Connect with us

ক্যাম্পাস

বেরোবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

Published

on

বেরোবি প্রতিনিধি

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঘটনার প্রকৃত কারণ, দায়-দায়িত্ব নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানের লক্ষ্যে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানাকে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—সহকারী প্রক্টর মো. আব্দুল্লাহ আল মাহবুব, বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আমির শরীফ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিউল ইসলাম জীবন এবং রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হারুন-আল রশিদ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কমিটিকে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, “তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়নি, তবে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।”

এদিকে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানা বলেন, “আমি তদন্ত কমিটি সম্পর্কে আগে কিছুই জানতাম না। আমাকে না জানিয়েই কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাধারণত কোনো কমিটিতে কারও নাম অন্তর্ভুক্ত করার আগে তার মতামত নেওয়া উচিত। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। আজ আমি বিভাগের ইন্ডাস্ট্রি ভিজিটে রংপুরের বাইরে রয়েছি। বিষয়টি সম্পর্কে আপনাদের কাছ থেকেই প্রথম জানতে পারলাম।”

উল্লেখ্য, সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এলইডি স্ক্রিনে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন প্রদর্শন করছিল।

ছাত্রদলের অভিযোগ, প্রদর্শিত একটি ফেস্টুনে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী এবং যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত কয়েকজন জামায়াত নেতার ছবি ছিল। ওই ফেস্টুন অপসারণের দাবিতে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিস্থলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা, বর্তমান সেক্রেটারি ইমরান খান সৌরভ, শিবির সমর্থিত ব্রাকসু জিএস প্রার্থী মেহেদী হাসান, বাইতুল মাল সম্পাদক বাইজিদ শিকদার, মুরসালিন এবং ছাত্রদলের নেতা আশিকসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাসহ একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

সিসিটিভি ফুটেজে কার সঙ্গে দেখা গিয়েছিল অপ্রতিমকে

Published

on

By

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিখোঁজের একদিন পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম।

আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর সানন্দা গ্রামে লালমাই পাহাড়ের নির্জন স্থানে তার রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল টিম এটি অপ্রতিমের লাশ বলে নিশ্চিত করে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল টিম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সিসিটিভি ফুটেজে তুহিন নামের স্থানীয় এক ছেলেকে অপ্রতিমের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করতে দেখে। তার গতিবিধি সন্দেহজনক ছিল। আমরা সেটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছি। তারা কাজ করছেন।

এ বিষয়ে মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল) বলেন, আমরা নিখোঁজ হওয়া শিক্ষার্থীর রক্তাক্ত লাশ পেয়েছি। ঘটনাটির সঙ্গে কারা জড়িত, সেই বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত করছি।

প্রসঙ্গত, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার শুক্রবার রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল

Continue Reading

top1

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের নিখোঁজ সন্তান অপ্রতিমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

Published

on

By

নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ একমাত্র সন্তান অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন এলাকা থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় সে। এরপর আর বাসায় ফেরেনি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, অপ্রতিমের খোঁজ না পেয়ে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার শুক্রবার রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি পুলিশও তাকে উদ্ধারে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান ও অনুসন্ধান চালায়। তার সর্বশেষ অবস্থান এবং আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হয়।

নিখোঁজের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের সন্ধান চেয়ে আকুতি জানান অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম। এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমার ছেলেকে আমি বিকেল ৩টা থেকে খুঁজে পাচ্ছি না। ওর নাম অপ্রতিম। বয়স ১৩, ক্লাস সেভেনে পড়ে। আমার আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে আর ফিরে আসে নাই।’

ছেলেকে ফিরে পেতে সবার সহযোগিতা চেয়ে তিনি আরও লিখেছিলেন, ‘আপনারা যে যেখান থেকে পারেন সহায়তা করেন। আপনাদের কাছে হাত জোড় করছি, আমার ছেলেকে বাঁচান।’

শনিবার দুপুরে নিখোঁজ অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়। লালমাই পাহাড়ের নির্জন স্থানে তার রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। অপ্রতিমের মৃত্যুর কারণ এবং কীভাবে সেখানে তার মরদেহ পৌঁছেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Continue Reading

top2

বাংলাদেশ ডিবেটার্স সোসাইটি আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে “বিডিএস ইনভাইটেশনালস ২০২৬”

Published

on

By

আনাস মাহমুদ

বাংলাদেশ ডিবেটার্স সোসাইটি (বিডিএস) কর্তৃক আগামী ২৩-২৪ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো “আন্ত স্কুল-কলেজ” পর্যায়ে আয়োজিত হতে যাচ্ছে “বিডিএস ইনভাইটেশনাল ২০২৬” ডিবেট টুর্নামেন্ট। এশিয়ান পার্লামেন্টরি ঘরনার এই টুর্নামেন্টিতে ২২ টি দলের হয়ে সারা বাংলাদেশের পরিচিত এবং আলোচিত মোট ৬৬ জন বিতার্কিক নিজেদের যুক্তির তীক্ষ্ণতার লড়াইয়ে নামবেন।

এই টুর্নামেন্টে সকল বিতার্কিকদের তিনটি আলাদা Pool-এ বিভক্ত করে প্রত্যেক Pool থেকে একজন বিতার্কিককে নিয়ে দলসমূহ গঠন করা হয়েছে। Pool-A তে আমন্ত্রন জানানো হয়েছে দেশের সুপরিচিত ২২ জন বিতার্কিককে যারা ইতিমধ্যে দক্ষতা এবং বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে নিজেদের অর্জনকে সমাদৃত করেছেন। Pool-B এবং Pool-C তে যোগ্যতা, ব্যক্তিগত অর্জন, এবং আবেদনের ভিত্তিতে ২২ জন করে বিতার্কিককে জায়গা দেয়া হয়েছে। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী Pool-A এর বিতার্কিকবৃন্দ অকশনের মাধ্যমে Pool-B এবং Pool-C থেকে একজন করে বিতার্কিককে নিজের দলে যুক্ত করতে পারবেন। অর্থাৎ এই টুর্নামেন্টের ২২ টি দলই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার শক্তিমত্তা নিয়ে বিতর্কে নামছেন।

এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে বিতর্ক অঙ্গনে বেশ আলোড়ন তৈরী হয়েছে। “আন্ত-স্কুল-কলেজ” এবং “আন্ত বিশ্ববিদ্যালয়” বিতর্ক পদ্ধতির বাইরে গিয়ে স্কুল-কলেজ পর্যায়ে “আমন্ত্রনমূলক” বা “ইনভাইটেশনাল” পদ্ধতিতে বিতর্ক টুর্নামেন্ট আয়োজন এর পূর্বে দেখা যায়নি। এমন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহন করতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বিতার্কিকরা।

বিডিএস এর চেয়ারম্যান জনাব জামান আপেল জানান, “এই টুর্নামেন্টটি বিতর্ক অঙ্গনে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। প্রথমবারের মতো স্কুল-কলেজ পর্যায়ে ইনভাইটেশনাল টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে আমাদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। এর মাধ্যমে জুনিয়র বিতার্কিকরা নিজেদের আরো শানিত করতে পারবে এবং বৃহৎ স্কেলে নিজেদের প্রমান করার সুযোগ তৈরী হবে। আমরা বিশ্বাস করি, আজকের একজন যুক্তিবাদী বিতার্কিকই আগামী দিনের সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”

বিডিএস এর ডেপুটি চেয়ারম্যান সৌমিত্র রক্ষিত বলেন, “যুক্তির আলোয় অন্ধকার ভেদ করার নামই বিতর্ক। বিডিএস নিজেদের প্রথম বছরেই একটি ব্যতিক্রমী টুর্নামেন্ট নিয়ে হাজির হয়েছে, এবং এই ধারা চলমান থাকবে। আমরা চাই, প্রতিটি বিতার্কিক যুক্তির শক্তিতে নিজেকে প্রকাশ করুক, ভিন্নমতকে গ্রহণ করতে শিখুক এবং সমাজকে দেখুক আরও গভীর ও প্রশ্নমুখী দৃষ্টিতে। এই টুর্নামেন্ট থেকে জন্ম নিক অসংখ্য চিন্তার স্ফুলিঙ্গ, তৈরি হোক আগামী দিনের যুক্তিবাদী নেতৃত্ব।”

উল্লেখ্য যে, এই টুর্নামেন্টে ৪০ জন বিচারক নিজেদের দক্ষ বিচারকার্য পরিচালনার অভিজ্ঞতা দ্বারা টুর্নামেন্টকে পথ দেখাবেন এবং সকল সমস্যা ত্বরিত সমাধানের জন্য অরগানাইজিং টিম পাশে থাকবে। টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হবে অনলাইনে।

Continue Reading

Trending