Connect with us

ক্যাম্পাস

জিএসের সঙ্গে ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ’: রাবি রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ চাইল রাকসু

Published

on

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, রাবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদের বিরুদ্ধে ঐদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ এবং প্রশাসনিক দায়িত্বে অবহেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এর জেরে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) প্রতিনিধিরা তার অপসারণ ও পদত্যাগ দাবি করেছেন।

সোমবার বিকেলে রাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। রাকসুর পক্ষ থেকে অভিযোগের তদন্ত সাপেক্ষে রেজিস্ট্রারকে অপসারণের জন্য প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত রোববার দুপুরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগে গত ২৩ দিন ধরে চলা একাডেমিক অচলাবস্থা নিরসনে রাকসু প্রতিনিধিরা উপাচার্যের শরণাপন্ন হন। উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব গত বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যানকে অপসারণের নির্দেশে স্বাক্ষর করে ফাইলটি রেজিস্ট্রার দপ্তরে পাঠান।

কিন্তু রোববার দুপুর পর্যন্ত সেই চিঠি ইস্যু না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা আরও একদিন ক্ষতির মুখে পড়েন। বিষয়টি জানতে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সিনেট সদস্য সালাহউদ্দিন আম্মার রেজিস্ট্রারের দপ্তরে যান।

সংবাদ সম্মেলনে রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, “জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার রেজিস্ট্রারের দপ্তরে গেলে তাকে জানানো হয়, রেজিস্ট্রার মহোদয় রাজনৈতিক প্রোগ্রামে ব্যস্ত আছেন। প্রশাসনিক দায়িত্বের সময় রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা যেমন অনুচিত, তেমনি এটি সুশাসনের পরিপন্থী।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “পরে রেজিস্ট্রার মহোদয়ের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং উত্তেজিত হয়ে কথা বলেন।”

এই ঘটনায় রাকসুর অবস্থান তুলে ধরে ভিপি জাহিদ বলেন, “শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সংকটকে উপেক্ষা করে প্রশাসনিক পদক্ষেপ বিলম্বিত করা দায়িত্বহীনতার শামিল। একজন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধির সঙ্গে এমন আচরণ রাকসুর মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে।”

অফিসে রাজনৈতিক সভা, ফেসবুকে ভিডিও

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম রাজশাহী মহানগর এনসিপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিজ দপ্তরে সভা করছিলেন। তবে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের অভিযোগ, সেখানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সভা করছেন এমন খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। এ সময় উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়।

এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, “একজন শিক্ষক তার দায়িত্ব ভুলে চেম্বারে রাজনৈতিক আলোচনা করছিলেন। শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান না করে সেখানে রাজনৈতিক আলাপ করার কোনো অধিকার তার নেই। রাকসুর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার আচরণ ছিল বিমাতাসুলভ।”

রাকসুর পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ছাত্র সংসদ কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে।

ক্যাম্পাস

ববিকে ‘প্রথম ফ্যাসিস্ট মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়’ স্বীকৃতির দাবিতে উপাচার্যকে ছাত্রদলের স্মারকলিপি

Published

on

By

ববি প্রতিনিধি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে (ববি) দেশের ‘প্রথম ফ্যাসিস্ট বাহিনী মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসেবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে এই স্মারকলিপি প্রদান করেন।

স্মারকলিপিতে ছাত্রদল উল্লেখ করে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশের ছাত্রসমাজ বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশের বিনির্মাণে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর ডাক দেয়। এই ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রগামী ভূমিকায় স্বৈরাচারী সরকারের পেটুয়া পুলিশ বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। বিগত বছরের ১৮ জুলাই স্বৈরাচারী সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং তাদের দলীয় ক্যাডাররা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন মহাসড়কে ইতিহাসের অন্যতম বর্বর ও নৃশংস হামলা চালায়।

নেতাকর্মীরা স্মারকলিপিতে আরও বলেন, সেই রক্তঝরা দিনে বুক ফুলিয়ে বুলেট, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অদম্য সাহসিকতা এবং প্রতিরোধের মুখে সেদিন স্বৈরাচারের পেটোয়া বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং ক্যাম্পাস ত্যাগ করে। ১৮ জুলাইয়ের সেই সাহসী প্রতিরোধই বরিশালে স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনকে চূড়ান্ত রূপ দিয়েছিল। ওই দিনই প্রথম কোনো বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ফ্যাসিস্ট বাহিনী মুক্ত হয়েছিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

স্মারকলিপিতে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়, শহীদ ও আহত ছাত্র-জনতার অসীম সাহসিকতা এবং ত্যাগের স্মৃতিকে ক্যাম্পাসের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে ১৮ জুলাই-কে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘প্রথম ফ্যাসিস্ট বাহিনী মুক্ত দিবস’ হিসেবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্বীকৃতি প্রদান করা হোক।

ছাত্রদল নেতারা আশা প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের এই আবেগময় ও যৌক্তিক দাবিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপন করবেন এবং তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

‘জুলাই ভয়াল স্মৃতি ও আগস্টের বিজয়’

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের পরে দেশের প্রথম প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ জুলাই চব্বিশের আন্দোলনে সরব ও সতর্ক ছিলেন। ছাত্র জনতার নেতৃত্বে আন্দোলনে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। সেই সময় শিক্ষার্থীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মহাসড়কে সক্রিয় অবস্থান নেন।

জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই অবিনাশী চেতনা স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় “জুলাই স্মৃতিকথা” নামে একটি স্মারক প্রকাশিত হয়। যার— সম্পাদনায় ছিলেন, অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান, অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান, জুলাই যোদ্ধা এস এম সুইট, সাদিক আহমদ, ইমতিয়াজ আহমেদ ইমন ও চয়ন হোসেন।

‘জুলাই স্মৃতিকথা’ স্মারকে ৫৩টি শিক্ষক-শিক্ষার্থীর লেখা স্থান পেয়েছে। তন্মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদের লেখা ‘জুলাইয়ের ভয়াল স্মৃতি ও আগস্টের বিজয়’ পাঠকদের সুবিধার্থে ইবি প্রতিনিধি হুবহু তুলে ধরেছেন।

বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস জুলাই গণ-অভ্যুত্থান। যে ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী আমার মতো লাখো জনতা। শাসক যখন রক্তের নেশায় মেতে ওঠে, তার করুণ পরিণতি আমরা বইয়ের পাতায় পড়েছি কিন্তু আজ আমরাই এক নতুন ইতিহাসের জনক। নতুন ইতিহাস রচনার লক্ষ্যে সেই ভয়াল সফরের দিনগুলো আজও নাড়া দেয়। কত অনিশ্চয়তা, কত নির্ঘুম নির্বাসিত রাত, সহস্র ঘণ্টার মানসিক চাপ আমরা পার করে এসেছি। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতন আন্দোলনের আগে গত ১৬ বছরে যে জুলুম নির্যাতন হয়েছে তা আজও আমাকে তাড়িত করে। দেশের এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে মাঝে মাঝে অবিশ্বাস্য মনে হয়। একটা কালো শক্তির হাতে বাংলাদেশ বন্দী হয়ে গিয়েছিল। কণ্ঠস্বর থেমে গিয়েছিল মুক্তিকামী মানুষের। ঘরে ঘরে চাপা আর্তনাদ।

ইলিয়াস আলী সহ নাম না জানা হাজারো মানুষ হাসিনার ফ্যাসিবাদের ছোবলে হারিয়ে গেছে। আজ সেই সব হারিয়ে যাওয়া বিপ্লবীদের কথা মনে পড়ছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে সহস্র মানুষ জীবন দিয়েছেন। আজ তারা আমাদের স্মৃতিপটে বেঁচে আছেন নিরবে।

২৪-এর জুলাই বিপ্লবের শুরুটা যেদিন হলো, আমরা ধারণা করিনি যে, এই আন্দোলন হাসিনার পতনের দিকে নিয়ে যাবে। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের মানুষ গণ্য করেননি। নির্বিচারে গুলি চালিয়ে সে গণহত্যা চালিয়েছে।

১৬ জুলাই, ২৪ এ আবু সাইদ, ওয়াসিম সহ ৫ জন শহিদ হলেন। তাদের উন্মুক্ত বুকে পুলিশ কাপুরুষের মতো গুলি চালালো। পরদিন মাগুরা, ঢাকা, কুষ্টিয়া, ফেনী, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে প্রায় ৫০ এর অধিক ছাত্র জনতা শহিদ হলেন। ওই সময় ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতাম। আমরা সরাসরি তাদের ব্যানারে দাঁড়াতাম না। এটা আমাদের কৌশল ছিল। আমাদের ছাত্রদলের সাধারণ কর্মীদের হাসিনার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা জাগরণে পাঠাতে লাগলাম। কঠিন সেই দিনগুলোতে ছিল গ্রেফতার আতঙ্ক।

পদে পদে ছাত্রলীগ, যুবলীগ সন্ত্রাসীদের হামলা, পুলিশ ও গোয়েন্দাদের অভিযানে আমরা তখন তটস্থ। বাড়ি থাকা যায় না। পরিচিত আত্মীয় স্বজনরা তাদের বাড়িতে আশ্রয় দিতেও সংকোচ করতেন। আমার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বেঞ্চে কয়েক ঘন্টা ঘুমাতাম। তারপরও নানা কৌশলে রাজপথে সক্রিয় থেকেছি। শিক্ষার্থীদের ব্যানারে কর্মসূচি শুরু হলে মাস্ক পরে তাতে অংশ নিতাম। অনেকেই চিনে ফেলতো। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাহস দিতাম। ক্যাম্পাসে সরাসরি যাওয়ার অবস্থা ছিল না। এজন্য বিভিন্ন পথ ঘুরে ক্যাম্পাসে আন্দোলনে অংশগ্রহন করতাম প্রিয় সহযোদ্ধাদের নিয়ে। পাশাপাশি ঝিনাইদহ শহরের আন্দোলন বেগবান করার কাজে মনোযোগ দিলাম। সারারাত জনমত তৈরির কাজ করতাম। সকাল হলেই রাজপথে।

ভয় ছিল। ছিল আতঙ্ক। আমরা জানতাম, এবার হেরে গেলে হাসিনা কাউকে বাঁচিয়ে রাখবে না। এই চিন্তা কেবল আমার একার ছিল না, এটাই সব আন্দোলনকারীদের মনোভাব ছিল। যে কারণে শত নির্যাতন সহ্য করেও আন্দোলনে হাল ছাড়েনি কেউ। পুলিশের গ্রেফতার আতঙ্ক মাথায় নিয়ে প্রতিটি মুহূর্ত কেটেছে।

সারাদেশে যখন ইন্টারনেট ব্যবহার বন্ধ করে দেয় ফ্যাসিস্ট সরকার, তখন আমরা একটা অন্ধকারে ডুবে যায়। সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে নির্বিচারে গণহত্যা চালায় হাসিনা। কোলের শিশু, গর্ভবতী নারী শ্রমজীবী মানুষ, কেউ হাসিনার পুলিশের হাত থেকে রেহাই পায়নি। হেলিকপ্টারে করে গুলি চালিয়েছে হাসিনার খুনি বাহিনী।

যেদিন ইন্টারনেট ফের সচল হয়, সেদিন থেকেই সারাদেশে আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। আমাকে গ্রেফতার করতে গ্রামের বাড়িতে বারবার পুলিশ অভিযান চালায়। দুর্বিষহ সেসব স্মৃতি আজও মনে হলে আঁতকে উঠি। তবে আমরা বারবার ভাবছিলাম, ছাত্ররা যেন আন্দোলন থামিয়ে না দেয়। আমরা সেই লক্ষ্যে যোগাযোগও রেখে যাচ্ছিলাম।

সর্বোপরি, ১ আগস্ট থেকে হাসিনা পতনের ১ দফার আন্দোলন শুরু হলে আমরা সর্বশক্তি দিয়ে রাজপথে নেমে পড়ি। বিশেষ করে, সকালের দিকে ক্যাম্পাসে এবং বিকালে ঝিনাইদহের রাজপথে আমি ও আমার স্থানীয় সহকর্মীদের নিয়ে প্রতিদিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখি। ৩ জুলাই থেকে সারাদেশে হাসিনার খুনি বাহিনী বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে। আগুন দেয় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হয় অসংখ্য রাজনৈতিক কার্যালয় ও বিএনপি নেতাদের বাড়ি।

আর এই ঘৃণ্য অপকর্মের মধ্য দিয়ে হাসিনা তার পতনের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয়। ৫ আগস্ট সর্বসাধারণের গণ বিস্ফোরণে হাসিনা তার মনিব রাষ্ট্র ভারতে পালিয়ে যায়। রচিত হয় নতুন বাংলাদেশের মাথা উচু করে ঘুরে দাঁড়ানোর এক নতুন ইতিহাস।

লেখক: সাহেদ আহম্মেদ, ইবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক

Continue Reading

ক্যাম্পাস

ছাত্রদল কর্মী পরিচয়ে হলের সিটের প্রলোভন দেখালেন রাবির সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী

Published

on

By

রাবি প্রতিনিধি
নিজ জেলার নবীন শিক্ষার্থীদের ছাত্রদল কর্মী পরিচয়ে হলের সিট সুবিধার প্রলোভন দেখানোর অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। গত ৯ জুন তিনি ‘আরইউ-৭৩ (ঝিনাইদহ)’ নামের একটি গ্রুপে এই প্রলোভন দেখিয়েছেন।

অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থীর নাম মাহির শাহরিয়ার তানিম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৫-২৬ বর্ষের নবীন শিক্ষার্থী।

তবে শাখা ছাত্রদল বলছে, তানিমকে তারা চিনেন না বা তাকে কখনো দেখেছেন কিনা সেটিও নিশ্চিত না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ক্যাম্পাসে আসার পর থেকেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় এবং শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুলের অনুসারী। গত ৯ জুন ‘ঝিনাইদহ রাবি-৭৩’ নামে একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে তানিম রহমান ফেসবুক আইডি থেকে একটি বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে লেখা ছিল, “যদি কেউ ছাত্রদলের রাজনীতিতে আগ্রহী থাকো বা জাতীয়তাবাদী পরিবারের হও, কিছুদিনের মধ্যে ফর্ম ছাড়বে, পূরণ করতে পারো। হল সুবিধাসহ বিভিন্ন সুবিধা পেতে পারো।” তার এই বার্তার বিরুদ্ধে সাথে সাথে প্রতিবাদ করেন গ্রুপে থাকা শিক্ষার্থীদের। যার প্রমাণও মেলে ওই স্ক্রিনশটে।

এ বিষয়ে ওই গ্রুপে থাকা দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, হ্যাঁ, মেসেজটি সে-ই (ছাত্রদল কর্মী তানিম) দিয়েছিল। মেসেজটি দেওয়ার সাথে সাথে এক শিক্ষার্থী প্রতিবাদও করেছিল। গ্রুপে রাজনৈতিক কোনো নোটিশ দিতে মানা করলে তানিম (অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী) দুঃখপ্রকাশও করে।

ওই গ্রুপে থাকা আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমি নিজেও মেসেজটি দেখেছি। সেখানে ছাত্রদল করলে হল সুবিধাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে বলে উল্লেখ ছিল। তবে কয়েকদিন পর তানিম মেসেজটি ডিলিট করে দেয় এবং পরে গ্রুপ থেকেও বের হয়ে যায়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে তানিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কোনো কিছু জানার থাকলে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে আছি। সরাসরি এসে আমার সাথে কথা বলেন। তবে প্রতিবেদক পরিবহন মার্কেটে এসে অভিযুক্তকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেয়নি।

তানিমের বিষয়ে জানতে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুলকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, আমি তানিমকে চিনিনা, তাকে কখনো দেখেছি কিনা সেটিও মনে পড়ছেনা। সংগঠন থেকে এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। আর আমাদের ছাত্রদলের ফর্ম ছাড়ার কোনো তথ্য বা নির্দেশনা নেই আপাতত, ফর্ম পূরণ করবে কীভাবে।

তানিমের অভিযোগের বিষয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন বকুল বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমি এ বিষয়টি দেখেছি। সে এ বিষয়টা অস্বীকার করেছে। তার আইডি হ্যাক হয়েছে বলে জেনেছি। আমি তার সাথে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলব।

Continue Reading

Trending