Connect with us

top1

ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে ট্রাম্পের অনুমতি

Published

on

রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে ইউক্রেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক চাহিদাগুলোর একটি। ব্যয়বহুল এসব ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনকে নিজ দেশে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত বুধবার তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, আমরা ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট তৈরির অধিকার দেব। কীভাবে এটি তৈরি করতে হয়, তা আমরা দেখিয়ে দেব। প্রযুক্তিটি জটিল, তবে তারা দ্রুতই বিষয়টি আয়ত্ত করতে পারবে।

তিনি অবশ্য স্পষ্ট করে এও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের বিদ্যমান প্যাট্রিয়ট মজুত থেকে কিছু দেবে না। কবে থেকে ইউক্রেনে উৎপাদন শুরু হবে, সে বিষয়েও নির্দিষ্ট সময়সূচি জানাননি ট্রাম্প।

এ বিষয়ে জার্মানির ব্রেমেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক নিকোলাই মিত্রোখিনের মত, স্বল্পমেয়াদে ইউক্রেনের বাস্তবিক কোনো লাভ নাও হতে পারে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ পেলে ইউক্রেন নিজস্ব ব্যালিস্টিক ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচি দ্রুত এগিয়ে নিতে পারবে। এমনকি তুলনামূলক কম খরচের ও সহজ প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র এক বছরেরও কম সময়ে তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। তিনি এও ধারণা করেন, এ ধরনের কোনো কর্মসূচি ইতোমধ্যেই গোপনে চালু থাকতে পারে।

প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থায় শুধু ক্ষেপণাস্ত্রই নয়, এর সঙ্গে মোবাইল লঞ্চার, শক্তিশালী রাডার এবং নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রও থাকে। এসবের সমন্বয়েই কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা নিশ্চিত হয়।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখন অনেকটাই ড্রোননির্ভর হয়ে উঠেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ইউক্রেনের একটি নজরদারি ড্রোন খারকিভ অঞ্চলের একটি বনাঞ্চলের ওপর প্রায় ৮০ মিটার উচ্চতায় অবস্থান নিয়ে একটি গর্তে লুকিয়ে থাকা রুশ সেনাকে শনাক্ত করে।

ড্রোন অপারেটর দ্রুত আরেকটি বিস্ফোরকবোঝাই কামিকাজে ড্রোন পাঠালে সেটি সরাসরি ওই গর্তে আঘাত হানে। বর্তমানে রাশিয়া ছোট ছোট দুই বা তিন সদস্যের অনুপ্রবেশকারী দল পাঠিয়ে ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা ভেদ করার চেষ্টা করছে। বড় দল সহজে শনাক্ত হয়ে যাওয়ায় তারা এই কৌশল নিয়েছে।

এক ইউক্রেনীয় ইউনিট কমান্ডার জানান, তিনি একসঙ্গে ২০ থেকে ৩০টি ড্রোনের ভিডিও পর্যবেক্ষণ করেন। তার মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে প্রচলিত ‘ফ্রন্টলাইন’ ধারণা কার্যত বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাঙ্ক জেমসটাউন ফাউন্ডেশনের সামরিক বিশ্লেষক পাভেল লুজিন বলেন, লড়াই এখন ‘নেটওয়ার্ককেন্দ্রিক’ যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে। এতে কমান্ডার, সেনা ও অস্ত্রব্যবস্থা রিয়েল-টাইমে সংযুক্ত থাকে, ফলে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আক্রমণ পরিচালনা সম্ভব হয়।

জনবল সংকট ও সেনা পলায়নের কারণে ইউক্রেন এখন প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের ওপর বেশি নির্ভর করছে। যুদ্ধক্ষেত্রে স্থলভিত্তিক রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে, যা বাঙ্কার ধ্বংস, মেশিনগান পরিচালনা, খাদ্য ও গোলাবারুদ সরবরাহ এবং আহত সেনাদের উদ্ধার করছে।

পশ্চিম ইউক্রেনের তেরনোপিল শহরের রোবোটিক কমপ্লেক্সেস কোম্পানির প্রধান ইহোর চাইকিভস্কি বলেন, সেনা সংকট না থাকলে জেনারেলরা এখনো মানুষকেই ট্রেঞ্চে পাঠাতেন। কিন্তু আমরা মৃত্যুঝুঁকি কমাতে স্থল রোবট ব্যবহার শুরু করেছি।

গুগলের সাবেক প্রধান নির্বাহী এরিক শ্মিটের কোম্পানি সুইফট বিটের তৈরি ‘হরনেট’ ড্রোন ইতোমধ্যেই ইউক্রেন ব্যবহার করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন এই ড্রোন রাশিয়ার জ্বালানিবাহী ট্রাক, সরবরাহ যান ও সামরিক বহর শনাক্ত করতে পারে এবং ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের মাধ্যমে একে সহজে থামানো যায় না।

এক ইউক্রেনীয় ড্রোন অপারেটর জানান, ভবিষ্যতে শত্রু সেনা শনাক্ত করার কাজও পুরোপুরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা করবে। তার ভাষায়, আমি হয়তো ঝোপের আড়ালে কাউকে দেখতে নাও পারি, কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাউকে ছাড়বে না।

ইউক্রেনীয় সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া আকাশ প্রতিরক্ষার পরিবর্তে ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে বিশাল ভৌগোলিক এলাকাজুড়ে কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা গড়ে তোলা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক উপপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইহোর রোমানেঙ্কো বলেন, বর্তমান সক্ষমতা দিয়ে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যকরভাবে সব লক্ষ্য রক্ষা করতে পারছে না। তাদের আরও বিস্তৃত পরিসরের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন।

গত মঙ্গলবার ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় সাইবেরিয়ার ওমস্কে রাশিয়ার বৃহত্তম তেল শোধনাগারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। একই দিনে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, এই যুদ্ধের ভাগ্য নির্ধারিত হবে আকাশে। আমরা এখন আকাশযুদ্ধে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছে গেছি।

তবে ইউক্রেনের সাবেক সেনাপ্রধান ও বর্তমানে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ভ্যালেরি জালুঝনি সতর্ক করে বলেছেন, শুধুমাত্র ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কোনো পক্ষকে চূড়ান্ত বিজয় এনে দিতে পারবে না। তার মতে, এ ধরনের হামলা ব্যয়বহুল, প্রযুক্তিনির্ভর এবং উভয় পক্ষই পাল্টা একই ধরনের আঘাত হানতে সক্ষম। তাই শুধু আকাশযুদ্ধের মাধ্যমে কৌশলগত বিজয় অর্জন সম্ভব নয়।

গতকাল শুক্রবার ভোরে রাশিয়ার ৬৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩৫১টি ড্রোনের হামলায় কিয়েভ ও আশপাশে অন্তত ২৭ জন নিহত হন। রাজধানীর বাসিন্দা কাতেরিনা বাবিচ জানান, ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের অভিঘাতে তার অ্যাপার্টমেন্টের জানালা ও দরজা ভেঙে যায়। একটি আলমারি ভেঙে পড়ে তার ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছেলে আহত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কবে শান্তি আলোচনায় ফিরবেন, তা এখনো অনিশ্চিত। গবেষক নিকোলাই মিত্রোখিন বলেন, ইউক্রেন অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে চাপ বাড়াতে পারে, কিন্তু সেই সাফল্য কখন আলোচনার টেবিলে ফল দেবে, তা নির্ভর করবে মস্কোর সিদ্ধান্তের ওপর।

অন্যদিকে কিয়েভভিত্তিক পেন্টা থিংক ট্যাঙ্কের প্রধান ভলোদিমির ফেসেঙ্কোর মতে, সাম্প্রতিক সাফল্যের মাধ্যমে ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত ইউক্রেনের ভূখণ্ড ছাড় নয়, বরং যুদ্ধবিরতি।

তিনি বলেন, ক্রেমলিন এখনো এ অবস্থানে আসেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে যুদ্ধবিরতিভিত্তিক সমাধানের দিকেই ঝুঁকছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

কুমিল্লায় অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের একাধিক ক্লু পাওয়া গেছে: পুলিশ সুপার

Published

on

By

অলটাইম ডেস্ক

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে একাধিক ক্লু পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান।

শনিবার বিকালে কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত সন্দেহে একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হতে পারে। 

তিনি বলেন, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। এ হত্যাকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক ক্লু পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডটির পেছনে শুধু আইফোন ছিল, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল তা দ্রুত উদ্ঘাটন করা হবে। হত্যাকাণ্ডে যতজনই জড়িত থাকুক তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কয়েকজন পুলিশ হেফাজতে আছে।

তবে তাদের নাম তদন্তের স্বার্থে এখনই বলা যাবে না। লাশ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তবে একাধিক সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তুহিন নামে এক যুবকের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। ওই যুবকই বিকাল থেকে অপ্রতীমের সঙ্গে ছিল। সে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। 

এর আগে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বেরিয়ে নিখোঁজ হয় ১৩ বছর বয়সি অপ্রতীম। শনিবার দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশের একটি জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অপ্রতীম বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।

এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতীম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে ওইদিন সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।

নিখোঁজের পর থেকেই অপ্রতীমকে উদ্ধারে স্বজনদের পাশাপাশি পুলিশও তৎপর ছিল। তার সর্বশেষ অবস্থান এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছিল পুলিশ।

অপ্রতীমের লাশের প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী আবদুল কাদের জিলানী বলেন, আমরা বাঁশ কাটার জন্য এখানে এসেছিলাম। হাতে ঘড়ি বা সঙ্গে মোবাইল ছিল না। সময়টা আনুমানিক সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা হবে। আমাকে ছেলে বলছিল ওখানে কেউ ঘুমায়। ভালোভাবে খেয়াল করে দেখি ওর মাথায় জখম আছে। ভয় পেয়ে যাই। একটু পর মামুন নামে একজনের সঙ্গে দেখা হয়। 

তিনি বলেন, ম্যাডামের ছেলে নিখোঁজ। আমরা এ ঘটনা খুলে বলতেই তিনি ঘটনাস্থলে যান। গিয়ে দেখেন অপ্রতীমের মরদেহ পড়ে আছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল হাকিম বলেন, ঘটনার পর থেকেই আমরা পুলিশ, ডিবি, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমরা ছেলেটিকে আর জীবিত পেলাম না। তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটিও পাওয়া যায়নি।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

Continue Reading

top1

অপ্রতিমের হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারে ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম

Published

on

By

সানজিদা আক্তার সাথী, কুবি

কুমিল্লায় কিশোর অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারে পুলিশ প্রশাসনকে ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন তারা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করা না হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘বিচার চাই, বিচার চাই—অপ্রতিম হত্যার বিচার চাই’, ‘আমার ভাই মরলো কেন—প্রশাসন জবাব দে’, ‘নাহিদা ম্যাম কাঁদছে কেন—প্রশাসন জবাব চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী অঞ্জন রায় বলেন, ‘এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেছে, অথচ পুলিশ প্রশাসনের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। ঘটনাস্থলে এমপি চলে আসেন, কিন্তু পুলিশ প্রশাসন উপস্থিত হতে পারে না। এটা খুবই লজ্জাজনক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রশাসনকে ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিচ্ছি। ১২ ঘণ্টার মধ্যে খুনিকে গ্রেপ্তার করা না হলে আমরা কোটবাড়ি বিশ্বরোড অবরোধ করব। এরপরও ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সারা বাংলাদেশ ব্লকেড করে দেব।’

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে মায়ের মোবাইল ফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় কিশোর অপ্রতিম। নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্য, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ প্রশাসন বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধানে খোঁজাখুঁজি করেন। প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

Continue Reading

top1

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের নিখোঁজ সন্তান অপ্রতিমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

Published

on

By

নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ একমাত্র সন্তান অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন এলাকা থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় সে। এরপর আর বাসায় ফেরেনি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, অপ্রতিমের খোঁজ না পেয়ে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার শুক্রবার রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি পুলিশও তাকে উদ্ধারে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান ও অনুসন্ধান চালায়। তার সর্বশেষ অবস্থান এবং আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হয়।

নিখোঁজের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের সন্ধান চেয়ে আকুতি জানান অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম। এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমার ছেলেকে আমি বিকেল ৩টা থেকে খুঁজে পাচ্ছি না। ওর নাম অপ্রতিম। বয়স ১৩, ক্লাস সেভেনে পড়ে। আমার আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে আর ফিরে আসে নাই।’

ছেলেকে ফিরে পেতে সবার সহযোগিতা চেয়ে তিনি আরও লিখেছিলেন, ‘আপনারা যে যেখান থেকে পারেন সহায়তা করেন। আপনাদের কাছে হাত জোড় করছি, আমার ছেলেকে বাঁচান।’

শনিবার দুপুরে নিখোঁজ অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়। লালমাই পাহাড়ের নির্জন স্থানে তার রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। অপ্রতিমের মৃত্যুর কারণ এবং কীভাবে সেখানে তার মরদেহ পৌঁছেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Continue Reading

Trending