Connect with us

top1

বিএনপির জনপ্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে জামায়াতের ‘ডোর টু ডোর’ কৌশল

Published

on

আওয়ামী লীগ পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক সময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার সম্পর্ক ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এক নতুন এবং জটিল দিকে মোড় নিয়েছে। দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের দুঃসহ জেল-জুলুম, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক অবদমনের পর দল দুটি এখন নির্বাচনী ময়দানে একে অপরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দৃশ্যমান জনসমর্থন এবং বিশাল জনসভার জনস্রোতে বিএনপি অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও, জামায়াতে ইসলামী অত্যন্ত সুক্ষ্ম ও সুসংগঠিত কৌশলে তৃণমূলের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে। একদিকে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির পুনরুত্থান এবং অন্যদিকে জামায়াতের ‘নিভৃত বিপ্লব’—এই দুই মেরুর লড়াই এখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মূল আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জনপ্রিয়তার পাল্লা বিএনপির দিকে ভারী হলেও জামায়াতের সুদূরপ্রসারী কৌশল নির্বাচনের ফলাফলকে যেকোনো দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী দুই দলই নজিরবিহীন রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দেড় দশকে দল দুটির সাংগঠনিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার সব ধরনের চেষ্টা করা হয়েছিল। বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ১৭ বছর নির্বাসিত থাকতে হয়েছে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জরাজীর্ণ জেল সেলে ও পরবর্তীতে গৃহবন্দি অবস্থায় রাখা হয়েছিল।

এমনকি উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং স্বামীর বাড়ি থেকে এক কাপড়ে বের করে দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো জনমনে গভীর সহানুভূতি তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি দেওয়ার বিষয়টি দলটিকে নেতৃত্বশূন্য করার একটি বড় প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হয়। এক সময় এই দুই দল জোটবদ্ধ হয়ে সরকার গঠন করলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর বন্ধুত্বের পুরোনো সমীকরণ পুরোপুরি পাল্টে গেছে। বিশেষ করে গত ২৬ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে ফেরার পর থেকে জামায়াত মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপিকে ‘চাঁদাবাজ ও বিশৃঙ্খল’ দল হিসেবে প্রমাণ করতে, যাতে তারা নিজেদের একটি সুশৃঙ্খল বিকল্প হিসেবে ভোটারদের সামনে উপস্থাপন করতে পারে।

গত ২২ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে নির্বাচনী প্রচারণায় যে জোয়ার দেখা যাচ্ছে, তার মূলে রয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি দেশের প্রতিটি জেলায় বিরামহীনভাবে জনসভা করছেন, যেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দলটির বিশাল ভোটব্যাংকের প্রমাণ দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের সরাসরি অংশগ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা শোনার ভঙ্গি তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তার বক্তব্যগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে, যা তরুণ ভোটারদের মধ্যে একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ এবং শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

তবে বড় জনসভা মানেই জয়—এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে বলে তারা সতর্ক করেছেন। কারণ বিশাল জনসভার জনসমর্থনকে ভোটের বাক্সে রূপান্তরিত করার জন্য যে সাংগঠনিক নিপুণতা প্রয়োজন, সেখানে জামায়াত অনেক ক্ষেত্রে বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

বিএনপি যখন বিশাল জনসভায় ব্যস্ত, জামায়াতে ইসলামী তখন বেছে নিয়েছে ‘ডোর-টু-ডোর’ বা ঘরে ঘরে যাওয়ার কৌশল। দলটির নারী কর্মীরা এখন প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় গিয়ে নারীদের সাথে ধর্মীয় আলোচনা বা ‘তালিম’ এর মাধ্যমে ভোট প্রার্থনা করছেন। তারা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন—তারা নিজেরা দুর্নীতি করবেন না এবং রাষ্ট্রকে আল্লাহর পথে পরিচালিত করবেন। তবে তাদের এই প্রচারণার ধরন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, জামায়াত কর্মীরা বস্তিবাসী ও স্বল্প শিক্ষিত মানুষের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে, যা ভোটারদের প্রভাবিত করার একটি অনৈতিক চেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিএনপি ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশনে এই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, জামায়াতের এই নিভৃত প্রচারণা এবং ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের কৌশল নির্বাচনের দিন বিএনপিকে বড় ধরনের বিপাকে ফেলতে পারে।

ঢাকার আসনগুলোতে জামায়াতের তৎপরতা এখন ঘরে ঘরে। বিশেষ করে বস্তি এলাকাগুলোতে তারা ধর্ম এবং অর্থের প্রলোভন দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির নেতারা। এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বাংলানিউজকে বলেন, “আমারা শুনেছি বিভিন্ন বস্তিতে, স্বল্প শিক্ষিত ও স্বল্প আয়ের মানুষদের কাছে থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং বিকাশ নম্বর চাওয়া হচ্ছে যা নির্বাচনী আচরণ পরিপন্থি। অসৎ উদ্দেশ্যে একটি দল এই কাজগুলো করছেন এই নিম্ন আয়ের ভোটারদের প্রলুব্ধ করতে। নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেও কোনো কার্যকর সমাধান মেলেনি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং দায়িত্বরত অন্যদের কয়েক দফা জানিয়েছি একটি দল অনৈতিকভাবে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করছে। তারা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখনো দৃশ্যত কিছুই হয়নি। বিএনপি একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায়, কিন্তু এভাবে যদি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়, তবে তা দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে না।”

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশনের নিষ্ক্রিয়তা বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে, যা নির্বাচনের পরিবেশকে ঘোলাটে করতে পারে।

সরেজমিনে ফরিদপুরের আসনগুলোতে দেখা যায়, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে এক অদ্ভুত লড়াই চলছে। ফরিদপুর-১ আসনে জামায়াতের মো. ইলিয়াস মোল্লা প্রচারণায় এগিয়ে থাকলেও স্থানীয়রা বলছেন তাদের ভোটগুলো ‘গুপ্ত’। অন্যদিকে ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপির শামা ওবায়েদ তার বিদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে নির্বাচনে নামায় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। তবে ফরিদপুর-৩ ও ফরিদপুর-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা অত্যন্ত সুকৌশলে এগিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে ফরিদপুর-৪ আসনে জামায়াতের মো. সরোয়ার হোসাইনকে অন্যান্য ছোট দলগুলো সমর্থন দেওয়ায় তিনি একটি বড় ভোটব্যাংক পেতে যাচ্ছেন।

স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, ফরিদপুরে জামায়াতের নারী কর্মীরা যেভাবে প্রতিটি ঘরে পৌঁছে গেছেন, বিএনপি সেখানে কেবল উঠান বৈঠকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এই অঞ্চলে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা এবার ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকার সম্ভাবনা থাকায়, সেই ফাঁকা মাঠ দখল করতে জামায়াত অনেক বেশি তৎপর।

খুলনা বিভাগে জামায়াতে ইসলামী অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা। খুলনা-১ আসনে যেখানে হিন্দু ভোটারদের প্রাধান্য বেশি, সেখানে জামায়াত কৃষ্ণ নন্দীর মতো একজন সনাতন ধর্মালম্বীকে প্রার্থী করে এক বড় ধরনের কৌশল অবলম্বন করেছে। অন্যদিকে খুলনা-৬ আসনটি জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি হলেও এবার বিএনপি সেখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিয়েছে। খুলনা-৫ আসনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ারের অবস্থান বেশ মজবুত বলে স্থানীয়রা জানাচ্ছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খুলনার আসনগুলোতে আওয়ামী লীগের সমর্থক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট যেদিকে যাবে, সেদিকেই পাল্লা ভারী হবে। তবে সাধারণ ভোটাররা এখন পর্যন্ত মুখ খুলছেন না। বিএনপি ও জামায়াত দুই দলের জন্যই তা উদ্বেগের কারণ। এছাড়া সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটেও জামায়াতের প্রচার-প্রচারণা বিএনপির তুলনায় অনেক বেশি সুসংগঠিত বলে জানা গেছে।

যশোরের আসনগুলোতে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র ফুটে উঠছে। যশোর-৩ আসনে বিএনপির অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ইমেজের কারণে এগিয়ে থাকলেও জামায়াতের আব্দুল কাদের তাকে কড়া চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন। যশোর-৪ ও ৫ আসনে বিএনপি অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত, যার সুযোগ নিতে মরিয়া জামায়াত।

কুষ্টিয়ার আসনগুলোতেও একই চিত্র; সেখানে ভোটাররা বলছেন তারা ‘মার্কা দেখে নয়, প্রার্থী দেখে’ ভোট দেবেন। চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরেও বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এসব অঞ্চলে জামায়াতের প্রচারণা অনেক বেশি সুসংগঠিত এবং লক্ষ্যভিত্তিক, যা বিএনপির বিশাল জনসমর্থনের বিপরীতে এক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বরিশাল বিভাগের আসনগুলোতে এবার এক নতুন ধরনের মেরুকরণ দেখা যাচ্ছে। বরিশাল-৩ আসনে বিএনপির ধানের শীষের বিপরীতে এ বি পার্টির ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ জামায়াতের সমর্থন নিয়ে এক শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছেন। নদীভাঙন রোধ ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কারণে তিনি তরুণ ভোটারদের মন জয় করেছেন। অন্যদিকে বরিশাল-৫ আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের সাথে ইসলামী আন্দোলনের মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করীমের তুমুল লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বরিশালে জামায়াত অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি প্রার্থী না দিয়ে জোটের প্রার্থীদের সমর্থন দিয়ে বিএনপিকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালের এই নতুন সমীকরণ বিএনপির জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে যেখানে ইসলামী আন্দোলনের ভোটব্যাংক একটি বড় ফ্যাক্টর।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের আসনগুলোতে বিএনপি ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী হলেও জামায়াত সেখানে তাদের প্রভাব বজায় রাখতে মরিয়া। কক্সবাজার-২ ও ৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা অত্যন্ত সক্রিয় এবং তারা সাংগঠনিক ভোটব্যাংকের ওপর ভর করে জয়ের স্বপ্ন দেখছেন। সিলেটে বিএনপির প্রার্থীরা চারটিতে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও সিলেট-৫ ও ৬ আসনে জামায়াতের সক্রিয়তা বিএনপিকে নতুন করে ভাবাচ্ছে। সিলেটে জামায়াতের নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন, যা বিএনপির প্রথাগত প্রচারণাকে টেক্কা দিচ্ছে। তবে সিলেটের প্রবাসীরা বিএনপির পক্ষে থাকায় দলটি এখনো আশা ছাড়েনি।

বিশ্লেষকদের মতে, সিলেটের এই অঞ্চলে ধর্মীয় আবেগ একটি বড় ভূমিকা পালন করবে, যা জামায়াতের জন্য সুবিধার কারণ হতে পারে।

জাতীয় পার্টির ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত রংপুরে এবার বিএনপি ও জামায়াত দুই দলই ভাগ বসাচ্ছে। তবে জামায়াত আমিরের কিছু সাম্প্রতিক মন্তব্য (নারী এবং কেরু অ্যান্ড কোং) সেখানে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে, যা বিএনপির জন্য ইতিবাচক হতে পারে। ময়মনসিংহে জামায়াতের প্রচারণা অত্যন্ত সুসংগঠিত; সেখানে তারা দলীয়ভাবেই লিফলেট ও ব্যানার বিতরণের কাজ পরিচালনা করছে, প্রার্থীকে এসব বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে হচ্ছে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ময়মনসিংহে আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ বিএনপির ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে জামায়াতের দিকে ঝুঁকতে পারে, যা নির্বাচনের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে বিএনপির মামলা এবং জামাতের কারণে তাদের জামিন পাওয়ায় এই মেরুকরণ আরও তীব্র হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের মাঠে বিএনপি জনপ্রিয়তায় এগিয়ে থাকলেও দলটির সামনে অন্তত কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সামলানো যা অনেক আসনে ভোট ভাগাভাগির কারণ হতে পারে। দ্বিতীয়ত, গত ১৮ মাসে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজি ও দখলের অভিযোগ জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তৃতীয়ত, তরুণ ভোটারদের মন জয় করার ক্ষেত্রে প্রচারণায় ঘাটতি। চতুর্থত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতের পরিকল্পিত প্রচারণার সাথে পাল্লা দিতে না পারা। এছাড়া জামায়াতের নারী কর্মীদের ‘তালিম’ কৌশলের বিপরীতে বিএনপির প্রচারণার ধীরগতি, নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং ভারতের সাথে সম্পর্কের প্রশ্নে বিএনপির অস্পষ্ট অবস্থানও অন্যতম চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে না পারলে কেবল জনসমর্থন দিয়ে বৈতরণী পার হওয়া কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল আলম চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, “বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় আমরা জনপ্রিয়তা বনাম সংগঠনের এক ক্লাসিক দ্বন্দ্ব দেখছি। বিএনপি এখনো জনসমর্থনের দিক থেকে এগিয়ে আছে—বিশাল জনসভা, পয়েন্ট টু পয়েন্ট বক্তব্য এবং দীর্ঘ দমন-পীড়নের স্মৃতি দলটির পক্ষে কাজ করছে। তবে জামায়াতে ইসলামীর ‘ডোর টু ডোর’ কৌশল নীরব কিন্তু কার্যকর রাজনৈতিক পদ্ধতি, যা সরাসরি ভোটার আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “এই নির্বাচন আসলে কোনো দলের একক আধিপত্যের নয়, বরং তা নির্ধারণ করবে জনপ্রিয়তা কতটা সংগঠনে রূপ নিতে পারে এবং সংগঠন কতটা বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারে। সেই অর্থে বিএনপি ও জামায়াতের এই লড়াই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনীতির চরিত্রও নির্ধারণ করবে।”

জামায়াতে ইসলামী অত্যন্ত সুসংগঠিত দল হলেও তাদের কিছু বড় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াতের পক্ষে স্বতঃস্ফূর্ত জনসমর্থনে এখনো ঘাটতি আছে এবং ১৯৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া নারী অধিকার প্রশ্নে জামায়াতের আমিরের সাম্প্রতিক মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতার অভাব এবং ভূ-রাজনীতিতে দলটির অবস্থান কী হবে—এই প্রশ্নগুলো এখনো অমীমাংসিত। তবে জামায়াতের বড় শক্তির জায়গা হলো তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মীবাহিনী এবং ‘নতুন কাউকে দেখার’ আকাঙ্ক্ষা ভোটারদের মধ্যে তারা তৈরি করতে পেরেছে। বিএনপি এই ইস্যুটিকে মোকাবিলা করতে জামায়াতের অভিজ্ঞতার অভাবকে সামনে নিয়ে আসছে।

সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতির এক চূড়ান্ত পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। বিএনপি তাদের বিশাল জনসমর্থন ও তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর ভর করে ক্ষমতায় ফেরার স্বপ্ন দেখছে, অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী তাদের নিভৃত ও গভীর কৌশলের মাধ্যমে বড় ধরনের চমক দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনপ্রিয়তায় বিএনপি এগিয়ে থাকলেও জামায়াতের কৌশলী প্রচারণা এবং তৃণমূলের সাথে তাদের নিবিড় যোগাযোগ নির্বাচনের ফলাফলকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কি রাজপথের জনজোয়ারকে প্রাধান্য দেবেন, নাকি জামায়াতের ঘরের ভেতরের প্রচারণায় সাড়া দেবেন, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত। তবে বিশ্লেষকরা এটা নিশ্চিতভাবে বলেছেন—এবারের নির্বাচন কেবল জয়-পরাজয়ের নয়, বরং কৌশল ও জনপ্রিয়তার এক অনন্য লড়াই হতে যাচ্ছে।

সুত্র: বাংলা নিউজ টোয়েন্টি ফোর

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর: যুবলীগ নেতা অনিক গ্রেপ্তার

Published

on

By

অনলাইন ডেস্ক

জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শাহ আলম অনিককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ভাষানটেক থানা যুবলীগের সহসভাপতি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিবি সূত্রের দাবি, মিরপুরের সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত শাহাদাতের সঙ্গে অনিকের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। শাহাদাত ও ইব্রাহিমের হয়ে অনিক এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে সূত্রটি।

অনিককে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুর রহমান বলেন, তাকে কিছুক্ষণ আগে আটক করে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ডিবি সূত্রের দাবি, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ইসিবি চত্বরের কাছে নিউ গিনি কনডোমিনিয়াম সিটিতে সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় অনিক সরাসরি জড়িত ছিলেন। তবে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনিককে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিল ও মিরপুরের সাবেক স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত করা হতো। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিরপুর, ভাষানটেক, কাফরুল, পল্লবী ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার কথাও জানিয়েছে সূত্র।

এ ছাড়া ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে অনিক সামনের সারিতে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও সংগঠিত করার সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন বলে সূত্রের দাবি।

মিরপুর, পল্লবী, ভাষানটেক ও কাফরুল এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাতেও অনিকের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছে সূত্র। বিদেশ থেকে আসা বিভিন্ন নির্দেশনা দেশে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তিনি ভূমিকা রাখতেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের ছোট ভাই মোতাহার হোসেন খান সুফলকে গ্রেপ্তার করা হয়। সূত্রের দাবি, সুফল ও অনিক একসঙ্গে ঢাকায় অস্থিরতা তৈরির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।

Continue Reading

top1

ফ্যাসিবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা, পুলিশকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Published

on

By

পুলিশের মধ্যে কেউ কেউ এখনো ফ্যাসিবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, তাদের নানা ধরনের সংবাদ দিচ্ছে। এমন কার্যক্রমে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর ‘পদক প্রদান অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের মধ্যে কেউ কেউ এখনো ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে, তাদের নানা ধরনের সংবাদ দিচ্ছে। পুলিশের কোন সদস্য শৃঙ্খলা না মানলে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকার পিছপা হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পানিশমেন্ট-রিওয়ার্ড’ চালু থাকবে। যারা ভালো কাজ করবেন এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের পুরস্কৃত করা হবে। আর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, শৃঙ্খলাভঙ্গ কিংবা কোনো ধরনের অপরাধে জড়িত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার ও অপব্যবহারের অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে। অনেক পুলিশ সদস্যকে অবৈধ নির্দেশ পালনেও বাধ্য করা হয়েছিল। তবে এখন তাদের সামনে নিজেদের সংশোধন ও নতুনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণ এখন রাজা-বাদশাহ নয়, ‘জনগণের পুলিশ’ দেখতে চায়। কোনো সিনিয়র কর্মকর্তা এমন কর্মকাণ্ড করবেন না, যা জনগণের কাছে অস্বাভাবিক বা অগণতান্ত্রিক মনে হয়। একইভাবে অধস্তন কোনো সদস্যের এমন কর্মকাণ্ডেও অনুমতি বা আশ্রয় দেওয়া যাবে না, যা সমাজে অশান্তি বা অস্বস্তি তৈরি করে।

তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে ভুলত্রুটি থাকলেও কেউ যদি সৎভাবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেন, তাহলে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা কিংবা অপরাধ সংঘটিত হলে তার পরিণতি ভালো হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এজন্য পুলিশ বাহিনীর জনবল, সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সুবিধা বাড়ানো হবে।

পুলিশের আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে সাইবার নিরাপত্তা ইউনিট গঠনের কথাও জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে আলাদা সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠন করা হবে। এর সদর দপ্তরের পাশাপাশি মেট্রো, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে শাখা থাকবে। আধুনিক প্রযুক্তি, ফরেনসিক ল্যাবসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অপরাধের বড় একটি অংশ সাইবার স্পেসকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হচ্ছে। তাই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও অপরাধ দমনের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটকে নতুন কাঠামোর আওতায় এনে আরও কার্যকর করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী মেট্রো ও অন্যান্য এলাকায় বিশেষ ইউনিটের সক্ষমতা বাড়ানো হবে এবং অবকাঠামো ও লজিস্টিক সুবিধা দেওয়া হবে।

পুলিশের দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব পুলিশের সবচেয়ে বেশি। সততা, ন্যায়নিষ্ঠা, কর্তব্যপরায়ণতা ও দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করলে পুলিশই সমাজ পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে পারে।

তিনি বলেন, ‘২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর আসার আগেই আপনাদের পরিবর্তনটা দেখাতে হবে’।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পুলিশকে স্বাধীনভাবে ও আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিচ্ছে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না। আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশকে আহ্বান জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যারা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিষয়ে পুলিশের গোয়েন্দা সক্ষমতা কাজে লাগাতে হবে। দেশের জনগণের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Continue Reading

top1

ইবিতে প্রেমিক যুগল ধরা, বিয়ের সিদ্ধান্ত

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের (প্রেমিক যুগল) হাতেনাতে ধরেছে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানীয়রা। প্রক্টরিয়াল বডির সিদ্ধান্তে আগামীকাল (২৬ সেপ্টেম্বর) বিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন একটি মেসের পাশে এই ঘটনা ঘটে। প্রেমিক যুগল শিক্ষার্থীরা হলেন- মার্কেটিং বিভাগের ২০২৩-২৪ বর্ষের এক ছাত্র এবং হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২৪-২৫ বর্ষের এক ছাত্রী।

জানা গেছে, ওই মার্কেটিং বিভাগের ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন মল্লিক মেসে থাকেন। রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে হস্তান্তর করেন। পরে প্রক্টর অফিসে আনা হলে স্বীকারোক্তি দিয়ে বিয়ের সম্মতি দেয় প্রেমিক যুগল। প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানের সিদ্ধান্তে কাল (২৬ সেপ্টেম্বর) উভয় পক্ষের পিতামাতার উপস্থিতিতে বিয়ে পড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারা কয়েকমাস ধরে নিয়মিত নির্জন জায়গায় বসে। তাদের গতিবিধি লক্ষ্য রেখে এবার হাতেনাতে ধরে তারা। পরে নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে তুলে দেয়। তবে ওই সময় ছাত্রকে চড় থাপ্পড় মারছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের বিরুদ্ধে।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, দুই শিক্ষার্থকে প্রক্টর অফিসে এনে জিজ্ঞেসাবাদ করলে তারা স্বীকারোক্তি দেয়। পরে বিয়ের সম্মতি জানান তারা। বাবা-মাকে আহ্বান করবো। তারপর বিয়ে দিয়ে দিব। অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এছাড়া মেয়েটি যে মেসে থাকে ওই মেস মালিককে তলব করবো, যেহেতু সাড়ে ৮টার মধ্যে মেসগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

Continue Reading

Trending