Connect with us

top1

৩ কোটিতে বিএনপির মনোনয়ন চুক্তি, ৬৫ লাখ অগ্রিম

Published

on

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রবাসীর কাছ থেকে ৬৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সুনামগঞ্জ-৩ আসনে (শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুর) ধানের শীষের প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ; যিনি কয়ছর এম আহমেদ নামেই পরিচিত। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম ব্যবহার করে তিনি এ মনোনয়ন বাণিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিএনপি কর্মী আমিনুল ইসলাম মিঠুকে তিন কোটি টাকার বিনিময়ে রাজশাহী-৬ আসনে (চারঘাট ও বাঘা) মনোনয়ন নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অগ্রিম হিসেবে ৬৫ লাখ টাকা নেন কয়ছর। তবে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পাইয়ে দিতে না পারলেও কয়ছর আহমেদ টাকা ফেরত দিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন মিঠু। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিস্তারিত অনুসন্ধান করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে এশিয়া পোস্ট।

জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিএনপি কর্মী আমিনুল ইসলাম মিঠুর বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চন্ডিপুর বাজার এলাকায়। তিনি বর্তমানে নিউইয়র্কের ব্রঞ্চ শহরের স্টারলাইন এলাকায় বসবাস করেন। নিউইয়র্কের স্টারলাইন, জ্যাকসন হাইটস, চায়না টাউন ও ম্যানহাটনে তার একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় এবার তিনি নিজ এলাকা থেকে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করেন। তাকে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (তৎকালীন) তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দেওয়া যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কয়ছর আহমেদ। তিন কোটি টাকার বিনিময়ে মিঠুকে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার বিষয়ে কয়ছরের সঙ্গে আলোচনা, চুক্তি ও লেনদেনের বিষয়টি মধ্যস্থতা করেন রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি (মিঠুর পূর্ব পরিচিত) তোফাজ্জল হোসেন তপু।

চুক্তি মোতাবেক টাকা লেনদেনের জন্য আমিনুল ইসলাম মিঠুকে হোয়াটসঅ্যাপে দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠান কয়ছর আহমেদ। এছাড়া দলের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ও চূড়ান্ত হয়েছে মর্মে কিছু নথিপত্রও মিঠুকে পাঠান তিনি। সেসব নথিতে মিঠুর মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়েছে বলে দেখানো হয়। পরে গত বছরের অক্টোবর মাসে কয়ছরের দেওয়া অ্যাকাউন্টে মিঠুর পক্ষ থেকে কয়েক দফায় মোট ৬৫ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়। টাকা জমা দেন মিঠুর ছোট ভাই আবুল হোসেন, তোফাজ্জল হোসেন তপু, মিঠুর প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীর ভাই সাখাওয়াত (বাংলাদেশে অবস্থানরত) এবং নিউইয়র্কে মিঠুর ভাড়া বাসার মালিকের ভাই বিমল চন্দ্র পোদ্দার (বাংলাদেশে অবস্থানরত)।

টাকা পাওয়ার পর কয়ছর জানান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে কোনো সময় মিঠুকে ফোন করবেন। যদিও তারেক রহমান মিঠুকে কখনো ফোন করেননি কিংবা কোনো মাধ্যমে তার সঙ্গে কথাও বলেননি। দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার আগে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। কয়ছরের কথায় মিঠু তার বৃদ্ধ বাবাকে গুলশানে পাঠান। কিন্তু মিঠুর বাবাকে কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশের ব্যবস্থাও করতে পারেননি কয়ছর। শেষ পর্যন্ত মিঠু মনোনয়নও পাননি।

মনোনয়নবঞ্ছিত হওয়ার পর আমিনুল ইসলাম মিঠু কয়ছর আহমেদ ও তোফাজ্জল হোসেন তপুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের একটি গ্রুপ কলে আলোচনার অডিও এসেছে এশিয়া পোস্টের হাতে। ওই কথোপকথনে মনোনয়নের টোপ দিয়ে মিঠুর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চূড়ান্ত তালিকায় নাম না থাকার পরও মিঠুকে আশ্বস্ত করে ওই রেকর্ডিংয়ে তপুকে বলতে শোনা যায়, তিনি প্রয়োজনে নিজেই তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলবেন। তারপরও মনোনয়ন নিশ্চিত না হলে তারেক রহমানকে কৈফিয়ত দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তপু। এ সময় বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

আরও দেখুন

বই

সংবাদপত্র সাবস্ক্রিপশন

মতামত কলাম

মনোনয়ন তালিকা ও তারেক রহমানের নাম ব্যবহার

দলের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে ম্যানেজ করেই আমিনুল ইসলাম মিঠুর মনোনয়ন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন কয়ছর আহমেদ। এজন্য প্রথমে তিনি দলীয় মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের একটি তালিকা মিঠুর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান। সেখানে দেখা যায়, এক পাতায় রাজশাহী-৪, রাজশাহী-৫ ও রাজশাহী-৬ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা ও দুটি মন্তব্যের ঘর রয়েছে। ওই তালিকায় রাজশাহী-৬ এর ঘরে ক্রমান্বয়ে আবু সাঈদ চাঁদ, আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, নুরুজ্জামান খান মানিক ও শেষে আমিনুল ইসলাম মিঠুর নাম রয়েছে। মন্তব্যের ঘরে ইংরেজিতে লেখা, আমিনুল ইসলাম মিঠুর সঙ্গে কথা বলুন এবং তার নৈতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সামর্থ্য আছে কিনা আমাকে দ্রুত জানান। পরবর্তী মন্তব্যের ঘরে লেখা রয়েছে- থ্রিসি অর অ্যাবোভ, ডিপেন্ডিং অন পলিটিক্যাল ইনভলভমেন্ট {তিন সি (কোটি) বা বেশি, নির্ভর করছে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ওপর}। দুটি মন্তব্যের নিচেই লেখা, কমেন্টেড বাই তারেক রহমান অর্থাৎ মন্তব্য দুটি তারেক রহমানের। সেখানে তারিখ লেখা রয়েছে-৯ আগস্ট ২০২৫।

এর কয়েক দিন পর মিঠুর কাছে আরও একটি তালিকা পাঠান কয়ছর আহমেদ। যেখানে তিনটি আসনের মধ্যে রাজশাহী-৬ আসনে শুধু আমিনুল ইসলাম মিঠুর নাম। মন্তব্যের ঘরে লেখা-অ্যাপ্রুভড বাই চেয়ারপার্সন অর্থাৎ চেয়ারপারসনের মাধ্যমে অনুমোদিত। এর পরের লাইনে আগের মতো লেখা, থ্রিসি অর অ্যাবোভ, ডিপেন্ডিং অন পলিটিক্যাল ইনভলভমেন্ট [তিন সি (কোটি) বা বেশি, নির্ভর করছে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ওপর]। এই নথিতেও মন্তব্যের নিচে লেখা রয়েছে, কমেন্টেড বাই তারেক রহমান। তারিখ দেওয়া ২ অক্টোবর ২০২৫। মিঠুর দাবি, ৯ আগস্ট ও ২ অক্টোবরের এসব নথি ও তালিকা দেখে তিনি আশ্বস্ত হন এবং কয়ছরকে টাকা দেন।

মিঠুকে পাঠানো মনোনয়ন তালিকা

আমিনুল ইসলাম মিঠু বলেন, টাকা দেওয়ার পর কয়ছর একাধিকবার আমাকে বলেছেন, চেয়ারম্যান সাহেব (তারেক রহমান) যে কোনো সময় তোমার সঙ্গে কথা বলবেন। সুখবরটি তিনিই তোমাকে দেবেন। এজন্য সবসময় কোন নম্বর চালু থাকে সেটি জিজ্ঞেস করেন কয়ছর। তবে তারেক রহমান কখনোই মিঠুর সঙ্গে কথা বলেননি।

যেভাবে টাকা লেনদেন

অনুসন্ধানের তথ্য বলছে, কয়ছর আহমেদ যে দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর মিঠুকে দিয়েছেন তার একটি সিটি ব্যাংকের সাতক্ষীরা শাখার। যার শেষ চার অংক ৩০০১। এই অ্যাকাউন্টের মালিক শাওন আহমেদ সোহেল নামে এক ব্যক্তি। তবে সাতক্ষীরায় সোহেল নামের এই ব্যক্তির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। পরে এশিয়া পোস্টের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, অ্যাকাউন্ট সাতক্ষীরায় হলেও শাওন সোহেলের বাড়ি নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার নন্দীকুজা গ্রামে। বর্তমানে তিনি লন্ডনের হ্যাম্পশায়ারের গোল্ডস্মিথ অ্যাভিনিউয়ে বসবাস করেন। তার বিরুদ্ধে যশোরে একটি প্রতারণার মামলাও রয়েছে। ৬-৭ বছর আগে সোহেল লন্ডনে যান এবং কয়ছর আহমদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে তার বিভিন্ন বিষয় তদারকি করেন। সোহেলের বাবার নাম শাহজাহান আলী। তিনি সম্প্রতি একটি প্রতিরক্ষা বাহিনী থেকে অবসরে গেছেন।

শাওন আহমেদ সোহেলের ব্যাংক একাউন্টে দেওয়া ঠিকানা

সোহেলের সিটি ব্যাংকের ওই অ্যাকাউন্টের লেনদেনের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আমিনুল ইসলাম মিঠুর দেওয়া ৬৫ লাখ টাকার মধ্যে ১৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা আসমা আক্তার নামের এক নারীর অ্যাকাউন্ট ঘুরে শেষ পর্যন্ত সোহেলের অ্যাকাউন্টেই জমা হয়েছে। বাকি টাকা সরাসরি সোহেলের অ্যাকাউন্টেই জমা হয়েছে। পরে বিভিন্ন সময়ে আরটিজিএস ও এনপিএসবির (ব্যাংক থেকে দ্রুত বড় ও মাঝারি অঙ্কের টাকা ট্রান্সফারের পদ্ধতি) মাধ্যমে সে টাকা অন্যত্র পাঠানো হয়।

কয়ছর আহমেদের দেওয়া অপর অ্যাকাউন্টের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেটি অগ্রণী ব্যাংকের নেত্রকোনা শাখার। ওই অ্যাকাউন্টের শেষ চার অঙ্ক ০০০২। এটির মালিক আসমা আক্তার নামে এক নারী। তার বাড়ি নেত্রোকোনা সদরের দেওপুর গ্রামে।

আমিনুল ইসলাম মিঠুর দেওয়া তথ্য এবং শাওন আহমেদ সোহেল ও আসমা আক্তারের ব্যাংক তথ্য বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ৬৫ লাখ টাকার মধ্যে আসমা আক্তারের অ্যাকাউন্টে জমা হয় ১৭ লাখ ৮০ হাজার। এর মধ্যে গত বছরের ৫ অক্টোবর অগ্রণী ব্যাংকের ঢাকা বিজয়নগর শাখা থেকে আসমার অ্যাকাউন্টে ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা দেন তোফাজ্জল হোসেন তপু। একই দিন ওই অ্যাকাউন্টে পল্লবী শাখা থেকে আরও ৫ লাখ টাকা জমা দেন মিঠুর ভাই আবুল হাসান। এই ১৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা থেকে ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা গত ৮ অক্টোবর আরটিজিএস করে শাওনের সিটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। বাকি টাকার মধ্যে ৫ লাখ লেনদেন হয় কুয়েতে।

পল্লবী শাখায় টাকা জমা দেওয়ার রশিদএদিকে ৫ অক্টোবর মিঠুর ছোট ভাই আবুল সিটি ব্যাংকের পল্লবী শাখা থেকে শাওন আহমেদ সোহেলের সাতক্ষীরার অ্যাকাউন্টে ৬ লাখ ৫০ হাজার ও ৬ লাখ টাকা জমা দেন। একই দিনে ডাচ-বাংলা ব্যাংক থেকে মিঠুর কর্মচারীর ভাই সাখাওয়াত এনপিএসবি করে ৩ লাখ, ২ লাখ ৫০ হাজার জমা দেন। ৬ অক্টোবর রুপালি ব্যাংকের বরিশাল শাখা থেকে সোহেলের সাতক্ষীরার সিটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ টাকা আরটিজিএস করে পাঠান বিমল চন্দ্র পোদ্দার।সাতক্ষীরার অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেওয়ার রশিদ

কয়ছর-সোহেল-আসমার সম্পর্ক কী

লেনদেনের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে নেত্রকোনার দেওপুর গ্রামে আসমার বাড়িতে যান এশিয়া পোস্টের জেলা প্রতিনিধি। যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতার অবৈধ টাকা কীভাবে আসমার অ্যাকাউন্টে লেনদেন হয়েছে তা জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। অবশ্য তিনি দাবি করেছেন, অ্যাকাউন্টটি তার স্বামী দেখভাল করেন।

আসমার স্বামী আব্দুস সালামের সঙ্গেও যোগাযোগ করে এশিয়া পোস্ট। সালাম একটি প্রতিরক্ষা বাহিনীতে চাকরি করেন। বর্তমানে কুয়েতে ওই বাহিনীর হয়ে একটি মিশনের কাজ করছেন। তার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জানা যায়, সোহেলের বাবা শাহজাহানও ওই একই মিশনে কর্মরত ছিলেন। অর্থাৎ আসমার স্বামী ও সোহেলের বাবা সহকর্মী ছিলেন।

ঘটনা স্বীকার করেছেন আসমার স্বামী

কুয়েত থেকে আসমার স্বামী আব্দুস সালাম মোবাইল ফোনে এশিয়া পোস্টকে বলেন, কুয়েতে অবস্থানকালে সহকর্মী শাহজাহান আলী আসমার অ্যাকাউন্টে ওই টাকা পাঠিয়েছিলেন। পরে সেখান থেকে নিজের ছেলে শাওন সোহেলের অ্যাকাউন্টে ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা ট্রান্সফার করেন শাহজাহান। বাকি ৫ লাখ ক্যাশ নিয়েছেন।

আব্দুল সালাম টাকা গুণে শাহজাহানকে দিচ্ছেন এমন ভিডিও ফুটেজও পেয়েছে এশিয়া পোস্ট। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ব্যাংক থেকে তোলা টাকা গুনে নিচ্ছেন শাহজাহান।কিন্তু এই টাকা কেন আসমার অ্যাকাউন্টে লেনদন করা হয়েছে তা জানতে চাইলে সদুত্তর দিতে পারেননি সালাম। শাহজাহান মিয়ার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সোহেলের বক্তব্য

এসব বিষয়ে কথা বলতে লন্ডনে অবস্থানরত শাওন আহমেদ সোহেলের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে যোগাযোগ হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সোহেল বলেন, তিনি কয়ছর আহমেদ কিংবা আমিনুল ইসলাম মিঠু নামে কাউকে চেনেন না।

তাহলে কয়ছর আহমেদ সংশ্লিষ্ট লেনদেনে তার অ্যাকাউন্ট কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এমন প্রশ্ন করলে সোহেল দাবি করেন, বাংলাদেশ থেকে পরিচিত একজন তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে। এ কারণে লেনদেন সংক্রান্ত কোনো তথ্য তার কাছে নেই। এ লেনদেনের সঙ্গে তার বাবার সম্পৃক্ততার বিষয়টি উবল্লেখ করলে সোহেল বলেন, বাবা ও পরিবারের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

বাড়ি নাটোরে অ্যাকাউন্ট কেন সাতক্ষীরায়

সাওন আহমেদ সোহেলের বাড়ি নাটোরে হলেও সাতক্ষীরায় কীভাবে ও কেন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করেছেন তা জানতে চাইলে সিটি ব্যাংকের সাতক্ষীরা শাখার ম্যানেজার রবিউল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, সিটি ব্যাংকে এক সময় অনলাইনে অ্যাকাউন্ট করা যেত। তখন করে থাকতে পারে। অনেকে এই সুযোগটা নিয়েছে জানতে পেরে সিটি ব্যাংক অনলাইনে অ্যাকাউন্ট করার পদ্ধতি বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানান তিনি।

কথা বলতে চেয়েও বলেননি কয়ছর

এ বিষয়ে কথা বলতে সুনামগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কয়ছর এম আহমেদের সঙ্গে বৃহস্পতিআর (৫ ফেব্রুয়ারি) মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তাকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মিঠুর সঙ্গে লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এখন কথা বলতে পারবেন না বলে জানান। তবে পরবর্তীতে তাকে একাধিকবার কল দিলেও আর রিসিভ করেন। পরে তার মোবাইলে ও হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠানো হলেও সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই মন্তব্য করতে রাজি হননি। এমনকী তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে সেটিও প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।

দায় এড়াতে পারে না দল : টিআইবি

নির্বাচনের মনোনয়ন বাণিজ্যের বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমরা দেখেছি জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী ৫ আগস্ট থেকেই সারা দেশে বিভিন্নভাবে যারা ক্রিয়াশীলরা বড় রাজনৈতিক দলগুলো যে ধরনের দলবাজি, দখলবাজি, চাঁদাবাজি ইত্যাদি শুরু করেছে, সেটারই একটা দৃষ্টান্ত। রাজনৈতিক অবস্থান বা নির্বাচনের অবস্থানটা বা জনপ্রতিনিধি অবস্থানটা দেখা হয় দুর্নীতি করার বা ক্ষমতা ব্যবহার করার লাইসেন্স হিসেবে। সেই কারণে এই লাইসেন্সটা পাওয়ার জন্য কেনাবেচা হয়। এটারই একটা দৃষ্টান্ত।

এ ঘটনায় জড়িতদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে মন্তব্য করে ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ঘটনা সঠিক হলে সংশ্লিষ্ট দলও দায় এড়াতে পারে না। এখানে একাধিক অপরাধ রয়েছে। প্রথমত, অবৈধ লেনদেন অপরাধ- যেটা কেউ করতে পারে না। দ্বিতীয়ত নির্বাচনে অংশগ্রহণযোগ্য করার জন্য প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া, যেটা করতে পারেন না এবং সেটাকে এইভাবে মনোনয়নের অঙ্গীকার করে প্রতারণামূলকভাবে আশ্রয় নিতে পারেন না।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, এটা অবৈধ লেনদেন মোটামুটি পরিষ্কারভাবে। যেহেতু সংঘটিত হয়েছে, কাজেই এর সঙ্গে যারা সরাসরি জড়িত তাদের তো অবশ্যই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিতায় আনতে হবে। অন্যদিক থেকে, এর সাথে রাজনৈতিক দলে যারা জড়িত, তাদের ক্ষেত্রে এটা একক মনে করার কোনো সুযোগ নেই।

সুত্র: এশিয়া পোস্ট

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

সেপ্টেম্বরে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে আসছে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

Published

on

By

সব ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে চলছে শেষ মুহূর্তের কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা। পরীক্ষামূলক সরবরাহ সফল হলে পরবর্তী কয়েক মাসের মধ্যে ইউনিটটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে সংকট ও লোডশেডিংয়ের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের অন্যতম বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। কবে নাগাদ কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে, সে অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানি প্রবেশ করানো হয়েছে। দুই ধাপে শতাধিক পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি পরীক্ষাগুলোও পর্যায়ক্রমে শেষ করা হচ্ছে। প্রতিটি ধাপ যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন দিচ্ছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।

একবার চালু হলে কেন্দ্রটি ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। একবার জ্বালানি লোড করার পর প্রায় ১৮ মাস বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এরপর নতুন জ্বালানি দিতে একটি ইউনিট সর্বোচ্চ প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ অন্য বিদ্যুতের তুলনায় বেশি নির্ভুল ও স্থিতিশীল গ্রিডের মাধ্যমে সরবরাহ করতে হয়। তাই রূপপুরের সঙ্গে যুক্ত জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।

রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সঞ্চালনে বাঘাবাড়ী ২৩০ কেভি, বগুড়া ৪০০ কেভি ও গোপালগঞ্জের আরেকটি ৪০০ কেভি অবকাঠামো ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে বেশিরভাগ অবকাঠামোর কমিশনিং শেষ হয়েছে। তবে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য আরও প্রস্তুতি প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্রুতগতির বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের সিস্টেম এখনও পুরোপুরি সমন্বয় করার মতো সক্ষম নয়। এ সমন্বয় ঠিকভাবে না হলে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে।

এ জন্য পিডিবির পাশাপাশি নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ দেশগুলোর বিশেষজ্ঞ ও বিদেশি পরামর্শকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় আপগ্রেডেশন ও প্রস্তুতির কাজ চলছে।

তবে রূপপুরের বিদ্যুতের চূড়ান্ত মূল্য এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরুর পর পিডিবির সঙ্গে আলাদা ক্রয়চুক্তি হবে। প্রকল্পের শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৩ থেকে ৪ টাকা ধরা হলেও প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এখন সেই হিসাব পরিবর্তিত হয়েছে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, রূপপুর প্রকল্পের বেশ কিছু পেমেন্ট আটকে আছে। রাশিয়ার সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাজনিত সীমাবদ্ধতার কারণে এসব অর্থ পরিশোধে সমস্যা হচ্ছে। ফলে প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ স্বাভাবিক গতিতে এগোচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

Continue Reading

top1

বরিশাল/ দিনে ৬২ লাখ টাকার বিদ্যুৎ টেনে নিচ্ছে ব্যাটারি রিকশা

Published

on

By

সরকারি হিসাবের বাইরে বরিশাল নগরে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের সংখ্যা। এসব যান চার্জ দিতে প্রতিদিন অন্তত ৬২ লাখ টাকার বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। ফলে তীব্র বিদ্যুৎ ঘাটতির মুখে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে, যা জনজীবনে ফেলছে নেতিবাচক প্রভাব।

বরিশাল নগরে সিটি করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী, ইজিবাইকের সংখ্যা ৭ হাজার ৬০০ হলেও মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, এই সংখ্যা ৩০ হাজারের কম নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও অন্তত ৪০ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা। অর্থাৎ সরকারি অনুমোদনের বাইরে কয়েক গুণ বেশি যান চলায় এর কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব বা নিয়ন্ত্রণ নেই।

পাটের বাজারে বড় ধাক্কা, ১৫ দিনেই মণপ্রতি কমল হাজার টাকা

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩০ হাজার ইজিবাইক ও ৪০ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ করতে প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সর্বনিম্ন দাম ১০ টাকা ধরে এর আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৬২ লাখ টাকা।

এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের কতটা বাণিজ্যিক মিটারের মাধ্যমে হচ্ছে আর কতটা অবৈধ বা আবাসিক সংযোগে—তারও কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। ওজোপাডিকোর দুই অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলীরা ১২৭টি গ্যারেজে বাণিজ্যিক মিটার থাকার কথা বললেও কর্মচারীদের দাবি, প্রায় ২০০ গ্যারেজে মিটার ছাড়াই বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। গভীর রাতে মূল লাইনে হুক লাগিয়ে বা আবাসিক মিটারে অবৈধভাবে চার্জ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

নগরের কাউনিয়া, নবগ্রাম রোড, ভাটিখানা, বটতলা, কেডিসি কলোনি, স্টেডিয়াম কলোনি, জিয়া সড়ক, নতুন বাজার, রূপাতলী, ধান গবেষণা রোড, চাঁদমারী, পলাশপুর ও আমানতগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যারেজ গড়ে উঠেছে। দিনের বেলায় এসব গ্যারেজে রিকশা ও ইজিবাইক রাখা হয়। রাত গভীর হলে শুরু হয় ব্যাটারি চার্জ।

কয়েকটি গ্যারেজে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবাসিক মিটারে বিদ্যুৎ নিয়ে ব্যাটারি চার্জ করা হচ্ছে। কোথাও আবার বিদ্যুতের মূল লাইন থেকে সরাসরি সংযোগ নেওয়ার কথাও গ্যারেজ মালিকেরা স্বীকার করেছেন।

স্টেডিয়াম কলোনির এক গ্যারেজ মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাসে ১০ হাজার টাকা দিতে হয় বিদ্যুতের লোকজনকে, যাতে লাইন কেটে না দেয়। সামান্য এই ঘুষের মাধ্যমে আমরা আবাসিক মিটার ব্যবহার করি। কম খরচে বেশি যানবাহন চার্জ দিতে পারি।

বিসিক এলাকার নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক গ্যারেজ মালিক বলেন, বেশি ব্যবসার জন্য রাত ১টার পর মেইন লাইনের সঙ্গে হুক দিয়ে দিই। এতে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়। মিটার রিডারকে মাঝে মাঝে কিছু টাকা দিই। গ্যারেজে ১৮ থেকে ২০টি ব্যাটারিচালিত যান আছে। অনেক খরচ বেঁচে যায়।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) দাবি, বরিশাল বিভাগে বিদ্যুৎ ব্যবহারে অনিয়ম ও অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে গত ছয় মাসে ৬৮১টি মামলা করেছেন তারা। এসব মামলায় প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

ওজোপাডিকোর তথ্য অনুযায়ী, আবাসিক মিটার ব্যবহার করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা, অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার ও বিদ্যুৎ চুরিসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে এসব মামলা করা হয়। এছাড়া অবৈধভাবে বিদ্যুৎ চুরির ঘটনায় তিনজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের ঘটনায় আদায় করা হয়েছে ২৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা।

ওজোপাডিকো-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, আমার আওতাধীন এলাকায় প্রায় ৮০টি গ্যারেজ কাম চার্জিং স্টেশনে বাণিজ্যিক মিটার রয়েছে। আবাসিক মিটার ব্যবহার করে কেউ ব্যাটারি চার্জ করছে—এমন তথ্য পেলে অভিযান চালানো হয়।

ওজোপাডিকো-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার জানান, আমার আওতাধীন এলাকায় ৪৭টি গ্যারেজে বাণিজ্যিক মিটার রয়েছে। অনিয়ম হলে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়।

বরিশাল নগরের বিদ্যুৎ চাহিদা প্রতিদিন ৭০ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর বিপরীতে সরবরাহ রয়েছে মাত্র ৫৪ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। এই ঘাটতির মধ্যে রাতভর হাজার হাজার ব্যাটারি চার্জ হচ্ছে। নগরবাসী বলছেন, এর প্রভাব পড়ছে তাদের দৈনন্দিন জীবনে।

ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ, বরিশালের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. গোলাম সালেহ আহমেদ ছালেমের মতে, ৭০ হাজার ব্যাটারিচালিত যান চার্জ করতে প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ লাখ টাকার বিদ্যুৎ ব্যবহার হতে পারে। এত বিপুল বিদ্যুৎ ব্যবহার নগরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এমন অবস্থায় গ্রাহকরা সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ পেতে চাইলে ব্যাটারিচালিত যানবাহনগুলোতে চার্জ করতে সোলার সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে। আসলেই এর কোনো বিকল্প নেই। সংশ্লিষ্টদের কঠোর নজরদারির মাধ্যমে যদি ব্যাটারিচালিত যানবাহনগুলোর সোলার সিস্টেম ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, তাহলে বিদ্যুৎ নিয়ে সকল সমস্যার ৯০ ভাগ সমাধান হয়ে যাবে।

সু শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল নগর কমিটির সম্পাদক মো. রফিকুল আলম বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক নগরের মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তাই এগুলো একদিনে বন্ধ করার বাস্তবতা নেই। কিন্তু যানগুলোর সংখ্যা, নিবন্ধন, রুট, চার্জিং স্টেশন এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এর চাপ শেষ পর্যন্ত পড়ছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপরই। ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের সংখ্যা একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আনা জরুরি। সিটি করপোরেশন এ যানগুলোর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে বিদ্যুৎ সংকটের ওপর চাপ কিছুটা হলেও কমবে।

ওজোপাডিকো (পরিচালন ও সংরক্ষণ) বরিশাল সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পরিতোষ চন্দ্র সরকার বলেন, বরিশাল নগরের আয়তনের তুলনায় যে পরিমাণ অটোরিকশা রয়েছে, তা দেশের অন্য কোনো শহরে নেই। আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। যদি কোথাও ব্যাটারিচালিত যানবাহন চার্জ করতে কেউ অবৈধ পথ বেছে নেয়, তাহলে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত যানবাহন বিদ্যুৎ সংকটে বাড়তি চাপ তৈরি করছে। নগরীতে প্রথমে ৫ হাজার ও পরে আরও ২ হাজার ৬০০টি ব্যাটারিচালিত যান চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে এসব যান পুনঃনিবন্ধনের আওতায় রয়েছে। অনুমোদনের বাইরে থাকা যানবাহনের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অটোরিকশা ও ইজিবাইক সীমিত পর্যায়ে আনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Continue Reading

top1

ধানমন্ডিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আটক দুই তরুণী ৬ মাস আগের মামলায় গ্রেপ্তার

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে আটক দুই তরুণীকে ছয় মাস আগে করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। রোববার (১৬ আগস্ট) তাদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।

পরে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গ্রেপ্তার দেখানো দুই তরুণী হলেন—জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে জান্নাত (২১) এবং সুমা বড়াল ওরফে ডলি (২৯)। শুনানিতে জান্নাতের পক্ষে আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম এবং সুমা বড়ালের পক্ষে আইনজীবী লিটন মিয়া জামিন আবেদন করেন।

পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আবুল বাশার আবদুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক আবু সোলায়মান সুমন আদালতে জানান, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ভোরে ধানমন্ডির ৩ নম্বর সড়কে নিষিদ্ধ ঘোষিত মহিলা আওয়ামী লীগের ২০-২৫ জন নেতা-কর্মী সরকারবিরোধী মিছিলের উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছিলেন বলে পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পায়। পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে কয়েকজনকে আটক করে এবং অন্যরা পালিয়ে যায়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আটক ব্যক্তিরা সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে সেখানে সমবেত হয়ে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়।

ওই মামলায় রোববার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে আটক হওয়া জান্নাতুল ফেরদৌস ও সুমা বড়ালকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী লিটন মিয়া বলেন, ছয় মাস আগের ওই মামলায় শনিবার আটক দুই তরুণীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অথচ মামলার এজাহারে তাদের নাম ছিল না।

Continue Reading

Trending