কর্মবিরতির কারণে চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধ থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম শাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বন্দর বন্ধ না রেখেও দাবি আদায় করা সম্ভব।
বন্দর ভবনে এক বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “সমস্যা সমাধানে আমি অত্যন্ত আশাবাদী। তারাও এ দেশেরই সন্তান। পাঁচ দিন কাজ বন্ধ থাকায় তাদেরই অসুবিধা হচ্ছে।”
উপদেষ্টা বলেন, সামনে রমজান। পণ্য সরবরাহব্যবস্থা যাতে ব্যাহত না হয়, সে চেষ্টা করছে সরকার। “তাদের কারণে মানুষ কষ্ট পাবে, এটা ঠিক নয়। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করছি,” বলেন তিনি।
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ব্যানারে এই কর্মবিরতি চলছে।
গত শনিবার থেকে তিন দিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালনের পর মঙ্গলবার থেকে আন্দোলনকারীরা লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেন। এতে বন্দর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
এ পরিস্থিতিতে বৈঠকে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম আসেন উপদেষ্টা। বিমানবন্দর থেকে বন্দরে যাওয়ার পথে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বন্দর ৪ নম্বর গেটে আন্দোলনরত শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়েন তিনি।
এ সময় গাড়ি থেকে নেমে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন উপদেষ্টা। শ্রমিকেরা বলেন, তাদের মধ্যে ক্ষোভ আছে এবং তাদের কথা শুনতে হবে।
জবাবে উপদেষ্টা বলেন, দুপুর ১২টায় বসে আলোচনা করা যাবে। “আমি গত দেড় বছর আপনাদের সঙ্গে কাজ করছি। আপনাদের কথা শুনব, আপনাদেরও আমার কথা শুনতে হবে,” বলেন তিনি।
ওই সময় বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মোহাম্মদ ইব্রাহিম খোকন বলেন, তিনি ৩২ বছর ধরে বন্দরে কাজ করছেন, কিন্তু বর্তমান চেয়ারম্যানের মতো কাউকে দেখেননি।
তার অভিযোগ, গত দেড় বছরে শ্রমিকদের নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে এবং চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবি করেন তিনি।
খোকনের কথার জবাবে উপদেষ্টা বলেন, চেয়ারম্যানকে আমি আনব না, আপনার সঙ্গে একান্তে কথা বলব। ‘ওয়ান টু ওয়ান’ কথা বলব বলেন তিনি।