Connect with us

ボンズカジノ参加への道:アカウント開設から勝利を掴むためのスターター戦略

オンラインカジノのエキサイティングな世界に足を踏み入れるための最初のステップは、ボンズカジノ 登録 を完了させることです。このプロセスは非常にシンプルで、初心者でも数分あれば完了できるよう設計されています。公式サイトの登録フォームに、メールアドレスやパスワード、電話番号などの基本情報を入力するだけで、膨大なゲームラインナップへのアクセス権を手に入れることができます。モバイル端末からでもスムーズに手続きが行えるため、外出先でも思い立った瞬間に自分だけのアカウントを作成することが可能です。

ボンズカジノの登録手順と限定オファー

日本国内で圧倒的な人気を誇る ボンズカジノ は、その豪華なウェルカムパッケージでも知られています。新規ユーザーとしてアカウントを作成する際、正確な個人情報を入力することは、将来的な勝利金の引き出し(本人確認プロセス)をスムーズに進めるために非常に重要です。信頼できるライセンスを保持しているプラットフォームであるため、提出したデータは高度な暗号化技術によって厳重に保護されます。安心して最高のゲーミング体験に没頭できる環境が整っているのが最大の魅力です。

登録時に大きなアドバンテージを得るための秘策は、有効な ボーナスコード ボンズカジノ を活用することです。このコードを登録フォームの専用欄に入力することで、通常の登録プロセスだけでは得られない特別なフリースピンや、入金不要で試せるボーナスチップを手にすることができます。競争の激しいカジノ業界において、このような初期インセンティブを賢く活用することは、少ないリスクで大きな勝利を狙うためのプロフェッショナルな戦略と言えます。最新のコードを忘れずに入力し、最高のスタートダッシュを切りましょう。

アカウント認証とセキュリティの重要性

アカウント作成後、スムーズなカジノライフを送るために欠かせないのが本人確認(KYC)です。ボンズカジノでは、プレイヤーの安全を守り、不正な取引を防ぐために、身分証明書や住所確認書類の提出を求めています。この手続きを登録直後に済ませておくことで、ジャックポットを当てた際の高額な勝利金も、遅延なく迅速にキャッシュアウトできるようになります。セキュリティは世界基準のプロトコルで守られており、プレイヤーは安心して資金を預け、スリル満点のゲームを楽しむことができます。

仮想通貨と多彩な決済オプション

ボンズカジノは、決済手段の多様性においても業界をリードしています。クレジットカードや銀行振込はもちろんのこと、ビットコインやイーサリアムといった仮想通貨での入出金も完全にサポートされています。特に仮想通貨を利用した取引は、匿名性が高く、処理スピードも驚異的に速いため、現代のオンラインプレイヤーにとって非常に魅力的な選択肢となっています。自分のライフスタイルに合わせた最適な入出金方法を選べる柔軟性が、多くのリピーターを惹きつけている理由の一つです。

充実の日本語サポート体制

登録方法やゲームのルール、ボーナスの反映について疑問が生じた場合でも、24時間年中無休の日本語カスタマーサポートがプレイヤーをバックアップします。ライブチャット機能を利用すれば、熟練の日本人スタッフとリアルタイムで対話ができ、即座に問題を解決することが可能です。初めてオンラインカジノに挑戦する方にとっても、これほど手厚いサポート体制があることは大きな安心感に繋がります。充実したFAQセクションも併設されており、基本的な質問への回答も即座に見つけることができます。

結論として、比類なきオンラインゲーミング体験を追求するなら、今すぐ bons カジノ のコミュニティに参加し、その圧倒的なクオリティを体感してください。洗練されたグラフィック、膨大なゲームボリューム、そしてプレイヤー第一のサービスが、あなたのカジノライフを劇的に進化させることでしょう。一度 ボンズカジノ 登録 を完了すれば、そこには日常を忘れさせるほどの刺激的なエンターテインメントが広がっています。正しい知識と ボーナスコード ボンズカジノ を武器に、輝かしい勝利への扉を叩いてください。

জুলাইয়ে নিহতের সংখ্যা নিয়ে আ.লীগের প্রশ্ন, জবাব দিল জাতিসংঘ

বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা পুনর্ব্যক্ত করেছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে নিহতের সংখ্যা ও প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আওয়ামী লীগের উত্থাপিত প্রশ্নও নাকচ করেছে সংস্থাটি।

সোমবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে সন্দেহ করার কোনো কারণ নেই।

প্রশ্নোত্তর পর্বে উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে জাতিসংঘের তথ্য-অনুসন্ধান প্রতিবেদনে দেওয়া কিছু তথ্য সঠিক নয়। বিশেষ করে নিহতের সংখ্যা নিয়ে দলটির আপত্তি রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া জুলাই অভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছিলেন।

প্রশ্নকারী আরও উল্লেখ করেন, ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, দণ্ডপ্রাপ্ত ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন, যেখানে তিনি প্রতিবেদনে থাকা তথাকথিত ভুল তথ্যের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।

এর জবাবে দুজারিক বলেন, প্রতিবেদনটি আমাদের মানবাধিকার দপ্তরের সহকর্মীরা প্রকাশ করেছেন এবং এটি নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো কারণ আমরা দেখি না।

শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটানো গণ-অভ্যুত্থান ঘিরে সংঘটিত সহিংসতার তদন্ত শেষে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘের মুখপাত্র বলেন, বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্র থেকে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচার হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, এটি উন্নয়নের পথে বড় বাধা সৃষ্টি করে। আমরা আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে উৎসাহিত করি, যাতে জনগণের অর্থ আবার সেই দেশগুলোর জনগণের কাছেই ফিরিয়ে দেওয়া যায়।

Click to comment

নেপালকে হারিয়ে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ

আসরের আগের দুবারও শিরোপার মঞ্চে উঠেছিল বাংলাদেশ। এবার শক্ত প্রতিপক্ষ নেপাল বাধাও ডিঙিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। শেষ চারের লড়াইয়ে এসেছে ২-১ গোলের জয়। তাতেই টানা তৃতীয়বার নারী সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ নারী দল।

বুধবার (৩ জুন) গোয়ার জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে লড়াইটা জমে উঠেছিল। হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে ঋতুপর্ণা-সাগরিকারা। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে নেপালের আত্মঘাতী গোল বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করে।

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে নেপাল হারে ২-১ গোলে। গত দুই ফাইনালে নেপালকে তাদের মাঠে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। ৬ জুনের ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হবে ভারত-ভুটান দ্বিতীয় সেমিফাইনালের জয়ী দল। 

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শুরু ভালো হয়নি বাংলাদেশের। সেই সুযোগে ম্যাচের ২৩ মিনিটে লিড নেয় নেপাল। পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে। 

বিরতির বাঁশি বাজার ঠিক আগমুহূর্তে দুর্দান্ত এক গোল করেন ঋতুপর্ণা চাকমা। কর্নার কিক থেকে সরাসরি বাঁকানো শটে নেপালের জালে বল পাঠিয়ে দলকে ১-১ সমতায় ফেরান তিনি।

বিরতির পর দুই দলই জয়ের নেশায় মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাতে থাকে। ম্যাচের ৭৮ মিনিটে গোল করার সহজ সুযোগ পেয়েছিলেন বাংলাদেশের সাগরিকা। তবে নেপাল অধিনায়ক গোলকিপার সুব্বার ক্ষিপ্রতায় সাগরিকার শটটি ফিরে যায়।

ম্যাচের যোগ করা সময়ে ভাগ্য সহায় হয় বাংলাদেশের। শামসুন্নাহার জুনিয়রের একটি পাস ছিল সাগরিকার উদ্দেশে। সাগরিকার চাপে নেপালের রক্ষণভাগ তালগোল পাকিয়ে ফেলে এবং আত্মঘাতী গোল দিয়ে বসে। এরপর শেষের বাঁশি বাজলে ফাইনালে ওঠার আনন্দে মেতে ওঠে বাংলাদেশের মেয়েরা।

Click to comment

‘হাদি হত্যায় তার বড় ভাইয়ের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে’

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বুধবার (৩ জুন) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান এই হত্যাকাণ্ডে ওসমান হাদির বড় ভাই শরীফ ওমর হাদির সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে জোরালো সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

ফারুক হাসান তাঁর পোস্টে অভিযোগ করেন যে, এই হত্যাকাণ্ডের পর সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন ওমর হাদি। তিনি উল্লেখ করেন, ওসমান হাদির মৃত্যুর পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে ওমর হাদি লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে একটি লাভজনক বা ‘লুকরেটিভ’ চাকরি গ্রহণ করেছেন। ফারুক হাসান প্রশ্ন তোলেন, ওমর হাদি যদি অন্তর্বর্তী সরকারকে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী মনেই করতেন, তবে তিনি কেন ড. ইউনূসের সরকারের অধীনে লন্ডনে এই পদে নিয়োগ গ্রহণ করলেন? তিনি ওমর হাদিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

এর আগে, মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে ওমর হাদি তাঁর নিজের ফেসবুক পেজে দুটি পৃথক পোস্টে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা, বিএনপি এবং জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করেন। তিনি তাঁর পোস্টে লেখেন যে, শহীদ ওসমান হাদিকে ঢাকা-৮ নির্বাচনী এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল এবং এতে আমিরে জামায়াতের একজন ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) জড়িত রয়েছেন। এছাড়া তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হাদি হত্যার বিচার না করলে তিনিও হুমকির মুখে পড়তে পারেন।

উল্লেখ্য যে, গত ১৫ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকার ওমর বিন হাদিকে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করে। বর্তমানে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের পরিবর্তে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও রাজনৈতিক তর্কের বিষয়টি জনমনে কৌতূহল ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

Click to comment

বেতন দ্বিগুণের পথে, নতুন পে-স্কেল নিয়ে জোর প্রস্তুতি

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রত্যাশিত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের জন্য ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার সংস্থান রাখা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

যদিও নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারি পর্যায় থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগও রয়ে গেছে।

সরকারি কর্মচারীদের দাবি, নতুন বেতন কাঠামো সম্পর্কে এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তার বেশিরভাগই গণমাধ্যমনির্ভর। অর্থ মন্ত্রণালয়, পে কমিশন কিংবা নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় এটি একবারে নয়, তিন ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তা করছে সরকার।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল বেতনের একটি অংশ, সম্ভাব্য ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হতে পারে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি মূল বেতন সমন্বয় করা হবে। আর তৃতীয় ধাপে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত ও অন্যান্য ভাতা নতুন কাঠামোর আওতায় আনা হবে।

নতুন পে-স্কেলে বর্তমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮-এ নামিয়ে আনার প্রস্তাব রয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিশেষ করে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য নতুন যাতায়াত ভাতা চালুর বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

নতুন পে-স্কেলের সুবিধা শুধু চাকরিজীবীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগীও এর সুফল পেতে পারেন। বিশেষ করে স্বল্প পেনশনপ্রাপ্তদের আর্থিক সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে বর্তমানে চালু থাকা ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সে বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ের কমিটি কাজ করছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আর্থিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটতে পারে।

Click to comment

২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশকে রাজাকার মুক্ত করা সম্ভব: ইশরাক

একটি দল স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস এবং ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিতর্কিত ভূমিকা পালন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

বুধবার (৩ জুন) দুপুরে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ীর নান্দিয়াপাড়ার ‘বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন জাদুঘর’ পরিদর্শন শেষে চাটখিল উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেওয়া সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন আরও বলেন, ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের একক কৃতিত্ব নিয়েছে একটি দল তেমনি ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিতে চেয়েছে আরেকটি দল। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের একক কৃতিত্ব নিতে যাওয়া দলটি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে অন্যায়ভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তালিকা করেছে। এ তালিকা প্রশ্নবিদ্ধ।

ইশরাক আরও বলেন, অন্যদিকে ২৪ এর কৃতিত্ব নিতে যাওয়া এ দলটি স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস এবং ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিতর্কিত ভূমিকা পালন করেছে। এরা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। যদি প্রয়োজনে রাজপথে নামতে হয় তাহলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজাকার মুক্ত করা সম্ভব হবে।

এখনও দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চলছে: মির্জা ফখরুলএখনও দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চলছে: মির্জা ফখরুল
চাটখিলে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে ‘গেস্ট অব অনার’ ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহাবুব উদ্দিন খোকন। আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার (এসপি সার্কেল) মনিষ দাস, থানার ওসি আব্দুল মোন্নাফ, আমেরিকা বিএনপি নেতা পরান চৌধুরী, সাবেক মেয়র ও পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তফা কামাল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবু হানিফ, চাটখিল পৌরসভার সাবেক সভাপতি দেওয়ান সামছুল আরেফিন শামীম, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম হোসেন টিপু, আলাউদ্দিন ভূইয়া প্রমুখ

Click to comment

সাতক্ষীরা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি আহত

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বসন্তপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।

বুধবার (৩ জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে সীমান্তবর্তী কালিন্দী নদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন কালিগঞ্জ উপজেলার শীতলপুর গ্রামের মো. গোলাম রাব্বানীর ছেলে মো. মহিউদ্দিন (৪২) এবং মৃত খাজের আলী সরদারের ছেলে মো. শাহীন (২৮)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে ওই দুই ব্যক্তি অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যান। পরে কলকাতার হাওড়া হয়ে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে অবস্থান করে রাজমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করেন। এরপর মঙ্গলবার তারা অবৈধভাবে দেশে ফেরার জন্য কালিন্দী নদী সাঁতরে বাংলাদেশে প্রবেশকালে বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে দুজনই গুলিবিদ্ধ হন।

পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রাত সোয়া ৩টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল হোসেন বলেন, প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, তারা অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন। একইভাবে দেশে ফেরার সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Click to comment

মোজতবা খামেনি জীবিত এবং আরও বেশি সক্রিয়: মার্কো রুবিও

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার পর থেকে জনসমক্ষে না আসা ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্পূর্ণ জীবিত এবং তিনি দেশটির রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে দিন দিন আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠছেন বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

মঙ্গলবার (২ জুন) মার্কিন সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির সামনে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যপ্রদানকালে তিনি এই তথ্য জানান। রুবিও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন প্রশাসন নিশ্চিত হয়েছে যে ইরানের নতুন এই সর্বোচ্চ নেতা বর্তমানে বেশ কিছু স্তরে রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে জোরালোভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

৫৬ বছর বয়সি মোজতবা খামেনি তার পিতা ও ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর আকস্মিক বিমান হামলার প্রথম তরঙ্গে আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সূত্রপাত ঘটেছিল এবং মোজতবা খামেনি নতুন নেতা নির্বাচিত হন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন এক সময়ে সিনেট প্যানেলের সামনে এই সাক্ষ্য দিলেন, যখন মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চলমান তিন মাসব্যাপী যুদ্ধ এবং এর ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট নিরসনে চলমান শান্তি আলোচনাগুলো সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে।

উদ্ভূত এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের সাথে একটি টেকসই এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে তিনি মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে একটি অনমনীয় শর্তারোপ করে জোর দিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটনের আরোপিত সমস্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার দেখতে চাইলে তেহরানকে অবশ্যই তাদের বর্তমান পারমাণবিক কর্মসূচিকে কঠোরভাবে সীমিত করতে হবে।

রুবিও মার্কিন সিনেট কমিটিকে জানান, দুই দেশের মধ্যে একটি বড় চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা আমাদের সামনে রয়েছে, যা আজ, আগামীকাল কিংবা আগামী সপ্তাহের মধ্যেই যেকোনো সময় সফলভাবে সম্পন্ন হতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের চূড়ান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে তেহরানকে অবশ্যই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দিতে রাজি হতে হবে।

উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস পরিবহনের অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক শিপিং চ্যানেল বা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পথ হিসেবে এই হরমুজ প্রণালিকে বিবেচনা করা হয়, যা বর্তমানে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে এবং এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে গভীর সামরিক দরকষাকষি চলছে।

সূত্র: দ্য স্ট্রেইটস টাইমস

Click to comment

শিশু রামিসার ঘটনায় সোহেল-স্বপ্নার আত্মপক্ষ শুনানি শেষ, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এই সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের জন্য ধার্য করেন আদালত। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এদিন সকালে সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়। তাদের মহানগর হাজতখানায় রাখা হয়। পরে ১০টা ৪৭ মিনিটে সোহেল রানাকে ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ১০টা ৫৭ মিনিটে হাজতখানা থেকে আদালতে তোলা হয়। সকাল ১১টা ১০ মিনিটে কোর্ট ওঠেন।

পরে আদালতের বিচারক প্রধান আসামি সোহেল রানাকে এ মামলার সকল সাক্ষীদের জবানবন্দি পড়ে শোনান। আদালত সোহেল রানার কাছে জানতে চান, আপনার কিছু বলার আছে কি না। আমি নির্দোষ স্যার। আমার সাথে যে ছিল ডলার, তাকে আপনারা ধরেন।

আমারে মাফ করে দিয়েন, আমার একটা ছোটো ছাওয়াল আছে, আমার বউটা একদম নির্দোষ। পরে স্বপ্না আক্তারের কোনো কথা আছে জানতে চান চাইলে তিনি বলেন, আমি কিছু করি নাই, আমি নির্দোষ রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আগামীকাল যুক্তিতর্কের জন্য নির্ধারণ করার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। পরে ১১টা ২৫ মিনিটে আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ হয়।

এরপর ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষে আদালত থেকে এ আদেশ আসে।

‘স্যার ডলারও দোষ করেছে তাকেও সাজা দিন’

শুনানিতে রাষ্ট্র পক্ষের এ মামলার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু শুনানি করেন। এসময় ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী উপস্থিত ছিলেন।

গত ১ জুন পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় বাদী আবদুল হান্নান মোল্লাসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে গতকাল ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে, গত ২৪ মো আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান। এরপর চার্জশিটটি আমলে গ্রহণ করে বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। একইদিন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগ পত্র আমলে নিয়ে নিয়ে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন দিন ধার্য করেন।

মামলার অভিযোগ জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশু রামিসা আক্তার (৮) পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তার ফ্ল্যাটের রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকলে একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে তার জুতা দেখতে পান।

ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসা আক্তারের (০৮) মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। আসামি স্বপ্না আক্তারকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তার স্বামী আসামি মো. সোহেল রানা (৩০) হীন কামনা চরিতার্থ করার জন্য রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় ১৯ মে শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার দায়েরের প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২০ মে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একইদিন আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়।

সম্পাদক: পলাশ মাহমুদফোন: +৮৮০১৩১২৫৫৯৯৬৬ই-মেইল: info@asia-post.com

ঠিকানা: লেভেল ১০, বেঙ্গল সেন্টার, ২৮ তোপখানা রোড, শাহবাগ, ঢাকা- ১০০০।

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এই সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের জন্য ধার্য করেন আদালত। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এদিন সকালে সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়। তাদের মহানগর হাজতখানায় রাখা হয়। পরে ১০টা ৪৭ মিনিটে সোহেল রানাকে ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ১০টা ৫৭ মিনিটে হাজতখানা থেকে আদালতে তোলা হয়। সকাল ১১টা ১০ মিনিটে কোর্ট ওঠেন।

পরে আদালতের বিচারক প্রধান আসামি সোহেল রানাকে এ মামলার সকল সাক্ষীদের জবানবন্দি পড়ে শোনান। আদালত সোহেল রানার কাছে জানতে চান, আপনার কিছু বলার আছে কি না। আমি নির্দোষ স্যার। আমার সাথে যে ছিল ডলার, তাকে আপনারা ধরেন।

আমারে মাফ করে দিয়েন, আমার একটা ছোটো ছাওয়াল আছে, আমার বউটা একদম নির্দোষ। পরে স্বপ্না আক্তারের কোনো কথা আছে জানতে চান চাইলে তিনি বলেন, আমি কিছু করি নাই, আমি নির্দোষ রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আগামীকাল যুক্তিতর্কের জন্য নির্ধারণ করার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। পরে ১১টা ২৫ মিনিটে আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ হয়।

এরপর ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষে আদালত থেকে এ আদেশ আসে।

‘স্যার ডলারও দোষ করেছে তাকেও সাজা দিন’

শুনানিতে রাষ্ট্র পক্ষের এ মামলার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু শুনানি করেন। এসময় ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী উপস্থিত ছিলেন।

গত ১ জুন পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় বাদী আবদুল হান্নান মোল্লাসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে গতকাল ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে, গত ২৪ মো আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান। এরপর চার্জশিটটি আমলে গ্রহণ করে বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। একইদিন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগ পত্র আমলে নিয়ে নিয়ে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন দিন ধার্য করেন।

মামলার অভিযোগ জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশু রামিসা আক্তার (৮) পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তার ফ্ল্যাটের রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকলে একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে তার জুতা দেখতে পান।

ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসা আক্তারের (০৮) মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। আসামি স্বপ্না আক্তারকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তার স্বামী আসামি মো. সোহেল রানা (৩০) হীন কামনা চরিতার্থ করার জন্য রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় ১৯ মে শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার দায়েরের প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২০ মে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একইদিন আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়।

Click to comment

বেনাপোলে ১৫ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা, চার দিন পর ফিরিয়ে নিল বিএসএফ

যশোরের বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুর শূন্যরেখা এলাকায় পুশ ইনের উদ্দেশ্যে জড়ো করা কথিত বাংলাদেশি নাগরিকদের চার দিন পর সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বুধবার ভোররাতে ভারতীয় ভূখণ্ডের শূন্যরেখা এলাকা থেকে প্রায় ১৫ জনের একটি দলকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে সীমান্তে বিরাজমান উত্তেজনা কিছুটা কমেছে। তবে তাদের অন্য কোনো সীমান্ত পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হয়েছে নাকি ভারতের অভ্যন্তরে অন্যত্র নেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিজিবির দাবি, বেনাপোল সীমান্তে তাদের কঠোর অবস্থান ও প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।

শূন্যরেখা থেকে ওই ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার পর সীমান্তে মোতায়েন করা অতিরিক্ত বিজিবি সদস্যদেরও প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় বিজিবির নিয়মিত টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার গভীর রাতে বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের হরিদাসপুর এলাকায় তিনটি ট্রাকে করে দেড় শতাধিক মানুষকে জড়ো করা হয়। পরে সীমান্তের আলো নিভিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ প্রায় ১৫ জনকে শূন্যরেখার দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের টহলরত সদস্যরা তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে বাধা দেন।

ঘটনার পর কয়েক দিন ধরে শূন্যরেখা এলাকায় অবস্থান করতে দেখা যায় ওই ব্যক্তিদের। স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে সীমান্তের ভারতীয় অংশে আরও শতাধিক মানুষকে অবস্থান করিয়ে রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী শনাক্তকরণ ও উচ্ছেদ কার্যক্রম জোরদার হওয়ার পর থেকে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তেও। বিশেষ করে ভারতে জন্মগ্রহণকারী ও দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত অনেক মানুষের নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খান বলেন, ‘সীমান্তে বিজিবি সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। রোববার রাত থেকে টহল জোরদার করা হয়েছিল এবং পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। বর্তমানে সদস্যরা নিয়মিত টহল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।’

এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ও স্থানীয় বাস্তবতা পর্যবেক্ষণে বুধবার বেনাপোল সফরে আসছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। দুপুর ১২টার দিকে তিনি সাদিপুর সীমান্ত পরিদর্শন করবেন এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

Click to comment

জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ: বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ—এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে (Forced Labor) তৈরি পণ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে, যা মার্কিন বাণিজ্য ও শ্রমিকদের জন্য অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (USTR) সেকশন ৩০১ তদন্তের বরাত দিয়ে এই নতুন শুল্ক ব্যবস্থার প্রস্তাবনা প্রকাশ করে। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কোন দেশের ওপর কত শুল্ক?

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের প্রস্তাব অনুযায়ী, ৬০টি দেশকে দুটি ভাগে ভাগ করে এই শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করা হয়েছে:

১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক: বাংলাদেশ, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাজ্য, মেক্সিকো, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, কম্বোডিয়া, গুয়াতেমালা, এল সালভাদর, আর্জেন্টিনা ও ইন্দোনেশিয়াসহ ১৫টি দেশের পণ্যের ওপর এই হার প্রযোজ্য হবে।

১২.৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক: তালিকায় থাকা বাকি ৪৫টি দেশের পণ্যের ওপর এই উচ্চ হারে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

আইনি জটিলতা ও মার্কিন অবস্থান

সম্প্রতি গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি ক্ষমতা আইনের আওতায় আরোপিত শুল্ক বাতিল করে দেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাইডেন প্রশাসন এখন সম্পূর্ণ নতুন একটি আইনি কাঠামোর অধীনে এই শুল্ক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।

এক বিবৃতিতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন,

“আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি বন্ধে ব্যর্থতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে মার্কিন শ্রমিকদের বৈশ্বিক বাজারে এক অসম ও ক্ষতিকর প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে।”

যেসব পণ্য শুল্কমুক্ত থাকবে

নতুন এই প্রস্তাবনায় মার্কিন অর্থনীতির জন্য জরুরি বেশ কিছু খাত ও পণ্যকে অতিরিক্ত শুল্কের আওতা থেকে অব্যাহতি (Exemption) দেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে:

জ্বালানি ও বিরল খনিজ (Rare earth minerals)

নির্দিষ্ট কিছু ধাতু

গরুর মাংস, কফি এবং সুনির্দিষ্ট কিছু ফল ও সবজি

ওষুধ ও জৈব রাসায়নিক (Biochemicals)

বিমান তৈরির যন্ত্রাংশ (Aerospace parts)

পোশাক খাতের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক ও বস্ত্রের (RMG & Textile) জন্য এই প্রস্তাবনায় একটি বিশেষ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর আওতায় একটি নির্দিষ্ট কোটা বা পরিমাণ পর্যন্ত তৈরি পোশাক কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। তবে এই বিশেষ ব্যবস্থার বিস্তারিত শর্তাবলি এখনো প্রকাশ করেনি মার্কিন প্রশাসন।

পরবর্তী পদক্ষেপ ও শুনানি

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর জানিয়েছে, এই প্রস্তাবিত শুল্ক তালিকার বিষয়ে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও জনসাধারণের মতামত গ্রহণ করা হবে। এরপর ৭ জুলাই একটি প্রকাশ্য শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শুনানির পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের তারিখ ঘোষণা করা হতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের ভাবনা: যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক পদক্ষেপ বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে পোশাক খাতের জন্য প্রস্তাবিত ‘বিশেষ ব্যবস্থা’ এবং চূড়ান্ত শুনানিতে বাংলাদেশ কোনো ছাড় পাবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

Click to comment