Connect with us

top1

৩ কোটিতে বিএনপির মনোনয়ন চুক্তি, ৬৫ লাখ অগ্রিম

Published

on

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রবাসীর কাছ থেকে ৬৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সুনামগঞ্জ-৩ আসনে (শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুর) ধানের শীষের প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ; যিনি কয়ছর এম আহমেদ নামেই পরিচিত। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম ব্যবহার করে তিনি এ মনোনয়ন বাণিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিএনপি কর্মী আমিনুল ইসলাম মিঠুকে তিন কোটি টাকার বিনিময়ে রাজশাহী-৬ আসনে (চারঘাট ও বাঘা) মনোনয়ন নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অগ্রিম হিসেবে ৬৫ লাখ টাকা নেন কয়ছর। তবে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পাইয়ে দিতে না পারলেও কয়ছর আহমেদ টাকা ফেরত দিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন মিঠু। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিস্তারিত অনুসন্ধান করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে এশিয়া পোস্ট।

জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিএনপি কর্মী আমিনুল ইসলাম মিঠুর বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চন্ডিপুর বাজার এলাকায়। তিনি বর্তমানে নিউইয়র্কের ব্রঞ্চ শহরের স্টারলাইন এলাকায় বসবাস করেন। নিউইয়র্কের স্টারলাইন, জ্যাকসন হাইটস, চায়না টাউন ও ম্যানহাটনে তার একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় এবার তিনি নিজ এলাকা থেকে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করেন। তাকে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (তৎকালীন) তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দেওয়া যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কয়ছর আহমেদ। তিন কোটি টাকার বিনিময়ে মিঠুকে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার বিষয়ে কয়ছরের সঙ্গে আলোচনা, চুক্তি ও লেনদেনের বিষয়টি মধ্যস্থতা করেন রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি (মিঠুর পূর্ব পরিচিত) তোফাজ্জল হোসেন তপু।

চুক্তি মোতাবেক টাকা লেনদেনের জন্য আমিনুল ইসলাম মিঠুকে হোয়াটসঅ্যাপে দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠান কয়ছর আহমেদ। এছাড়া দলের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ও চূড়ান্ত হয়েছে মর্মে কিছু নথিপত্রও মিঠুকে পাঠান তিনি। সেসব নথিতে মিঠুর মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়েছে বলে দেখানো হয়। পরে গত বছরের অক্টোবর মাসে কয়ছরের দেওয়া অ্যাকাউন্টে মিঠুর পক্ষ থেকে কয়েক দফায় মোট ৬৫ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়। টাকা জমা দেন মিঠুর ছোট ভাই আবুল হোসেন, তোফাজ্জল হোসেন তপু, মিঠুর প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীর ভাই সাখাওয়াত (বাংলাদেশে অবস্থানরত) এবং নিউইয়র্কে মিঠুর ভাড়া বাসার মালিকের ভাই বিমল চন্দ্র পোদ্দার (বাংলাদেশে অবস্থানরত)।

টাকা পাওয়ার পর কয়ছর জানান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে কোনো সময় মিঠুকে ফোন করবেন। যদিও তারেক রহমান মিঠুকে কখনো ফোন করেননি কিংবা কোনো মাধ্যমে তার সঙ্গে কথাও বলেননি। দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার আগে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। কয়ছরের কথায় মিঠু তার বৃদ্ধ বাবাকে গুলশানে পাঠান। কিন্তু মিঠুর বাবাকে কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশের ব্যবস্থাও করতে পারেননি কয়ছর। শেষ পর্যন্ত মিঠু মনোনয়নও পাননি।

মনোনয়নবঞ্ছিত হওয়ার পর আমিনুল ইসলাম মিঠু কয়ছর আহমেদ ও তোফাজ্জল হোসেন তপুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের একটি গ্রুপ কলে আলোচনার অডিও এসেছে এশিয়া পোস্টের হাতে। ওই কথোপকথনে মনোনয়নের টোপ দিয়ে মিঠুর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চূড়ান্ত তালিকায় নাম না থাকার পরও মিঠুকে আশ্বস্ত করে ওই রেকর্ডিংয়ে তপুকে বলতে শোনা যায়, তিনি প্রয়োজনে নিজেই তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলবেন। তারপরও মনোনয়ন নিশ্চিত না হলে তারেক রহমানকে কৈফিয়ত দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তপু। এ সময় বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

আরও দেখুন

বই

সংবাদপত্র সাবস্ক্রিপশন

মতামত কলাম

মনোনয়ন তালিকা ও তারেক রহমানের নাম ব্যবহার

দলের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে ম্যানেজ করেই আমিনুল ইসলাম মিঠুর মনোনয়ন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন কয়ছর আহমেদ। এজন্য প্রথমে তিনি দলীয় মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের একটি তালিকা মিঠুর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান। সেখানে দেখা যায়, এক পাতায় রাজশাহী-৪, রাজশাহী-৫ ও রাজশাহী-৬ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা ও দুটি মন্তব্যের ঘর রয়েছে। ওই তালিকায় রাজশাহী-৬ এর ঘরে ক্রমান্বয়ে আবু সাঈদ চাঁদ, আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, নুরুজ্জামান খান মানিক ও শেষে আমিনুল ইসলাম মিঠুর নাম রয়েছে। মন্তব্যের ঘরে ইংরেজিতে লেখা, আমিনুল ইসলাম মিঠুর সঙ্গে কথা বলুন এবং তার নৈতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সামর্থ্য আছে কিনা আমাকে দ্রুত জানান। পরবর্তী মন্তব্যের ঘরে লেখা রয়েছে- থ্রিসি অর অ্যাবোভ, ডিপেন্ডিং অন পলিটিক্যাল ইনভলভমেন্ট {তিন সি (কোটি) বা বেশি, নির্ভর করছে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ওপর}। দুটি মন্তব্যের নিচেই লেখা, কমেন্টেড বাই তারেক রহমান অর্থাৎ মন্তব্য দুটি তারেক রহমানের। সেখানে তারিখ লেখা রয়েছে-৯ আগস্ট ২০২৫।

এর কয়েক দিন পর মিঠুর কাছে আরও একটি তালিকা পাঠান কয়ছর আহমেদ। যেখানে তিনটি আসনের মধ্যে রাজশাহী-৬ আসনে শুধু আমিনুল ইসলাম মিঠুর নাম। মন্তব্যের ঘরে লেখা-অ্যাপ্রুভড বাই চেয়ারপার্সন অর্থাৎ চেয়ারপারসনের মাধ্যমে অনুমোদিত। এর পরের লাইনে আগের মতো লেখা, থ্রিসি অর অ্যাবোভ, ডিপেন্ডিং অন পলিটিক্যাল ইনভলভমেন্ট [তিন সি (কোটি) বা বেশি, নির্ভর করছে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ওপর]। এই নথিতেও মন্তব্যের নিচে লেখা রয়েছে, কমেন্টেড বাই তারেক রহমান। তারিখ দেওয়া ২ অক্টোবর ২০২৫। মিঠুর দাবি, ৯ আগস্ট ও ২ অক্টোবরের এসব নথি ও তালিকা দেখে তিনি আশ্বস্ত হন এবং কয়ছরকে টাকা দেন।

মিঠুকে পাঠানো মনোনয়ন তালিকা

আমিনুল ইসলাম মিঠু বলেন, টাকা দেওয়ার পর কয়ছর একাধিকবার আমাকে বলেছেন, চেয়ারম্যান সাহেব (তারেক রহমান) যে কোনো সময় তোমার সঙ্গে কথা বলবেন। সুখবরটি তিনিই তোমাকে দেবেন। এজন্য সবসময় কোন নম্বর চালু থাকে সেটি জিজ্ঞেস করেন কয়ছর। তবে তারেক রহমান কখনোই মিঠুর সঙ্গে কথা বলেননি।

যেভাবে টাকা লেনদেন

অনুসন্ধানের তথ্য বলছে, কয়ছর আহমেদ যে দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর মিঠুকে দিয়েছেন তার একটি সিটি ব্যাংকের সাতক্ষীরা শাখার। যার শেষ চার অংক ৩০০১। এই অ্যাকাউন্টের মালিক শাওন আহমেদ সোহেল নামে এক ব্যক্তি। তবে সাতক্ষীরায় সোহেল নামের এই ব্যক্তির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। পরে এশিয়া পোস্টের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, অ্যাকাউন্ট সাতক্ষীরায় হলেও শাওন সোহেলের বাড়ি নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার নন্দীকুজা গ্রামে। বর্তমানে তিনি লন্ডনের হ্যাম্পশায়ারের গোল্ডস্মিথ অ্যাভিনিউয়ে বসবাস করেন। তার বিরুদ্ধে যশোরে একটি প্রতারণার মামলাও রয়েছে। ৬-৭ বছর আগে সোহেল লন্ডনে যান এবং কয়ছর আহমদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে তার বিভিন্ন বিষয় তদারকি করেন। সোহেলের বাবার নাম শাহজাহান আলী। তিনি সম্প্রতি একটি প্রতিরক্ষা বাহিনী থেকে অবসরে গেছেন।

শাওন আহমেদ সোহেলের ব্যাংক একাউন্টে দেওয়া ঠিকানা

সোহেলের সিটি ব্যাংকের ওই অ্যাকাউন্টের লেনদেনের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আমিনুল ইসলাম মিঠুর দেওয়া ৬৫ লাখ টাকার মধ্যে ১৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা আসমা আক্তার নামের এক নারীর অ্যাকাউন্ট ঘুরে শেষ পর্যন্ত সোহেলের অ্যাকাউন্টেই জমা হয়েছে। বাকি টাকা সরাসরি সোহেলের অ্যাকাউন্টেই জমা হয়েছে। পরে বিভিন্ন সময়ে আরটিজিএস ও এনপিএসবির (ব্যাংক থেকে দ্রুত বড় ও মাঝারি অঙ্কের টাকা ট্রান্সফারের পদ্ধতি) মাধ্যমে সে টাকা অন্যত্র পাঠানো হয়।

কয়ছর আহমেদের দেওয়া অপর অ্যাকাউন্টের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেটি অগ্রণী ব্যাংকের নেত্রকোনা শাখার। ওই অ্যাকাউন্টের শেষ চার অঙ্ক ০০০২। এটির মালিক আসমা আক্তার নামে এক নারী। তার বাড়ি নেত্রোকোনা সদরের দেওপুর গ্রামে।

আমিনুল ইসলাম মিঠুর দেওয়া তথ্য এবং শাওন আহমেদ সোহেল ও আসমা আক্তারের ব্যাংক তথ্য বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ৬৫ লাখ টাকার মধ্যে আসমা আক্তারের অ্যাকাউন্টে জমা হয় ১৭ লাখ ৮০ হাজার। এর মধ্যে গত বছরের ৫ অক্টোবর অগ্রণী ব্যাংকের ঢাকা বিজয়নগর শাখা থেকে আসমার অ্যাকাউন্টে ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা দেন তোফাজ্জল হোসেন তপু। একই দিন ওই অ্যাকাউন্টে পল্লবী শাখা থেকে আরও ৫ লাখ টাকা জমা দেন মিঠুর ভাই আবুল হাসান। এই ১৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা থেকে ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা গত ৮ অক্টোবর আরটিজিএস করে শাওনের সিটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। বাকি টাকার মধ্যে ৫ লাখ লেনদেন হয় কুয়েতে।

পল্লবী শাখায় টাকা জমা দেওয়ার রশিদএদিকে ৫ অক্টোবর মিঠুর ছোট ভাই আবুল সিটি ব্যাংকের পল্লবী শাখা থেকে শাওন আহমেদ সোহেলের সাতক্ষীরার অ্যাকাউন্টে ৬ লাখ ৫০ হাজার ও ৬ লাখ টাকা জমা দেন। একই দিনে ডাচ-বাংলা ব্যাংক থেকে মিঠুর কর্মচারীর ভাই সাখাওয়াত এনপিএসবি করে ৩ লাখ, ২ লাখ ৫০ হাজার জমা দেন। ৬ অক্টোবর রুপালি ব্যাংকের বরিশাল শাখা থেকে সোহেলের সাতক্ষীরার সিটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ টাকা আরটিজিএস করে পাঠান বিমল চন্দ্র পোদ্দার।সাতক্ষীরার অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেওয়ার রশিদ

কয়ছর-সোহেল-আসমার সম্পর্ক কী

লেনদেনের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে নেত্রকোনার দেওপুর গ্রামে আসমার বাড়িতে যান এশিয়া পোস্টের জেলা প্রতিনিধি। যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতার অবৈধ টাকা কীভাবে আসমার অ্যাকাউন্টে লেনদেন হয়েছে তা জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। অবশ্য তিনি দাবি করেছেন, অ্যাকাউন্টটি তার স্বামী দেখভাল করেন।

আসমার স্বামী আব্দুস সালামের সঙ্গেও যোগাযোগ করে এশিয়া পোস্ট। সালাম একটি প্রতিরক্ষা বাহিনীতে চাকরি করেন। বর্তমানে কুয়েতে ওই বাহিনীর হয়ে একটি মিশনের কাজ করছেন। তার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জানা যায়, সোহেলের বাবা শাহজাহানও ওই একই মিশনে কর্মরত ছিলেন। অর্থাৎ আসমার স্বামী ও সোহেলের বাবা সহকর্মী ছিলেন।

ঘটনা স্বীকার করেছেন আসমার স্বামী

কুয়েত থেকে আসমার স্বামী আব্দুস সালাম মোবাইল ফোনে এশিয়া পোস্টকে বলেন, কুয়েতে অবস্থানকালে সহকর্মী শাহজাহান আলী আসমার অ্যাকাউন্টে ওই টাকা পাঠিয়েছিলেন। পরে সেখান থেকে নিজের ছেলে শাওন সোহেলের অ্যাকাউন্টে ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা ট্রান্সফার করেন শাহজাহান। বাকি ৫ লাখ ক্যাশ নিয়েছেন।

আব্দুল সালাম টাকা গুণে শাহজাহানকে দিচ্ছেন এমন ভিডিও ফুটেজও পেয়েছে এশিয়া পোস্ট। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ব্যাংক থেকে তোলা টাকা গুনে নিচ্ছেন শাহজাহান।কিন্তু এই টাকা কেন আসমার অ্যাকাউন্টে লেনদন করা হয়েছে তা জানতে চাইলে সদুত্তর দিতে পারেননি সালাম। শাহজাহান মিয়ার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সোহেলের বক্তব্য

এসব বিষয়ে কথা বলতে লন্ডনে অবস্থানরত শাওন আহমেদ সোহেলের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে যোগাযোগ হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সোহেল বলেন, তিনি কয়ছর আহমেদ কিংবা আমিনুল ইসলাম মিঠু নামে কাউকে চেনেন না।

তাহলে কয়ছর আহমেদ সংশ্লিষ্ট লেনদেনে তার অ্যাকাউন্ট কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এমন প্রশ্ন করলে সোহেল দাবি করেন, বাংলাদেশ থেকে পরিচিত একজন তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে। এ কারণে লেনদেন সংক্রান্ত কোনো তথ্য তার কাছে নেই। এ লেনদেনের সঙ্গে তার বাবার সম্পৃক্ততার বিষয়টি উবল্লেখ করলে সোহেল বলেন, বাবা ও পরিবারের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

বাড়ি নাটোরে অ্যাকাউন্ট কেন সাতক্ষীরায়

সাওন আহমেদ সোহেলের বাড়ি নাটোরে হলেও সাতক্ষীরায় কীভাবে ও কেন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করেছেন তা জানতে চাইলে সিটি ব্যাংকের সাতক্ষীরা শাখার ম্যানেজার রবিউল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, সিটি ব্যাংকে এক সময় অনলাইনে অ্যাকাউন্ট করা যেত। তখন করে থাকতে পারে। অনেকে এই সুযোগটা নিয়েছে জানতে পেরে সিটি ব্যাংক অনলাইনে অ্যাকাউন্ট করার পদ্ধতি বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানান তিনি।

কথা বলতে চেয়েও বলেননি কয়ছর

এ বিষয়ে কথা বলতে সুনামগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কয়ছর এম আহমেদের সঙ্গে বৃহস্পতিআর (৫ ফেব্রুয়ারি) মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তাকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মিঠুর সঙ্গে লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এখন কথা বলতে পারবেন না বলে জানান। তবে পরবর্তীতে তাকে একাধিকবার কল দিলেও আর রিসিভ করেন। পরে তার মোবাইলে ও হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠানো হলেও সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই মন্তব্য করতে রাজি হননি। এমনকী তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে সেটিও প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।

দায় এড়াতে পারে না দল : টিআইবি

নির্বাচনের মনোনয়ন বাণিজ্যের বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমরা দেখেছি জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী ৫ আগস্ট থেকেই সারা দেশে বিভিন্নভাবে যারা ক্রিয়াশীলরা বড় রাজনৈতিক দলগুলো যে ধরনের দলবাজি, দখলবাজি, চাঁদাবাজি ইত্যাদি শুরু করেছে, সেটারই একটা দৃষ্টান্ত। রাজনৈতিক অবস্থান বা নির্বাচনের অবস্থানটা বা জনপ্রতিনিধি অবস্থানটা দেখা হয় দুর্নীতি করার বা ক্ষমতা ব্যবহার করার লাইসেন্স হিসেবে। সেই কারণে এই লাইসেন্সটা পাওয়ার জন্য কেনাবেচা হয়। এটারই একটা দৃষ্টান্ত।

এ ঘটনায় জড়িতদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে মন্তব্য করে ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ঘটনা সঠিক হলে সংশ্লিষ্ট দলও দায় এড়াতে পারে না। এখানে একাধিক অপরাধ রয়েছে। প্রথমত, অবৈধ লেনদেন অপরাধ- যেটা কেউ করতে পারে না। দ্বিতীয়ত নির্বাচনে অংশগ্রহণযোগ্য করার জন্য প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া, যেটা করতে পারেন না এবং সেটাকে এইভাবে মনোনয়নের অঙ্গীকার করে প্রতারণামূলকভাবে আশ্রয় নিতে পারেন না।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, এটা অবৈধ লেনদেন মোটামুটি পরিষ্কারভাবে। যেহেতু সংঘটিত হয়েছে, কাজেই এর সঙ্গে যারা সরাসরি জড়িত তাদের তো অবশ্যই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিতায় আনতে হবে। অন্যদিক থেকে, এর সাথে রাজনৈতিক দলে যারা জড়িত, তাদের ক্ষেত্রে এটা একক মনে করার কোনো সুযোগ নেই।

সুত্র: এশিয়া পোস্ট

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর: যুবলীগ নেতা অনিক গ্রেপ্তার

Published

on

By

অনলাইন ডেস্ক

জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শাহ আলম অনিককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ভাষানটেক থানা যুবলীগের সহসভাপতি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিবি সূত্রের দাবি, মিরপুরের সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত শাহাদাতের সঙ্গে অনিকের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। শাহাদাত ও ইব্রাহিমের হয়ে অনিক এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে সূত্রটি।

অনিককে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুর রহমান বলেন, তাকে কিছুক্ষণ আগে আটক করে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ডিবি সূত্রের দাবি, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ইসিবি চত্বরের কাছে নিউ গিনি কনডোমিনিয়াম সিটিতে সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় অনিক সরাসরি জড়িত ছিলেন। তবে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনিককে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিল ও মিরপুরের সাবেক স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত করা হতো। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিরপুর, ভাষানটেক, কাফরুল, পল্লবী ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার কথাও জানিয়েছে সূত্র।

এ ছাড়া ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে অনিক সামনের সারিতে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও সংগঠিত করার সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন বলে সূত্রের দাবি।

মিরপুর, পল্লবী, ভাষানটেক ও কাফরুল এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাতেও অনিকের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছে সূত্র। বিদেশ থেকে আসা বিভিন্ন নির্দেশনা দেশে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তিনি ভূমিকা রাখতেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের ছোট ভাই মোতাহার হোসেন খান সুফলকে গ্রেপ্তার করা হয়। সূত্রের দাবি, সুফল ও অনিক একসঙ্গে ঢাকায় অস্থিরতা তৈরির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।

Continue Reading

top1

ফ্যাসিবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা, পুলিশকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Published

on

By

পুলিশের মধ্যে কেউ কেউ এখনো ফ্যাসিবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, তাদের নানা ধরনের সংবাদ দিচ্ছে। এমন কার্যক্রমে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর ‘পদক প্রদান অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের মধ্যে কেউ কেউ এখনো ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে, তাদের নানা ধরনের সংবাদ দিচ্ছে। পুলিশের কোন সদস্য শৃঙ্খলা না মানলে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকার পিছপা হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পানিশমেন্ট-রিওয়ার্ড’ চালু থাকবে। যারা ভালো কাজ করবেন এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের পুরস্কৃত করা হবে। আর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, শৃঙ্খলাভঙ্গ কিংবা কোনো ধরনের অপরাধে জড়িত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার ও অপব্যবহারের অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে। অনেক পুলিশ সদস্যকে অবৈধ নির্দেশ পালনেও বাধ্য করা হয়েছিল। তবে এখন তাদের সামনে নিজেদের সংশোধন ও নতুনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণ এখন রাজা-বাদশাহ নয়, ‘জনগণের পুলিশ’ দেখতে চায়। কোনো সিনিয়র কর্মকর্তা এমন কর্মকাণ্ড করবেন না, যা জনগণের কাছে অস্বাভাবিক বা অগণতান্ত্রিক মনে হয়। একইভাবে অধস্তন কোনো সদস্যের এমন কর্মকাণ্ডেও অনুমতি বা আশ্রয় দেওয়া যাবে না, যা সমাজে অশান্তি বা অস্বস্তি তৈরি করে।

তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে ভুলত্রুটি থাকলেও কেউ যদি সৎভাবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেন, তাহলে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা কিংবা অপরাধ সংঘটিত হলে তার পরিণতি ভালো হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এজন্য পুলিশ বাহিনীর জনবল, সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সুবিধা বাড়ানো হবে।

পুলিশের আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে সাইবার নিরাপত্তা ইউনিট গঠনের কথাও জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে আলাদা সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠন করা হবে। এর সদর দপ্তরের পাশাপাশি মেট্রো, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে শাখা থাকবে। আধুনিক প্রযুক্তি, ফরেনসিক ল্যাবসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অপরাধের বড় একটি অংশ সাইবার স্পেসকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হচ্ছে। তাই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও অপরাধ দমনের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটকে নতুন কাঠামোর আওতায় এনে আরও কার্যকর করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী মেট্রো ও অন্যান্য এলাকায় বিশেষ ইউনিটের সক্ষমতা বাড়ানো হবে এবং অবকাঠামো ও লজিস্টিক সুবিধা দেওয়া হবে।

পুলিশের দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব পুলিশের সবচেয়ে বেশি। সততা, ন্যায়নিষ্ঠা, কর্তব্যপরায়ণতা ও দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করলে পুলিশই সমাজ পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে পারে।

তিনি বলেন, ‘২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর আসার আগেই আপনাদের পরিবর্তনটা দেখাতে হবে’।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পুলিশকে স্বাধীনভাবে ও আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিচ্ছে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না। আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশকে আহ্বান জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যারা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিষয়ে পুলিশের গোয়েন্দা সক্ষমতা কাজে লাগাতে হবে। দেশের জনগণের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Continue Reading

top1

ইবিতে প্রেমিক যুগল ধরা, বিয়ের সিদ্ধান্ত

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের (প্রেমিক যুগল) হাতেনাতে ধরেছে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানীয়রা। প্রক্টরিয়াল বডির সিদ্ধান্তে আগামীকাল (২৬ সেপ্টেম্বর) বিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন একটি মেসের পাশে এই ঘটনা ঘটে। প্রেমিক যুগল শিক্ষার্থীরা হলেন- মার্কেটিং বিভাগের ২০২৩-২৪ বর্ষের এক ছাত্র এবং হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২৪-২৫ বর্ষের এক ছাত্রী।

জানা গেছে, ওই মার্কেটিং বিভাগের ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন মল্লিক মেসে থাকেন। রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে হস্তান্তর করেন। পরে প্রক্টর অফিসে আনা হলে স্বীকারোক্তি দিয়ে বিয়ের সম্মতি দেয় প্রেমিক যুগল। প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানের সিদ্ধান্তে কাল (২৬ সেপ্টেম্বর) উভয় পক্ষের পিতামাতার উপস্থিতিতে বিয়ে পড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারা কয়েকমাস ধরে নিয়মিত নির্জন জায়গায় বসে। তাদের গতিবিধি লক্ষ্য রেখে এবার হাতেনাতে ধরে তারা। পরে নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে তুলে দেয়। তবে ওই সময় ছাত্রকে চড় থাপ্পড় মারছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের বিরুদ্ধে।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, দুই শিক্ষার্থকে প্রক্টর অফিসে এনে জিজ্ঞেসাবাদ করলে তারা স্বীকারোক্তি দেয়। পরে বিয়ের সম্মতি জানান তারা। বাবা-মাকে আহ্বান করবো। তারপর বিয়ে দিয়ে দিব। অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এছাড়া মেয়েটি যে মেসে থাকে ওই মেস মালিককে তলব করবো, যেহেতু সাড়ে ৮টার মধ্যে মেসগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

Continue Reading

Trending