জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে শাবিপ্রবিতে সাদা দলের র্যালি
শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) মহান মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় মূল্যবোধে শ্রদ্ধাশীল শিক্ষক ফোরামের (সাদা দল) উদ্যোগে র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকরা।
কর্মসূচির শুরুতে নতুন সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের সামনে থেকে একটি র্যালি বের হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই জায়গায় এসে মিলিত হয়।
এ সময় শিক্ষকরা জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা ও তাদের ত্যাগের রাষ্ট্রীয় মূল্যায়নের দাবি জানান।
এ সময় পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, “জুলাই বিপ্লব কেবল একটি ইতিহাস নয়, এটি অন্যায়, অবিচার এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এ দেশের সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনতার পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্নের ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছিল আমাদের শিক্ষার্থীরা, তা ধরে রাখা এবং এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব আমাদের সবার।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্যহীন এবং আধিপত্যবাদ মুক্ত একটি বাংলাদেশ গঠন করা। যার মধ্যে দিয়ে যাতে কোনো স্বৈরাচারী এবং ফ্যাসিবাদ শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে। সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক কোনো সেক্টরেই যাতে ফ্যাসিবাদ তৈরি হতে না পারে সেটাই ছিল আমাদের জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু আজ এটার ব্যত্যয় ঘটছে। জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের সাথে মিশে গেছে। যারা এটাকে অস্বীকার করে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের শত্রু। তাদেরকে স্মরণ করে দিতে চায় হাসিনার পরিণতি একদিন ভোগ করতে হবে।”
বেরোবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
বেরোবি প্রতিনিধি
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঘটনার প্রকৃত কারণ, দায়-দায়িত্ব নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানের লক্ষ্যে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানাকে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—সহকারী প্রক্টর মো. আব্দুল্লাহ আল মাহবুব, বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আমির শরীফ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিউল ইসলাম জীবন এবং রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হারুন-আল রশিদ।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কমিটিকে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, “তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়নি, তবে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।”
এদিকে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানা বলেন, “আমি তদন্ত কমিটি সম্পর্কে আগে কিছুই জানতাম না। আমাকে না জানিয়েই কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাধারণত কোনো কমিটিতে কারও নাম অন্তর্ভুক্ত করার আগে তার মতামত নেওয়া উচিত। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। আজ আমি বিভাগের ইন্ডাস্ট্রি ভিজিটে রংপুরের বাইরে রয়েছি। বিষয়টি সম্পর্কে আপনাদের কাছ থেকেই প্রথম জানতে পারলাম।”
উল্লেখ্য, সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এলইডি স্ক্রিনে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন প্রদর্শন করছিল।
ছাত্রদলের অভিযোগ, প্রদর্শিত একটি ফেস্টুনে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী এবং যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত কয়েকজন জামায়াত নেতার ছবি ছিল। ওই ফেস্টুন অপসারণের দাবিতে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিস্থলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা, বর্তমান সেক্রেটারি ইমরান খান সৌরভ, শিবির সমর্থিত ব্রাকসু জিএস প্রার্থী মেহেদী হাসান, বাইতুল মাল সম্পাদক বাইজিদ শিকদার, মুরসালিন এবং ছাত্রদলের নেতা আশিকসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাসহ একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শাবিপ্রবিতে বাংলা বিভাগের প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলনের নিবন্ধন শুরু
শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) বাংলা বিভাগের “শতবর্ষে মুসলিম সাহিত্য সমাজ ও সিলেটে নজরুল: মুক্তচিন্তা ও দ্রোহের উত্তরাধিকার” শীর্ষক প্রথম আন্তর্জাতিক ভাষা ও সাহিত্য সম্মেলনের (আইসিবিএলএল-২০২৬) নিবন্ধন শুরু হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর ১টায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলা বিভাগের প্রধান ও সম্মেলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. রিজাউল ইসলাম। একই সঙ্গে কনফারেন্সের ওয়েবসাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সম্মেলনের সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মো. ফয়জুল হক ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শিরিন আক্তার সরকার।
সম্মেলনে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. সৈয়দ আজিজুল হক। এতে ভার্চুয়াল বক্তা হিসেবে যুক্ত থাকবেন ভারতের কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকসংস্কৃতি বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ড. বরুণকুমার চক্রবর্তী।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম, ভারতের বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সুমিতা চক্রবর্তী এবং ভারতের আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. বেলা দাস। এ ছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি খিলখিল কাজী।
সম্মেলনের বিষয়ে বাংলা বিভাগের প্রধান ও আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. রিজাউল ইসলাম বলেন, “আগামী ২৭-২৮ নভেম্বর শাবিপ্রবির সেন্ট্রাল অডিটোরিয়ামে দুই দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সিলেট অঞ্চলের নিজস্ব লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতির সাথে নজরুল ও মুসলিম সাহিত্য সমাজের চিন্তার সমন্বয় ও বিকাশ ঘটাতেই আমাদের এই আয়োজন। সম্মেলনে পঠিত সেরা গবেষণা প্রবন্ধগুলো পরবর্তীতে বাংলা বিভাগের জার্নাল বা গ্রন্থে প্রকাশ করা হবে।”
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, দেশ-বিদেশের গবেষক, শিক্ষক, লেখক ও চিন্তাবিদদের কাছ থেকে প্রবন্ধ আহ্বান জানানো হয়েছে। আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রবন্ধের সারসংক্ষেপ জমা দেওয়া যাবে।
প্রবন্ধের বিষয়বস্তু হতে পারে— ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি; তুলনামূলক ও উত্তর-উপনিবেশিক সাহিত্য; প্রগতি ও নারীমুক্তি; ধর্ম, দর্শন ও বিজ্ঞান; সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনীতি; প্রকৃতি ও পরিবেশ। প্রবন্ধ বাংলা অথবা ইংরেজি যেকোনো ভাষায় প্রস্তুত ও উপস্থাপন করা যাবে।
আগ্রহী গবেষকগণ icbll.sust.edu/reg ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করতে পারবেন এবং icbll2026bng@gmail.com ইমেইলের মাধ্যমে সারসংক্ষেপ ও পূর্ণাঙ্গ প্রবন্ধ পাঠাতে হবে।
শাবিপ্রবির অভ্যন্তরীণ রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ, আরসিসি ঢালাইয়ের টেন্ডার আহ্বান
শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটক থেকে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ গোলচত্বর পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। এ লক্ষ্যে আরসিসি ঢালাই কাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে।
রবিবার (২ আগস্ট) সিসিকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এক ই-টেন্ডার নোটিশের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়।
ই-টেন্ডার নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ওপেন টেন্ডারিং মেথডের (ওটিএম) আওতায় শাবিপ্রবির প্রধান ফটক থেকে অভ্যন্তরীণ গোলচত্বর পর্যন্ত ৩০০ মিলিমিটার আরসিসি রাস্তা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৫ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত এই দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
এর আগে, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসলেও কার্যকর উদ্যোগ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি। বর্ষাকালে কিলোরোডের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ তৈরি হয়ে তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ত এবং ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটত। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগ পোহাতেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, “গত ৭ জুলাই দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই শিক্ষার্থীদের চলাচলের ভোগান্তি কমাতে কাজ শুরু করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২৫ জুলাই সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে ফোন করে সহায়তা চাওয়া হলে তিনি প্রধান প্রকৌশলীকে সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য ক্যাম্পাসে পাঠান।”
উপাচার্য আরও বলেন,” নতুন অর্থবছরে এলজিইডির কাছে ৪ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে সরকারি বরাদ্দ পেতে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা ভেবে আপাতত ১ কিলোমিটারের কাজ শুরু হবে এবং পরবর্তীতে ক্যাম্পাসের প্রধান সড়কের অবশিষ্ট ৩ কিলোমিটারের কাজ সম্পন্ন করা হবে।”
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ছাত্রদলের দেশীয় অস্ত্রের মহড়া, ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি
আনাস মাহমুদ, বেরোবি প্রতিনিধি
গত ৩রা আগস্ট বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির এবং ছাত্রদলের মুখোমুখি ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনার পর আজ ৪ঠা আগস্ট বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং পার্কের মোড় থেকে শুরু করে লালবাগ পর্যন্ত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ মহড়া সম্পন্ন করে। এ সময়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাথে রংপুর মহানগর যুবদল, শ্রমিকদল, এবং জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করে।
এর আগে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রংপুর মহানগর শাখা কর্তৃক বিকেল পাঁচ ঘটিকায় নগরীর লালবাগ থেকে পার্কের মোড় এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়। এরপরই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলও বিকেল চার ঘটিকায় বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেয়। ফলশ্রুতিতে সংঘর্ষ এড়াতে ইসলামী ছাত্রশিবির নিজেদের মিছিল প্রত্যাহার করে এবং নগরীর লালবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। এরপরই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অস্ত্রের মহড়া দেখা যায়।
এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় হলের এবং আশেপাশের মেসে থাকা শিক্ষার্থীরা ভয়ে বের হতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ রাস্তায় ছাত্রদলের নেতা কর্মীদের অবস্থান নগরীর পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহ গড়ে তুলেছে।
উল্লেখ্য যে, গত ৩রা আগস্ট ইসলামের ছাত্র শিবিরের ব্যানার কে কেন্দ্র করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল এবং ছাত্র শিবিরের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শেষপর্যন্ত ছাত্রশিবিরের কাছে ছাত্রদলের ছত্রভঙ্গ হয় এবং ক্যাম্পাস ছাত্রশিবিরের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে থমথমে বেরোবি, নিরাপত্তা জোরদার
বেরোবি প্রতিনিধি
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে অংশ নেন রংপুর মহানগর ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহির আলম নয়ন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন, সদস্য সচিব নূর হাসান সুমন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জাকারিয়া ইসলাম জিম, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরীফ নেওয়াজ জোহা, সদস্য সচিব আফতাবুজ্জামান সুজন, মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আল ইমরান সুজন এবং সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রবি।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেন। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়। সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় ক্যাম্পাসজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এর আগে সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন। ওই ঘটনার পর থেকেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অতিথি, দর্শনার্থীসহ সব ধরনের বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, রিকশা, প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহনের প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ক্যাম্পাসজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের টহলও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এদিকে চলমান পরিস্থিতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজন ছাড়া ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন না।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ইয়ামিন বলেন, “যারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে কটাক্ষ করবে এবং জুলাইয়ের চেতনাকে খাটো করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সর্বাত্মক প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।”
তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, “পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, “সোমবারের ঘটনার পর আমরা দুই ছাত্র সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। আজকের কর্মসূচিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নয়; এটি রংপুর মহানগর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কর্মসূচি। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”
অন্যদিকে, সোমবার রাতের ঘটনার প্রতিবাদ এবং গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ইসলামী ছাত্রশিবির ‘অদম্য জুলাই’ শিরোনামে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় কারমাইকেল কলেজ থেকে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে। এ কর্মসূচিকে ঘিরেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
কুবির ১৪ শিক্ষার্থীকে ‘স্পোর্টস স্কলারশিপ’ প্রদান
সানজিদা আক্তার সাথী, কুবি প্রতিনিধি:
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের ১৪ জন শিক্ষার্থীকে ‘স্পোর্টস স্কলারশিপ’ প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ৩এ টায় শারীরিক শিক্ষা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস কমপ্লেক্সে এ স্কলারশিপ প্রদান করা হয়।
‘স্পোর্টস স্কলারশিপ ২০২৫-২৬’ বর্ষে ৬ টি ইভেন্টে (ছেলে-মেয়ে) ১৪ জনকে মনোনীত করা হয়। প্রতি ইভেন্ট থেকে দুই জন করে স্কলারশিপের জন্য মনোনীত হলেও ফুটবল ও ভলিবল (ছেলে) ইভেন্ট থেকে ৩ জন করে মনোনীত করা হয়েছে।
শারীরিক শিক্ষা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মবিরুল আলমের সঞ্চালনায় এবং ক্রীড়া পরিচালনা কমিটির পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার, বিশেষ অতিথি হিসেবে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন বলেন, “আজ যে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে; তা নিষ্ঠা, পরিশ্রম, দায়িত্ববোধ এবং কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি। কাজের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে যখন মূল্যায়ন করা হয়, তখন সেই স্বীকৃতি আরও বেশি অর্থবহ হয়ে ওঠে।
এই পুরস্কার প্রমাণ করে যে আপনারা ধারাবাহিক প্রচেষ্টা করেছেন।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, “খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়। এটি সুস্থ ও সুন্দর জীবনের অপরিহার্য অংশ। নিয়মিত খেলাধুলা মানুষের মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়, কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক শক্তি যোগায়। খেলাধুলা আমাদের আনন্দময় রাখে, মানসিক চাপ কমায় এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এটি পড়াশোনায় মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খেলাধুলায় পারদর্শী হলে জব সেক্টরে এগিয়ে থাকা সম্ভব।”
সভাপতির বক্তব্যে ক্রীড়া পরিচালনা কমিটির পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন বলেন, “খেলাধুলা শুধু নেতৃত্বই তৈরী করে না। তরুণ সমাজকে মাদকাসক্তির মতো ভয়াবহ অভিশাপ থেকে দূরে রাখে। যারা নিয়মিত খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থাকে, তারা অবসর সময়কে ইতিবাচক কাজে ব্যয় করে। এতে খারাপ সঙ্গ, অপরাধ ও মাদকের প্রতি আকর্ষণ কমে যায়।”
৫ আগস্ট শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়া নিয়ে ভারত সরকারের অবস্থান জানালেন জয়সওয়াল
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। সেখান থেকে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন নিয়মিত। এবার ভারতের নয়াদিল্লিতে তিনি প্রথমবার প্রকাশ্য কোনো অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন বলে জানা গেছে। শেখ হাসিনার বক্তব্যের বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ-সংক্রান্ত কথা বলেন তিনি।
মঙ্গলবার (০৫ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে ‘ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া’ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার নির্ধারিত ভাষণ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘ওই অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম সংস্থা আয়োজন করছে। এতে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং ওই মঞ্চে কোনো মতামত প্রকাশ করা হলে সরকার তার কোনোটিই সমর্থন করে না।’
২১ দেশের নির্বাচিত ৮১ ছবি নিয়ে শাবিপ্রবিতে আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী
শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) বিশ্বের ২১টিরও বেশি দেশের নির্বাচিত ৮১টি আলোকচিত্র নিয়ে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটোগ্রাফি বিষয়ক সংগঠন শাহজালাল ইউনিভার্সিটি ফটোগ্রাফারস অ্যাসোসিয়েশনের (সুপা) আয়োজনে আগামী ৬ থেকে ৮ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংগঠনটির সভাপতি রুবাইয়া নাসরিন।
সংবাদ সম্মেলনে রুবাইয়া নাসরিন বলেন, ‘ইনকুয়েস্ট ইনসাইট-৭’ প্রদর্শনী দুইটি পর্বে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম পর্ব ৬ থেকে ৮ আগস্ট প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাভবন-ডি-এর নিচতলায় অনুষ্ঠিত হবে। পরে দ্বিতীয় পর্ব আগামী ২৮ ও ২৯ আগস্ট ঢাকার আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে অনুষ্ঠিত হবে।
ছবি নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, এবার বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে চার হাজারেরও বেশি আলোকচিত্র জমা পড়ে। প্রাথমিকভাবে ভারত, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ইথিওপিয়া, থাইল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও মেক্সিকোসহ ২১টি দেশের প্রায় ৫০০টি আলোকচিত্র নির্বাচন করা হয়। সেখান থেকে বিচারকদের মূল্যায়নের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রদর্শনীর জন্য মোট ৮১টি আলোকচিত্র নির্বাচিত হয়েছে।
আলোকচিত্র প্রদর্শনী সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচিত ছবিগুলো একক (ক্যামেরা), মোবাইল ও ফটো স্টোরি তিন ক্যাটাগরিতে প্রদর্শিত হবে। এছাড়া বিজয়ীদের জন্য মোট ৪০০ মার্কিন ডলার প্রাইজমানি নির্ধারণ করা হয়েছে।
আলোকচিত্র বাছাইয়ে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের ফটোগ্রাফি বিভাগের প্রধান খন্দকার তানভির মুরাদ, প্রখ্যাত আলোকচিত্রী মিশুক আশরাফুল আওয়াল এবং শফিকুল আলম কিরণ।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সাবেক সভাপতি আশিকুর রহমান সাকিব, সহ-সভাপতি তাসফিয়া তাবাসসুম সুবাহ, সাধারণ সম্পাদক সাবের হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান নিলয় ও তাকী আহম্মেদ এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুজ্জামান রাসেনসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
বেরোবিতে শিবির-ছাত্রদল পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারি চেয়ে থানায় চিঠি
বেরোবি প্রতিনিধি
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)-এ জুলাই- আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে দিনব্যাপী কর্মসূচি একটি ব্যানার কে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনায় রংপুর মহানগর ছাত্রদল ও শিবির আবু সাঈদ চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে । ক্যাম্পাসের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করতে রংপুর তাজহাট থানা অফিসার ইনচার্জ আবেদন জানিয়েছে বেরোবি প্রশাসন ।
মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় রংপুর মহানগর ছাত্রদল শহীদ আবু সাঈদ চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে । অন্যদিকে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় রংপুর মহানগর ছাত্রশিবির লালবাগ থেকে একটি বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে একই আবু সাঈদ চত্বর( বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ং নম্বর গেট) জায়গায় সমাবেত হওয়ার কর্মসূচি দিয়েছে ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ডাক্তার ফেরদৌস রহমানের স্বাক্ষরিত এক চিটিতে উল্লেখ করা হয় , বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় -এ গত ০৩ আগস্ট বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মধ্যে অনাকাঙ্খিত ঘটনার প্রেক্ষিতে ০৫ (পাঁচ) জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহতসহ আরোও ২০ (বিশ) জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ায় তারা রংপুর মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে আজ ০৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, -এর প্রধান গেইট-এ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল একই জায়গায় বিক্ষোভ মিছিল ও সভা সমাবেশের ডাক দেওয়ায়, ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে। তাই উক্ত সময়ে ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নিমিত্তে ১৪৪ ধারা জারিসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
অন্য একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে , ক্যাম্পাসে বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ক্যাম্পাসে বহিরাগত দর্শনার্থীসহ সকল প্রকার যানবাহন প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।
১৪৪ ধারা জারি বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান বলেন, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একই জায়গায় সমাবেশের ডাক দেয়ায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশকে শান্ত স্থিতিশীল রাখার জন্য ১৪৪ ধারা জারির ব্যবস্থা নিয়েছি ।
বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির এসআই রাশেদ বলেন, ১৪৪ ধারা জারির জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। সেটি রংপুর মেট্রোপলিটন কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে । সেখান থেকে সিদ্ধান্ত হবে ১৪৪ ধারা জারি করা হবে কি না।