Connect with us

top2

সকল বিনিয়োগ সংস্থার একীভূতকরণ, পৃথক গভর্নিং বডির পরিবর্তে থাকছে একক বোর্ড

Published

on

ডেস্ক নিউজ 

বিনিয়োগে জটিলতা দূরীকরণে সকল বিনিয়োগ সংস্থাকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর অংশ হিসেবে বিনিয়োগ সংস্থাগুলোর পৃথক গভর্নিং বোর্ড বিলুপ্ত করে একটি বোর্ড গঠন করা হচ্ছে। এজন্য আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনে কাজ করছে সংস্থাগুলো। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর অধ্যাদেশ জারির পর সবগুলো বিনিয়োগ সংস্থার বিদ্যমান গভর্নিং বডি বিলুপ্ত করে নতুন একটি বডি গঠন করা হবে। 

জানা যায়, বিনিয়োগ সংস্থাগুলোর গভর্নিং বোর্ডের প্রধান হিসেবে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী/প্রধান উপদেষ্টা। বোর্ডের অপর সদস্যরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর বা সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন। গভর্নিং বডিগুলো ভিন্ন ভিন্ন হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে একই সদস্য দ্বারা গঠিত। তবে বিনিয়োগ সংস্থার ধরন অনুযায়ী কয়েকজন সদস্যের ক্ষেত্রে অমিল রয়েছে। কিন্তু প্রায় একই প্রতিনিধি দ্বারা গঠিত হলেও পৃথক সংস্থার কারণে আলাদা আলাদা বোর্ড মিটিং করতে হয়। কিন্তু ধরাবাঁধা নিয়ম না থাকার কারণে দীর্ঘ বিরতিতে বোর্ড মিটিং হয়ে থাকে।

জানা গেছে, ২০২০ সালের ৬ আগস্ট বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) বোর্ড মিটিং হয়েছিল। এরপর মিটিং হয় চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল। প্রায় পাঁচ বছরের মাথায় এ মিটিং হয়। আর এ মিটিংয়ে একীভূতকরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। তবে বিনিয়োগ সংস্থাগুলো একীভূত হলে গভর্নিং বোর্ডের মিটিংয়ে বড় ধরনের বিরতি ঘটবে না এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে গতি আসবে বলে মনে করছেন বিডার কর্মকর্তারা।

বিডা সূত্রে জানা গেছে, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান গঠিতব্য নতুন বোর্ডের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন। তবে নতুন বোর্ড গঠন করা হলেও একীভূত হওয়ার আগ পর্যন্ত বিনিয়োগ সংস্থাগুলো বর্তমান কাঠামো বজায় রেখে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

বিডার ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিনিয়োগ সংস্থাগুলোর একীভূতকরণের প্রক্রিয়া পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যায় না। উদ্যোগটি শুরু হয়েছে, এখন এটি এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য একাধিক সংস্থা বিদ্যমান থাকায় বিনিয়োগকারীকে নানা ধরনের জটিলতা ও হয়রানির শিকার হতে হয়। কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই একজন বিনিয়োগকারী একটি সংস্থা থেকেই যেন সব ধরনের তথ্য ও সহযোগিতা পেতে পারেন, সে লক্ষ্য সামনে রেখেই একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ১৩ এপ্রিল প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে বিডার গভর্নিং বডির বৈঠকে একীভূতকরণের বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। মূলত প্রধান উপদেষ্টার ব্যক্তিগত আগ্রহেই এটি বোর্ডে উপস্থাপিত হয় বলে জানায় বিডা সূত্র।

মোট ছয়টি বিনিয়োগ সংস্থাকে একীভূতকরণের মাধ্যমে একটি সংস্থা গঠনের প্রস্তাব বিডার গভর্নিং বডিতে অনুমোদিত হয়। বিনিয়োগ সংস্থাগুলো হলো: বিডা, বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ), পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)।

বোর্ডে অনুমোদনের পর একীভূতকরণে ৩০ এপ্রিল প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমানকে আহ্বায়ক করে আট সদস্যের একটি কমিটি গঠনের কথা জানায় সরকার। পরে অ্যাটর্নি জেনারেলকেও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এবং অর্থ বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান। তৎকালীন জনপ্রশাসন সচিব মোখলেসুর রহমানও সদস্য হিসেবে রয়েছেন কমিটিতে। বর্তমানে তিনি পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে কর্মরত। কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কমিটির প্রথম বৈঠকে বিসিককে অন্যান্য বিনিয়োগ সংস্থার সঙ্গে একীভূত করার বিষয়ে আপত্তির দাবি তোলেন শিল্প উপদেষ্টা ও কমিটির আহ্বায়ক আদিলুর রহমান। তবে বিসিকের আওতাধীন যেসব প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (সিইপিটি) রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে সাভারে অবস্থিত চামড়া শিল্পনগরীকে বিনিয়োগ সংস্থাগুলোর সঙ্গে একীভূতকরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে একীভূতকরণের আওতার বাইরে থাকছে বিসিক।

অবশ্য ইতোমধ্যে ইপিজেডে বিনিয়োগ রয়েছে এমন কিছু প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একীভূতকরণের বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়। তারা বলছে, ইপিজেডে সুবিধার বিষয়টি বিবেচনা করেই তারা বিনিয়োগ করেছে। এখন একীভূতকরণের ফলে তাদের বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা বাড়বে এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হতে পারে। তবে বিডার কর্মকর্তারা বলছেন, বিনিয়োগ সুবিধার জন্যই একীভূতকরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে বিনিয়োগে জটিলতা কমবে এবং আগের তুলনায় অনিশ্চয়তা কমবে।

এদিকে, বিনিয়োগ সংস্থাগুলো একীভূত হলেও বিদ্যমান জনবল কাঠামোয় চাকরির কিংবা আর্থিক কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা যেন তৈরি না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে একীভূতকরণে গঠিত কমিটি।

জানা যায়, একীভূতকরণের মাধ্যমে একটি সংস্থা গঠিত হলেও এর নাম কী হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এদিকে একীভূত প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে আইনগত যেসব জটিলতা রয়েছে, সেগুলো নিরসন এবং একীভূতকরণের মাধ্যমে গঠিত সংস্থাটির অর্গানোগ্রাম প্রস্তুতসহ নানা বিষয়ে পরামর্শের জন্য একটি বিদেশি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের বিষয়ে সুপারিশ করেছে একীভূতকরণে গঠিত কমিটি। বেজার ‘প্রাইড’ প্রকল্পের আওতায় এ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

ট্রাম্পকে নিজের নোবেল পদক উপহার দিলেন মাচাদো

Published

on

By

ভেনেজুয়েলার ভিন্ন মতাবলম্বী রাজনীতিবিদ এবং ২০২৫ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উপহার হিসেবে নিজের নোবেল পুরস্কারের পদক তুলে দিয়েছেন। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এ উপহার প্রদান করেছেন তিনি।

মাচাদোর এ উপহার আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছেন ট্রাম্প। তার প্রশংসাও করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসে গিয়েছিলেন মাচাদো। সেখানে ট্রাম্পের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকের পর সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিক ও সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় আজ ভেনেজুয়েলার জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। আমি আমার নোবেল পুরস্কারের পদক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে উপহার দিয়েছি।”

মাচাদোর এই মন্তব্যের পর এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে হোয়াইট হাউসে যোগাযোগ করেছিল বিবিসি এবং অন্যান্য পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম। তবে হোয়াইট হাউসের কোনো কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “(যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে) আমি যা যা করেছি, তার পুরস্কার হিসেবে মারিয়া তার নোবেল শান্তি পদক আমাকে উপহার দিয়েছেন। পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক অপূর্ব নিদর্শন স্থাপন করলেন তিনি।”

এ ইস্যুতে মরক্কোর নোবেল কমিটির সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিল বিবিসি। তবে কমিটি সরাসরি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য না করে বলেছে, “নোবেল পুরস্কার যদি একবার ঘোষণা করা করা, তাহলে তা বাতিল করা যায় না এবং কোনো নোবেলজয়ী তার পুরস্কার নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন না, অন্যকে দানও করতে পারেন না। কোনো নোবেলজয়ী যদি তার পদক অন্যকে দিয়ে দিতে চান, দিতেই পারেন— পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে ওই নোবেলজয়ীর নামই সব জায়গায় নথিবদ্ধ হবে।”

প্রসঙ্গত, গত ৪ জানুয়ারি ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সেনা অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন থেকে তুলে নিয়ে আসে মার্কিন সেনাবাহিনী। বর্তমানে তারা উভয়েই নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল কারাগারে বন্দি আছেন। মার্কিন প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে মাদক সরবরাহের অভিযোগে আদালতে মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়ার বিচার হবে।

মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী অপহরণ করার কয়েক ঘণ্টা পর ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করে ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট। দেশটির সাংবিধানিক নিয়ম অনুসারে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে দেলসি রদ্রিগুয়েজকে।

মাচাদো ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হতে চান। দেশটির মাদুরোবিরোধী রাজনীতিকদের একাংশ তাকে সমর্থনও দিয়েছেন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও এ ব্যাপারে কোনো সবুজ সংকেত দেন নি। উপরন্তু মাদুরোকে সস্ত্রীক গ্রেপ্তারের পর মাচাদো সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, “মারিয়া একজন চমৎকার মহিলা; কিন্তু তিনি সরকার চালাতে পারবেন বলে আমার মনে হয় না। তাছাড়া সরকারপ্রধান হওয়ার জন্য দেশের ভিতরে যে জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রয়োজন— তা তার নেই।”

সূত্র : আরটি, বিবিসি

Continue Reading

top2

ইরানে হত্যা চলছে না, আমাকে ‘আশ্বস্ত’ করা হয়েছে: ট্রাম্প

Published

on

By

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এই মর্মে ‘আশ্বস্ত’ করা হয়েছে যে—ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরানের পক্ষ থেকে ফাঁসি কার্যকর করার ‘কোনো পরিকল্পনা নেই।’ কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলার হুমকি দেওয়ার পর এই মন্তব্যগুলো সংকটের প্রতি একটি পরিমিত বা সংযত পদ্ধতির সংকেত দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। বুধবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তাঁকে জানানো হয়েছে যে ইরানে ‘বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হয়েছে এবং পরিকল্পিত ফাঁসিগুলো স্থগিত করা হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নতুন করে শুরু হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে কাতার থেকে কিছু মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তিনি ‘অন্য (ইরানের) পক্ষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের’ সঙ্গে কথা বলেছেন এবং এই সংকট কীভাবে এগিয়ে যায় তা পর্যবেক্ষণ করবেন। তবে তিনি সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি পুরোপুরি নাকচ করে দেননি। তিনি বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করতে যাচ্ছি যে, প্রক্রিয়াটি কী হয়’, এবং এর আগে তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রশাসন ইরানের কাছ থেকে একটি ‘অত্যন্ত ভালো বিবৃতি’ পেয়েছে।

গতকাল বুধবার ফক্স নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে আরাগচিকে জিজ্ঞেস করা হয় যে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, তখন তিনি বলেন, ‘ফাঁসি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনাই নেই।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘ফাঁসি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আল জাজিরার মাইক হানা রিপোর্ট করেছেন, বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্যগুলো ইরানের প্রতি তাঁর সুর নরম হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে তিনি এখনও বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে ভাবছেন। তাঁকে তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ ব্রিফ করেছে। তবে আমরা এইমাত্র যে বক্তব্যগুলো শুনলাম, তা পরিস্থিতির সম্ভাব্য শীতলতা এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আসন্ন পদক্ষেপের হুমকি থেকে পিছিয়ে আসার ইঙ্গিত দেয়।’

সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনিয়র নন-রেসিডেন্ট ফেলো সিনা তুসি বলেন, ইরানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হওয়ার যে তথ্য ট্রাম্প পেয়েছেন বলে দাবি করছেন, তা আপাতদৃষ্টিতে সামরিক হস্তক্ষেপ এড়ানোর একটি ‘সম্মানজনক পথ’ (face-saving way) বলে মনে হচ্ছে, যদিও এটি পুরোপুরি সংঘাতের সম্ভাবনাকে নাকচ করে না। তুসি বলেন, ‘ট্রাম্পের কথাকে শতভাগ গুরুত্ব সহকারে নেওয়া কঠিন। কিন্তু আমরা জানি, বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ার প্রতি তাঁর এক ধরনের অনীহা রয়েছে, আর ইরানের ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকিটি টেবিলে ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকের এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে তিনি বের হওয়ার জন্য একটি সম্মানজনক পথ খুঁজছেন, তবে আমি এটাকে পুরোপুরি নাকচ করে দেওয়া হিসেবে নেব না।’ তিনি যোগ করেন, ট্রাম্পের অতীতেও একই সাথে সামরিক হামলার হুমকি দেওয়া এবং ইরানের সাথে আলোচনার ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে।

তেহরানকে মার্কিন দাবির সাথে আরও বেশি সংগতিপূর্ণ করতে ট্রাম্প অতীতেও সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন। গত এক সপ্তাহে তিনি বলেছিলেন যে, বিক্ষোভকারীদের ওপর ইরানি কর্তৃপক্ষের কঠোর দমন-পীড়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে পারে।

ওয়াশিংটন ডিসির স্টিমসন সেন্টারের ডিস্টিংগুইশড ফেলো বারবারা স্লাভিন বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত সে বিষয়ে ট্রাম্প সম্ভবত ‘দ্বিধাবিভক্ত।’ তিনি বলেন, যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘আরেকটি দ্রুত বিজয়’ পছন্দ করবেন, তবে ‘আমি মনে করি না যে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী কোনো দ্বন্দ্বে জড়াতে চান, যা তাঁর স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের পরিপন্থী।’

তিনি যোগ করেন, তিনি আশা করছেন—ট্রাম্প সীমিত আকারে কিছু হামলা চালাতে পারেন যাতে তিনি দাবি করতে পারেন যে ইরানি জনগণকে ‘সাহায্য’ করার প্রতিশ্রুতি তিনি রক্ষা করেছেন, কিন্তু তা যেন কোনো বড় ধরনের সংঘাতের সূত্রপাত না করে।

এর আগে বুধবার, ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্র কাতারের বিমান ঘাঁটি থেকে কিছু কর্মী সরিয়ে নেয়। এক ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন যে, তেহরান তার প্রতিবেশীদের সতর্ক করেছে যে, ওয়াশিংটন যদি হামলা চালায় তবে তারা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত করবে। এই আঞ্চলিক উত্তজনা বৃদ্ধির আশঙ্কায় বেশ কয়েকটি দেশ ওই অঞ্চলে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য সতর্কতা জারি করেছে

Continue Reading

top2

ইরান-ইসরায়েলের সেনাবাহিনীতে ‘হাই অ্যালার্ট’

Published

on

By

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যে কোনো হামলার মোকাবিলায় ইরানের সামরিক বাহিনী এখন ‘সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুত অবস্থায়’ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। অন্যদিকে ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কায় উচ্চসতর্কতা অবলম্বন করছে দখলদার ইসরায়েল।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আল জাজিরা ও টিআরটি ওয়াল্ডের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আইআরজিসি বিমান বাহিনীর কমান্ডার সারদার মুসাভি বলেন, আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ১২ দিনের যুদ্ধের আগের সময়ের তুলনায় বেড়েছে। এই সময়ে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, তা সম্পূর্ণভাবে মেরামত করা হয়েছে। ফলে বাহিনী এখন সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।

তিনি বলেন, ইরান যে কোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রস্তুত।

এদিকে বার্তাসংস্থা টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন আর যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাবে কিনা সেই প্রশ্নে আটকে নেই। বরং তারা ধরে নিয়েছে, মার্কিন হামলা কখন হবে, সেটাই এখন মূল বিষয়। তাদের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান যে কোনো সময় ইরানে হামলা শুরু করতে পারে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র তাদের আগাম অবহিত করবে বলে তারা বিশ্বাস করেন। কারণ ইরানের পাল্টা হামলা মোকাবিলায় ইসরায়েলকে দ্রুত প্রস্তুতি নিতে হবে। এই সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল তাদের সব সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে। বিশেষ করে বিমানবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে সক্রিয় করা হয়েছে।

ইসরায়েলি আর্মি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সামরিক করসপন্ডেন্ট ড্যারন কাদোস বলেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় ইরানে হামলা চালাতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তাহলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরায়েলে অবস্থিত মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার নির্দেশ দেবেন।

ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ধারণা, এ ধরনের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে লেবানন থেকে হিজবুল্লাহ, ইয়েমেন থেকে হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী, এমনকি সিরিয়া ও ইরাক থেকেও সমন্বিত হামলা চালানো হতে পারে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সরাসরি সামরিক হামলার পাশাপাশি সাইবার হামলা চালাতে পারে এবং অন্যান্য দেশে অবস্থিত ইরানি অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে

Continue Reading

Trending