ইবিতে রংপুর জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির নবীন বরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠান
ইবি প্রতিনিধি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অধ্যয়নরত রংপুর জেলার শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘রংপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি’র নবীন বরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা বিজ্ঞান ভবনের ১০২ নম্বর কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সংগঠনের সভাপতি মোবাশ্বের রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রুকনুজ্জামান হুমাঈদী ও মারযিয়া ইসলাম তাসফিয়া। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আরমিন খাতুন, ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবু শিবলী মো. ফাতেহ আলী চৌধুরী এবং এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড জিওগ্রাফি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইনজামুল হক। এছাড়া সংগঠনের অ্যালামনাই ও আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া ও সাবেক সভাপতি মশিউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল, ক্রেস্ট, চাবির রিং, কলম ও ক্যালেন্ডার দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রবীণ শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট, চাবির রিং, কলম, ক্যালেন্ডার ও সার্টিফিকেট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়।
অনুষ্ঠান চলাকালে গত ২১ আগস্ট রংপুরের মাছুয়া পাড়ায় নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার গণপতি পরিবারের জন্য বিচার চাওয়া হয় এবং এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। পরে প্রবীণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন এবং নবীন শিক্ষার্থীরা সংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবন নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সংগঠনের সদস্যরা বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নেন।এ
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চরের স্কুলে বেরোবি রোভার স্কাউটের বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষবিতরণ আয়োজন
বেরোবি প্রতিনিধি
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের উদ্যোগে “বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি-২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২৮ আগস্ট শুক্রবার লালমনিরহাটের চর ফলিমারীর স্মৃতি রায় ক্রিস্টাইল স্কাউট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এটি অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শিক্ষক ও রোভার স্কাউটের সভাপতি ও সিনিয়র রোভারমেট সহ পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানোর গুরুত্ব ও শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণাদায়ক কথা বলেন।
শিক্ষার্থীরা জানায়,গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়। একটি গাছ রোধন হলে গাছ আরও লাগাবো।আমরা চাই ভাইয়াদের মতো বড় হতে। এলাকার দরিদ্রদের পাশে দাঁড়াতে চাই।
সিনিয়র রোভারমেট বিক্রম কুমার সিং বলেন,আপনারা জানেন আমরা অক্সিজেন গাছ থেকে পাই। গাছে কিন্তু পৃথিবী প্রাণ।আমরা গ্রামে বা শহরে একটি গাছ কাটলে নতুন করে রোপণ করিনা।নিয়ম হচ্ছে তিনটি গাছ রোপণ করা।আপনারা দেখবেন বাংলাদেশে হঠাৎ করে জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে। আবহাওয়া অনুযায়ী যেটা ঘটার কথা সেটা ঘটছে না।
রোভার স্কাউটের বেরোবির সভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় যারা পড়াশোনা করে তারা নানা প্রতিকূলতা পরিবেশের উপেক্ষা করে ।আমরা তাদেরকে নিয়ে এসেছি আপনাদের সাথে সম্পৃক্ততা অর্জন করার জন্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ উদযাপন করার লক্ষ্যে আমরা এখানে এসেছি।আমরা এসেছি আপনাদেরকে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করার জন্য।
তিনি আরো বলেন, একটা সময় যখন বিদ্যুৎ ছিল না তখন কি মানুষ বেঁচে ছিল না। এখন দুই ঘন্টা কারেন্ট না থাকায় মানুষের কি অবস্থা হচ্ছে। আপনারা যে চরাঞ্চলে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে খাপ খেয়ে নিয়েছেন।আপনারা সে সম্পর্কে অবহিত হবেনই পাশাপাশি আমরা আসছি সচেতনতামুলক কার্যক্রম করতে।
সাবেক সিনিয়র রোভার মেট সাইফুদ্দিন নূরী বলেন,স্যাররা ও ম্যামরা যে স্বপ্ন নিয়ে তোমাদের কাছে আসেন। তোমরা যেন মানুষ হয়েই গড়তে পারো।
শিক্ষার্থীর উদ্দোশ্য বলেন,তোমরা বললা ডাক্তার হবে ইঞ্জিনিয়ার হবা। এটার জন্য তোমাদের চেষ্টা করতে হবে।
স্কুলটির প্রধান শিক্ষক তাসলিমা খাতুন জানান,প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা অনুযায়ী যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কাউট এসেছে। তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ। তিনি আরও বলেন,গাছ লাগান,পরিবেশ বাঁচান।
উল্লেখ্য বক্তব্যের পরবতীতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে বৃক্ষবিতরণ ওই স্কুল প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপন করা হয় । এছাড়াও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রোববারে স্কাউটরা তাদের সাথে খেলাধুলায় অংশগ্রহণও করেন।।
বেরোবিতে তরুণ কলাম লেখক ফোরামের নতুন কমিটি অনুমোদন
বেরোবি প্রতিনিধি;
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের ২০২৬-২৭ কার্যবর্ষের নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ কর্মকার এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী রুশাইদ আহমেদ দায়িত্ব পেয়েছেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. রুহুল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক সাইশা সুলতানা সাদিয়ার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নতুন কমিটিতে সহ-সভাপতি হয়েছেন শ্রাবণ রায়, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান মুন্না, সাংগঠনিক সম্পাদক ভাস্কর রায়, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাশফিকুল হাসান, অর্থ সম্পাদক খাদিজা আক্তার রিমু, দপ্তর সম্পাদক মো. রবিউল ইসলাম, উপ-দপ্তর সম্পাদক রাহেল ইসলাম শাওন এবং প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মো. ইউনুচ রাতুল।
এ ছাড়া সাহিত্য, প্রকাশনা ও পাঠচক্র সম্পাদক হয়েছেন মো. ওমর ফারুক, প্রচার সম্পাদক মিনহাজ হোসেন, উপ-প্রচার সম্পাদক মিঠুন সরকার এবং তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. জসীম মিয়া। সম্পাদকীয় পর্ষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বখতিয়ার নাসিফ আহমেদ ও সমাপ্ত সরকার। কার্যনির্বাহী সদস্য হয়েছেন ফারহানা মীম ও ফিরোজ কবির।
সংগঠন সূত্রে জানা যায়, তরুণদের লেখালেখিতে উৎসাহিত করা, লেখনী দক্ষতা বিকাশ এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে চিন্তা ও মতপ্রকাশের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম কাজ করছে। বেরোবি শাখাটিও শিক্ষার্থীদের লেখালেখি ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
নতুন কমিটির সভাপতি শুভ কর্মকার বলেন, “সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পরস্পরের সহযোগিতা ও প্রচেষ্টায় সংগঠনকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাব, এই প্রত্যাশা ও বিশ্বাস রাখি।”
সাধারণ সম্পাদক রুশাইদ আহমেদ বলেন, “বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু থেকেই মননশীল শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশকে লেখালেখির মাধ্যমে ত্বরান্বিত করছে তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, বেরোবি শাখা। আমাদের নতুন কমিটি সেই কার্যক্রমকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।”
নতুন কমিটির দায়িত্বশীলরা জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখালেখির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া পাঠচক্র, সাহিত্য ভিত্তিক আয়োজন ও প্রশিক্ষণ মূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন কমিটির মাধ্যমে ক্যাম্পাসে তরুণদের লেখালেখি ও পাঠচর্চার পরিসর আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তি নির্ভর চিন্তা ও মত প্রকাশের সুযোগ তৈরি হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম তরুণ লেখকদের লেখালেখিতে উৎসাহিত করা এবং তাদের লেখনী দক্ষতা বিকাশে কাজ করে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখাও ক্যাম্পাসে লেখালেখি ও মননশীল চর্চার পরিবেশ তৈরিতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
ইবি দুই শিক্ষার্থীকে গুম করার প্রতিবাদে শাখা শিবিরের বিক্ষোভ মিছিল
ইবি প্রতিনিধি
১৪ বছর ধরে নিখোঁজ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মুকাদ্দাসের সন্ধান এবং গুমের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ-মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয় ও কুষ্টিয়া জেলা শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
এ সময়, ‘আমার ভাই গুম হয়, প্রশাসন কি করে’; ‘ইসলামী ছাত্রশিবির, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’; ‘সন্ত্রাসীদের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’; ‘আওয়ামীলীগের কালো হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’; ‘অলি ভাই গুম হয়, প্রশাসন জবাব চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
ছাত্রশিবিরের নেতারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সময়ে গঠিত ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি’র স্থবিরতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান।
এসময় বর্তমান সরকারের প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে কুষ্টিয়া জেলা শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান বলেন, অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করে গুম হওয়া সকলের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে এবং এই অপরাধের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। অন্যথায় সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে ছাত্রশিবির কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।
সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে শিবিরের দুই মেধাবী শিক্ষার্থীকে গুম করা হয়। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে পরিবার ও সংগঠনের পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগ করা হলেও বিগত স্বৈরাচারী সরকার বা প্রশাসন থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি। আগামী ৭ দিনের মধ্যে যদি তদন্ত কমিটির তৎপরতা দেখতে না পায় তাহলে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। কেউ যদি হাসিনার মত ফ্যাসিস্ট হতে চায় তাহলে তার পরিণতি হাসিনার থেকেও ভয়াবহ হবে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের উপর আস্থা রাখতে চাই। সমাবেশ শেষে উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করবো এবং আমাদের কনসার্ন জানাবো।
ফ্যামেলি কার্ড বিতরণে অনিয়ম বরদাস্ত করা হয়নি: অর্থমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
ফ্যামেলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ফ্যামেলি কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি; প্রকৃত হকদারদের ন্যায্যতার ভিত্তিতে কার্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এইচএসবিসি ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় এবং ব্র্যাকের বাস্তবায়নে ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন সহায়তা প্রকল্প’-এর উদ্বোধন ও প্রকল্প পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানো হচ্ছে। অতীতে সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলেও বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও পুনর্গঠনে সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করছে। এতে দুর্নীতি কমার পাশাপাশি কাজ দ্রুত ও সঠিকভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষে সব ক্ষেত্রে সরাসরি মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ নয়। সেবা প্রদানের ব্যবস্থায় বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলো যুক্ত থাকলে কাজ দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি অপচয় ও দুর্নীতির সুযোগও কমে।
সভায় জানানো হয়, জুলাই মাসের আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিবারগুলোর নিরাপদ আবাসন, সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যবিধি, জীবিকা, কৃষি ও শিক্ষা খাত পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়া, কক্সবাজারের চকরিয়া এবং চট্টগ্রাম নগরের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করবে ব্র্যাক। সাত মাস মেয়াদি প্রকল্পে ৪০০ পরিবারকে ল্যাট্রিন নির্মাণে সহায়তা, ৩০টি টিউবওয়েল মেরামত ও পুনর্নির্মাণ, ৩০০ পরিবারকে জীবিকা পুনরুদ্ধারে সহায়তা এবং ২৫০ পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামত ও পুনর্নির্মাণে সহায়তা দেওয়া হবে।
এ ছাড়া ৬০০ পরিবারকে কৃষি উপকরণ, ৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয় মেরামত ও পুনর্নির্মাণ এবং ১০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে ৩০০টি সচেতনতামূলক সেশন আয়োজন করা হবে।
প্রকল্পটির মোট ব্যয় ১০ কোটি টাকা, যার পুরো অর্থায়ন করবে এইচএসবিসি ব্যাংক।
মেসির চার গোলের ঝড়ে মন্ট্রিয়েলকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিল মায়ামি
অনলাইন ডেস্ক
বয়স ৩৯ ছুঁয়েছে। ফুটবলের প্রায় সব বড় অর্জনই এখন তার ঝুলিতে। বিশ্বকাপ, মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্ব থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত অসংখ্য পুরস্কার—সবই জিতেছেন Lionel Messi। তবুও মাঠে নামলেই যেন নিজেকেই ছাড়িয়ে যাওয়ার নতুন চ্যালেঞ্জ নেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
বাংলাদেশ সময় রোববার ভোরে তার আরও একটি অসাধারণ পারফরম্যান্সের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। মেসির দুর্দান্ত চার গোল ও এক অ্যাসিস্টে সিএফ মন্ট্রিয়েলকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে Inter Miami CF।
ম্যাচের শুরুতেই গোল উৎসবের সূচনা করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা কাসেমিরো। কর্নার থেকে আসা বলে দুর্দান্ত হেডে মায়ামির হয়ে নিজের প্রথম গোলটি করেন তিনি।
৩৭ মিনিটে অবশ্য ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় মন্ট্রিয়েল। এক গোল শোধ করে সমতায় ফেরে দলটি। তবে বিরতির ঠিক আগে মেসির নেওয়া ফ্রি-কিক প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ালে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মায়ামি।
দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হয় মেসির একক আধিপত্য। ৫২ মিনিটে নিজের স্বভাবসুলভ ড্রিবলিংয়ে একের পর এক প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান তিনি।
৮০ মিনিটে গোলের সুযোগ পেয়েও নিজে শট না নিয়ে সতীর্থ ও বন্ধু লুইস সুয়ারেজকে দিয়ে গোল করান মেসি। এর মাত্র তিন মিনিট পর গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে চমৎকারভাবে বল ভাসিয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।
এরপর ১৮ বছর বয়সী আলেকজান্ডার শো দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে আরও একটি গোল করেন। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে আবারও ফ্রি-কিকের দায়িত্ব নেন মেসি। নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে পূর্ণ করেন নিজের চতুর্থ গোল।
শেষ পর্যন্ত ৭-১ গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মায়ামি। বয়স, রেকর্ড কিংবা অর্জন—কোনো কিছুই মেসির গোলের ক্ষুধা থামাতে পারছে না। বরং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠে তার জাদু যেন আরও ধারালো হয়ে উঠছে।
সূত্র: ইএসপিএন
নেপাল-চীনে ভয়াবহ বন্যায় নিহত প্রায় ৭০০, নিখোঁজ ৩ হাজার
ডিজিটাল ডেস্ক
নেপাল ও চীনে ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৭০০ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালে ৬৭৫ জন এবং চীনে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুই দেশে এখনও প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের শত শত বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালে ধ্বংসস্তূপ ও পানির নিচে থাকা মরদেহ উদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালকে মানবিক সহায়তা হিসেবে ৩৬ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে দেশটি ৫ লাখ ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছিল।
এদিকে চীনে গত বুধবারের ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। রোববার সকালে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চীনে নিখোঁজের সংখ্যা কমে ৫৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক। এদের মধ্যে ১৮ জন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
গত বুধবার চীন সীমান্তের কাছে হিমবাহ ধসে বরফ ও পাথরের বিশাল স্তূপ নেমে আসার পর আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে নেপালের রাসুয়া ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৬৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের সন্ধান পাওয়া যায়নি। বন্যার পানিতে ওই অঞ্চলের সড়ক, সেতু, বসতবাড়ি ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
দুর্যোগের পর নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী এলাকার বাসিন্দা এবং উদ্ধারকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্যও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, পর্যটক ও বিদেশি কর্মীসহ ৫৮৯ জন বিদেশি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালি ও বিদেশি নাগরিক মিলিয়ে মোট ৭৫৩ জন পর্যটকেরও কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে ১৮৩ জন ভারতীয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৮৮ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও ২৮৭ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত চার ভারতীয় নাগরিককেও উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে নিখোঁজদের পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণে সহায়তার জন্য ভারতের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল কাঠমান্ডুতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনও চলছে। ফলে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা পরবর্তীতে পরিবর্তিত হতে পারে।
ইবি’র দিনাজপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির নেতৃত্বে মুন্তাকিম-ইনসান
ইবি প্রতিনিধি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) দিনাজপুর জেলা থেকে আগত শিক্ষার্থীদের সংগঠন দিনাজপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির ২০২৬-২৭ বর্ষের কার্যনির্বাহী আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল মুন্তাকিম আল মারুফ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে একই বিভাগ ও একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইনসানুল ইমাম নুর মনোনীত হয়েছেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) উপদেষ্টা মন্ডলীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। আগামী ৭ (সাত) দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ও ঘোষণা করার জন্যে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
এছাড়াও আংশিক কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে স্থান পেয়েছেন শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ২০১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আহমাদ আল আমিন ও দপ্তর সম্পাদক আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সোলায়মান আলী।
সাধারণ সম্পাদক ইনসানুল ইমাম নূর তাঁর বলেন,
“আলহামদুলিল্লাহ, দিনাজপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে আমি সম্মানিত ও দায়িত্বশীল বোধ করছি। সভাপতির সাথে একযোগে কাজ করে সংগঠনের প্রতিটি কার্যক্রমকে স্বচ্ছ, গতিশীল ও শিক্ষার্থীবান্ধব করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। সবার সহযোগিতা ও দোয়া প্রার্থনা করছি।”
নবমনোনীত সভাপতি আব্দুল মুন্তাকিম আল মারুফ বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, দিনাজপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সভাপতি হিসেবে আমাকে যোগ্য মনোনীত করায় আমি কৃতজ্ঞ। আমি মনে করি এটি দিনাজপুরের প্রতিটি শিক্ষার্থীর আস্থার প্রতিফলন। উপদেষ্টা মণ্ডলী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সার্বিক সহযোগিতায় দিনাজপুরকে শিক্ষার্থীদের মাঝে যথাযথ রিপ্রেজেন্ট এবং সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। সকলের কল্যাণকর পরামর্শ, দু’আ এবং সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।”
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট মেম্বার হলেন ড. সাখাওয়াত
ববি প্রতিনিধি
প্রভাষক ক্যাটাগরিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) নতুন সিন্ডিকেট মেম্বার মনোনীত হয়েছেন ড. গাজী মো: সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক।
গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. আবদুল আলিম বছির স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে আরও জানানো হয়েছে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৬ (সংশোধিত-২০১৩) এর ১৭(১) (ঞ) ধারা অনুযায়ী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের ৫৪তম (০১.০৭.২০২৬খ্রি:) সভার আলোচ্যবিষয়- ৯৫ এর সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রভাষক ক্যাটাগরিতে ড. গাজী মো. সাখাওয়াত হোসেনকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের একজন সদস্য হিসেবে মনোনয়ন প্রদান করা হলো।
আদেশটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও প্রচলিত বিধি অনুযায়ী আগামী দুই বছরের জন্য তাকে সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে এই মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছে।
প্রকৌশলী অধিকার দিবসে বেরোবিতে মোমবাতি প্রজ্বলন ও মৌন মিছিল
বেরোবি প্রতিনিধি
প্রকৌশলীদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতির দাবিতে ‘প্রকৌশলী অধিকার দিবস’ উপলক্ষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) মোমবাতি প্রজ্বলন ও মৌন মিছিল করেছেন ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারকে প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ এবং আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের স্মরণ করে তারা।
আয়োজকরা জানান, গত ২৭ আগস্ট প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ঘোষিত ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঢাকায় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। ওই ঘটনার স্মরণে এবং প্রকৌশলীদের অধিকার আদায়ের দাবিকে সামনে রেখে দিনটিকে ‘প্রকৌশলী অধিকার দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে।
কর্মসূচিতে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাফি বলেন, “আমরা প্রকৌশলীদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতির দাবিকে আরও শক্তিশালী করতে এখানে এসেছি। একই সঙ্গে ঢাকার লং মার্চ কর্মসূচিতে আহত আমাদের সহযোদ্ধাদের স্মরণ ও তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই আজকের এই কর্মসূচি।”
তিনি আরও বলেন, “ প্রকৌশলী শুধু একটি পদবি নন; একজন প্রকৌশলী দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্যতম কারিগর। বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, শিল্প ও অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি, পানি ও জ্বালানিসহ প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রকৌশলীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাই প্রকৌশলীদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদার দাবিকে উপেক্ষা করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমাদের আন্দোলন কারও বিরুদ্ধে নয়, আমাদের আন্দোলন বৈষম্যের বিরুদ্ধে।”
রাফি আরও বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, ঐক্যবদ্ধ থেকে যৌক্তিক ও শান্তিপূর্ণভাবে দাবি তুলে ধরলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রকৌশলীদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।”
একই বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ওয়াহিদুর রহমান বলেন, “গত বছর ডিপ্লোমা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সারা দেশের প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। এর ধারাবাহিকতায় ২৭ আগস্ট ঢাকায় লং মার্চ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ওই কর্মসূচিতে পুলিশ হামলা চালায় এবং আমাদের অনেক সহযোদ্ধা আহত হন। তাঁদের স্মরণে আমরা আজকের দিনটিকে প্রকৌশলী অধিকার দিবস হিসেবে পালন করছি এবং মৌন মিছিলের আয়োজন করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “ডিপ্লোমা টেকনিশিয়ানদের অবৈধ পদোন্নতির কারণে প্রকৌশল খাতে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে আমরা মনে করি। প্রয়োজনীয় উচ্চতর ডিগ্রি ও যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতির মাধ্যমে তাঁরা প্রকৌশলীদের বিভিন্ন পদ দখল করে রেখেছেন। এর ফলে প্রকৃত প্রকৌশলীরা তাঁদের যোগ্য পদে কাজ করার সুযোগ থেকে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন।”
ওয়াহিদুর রহমান আরও বলেন, “একটি দেশের সমৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য দক্ষ ও স্বচ্ছ প্রকৌশল খাত প্রয়োজন। তাই এ খাতকে অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত করার দাবিতে আমাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি চলমান রয়েছে এবং থাকবে।”
ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিন তাসদীদ বলেন, “আমরা যেটিকে প্রকৌশলী সেক্টর বলি, সেখানে যারা বিএসসি পাস করে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করছেন, তাঁদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতেই আমরা ২৭ আগস্ট যমুনার মুখে আন্দোলন করতে চেয়েছিলাম। সেই আন্দোলনে অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা পরিশ্রম করছি ও আন্দোলন করছি।”
তিনি বলেন, “এবারই আমরা প্রথমবারের মতো ২৭ আগস্টকে প্রকৌশলী অধিকার দিবস হিসেবে পালন করছি। আন্দোলনের সময়ের হামলার একটি ছবি প্রকাশিত হয়েছে, যেটিকে সরকার এআই-নির্মিত ছবি বলে দাবি করেছে। পাশাপাশি প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমাদের অনেক সহযোদ্ধা আহত হয়েছেন এবং বুয়েটের শিক্ষার্থীরাও রক্তাক্ত হয়েছেন।”
মাহিন আরও বলেন, “এসব ঘটনার প্রতিবাদ এবং প্রকৌশলীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে আমরা আজকের দিনটিকে প্রকৌশলী অধিকার দিবস হিসেবে পালন করছি। আমাদের মূল আন্দোলন ঢাকাকেন্দ্রিকভাবে চলমান রয়েছে।”