ব্যর্থতা ঢাকতে ছাত্রদলের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে সরকার: সাদিক কায়েম
দেশের চলমান জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সরকার ও ছাত্রদলের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) মধ্যরাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে তিনি দেশব্যাপী অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করেছেন।
সাদিক কায়েম তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার যখন জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, কূটনৈতিক দুর্বলতা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে, তখন সেই ব্যর্থতা আড়াল করতেই তারা ছাত্রদলের লাঠিয়াল বাহিনীর হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসে রামদা ও চাপাতি নিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হচ্ছে এবং ভুয়া স্ক্রিনশট ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার ও হত্যাচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে তিনি জানান, একটি ফেসবুক স্ক্রিনশটকে ঘিরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু হয়, যা পরে ফ্যাক্ট চেকিং প্লাটফর্মে ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনার বিচার ও নিরাপত্তার আবেদন জানাতে গিয়ে শাহবাগ থানায় গিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, উবায়দুর রহমান হাসিবসহ ডাকসু ও হল সংসদের একাধিক নেতা ছাত্রদলের হামলার শিকার হয়েছেন। হামলায় মুসাদ্দিক, জুবায়ের, আলভি, সাদিক, জুমা ও সালমাসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও তিনি জানান।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়টিও ডাকসু ভিপি তার স্ট্যাটাসে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত ১৬ জন ক্যাম্পাস সাংবাদিককে ছাত্রদল হেনস্তা করেছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের কাছে সাহায্য চেয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পুরো বিষয়টিকেই তিনি শিক্ষাঙ্গনকে অস্থিতিশীল করার একটি পূর্বপরিকল্পিত অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
পরিশেষে, সাদিক কায়েম সরকারের মন্ত্রী এবং বিএনপি নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ছাত্রদলের এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ড অদূর ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধেই ব্যাকফায়ার করবে এবং বর্তমান প্রজন্ম ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের কর্তৃত্ববাদী বা অস্ত্রনির্ভর রাজনীতি মেনে নেবে না
কলেজে ঢুকে শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করলেন বিএনপি নেতা
রাজশাহীর দুর্গাপুরে দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ঢুকে এক শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা আকবর আলীর বিরুদ্ধে। এসময় কলেজে ভাঙচুর ও অন্য শিক্ষককেও মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় অন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ ও নারী শিক্ষকসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
পরীক্ষাকেন্দ্র হওয়ায় কলেজ ও আশপাশের ১০০ গজ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি ছিল এবং সকাল থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বলেন, দুপুরের দিকে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের কক্ষে গিয়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। বিশেষ করে আগের অধ্যক্ষের সময়ে কলেজের আয়-ব্যায়ের হিসাব চান তারা। এ নিয়ে তাদের মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।
এক পর্যায়ে তারা প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরাকে মারধর করেন। এর কিছুক্ষণ পর বিএনপির নেতাকর্মীরা গিয়ে অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন শিক্ষকের ওপর হামলা চালান। এসময় অফিস কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুরও করা হয়।
হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা, অধ্যাপক রেজাউল করিম আলমসহ আরও দুই কর্মচারী।
তাদের কয়েকজনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’
প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা বলেন, ‘বিভিন্ন সময় কলেজে এসে তারা হিসাব চাইতেন, মূলত চাঁদার দাবিই ছিল তাদের। অধ্যক্ষের পাশে থেকে প্রতিবাদ করায় আমিও হামলার শিকার হয়েছি।’
স্থানীয় বিএনপি নেতা আকবর আলী দাবি করেন, কলেজের আগের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির হিসাব চাইতে গেলে উল্টো তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। তার অভিযোগ, শিক্ষক আলেয়া খাতুন হীরা প্রথমে আমাদের ওপর হামলা করেন।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের অভিযোগ, চার মাস আগে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেওয়ার পর থেকেই বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপ তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করায় বিরোধের সূত্রপাত ঘটে।
দুর্গাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কায় পুলিশ আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিল এবং উভয় পক্ষকে নিবৃত করার চেষ্টা করা হয়। তবে কিছু লোক জোরপূর্বক প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে
দুটি বিমানবাহী রণতরিসহ ২৬ যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের
মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব আরও সুসংহত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। চলমান ইরান অবরোধ কার্যকর করার লক্ষ্যে ওই অঞ্চলে বর্তমানে দুটি বিমানবাহী রণতরিসহ অন্তত ২৬টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই নজিরবিহীন সামরিক তৎপরতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ কার্যকর করতে মাঠে নেমেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এই অভিযানের অংশ হিসেবে কৌশলগত অবস্থান থেকে যুদ্ধজাহাজগুলো মোতায়েন করা হয়েছে। ভারত মহাসাগরসহ বিভিন্ন এলাকায় এ পর্যন্ত অন্তত তিনটি জাহাজে তল্লাশি চালিয়েছে মার্কিন সেনারা, যার মধ্যে দুটি অভিযান পরিচালনা করা হয় পারস্য উপসাগর থেকে প্রায় দুই হাজার মাইল দূরে ভারত মহাসাগরে।
সর্বশেষ বুধবার রাতে ভারত মহাসাগরে নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন একটি তেলবাহী জাহাজে অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি ইরান থেকে তেল পরিবহন করছিল।
বর্তমানে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) অধীনে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় ১৯টি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এই বিশাল নৌবহরের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দুটি বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। তাদের সাথে পাহারায় রয়েছে ইউএসএস বেইনব্রিজ, ইউএসএস টমাস হাডনার, ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই পিটারসেন জুনিয়র, ইউএসএস ডেলবার্ট ডি ব্ল্যাক, ইউএসএস মাইকেল মারফি, ইউএসএস মিটশার, ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা, ইউএসএস স্প্রুয়েন্স, ইউএসএস মিলিয়াস, ইউএসএস চার্চিল, ইউএসএস ট্রাক্সটন ও ইউএসএস মাহান নামক ১২টি ডেস্ট্রয়ার। এছাড়া এই বহরে যুক্ত রয়েছে ইউএসএস ক্যানবেরা ও ইউএসএস তুলসা নামক দুটি কমব্যাট শিপ এবং ইউএসএস ত্রিপোলি, ইউএসএস নিউ অরলিন্স ও ইউএসএস রাশমোর নিয়ে গঠিত অ্যাম্ফিবিয়াস গ্রুপ।
মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ভারত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় আলাদাভাবে টহল দিচ্ছে আরও সাতটি যুদ্ধজাহাজ। এর মধ্যে রয়েছে ইউএসএস জন ফিন, ইউএসএস পিঙ্কনি, ইউএসএস হিগিন্স, ইউএসএস মাস্টিন, ইউএসএস ম্যাকফল, ইউএসএস জন এল. ক্যানলি এবং ইউএসএস সান্তা বারবারা। সিএনএন-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অঞ্চলটিতে মার্কিন বাহিনীর এই বিপুল উপস্থিতি ইরানবিরোধী নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা এবং ওই এলাকায় নিজেদের কৌশলগত আধিপত্য বজায় রাখার প্রচেষ্টারই বহিঃপ্রকাশ।
জুবায়েরের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন ছাত্রদলের শিপন
রাজধানীর শাহবাগ থানায় বৃহস্পতিবার রাতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর ছবি পোস্ট করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনার সৃষ্টি হয় । সংঘর্ষের এক পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের ও সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ ছবি পোস্টের প্রতিবাদে এবং এ বিষয়ে মামলা করতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শাহবাগ থানায় উপস্থিত হন। খবর পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ও ডাকসুর কয়েকজন প্রতিনিধিও ঘটনাস্থলে পৌঁছান। থানায় জিডি করা বা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে পরিস্থিতির অবনতি হয়। দুই পক্ষই একে অপরের মুখোমুখি অবস্থান নিলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ডাকসু নেতা মুসাদ্দিক এবং এ বি জুবায়ের হামলার শিকার হন। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের রক্ষার চেষ্টা করেন এবং ঢাল হয়ে দাঁড়ান। সংঘর্ষ ও উত্তেজনার কারণে থানা এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে
লাস্ট আপডেট বেঁচে আছি এখনও, নাও থাকতে পারতাম
প্রধানমন্ত্রীর এডিটেড ছবি নিয়ে শাহবাগ থানায় জিডি করতে গেলে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) হামলার পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন।
নিজ ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে জুবায়ের বলেন, ‘বেঁচে আছি এখনো। একটা ভুয়া স্ক্রিনশটকে কেন্দ্র করে আমাদের এক শিক্ষার্থীর ওপরে চড়াও হয় ছাত্রদল। তাকে সহযোগিতা করতে যাওয়া আরো কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সেখানে আটকে রাখা হয়। সূর্যসেন হল সংসদের সদস্য ছোটভাই আলভিকে মারধর করে সন্ত্রাসীরা।’
তিনি বলেন, আমরা ডাকসুর প্রতিনিধি। শিক্ষার্থীদের বিপদে-আপদে আমাদের একটা রেসপনসেবলিটি আছে। মুসাদ্দিক, জুমা, উম্মে সালমাসহ ডাকসুর কয়েকজন প্রতিনিধি সেখানে যাই প্রশাসনের সাথে কথা বলে আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে আসতে। থানায় ঢুকার মুখে গেইট থেকেই আমাদের মারধর শুরু করে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা। দুই শতাধিক স’ন্ত্রাসী ঘিরে ধরে বৃষ্টির মতো ঘুসি, কিল, লাত্থি…বাকিটা দেখলেনই! লাস্ট আপডেট বেঁচে আছি এখনো, নাও থাকতে পারতাম হয়তো। আল্লাহর ইচ্ছা। গা-ভর্তি ব্যথা নিয়ে শুয়ে আছি হাসপাতালের বেডে।
যাইহোক, এসব করে আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না। সন্ত্রাস, সহিংসতা, গণরুম, গেস্টরুমের কালচার যারাই ফিরিয়ে আনতে চাইবে তাদের সামনেই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে যাবো। কি আর করবেন? মেরেই ফেলবেন নাহয়!! মারেন অসুবিধা নাই। বাট মেরে ফেলার আগ পর্যন্ত এ লড়াই চলবেই ইনশাআল্লাহ।
লেবানন-সিরিয়ায় স্থায়ী ইহুদি বসতি স্থাপন করছে ইসরায়েল
লেবানন ও সিরিয়ার সার্বভৌম ভূখণ্ডে ইসরায়েলি উগ্রপন্থীদের একটি দল অবৈধভাবে প্রবেশ করে সেখানে নতুন করে ইহুদি বসতি স্থাপনের দাবি তুলেছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় দক্ষিণ লেবাননের বেশ কিছু এলাকায় ঢুকে পড়া এই উগ্রপন্থীরা সীমান্ত অতিক্রম করে কয়েকশ মিটার অভ্যন্তরে চলে যায়।
লেবাননে বসতি স্থাপনের পক্ষে প্রচার চালানো একটি গোষ্ঠীর প্রচারিত ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, উগ্র ডানপন্থী ইসরায়েলিরা দক্ষিণ লেবাননের ভেতরে অবস্থান নিয়ে ঘোষণা দিচ্ছে, ‘আমাদের কর্মীরা এখন দক্ষিণ লেবাননে’ এবং তারা সেখানে স্থায়ী বসতি স্থাপনের কাজ ‘পুনরায় শুরু করার’ আহ্বান জানাচ্ছে। তারেক শুইরেফের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
লেবাননে অনুপ্রবেশের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে ‘বাশান পাইওনিয়ার্স’ নামক একটি আন্দোলনের কয়েক ডজন ইসরায়েলি দখলদার সিরিয়ার হাদের গ্রামে প্রবেশ করে। সেখানে তারা একটি ভবনের ওপর উঠে ইসরায়েলি পতাকা ওড়াতে শুরু করে, যেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে।
ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টার জানিয়েছে, লেবানন ও সিরিয়া— উভয় দেশেই অনুপ্রবেশকারী এই বেসামরিক নাগরিকদের পরবর্তীতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সিরিয়া থেকে তারা অন্তত ৪০ জন ইসরায়েলি নাগরিককে ফেরত নিয়ে এসেছে।
এই অনুপ্রবেশের ঘটনাটি মূলত তথাকথিত ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ বা ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসরায়েলের চরমপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচসহ অনেক উগ্রপন্থী নেতা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, গাজা উপত্যকা এবং পশ্চিম তীর দখলের পাশাপাশি সিরিয়া, জর্ডান এবং লেবাননের মতো প্রতিবেশী সার্বভৌম দেশগুলোর ভূখণ্ডেও ইসরায়েলকে সম্প্রসারিত করতে হবে।
গত ২ মার্চ ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে লেবাননের ওপর ইসরায়েলি হামলা ও আগ্রাসনের ফলে এ পর্যন্ত ২ হাজার ২০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
উদ্বেগজনক বিষয় হলো, গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে ১০ দিনের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও ইসরায়েলি হামলা ও এই ধরনের অনুপ্রবেশের ঘটনা থামছে না।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বসতি স্থাপনকারীদের এই উস্কানিমূলক পদক্ষেপ যুদ্ধবিরতিকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে এবং আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও উসকে দিচ্ছে। লেবানন ও সিরিয়া উভয় পক্ষই একে তাদের ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে উগ্রপন্থীদের এমন হঠকারী কর্মকাণ্ড শান্তি প্রক্রিয়ার পথে একটি বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ছোট হচ্ছে বালেন্দ্র শাহর মন্ত্রিসভা, এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ
আর্থিক ও ব্যাবসায়িক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে পদত্যাগ করেছেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং। দায়িত্ব নেওয়ার ২৭ দিনের মাথায় তিনি পদত্যাগ করেছেন জানিয়েছে কাঠমাণ্ডু পোস্ট।
অভিযোগ উঠেছে, অর্থপাচারের তদন্তে থাকা ব্যবসায়ী ডিপক ভাট্টার সঙ্গে তার ব্যাবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে—এমন প্রেক্ষাপটেই তিনি পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর আগে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দেশটির শ্রম, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা মন্ত্রী দীপক কুমার শাহকে তার পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে গুরুং জানান, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং দায়িত্বে থেকে কোনো ধরনের স্বার্থের সংঘাত বা তদন্তে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা এড়াতেই তিনি পদত্যাগ করেছেন।
তার বিনিয়োগ (বিশেষ করে শেয়ারবাজারে অংশগ্রহণ) নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তা তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নৈতিকতা আমার কাছে পদমর্যাদার চেয়েও বড়, আর জনবিশ্বাসের চেয়ে শক্তিশালী কিছু নেই।’
দেশে চলমান ‘জেন-জি’ আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে গুরুং বলেন, ‘এই আন্দোলন সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবি জোরালো করেছে, যা নেতৃত্বের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।’
বিতর্কের পর তিনি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এর আগে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, ‘অভিযোগ আর সত্য এক নয়। সিদ্ধান্ত হতে হবে প্রমাণের ভিত্তিতে, আবেগ দিয়ে নয়।’
৩৬ বছর বয়সী গুরুং গত ২৭ মার্চ বালেন্দ্র শাহ নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এর আগে তিনি গত সেপ্টেম্বরের ‘জেন জি’ আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন, যে আন্দোলনের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসে।
উল্লেখ্য, বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের এটি দ্বিতীয় মন্ত্রীর পদত্যাগ। এর আগে গত ৯ এপ্রিল শ্রম, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তামন্ত্রীকে বরখাস্ত করা হয়। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি তার অপসারণের সুপারিশ করে।
১০ বছর পর তনু হত্যা মামলায় প্রথম গ্রেপ্তার
দীর্ঘ ১০ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় প্রথম কোনো অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্তের এক পর্যায়ে পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম অভিযান চালিয়ে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে তার বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করেন।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে তাকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হকের আদালতে হাজির করা হলে আদালত শুনানি শেষে তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই মামলায় এ পর্যন্ত ৪টি সংস্থার ৭ জন তদন্ত কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ১০ বছরে মামলার শুনানির জন্য অন্তত ৮০টি ধার্য তারিখ অতিবাহিত হলেও প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তে দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তা ছিল। সম্প্রতি মামলার তদন্তে নতুন গতি আসে। গত ৬ এপ্রিল মামলার সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার জন্য আদালতের কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন। আদালতের সেই নির্দেশনার পরই তদন্তকারী সংস্থা এই গ্রেপ্তারের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
এদিকে গ্রেপ্তারের দিন বিকেল ৫টার দিকে মামলার বাদী ও তনুর পরিবারের সদস্যরা কুমিল্লা আদালতে উপস্থিত হন। দীর্ঘ এই সময়ে বারবার ন্যায়বিচারের আশা নিয়ে আদালতে আসা তনুর বাবা-মা ও ছোট ভাই রুবেল হোসেনকে আজ বেশ আবেগপ্রবণ দেখা গেছে। বর্তমানে আদালতে তাদের জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
দীর্ঘ ১০ বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে মামলার প্রথম অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে তনু হত্যাকাণ্ডের জট খুলবে বলে এখন নতুন করে আশা করছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন মহল। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রিমান্ডে প্রাপ্ত তথ্য এবং ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করলে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।
শেখ হাসিনাই গুম-নির্যাতনের জন্য দায়ী, সাক্ষী মাসরুর আনোয়ার
টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম-নির্যাতনের পেছনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়ী নন বলে দাবি করেছিলেন তার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন। তবে এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করে ক্ষমতাচ্যুত এই প্রধানমন্ত্রীকেই দায়ী করেছেন গুম থাকা সাক্ষী মাসরুর আনোয়ার চৌধুরী।
বুধবার (২২ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ জেরা অনুষ্ঠিত হয়।
এ মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হয়ে জেরা করেন আমির হোসেন। মাসরুরকে গুম-নির্যাতন ও ক্যারিয়ার নষ্টের জন্য তার মক্কেল শেখ হাসিনা দায়ী নন বলে দাবি করেন তিনি।
একইসঙ্গে ক্যারিয়ার নষ্টের জন্য সাক্ষী নিজেই দায়ী বলে উল্লেখ করেন। এছাড়া ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের হওয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অসত্য সাক্ষ্য দিয়েছেন।
জবাবে মাসরুর বলেন, গুম-নির্যাতন ও আমার ক্যারিয়ার নষ্ট করার জন্য শেখ হাসিনাই দায়ী। কোনোভাবেই আমি দায়ী নন। ট্রাইব্যুনালে অসত্য কোনো সাক্ষ্য দেইনি।
এছাড়াও মাসরুর আনোয়ারকে জেরা করেন তাবারক হোসেন, আবুল হাসানসহ অন্য আইনজীবীরা। জেরায় সাক্ষীকে বিভিন্ন প্রশ্নের বাণে ফেলেন তারা।
আটকের পর মোদিবিরোধী পোস্টটি দেখানো হয়েছিল কি না আইনজীবীর প্রশ্নে মাসরুর জানান, নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মোদিবিরোধী পোস্টটি দেখানো হয় তাকে। কিন্তু মুছে ফেলতে বলা হয়নি। নিজেও তা সরিয়ে নেননি। তবে ফেসবুক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ডসহ সবকিছু তারা নিয়ে নেন; যা আর ফেরত দেওয়া হয়নি।
এ সময় সাক্ষীর উদ্দেশে আইনজীবী তাবারক বলেন, ‘বাংলাদেশে আগমন উপলক্ষে ফেসবুকে নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে পোস্ট দেওয়ার কারণে আপনাকে আটক বা গুম করা হয়নি। জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে আটক করা হয়।’
জবাবে সত্য নয় বলে জানান মাসরুর। তিনি বলেন, ‘মোদিবিরোধী পোস্ট দেওয়ার কারণে আমাকে আটক করা হয়। জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’
জেরায় তিনি উল্লেখ করেন, এটা সত্য নয় যে, কৌশল খাটিয়ে আমি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে কথিত টিএফআই সেল পরিদর্শনে যাই। এরপর সবকিছু দেখে এ সংক্রান্ত একটি গল্প বা নাটক তৈরি করি। এ ছাড়া টিএফআই সংক্রান্ত সব কথা অসত্য।
এ পর্যায়ে সাক্ষীর কাছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মসজিদ তৈরির অর্থ সংগ্রহের তথ্য জানতে চান তাবারক। একই সঙ্গে চ্যারিটির কার্যক্রমের আড়ালে জঙ্গি তৎপরতা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রত্যুত্তরে মাসরুর বলেন, ‘আমার সহকর্মী, বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে মসজিদ তৈরি করি। এ কাজের আড়ালে অন্য কোনো তৎপরতা চালানো হয়নি।’
তাবারক দাবি করেন, ‘আপনি মেজর সৈয়দ জিয়াউল হকের ‘মুক্তি পরিষদ’ নামে সংগঠনের নেতৃত্বস্থানীয় একজন লোক। অথচ জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।’
জবাবে সত্য নয় জানিয়ে মাসরুর বলেন, ‘মুক্তি পরিষদের কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই। কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে জিয়াউল হককে বরখাস্তের খবরটিও জানা নেই।’
এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট আসামি ১৭ জন। এর মধ্যে সাবেক-বর্তমান ১০ জন সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেলে রয়েছেন। বাকিরা পলাতক আছেন।
এদিকে, এই মামলার তিন নম্বর সাক্ষীর জেরা শেষ হয়েছে। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৪ মে দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
৩৬ টাকা কেজিতে ধান, ৪৯ টাকায় সেদ্ধ চাল কিনবে সরকার
চলতি বোরো মৌসুমের ১৮ লাখ মেট্রিক টন ধান-চাল ও ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম সংগ্রহ শুরু করবে সরকার। আগামী ৩ মে থেকে প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে বোরো ধান, ৪৯ টাকা দরে সেদ্ধ চাল, ৪৮ টাকা দরে আতপ চাল এবং ৩৬ টাকা দরে গম কেনা হবে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ৩ মে থেকে বোরো ধান ও গম কেনা শুরু হবে, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। ১৫ মে থেকে চাল কেনা শুরু হয়ে চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। ৩১ আগস্টের পর সময় বাড়ানোর প্রয়োজন হলে মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চালের জাতীয় চাহিদা ৪ কোটি ২৪ লাখ মেট্রিক টন। উৎপাদন এর কাছাকাছি, ঘাটতি নেই। এ বছর মৌসুম ভালো, আবহাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী দুর্যোগেরও আশঙ্কা নেই। সে হিসেবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন। জাতীয়ভাবে নিরাপত্তা মজুত রাখতে হয়, সেটি রাখা হচ্ছে।
