Connect with us

top1

৩ কোটিতে বিএনপির মনোনয়ন চুক্তি, ৬৫ লাখ অগ্রিম

Published

on

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রবাসীর কাছ থেকে ৬৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সুনামগঞ্জ-৩ আসনে (শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুর) ধানের শীষের প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ; যিনি কয়ছর এম আহমেদ নামেই পরিচিত। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম ব্যবহার করে তিনি এ মনোনয়ন বাণিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিএনপি কর্মী আমিনুল ইসলাম মিঠুকে তিন কোটি টাকার বিনিময়ে রাজশাহী-৬ আসনে (চারঘাট ও বাঘা) মনোনয়ন নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অগ্রিম হিসেবে ৬৫ লাখ টাকা নেন কয়ছর। তবে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পাইয়ে দিতে না পারলেও কয়ছর আহমেদ টাকা ফেরত দিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন মিঠু। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিস্তারিত অনুসন্ধান করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে এশিয়া পোস্ট।

জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিএনপি কর্মী আমিনুল ইসলাম মিঠুর বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চন্ডিপুর বাজার এলাকায়। তিনি বর্তমানে নিউইয়র্কের ব্রঞ্চ শহরের স্টারলাইন এলাকায় বসবাস করেন। নিউইয়র্কের স্টারলাইন, জ্যাকসন হাইটস, চায়না টাউন ও ম্যানহাটনে তার একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় এবার তিনি নিজ এলাকা থেকে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করেন। তাকে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (তৎকালীন) তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দেওয়া যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কয়ছর আহমেদ। তিন কোটি টাকার বিনিময়ে মিঠুকে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার বিষয়ে কয়ছরের সঙ্গে আলোচনা, চুক্তি ও লেনদেনের বিষয়টি মধ্যস্থতা করেন রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি (মিঠুর পূর্ব পরিচিত) তোফাজ্জল হোসেন তপু।

চুক্তি মোতাবেক টাকা লেনদেনের জন্য আমিনুল ইসলাম মিঠুকে হোয়াটসঅ্যাপে দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠান কয়ছর আহমেদ। এছাড়া দলের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ও চূড়ান্ত হয়েছে মর্মে কিছু নথিপত্রও মিঠুকে পাঠান তিনি। সেসব নথিতে মিঠুর মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়েছে বলে দেখানো হয়। পরে গত বছরের অক্টোবর মাসে কয়ছরের দেওয়া অ্যাকাউন্টে মিঠুর পক্ষ থেকে কয়েক দফায় মোট ৬৫ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়। টাকা জমা দেন মিঠুর ছোট ভাই আবুল হোসেন, তোফাজ্জল হোসেন তপু, মিঠুর প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীর ভাই সাখাওয়াত (বাংলাদেশে অবস্থানরত) এবং নিউইয়র্কে মিঠুর ভাড়া বাসার মালিকের ভাই বিমল চন্দ্র পোদ্দার (বাংলাদেশে অবস্থানরত)।

টাকা পাওয়ার পর কয়ছর জানান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে কোনো সময় মিঠুকে ফোন করবেন। যদিও তারেক রহমান মিঠুকে কখনো ফোন করেননি কিংবা কোনো মাধ্যমে তার সঙ্গে কথাও বলেননি। দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার আগে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। কয়ছরের কথায় মিঠু তার বৃদ্ধ বাবাকে গুলশানে পাঠান। কিন্তু মিঠুর বাবাকে কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশের ব্যবস্থাও করতে পারেননি কয়ছর। শেষ পর্যন্ত মিঠু মনোনয়নও পাননি।

মনোনয়নবঞ্ছিত হওয়ার পর আমিনুল ইসলাম মিঠু কয়ছর আহমেদ ও তোফাজ্জল হোসেন তপুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের একটি গ্রুপ কলে আলোচনার অডিও এসেছে এশিয়া পোস্টের হাতে। ওই কথোপকথনে মনোনয়নের টোপ দিয়ে মিঠুর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চূড়ান্ত তালিকায় নাম না থাকার পরও মিঠুকে আশ্বস্ত করে ওই রেকর্ডিংয়ে তপুকে বলতে শোনা যায়, তিনি প্রয়োজনে নিজেই তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলবেন। তারপরও মনোনয়ন নিশ্চিত না হলে তারেক রহমানকে কৈফিয়ত দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তপু। এ সময় বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

আরও দেখুন

বই

সংবাদপত্র সাবস্ক্রিপশন

মতামত কলাম

মনোনয়ন তালিকা ও তারেক রহমানের নাম ব্যবহার

দলের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে ম্যানেজ করেই আমিনুল ইসলাম মিঠুর মনোনয়ন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন কয়ছর আহমেদ। এজন্য প্রথমে তিনি দলীয় মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের একটি তালিকা মিঠুর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান। সেখানে দেখা যায়, এক পাতায় রাজশাহী-৪, রাজশাহী-৫ ও রাজশাহী-৬ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা ও দুটি মন্তব্যের ঘর রয়েছে। ওই তালিকায় রাজশাহী-৬ এর ঘরে ক্রমান্বয়ে আবু সাঈদ চাঁদ, আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, নুরুজ্জামান খান মানিক ও শেষে আমিনুল ইসলাম মিঠুর নাম রয়েছে। মন্তব্যের ঘরে ইংরেজিতে লেখা, আমিনুল ইসলাম মিঠুর সঙ্গে কথা বলুন এবং তার নৈতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সামর্থ্য আছে কিনা আমাকে দ্রুত জানান। পরবর্তী মন্তব্যের ঘরে লেখা রয়েছে- থ্রিসি অর অ্যাবোভ, ডিপেন্ডিং অন পলিটিক্যাল ইনভলভমেন্ট {তিন সি (কোটি) বা বেশি, নির্ভর করছে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ওপর}। দুটি মন্তব্যের নিচেই লেখা, কমেন্টেড বাই তারেক রহমান অর্থাৎ মন্তব্য দুটি তারেক রহমানের। সেখানে তারিখ লেখা রয়েছে-৯ আগস্ট ২০২৫।

এর কয়েক দিন পর মিঠুর কাছে আরও একটি তালিকা পাঠান কয়ছর আহমেদ। যেখানে তিনটি আসনের মধ্যে রাজশাহী-৬ আসনে শুধু আমিনুল ইসলাম মিঠুর নাম। মন্তব্যের ঘরে লেখা-অ্যাপ্রুভড বাই চেয়ারপার্সন অর্থাৎ চেয়ারপারসনের মাধ্যমে অনুমোদিত। এর পরের লাইনে আগের মতো লেখা, থ্রিসি অর অ্যাবোভ, ডিপেন্ডিং অন পলিটিক্যাল ইনভলভমেন্ট [তিন সি (কোটি) বা বেশি, নির্ভর করছে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ওপর]। এই নথিতেও মন্তব্যের নিচে লেখা রয়েছে, কমেন্টেড বাই তারেক রহমান। তারিখ দেওয়া ২ অক্টোবর ২০২৫। মিঠুর দাবি, ৯ আগস্ট ও ২ অক্টোবরের এসব নথি ও তালিকা দেখে তিনি আশ্বস্ত হন এবং কয়ছরকে টাকা দেন।

মিঠুকে পাঠানো মনোনয়ন তালিকা

আমিনুল ইসলাম মিঠু বলেন, টাকা দেওয়ার পর কয়ছর একাধিকবার আমাকে বলেছেন, চেয়ারম্যান সাহেব (তারেক রহমান) যে কোনো সময় তোমার সঙ্গে কথা বলবেন। সুখবরটি তিনিই তোমাকে দেবেন। এজন্য সবসময় কোন নম্বর চালু থাকে সেটি জিজ্ঞেস করেন কয়ছর। তবে তারেক রহমান কখনোই মিঠুর সঙ্গে কথা বলেননি।

যেভাবে টাকা লেনদেন

অনুসন্ধানের তথ্য বলছে, কয়ছর আহমেদ যে দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর মিঠুকে দিয়েছেন তার একটি সিটি ব্যাংকের সাতক্ষীরা শাখার। যার শেষ চার অংক ৩০০১। এই অ্যাকাউন্টের মালিক শাওন আহমেদ সোহেল নামে এক ব্যক্তি। তবে সাতক্ষীরায় সোহেল নামের এই ব্যক্তির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। পরে এশিয়া পোস্টের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, অ্যাকাউন্ট সাতক্ষীরায় হলেও শাওন সোহেলের বাড়ি নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার নন্দীকুজা গ্রামে। বর্তমানে তিনি লন্ডনের হ্যাম্পশায়ারের গোল্ডস্মিথ অ্যাভিনিউয়ে বসবাস করেন। তার বিরুদ্ধে যশোরে একটি প্রতারণার মামলাও রয়েছে। ৬-৭ বছর আগে সোহেল লন্ডনে যান এবং কয়ছর আহমদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে তার বিভিন্ন বিষয় তদারকি করেন। সোহেলের বাবার নাম শাহজাহান আলী। তিনি সম্প্রতি একটি প্রতিরক্ষা বাহিনী থেকে অবসরে গেছেন।

শাওন আহমেদ সোহেলের ব্যাংক একাউন্টে দেওয়া ঠিকানা

সোহেলের সিটি ব্যাংকের ওই অ্যাকাউন্টের লেনদেনের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আমিনুল ইসলাম মিঠুর দেওয়া ৬৫ লাখ টাকার মধ্যে ১৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা আসমা আক্তার নামের এক নারীর অ্যাকাউন্ট ঘুরে শেষ পর্যন্ত সোহেলের অ্যাকাউন্টেই জমা হয়েছে। বাকি টাকা সরাসরি সোহেলের অ্যাকাউন্টেই জমা হয়েছে। পরে বিভিন্ন সময়ে আরটিজিএস ও এনপিএসবির (ব্যাংক থেকে দ্রুত বড় ও মাঝারি অঙ্কের টাকা ট্রান্সফারের পদ্ধতি) মাধ্যমে সে টাকা অন্যত্র পাঠানো হয়।

কয়ছর আহমেদের দেওয়া অপর অ্যাকাউন্টের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেটি অগ্রণী ব্যাংকের নেত্রকোনা শাখার। ওই অ্যাকাউন্টের শেষ চার অঙ্ক ০০০২। এটির মালিক আসমা আক্তার নামে এক নারী। তার বাড়ি নেত্রোকোনা সদরের দেওপুর গ্রামে।

আমিনুল ইসলাম মিঠুর দেওয়া তথ্য এবং শাওন আহমেদ সোহেল ও আসমা আক্তারের ব্যাংক তথ্য বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ৬৫ লাখ টাকার মধ্যে আসমা আক্তারের অ্যাকাউন্টে জমা হয় ১৭ লাখ ৮০ হাজার। এর মধ্যে গত বছরের ৫ অক্টোবর অগ্রণী ব্যাংকের ঢাকা বিজয়নগর শাখা থেকে আসমার অ্যাকাউন্টে ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা দেন তোফাজ্জল হোসেন তপু। একই দিন ওই অ্যাকাউন্টে পল্লবী শাখা থেকে আরও ৫ লাখ টাকা জমা দেন মিঠুর ভাই আবুল হাসান। এই ১৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা থেকে ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা গত ৮ অক্টোবর আরটিজিএস করে শাওনের সিটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। বাকি টাকার মধ্যে ৫ লাখ লেনদেন হয় কুয়েতে।

পল্লবী শাখায় টাকা জমা দেওয়ার রশিদএদিকে ৫ অক্টোবর মিঠুর ছোট ভাই আবুল সিটি ব্যাংকের পল্লবী শাখা থেকে শাওন আহমেদ সোহেলের সাতক্ষীরার অ্যাকাউন্টে ৬ লাখ ৫০ হাজার ও ৬ লাখ টাকা জমা দেন। একই দিনে ডাচ-বাংলা ব্যাংক থেকে মিঠুর কর্মচারীর ভাই সাখাওয়াত এনপিএসবি করে ৩ লাখ, ২ লাখ ৫০ হাজার জমা দেন। ৬ অক্টোবর রুপালি ব্যাংকের বরিশাল শাখা থেকে সোহেলের সাতক্ষীরার সিটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ টাকা আরটিজিএস করে পাঠান বিমল চন্দ্র পোদ্দার।সাতক্ষীরার অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেওয়ার রশিদ

কয়ছর-সোহেল-আসমার সম্পর্ক কী

লেনদেনের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে নেত্রকোনার দেওপুর গ্রামে আসমার বাড়িতে যান এশিয়া পোস্টের জেলা প্রতিনিধি। যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতার অবৈধ টাকা কীভাবে আসমার অ্যাকাউন্টে লেনদেন হয়েছে তা জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। অবশ্য তিনি দাবি করেছেন, অ্যাকাউন্টটি তার স্বামী দেখভাল করেন।

আসমার স্বামী আব্দুস সালামের সঙ্গেও যোগাযোগ করে এশিয়া পোস্ট। সালাম একটি প্রতিরক্ষা বাহিনীতে চাকরি করেন। বর্তমানে কুয়েতে ওই বাহিনীর হয়ে একটি মিশনের কাজ করছেন। তার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জানা যায়, সোহেলের বাবা শাহজাহানও ওই একই মিশনে কর্মরত ছিলেন। অর্থাৎ আসমার স্বামী ও সোহেলের বাবা সহকর্মী ছিলেন।

ঘটনা স্বীকার করেছেন আসমার স্বামী

কুয়েত থেকে আসমার স্বামী আব্দুস সালাম মোবাইল ফোনে এশিয়া পোস্টকে বলেন, কুয়েতে অবস্থানকালে সহকর্মী শাহজাহান আলী আসমার অ্যাকাউন্টে ওই টাকা পাঠিয়েছিলেন। পরে সেখান থেকে নিজের ছেলে শাওন সোহেলের অ্যাকাউন্টে ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা ট্রান্সফার করেন শাহজাহান। বাকি ৫ লাখ ক্যাশ নিয়েছেন।

আব্দুল সালাম টাকা গুণে শাহজাহানকে দিচ্ছেন এমন ভিডিও ফুটেজও পেয়েছে এশিয়া পোস্ট। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ব্যাংক থেকে তোলা টাকা গুনে নিচ্ছেন শাহজাহান।কিন্তু এই টাকা কেন আসমার অ্যাকাউন্টে লেনদন করা হয়েছে তা জানতে চাইলে সদুত্তর দিতে পারেননি সালাম। শাহজাহান মিয়ার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সোহেলের বক্তব্য

এসব বিষয়ে কথা বলতে লন্ডনে অবস্থানরত শাওন আহমেদ সোহেলের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে যোগাযোগ হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সোহেল বলেন, তিনি কয়ছর আহমেদ কিংবা আমিনুল ইসলাম মিঠু নামে কাউকে চেনেন না।

তাহলে কয়ছর আহমেদ সংশ্লিষ্ট লেনদেনে তার অ্যাকাউন্ট কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এমন প্রশ্ন করলে সোহেল দাবি করেন, বাংলাদেশ থেকে পরিচিত একজন তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে। এ কারণে লেনদেন সংক্রান্ত কোনো তথ্য তার কাছে নেই। এ লেনদেনের সঙ্গে তার বাবার সম্পৃক্ততার বিষয়টি উবল্লেখ করলে সোহেল বলেন, বাবা ও পরিবারের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

বাড়ি নাটোরে অ্যাকাউন্ট কেন সাতক্ষীরায়

সাওন আহমেদ সোহেলের বাড়ি নাটোরে হলেও সাতক্ষীরায় কীভাবে ও কেন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করেছেন তা জানতে চাইলে সিটি ব্যাংকের সাতক্ষীরা শাখার ম্যানেজার রবিউল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, সিটি ব্যাংকে এক সময় অনলাইনে অ্যাকাউন্ট করা যেত। তখন করে থাকতে পারে। অনেকে এই সুযোগটা নিয়েছে জানতে পেরে সিটি ব্যাংক অনলাইনে অ্যাকাউন্ট করার পদ্ধতি বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানান তিনি।

কথা বলতে চেয়েও বলেননি কয়ছর

এ বিষয়ে কথা বলতে সুনামগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কয়ছর এম আহমেদের সঙ্গে বৃহস্পতিআর (৫ ফেব্রুয়ারি) মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তাকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মিঠুর সঙ্গে লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এখন কথা বলতে পারবেন না বলে জানান। তবে পরবর্তীতে তাকে একাধিকবার কল দিলেও আর রিসিভ করেন। পরে তার মোবাইলে ও হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠানো হলেও সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই মন্তব্য করতে রাজি হননি। এমনকী তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে সেটিও প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।

দায় এড়াতে পারে না দল : টিআইবি

নির্বাচনের মনোনয়ন বাণিজ্যের বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমরা দেখেছি জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী ৫ আগস্ট থেকেই সারা দেশে বিভিন্নভাবে যারা ক্রিয়াশীলরা বড় রাজনৈতিক দলগুলো যে ধরনের দলবাজি, দখলবাজি, চাঁদাবাজি ইত্যাদি শুরু করেছে, সেটারই একটা দৃষ্টান্ত। রাজনৈতিক অবস্থান বা নির্বাচনের অবস্থানটা বা জনপ্রতিনিধি অবস্থানটা দেখা হয় দুর্নীতি করার বা ক্ষমতা ব্যবহার করার লাইসেন্স হিসেবে। সেই কারণে এই লাইসেন্সটা পাওয়ার জন্য কেনাবেচা হয়। এটারই একটা দৃষ্টান্ত।

এ ঘটনায় জড়িতদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে মন্তব্য করে ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ঘটনা সঠিক হলে সংশ্লিষ্ট দলও দায় এড়াতে পারে না। এখানে একাধিক অপরাধ রয়েছে। প্রথমত, অবৈধ লেনদেন অপরাধ- যেটা কেউ করতে পারে না। দ্বিতীয়ত নির্বাচনে অংশগ্রহণযোগ্য করার জন্য প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া, যেটা করতে পারেন না এবং সেটাকে এইভাবে মনোনয়নের অঙ্গীকার করে প্রতারণামূলকভাবে আশ্রয় নিতে পারেন না।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, এটা অবৈধ লেনদেন মোটামুটি পরিষ্কারভাবে। যেহেতু সংঘটিত হয়েছে, কাজেই এর সঙ্গে যারা সরাসরি জড়িত তাদের তো অবশ্যই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিতায় আনতে হবে। অন্যদিক থেকে, এর সাথে রাজনৈতিক দলে যারা জড়িত, তাদের ক্ষেত্রে এটা একক মনে করার কোনো সুযোগ নেই।

সুত্র: এশিয়া পোস্ট

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

চীনের গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ব্যবহার করে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে ইরান

Published

on

By

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের হামলার বিষয়ে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস বুধবার (১৫ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরান গোপনে একটি চীনা গোয়েন্দা স্যাটেলাইট সংগ্রহ করেছে। এর মাধ্যমে চলমান যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু বানানোর এক নতুন সক্ষমতা অর্জন করেছে দেশটি।

প্রতিবেদনটিতে ফাঁস হওয়া ইরানি সামরিক নথির বরাতে বলা হয়েছে, টিইই-০১বি নামের এই স্যাটেলাইট চীনা কোম্পানি আর্থ আই তৈরি ও উৎক্ষেপণ করেছিল।

চীন স্যাটেলাইটটি মহাকাশে পাঠানোর পর ২০২৪ সালের শেষের দিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্স এর নিয়ন্ত্রণ নেয়।

পত্রিকাটি আরও বলেছে, ইরানি সামরিক কমান্ডাররা এই স্যাটেলাইটকে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। গত মার্চে ওইসব স্থানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে এবং পরে এ স্যাটেলাইট থেকেই ছবি তোলা হয়েছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বেইজিংভিত্তিক কোম্পানি এমপোস্যাটের গ্রাউন্ড স্টেশনগুলো ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে। এর মাধ্যমে তারা এশিয়া ও লাতিন আমেরিকাসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে স্যাটেলাইটের তথ্য সংগ্রহ করতে পারছে।

তবে রয়টার্স এ খবরের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। হোয়াইট হাউস, সিআইএ, পেন্টাগন কিংবা চীনের কোনো দপ্তরই এ নিয়ে এখনও মুখ খোলেনি। এমনকি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোও কোনো মন্তব্য করেনি।

এমপোস্যাটের সঙ্গে আইআরজিসির সম্পর্ক নিয়ে হোয়াইট হাউস সরাসরি কিছু বলেনি। তবে এ খবর ট্রাম্পের সেই হুঁশিয়ারির কথা মনে করিয়ে দিয়েছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন, ইরানকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিলে চীনের বড় সমস্যা হবে। এদিকে, চীনা দূতাবাস একে বানোয়াট অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

তথ্য বলছে, ১৩-১৫ মার্চ ওই স্যাটেলাইট সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান ঘাঁটির ছবি তুলেছিল এবং ১৪ মার্চ ট্রাম্প সেখানে মার্কিন বিমান আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেন। এছাড়াও জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপরও ঠিক হামলার সময়েই নজরদারি চালিয়েছিল এই স্যাটেলাইট।

Continue Reading

top1

বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় তারেক রহমান

Published

on

By

বিএনপির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বখ্যাত ম্যাগাজিন ‘টাইম’ প্রকাশিত বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন। বুধবার ২০২৬ সালের এ তালিকা প্রকাশ করে ম্যাগাজিনটি।

প্রকাশিত এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় ‘লিডারস’ বা নেতা ক্যাটাগরিতে তারেক রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক এ স্বীকৃতিকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং সমৃদ্ধ আগামীর পথে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

টাইম ম্যাগাজিন তাদের বিশেষ প্রতিবেদনে তারেক রহমানের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফিরে রাষ্ট্র সংস্কারে তার দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছে। বিশেষ করে, গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের পর মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং ‘ফামার্স কার্ড’র মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।

টাইমের এ স্বীকৃতি প্রমাণ করে, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় তার নেওয়া পদক্ষেপগুলো বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদি আমিন তার ফেসবুক পেইজে এ সংবাদটি নিশ্চিত করে জানান, তারেক রহমানের এই অন্তর্ভুক্তি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করেছে। টাইম ম্যাগাজিনের এই তালিকায় স্থান পাওয়া বাংলাদেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য এক ইতিবাচক বার্তা বহন করে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারেক রহমানের এই বৈশ্বিক স্বীকৃতি এক অনন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই অর্জনে দেশজুড়ে আনন্দ ও গর্বের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। সরকারের নীতিনির্ধারক ও সাধারণ নাগরিকরা মনে করছেন, এটি কেবল একজন ব্যক্তির সম্মান নয়, বরং এটি বাংলাদেশের জনগণের দীর্ঘ লড়াই এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের পর একটি বৈষম্যহীন

Continue Reading

top1

কারাগার থেকে বার কাউন্সিল নির্বাচন করার সুযোগ চেয়ে সুমনের রিট

Published

on

By

বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। কেরানীগঞ্জ কেন্ত্রীয় কারাগারে বন্দি যুবলীগের সাবেক এ আইন সম্পদকের পক্ষে বুধবার (১৫ এপ্রিল) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় অ্যাডভোকেট লিটন আহমেদ এ রিট দায়ের করেন।

রিটে বিবাদী করা হয়েছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, আইন সচিব, বার কাউন্সিলের সচিব ও ঢাকার ডেপুটি কমিশনারকে। রিটের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী নিজে।

এর আগে ঢাকার জেলা প্রশাসক বরাবর ১৯ মে অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচন ফরমে স্বাক্ষর প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করা হয়। ব্যারিস্টার সুমনের আইনজীবী লিটন আহমেদ এ আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, ব্যারিস্টার সুমন আগামী ১৯ মে অনুষ্ঠিতব্য ‘বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচন-২০২৬’-এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক। এই নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্ধারিত ফরমে প্রার্থী ব্যারিস্টার সুমনের স্বাক্ষর প্রয়োজন।

ব্যারিস্টার সুমন যেন আসন্ন বার কাউন্সিল নির্বাচনের ফরমে স্বাক্ষর দিতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। ওই আবেদনে সাড়া না দেওয়ায় হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।

Continue Reading

Trending