Connect with us

ক্যাম্পাস

বেরোবিতে অনুমোদনবিহীন ভর্তি: অনিশ্চয়তায় ২০৫ গবেষক

ছবি: সংগৃহীত

Published

on

ডেস্ক নিউজ 

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) -এ এমফিল, পিএইচডি ও পোস্ট ডক্টরালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) -এর অনুমোদন না থাকলেও ২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মোট ২০৫ জনকে ভর্তি করে করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অনুমোদন ছাড়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিষয়টি ১০ বছর গোপন থাকলেও ২০২৪ সালের মাঝামাঝিতে তা প্রকাশ্যে আসে।

পরবর্তীতে গত বছরের ১৬ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ওয়াজেদ ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (বর্তমান ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্স) অধীনে গবেষণার জন্য ভর্তির অনুমোদন মেলে। ফলে পূর্বে ভর্তি হওয়া ২০৫ জনের অনুমোদন না থাকায়  অনিশ্চয়তায় দিন গুনছেন তারা। বিষয়টির সুরাহা করতে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে ইউজিসি চেয়ারম্যানের কাছে। 

অনুমোদবিহীন গবেষকদের সাথে বর্তমান উপাচার্য দুই দফায় মিটিং করার পর ইউজিসির নিকট অনুমোদন ছাড়া ভর্তি হওয়া ২০৫ গবেষকদের ভূতাপেক্ষ অনুমোদনের জন্য আবেদন জানালে ইউজিসি আরেকটি ফিরতি চিঠিতে জানানো হয়, ভূতাপেক্ষ অনুমোদনের কোন সুযোগ নেই। ইউজিসির এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০৫ গবেষকের ডিগ্রি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে। 

গবেষকরা বলেন, তারা অনেকেই ৮/১০ বছর ধরে গবেষণা কার্যক্রম করছেন, অনেকেই আবার গবেষণা কার্যক্রম শেষ করেছেন, এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন। ইউজিসির এই সিদ্ধান্তের ফলে সময় ও আর্থিক ক্ষতির মধ্য পড়ছেন গবেষকেরা।

জানা যায়, ২০০৯ সালের ৩ ডিসেম্বর ১০ সিন্ডিকেট সভার নবম সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ড. ওয়াজেদ ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ইনস্টিটিউট থেকে এমফিল, পিএইচডি ডিগ্রি দিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

২০১১ সালের ৩ নভেম্বর ২০তম সিন্ডিকেট সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১২ সালের ৭ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ২০১১-২০১২ শিক্ষাবর্ষ থেকে এমফিল, পিএইচডিতে ভর্তি করানো হয়।

ওয়াজেদ ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট সূত্র হতে জানা যায়, প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ড. ওয়াজেদ ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এসব ব্যাচে এমফিল, পিএইচডি ও পোস্ট ডক্টরাল গবেষক ভর্তি হন ২০৫ জন। তাদের মধ্যে ২০১১-২০১২ সেশনে ১৬ জন, ২০১৮-২০১৯ সেশনে ৩৭ জন, ২০১৯-২০২০ সেশনে ৭১ জন, ২০২০-২০২১ সেশনে ৪৪ জন, ২০২১-২০২২ সেশনে ৩৭ জন ভর্তি হন। ২০১২ থেকে ২০২২ শিক্ষাবর্ষে তাদের ভর্তি করা হলেও ড. ওয়াজেদ ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের অধীনে ভর্তির অনুমতি দেওয়া হয় ২০২৪ সালের ১৬ মে। ফলে আগের ১০ বছরে ভর্তি হওয়া ব্যক্তিদের কোনো ডিগ্রি অর্জন করার সুযোগ থাকছে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সিনিয়র শিক্ষকের জানান, গবেষণার জন্য অনুমোদন না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল জলিল মিয়ার আমলে এই ভর্তি শুরু হয়। প্রথম কর্মকর্তা হন তার মেয়ে। পরে ড. ওয়াজেদ ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট খুলে এর অধীনে গবেষক ভর্তি করানো হয়।

জানা গেছে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠা পাওয়া ড. ওয়াজেদ ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটে গবেষণার জন্য ভর্তি হয়েছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি কলেজের শিক্ষক, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

ভর্তি হওয়ায় অনেকের ছুটি শেষ হয়েছে। অনেকেই গবেষণা শেষ করতে পারেননি, গবেষণাপত্র জমা দিতে পারেননি। এমন অনেকেই আছেন যে গবেষণা শেষ করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানে বেতন ভাতা ফেরত দিতে চিঠিও পেয়েছেন।

তারা বলেন, ‘আমরা সার্কুলার দেখে ভর্তি হয়েছি। ২০১২ সালে ভর্তি হলেও অদ্যবধি কোনো সুরহা হয়নি। আমাদের অপরাধটা কোথায়? আমরা সব নিয়ম মেনে ভর্তি হয়েছিলাম। এর দায় বিশ্ববিদ্যালয়ের।

গবেষণা প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হক বলেন, ভূতাপেক্ষ অনুমোদনের জন্য যারা চিঠি পাঠিয়েছিলেন তাদের আইনি জ্ঞান স্পষ্টতই নেই। ইউজিসির এই চিঠিই তার প্রমাণ। কোনো প্রতিষ্ঠান কখনো ভূতাপেক্ষ অনুমোদন পায় না; ভূতাপেক্ষভাবে অ্যাবজর্ব করা যায় কেবল শিক্ষার্থী বা ফেলোদের, প্রতিষ্ঠানকে নয়। কোনো প্রতিষ্ঠানের পূর্বে অনুমোদন না থাকলেও ফেলো ভর্তি হতে পারে। অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের ফেলোদের ইউজিসি ফেলোশিপ দিয়েছে।  উদাহরণস্বরূপ, কেউ একটি স্কুল খুললেন এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি দিয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় অনুমোদন পেলেন। এখন কি সেই শিক্ষার্থীদের আবার ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শুরু করতে হবে? নতুন করে ষষ্ঠ শ্রেণি পড়ার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশে এরকম শত নজির রয়েছে। আইন সর্বদা এক।

তিনি আরও বলেন, অনুমোদন ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় গবেষক ভর্তি করলো কেন? এটা নিছক প্রতারণা ও ক্রিমিনাল অফেন্স। যেকোনো গবেষক ফেলো চাইলে প্রতারণা ও ক্ষতিপূরণ মামলা করতে পারেন সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।  ভর্তির লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সেটাও ফৌজদারি অপরাধ।

২০১২ সালে গবেষণা প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ওমর ফারুক বলেন, আমি যথাযথ নিয়ম মেনে পিএইচডি প্রোগ্রাম এ ভর্তি হয়েছি এবং আমি থিসিসও জমা দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আমি ন্যায়বিচার চাই।

আরেক শিক্ষার্থী রংপুর সরকারি কলেজের শিক্ষক মাহাতার হোসেন সুজন বলেন, অনুমোদন আছে কি মেয়ে সেটা তো আমরা জানি না। পত্রিকায় সার্কুলার পেয়েছি আমরা আবেদন করেছি। আমাদের সকল কাজ শেষ আমরা থিসিসও জমা দিয়েছি। তাহলে কেন এত বছর পর এসে বলবে যে সেটার অনুমোদন নেই। তাহলে কেন আমাদের ভর্তি করানো হলো। এখন তো আমাদের আইনের আশ্রয় নেওয়া ছাড়া উপায় দেখছি না। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেন, এ ব্যাপারে আমার কিছু করার নেই। আমি দুইবার চেষ্টা করেছি। ব্যর্থ হয়েছি। এখন আমরা নতুন করে সার্কুলার দেব। কেউ চাইলে এখানে রি অ্যাডমিশন নিতে পারবেন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

ইবির নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা ড. মো. মামুন আল রশীদ

Published

on

By

ইবি সংবাদদাতা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ। উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান আগামী এক বছরের জন্য তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশ সূত্রে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামের মেয়াদ ২৭ সেপ্টেম্বর (২০২৬) শেষ হওয়ায় তাঁর স্থলে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এক বছরের জন্য ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান। অফিস আদেশ অনুযায়ী, নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

এদিকে, দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

নবনিযুক্ত ছাত্র উপদেষ্টা বলেন, আমি চিঠি পেয়েছি। কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞ। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা এবং বেশকিছু পরিকল্পনা নিয়ে সামনে আগাবো ইনশাআল্লাহ।
ইবি সংবাদদাতা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ। উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান আগামী এক বছরের জন্য তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশ সূত্রে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামের মেয়াদ ২৭ সেপ্টেম্বর (২০২৬) শেষ হওয়ায় তাঁর স্থলে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এক বছরের জন্য ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান। অফিস আদেশ অনুযায়ী, নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

এদিকে, দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

নবনিযুক্ত ছাত্র উপদেষ্টা বলেন, আমি চিঠি পেয়েছি। কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞ। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা এবং বেশকিছু পরিকল্পনা নিয়ে সামনে আগাবো ইনশাআল্লাহ।

Continue Reading

top3

ববিতে পটুয়াখালী জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার কর্মশালা অনুষ্ঠিত

Published

on

By

ববি প্রতিনিধি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে পটুয়াখালী জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার কর্মশালা ২০২৫-২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার ( ২৭ শে সেপ্টেম্বর) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনানন্দ দাস হলে আজমাইন সাকিব এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন ছুটি মন্ডল ও তুষার শিবলী।

অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল ও ক্রেষ্ট দিয়ে বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি একটি ফলপ্রসূ ক্যারিয়ার কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনের শুরু থেকেই লক্ষ্য নির্ধারণ ও ভবিষ্যতের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার নানা দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রধান অতিথি ববি উপাচার্য ড. মামুন অর রশীদ বলেন, ” আমাদের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ মধ্যে ৩৩ তম বিশ্ববিদ্যালয়। অন্য ২৫ টি বাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক কিছু আছে। তাই আমি সকল ছাত্র ছাত্রীদের আমি অনুরোধ করবো আমরা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নেগেটিভ দিকগুলো দেখবো না পজেটিভ দিক গুলো সামনে তুলে আনবো যা বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে আরো অনেক কিছু পাবো। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ভবন ৩ অর্থ মন্ত্রণালয়ের থেকে অনুমোদন দিলে আমার কাজ শুরু করতে পারবো । আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় পর্যায় প্রোজেক্টটি আলরেডি স্টাট করেছি। আগামী সপ্তাহ আমাদের ১৫ তম ব্যাচের সেন্টাল অরিয়েন্টশন হবে। সবাই অভিনন্দন জানাচ্ছি। পটুয়াখালী থেকে অগত মেহমানদের অভিনন্দন ও জ্ঞাতিগপন করছি। পটুয়াখালী ছাত্র কল্যাণ পরিষদ কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এতো সুন্দর একটা অনুষ্ঠানে আয়োজন করার জন্য। সবশেষ একটা কথা বলবো গুনগান বা ক্ষতি হোক আমি তোমাদের লোক।”

প্রধান আলোচক বাউফল পৌর বিএনপি সভাপতি মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, “অক্সিজেন ছাড়া যেমন বাতাসের মূল্য নেই তেমন সততা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ারও মূল্য নেই। তোমরা যারা নবীন শিক্ষার্থী আছো তারা আগামী দিনের সম্পদ। মাদক বা সকল প্রকার অনৈতিক কাজ থেকে তোমরা তোমাদের বিরত রাখবা। তোমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।”

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আজমাইন সাকিব বলেন, “পটুয়াখালী জেলা থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের যেকোনো সমস্যায় পাশে থাকাই আমাদের মূল লক্ষ্য। নবীনদের অ্যাকাডেমিক ও ক্যারিয়ার বিষয়ক দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্যই এই আয়োজন।”

অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন বর্ষের জ্যেষ্ঠ ও নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা ও ক্যারিয়ার কর্মশালা শেষে এক আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

Continue Reading

top3

পবিপ্রবি ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের গবেষণাগার উদ্বোধন

Published

on

By

পবিপ্রবি প্রতিনিধি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) -এর ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষা, গবেষণা ও ব্যবহারিক কার্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে একটি বিদ্যমান গবেষণাগারের সংস্কার ও আধুনিকায়ন (refurbished) এবং একটি নতুন আধুনিক গবেষণাগার উদ্বোধন করা হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অভ্যন্তরে অবস্থিত পূর্বের ‘Seafood Processing, Quality and Safety Laboratory’-এর সংস্কার ও আধুনিকায়নকৃত অংশ এবং খামার ভবনে নবনির্মিত ‘Advanced Analytical Laboratory’ প্রধান অতিথি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার (SPM), HEAT-ATF Sub-project (PIN-13571) এবং , ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান Seafood Processing, Quality and Safety Laboratory-এর উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে তিনি খামার ভবনে অবস্থিত Advanced Analytical Laboratory-এ যান। সেখানে তিনি ল্যাবটির নামফলক উন্মোচন ও ফিতা কাটার মাধ্যমে ল্যাবটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং সংশ্লিষ্ট ল্যাব/প্রকল্পের ওয়েবসাইটও উদ্বোধন করেন |

উদ্বোধনের পর প্রধান অতিথি ও অতিথিবৃন্দ ল্যাবের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান ল্যাবে স্থাপিত ও ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতির কার্যক্রম, ব্যবহারিক গুরুত্ব এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার সম্ভাবনা সম্পর্কে অতিথিদের অবহিত করেন। ল্যাবের প্রতিটি যন্ত্রের মাধ্যমে কি ধরনের নমুনা প্রস্তুত, বিশ্লেষণ ও গবেষণা করা যাবে—সে বিষয়েও তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন | পরে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কল্যাণ ও সফলতা কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

Advanced Analytical Laboratory-তে গবেষণা ও নমুনা বিশ্লেষণের জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও সহায়ক সরঞ্জাম রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ; Fluorescence fingerprinting instruments and Fourier Transform Infrared (FTIR) Spectroscopy. এছাড়াও আরো ১৫ টির মতো ইন্সট্রুমেন্ট ল্যাবরেটরীতে রয়েছে।

গবেষণার মূল লক্ষ্য ফ্লুরোসেন্স ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি
এই ল্যাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা লক্ষ্য হলো Fluorescence Fingerprint coupled with Chemometrics প্রযুক্তির মাধ্যমে সামুদ্রিক খাদ্য ও মৎস্যজাত পণ্যের গুণমান ও নিরাপত্তা বিশ্লেষণের জন্য দ্রুত, আধুনিক ও non-invasive পদ্ধতি উন্নয়ন করা।

উল্লেখ্য, এই গবেষণা কার্যক্রমের মাধ্যমে মাছ ও অন্যান্য seafood-এর freshness, quality, chemical changes, authenticity এবং বিভিন্ন quality/safety indicator দ্রুত মূল্যায়নের জন্য fluorescence signal ও chemometric modelling ব্যবহৃত হয় অর্থাৎ প্রচলিত পদ্ধতিতে সামুদ্রিক খাদ্য ও অন্যান্য জলজ খাদ্যপণ্যের গুণগত মান নির্ণয় এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সময়সাপেক্ষ, শ্রমনির্ভর এবং জটিল। বিশেষ করে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে নমুনা প্রস্তুতকরণসহ বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে অনেক সময় এক থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। এর বিপরীতে, ফিঙ্গারপ্রিন্টিংভিত্তিক আধুনিক বিশ্লেষণাত্মক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অল্প সময়ের মধ্যে নমুনার রাসায়নিক ও ভৌত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা সম্ভব। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে মাত্র কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণ করা যেতে পারে, যা প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় দ্রুত ও কার্যকর বিশ্লেষণের সুযোগ সৃষ্টি করে।

এছাড়াও, বিভিন্ন ধরনের অ্যাডাল্টার বা ভেজাল শনাক্তকরণের ক্ষেত্রেও ফিঙ্গারপ্রিন্টিং একটি কার্যকর ও সহজতর পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। তুলনামূলকভাবে সরল নমুনা প্রস্তুতির মাধ্যমে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে উপস্থিত অনাকাঙ্ক্ষিত উপাদান বা ভেজাল শনাক্ত করার সুযোগ থাকায় খাদ্যের গুণগত মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এ প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সামগ্রিকভাবে, দ্রুততা, কম শ্রমের প্রয়োজনীয়তা এবং সহজ বিশ্লেষণ পদ্ধতির কারণে ফিঙ্গারপ্রিন্টিং প্রযুক্তি সামুদ্রিক খাদ্য ও জলজ সম্পদভিত্তিক পণ্যের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে একটি সম্ভাবনাময় আধুনিক প্রযুক্তি।

Continue Reading

Trending