরব কিন্তু কার্যকর রাজনৈতিক পদ্ধতি, যা সরাসরি ভোটার আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “এই নির্বাচন আসলে কোনো দলের একক আধিপত্যের নয়, বরং তা নির্ধারণ করবে জনপ্রিয়তা কতটা সংগঠনে রূপ নিতে পারে এবং সংগঠন কতটা বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারে। সেই অর্থে বিএনপি ও জামায়াতের এই লড়াই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনীতির চরিত্রও নির্ধারণ করবে।”

জামায়াতে ইসলামী অত্যন্ত সুসংগঠিত দল হলেও তাদের কিছু বড় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াতের পক্ষে স্বতঃস্ফূর্ত জনসমর্থনে এখনো ঘাটতি আছে এবং ১৯৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া নারী অধিকার প্রশ্নে জামায়াতের আমিরের সাম্প্রতিক মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতার অভাব এবং ভূ-রাজনীতিতে দলটির অবস্থান কী হবে—এই প্রশ্নগুলো এখনো অমীমাংসিত। তবে জামায়াতের বড় শক্তির জায়গা হলো তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মীবাহিনী এবং ‘নতুন কাউকে দেখার’ আকাঙ্ক্ষা ভোটারদের মধ্যে তারা তৈরি করতে পেরেছে। বিএনপি এই ইস্যুটিকে মোকাবিলা করতে জামায়াতের অভিজ্ঞতার অভাবকে সামনে নিয়ে আসছে।

সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতির এক চূড়ান্ত পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। বিএনপি তাদের বিশাল জনসমর্থন ও তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর ভর করে ক্ষমতায় ফেরার স্বপ্ন দেখছে, অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী তাদের নিভৃত ও গভীর কৌশলের মাধ্যমে বড় ধরনের চমক দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনপ্রিয়তায় বিএনপি এগিয়ে থাকলেও জামায়াতের কৌশলী প্রচারণা এবং তৃণমূলের সাথে তাদের নিবিড় যোগাযোগ নির্বাচনের ফলাফলকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কি রাজপথের জনজোয়ারকে প্রাধান্য দেবেন, নাকি জামায়াতের ঘরের ভেতরের প্রচারণায় সাড়া দেবেন, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত। তবে বিশ্লেষকরা এটা নিশ্চিতভাবে বলেছেন—এবারের নির্বাচন কেবল জয়-পরাজয়ের নয়, বরং কৌশল ও জনপ্রিয়তার এক অনন্য লড়াই হতে যাচ্ছে।

সুত্র: বাংলা নিউজ টোয়েন্টি ফোর

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

সাভারে পুলিশ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যা

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) এক উপপরিদর্শককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত আলতাফ হোসেন (৫৮) এসবির ঢাকার মালিবাগ জোনে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় তার ছেলে আরিফুল ইসলাম (২৬) গুরুতর আহত হয়েছেন।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকার মদিনা হাউজিংয়ে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, একটি গেঞ্জি কারখানার সামনে প্রাইভেটকার পার্কিং করা নিয়ে আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুলের সঙ্গে ১০ থেকে ১৫ জনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাবা ও ছেলেকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাভার মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল আলম জানান, আমিনবাজারে একজন এসবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, গাড়ি পার্কিং নিয়ে সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজ বাসার কাছেই ওই এসআই ও তার ছেলে হামলার শিকার হন। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এসবির সাভার জোনের এএসআই মাসুদ রানা জানান, আলতাফ হোসেন এসবির এসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন, তবে সাভার জোনে তার দায়িত্ব ছিল না। আমিনবাজারে তার একটি জায়গা রয়েছে। কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

Continue Reading

top1

দ্য হিন্দুর এক্সপ্লেইনার/২০১৩ সালের চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে কি ফেরত পাঠাবে ভারত

Published

on

By

কল্লোল ভট্টাচার্য

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের আগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকা বলছে, তারেক রহমানের সফরের জন্য নয়াদিল্লিকে একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরি করতে হবে। আর এই পরিবেশ তৈরির প্রধান শর্ত হলো শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। তখন থেকেই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। গত ৫ আগস্ট (২০২৬) দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেন শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি দাবি করেন, ‘বাংলাদেশে আবার ভয় ফিরে এসেছে।’

তার এই বক্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় শেখ হাসিনাকে ‘দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় শিশুসহ নিরীহ মানুষ হত্যার জন্য সরাসরি তাকে দায়ী করেছে ঢাকা।

ওসমান হাদির খুনিদের ফেরত চায় বাংলাদেশ

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম গত রোববার আরেকটি দাবি সামনে এনেছেন। তিনি ওসমান হাদির সন্দেহভাজন খুনিদের ফেরত দেওয়ার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানান।

ওসমান হাদি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। পরে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তখন বাংলাদেশে বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলার সংকট তৈরি হয়েছিল।

চীন কেন ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মানবে না

অভিযুক্ত খুনিরা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে বলে ঢাকা দাবি করছে। বর্তমানে দেশের রাজপথে প্রভাবশালী ইসলামপন্থিরা এই মামলার ওপর কড়া নজর রাখছেন। সংসদে ৬৭টি আসন থাকা দল জামায়াতে ইসলামীও হাদির বিচারের দাবিতে সোচ্চার। ফলে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণে এই মামলাটি বর্তমান বিএনপি সরকারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ ও আইনি জটিলতা

দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, ভারত যে কোনো অপরাধীকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে পারে। দুই দেশের পারস্পরিক এই চুক্তিতে এমন বিধানই রয়েছে। তবে চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে রাজনৈতিক অপরাধীদের হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।

‘পলিটিক্যাল অফেন্স এক্সেপশন’ বা রাজনৈতিক অপরাধের ব্যতিক্রম নামের এই ধারা অনুযায়ী, অপরাধটি রাজনৈতিক চরিত্রের হলে প্রত্যর্পণের অনুরোধ নাকচ করতে পারে যে কোনো পক্ষ।

অবশ্য খুন, অপহরণ ও নরহত্যার মতো গুরুতর অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে না। তবে মূল সমস্যা হলো, চুক্তিতে ‘রাজনৈতিক অপরাধ’-এর কোনো স্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া নেই। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত যে কোনো অপরাধকে নিজেদের মতো করে ‘রাজনৈতিক’ হিসেবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ পেতে পারে।

বিশেষ করে ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই অনেক মামলা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক আদালতও (আইসিজে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়া এবং ২০২৫ সালের নভেম্বরের রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আইসিজে ট্রাইব্যুনালের সদস্যদের সততা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে।

আইসিটির রায় ও দিল্লির অবস্থান

২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শেখ হাসিনাকে পুলিশি দমন-পীড়নের জন্য দায়ী করে। পরে একটি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে।

আমি স্বাধীনতা উপভোগ করছি, তারা আফগানিস্তানে ‘বন্দি’

২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময় দমন-পীড়নে নিহতের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ হাজার ৪০০।

রায়ের পর শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে কূটনৈতিক চিঠি পাঠায় বাংলাদেশ। তবে নয়াদিল্লি এ নিয়ে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেবল জানিয়েছে, তারা রায়টি পর্যবেক্ষণ করছে। ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে ভারত বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণ কামনা করে।

তারা সেখানে শান্তি, গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা দেখতে চায়। এই লক্ষ্য অর্জনে তারা সবসময় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করবে। অন্যদিকে জাতিসংঘ নীতিগতভাবে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করলেও বাংলাদেশে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে।

৮ নম্বর অনুচ্ছেদের বাধা

প্রত্যর্পণ চুক্তির ৮ নম্বর অনুচ্ছেদটি ভারতের জন্য আরেকটি আইনি পথ খুলে দিয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী, কোনো অভিযোগ যদি ‘সৎ উদ্দেশ্যে’ বা ‘ন্যায়বিচারের স্বার্থে’ করা না হয়, তবে প্রত্যর্পণের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা যাবে। শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যেই আইসিটির রায়কে ‘পূর্বনির্ধারিত’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে ট্রাইব্যুনালের সদস্যদের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর প্রতি সহানুভূতিশীল থাকার অভিযোগ তোলেন।

স্পেন কি কোনো ‘শাস্তি’ পাচ্ছে?

তৎকালীন সরকার জামায়াতের পক্ষে বহু মামলা লড়া ব্যারিস্টার তাজুল ইসলামকে ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। শেখ হাসিনা নিজেও এক বিবৃতিতে এই রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার দাবি করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হলে ১৯৭৩ সালের ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধন প্রয়োজন।

বাস্তবতা ও সম্পর্কের উষ্ণতা

দুই দেশের সীমান্তে অপরাধীদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে ২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারি ঢাকা ও দিল্লি এই প্রত্যর্পণ চুক্তি সই করে। একই বছরের ২৩ অক্টোবর থেকে এটি কার্যকর হয়। ইতোপূর্বে এই চুক্তির আওতায় ২০২২ সালে ১১টি হত্যা মামলার আসামি নূর নবী ম্যাকসনের মতো বেশ কয়েকজন অপরাধীকে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। পলাতক আসামিদের হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এই চুক্তিটিই দুই দেশের একমাত্র কার্যকর আইনি মাধ্যম।

তাত্ত্বিকভাবে প্রত্যর্পণ সম্ভব হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর মামলার ক্ষেত্রে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কই প্রধান ভূমিকা রাখে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আভাস দিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে হঠাৎ ফেরত পাঠালে বাংলাদেশে বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। তা ছাড়া যখন দুই দেশের সম্পর্ক সর্বোচ্চ চূড়ায় ছিল, তখন এই চুক্তি সই হয়েছিল। বর্তমানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াটি দিল্লির জন্য বেশ জটিল।

Continue Reading

top1

কুমিল্লা-নোয়াখালীকে আলাদা বিভাগ ঘোষণার দাবি জামায়াত আমিরের

Published

on

By

কুমিল্লা ও নোয়াখালীকে আলাদা বিভাগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারকে পরিষ্কারভাবে বলছি, কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আর ধানাই-পানাই করবেন না। কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন হোক। পাশের নোয়াখালী, বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষও বিভাগ চাচ্ছেন। তারাও একটি বিভাগ পাওয়ার দাবিদার। তাদেরও দিন। কিন্তু কুমিল্লার দাবি যেহেতু ১৯৯৪ সাল থেকে চলে আসছে, আগে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন করুন।’

শনিবার (৫ আগস্ট) কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার মোশতাক আহমেদের বাড়ি কুমিল্লায় উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এই কারণে গোঁসা করে কুমিল্লার নামে বিভাগ দেওয়া হবে না, আগে এ নিয়ে ধানাই-পানাই করা হয়েছে। আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, কোনো জেলার নাম নিয়ে যদি বাড়াবাড়ি করা হয়, তাহলে সেটা ওই জেলা এবং সেখানে বসবাসকারী প্রত্যেকটি মানুষকে অপমান করার শামিল।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকারও বলেছে, কুমিল্লা বিভাগ দেওয়া হবে। তাহলে দিচ্ছেন না কেন? এটা দ্রুত বাস্তবায়ন করুন। বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করার যাবতীয় ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করুন।’

কুমিল্লায় বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এখানে বিমানবন্দর হওয়ার যে বিষয়টি আছে, সেটিও দেখতে হবে। এখানে একটি ইপিজেড আছে, একটি বিমানবন্দরও আছে। সেই বিমানবন্দরটি সম্ভাব্যতা যাচাই করে যদি সবদিক থেকে উত্তম হয়, তাহলে জনগণের জন্য সেটিও চালু করা হোক। তবে বিভাগটা আগে দেন। বিভাগের দাবিটা আগে পূরণ করুন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কুমিল্লার মানুষকে এখন প্রশাসনিক কাজের জন্য চট্টগ্রামে দৌড়াতে হয়। এখানে বিভাগ হলে তাদের প্রশাসনিক কাজগুলো এখানেই হবে।’

লংমার্চ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘আজকের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হলো। প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরে ইনশাআল্লাহ আমাদের লংমার্চ যাবে। এরপর ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে। সেই মহাসমাবেশ কি শুধু চিড়ামুড়ি খাওয়ার জন্য হবে, নাকি আমাদের দাবি আদায়ের জন্য হবে? কুমিল্লার মানুষ, আপনারা যাবেন। প্রয়োজনে চিড়ামুড়ি হাতে নিয়েই যাবেন। দাবি আদায় করে ইনশাআল্লাহ ঘরে ফিরবেন। আপনারা প্রস্তুতি নেন। আমরা আশাবাদী, জনতার বিজয় হবে, ইনশাআল্লাহ।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করেন? তিনি তো সংসদের সব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন, কিন্তু নিজের মন্ত্রণালয়েরই কোনো খবর নেই।’

উল্লেখ্য, জুলাই গণহত্যার বিচার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ এবং সারের সংকট সমাধানসহ ছয় দফা দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য। আজ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চের কর্মসূচি শুরু হয়। চট্টগ্রামের লালদিঘীর মাঠে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।

Continue Reading

Trending